আয়াতুল কুরসি ও আয়াতুল কুরছির ফজিলত

  (255   اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

Allah. There is no god but He,-the Living, the Self-subsisting, Eternal. No slumber can seize Him nor sleep. His are all things in the heavens and on earth. Who is there can intercede in His presence except as He permitteth? He knoweth what (appeareth to His creatures as) before or after or behind them. Nor shall they compass aught of His knowledge except as He willeth. His Throne doth extend over the heavens and the earth, and He feeleth no fatigue in guarding and preserving them for He is the Most High, the Supreme (in glory).  

জিজ্ঞাসা: আয়াতুল কুরসি পাঠ করার কারণে বা যারা আমল করে তাদের থেকে শয়তান দূরে থাকে এবং তাদের উপর কোন প্রকার যাদু কাজ করে না। বিভিন্ন বিপদ আপদ থেকে বেঁচে থাকে। আর‌ও কি ফযিলত আছে?

জবাব: হাদিস শরিফে আয়াতুল কুরসির যে সকল ফজিলত বর্ণিত হয়েছে তা থেকে নিম্নে কয়েকটি পেশ করা হল-

 

১. কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: ” يَا أَبَا الْمُنْذِرِ ، أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَكَ أَعْظَمُ ؟ قَالَ : قُلْتُ : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ ، قَالَ : يَا أَبَا الْمُنْذِرِ ، ” أَتَدْرِي أَيُّ آيَةٍ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ مَعَكَ أَعْظَمُ ؟ قَالَ : قُلْتُ : اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ سورة البقرة آية 255 ” ، قَالَ : فَضَرَبَ فِي صَدْرِي ، وَقَالَ : وَاللَّهِ لِيَهْنِكَ الْعِلْمُ أَبَا الْمُنْذِرِ . উবাই বিন কা’ব রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ উবাই বিন কা’বকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তোমার কাছে কোরআন মজিদের কোন আয়াতটি সর্ব মহান? তিনি বলেছিলেন, (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুআল্ হাইয়্যূল কাইয়্যূম…) তারপর রাসূলুল্লাহ্ ﷺ নিজ হাত দ্বারা তার বক্ষে আঘাত করে বলেন, আবুল মুনযির! এই ইলমের কারণে তোমাকে ধন্যবাদ। (মুসলিম ১৩৯৬)

২.শয়তানের প্রভাব থেকে বাঁচার আয়াত عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ أَنَّ أَبَاهُ أَخْبَرَهُ ، أَنَّهُ كَانَ لَهُمْ جَرِينٌ فِيهِ تَمْرٌ ، وَكَانَ مِمَّا يَتَعَاهَدُهُ فَيَجِدُهُ يَنْقُصُ ، فَحَرَسَهُ ذَاتَ لَيْلَةٍ ، فَإِذَا هُوَ بِدَابَّةٍ كَهَيْئَةِ الْغُلامِ الْمُحْتَلِمِ . قَالَ : فَسَلَّمْتُ فَرَدَّ السَّلامَ ، فَقُلْتُ : مَا أَنْتَ ، جِنٌّ أَمْ إِنْسٌ ؟ فَقَالَ : جِنٌّ ، فَقُلْتُ : نَاوِلْنِي يَدَكَ ، فَإِذَا يَدُ كَلْبٍ وَشَعْرُ كَلْبٍ ، فَقُلْتُ : هَكَذَا خُلِقَ الْجِنُّ ، فَقَالَ : لَقَدْ عَلِمَتِ الْجِنُّ أَنَّهُ مَا فِيهِمْ مَنْ هُوَ أَشَدُّ مِنِّي ، فَقُلْتُ : مَا يَحْمِلُكَ عَلَى مَا صَنَعْتَ ؟ قَالَ : بَلَغَنِي أَنَّكَ رَجُلٌ تُحِبُّ الصَّدَقَةَ ، فَأَحْبَبْتُ أَنْ أُصِيبَ مِنْ طَعَامِكَ ، قُلْتُ : فَمَا الَّذِي يَحْرِزُنَا مِنْكُمْ ؟ فَقَالَ : هَذِهِ الآيَةُ ، آيَةُ الْكُرْسِيِّ ، قَالَ : فَتَرَكْتُهُ . وَغَدَا أَبِي إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، فَأَخْبَرَهُ ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” صَدَقَ الْخَبِيثُ উবাই বিন কা’ব রাযি. থেকে বর্ণিত, তাঁর এক খেজুর রাখার থলি ছিল। সেটায় ক্রমশ তার খেজুর কমতে থাকত। একরাতে সে পাহারা দেয়। হঠাৎ যুবকের মত এক জন্তু দেখা গেলে, তিনি তাকে সালাম দেন। সে সালামের উত্তর দেয় । তিনি বলেন, তুমি কি? জিন না মানুষ? সে বলে, জিন। উবাই রাযি. তার হাত দেখতে চান। সে তার হাত দেয়। তার হাত ছিল কুকুরের হাতের মত আর চুল ছিল কুকুরের চুলের মত। তিনি বলেন, এটা জিনের সুরত। সে (জন্তু) বলে, জিন সম্প্রদায়ের মধ্যে আমি সবচেয়ে সাহসী। তিনি বলেন, তোমার আসার কারণ কি? সে বলে, আমরা শুনেছি আপনি সাদকা পছন্দ করেন, তাই কিছু সাদকার খাদ্যসামগ্রী নিতে এসেছি। সাহাবী বলেন, তোমাদের থেকে পরিত্রাণের উপায় কি? সে বলে, সূরা বাকারার এই আয়াতটি (আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লাহ হুআল হাইয়্যূল কাইয়্যূম), যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় এটি পড়বে, সকাল পর্যন্ত আমাদের থেকে পরিত্রাণ পাবে। আর যে ব্যক্তি সকালে এটি পড়বে, সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের থেকে নিরাপদে থাকবে। সকাল হলে তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এরকাছে আসেন এবং ঘটনার খবর দেন। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেন, খবীস সত্য বলেছে। (সহীহ ইবন হিব্বান ৭৯১)

৩. ফেরেশতা নিযুক্তকারী আয়াত عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : وَكَّلَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِحِفْظِ زَكَاةِ رَمَضَانَ ، فَأَتَانِي آتٍ ، فَجَعَلَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَامِ ، فَأَخَذْتُهُ ، وَقُلْتُ : لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : إِنِّي مُحْتَاجٌ ، وَعَلَيَّ عِيَالٌ ، وَلِي حَاجَةٌ شَدِيدَةٌ ، فَخَلَّيْتُ عَنْهُ ، فَأَصْبَحْتُ ، فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: ” يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ، مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ الْبَارِحَةَ ؟ ” ، قَالَ : قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، شَكَا حَاجَةً شَدِيدَةً ، وَعِيَالا ، فَرَحِمْتُهُ ، فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ ، قَالَ : ” أَمَا إِنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ ، وَسَيَعُودُ ” فَعَرَفْتُ أَنَّهُ سَيَعُودُ ، لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ : ” إِنَّهُ سَيَعُودُ ” فَرَصَدْتُهُ ، فَجَاءَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَامِ ، فَأَخَذْتُهُ ، فَقُلْتُ : لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، قَالَ : دَعْنِي ، فَإِنِّي مُحْتَاجٌ ، وَعَلَيَّ عِيَالٌ ، لا أَعُودُ ، فَرَحِمْتُهُ ، فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ ، فَأَصْبَحْتُ ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: ” يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ، مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ ؟ ” قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، شَكَا حَاجَةً وَعِيَالا ، فَرَحِمْتُهُ ، فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ ، قَالَ : ” أَمَا إِنَّهُ قَدْ كَذَبَكَ ، وَسَيَعُودُ ” فَرَصَدْتُهُ الثَّالِثَةَ ، فَجَاءَ يَحْثُو مِنَ الطَّعَامِ ، فَأَخَذْتُهُ ، فَقُلْتُ : لأَرْفَعَنَّكَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ، وَهَذَا آخِرُ ثَلاثِ مَرَّاتٍ ، إِنَّكَ تَزْعُمُ لا تَعُودُ ، ثُمَّ تَعُودُ ، قَالَ : دَعْنِي أُعَلِّمْكَ كَلِمَاتٍ يَنْفَعُكَ اللَّهُ بِهَا ، قُلْتُ : مَا هُنَّ ؟ قَالَ : ” إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ ، فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ سورة البقرة آية 255 حَتَّى تَخْتِمَ الآيَةَ ، فَإِنَّكَ لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ ، وَلا يَقْرَبَكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ ، فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ ، فَأَصْبَحْتُ ، فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : ” مَا فَعَلَ أَسِيرُكَ الْبَارِحَةَ ؟ ” ، قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، زَعَمَ أَنَّهُ يُعَلِّمُنِي كَلِمَاتٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهَا ، فَخَلَّيْتُ سَبِيلَهُ ، قَالَ : ” مَا هِيَ ؟ ” ، قَالَ : قَالَ لِي : إِذَا أَوَيْتَ إِلَى فِرَاشِكَ ، فَاقْرَأْ آيَةَ الْكُرْسِيِّ مِنْ أَوَّلِهَا حَتَّى تَخْتِمَ الآيَةَ اللَّهُ لا إِلَهَ إِلا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ سورة البقرة آية 255 ، وَقَالَ لِي : لَنْ يَزَالَ عَلَيْكَ مِنَ اللَّهِ حَافِظٌ ، وَلا يَقْرَبَكَ شَيْطَانٌ حَتَّى تُصْبِحَ ، وَكَانُوا أَحْرَصَ شَيْءٍ عَلَى الْخَيْرِ ، فَقَالَ ﷺ : ” أَمَا إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكَ وَهُوَ كَذُوبٌ ، تَعْلَمُ مَنْ تُخَاطِبُ مُنْذُ ثَلاثِ لَيَالٍ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ ؟ ” ، قَالَ : لا ، قَالَ : ” ذَاكَ شَيْطَانٌ আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাকে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ যাকাতের সম্পদ পাহারা দেয়ার দায়িত্ব এক রমজান মাসে দিয়েছিলেন। তখন দেখতে পেলাম একজন আগন্তুক সদকার মাল চুরি করছে তখন আমি আগন্তুকের হাত ধরে ফেললাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম ,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব। তখন আগন্তুক বলল, আমি খুব অভাবী আর আমার অনেক প্রয়োজন। তার এ কথা শুনে দয়া করে তাকে ছেড়ে দিলাম। পরদিন সকালে রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল তোমার অপরাধী কী করেছে? আমি উত্তর দিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, লোকটি নাকি অনেক অভাবী তাই তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে। পরদিন আমি আবার অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন সে আবারও চুরি করতে আসল তখন তাকে পাকড়াও করে বললাম, এবার অবশ্যই ,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব। সে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও, আমি খুব অভাবী, আমার পরিবার আছে, আমি আর আসব না। তখন আমি তাকে দয়া করে এবারও ছেড়ে দিলাম। পরদিন আবারও রাসূল রাসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, গতকাল তোমার অপরাধী কী করেছে? আমি এবারও উত্তর দিলাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, লোকটি নাকি অনেক অভাবী তাই তাকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছি। এবারও রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বললেন, অবশ্যই সে তোমাকে মিথ্যা বলেছে আর সে আবার আসবে। তৃতীয় দিনও আমি চোরের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম। যখন সে আবারও চুরি করতে আসল তখন তাকে পাকড়াও করে বললাম, এবার অবশ্যই ,আমি তোমাকে আল্লাহর রাসূলের কাছে নিয়ে যাব, তুমি বার বার ওয়াদা কর আর চুরি করতে আস। তখন (অবস্থা বেগতিক দেখে) সে বলল, আমাকে মাফ কর। আমি তোমাকে এমন কিছু কথা বলে দিব যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করবেন। আমি বললাম, সেগুলো কী? তখন সে বলল, যখন ঘুমাতে যাবে তখন আয়াতুল কুরসী পড়ে ঘুমাবে তাহলে আল্লাহ তোমার জন্য একজন পাহারাদার নিযুক্ত করবেন যে তোমার সাথে থাকবে আর কোন শয়তান সকাল পর্যন্ত তোমার কাছে আসতে পারবে না। এটা শুনে আবু হুরায়রা রাযি. তাকে ছেড়ে দিলেন । পরদিন রাসূলﷺ আবার অপরাধীর কথা জানতে চাইলে তিনি আগের রাতের কথা বললেন। তখন রাসূল ﷺ বললেন, যদিও সে চরম মিথ্যাবাদী কিন্তু সে সত্য বলেছে । রাসূল ﷺ আবু হুরায়রা রাযি. কে আরো বললেন, তুমি কি জান সে কে? আবু হুরায়রা রাযি. বললেন, না । রাসূলﷺ আবু হুরায়রা কে বললেন , সে হচ্ছে শয়তান । (সহীহ বুখারী ২৩১১)

৪. প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করুন আবু উমামাহ রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, مَنْ قَرَأَ آيَةَ الْكُرْسِيِّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ لَمْ يَمْنَعْهُ مِنْ دُخُولِ الْجَنَّةِ إِلَّا أَنْ يَمُوتَ যে ব্যাক্তি প্রতেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ব্যতিত আর কোন বাঁধা থাকবে না। (নাসায়ী ৯৪৪৮ তাবারানী ৭৮৩২) والله اعلم بالصواب উত্তর দিয়েছেন মাওলানা উমায়ের কোব্বাদী

আয়াতুল কুরসীর পাওয়ার।

চট্টগ্রামের ঘটনা। তখন ক্লাস থ্রিতে পড়ি৷ বাসায় একজন হুজুর রেখে আরবী পড়া শিখেছি। দুই তিনবার কোরান খতমও দিয়েছি। আয়াতুল কুরসী সহ বেশ কয়েকটা দোয়া নখদর্পনে। ঠিক এমন সময় এলাকার এক আন্টির বাসায় এক হুজুরের আগমন যিনি জ্বীন পালেন! হুজুর আন্টির আত্মীয় লাগেন। আন্টির অনুরোধ ক্রমে তিনি সেই বাসায় খুলনা থেকে চট্টগ্রামে এসেছেন। আন্টির বাসায় জ্বীনেরা ডিস্টার্ব করছিল। এলাকার কোন হুজুর সমাধান করতে পারছেন না। সেই হুজুর এসে জ্বীন তাড়ানোর জন্য যা করার করলেন। হুজুর একটা কাজ পারতেন। সেটা হলো মানুষের অতীত বলে দিতে পারতেন। এমন সব অতীতের ঘটনা যা সে ছাড়া আর কেউ জানে না, হুজুর সেইসব অতীত বলে দিতে পারতেন। এগুলো নাকি ওনার কাছে থাকা জ্বীনেরা ওনাকে বলে দেন। আন্টির বাসায় আমার মা গিয়ে হুজুরের অদ্ভুত এই কাজের প্রমান পেলেন। আমার আম্মাকে হুজুর এমন সব ঘটনা বললেন যা আমার আম্মা ছাড়া আর কেউ জানত না৷ সেই আন্টিও জানত না। শুধু তাই না, আন্টির বাসার আশেপাশে যারা আছেন তারা খবর পেয়ে চলে এসেছেন। বেশিরভাগ লোক এসেছেন চুরি হয়ে যাওয়া জিনিস উদ্ধারের জন্য। আমাদের বিল্ডিং এর এক মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে হুজুরের কাছে গেলেন। মেয়েটাকে দেখে হুজুর বললেন “এই মেয়ে তো প্রায়ই বিছানায় মুতে৷ সে গত পরশুও বিছানায় মুতেছিল। ঠিক্কিনা বলেন!” টিনের চালে কাক মেয়ের মা তো অবাক। পরশু রাতে মুতার কথা হুজুর কেমনে জানল! এছাড়া মহিলার আরেক মেয়ে ক্লাসে কোন কোন ম্যাডামের ক্লাসে মাইর খায় তাদের নাম হুজুর বলে দিলেন। এবার আশেপাশের আন্টিরা সবাই অবাক। হুজুর তো ক্লাসের ম্যাডামদের নাম জানার কথা না। হুজুর জ্বীনের মাধ্যমে এসব কথা জেনে যায়। এভাবে সেদিন ১০/১২ টা বাচ্চার নিকট অতীতের কথা হুজুর বলে দিয়েছেন। একটা ছেলেকে আনা হল। ছেলেটাকে যাওয়ার সময় মারতে মারতে বাসায় আনা হল। কারণ হুজুর বলেছেন ছেলেটা লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খায়। আরেকটা মেয়েকে তার মা সেদিনই গ্রামের বাড়ী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেন হুজুর যখন বললেন মেয়েটা কলেজে তার ক্লাসের একটা ছেলের সাথে মাঝে মাঝে কথা বলে। তখন ৯০/৯১ সাল, জাস্ট ফ্রেন্ড তো দূরের কথা ক্লাসের ছেলে মেয়েরা কখনো কথাও বলত না। কথা বলাকেই অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো। আমার মা সিদ্ধান্ত নিলেন আমাকে হুজুরের কাছে নিয়ে যাবেন। আমার সম্মন্ধে হুজুর যদি কিছু বলেন! মানে ক্লাসে আমি কী করি না করি!! আমার মাথায় হাত। ঠিক তার ৩ দিন আগে এলাকা থেকে অনেক দূরে গিয়ে জীবনের প্রথম ও শেষ বারের মত সিগারেটে টান দিয়েছিলাম। আমি ১০০% শিউর, হুজুর আমার সিগারেট খাওয়ার কথা বলে মাইর খাওয়ার ব্যবস্থা করবে। আমি যতই ঐ বাসায় না যাওয়ার জন্য বিভিন্ন উছিলা ধরি মা ততই আমাকে জোর করে নিয়ে যাবেন। আমাকে অনেকটা টেনে হিচড়ে সেই বাসায় নেয়া হল। সেই বাসা কানায় কানায় পরিপূর্ণ। কোথাও তিল ধারনের ঠাই নেই। মা সবাইকে ঠেলে আমাকে বাসার ভিতরে নিয়ে গেলেন। ড্রইং রুমে হুজুর একটা সোফায় বসেছেন। তার সামনে একটা মোড়ায় এক এক করে আসামীদের (বেশিরভাগ পিচ্চি, আমার মত পড়া ফাকি দেয়) বসানো হচ্ছে আর হুজুর ২ মিনিট কী যেন ভেবে তারপর মোড়ায় বসা লোক সম্মন্ধে বলে দিচ্ছিল। কী একটা বেইজ্জতের ব্যাপার। হুজুরের মুখে যা আসে তাই বলে দিচ্ছিল। ক্লাস সিক্সে পড়ুয়া এক ছেলের উদ্দেশ্যে বলল “এই ছেলে এই বয়সেই মেয়েদের পিছে ঘুরে!” এই কথা শুনে ছেলের মা বলল “এই স্বভাব সে তার বাপের কাছ থেকে পেয়েছে।” আমি তখন মেয়েদের পিছনে ঘুরতাম না। এখনও অবশ্য ঘুরি না। তাই এটা নিয়ে আমার কোন টেনশন নেই। এরপরে এক মেয়ের পালা। মেয়েটাকে গত মাসে একটা ছেলে চিঠি দিয়েছিল। চিঠিটা মেয়েটা সযত্নে বাংলা বইয়ের মাঝে লুকিয়ে রেখেছে। পরে সত্যি সত্যি চিঠিটা বইয়ের ভেতরেই পাওয়া গেল। এরপরে আমার পালা। আমাকে সেই মোড়ায় বসানো হলো। আমি মোড়ায় বসার আগে থেকেই আয়াতুল কুরসী পড়া শুরু করেছিলাম। একটানা আয়াতুল কুরসী পড়ে যাচ্ছিলাম যাতে জ্বীন আমার সম্মন্ধে কিছুই জানতে না পারে ও হুজুর সেই কথা যেন না জানে। অন্যদের বেলায় হুজুর ২/১ মিনিট চুপ থেকে কথা বলা শুরু করলেও আমার বেলায় অনেকক্ষণ চুপ রইলেন। প্রায় ৫/৬ মিনিট পরে হুজুর বললেন “ওর সম্মন্ধে আমি কিছুই জানতে পারছি না। আমি আরেকবার চেস্টা করে দেখি।” হুজুর আরেকবার চেস্টা করলেন আর আমি ধুমিয়ে এদিকে আয়াতুল কুরসী পড়ছি। দেখা যাক হুজুরের জ্বীনের বেশি পাওয়ার নাকি আমার আয়াতুল কুরসী পড়ার পাওয়ার। হুজুর এবার ডাবল সময় ধরে চেস্টা করে ব্যার্থ হলেন। আমার মা’কে বললেন “ওর সম্মন্ধে জ্বীন আমাকে কোন তথ্য দিতে পারছে না। আমি পরে আবার চেস্টা করব। আপাতত অন্যদের সময় দিতে হবে।”  

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ, ফার্স্ট ক্লাস )