বিপদে পড়লে আমাদের যা যা করতে হবে

বিপদে পড়লে আমাদের যা যা করতে হবে!

বিপদাপদে হতাশা বাড়ে, অনেকেই প্রায় ই আমরা এমন কথা বলে ফেলি “আমার সাথেই কেন?”, নিজে বুঝিও না এসব বাক্য কুফরীসুলভ। আল্লাহ্‌ নারাজ হন এমন অভিব্যক্তি প্রকাশকারী উপর।
.
দুনিয়া আল্লাহ’র পক্ষ থেকে পরীক্ষার জায়গা, আল্লাহ তা’লা প্রত্যেক মানুষকেই পরীক্ষা করেন/করবেন এবং করতে ই থাকবেন, বুঝার বিষয় সবার পরীক্ষাই এক স্তরের নয়।
.
দুই শ্রেনির মানুষ, যাদের উভয়কেই আল্লাহ্‌ বিপদ আপদ বালা মুসিবত দিয়ে পরীক্ষা করেন, এক নেক্কারদেরকে (যখন আল্লাহ্‌ ওই বান্দাকে আরো কাছে টেনে নিতে চায়) আর বদকারদেরকেও (কষ্টে ফেলেন গুনাহের কারেন অবশেষে ফিরে আসে কিনা দেখতে চান)।
.
কোর’আনে আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’আলা স্পষ্ট করেছেন, বান্দাকে পরীক্ষা করবেন বার বার। সূরা বাকারা’র ১৫৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ অর্থ, “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা, জান ও মাল এবং ফসলের ক্ষতির মাধ্যমে পরীক্ষা করব। (হে নবী!) আপনি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দিন।”
.
জান মাল বিভিন্ন ভাবে হ্রাস বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন ঈমানি পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা দেখতে চান মানুষ তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারছে কি না হোক সে নেক্কার কিংবা বদকার, এখানে বালা-মুসিবতের সময় কি ধরনের আচরণ করে তাই এই পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য, আল্লাহু আ’লাম। কখনো এই পরীক্ষা কারো জন্য মহব্বতের বর্হি প্রকাশ আবার কারো জন্য শাস্তি স্বরুপ।
.
পরের আয়াতেই আল্লাহ্‌ তা’আলা স্পষ্ট করছেন বান্দা’র বিপদের সময়কার অবস্থা (সূরা বাকারা – আয়াত ১৫৬)’তে আল্লাহ্‌ বলেছেন, الَّذِينَ إِذَا أَصَابَتْهُمْ مُصِيبَةٌ قَالُوا إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُونَ অর্থ, “তারাই ধৈর্যশীল যারা বিপদের সময় বলে আমরা তো আল্লাহরই এবং নিশ্চিতভাবে তারই দিকে ফিরে যাব।”
.
হক্কানি আলেম উলামা বলেন, এখন আপনি আমি বিপদে পড়লেই বুঝা যাবে আল্লাহ্‌ আমার উপর যেই বিপদ দিলেন সেটা কি উনার মহব্বত থেকে কাছে টেনে নিতে নাকি কষ্ট দিতে। নেক্কার বান্দারা এই আয়াতের মর্মার্থ ধৈর্য ধারন করেন, বেশি বেশি আল্লাহ’র স্মরণ করেন। আর বান্দা যদি অধৈর্য হয় উল্টা পাল্টা ধারণা মনে আসে তাহলে বুঝতে হবে এটা তার শাস্তি স্বরুপ।
.
তাই অধৈর্য হয়ে বিপদাপদে কুফরীসুলভ কথাবার্তা বলতে আরম্ভ করলে সমস্যা। আল্লাহ’র উপর সম্পূর্ণ ভরসা করতে হবে, উনি বালা মুসিবত দূর করবেন, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু তা’আলা সূরা আত ত্বালাকের ৩য় আয়াতে বলেন, وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ إِنَّ اللَّهَ بَالِغُ أَمْرِهِ قَدْ جَعَلَ اللَّهُ لِكُلِّ شَيْءٍ قَدْرًا অর্থ, যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট।
.
আল্লাহ’র অফুরন্ত নেয়ামত আমাদের উপর, কোটি ভ্রূণ থেকে আমাকে আপনাকে পৃথিবীতে পাঠালেন। এমন অনেক মানুষ আছে যারা ঠিক মত খেতে পায়না, হাত নাই পা নাই, কথা বলতে পারেনা, এগুলোর অভাব ত নেই ই, আমাদের ত ভাই আল্লাহ্‌ দয়া মায়া করে সুস্থ রেখেছেন, অবসরও দিয়েছেন। তবুও কত শিকায়েত আমাদের, এটা নাই সেটা নাই। একটু কষ্টের হালতে পরলেই, বলি “আল্লাহ্‌ আমাকে ই দেখে”! আহা কত নিয়ামতের শুকরিয়া ভুলে ই বসে আছি। তাই আমাদের অন্তত বিপদে ধৈর্য ধারণ করত আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে।
.
বিপদ-সংকটকে নিজেদের আত্মাকে শক্তিশালী করার মাধ্যম বলে মনে করতে হবে। ভুলে গেলে চলবে কেন, এই বালা মুসিবত – বিপদাপদ ত আমাদের ই কামাই। সূরা বাকারা ২৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেন لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ অর্থ, “আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে।”
.
পরিস্থিতি যাই হোক, বেশি বেশি আল্লাহ’র স্মরণ করি, নিয়মাতের শুকরিয়া আদায় করি, একটু মনে রাখতে চেষ্টা করি, আল্লাহ’র স্মরণ ব্যতীত শান্তি কোথায়! আল্লাহ্‌ কোর’আনে বলছেন সূরা রা’দ আয়াতঃ ২৮ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ অর্থ, “জেন রাখো, আল্লাহ’র স্মরণেই আন্তরে প্রশান্তি।” মনে শান্তি নাই কেন বুঝলেন ত ভাই? আপনার আমার রবকে আপনি আমি একেবারেই যে ভুলে বসে আছি!
.
ভাই একটু বুঝুন।
আল্লাহ্‌ বুঝার ত্বাউফিক দিক।
رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الأبْرَارِ

Written By: Abdullah Abu Taher

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    %d bloggers like this: