রুকইয়ার সময় গাইরেমাহরামকে স্পর্শ করা এবং জ্বিনের রোগীকে মারধোর করা প্রসঙ্গ

কিছুদিন আগে আমাদের এক ভাই রুকইয়ার মাঝে রোগীকে মারধোর করা এবং গাইরে মাহরামকে স্পর্শ করা প্রসঙ্গে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা রাক্বিদের ঈমান এবং তাক্বওয়ার ব্যাপারে ঝুঁকিপূর্ণ।
লক্ষণীয় বিষয় হল, উনি উনার লেখার নিচে প্রসিদ্ধ ওয়েবসাইট “আল-আলুকাহ” এর একটি প্রবন্ধের ঠিকানা যুক্ত করে দিয়েছিলেন।
আমরা এপ্রসঙ্গে নিজে থেকে কিছু বলার পূর্বে সেই লেখাটার গুরুত্বপূর্ণ কিছু অংশের অনুবাদ আপনাদের সামনে পেশ করছি।
সবশেষে অল্প কথায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ।
এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য, আমরা এসব ভুল ভ্রান্তি কাজের বিরোধিতা করছি শুধুমাত্র আল্লাহকে ভয় করে। এখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোন বিদ্বেষ বা স্বার্থ নেই। বিভিন্ন সময় আমি বা আমরা বিভিন্ন রাকিদের কাছে রেফার করেছি, সেটাও যেমন আল্লাহর জন্য ছিল, তেমনি এখন কিছু ভাইদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজের বিরোধিতা করছি এটাও নিখাদ আল্লাহর জন্যই।
হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল।
উদ্ধৃত প্রবন্ধটি লিখেছেন- মিশরের শাইখ মুসতাফা আদাবীর ছাত্র শাইখ আবু হাতিম সাঈদ। উনার আরেকটি পরিচয় হল, তিনি শাইখ ওয়াহীদ আব্দুস সালাম বালী’রও ছাত্র। যদিও তিনি মুসতাফা আদাবী থেকেই দীর্ঘসময় ইস্তিফাদা করেছেন।
লেখাটির প্রয়োজনীয় অংশ অনুবাদ করেছেন শ্রদ্ধেয় ভাই আবু খুবাইব।
والذي أرى – والله أعلم – أنَّ الأصل في الرقية الواردة عن نبيِّنا صلى الله عليه وسلم، وعن صحابته رضي الله عنهم، وعن أئمَّة السَّلف رحمهم الله – عدم استخدام الضَّرب، ولو قال قائلٌ بالجواز لِما ورد في حديث عثمان؛ فهذا ليس على إطلاقه، بل لا بد له من ضوابط[15].
ولو ترك الرُّقاةُ الضربَ بالسياط وواظبوا على قراءة كتاب الله تعالى، لكان أضرَّ على الشيطان وأخزى له؛ إذ ليس شيء أوقَعَ على الشيطان وأنكى له مِن كتاب ربنا تبارك وتعالى، وليحذر العباد مِن ضرب المسلمين بغير وجه حقٍّ،
আমি মনে করি – আল্লাহ ভালো জানেন – নবী সা., তাঁর সাহাবিগণ ও সালাফের ইমামগণ হতে বর্ণিত রুকইয়াহ এ প্রহার না করাটাই মূল পদ্ধতি। যদি কেউ উসমান (বিন আবিল আস) রা. হতে বর্ণিত হাদিসটির কারণে প্রহার করাকে জায়েয বলে তাহলে (মনে রাখতে হবে,) তা শর্তহীনভাবে জায়েজ নয়। অবশ্যই এর কিছু শর্ত ও মূলনীতি আছে।
যদি রাকীগণ প্রহার করা থেকে বিরত থেকে আল্লাহ তাআলার কিতাব পাঠ করতে থাকে তাহলে তা অবশ্যই শয়তানের জন্য অধিক ক্ষতিকর ও লাঞ্ছনাকর হবে। কারণ আমাদের রবের কিতাব হতে শয়তানের জন্য অধিক আক্রমণাত্মক কিছু নেই। আল্লাহর বান্দারা যেন কোন হক ছাড়া মুসলিমদেরকে প্রহার করার ব্যাপারে সতর্ক থাকে।
لا يجوز أن يمَسَّ الرجل المرأةَ الأجنبية، إلا الطَّبيب لضرورةٍ شرعية، وأرى كذلك – والله أعلم أنه لا يجوز للرَّاقي بالكتاب والسُّنة أن يباشر ضرب المرأة الأجنبية بنفسه بحالٍ من الأحوال، أما إذا وكَّل أحدًا مِن محارمها بضربها بالشروط المذكورة، فلا بأس، ولا يتوهَّمنَّ موسوسٌ أنه لا بد لخروج الجني من الضرب، فالأمر إلى الله مِن قبلُ ومن بعد، والشِّفاء بيد الله، ولا يدخل جنِّيٌّ ولا يخرج إلا بأمرٍ إلهيٍّ.
পুরুষের জন্য গাইর মাহরাম নারীকে স্পর্শ করা জায়েয নেই। কিন্তু চিকিৎসকের জন্য শরীয়ত সম্মত প্রয়োজনে স্পর্শ করা বৈধ। আমি মনে করি, – আল্লাহ ভালো জানেন – আল্লাহর কিতাব ও সুন্নাহ দ্বারা রুকইয়াহকারীর জন্য সরাসরি (হাত, পা দ্বারা) গাইর মাহরাম নারীকে প্রহার করা কোন অবস্থায়ই জায়েজ নেই। যদি উল্লেখকৃত শর্তসাপেক্ষে তার (রোগীনির) কোন মাহরামকে প্রহারের দায়িত্ব দেয়” তাহলে কোন সমস্যা নেই।
কোন কুমন্ত্রণাদাতা যেন ধারণা না করে, জিন বের হওয়ার জন্য প্রহার করা আবশ্যক। ব্যাপারটি সর্বদাই আল্লাহর হাতে। আরোগ্য আল্লাহর হাতে। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া জিন প্রবেশও করে না বেরও হয় না।
মন্তব্যঃ আমরা শাইখের ছাত্রের এই মতকে সমর্থন করি। আর মনে করি গাইরে মাহরাম রোগীকে স্পর্শ করা / মাথায় হাত রাখা / হাতপা দিয়ে সরাসরি প্রহার করার জায়েজ হবে না। কারণ এর বিশেষ কোন প্রয়োজন নেই।
যেহেতু রোগীর মাথায় হাত রেখে পড়লে অনেকের ক্ষেত্রে একটু বেশি উপকার হয়, তাই কেউ এটা করতেই চাইলে এক্ষেত্রে দুইটা পদ্ধতি সুপারিশ করে থাকি –
প্রথম পদ্ধতিঃ সার্বিক বিবেচনায় এটা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি, আর “রুকইয়াহ” বইতেও এমনটাই বলা হয়েছে।
রোগীর সাথে থাকা গাইরে মাহরাম রোগীর মাহরাম পুরুষ (বাবা/ভাই/স্বামী) কিংবা রাক্বির কোন মাহরাম নারী (মা/বোন/স্ত্রী) রোগীর মাথায় হাত রাখবে। আর তার হাতের ওপর রাক্বি হাত রাখবে।
উদাহরণস্বরূপ, রোগীর মাথার ওপর রোগীর ভাই হাত রাখলো, ভাইয়ের হাতের ওপর আপনি হাত রাখলেন।
বিষয়টি না বুঝলে আরও কয়েকবার পড়ে নিন।
দ্বিতীয় পদ্ধতিঃ (রুকইয়ার সময় জ্বিনের রোগীর সাথে অবশ্যই কোন মাহরাম পুরুষ থাকা উচিত, যদি সম্ভব না হয় তবে রাক্বির স্ত্রী বা বোন সেখানে থাকা উচিত। এটাও যদি সম্ভব না হয়, তবে শেষ অপশন হল রোগীর মুরব্বি শ্রেণীর (মা-খালা জাতীয়) একাধিক মহিলা সেখানে উপস্থিত থাকবেন।
এরপর যখন মাথায় হাত রাখার হাজত হবে, তখন একটু দুরত্ব বজায় রেখে লম্বা স্কেল বা শক্ত বই জাতীয় কিছু মাথার তালুতে সামান্য স্পর্শ করবে। আর আল্লাহ চাইলে এটুকুই যথেষ্ট।
এখানে যে জিনিসটা ব্যবহার করবেন সেটা এমন না হওয়া চাই, যা ব্যাবহার সত্বেও রোগীর কোমলতা কিংবা তাপ রাক্বির হাতে অনুভুত হচ্ছে। কারন তাহলে এটা প্রায় হাতের মতই হবে। যেমনঃ সার্জিক্যাল গ্লাভস বা সাধারণ কাপড় দিয়ে হাত রাখা আমরা সমর্থন করব না। এটা জীবাণু থেকে বাচাতে পারে, কিন্তু সরাসরি স্পর্শের অনুভূতি দিচ্ছে, ফলে এটা আল্লাহর আযাব থেকে বাচাবে বলে আমাদের কাছে কোন নিশ্চয়তা নাই।
আর এমন কোন অস্বাভাবিক বস্তুও না হওয়া চাই, যেটা না ব্যাবহার করলে কোন সমস্যা নাই। যেমনঃ আপনি যেখানে সাধারণ স্কেল বা কাঠি ব্যবহার করতে পারতেন, সেখানে আপনি ম্যাজিকাল ওয়ান্ড নিয়ে চলে আসলেন। কি দরকার ভাই?
আর আমি অধমের খেয়াল হল, তাক্বওয়ার বিবেচনায় একান্ত জরুরত না হলে দ্বিতীয় পদ্ধতিও অনুসরণ উচিত না। বরং রোগির সাথে মাহরাম পুরুষ উপস্থিত থাকতে গুরুত্ব দেয়া উচিত।
আর আক্বিদা এবং আমলে এই কথার প্রকাশও থাকা উচিত যে, রোগীর মাথায় হাত রাখা ছাড়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা শুধু কোরআন তিলাওয়াত থেকেই উপকার দান করতে পারেন।
রুকইয়াহ বিষয়ে আমি ৭জন উস্তাযের ইলম দ্বারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি, তার মাঝে একজন হলেন শাইখ আদিল বিন তাহির আল-মুকবিল। আমার জানামতে বর্তমান দুনিয়ায় সহিহ পন্থায় রুকইয়াহ শারইয়াহ প্রচারে যে ২জনের অবদান সবচেয়ে বেশি, তার একজন হলেন শাইখ আদিল, অন্যজন শাইখ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালাম বালি। আল্লাহ উনাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।
এখানে শাইখ আদিলের মতামত উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করছি।
উনার মতে শুধুমাত্র ৩টা অবস্থায় গাইরে মাহরামকে স্পর্শ বৈধ হতে পারে-
১. যদি হঠাৎ জিনের রোগি রাক্বিকে আক্রমণ করে বসে। এবং বাধা দেয়ার মত অন্য কিছু না থাকে।
২. যদি জ্বিন রোগির নিজেকে আঘাত করে শারিরীক ক্ষতি করতে লাগে, কিন্তু সাথে থাকা মাহরাম যদি একা জিনকে বাধা দিতে না পারে।
৩. যদি রোগি পাশে বসা মাহরামকে খারাপভাবে আঘাত করতে থাকে বা গলা চিপে ধরে আর সে সরাতে না পারে।
এই হল তিনটি সুরত। রাক্বি যদি চেষ্টা করে, তাহলে এধরনের পরিস্থিতিও এড়াতে পারবে ইনশাআল্লাহ।
যেমনঃ রুকইয়া চলাকালিন রোগির হাত দ্বারা আঘাত করতে চাইলে হাতের ওপর ফুঁ দিলে বা পানি ছিটিতে দিলে অধিকাংশ সময় দুর্বল হয়ে যায়। অথবা কাছে মোটা শক্ত জায়নামাজ থাকলেও এধরণের পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যায়।
আর রোগীকে ধরে রাখা, রুকইয়ার জন্য রোগীকে বসানো এবং পাশে বসার কিছু পদ্ধতি আছে। এগুলো খেয়াল রাখলে যত ভায়োলেন্ট জিনই হোক, বেশি নড়াচড়া করতে পারে না। রাক্বিদের এই জিনিসগুলো সামনাসামনি দেখে হাতেকলমে শিখে নেয়া উচিত।
আর হ্যা, তিলাওয়াতের পাশাপাশি গামছা বা রুমাল দ্বারা মৃদু প্রহারে আমরা কোন আপত্তি করি না। আর আল্লাহ চানতো রুকইয়ার চলাকালীন এই সামান্য আঘাতই জ্বিনকে অনেক বেশি কষ্ট দিবে।
আর সবশেষে আমরা রাক্বিদেরকে রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদিস স্মরণ করে আল্লাহকে ভয় করার পরামর্শ দিব-
عن معقل بن يسار أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: “لأن يطعن في رأس أحدكم بمخيط من حديد خير له من أن يمس امرأة لا تحل له” رواه الطبراني والبيهقي.
(ভাবার্থ) মা’কাল ইবনে ইয়াসার রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে নারী তোমাদের জন্য হালাল নয়, তাকে স্পর্শ করার চেয়ে তোমাদের কারও মাথায় পেরেক ঠুকে দেয়া বেশি ভালো।
– তাবারানী; মুজামুল কাবির, সিলসিলাতুস সহীহাহ।
আল্লাহ আমাদেরকে সুন্নাহ এবং তাক্বওয়ার ওপর থাকার তাওফিক দিন। সেই কাজ করার তাওফিক দিন যার ওপর তিনি সন্তুষ্ট আছেন। আর সেই কাজগুলো, যা এই উম্মাতের জন্য কল্যাণকর। আর এই উম্মাতের সবচেয়ে মুত্তাকী জামায়াতের সাথে আমাদের হাশর করুন। আমিন।
পোস্ট ক্রেডিটঃ Abdullah AlMahnud Bhai

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার (রুকইয়াহ) হাদিয়া।

ঢাকার মধ্যে রুকইয়ার হাদিয়া প্রতি রোগী প্রথমবার ৫,০০০ টাকা, ২য়/তয় বার ৪,০০০ টাকা, আর ঢাকার বাহিরে হলে প্রথমবার ১০,০০০ টাকা, ২য়/৩য়  বার  ৮,০০০ টাকা । বি. দ্রঃ খুব বেশি দূরত্ব, অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বড় বেশি কঠিন রোগীর ক্ষেত্রে হাদিয়া আলোচনা সাপেক্ষে কম বেশি হতে পারে। এই ইসলামিক চিকিৎসা পদ্ধতি দিয়ে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে, কোরআন হাদিসের চিকিৎসা সমাজে কায়েম করানো, আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে দীন-ইসলামের খাদেম হিসাবে কবুল করুন, আমীন, সুম্মা আমীন।