01 Para / ০১ পারা – সূরা আল বাক্বারার ১৪১ আয়াত পর্যন্ত

2) সূরা আল বাক্বারাহ – Surah Al-Baqara (মদীনায় অবতীর্ণ – Ayah 286)

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(1) الم আলিফ লাম মীম। Alif.Laam.Meem.

( الٓمٓ আলিফ লা-ম মী-ম Alif Laam Meem )

 

(2) ذَلِكَ الْكِتَابُ لاَ رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য, This is the Book; in it is guidance sure, without doubt, to those who fear Allah.

( ذَٰلِكَ (এটা) সেই That, ٱلْكِتَٰبُ মহাগ্রন্থ (আল্লাহর) (is) the Book, لَا নেই no, رَيْبَ কোনো সন্দেহ doubt, فِيهِ তাঁরমধ্যে in it, هُدًى সৎপথ নির্দেশ (হেদায়াত) a Guidance, لِّلْمُتَّقِينَ মুত্তাকীদের জন্য for the God-conscious )

 

(3) الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে Who believe in the Unseen, are steadfast in prayer, and spend out of what We have provided for them;

( ٱلَّذِينَ যারা Those who, يُؤْمِنُونَ বিশ্বাস করে believe, بِٱلْغَيْبِ অদৃশ্যের ওপর in the unseen, وَيُقِيمُونَ এবং প্রতিষ্ঠিত করে and establish, ٱلصَّلَوٰةَ সালাত the prayer, وَمِمَّا ও তা হতে যা and out of what, رَزَقْنَٰهُمْ তাদের আমরা জীবিকা দিয়েছি We have provided them, يُنفِقُونَ তারা ব্যয় করে they spend )

 

(4) والَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। And who believe in the Revelation sent to thee, and sent before thy time, and (in their hearts) have the assurance of the Hereafter.

( وَٱلَّذِينَ এবং যারা And those who, يُؤْمِنُونَ বিশ্বাস করে believe, بِمَآ ঐ বিষয়ে যা in what, أُنزِلَ অবতীর্ণ করা হয়েছে (is) sent down, إِلَيْكَ তোমার প্রতি to you, وَمَآ এবং যা and what, أُنزِلَ অবতীর্ণ করা হয়েছে was sent down, مِن থেকে from, قَبْلِكَ তোমার পূর্বে before you, وَبِٱلْءَاخِرَةِ এবং আখিরাতের উপর and in the Hereafter, هُمْ তারা they, يُوقِنُونَ দৃঢ় বিশ্বাস রাখে firmly believe )

 

(5) أُوْلَـئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম। They are on (true) guidance, from their Lord, and it is these who will prosper.

( أُو۟لَٰٓئِكَ তারাই (প্রতিষ্ঠিত) Those, عَلَىٰ উপর (are) on, هُدًى সত্যপথের Guidance, مِّن পক্ষ হতে from, رَّبِّهِمْ তাদের রবের their Lord, وَأُو۟لَٰٓئِكَ এবং তারাই (ঐসব লোক) and those -, هُمُ যারা they, ٱلْمُفْلِحُونَ সফলকাম (are) the successful ones )

 

(6) إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُواْ سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ নিশ্চিতই যারা কাফের হয়েছে তাদেরকে আপনি ভয় প্রদর্শন করুন আর নাই করুন তাতে কিছুই আসে যায় না, তারা ঈমান আনবে না। As to those who reject Faith, it is the same to them whether thou warn them or do not warn them; they will not believe.

( إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱلَّذِينَ যারা those who, كَفَرُوا۟ অবিশ্বাস করেছে disbelieve[d], سَوَآءٌ

সমান (it) is same, عَلَيْهِمْ তাদের জন্যে to them, ءَأَنذَرْتَهُمْ তাদের তুমি সতর্ক কর কি whether you warn them, أَمْ অথবা or, لَمْ না not, تُنذِرْهُمْ সতর্ক কর তুমি তাদেরকে you warn them, لَا না not يُؤْمِنُونَ তারা ঈমান আনবে they believe)

 

(7) خَتَمَ اللّهُ عَلَى قُلُوبِهمْ وَعَلَى سَمْعِهِمْ وَعَلَى أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ عظِيمٌ আল্লাহ তাদের অন্তকরণ এবং তাদের কানসমূহ বন্ধ করে দিয়েছেন, আর তাদের চোখসমূহ পর্দায় ঢেকে দিয়েছেন। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তি। Allah hath set a seal on their hearts and on their hearing, and on their eyes is a veil; great is the penalty they (incur).

( خَتَمَ সিল মেরে দিয়েছেন Has set a seal, ٱللَّهُ আল্লাহ Allah, عَلَىٰ উপর on, قُلُوبِهِمْ তাদের অন্তরের their hearts, وَعَلَىٰ এবং উপর and on, سَمْعِهِمْ তাদের শ্রবণশক্তির their hearing, وَعَلَىٰٓ এবং উপর and on, أَبْصَٰرِهِمْ তাদের দৃষ্টিশক্তির their vision, غِشَٰوَةٌ আবরণ (দিয়েছেন) (is) a veil, وَلَهُمْ এবং তাদেরজন্যে (রয়েছে) And for them, عَذَابٌ শাস্তি (is) a punishment, عَظِيمٌ কঠিন great )

 

(8) وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللّهِ وَبِالْيَوْمِ الآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়। Of the people there are some who say: “We believe in Allah and the Last Day;” but they do not (really) believe.

( وَمِنَ এবং মধ্যহতে And of, ٱلنَّاسِ মানুষের (এমনও আছে) the people, مَن যারা (are some) who, يَقُولُ বলে say, ءَامَنَّا ‘আমরা ঈমান এনেছি “We believed, بِٱللَّهِ আল্লাহর উপর in Allah, وَبِٱلْيَوْمِ ও দিনের উপর and in the Day, ٱلْءَاخِرِ আখিরাতের” [the] Last”, وَمَا অথচ না but not, هُم তারা they, بِمُؤْمِنِينَ মুমিন (are) believers (at all) )

 

(9) يُخَادِعُونَ اللّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلاَّ أَنفُسَهُم وَمَا يَشْعُرُونَ তারা আল্লাহ এবং ঈমানদারগণকে ধোঁকা দেয়। অথচ এতে তারা নিজেদেরকে ছাড়া অন্য কাউকে ধোঁকা দেয় না অথচ তারা তা অনুভব করতে পারে না। Fain would they deceive Allah and those who believe, but they only deceive themselves, and realise (it) not!

( يُخَٰدِعُونَ তারা প্রতারিত করতে চায় They seek to deceive, ٱللَّهَ আল্লাহকে Allah, وَٱلَّذِينَ ও (তাদেরকে) যারা and those who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believe[d], وَمَا কিন্তু না and not, يَخْدَعُونَ তারা প্রতারিত করে they deceive, إِلَّآ ছাড়া except, أَنفُسَهُمْ তাদের নিজেদেরকে themselves, وَمَا এবং না and not, يَشْعُرُونَ তারা অনুভব করে they realize (it) )

 

(10) فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللّهُ مَرَضاً وَلَهُم عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ তাদের অন্তঃকরণ ব্যধিগ্রস্ত আর আল্লাহ তাদের ব্যধি আরো বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন। In their hearts is a disease; and Allah has increased their disease: And grievous is the penalty they (incur), because they are false (to themselves).

( فِى মধ্যে আছে In, قُلُوبِهِم তাদের অন্তর সমূহের their hearts, مَّرَضٌ রোগ (আছে) (is) a disease, فَزَادَهُمُ বৃদ্ধি করলেন তাই (আরও) তাদেরকে so has increased them, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, مَرَضًا (তাদের) রোগ (in) disease, وَلَهُمْ এবং তাদের জন্য (রয়েছে) and for them, عَذَابٌ শাস্তি (is) a punishment, أَلِيمٌۢ কষ্টদায়ক painful, بِمَا এজন্যে যে because, كَانُوا۟ তারা ছিল they used (to), يَكْذِبُونَ তারা মিথ্যা বলতো [they] lie)

 

(11) وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لاَ تُفْسِدُواْ فِي الأَرْضِ قَالُواْ إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি। When it is said to them: “Make not mischief on the earth,” they say: “Why, we only Want to make peace!”

( وَإِذَا এবং যখন And when, قِيلَ বলা হয় it is said, لَهُمْ তাদের উদ্দেশ্যে to them, لَا ‘না “(Do) not, تُفْسِدُوا۟ বিপর্যয় সৃষ্টি করো spread corruption, فِى মধ্যে in, ٱلْأَرْضِ পৃথিবীর” the earth”, قَالُوٓا۟ তারা বলে they say, إِنَّمَا ‘মূলতঃ “Only, نَحْنُ আমরা we, مُصْلِحُونَ সংশোধনকারী” (are) reformers”)

 

(12) أَلا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَـكِن لاَّ يَشْعُرُونَ মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলব্ধি করে না। Of a surety, they are the ones who make mischief, but they realise (it) not.

( أَلَآ সাবধান Beware, إِنَّهُمْ তারা নিশ্চয়ই indeed they, هُمُ তারাই themselves, ٱلْمُفْسِدُونَ বিপর্যয় সৃষ্টিকারী (are) the ones who spread corruption, وَلَٰكِن কিন্তু [and] but, لَّا না not, يَشْعُرُونَ তারা অনুভব করে they realize (it) )

 

(13) وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُواْ كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُواْ أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاء أَلا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاء وَلَـكِن لاَّ يَعْلَمُونَ আর যখন তাদেরকে বলা হয়, অন্যান্যরা যেভাবে ঈমান এনেছে তোমরাও সেভাবে ঈমান আন, তখন তারা বলে, আমরাও কি ঈমান আনব বোকাদেরই মত! মনে রেখো, প্রকৃতপক্ষে তারাই বোকা, কিন্তু তারা তা বোঝে না। When it is said to them: “Believe as the others believe:” They say: “Shall we believe as the fools believe?” Nay, of a surety they are the fools, but they do not know.

( وَإِذَا এবং যখন And when, قِيلَ বলা হয় it is said, لَهُمْ তাদের উদ্দেশ্য to them, ءَامِنُوا۟

‘তোমরা ঈমান আনো “Believe, كَمَآ যেমন as, ءَامَنَ ঈমান এনেছে believed, ٱلنَّاسُ মানুষ” the people”, قَالُوٓا۟ তারা বলে they say, أَنُؤْمِنُ ‘আমরা কি ঈমান আনবো “Should we believe, كَمَآ যেমন as, ءَامَنَ ঈমান এনেছে believed, ٱلسُّفَهَآءُ বোকারা” the fools?”, أَلَآ সাবধান Beware, إِنَّهُمْ নিশ্চয়ই তারা certainly they, هُمُ তারাই themselves, ٱلسُّفَهَآءُ বোকা (are) the fools, وَلَٰكِن কিন্তু [and] but, لَّا না not, يَعْلَمُونَ তারা জানে they know)

 

(14) وَإِذَا لَقُواْ الَّذِينَ آمَنُواْ قَالُواْ آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْاْ إِلَى شَيَاطِينِهِمْ قَالُواْ إِنَّا مَعَكْمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِؤُونَ আর তারা যখন ঈমানদারদের সাথে মিশে, তখন বলে, আমরা ঈমান এনেছি। আবার যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে সাক্ষাৎ করে, তখন বলে, আমরা তোমাদের সাথে রয়েছি। আমরা তো (মুসলমানদের সাথে) উপহাস করি মাত্রা। When they meet those who believe, they say: “We believe;” but when they are alone with their evil ones, they say: “We are really with you: We (were) only jesting.”

( وَإِذَا এবং যখন And when, لَقُوا۟ তারা মিলিত হয় they meet, ٱلَّذِينَ (তাদের সাথে) যারা those who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believe[d], قَالُوٓا۟ তারা বলে they say, ءَامَنَّا ‘আমরা ঈমান এনেছি” “We believe[d]”, وَإِذَا এবং যখন But when, خَلَوْا۟ গোপনে মিলে they are alone, إِلَىٰ সাথে with, شَيَٰطِينِهِمْ তাদের শয়তান (বন্ধুদের) their evil ones, قَالُوٓا۟ তারা বলে they say, إِنَّا ‘নিশ্চয়ই আমরা “Indeed, we, مَعَكُمْ তোমাদের সাথে (are) with you, إِنَّمَا মূলতঃ only, نَحْنُ আমরা we, مُسْتَهْزِءُونَ উপহাসকারী (মু’মিনদের সাথে)” (are) mockers”)

 

(15) اللّهُ يَسْتَهْزِىءُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ বরং আল্লাহই তাদের সাথে উপহাস করেন। আর তাদেরকে তিনি ছেড়ে দিয়েছেন যেন তারা নিজেদের অহংকার ও কুমতলবে হয়রান ও পেরেশান থাকে। Allah will throw back their mockery on them, and give them rope in their trespasses; so they will wander like blind ones (To and fro).

( ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, يَسْتَهْزِئُ উপহাস করেন mocks, بِهِمْ তাদের সাথে at them, وَيَمُدُّهُمْ এবং তাদের ঢিলদেন and prolongs them, فِى মধ্যে in, طُغْيَٰنِهِمْ তাদের অবাধ্যতার their transgression, يَعْمَهُونَ তারা উদভ্রান্ত হয়ে ফিরে they wander blindly)

 

(16) أُوْلَـئِكَ الَّذِينَ اشْتَرُوُاْ الضَّلاَلَةَ بِالْهُدَى فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُواْ مُهْتَدِينَ তারা সে সমস্ত লোক, যারা হেদায়েতের বিনিময়ে গোমরাহী খরিদ করে। বস্তুতঃ তারা তাদের এ ব্যবসায় লাভবান হতে পারেনি এবং তারা হেদায়েতও লাভ করতে পারেনি। These are they who have bartered Guidance for error: But their traffic is profitless, and they have lost true direction,

( أُو۟لَٰٓئِكَ তারাই (ঐসব লোক) Those, ٱلَّذِينَ যারা (are) the ones who, ٱشْتَرَوُا۟ কিনেছে bought, ٱلضَّلَٰلَةَ পথভ্রশ্ততা [the] astraying, بِٱلْهُدَىٰ সৎপথের বিনিময় for [the] guidance, فَمَا সুতরাং না So not, رَبِحَت লাভজনক হয় profited, تِّجَٰرَتُهُمْ তাদের ব্যবসা their commerce, وَمَا এবং না and not, كَانُوا۟ তারা ছিল were they, مُهْتَدِينَ সৎপথে পরিচালিত guided-ones)

 

(17) مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَاراً فَلَمَّا أَضَاءتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لاَّ يُبْصِرُونَ তাদের অবস্থা সে ব্যক্তির মত, যে লোক কোথাও আগুন জ্বালালো এবং তার চারদিককার সবকিছুকে যখন আগুন স্পষ্ট করে তুললো, ঠিক এমনি সময় আল্লাহ তার চারদিকের আলোকে উঠিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারে ছেড়ে দিলেন। ফলে, তারা কিছুই দেখতে পায় না। Their similitude is that of a man who kindled a fire; when it lighted all around him, Allah took away their light and left them in utter darkness. So they could not see.

( مَثَلُهُمْ তাদের উপমা Their example, كَمَثَلِ উপমা যেমন (এক ব্যক্তির) (is) like (the) example, ٱلَّذِى যে (of) the one who, ٱسْتَوْقَدَ জ্বালালো kindled, نَارًا আগুন a fire, فَلَمَّآ অতঃপর যখন then, when, أَضَآءَتْ আলোকিত করলো it lighted, مَا যা what, حَوْلَهُۥ তার চারপাশে his surroundings, ذَهَبَ নিলেন took away, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, بِنُورِهِمْ তাদের আলো নিয়ে their light, وَتَرَكَهُمْ এবং তাদের ছেড়ে দিলেন and left them, فِى মধ্যে in, ظُلُمَٰتٍ অন্ধকার সমূহের darkness[es], لَّا না (so) not, يُبْصِرُونَ তারা দেখতে পায় (do) they see)

 

(18) صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لاَ يَرْجِعُونَ তারা বধির, মূক ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না Deaf, dumb, and blind, they will not return (to the path).

( صُمٌّۢ বধির Deaf, بُكْمٌ বোবা dumb, عُمْىٌ অন্ধ blind, فَهُمْ সুতরাং তারা so they, لَا না not, يَرْجِعُونَ প্রত্যাবর্তন করবে [they] will not return )

 

(19) أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاء فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصْابِعَهُمْ فِي آذَانِهِم مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ واللّهُ مُحِيطٌ بِالْكافِرِينَ আর তাদের উদাহরণ সেসব লোকের মত যারা দুর্যোগপূর্ণ ঝড়ো রাতে পথ চলে, যাতে থাকে আঁধার, গর্জন ও বিদ্যুৎচমক। মৃত্যুর ভয়ে গর্জনের সময় কানে আঙ্গুল দিয়ে রক্ষা পেতে চায়। অথচ সমস্ত কাফেরই আল্লাহ কর্তৃক পরিবেষ্ঠিত। Or (another similitude) is that of a rain-laden cloud from the sky: In it are zones of darkness, and thunder and lightning: They press their fingers in their ears to keep out the stunning thunder-clap, the while they are in terror of death. But Allah is ever round the rejecters of Faith!

( أَوْ অথবা Or, كَصَيِّبٍ মতো বৃষ্টিপাতের like a rainstorm, مِّنَ থেকে from, ٱلسَّمَآءِ আকাশ the sky, فِيهِ তার মধ্যে (আছে) in it (are), ظُلُمَٰتٌ অন্ধকার darkness[es], وَرَعْدٌ এবং গর্জন and thunder, وَبَرْقٌ ও বিদ্যুৎচমক and lightning, يَجْعَلُونَ তারা রাখে They put, أَصَٰبِعَهُمْ তাদের আঙ্গুলগুলোকে their fingers, فِىٓ মধ্যে in, ءَاذَانِهِم তাদের কানগুলোর their ears, مِّنَ কারনে from, ٱلصَّوَٰعِقِ বজ্রধ্বনির the thunderclaps, حَذَرَ ভয়ে (in) fear (of), ٱلْمَوْتِ মৃত্যুর [the] death, وَٱللَّهُ অথচ আল্লাহ্‌ And Allah, مُحِيطٌۢ পরিবেষ্টনকারী (is) [the One Who] encompasses, بِٱلْكَٰفِرِينَ কাফিরদের the disbelievers )

 

(20) يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ كُلَّمَا أَضَاء لَهُم مَّشَوْاْ فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُواْ وَلَوْ شَاء اللّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ إِنَّ اللَّه عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ বিদ্যুতালোকে যখন সামান্য আলোকিত হয়, তখন কিছুটা পথ চলে। আবার যখন অন্ধকার হয়ে যায়, তখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে। যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন, তাহলে তাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নিতে পারেন। আল্লাহ যাবতীয় বিষয়ের উপর সর্বময় ক্ষমতাশীল। The lightning all but snatches away their sight; every time the light (Helps) them, they walk therein, and when the darkness grows on them, they stand still. And if Allah willed, He could take away their faculty of hearing and seeing; for Allah hath power over all things.

( يَكَادُ প্রায় Almost, ٱلْبَرْقُ বিদ্যুৎচমক the lightning, يَخْطَفُ কেড়ে নেয় snatches away, أَبْصَٰرَهُمْ তাদের দৃষ্টিসমূহের their sight, كُلَّمَآ যখনই Whenever, أَضَآءَ আলোকিত হয় it flashes, لَهُم তাদের জন্য for them, مَّشَوْا۟ তারা চলে they walk, فِيهِ তারমধ্যে in it, وَإِذَآ এবং যখন and when, أَظْلَمَ অন্ধকার হয় it darkens, عَلَيْهِمْ তাদের উপর on them, قَامُوا۟ তারা দাড়িয়ে যায় they stand (still), وَلَوْ আর যদি And if, شَآءَ চান had willed, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, لَذَهَبَ অবশ্যই নিয়ে নিবেন He would certainly have taken away, بِسَمْعِهِمْ তাদের শ্রবণশক্তি their hearing, وَأَبْصَٰرِهِمْ এবং তাদের দর্শনশক্তি and their sight, إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ Allah, عَلَىٰ উপর (is) on, كُلِّ সব every, شَىْءٍ কিছুর thing, قَدِيرٌ সর্বশক্তিমান All-Powerful)

 

(21) يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُواْ رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের পালনকর্তার এবাদত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। তাতে আশা করা যায়, তোমরা পরহেযগারী অর্জন করতে পারবে। O ye people! Adore your Guardian-Lord, who created you and those who came before you, that ye may have the chance to learn righteousness;

( يَٰٓأَيُّهَا হে O you, ٱلنَّاسُ মানুষ mankind!, ٱعْبُدُوا۟ তোমরা ইবাদত করো worship, رَبَّكُمُ তোমাদের রবের your Lord, ٱلَّذِى যিনি the One Who, خَلَقَكُمْতোমাদের সৃষ্টি করেছেন created you, وَٱلَّذِينَ এবং যারা (ছিল) and those [who], مِن থেকে from, قَبْلِكُمْ তোমাদের পূর্ব (তাদেরও স্রষ্টা) before you, لَعَلَّكُمْ তোমরা যেন so that you may, تَتَّقُونَ বেঁচে চলতে পারো (পাপ হতে) become righteous)

 

(22) الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاء بِنَاء وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقاً لَّكُمْ فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلّهِ أَندَاداً وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ যে পবিত্রসত্তা তোমাদের জন্য ভূমিকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ স্বরূপ স্থাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল-ফসল উৎপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসাবে। অতএব, আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাকেও সমকক্ষ করো না। বস্তুতঃ এসব তোমরা জান। Who has made the earth your couch, and the heavens your canopy; and sent down rain from the heavens; and brought forth therewith Fruits for your sustenance; then set not up rivals unto Allah when ye know (the truth).

( ٱلَّذِى যিনি The One Who, جَعَلَ করেছেন made, لَكُمُ তোমাদের জন্য for you, ٱلْأَرْضَ পৃথিবীকে the earth, فِرَٰشًا শয্যা a resting place, وَٱلسَّمَآءَ ও আকাশকে and the sky, بِنَآءً ছাদ স্বরূপ  a canopy, وَأَنزَلَ এবং বর্ষণ করেছেন and sent down, مِنَ থেকে from, ٱلسَّمَآءِ আকাশ the sky, مَآءً পানি, water, فَأَخْرَجَ এরপর বের করেছেন then brought forth, بِهِۦ তা দ্বারা therewith, مِنَ কোনো [of], ٱلثَّمَرَٰتِ (নানা ধরণের) ফলমূল the fruits, رِزْقًا রিযক হিসাবে (as) provision, لَّكُمْ তোমাদের জন্য for you, فَلَا অতএব না So (do) not, تَجْعَلُوا۟ দাড় করিও set up, لِلَّهِ আল্লাহর সাথে to Allah, أَندَادًا সমতুল্য (অন্য কাউকে) rivals, وَأَنتُمْ অথচ তোমরা while you, تَعْلَمُونَ জানো [you] know )

 

(23)  وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَى عَبْدِنَا فَأْتُواْ بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُواْ شُهَدَاءكُم مِّن دُونِ اللّهِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ এতদসম্পর্কে যদি তোমাদের কোন সন্দেহ থাকে যা আমি আমার বান্দার প্রতি অবতীর্ণ করেছি, তাহলে এর মত একটি সূরা রচনা করে নিয়ে এস। তোমাদের সেসব সাহায্যকারীদেরকে সঙ্গে নাও-এক আল্লাহকে ছাড়া, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো And if ye are in doubt as to what We have revealed from time to time to Our servant, then produce a Sura like thereunto; and call your witnesses or helpers (If there are any) besides Allah, if your (doubts) are true.

( وَإِن এবং যদি And if, كُنتُمْ তোমরা থাক you are, فِى মধ্যে in, رَيْبٍ সন্দেহের doubt, مِّمَّا তা হতে যা about what, نَزَّلْنَا আমরা অবতীর্ণ করেছি We have revealed, عَلَىٰ উপর to, عَبْدِنَا আমাদের দাসের Our slave, فَأْتُوا۟ তবে তোমরা আনো then produce, بِسُورَةٍ একটি সূরা a chapter, مِّن মধ্য হতে [of], مِّثْلِهِۦ তার সদৃশ like it, وَٱدْعُوا۟ এবং তোমরা ডাকো and call, شُهَدَآءَكُم তোমাদের সাক্ষীদেরকে your witnesses, مِّن  দিয়ে from, دُونِ বাদ other than, ٱللَّهِ আল্লাহকে Allah, إِن যদি if, كُنتُمْ তোমরা হও you are, صَٰدِقِينَ সত্যবাদী truthful)

 

(24) فَإِن لَّمْ تَفْعَلُواْ وَلَن تَفْعَلُواْ فَاتَّقُواْ النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ আর যদি তা না পার-অবশ্য তা তোমরা কখনও পারবে না, তাহলে সে দোযখের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা কর, যার জ্বালানী হবে মানুষ ও পাথর। যা প্রস্তুত করা হয়েছে কাফেরদের জন্য। But if ye cannot- and of a surety ye cannot- then fear the Fire whose fuel is men and stones,- which is prepared for those who reject Faith.

( فَإِن কিন্তু যদি But if, لَّمْ না not,  تَفْعَلُوا۟ তোমরা করো you do, وَلَن এবং কখনও না and never, تَفْعَلُوا۟ তোমরা করতে পারবে will you do, فَٱتَّقُوا۟ তোমরা ভয় করো then fear, ٱلنَّارَ আগুনের the Fire, ٱلَّتِى যা (এমন যে) whose, وَقُودُهَا তার ইন্ধন (হবে) [its] fuel, ٱلنَّاسُ মানুষ (is) [the] men, وَٱلْحِجَارَةُ ও পাথরসমূহ and [the] stones, أُعِدَّتْ যা প্রস্তুুত করা হয়েছে prepared, لِلْكَٰفِرِينَ  কাফিরদের জন্য for the disbelievers )

 

(25) وَبَشِّرِ الَّذِين آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ كُلَّمَا رُزِقُواْ مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقاً قَالُواْ هَـذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ وَأُتُواْ بِهِ مُتَشَابِهاً وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ আর হে নবী (সাঃ), যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজসমূহ করেছে, আপনি তাদেরকে এমন বেহেশতের সুসংবাদ দিন, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহমান থাকবে। যখনই তারা খাবার হিসেবে কোন ফল প্রাপ্ত হবে, তখনই তারা বলবে, এতো অবিকল সে ফলই যা আমরা ইতিপূর্বেও লাভ করেছিলাম। বস্তুতঃ তাদেরকে একই প্রকৃতির ফল প্রদান করা হবে। এবং সেখানে তাদের জন্য শুদ্ধচারিনী রমণীকূল থাকবে। আর সেখানে তারা অনন্তকাল অবস্থান করবে। But give glad tidings to those who believe and work righteousness, that their portion is Gardens, beneath which rivers flow. Every time they are fed with fruits therefrom, they say: “Why, this is what we were fed with before,” for they are given things in similitude; and they have therein companions pure (and holy); and they abide therein (for ever).

( وَبَشِّرِ এবং সুসংবাদ দাও And give good news, ٱلَّذِينَ (তাদেরকে) যারা (to) those who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believe, وَعَمِلُوا۟ ও কাজ করেছে and do, ٱلصَّٰلِحَٰتِ সৎ [the] righteous deeds, أَنَّ যে that, لَهُمْ তাদের জন্যে (রয়েছে) for them, جَنَّٰتٍ জান্নাত (will be) Gardens, تَجْرِى প্রবাহিত হয় flow, مِن দিয়ে [from], تَحْتِهَا তার নিচ under them, ٱلْأَنْهَٰرُ ঝর্ণাধারা the rivers, كُلَّمَا যখনই Every time, رُزِقُوا۟ তাদের রিযক দেয়া হবে they are provided, مِنْهَا তা থেকে therefrom, مِن কোনো of, ثَمَرَةٍ ফলমূল fruit, رِّزْقًا রিযক হিসেবে (as) provision, قَالُوا۟ তারা বলবে they (will) say, هَٰذَا ‘এটা “This (is), ٱلَّذِى (তাই) যা the one which, رُزِقْنَا আমাদের রিযক দেওয়া হয়েছিল we were provided, مِن থেকে from, قَبْلُ পূর্ব” before”, وَأُتُوا۟ এবং তাদেরকে যা দেওয়া হয়েছিল And they will be given, بِهِۦ (তা থেকে) therefrom, مُتَشَٰبِهًا সদৃশ হবে (পরস্পরে) (things) in resemblance, وَلَهُمْ এবং তাদের জন্যে And for them, فِيهَآ তারমধ্যে (থাকবে) therein, أَزْوَٰجٌ স্ত্রীরা spouses, مُّطَهَّرَةٌ পবিত্র purified, وَهُمْ এবং তারা and they, فِيهَا তার মধ্যে therein, خَٰلِدُونَ চিরস্থায়ী হবে (will) abide forever)

 

(26) إِنَّ اللَّهَ لاَ يَسْتَحْيِي أَن يَضْرِبَ مَثَلاً مَّا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُواْ فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُواْ فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَـذَا مَثَلاً يُضِلُّ بِهِ كَثِيراً وَيَهْدِي بِهِ كَثِيراً وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلاَّ الْفَاسِقِينَ আল্লাহ পাক নিঃসন্দেহে মশা বা তদুর্ধ্ব বস্তু দ্বারা উপমা পেশ করতে লজ্জাবোধ করেন না। বস্তুতঃ যারা মুমিন তারা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করে যে, তাদের পালনকর্তা কর্তৃক উপস্থাপিত এ উপমা সম্পূর্ণ নির্ভূল ও সঠিক। আর যারা কাফের তারা বলে, এরূপ উপমা উপস্থাপনে আল্লাহর মতলবই বা কি ছিল। এ দ্বারা আল্লাহ তা’আলা অনেককে বিপথগামী করেন, আবার অনেককে সঠিক পথও প্রদর্শন করেন। তিনি অনুরূপ উপমা দ্বারা অসৎ ব্যক্তিবর্গ ভিন্ন কাকেও বিপথগামী করেন না। Allah disdains not to use the similitude of things, lowest as well as highest. Those who believe know that it is truth from their Lord; but those who reject Faith say: “What means Allah by this similitude?” By it He causes many to stray, and many He leads into the right path; but He causes not to stray, except those who forsake (the path),-

( إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱللَّهَ আল্লাহ Allah, لا না (is) not, يَسْتَحْىِۦٓ লজ্জাবোধ করেন ashamed, أَن যে to, يَضْرِبَ তিনি পেশ করবেন set forth, مَثَلًا দৃষ্টান্ত an example, مَّا যা (like) even, بَعُوضَةً মশা (of) a mosquito, فَمَا কিংবা যা and (even) something, فَوْقَهَا তারচেয়ে ক্ষুদ্রতর above it, فَأَمَّا তাই Then as for, ٱلَّذِينَ যারা those who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believed, فَيَعْلَمُونَ জানতে পারে তখন [thus] they will know, أَنَّهُ তা নিশ্চয়ই that it, ٱلْحَقُّ সত্য (is) the truth, مِن পক্ষ থেকে from, رَّبِّهِمْ তাদের রবের their Lord, وَأَمَّا পক্ষান্তরে And as for, ٱلَّذِينَ যারা those who, كَفَرُوا۟ অবিশ্বাস করেছে disbelieved, فَيَقُولُونَ তারা বলে তখন [thus] they will say, مَاذَآ কি what, أَرَادَ চেয়েছেন (did) intend, ٱللَّهُ আল্লাহ Allah, بِهَٰذَا এই দিয়ে by this, مَثَلًا উপমা example?, يُضِلُّ তিনি বিভ্রান্ত করেন He lets go astray, بِهِۦ তা দিয়ে by it, كَثِيرًا অনেককে many, وَيَهْدِى এবং পথ প্রদর্শন করেন and He guides, بِهِۦ তা দিয়ে by it, كَثِيرًا অনেককে many, وَمَا এবং না And not, يُضِلُّ বিভ্রান্ত করেন He lets go astray, بِهِۦٓ এ দিয়ে by it, إِلَّا ছাড়া except, ٱلْفَٰسِقِينَ স্বত্বত্যাগীদেরকে the defiantly disobedient )

 

(27) الَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الأَرْضِ أُولَـئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ (বিপথগামী ওরাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং আল্লাহ পাক যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন, তা ছিন্ন করে, আর পৃথিবীর বুকে অশান্তি সৃষ্টি করে। ওরা যথার্থই ক্ষতিগ্রস্ত। Those who break Allah.s Covenant after it is ratified, and who sunder what Allah Has ordered to be joined, and do mischief on earth: These cause loss (only) to themselves.

( ٱلَّذِينَ যারা Those who, يَنقُضُونَ ভঙ্গকরে break, عَهْدَ প্রতিশ্রুতি (the) Covenant, ٱللَّهِ আল্লাহর (of) Allah, مِنۢ থেকে from, بَعْدِ পরে after, مِيثَٰقِهِۦ তা আবদ্ধ হওয়ার its ratification, وَيَقْطَعُونَ এবং তারা ছিন্নকরে and [they] cut, مَآ যা what, أَمَرَ নির্দেশ দিয়েছেন has ordered, ٱللَّهُ আল্লাহ Allah, بِهِۦٓ তাঁর সম্পর্কে it, أَن যে to, يُوصَلَ যুক্ত করতে be joined, وَيُفْسِدُونَ এবং তারা বিপর্যয় সৃষ্টি করে and [they] spread corruption, فِى মধ্যে in, ٱلْأَرْضِ পৃথিবীর the earth, أُو۟لَٰٓئِكَ ঐসব (লোক) Those, هُمُ (তারাই) they, ٱلْخَٰسِرُونَ ক্ষতিগ্রস্ত (are) the losers )

 

(28) كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتاً فَأَحْيَاكُمْ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ কেমন করে তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে কুফরী অবলম্বন করছ? অথচ তোমরা ছিলে নিষ্প্রাণ। অতঃপর তিনিই তোমাদেরকে প্রাণ দান করেছেন, আবার মৃত্যু দান করবেন। পুনরায় তোমাদেরকে জীবনদান করবেন। অতঃপর তারই প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে। How can ye reject the faith in Allah.- seeing that ye were without life, and He gave you life; then will He cause you to die, and will again bring you to life; and again to Him will ye return.

( كَيْفَ কিরূপে How, تَكْفُرُونَ তোমরা অবিশ্বাস করবে (can) you disbelieve, بِٱللَّهِ আল্লাহর উপর in Allah?, وَكُنتُمْ অথচ তোমরা ছিলে While you were, أَمْوَٰتًا মৃত অবস্থায় dead, فَأَحْيَٰكُمْ পরে তিনি তোমাদের জীবিত করেছেন then He gave you life, ثُمَّ এরপর then, يُمِيتُكُمْ তোমাদের মৃত্যু দেবেন He will cause you to die, ثُمَّ এরপর then, يُحْيِيكُمْ তোমাদের জীবিত করবেন He will give you life, ثُمَّ এরপরে then, إِلَيْهِ তাঁর দিকেই to Him, تُرْجَعُونَ ফিরে যেতে হবে তোমাদেরকে you will be returned )

 

(29) هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاء فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ তিনিই সে সত্ত্বা যিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য যা কিছু জমীনে রয়েছে সে সমস্ত। তারপর তিনি মনোসংযোগ করেছেন আকাশের প্রতি। বস্তুতঃ তিনি তৈরী করেছেন সাত আসমান। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে অবহিত। It is He Who hath created for you all things that are on earth; Moreover His design comprehended the heavens, for He gave order and perfection to the seven firmaments; and of all things He hath perfect knowledge.

( هُوَ তিনিই (আল্লাহ) He, ٱلَّذِى যিনি (is) the One Who, خَلَقَ সৃষ্টি করেছেন created, لَكُم তোমাদের জন্যে for you, مَّا যা কিছু what, فِى মধ্যে (আছে) (is) in, ٱلْأَرْضِ পৃথিবীর the earth, جَمِيعًا সবকিছুকেই all, ثُمَّ এরপর Moreover, ٱسْتَوَىٰٓ লক্ষ্য দিলেন He turned, إِلَى দিকে to, ٱلسَّمَآءِ আকাশের the heaven, فَسَوَّىٰهُنَّ অতঃপর তাদেরকে সম্পূর্ণ করলেন and fashioned them, سَبْعَ সাত seven, سَمَٰوَٰتٍ আকাশ heavens, وَهُوَ এবং তিনি And He, بِكُلِّ সব of every, شَىْءٍ জিনিস সম্পর্কে thing, عَلِيمٌ মহাজ্ঞানী (is) All-Knowing )

 

(30) وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلاَئِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الأَرْضِ خَلِيفَةً قَالُواْ أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاء وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لاَ تَعْلَمُونَ আর তোমার পালনকর্তা যখন ফেরেশতাদিগকে বললেনঃ আমি পৃথিবীতে একজন প্রতিনিধি বানাতে যাচ্ছি, তখন ফেরেশতাগণ বলল, তুমি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবে যে দাঙ্গা-হাঙ্গামার সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত তোমার গুণকীর্তন করছি এবং তোমার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি। তিনি বললেন, নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না। Behold, thy Lord said to the angels: “I will create a vicegerent on earth.” They said: “Wilt Thou place therein one who will make mischief therein and shed blood?- whilst we do celebrate Thy praises and glorify Thy holy (name)?” He said: “I know what ye know not.”

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, قَالَ বলেছিলেন said, رَبُّكَ তোমার রব your Lord, لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ফেরেশতাদের উদ্দেশে to the angels, إِنِّى ‘নিশ্চয়ই আমি “Indeed, I (am), جَاعِلٌ সৃষ্টিকারী going to place, فِى মধ্যে in, ٱلْأَرْضِ পৃথিবীতর the earth, خَلِيفَةً প্রতিনিধি a vicegerent, قَالُوٓا۟ তারা বলেছিলো they said, أَتَجْعَلُ ‘আপনি কি সৃষ্টি করবেন “Will You place, فِيهَا তার মধ্যে (পৃথিবীতে) in it, مَن যে (one) who, يُفْسِدُ বিপর্যয় সৃষ্টি করবে will spread corruption, فِيهَا তার মধ্যে in it, وَيَسْفِكُ ও ঝরাবে and will shed, ٱلدِّمَآءَ রক্ত [the] blood[s], وَنَحْنُ এবং আমরাইতো while we, نُسَبِّحُ পবিত্র মহিমা ঘোষণা করি [we] glorify (You), بِحَمْدِكَ আপনার প্রশংসা with Your praises, وَنُقَدِّسُ ও মহিমা ঘোষণা করি and we sanctify, لَكَ আপনার [to] You, قَالَ তিনি বলেছিলেন He said, إِنِّىٓ ‘নিশ্চয়ই আমি “Indeed, I, أَعْلَمُ জানি [I] know, مَا যা what, لَا না (do) not, تَعْلَمُونَ তোমরা জান” you know” )

 

(31) وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاء كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلاَئِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاء هَـؤُلاء إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ আর আল্লাহ তা’আলা শিখালেন আদমকে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীর নাম। তারপর সে সমস্ত বস্তু-সামগ্রীকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন। অতঃপর বললেন, আমাকে তোমরা এগুলোর নাম বলে দাও, যদি তোমরা সত্য হয়ে থাক। And He taught Adam the nature of all things; then He placed them before the angels, and said: “Tell me the nature of these if ye are right.”

( وَعَلَّمَ এবং শিখালেন And He taught, ءَادَمَ আদমকে Adam, ٱلْأَسْمَآءَ নামসমূহ the names, كُلَّهَا সবকিছুর all of them, ثُمَّ এরপর Then, عَرَضَهُمْ সেগুলো উপস্থাপন করলেন He displayed them, عَلَى সামনে to, ٱلْمَلَٰٓئِكَةِ ফেরেশতাদের the angels, فَقَالَ এরপর বললেন then He said, أَنۢبِـُٔونِى ‘আমাকে অবহিত করো “Inform Me, بِأَسْمَآءِ নাম সম্পর্কে of (the) names, هَٰٓؤُلَآءِ এসবের (of) these, إِن যদি if, كُنتُمْ তোমরা হও you are, صَٰدِقِينَ সত্যবাদী” truthful” )

 

(32) قَالُواْ سُبْحَانَكَ لاَ عِلْمَ لَنَا إِلاَّ مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ তারা বলল, তুমি পবিত্র! আমরা কোন কিছুই জানি না, তবে তুমি যা আমাদিগকে শিখিয়েছ (সেগুলো ব্যতীত) নিশ্চয় তুমিই প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন, হেকমতওয়ালা। They said: “Glory to Thee, of knowledge We have none, save what Thou Hast taught us: In truth it is Thou Who art perfect in knowledge and wisdom.”

( قَالُوا۟ তারা বলেছিল They said, سُبْحَٰنَكَ ‘আপনি পবিত্র “Glory be to You!,, لَا না (আছে) No, عِلْمَ জ্ঞান knowledge, لَنَآ আমাদের (is) for us, إِلَّا এছাড়া except, مَا যা what, عَلَّمْتَنَآ আমাদের আপনি শিখিয়েছেন You have taught us, إِنَّكَ নিশ্চয়ই আপনি Indeed You!, أَنتَ আপনিই You, ٱلْعَلِيمُ মহাজ্ঞানী (are) the All-Knowing, ٱلْحَكِيمُ মহাবিজ্ঞ the All-Wise )

 

(33) قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَآئِهِمْ فَلَمَّا أَنبَأَهُمْ بِأَسْمَآئِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ তিনি বললেন, হে আদম, ফেরেশতাদেরকে বলে দাও এসবের নাম। তারপর যখন তিনি বলে দিলেন সে সবের নাম, তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত রয়েছি? এবং সেসব বিষয়ও জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন কর! He said: “O Adam! Tell them their natures.” When he had told them, Allah said: “Did I not tell you that I know the secrets of heaven and earth, and I know what ye reveal and what ye conceal?”

( قَالَ তিনি বললেন He said, يَٰٓـَٔادَمُ ‘হে আদম “O Adam!, أَنۢبِئْهُم তাদেরকে অবহিত করো Inform them, بِأَسْمَآئِهِمْ তাদের নামগুলো সম্পর্কে” of their names”, فَلَمَّآ অতঃপর যখন And when, أَنۢبَأَهُم সে তাদেরকে অবহিত করল he had informed them, بِأَسْمَآئِهِمْ তাদের নামগুলো of their names, قَالَ তিনি বললেন He said, أَلَمْ ‘আমি কি “Did not, أَقُل বলি নি I say, لَّكُمْ তোমাদেরকে to you, إِنِّىٓ নিশ্চয়ই Indeed, I, أَعْلَمُ আমি জানি [I] know, غَيْبَ অদৃশ্যকে (the) unseen, ٱلسَّمَٰوَٰتِ আকাশ সমূহের (of) the heavens, وَٱلْأَرْضِ ও পাৃথিবীর and the earth, وَأَعْلَمُ এবং আমি জানি and I know, مَا যা what, تُبْدُونَ তোমরা প্রকাশ কর you reveal, وَمَا ও যা and what, كُنتُمْ তোমরা you [were], تَكْتُمُونَ গোপন করো” conceal” )

 

(34)  وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلاَئِكَةِ اسْجُدُواْ لآدَمَ فَسَجَدُواْ إِلاَّ إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ এবং যখন আমি হযরত আদম (আঃ)-কে সেজদা করার জন্য ফেরেশতাগণকে নির্দেশ দিলাম, তখনই ইবলীস ব্যতীত সবাই সিজদা করলো। সে (নির্দেশ) পালন করতে অস্বীকার করল এবং অহংকার প্রদর্শন করল। ফলে সে কাফেরদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেল। And behold, We said to the angels: “Bow down to Adam” and they bowed down. Not so Iblis: he refused and was haughty: He was of those who reject Faith.

( وَإِذْ এবং যখন And when, قُلْنَا আমরা বলেছিলাম We said, لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ফেরেশতাদেরকে to the angels, ٱسْجُدُوا۟ ‘তোমরা সিজদা করো “Prostrate, لِءَادَمَ আদমকে” to Adam”, فَسَجَدُوٓا۟ তখন তারা সিজদা করল [so] they prostrated, إِلَّآ ব্যতীত except, إِبْلِيسَ ইবলিস Iblees, أَبَىٰ সে অমান্য করল He refused, وَٱسْتَكْبَرَ ও অহংকার করল, and was arrogant, وَكَانَ এবং সে হল and became, مِنَ অন্তর্ভুক্ত of, ٱلْكَٰفِرِينَ কাফিরদের the disbelievers,

 

(35) وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلاَ مِنْهَا رَغَداً حَيْثُ شِئْتُمَا وَلاَ تَقْرَبَا هَـذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الْظَّالِمِينَ এবং আমি আদমকে হুকুম করলাম যে, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করতে থাক এবং ওখানে যা চাও, যেখান থেকে চাও, পরিতৃপ্তিসহ খেতে থাক, কিন্তু এ গাছের নিকটবর্তী হয়ো না। অন্যথায় তোমরা যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হয়ে পড়বে। We said: “O Adam! dwell thou and thy wife in the Garden; and eat of the bountiful things therein as (where and when) ye will; but approach not this tree, or ye run into harm and transgression.”

( وَقُلْنَا এবং আমরা বললাম And We said, يَٰٓـَٔادَمُ ‘হে আদম “O Adam!, ٱسْكُنْ বসবাস করো Dwell, أَنتَ তুমি you, وَزَوْجُكَ ও তোমার স্ত্রী and your spouse, ٱلْجَنَّةَ জান্নাতে (in) Paradise, وَكُلَا এবং দুজনে খাও and [you both] eat, مِنْهَا তা হতে from it, رَغَدًا স্বাচ্ছন্দে freely, حَيْثُ যেখান থেকে (from) wherever, شِئْتُمَا তোমরা দুজনে চাও; you [both] wish, وَلَا এবং না But do not, تَقْرَبَا দুজনে নিকটে যেয়ো [you two] approach, هَٰذِهِ এই this, ٱلشَّجَرَةَ গাছের [the] tree, فَتَكُونَا অতঃপর তোমরা দুজনে হবে lest you [both] be, مِنَ অন্তর্ভুক্ত of, ٱلظَّٰلِمِينَ সীমালঙ্ঘনকারীদের” the wrongdoers” )

 

(36) فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ وَقُلْنَا اهْبِطُواْ بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ وَلَكُمْ فِي الأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَى حِينٍ অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে ওখান থেকে পদস্খলিত করেছিল। পরে তারা যে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ছিল তা থেকে তাদেরকে বের করে দিল এবং আমি বললাম, তোমরা নেমে যাও। তোমরা পরস্পর একে অপরের শক্র হবে এবং তোমাদেরকে সেখানে কিছুকাল অবস্থান করতে হবে ও লাভ সংগ্রহ করতে হবে। Then did Satan make them slip from the (garden), and get them out of the state (of felicity) in which they had been. We said: “Get ye down, all (ye people), with enmity between yourselves. On earth will be your dwelling-place and your means of livelihood – for a time.”

( فَأَزَلَّهُمَا তাদেরকে এরপর পদস্থলন ঘটাল Then made [both of] them slip, ٱلشَّيْطَٰنُ শয়তান the Shaitaan, عَنْهَا তা হতে from it, فَأَخْرَجَهُمَا তাদের দুজনকে অতঃপর বের করল and he got [both of] them out, مِمَّا সেখান থেকে from what, كَانَا দুজনে ছিল they [both] were, فِيهِ যার মধ্যে in [it], وَقُلْنَا এবং আমরা বললাম And We said, ٱهْبِطُوا۟ ‘তোমরা নেমে যাও (এখান থেকে) “Go down (all of you), بَعْضُكُمْ তোমাদের একে some of you, لِبَعْضٍ অপরের জন্যে to others, عَدُوٌّ শত্রু (as) enemy, وَلَكُمْ এবং তোমাদের জন্যে and for you, فِى মধ্যে (থাকবে) in, ٱلْأَرْضِ পৃথিবীর the earth, مُسْتَقَرٌّ অবস্থান (কিছু কালের) (is) a dwelling place, وَمَتَٰعٌ ও জীবন সামগ্রী and a provision, إِلَىٰ পর্যন্ত for, حِينٍ একটা নির্দিষ্ট সময়” a period” )

 

(37) فَتَلَقَّى آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ অতঃপর হযরত আদম (আঃ) স্বীয় পালনকর্তার কাছ থেকে কয়েকটি কথা শিখে নিলেন, অতঃপর আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি (করুণাভরে) লক্ষ্য করলেন। নিশ্চয়ই তিনি মহা-ক্ষমাশীল ও অসীম দয়ালু। Then learnt Adam from his Lord words of inspiration, and his Lord Turned towards him; for He is Oft-Returning, Most Merciful.

( فَتَلَقَّىٰٓ তখন শিখে নিল Then received, ءَادَمُ আদম Adam, مِن নিকট হতে from, رَّبِّهِۦ তার রবের his Lord, كَلِمَٰتٍ কিছু বাণী (ও ক্ষমা চাইল) words, فَتَابَ ফলে তিনি ক্ষমা করলেন So (his Lord) turned, عَلَيْهِ তাকে towards him, إِنَّهُۥ নিশ্চয়ই তিনি Indeed He!, هُوَ তিনিই He, ٱلتَّوَّابُ বড় ক্ষমাশীল (is) the Oft-returning (to mercy), ٱلرَّحِيمُ পরম দয়ালু the Most Merciful )

 

(38) قُلْنَا اهْبِطُواْ مِنْهَا جَمِيعاً فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে। We said: “Get ye down all from here; and if, as is sure, there comes to you Guidance from me, whosoever follows My guidance, on them shall be no fear, nor shall they grieve.

( قُلْنَا আমরা বললাম We said, ٱهْبِطُوا۟ ‘তোমরা নামো “Go down, مِنْهَا এখান থেকে from it, جَمِيعًا সবাই all (of you), فَإِمَّا অতঃপর যখন and when, يَأْتِيَنَّكُم তোমাদের কাছে আসবে অবশ্যই comes to you, مِّنِّى আমার পক্ষ হতে from Me, هُدًى পথনির্দেশনা Guidance, فَمَن তখন যে then whoever, تَبِعَ অনুসরণ করবে follows, هُدَاىَ আমার পথনির্দেশনা My Guidance, فَلَا অতঃপর নেই [then] no, خَوْفٌ কোনো ভয় fear, عَلَيْهِمْ তাদের জন্যে (will be) on them, وَلا এবং না and not, هُمْ তারা they, يَحْزَنُونَ দুঃখিত হবে will grieve )

 

(39) وَالَّذِينَ كَفَرواْ وَكَذَّبُواْ بِآيَاتِنَا أُولَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ আর যে লোক তা অস্বীকার করবে এবং আমার নিদর্শনগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার প্রয়াস পাবে, তারাই হবে জাহান্নামবাসী; অন্তকাল সেখানে থাকবে। “But those who reject Faith and belie Our Signs, they shall be companions of the Fire; they shall abide therein.”

( وَٱلَّذِينَ এবং যারা And those, كَفَرُوا۟ অবিশ্বাস করবে who disbelieve[d], وَكَذَّبُوا۟ ও মিথ্যা মনে করবে and deny, بِـَٔايَٰتِنَآ আমার নিদর্শনসমূহকে Our Signs, أُو۟لَٰٓئِكَ তারা those, أَصْحَٰبُ অধিবাসী (হবে) (are the) companions, ٱلنَّارِ (জাহান্নামের) আগুনের (of) the Fire;, هُمْ তারা they, فِيهَا তার মধ্যে in it, خَٰلِدُونَ চিরস্থায়ী হবে” (will) abide forever” )

 

(40) يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُواْ بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ হে বনী-ইসরাঈলগণ, তোমরা স্মরণ কর আমার সে অনুগ্রহ যা আমি তোমাদের প্রতি করেছি এবং তোমরা পূরণ কর আমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা, তাহলে আমি তোমাদেরকে প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ করব। আর ভয় কর আমাকেই। O Children of Israel! call to mind the (special) favour which I bestowed upon you, and fulfil your covenant with Me as I fulfil My Covenant with you, and fear none but Me.

( يَٰبَنِىٓ হে সন্তান O Children, إِسْرَٰٓءِيلَ ইসরাঈলের (of) Israel!, ٱذْكُرُوا۟ তোমরা স্মরণ করো Remember, نِعْمَتِىَ আমার নেয়ামতের My Favor, ٱلَّتِىٓ যা which, أَنْعَمْتُ আমি নেয়ামত দিয়েছি I bestowed, عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর upon you, وَأَوْفُوا۟ এবং তোমরা পূর্ণ করো and fulfill, بِعَهْدِىٓ আমার (কাছে কৃত) প্রতিশ্রুতি My Covenant, أُوفِ আমি পূর্ণ কর I will fulfill, بِعَهْدِكُمْ তোমাদের (কাছে কৃত) প্রতিশ্রুতি; your covenant, وَإِيَّٰىَ এবং শুধু আমাকেই and Me Alone, فَٱرْهَبُونِ তোমরা ভয় করো fear [Me] )

 

(41) وَآمِنُواْ بِمَا أَنزَلْتُ مُصَدِّقاً لِّمَا مَعَكُمْ وَلاَ تَكُونُواْ أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلاَ تَشْتَرُواْ بِآيَاتِي ثَمَناً قَلِيلاً وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ আর তোমরা সে গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, যা আমি অবতীর্ণ করেছি সত্যবক্তা হিসেবে তোমাদের কাছে। বস্তুতঃ তোমরা তার প্রাথমিক অস্বীকারকারী হয়ো না আর আমার আয়াতের অল্প মূল্য দিও না। এবং আমার (আযাব) থেকে বাঁচ। And believe in what I reveal, confirming the revelation which is with you, and be not the first to reject Faith therein, nor sell My Signs for a small price; and fear Me, and Me alone.

( وَءَامِنُوا۟ এবং তোমরা ঈমান আনো And believe, بِمَآ ঐ বিষয়ে যা in what, أَنزَلْتُ আমি অবতীর্ণ করেছি I have sent down, مُصَدِّقًا সমর্থনকারী confirming, لِّمَا তার যা that which, مَعَكُمْ তোমাদের সাথে আছে (is) with you, وَلا এবং না and (do) not, تَكُونُوٓا۟ তোমরা হয়ো be, أَوَّلَ প্রথম (the) first, كَافِرٍۭ অস্বীকারকারী disbeliever, بِهِۦ তার প্রতি of it, وَلَا এবং না And (do) not, تَشْتَرُوا۟ তোমরা বিক্রয় করো exchange, بِـَٔايَٰتِى আমার আয়াতের বিনিময়ে My Signs (for), ثَمَنًا মূল্যে a price, قَلِيلًا সামান্য small, وَإِيَّٰىَ এবং শুধু আমাকেই and Me Alone, فَٱتَّقُونِ অতএব তোমরা ভয় করো fear [Me] )

 

(42) وَلاَ تَلْبِسُواْ الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُواْ الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না এবং জানা সত্ত্বে সত্যকে তোমরা গোপন করো না। And cover not Truth with falsehood, nor conceal the Truth when ye know (what it is).

( وَلَا এবং না And (do) not, تَلْبِسُوا۟ তোমরা মিশ্রণ করো mix, ٱلْحَقَّ সত্যকে the Truth, بِٱلْبَٰطِلِ অসত্যের সাথে with [the] falsehood, وَتَكْتُمُوا۟ এবং তোমরা লুকাবে (না) and conceal, ٱلْحَقَّ সত্যকে the Truth, وَأَنتُمْ এমতাবস্থায় যে তোমরা while you, تَعْلَمُونَ জান [you] know )

 

(43) وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَارْكَعُواْ مَعَ الرَّاكِعِينَ আর নামায কায়েম কর, যাকাত দান কর এবং নামাযে অবনত হও তাদের সাথে, যারা অবনত হয়। And be steadfast in prayer; practise regular charity; and bow down your heads with those who bow down (in worship).

( وَأَقِيمُوا۟ এবং তোমরা প্রতিষ্ঠা করো And establish, ٱلصَّلَوٰةَ সালাত the prayer, وَءَاتُوا۟ ও তোমরা দাও and give, ٱلزَّكَوٰةَ যাকাত zakah, وَٱرْكَعُوا۟ এবং তোমরা রুকু করো and bow down, مَعَ সাথে with, ٱلرَّٰكِعِينَ রুকুকারীদের those who bow down )

 

(44)  أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ তোমরা কি মানুষকে সৎকর্মের নির্দেশ দাও এবং নিজেরা নিজেদেরকে ভূলে যাও, অথচ তোমরা কিতাব পাঠ কর? তবুও কি তোমরা চিন্তা কর না? Do ye enjoin right conduct on the people, and forget (To practise it) yourselves, and yet ye study the Scripture? Will ye not understand?

( أَتَأْمُرُونَ তোমরা নির্দেশ দিচ্ছ কি Do you order, ٱلنَّاسَ মানুষদের [the] people, بِٱلْبِرِّ সৎকাজের [the] righteousness, وَتَنسَوْنَ আর তোমরা ভুলে যাচ্ছ and you forget, أَنفُسَكُمْ তোমাদের নিজেদেরকে yourselves, وَأَنتُمْ অথচ তোমরা while you, تَتْلُونَ তিলাওয়াত কর [you] recite, ٱلْكِتَٰبَ কিতাব the Book?, أَفَلَا না তবে কি Then will not, تَعْقِلُونَ তোমরা বুঝ you use reason? )

 

(45) وَاسْتَعِينُواْ بِالصَّبْرِ وَالصَّلاَةِ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلاَّ عَلَى الْخَاشِعِينَ ধৈর্য্যর সাথে সাহায্য প্রার্থনা কর নামাযের মাধ্যমে। অবশ্য তা যথেষ্ট কঠিন। কিন্তু সে সমস্ত বিনয়ী লোকদের পক্ষেই তা সম্ভব। Nay, seek ((Allah)’s) help with patient perseverance and prayer: It is indeed hard, except to those who bring a lowly spirit,-

 ( وَٱسْتَعِينُوا۟ এবং তোমরা সাহায্য চাও And seek help, بِٱلصَّبْرِ ধৈর্যের মাধ্যমে through patience, وَٱلصَّلَوٰةِ ও সালাতের (মাধ্যমে) and the prayer;, وَإِنَّهَا এবং তা নিশ্চয়ই and indeed it, لَكَبِيرَةٌ বড় (কঠিন) অবশ্যই (is) surely difficult, إِلَّا তবে except, عَلَى উপর on, ٱلْخَٰشِعِينَ বিনীতদের (কঠিন নয়) the humble ones )

 

(46) الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلاَقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ যারা একথা খেয়াল করে যে, তাদেরকে সম্মুখীন হতে হবে স্বীয় পরওয়ারদেগারের এবং তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে। Who bear in mind the certainty that they are to meet their Lord, and that they are to return to Him.

( ٱلَّذِينَ যারা Those who, يَظُنُّونَ বিশ্বাস করে believe, أَنَّهُم তারা নিশ্চয়ই that they, مُّلَٰقُوا۟ সাক্ষাতকারী will meet, رَبِّهِمْ তাদের রবের সাথে their Lord, وَأَنَّهُمْ এবং তারা নিশ্চয়ই and that they, إِلَيْهِ তাঁরই দিকে to Him, رَٰجِعُونَ প্রত্যাবর্তনকারী will return )

 

(47) يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ হে বনী-ইসরাঈলগণ! তোমরা স্মরণ কর আমার অনুগ্রহের কথা, যা আমি তোমাদের উপর করেছি এবং (স্মরণ কর) সে বিষয়টি যে, আমি তোমাদেরকে উচ্চমর্যাদা দান করেছি সমগ্র বিশ্বের উপর। Children of Israel! call to mind the (special) favour which I bestowed upon you, and that I preferred you to all other (for My Message).

( يَٰبَنِىٓ হে সন্তান O Children, إِسْرَٰٓءِيلَ ইসরাইলের (of) Israel!, ٱذْكُرُوا۟ তোমরা স্মরণ করো Remember, نِعْمَتِىَ আমার নেয়ামতকে My Favor, ٱلَّتِىٓ যা which, أَنْعَمْتُ আমি নেয়ামত দিয়েছি I bestowed, عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর upon you, وَأَنِّى এবং আমি and that I, فَضَّلْتُكُمْ তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি [I] preferred you, عَلَى উপর over, ٱلْعَٰلَمِينَ বিশ্ববাসীর the worlds )

 

(48) وَاتَّقُواْ يَوْماً لاَّ تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئاً وَلاَ يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلاَ يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ আর সে দিনের ভয় কর, যখন কেউ কারও সামান্য উপকারে আসবে না এবং তার পক্ষে কোন সুপারিশও কবুল হবে না; কারও কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও নেয়া হবে না এবং তারা কোন রকম সাহায্যও পাবে না। Then guard yourselves against a day when one soul shall not avail another nor shall intercession be accepted for her, nor shall compensation be taken from her, nor shall anyone be helped (from outside).

( وَٱتَّقُوا۟ এবং তোমরা ভয় করো And fear, يَوْمًا সে দিনকে a day, لَّا (যখন) না (will) not, تَجْزِى কাজে আসবে avail, نَفْسٌ কোনো ব্যক্তি any soul, عَن জন্যে for, نَّفْسٍ (অন্যকোন)ব্যাক্তির (another) soul, شَيْـًٔا কিছুই (মাত্রও) anything, وَلَا এবং না and not, يُقْبَلُ গ্রহণ করা হবে will be accepted, مِنْهَا তার থেকে from it, شَفَٰعَةٌ কোনো সুপারিশ any intercession, وَلَا আর না and not, يُؤْخَذُ নেওয়া হবে will be taken, مِنْهَا তার থেকে from it, عَدْلٌ কোনো বিনিময় a compensation, وَلَا এবং না and not, هُمْ তাদের they, يُنصَرُونَ সাহায্য করা হবে will be helped )

 

 

(49) وَإِذْ نَجَّيْنَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوَءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءكُمْ وَفِي ذَلِكُم بَلاء مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ আর (স্মরণ কর) সে সময়ের কথা, যখন আমি তোমাদিগকে মুক্তিদান করেছি ফেরআউনের লোকদের কবল থেকে যারা তোমাদিগকে কঠিন শাস্তি দান করত; তোমাদের পুত্রসন্তানদেরকে জবাই করত এবং তোমাদের স্ত্রীদিগকে অব্যাহতি দিত। বস্তুতঃ তাতে পরীক্ষা ছিল তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে, মহা পরীক্ষা। And remember, We delivered you from the people of Pharaoh: They set you hard tasks and punishments, slaughtered your sons and let your women-folk live; therein was a tremendous trial from your Lord.

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, نَجَّيْنَٰكُم তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছিলাম We saved you, مِّنْ হতে from, ءَالِ সম্প্রদায়ের (the) people, فِرْعَوْنَ ফিরাউনের (of) Firaun, يَسُومُونَكُمْ তোমাদেরকে তারা যন্ত্রণা দিত (who were) afflicting you (with), سُوٓءَ নিকৃষ্ট horrible, ٱلْعَذَابِ যন্ত্রণা torment, يُذَبِّحُونَ তারা জবাই করত slaughtering, أَبْنَآءَكُمْ তোমাদের ছেলে সন্তানদের your sons, وَيَسْتَحْيُونَ এবং জীবিত রাখত and letting live, نِسَآءَكُمْ তোমাদের কন্যা সন্তানদের your women, وَفِى এবং মধ্যে (ছিল) And in, ذَٰلِكُم এর that, بَلَآءٌ পরীক্ষা (was) a trial, مِّن পক্ষ হতে from, رَّبِّكُمْ তোমাদের রবের your Lord, عَظِيمٌ কঠিন great )

 

(50) وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ আর যখন আমি তোমাদের জন্য সাগরকে দ্বিখন্ডিত করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে বাঁচিয়ে দিয়েছি এবং ডুবিয়ে দিয়েছি ফেরআউনের লোকদিগকে অথচ তোমরা দেখছিলে। And remember We divided the sea for you and saved you and drowned Pharaoh’s people within your very sight.

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, فَرَقْنَا আমরা বিভক্ত করেছিলাম We parted, بِكُمُ তোমাদের (জন্যে) for you, ٱلْبَحْرَ সাগরকে the sea, فَأَنجَيْنَٰكُمْ এরপর আমরা উদ্ধার করেছিলাম then We saved you, وَأَغْرَقْنَآ এবং আমরা ডুবিয়ে দিয়েছিলাম and We drowned, ءَالَ সম্প্রদায়কে (the) people, فِرْعَوْنَ ফেরাঊনের (of) Firaun, وَأَنتُمْ এমতাবস্থায় তোমরা while you, تَنظُرُونَ দেখছিলে (were) looking )

 

(51) وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِهِ وَأَنتُمْ ظَالِمُونَ আর যখন আমি মূসার সাথে ওয়াদা করেছি চল্লিশ রাত্রির অতঃপর তোমরা গোবৎস বানিয়ে নিয়েছ মূসার অনুপস্থিতিতে। বস্তুতঃ তোমরা ছিলে যালেম। And remember We appointed forty nights for Moses, and in his absence ye took the calf (for worship), and ye did grievous wrong.

( وَإِذْ এবং যখন And when, وَٰعَدْنَا নির্ধারিত করেছিলাম We appointed, مُوسَىٰٓ মূসার জন্যে (for) Musa, أَرْبَعِينَ চল্লিশ forty, لَيْلَةً রাত nights, ثُمَّ এরপর Then, ٱتَّخَذْتُمُ তোমরা গ্রহণ করেছিলে you took, ٱلْعِجْلَ গরুর বাছুরকে (উপাস্যরূপে) the calf, مِنۢ তার from, بَعْدِهِۦ পরে after him, وَأَنتُمْ যখন তোমরা and you, ظَٰلِمُونَ সীমালঙ্ঘঙ্কারী (ছিলে) (were) wrongdoers )

 

(52) ثُمَّ عَفَوْنَا عَنكُمِ مِّن بَعْدِ ذَلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ তারপর আমি তাতেও তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও। Even then We did forgive you; there was a chance for you to be grateful.

( ثُمَّ অতঃপর Then, عَفَوْنَا আমরা ক্ষমা করেছিলাম We forgave, عَنكُم তোমাদের প্রতি you, مِّنۢ (থেকে) from, بَعْدِ পরেও after, ذَٰلِكَ এর that, لَعَلَّكُمْ যেন তোমরা so that you may, تَشْكُرُونَ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর (be) grateful )

 

(53) وَإِذْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ আর (স্মরণ কর) যখন আমি মূসাকে কিতাব এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বিধানকারী নির্দেশ দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার। And remember We gave Moses the Scripture and the Criterion (Between right and wrong): There was a chance for you to be guided aright.

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, ءَاتَيْنَا আমরা দিয়েছিলাম We gave, مُوسَى মুসাকে Musa, ٱلْكِتَٰبَ কিতাব the Book, وَٱلْفُرْقَانَ এবং ফুরকান and the Criterion, لَعَلَّكُمْ তোমরা যেন perhaps you, تَهْتَدُونَ সঠিক পথ প্রাপ্ত হও (would be) guided )

 

(54) وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُواْ إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ عِندَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ আর যখন মূসা তার সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ এই গোবৎস নির্মাণ করে। কাজেই এখন তওবা কর স্বীয় স্রষ্টার প্রতি এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর তোমাদের স্রষ্টার নিকট। তারপর তোমাদের প্রতি লক্ষ্য করা হল। নিঃসন্দেহে তিনিই ক্ষমাকারী, অত্যন্ত মেহেরবান। And remember Moses said to his people: “O my people! Ye have indeed wronged yourselves by your worship of the calf: So turn (in repentance) to your Maker, and slay yourselves (the wrong-doers); that will be better for you in the sight of your Maker.” Then He turned towards you (in forgiveness): For He is Oft- Returning, Most Merciful.

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, قَالَ বলেছিল said, مُوسَىٰ মুসা Musa, لِقَوْمِهِۦ তার জাতির উদ্দ্যেশে to his people, يَٰقَوْمِ ‘হে আমার জাতি “O my people!, إِنَّكُمْ তোমরা নিশ্চয়ই Indeed you, ظَلَمْتُمْ তোমরা অত্যাচার করেছ [you] have wronged, أَنفُسَكُم তোমাদের নিজেদের (উপর) yourselves, بِٱتِّخَاذِكُمُ তোমাদের গ্রহণ করার মাধ্যমে by your taking, ٱلْعِجْلَ গো বাছুরকে (উপাস্যরূপে) the calf, فَتُوبُوٓا۟ সুতরাং তোমরা ফিরে এস So turn in repentance, إِلَىٰ দিকে to, بَارِئِكُمْ তোমাদের সৃষ্টিকর্তার your Creator, فَٱقْتُلُوٓا۟ এরপর তোমরা প্রাণ সংহার করো and kill, أَنفُسَكُمْ তোমাদের (অপরাধী) লোকদেরকে yourselves, ذَٰلِكُمْ এটাই That, خَيْرٌ উত্তম (is) better, لَّكُمْ তোমাদের জন্যে for you, عِندَ কাছে with, بَارِئِكُمْ তোমাদের স্রষ্টার” your Creator”, فَتَابَ তিনি তখন ক্ষমা করলেন Then He turned, عَلَيْكُمْ তোমাদেরকে towards you, إِنَّهُۥ তিনি নিশ্চয়ই Indeed He!, هُوَ তিনিই He, ٱلتَّوَّابُ অতীব ক্ষমাশীল (is) the Oft-returning, ٱلرَّحِيمُ পরম দয়ালু the Most Merciful  )

 

(55) وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَن نُّؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে (প্রকাশ্যে) দেখতে পাব। বস্তুতঃ তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে। And remember ye said: “O Moses! We shall never believe in thee until we see Allah manifestly,” but ye were dazed with thunder and lighting even as ye looked on.

( وَإِذْ এবং স্মরণ কর যখন And when, قُلْتُمْ তোমরা বলেছিলে you said, يَٰمُوسَىٰ ‘হে মুসা “O Musa!, لَن কখনও Never, نُّؤْمِنَ আমরা ঈমান আনব (will) we believe, لَكَ তোমার উপর in you, حَتَّىٰ যতক্ষণ না until, نَرَى আমরা দেখব we see, ٱللَّهَ আল্লাহকে Allah, جَهْرَةً প্রকাশ্যভাবে” manifestly”, فَأَخَذَتْكُمُ ফলে তোমাদেরকে ধরেছিল So seized you, ٱلصَّٰعِقَةُ বজ্রপাত the thunderbolt, وَأَنتُمْ এ অবস্থায় যে তোমরা while you, تَنظُرُونَ দেখছিলে (were) looking )

(56) ثُمَّ بَعَثْنَاكُم مِّن بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ তারপর, মরে যাবার পর তোমাদিগকে আমি তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও। Then We raised you up after your death: Ye had the chance to be grateful.

( ثُمَّ এরপর Then, بَعَثْنَٰكُم তোমাদের আমরা আবার জীবিত করলাম We revived you, مِّنۢ (থেকে) from, بَعْدِ পরে after, مَوْتِكُمْ তোমাদের মৃত্যুর your death, لَعَلَّكُمْ যেন তোমরা so that you may, تَشْكُرُونَ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর (be) grateful )

 

(57) وَظَلَّلْنَا عَلَيْكُمُ الْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى كُلُواْ مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَـكِن كَانُواْ أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ আর আমি তোমাদের উপর ছায়া দান করেছি মেঘমালার দ্বারা এবং তোমাদের জন্য খাবার পাঠিয়েছি ’মান্না’ ও সালওয়া’। সেসব পবিত্র বস্তু তোমরা ভক্ষন কর, যা আমি তোমাদেরকে দান করেছি। বস্তুতঃ তারা আমার কোন ক্ষতি করতে পারেনি, বরং নিজেদেরই ক্ষতি সাধন করেছে। And We gave you the shade of clouds and sent down to you Manna and quails, saying: “Eat of the good things We have provided for you:” (But they rebelled); to us they did no harm, but they harmed their own souls.

( وَظَلَّلْنَا এবং আমরা ছায়া দিয়েছিলাম And We shaded, عَلَيْكُمُ তোমাদের উপর [over] you, ٱلْغَمَامَ মেঘের (with) [the] clouds, وَأَنزَلْنَا এবং আমরা পাঠিয়েছিলাম and We sent down, عَلَيْكُمُ তোমাদের কাছে to you, ٱلْمَنَّ মান্না [the] manna, وَٱلسَّلْوَىٰ ও সালওয়া and [the] quails, كُلُوا۟ ‘(বলেছিলাম) তোমরা খাও “Eat, مِن হতে from, طَيِّبَٰتِ পবিত্র (খাদ্য) (the) good things, مَا যা that, رَزَقْنَٰكُمْ তোমাদেরকে আমরা জীবিকা দিয়েছি” We have provided you”, وَمَا এবং না And not, ظَلَمُونَا আমাদের (উপর) তারা অবিচার করেছে they wronged Us, وَلَٰكِن কিন্তু but, كَانُوٓا۟ তারা ছিল they were, أَنفُسَهُمْ তাদের নিজেদের (উপর) (to) themselves, يَظْلِمُونَ অবিচার করত doing wrong )

 

(58) وَإِذْ قُلْنَا ادْخُلُواْ هَـذِهِ الْقَرْيَةَ فَكُلُواْ مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ رَغَداً وَادْخُلُواْ الْبَابَ سُجَّداً وَقُولُواْ حِطَّةٌ نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطَايَاكُمْ وَسَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ আর যখন আমি বললাম, তোমরা প্রবেশ কর এ নগরীতে এবং এতে যেখানে খুশী খেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে বিচরণ করতে থাক এবং দরজার ভিতর দিয়ে প্রবেশ করার সময় সেজদা করে ঢুক, আর বলতে থাক-‘আমাদিগকে ক্ষমা করে দাও’-তাহলে আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করব এবং সৎ কর্মশীলদেরকে অতিরিক্ত দানও করব।And remember We said: “Enter this town, and eat of the plenty therein as ye wish; but enter the gate with humility, in posture and in words, and We shall forgive you your faults and increase (the portion of) those who do good.”

( وَإِذْ এবং স্মরণ করো যখন And when, قُلْنَا আমরা বলেছিলাম We said, ٱدْخُلُوا۟ ‘তোমরা প্রবেশ কর “Enter, هَٰذِهِ এই this, ٱلْقَرْيَةَ নগরীতে town, فَكُلُوا۟ তোমরা খাও then eat, مِنْهَا তা হতে from [it], حَيْثُ যেভাবে wherever, شِئْتُمْ তোমরা যাও you wish[ed], رَغَدًا স্বানন্দে abundantly, وَٱدْخُلُوا۟ এবং তোমরা প্রবেশ করো and enter, ٱلْبَابَ (নগর) দরজায় the gate, سُجَّدًا সিজদা অবনত হয়ে prostrating, وَقُولُوا۟ এবং তোমরা বলো And say, حِطَّةٌ ‘ক্ষমার কথা “Repentance, نَّغْفِرْ ক্ষমা করবো আমরা We will forgive, لَكُمْ তোমাদের প্রতি for you, خَطَٰيَٰكُمْ তোমাদের ত্রুটিগুলোকে your sins, وَسَنَزِيدُ এবং অচিরেই (অনুগ্রহ) বাড়িয়ে দিব And We will increase, ٱلْمُحْسِنِينَ সৎকর্মশীলদেরকে” the good-doers (in reward)” )

 

(59)  فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُواْ قَوْلاً غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَنزَلْنَا عَلَى الَّذِينَ ظَلَمُواْ رِجْزاً مِّنَ السَّمَاء بِمَا كَانُواْ يَفْسُقُونَ অতঃপর যালেমরা কথা পাল্টে দিয়েছে, যা কিছু তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছিল তা থেকে। তারপর আমি অবতীর্ণ করেছি যালেমদের উপর আযাব, আসমান থেকে, নির্দেশ লংঘন করার কারণে। But the transgressors changed the word from that which had been given them; so We sent on the transgressors a plague from heaven, for that they infringed (Our command) repeatedly.

( فَبَدَّلَ কিন্তু পরিবর্তন করল But changed, ٱلَّذِينَ যারা those who, ظَلَمُوا۟ সীমালঙ্ঘন করেছিল wronged, قَوْلًا কথা (the) word, غَيْرَ অন্য কিছু other (than), ٱلَّذِى (তা হতে) যা that which, قِيلَ বলা হয়েছিল was said, لَهُمْ তাদের উদ্দেশ্যে to them;, فَأَنزَلْنَا আমরা তাই অবতীর্ণ করলাম so We sent down, عَلَى (তাদের) উপর upon, ٱلَّذِينَ যারা those who, ظَلَمُوا۟ সীমালঙ্ঘন করেছিল wronged, رِجْزًا শাস্তি a punishment, مِّنَ থেকে from, ٱلسَّمَآءِ আকাশ the sky, بِمَا এ কারণে যা because, كَانُوا۟ তারা ছিল they were, يَفْسُقُونَ তারা সত্যত্যাগ করে defiantly disobeying )

(60) وَإِذِ اسْتَسْقَى مُوسَى لِقَوْمِهِ فَقُلْنَا اضْرِب بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ فَانفَجَرَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْناً قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ كُلُواْ وَاشْرَبُواْ مِن رِّزْقِ اللَّهِ وَلاَ تَعْثَوْاْ فِي الأَرْضِ مُفْسِدِينَ আর মূসা যখন নিজ জাতির জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, স্বীয় যষ্ঠির দ্বারা আঘাত কর পাথরের উপরে। অতঃপর তা থেকে প্রবাহিত হয়ে এল বারটি প্রস্রবণ। তাদের সব গোত্রই চিনে নিল নিজ নিজ ঘাট। আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও, পান কর আর দুনিয়ার বুকে দাংগা-হাংগামা করে বেড়িও না। And remember Moses prayed for water for his people; We said: “Strike the rock with thy staff.” Then gushed forth therefrom twelve springs. Each group knew its own place for water. So eat and drink of the sustenance provided by Allah, and do no evil nor mischief on the (face of the) earth.

( وَإِذِ এবং স্মরণ করো যখন And when, ٱسْتَسْقَىٰ পানি চাইল asked (for) water, مُوسَىٰ মুসা Musa, لِقَوْمِهِۦ তার জাতির জন্য for his people, فَقُلْنَا তখন আমরা বলেছিলাম [so] We said, ٱضْرِب ‘আঘাত কর “Strike, بِّعَصَاكَ তোমার লাঠি দিয়ে with your staff, ٱلْحَجَرَ পাথরে” the stone”, فَٱنفَجَرَتْ ফলে ফেটে বের হল Then gushed forth, مِنْهُ তা থেকে from it, ٱثْنَتَا বারটি (of), عَشْرَةَ (দশ) twelve, عَيْنًا ঝর্ণা springs, قَدْ নিশ্চয়ই Indeed, عَلِمَ চিনে নিল knew, كُلُّ প্রত্যেক all, أُنَاسٍ (গোত্রের) মানুষ (the) people, مَّشْرَبَهُمْ তাদের পানি পানের স্থান their drinking place, كُلُوا۟ ‘(বলা হল) তোমরা খাও “Eat, وَٱشْرَبُوا۟ ও তোমরা পান করো and drink, مِن থেকে from, رِّزْقِ জীবিকা (the) provision (of), ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (দেয়া) Allah, وَلَا এবং না and (do) not, تَعْثَوْا۟ তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করো act wickedly, فِى মধ্যে in, ٱلْأَرْضِ পৃথিবীর the earth, مُفْسِدِينَ বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হয়ে” spreading corruption” )

 

(61) وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَن نَّصْبِرَ عَلَىَ طَعَامٍ وَاحِدٍ فَادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُخْرِجْ لَنَا مِمَّا تُنبِتُ الأَرْضُ مِن بَقْلِهَا وَقِثَّآئِهَا وَفُومِهَا وَعَدَسِهَا وَبَصَلِهَا قَالَ أَتَسْتَبْدِلُونَ الَّذِي هُوَ أَدْنَى بِالَّذِي هُوَ خَيْرٌ اهْبِطُواْ مِصْراً فَإِنَّ لَكُم مَّا سَأَلْتُمْ وَضُرِبَتْ عَلَيْهِمُ الذِّلَّةُ وَالْمَسْكَنَةُ وَبَآؤُوْاْ بِغَضَبٍ مِّنَ اللَّهِ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانُواْ يَكْفُرُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ وَيَقْتُلُونَ النَّبِيِّينَ بِغَيْرِ الْحَقِّ ذَلِكَ بِمَا عَصَواْ وَّكَانُواْ يَعْتَدُونَ আর তোমরা যখন বললে, হে মূসা, আমরা একই ধরনের খাদ্য-দ্রব্যে কখনও ধৈর্য্যধারণ করব না। কাজেই তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট আমাদের পক্ষে প্রার্থনা কর, তিনি যেন আমাদের জন্যে এমন বস্তুসামগ্রী দান করেন যা জমিতে উৎপন্ন হয়, তরকারী, কাকড়ী, গম, মসুরি, পেঁয়াজ প্রভৃতি। মূসা (আঃ) বললেন, তোমরা কি এমন বস্তু নিতে চাও যা নিকৃষ্ট সে বস্তুর পরিবর্তে যা উত্তম? তোমরা কোন নগরীতে উপনীত হও, তাহলেই পাবে যা তোমরা কামনা করছ। আর তাদের উপর আরোপ করা হল লাঞ্ছনা ও পরমুখাপেক্ষিতা। তারা আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে ঘুরতে থাকল। এমন হলো এ জন্য যে, তারা আল্লাহর বিধি বিধান মানতো না এবং নবীগনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করত। তার কারণ, তারা ছিল নাফরমান সীমালংঘকারী। And remember ye said: “O Moses! we cannot endure one kind of food (always); so beseech thy Lord for us to produce for us of what the earth groweth, -its pot-herbs, and cucumbers, Its garlic, lentils, and onions.” He said: “Will ye exchange the better for the worse? Go ye down to any town, and ye shall find what ye want!” They were covered with humiliation and misery; they drew on themselves the wrath of Allah. This because they went on rejecting the Signs of Allah and slaying His Messengers without just cause. This because they rebelled and went on transgressing.

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) And when, قُلْتُمْ বলেছিলে তোমরা you said, يَٰمُوسَىٰ ‘হে মুসা “O Musa!, لَن কখনও না Never (will), نَّصْبِرَ আমরা ধৈর্য ধরতে পারব we endure, عَلَىٰ উপর [on], طَعَامٍ খানার food, وَٰحِدٍ একই (ধরণের) (of) one (kind), فَٱدْعُ তাই দুআ করো so pray, لَنَا আমাদের জন্য for us, رَبَّكَ তোমার রবের কাছে (to) your Lord, يُخْرِجْ (যেন) বের করেন তিনি to bring forth, لَنَا আমাদের জন্য for us, مِمَّا তাহতে যা out of what, تُنۢبِتُ উৎপাদন করে grows, ٱلْأَرْضُ মাটি the earth, مِنۢ অর্থাৎ of, بَقْلِهَا তার শাকসবজি its herbs, وَقِثَّآئِهَا ও তার শশা কাকুড় [and] its cucumbers, وَفُومِهَا, ও তার গম (বা রসুন) [and] its garlic, وَعَدَسِهَا ও তার মুশুর ডাল [and] its lentils, وَبَصَلِهَا ও তার পেয়াজ (ইত্যাদি)” and its onions”, قَالَ তিনি বললেন He said, أَتَسْتَبْدِلُونَ ‘কি তোমরা পরিবর্তন করতে চাও “Would you exchange, ٱلَّذِى তাই that which, هُوَ যা [it], أَدْنَىٰ নগণ্য জিনিষ (is) inferior, بِٱلَّذِى সেটার পরিবর্তে for that which, هُوَ যা [it], خَيْرٌ উত্তম (is) better?, ٱهْبِطُوا۟ (তাহলে) তোমরা নামো Go down, مِصْرًا (কোনো) শহরে (to) a city, فَإِنَّ অতঃপর নিশ্চয়ই so indeed, لَكُم তোমাদের জন্য (পাবে) for you, مَّا যা (is) what, سَأَلْتُمْ তোমরা চেয়েছ” you have asked (for)”, وَضُرِبَتْ এবং আপতিত হলো And were struck, عَلَيْهِمُ তাদের উপর on them, ٱلذِّلَّةُ অপমান the humiliation, وَٱلْمَسْكَنَةُ ও অনটন and the misery, وَبَآءُو এবং পরিবেষ্টিত হল তারা and they drew on themselves, بِغَضَبٍ রাগের wrath, مِّنَ পক্ষ হতে of, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah, ذَٰلِكَ এটা That (was), بِأَنَّهُمْ এ কারণে যে তারা because they, كَانُوا۟ তারা ছিল used to, يَكْفُرُونَ অস্বীকার করতে disbelieve, بِـَٔايَٰتِ আয়াতগুলোর প্রতি in (the) Signs, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, وَيَقْتُلُونَ ও তারা হত্যা করছিল and kill, ٱلنَّبِيِّۦنَ নবীদেরকে the Prophets, بِغَيْرِ ব্যাতীত without (any), ٱلْحَقِّ ন্যায়ভাবে [the] right, ذَٰلِكَ এটা That, بِمَا একারণে যে (was) because, عَصَوا۟ তারা অবাধ্যতা করেছিল they disobeyed, وَّكَانُوا۟ এবং করে and they were,  يَعْتَدُونَ তারা সীমালঙ্ঘন transgressing )

 

(62) إِنَّ الَّذِينَ آمَنُواْ وَالَّذِينَ هَادُواْ وَالنَّصَارَى وَالصَّابِئِينَ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحاً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِندَ رَبِّهِمْ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ নিঃসন্দেহে যারা মুসলমান হয়েছে এবং যারা ইহুদী, নাসারা ও সাবেঈন, (তাদের মধ্য থেকে) যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি এবং সৎকাজ করেছে, তাদের জন্য রয়েছে তার সওয়াব তাদের পালনকর্তার কাছে। আর তাদের কোনই ভয়-ভীতি নেই, তারা দুঃখিতও হবে না। Those who believe (in the Qur’an), and those who follow the Jewish (scriptures), and the Christians and the Sabians,- any who believe in Allah and the Last Day, and work righteousness, shall have their reward with their Lord; on them shall be no fear, nor shall they grieve.

( إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱلَّذِينَ যারা those who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believed, وَٱلَّذِينَ কিংবা যারা and those who, هَادُوا۟ ইহুদী হয়েছে became Jews, وَٱلنَّصَٰرَىٰ এবং খ্রিষ্টান and the Christians, وَٱلصَّٰبِـِٔينَ ও সাবী and the Sabians -, مَنْ যে (কেউ) who, ءَامَنَ ঈমান আনবে believed, بِٱللَّهِ আল্লাহ্‌র উপর in Allah, وَٱلْيَوْمِ ও দিনে and the Day, ٱلْءَاخِرِ আখিরাতের [the] Last, وَعَمِلَ এবং কাজ করবে and did, صَٰلِحًا সৎ righteous deeds, فَلَهُمْ ফলে তাদের জন্য so for them, أَجْرُهُمْ তাদের পুরস্কার (থাকবে) (is) their reward, عِندَ কাছে with, رَبِّهِمْ তাদের রবের their Lord, وَلَا এবং না and no, خَوْفٌ ভয় (থাকবে) fear, عَلَيْهِمْ তাদের জন্য on them, وَلَا আর না and not, هُمْ তারা they, يَحْزَنُونَ দুঃখিত হবে will grieve )

 

(63) وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُواْ مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُواْ مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ আর আমি যখন তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের মাথার উপর তুলে ধরেছিলাম এই বলে যে, তোমাদিগকে যে কিতাব দেয়া হয়েছে তাকে ধর সুদৃঢ়ভাবে এবং এতে যা কিছু রয়েছে তা মনে রেখো যাতে তোমরা ভয় কর। And remember We took your covenant and We raised above you (The towering height) of Mount (Sinai) : (Saying): “Hold firmly to what We have given you and bring (ever) to remembrance what is therein: Perchance ye may fear Allah.”

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, أَخَذْنَا আমরা গ্রহণ করেছিলাম We took, مِيثَٰقَكُمْ তোমাদের প্রতিশ্রুতি your covenant, وَرَفَعْنَا এবং আমরা উঠিয়ে নিয়েছিলাম and We raised, فَوْقَكُمُ তোমাদের উপর over you, ٱلطُّورَ তুর পাহাড় the mount, خُذُوا۟ ‘(আর বলেছিলাম)তোমরা গ্রহণ করো “Hold, مَآ যা what, ءَاتَيْنَٰكُم তোমাদেরকে আমরা দিয়েছি We have given you, بِقُوَّةٍ শক্তভাবে with strength, وَٱذْكُرُوا۟ এবং তোমরা স্মরণ রাখো and remember, مَا (তা)যা what, فِيهِ তার মধ্যে(আছে) (is) in it, لَعَلَّكُمْ তোমরা যাতে perhaps you, تَتَّقُونَ তাকওয়া অবলম্বন করতে পার” (would become) righteous” )

 

(64) ثُمَّ تَوَلَّيْتُم مِّن بَعْدِ ذَلِكَ فَلَوْلاَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَتُهُ لَكُنتُم مِّنَ الْخَاسِرِينَ তারপরেও তোমরা তা থেকে ফিরে গেছ। কাজেই আল্লাহর অনুগ্রহ ও মেহেরবানী যদি তোমাদের উপর না থাকত, তবে অবশ্যই তোমরা ধবংস হয়ে যেতে। But ye turned back thereafter: Had it not been for the Grace and Mercy of Allah to you, ye had surely been among the lost.

( ثُمَّ আবার Then, تَوَلَّيْتُم তোমরা ফিরে গিয়েছিলে you turned away, مِّنۢ (থেকে) from, بَعْدِ পর থেকে after, ذَٰلِكَ এর that, فَلَوْلَا যদি তাই না (হতো) So if not, فَضْلُ অনুগ্রহ (for the) Grace, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর upon you, وَرَحْمَتُهُۥ ও তার দয়া and His Mercy, لَكُنتُم তোমরা অবশ্যই হতে surely you would have been, مِّنَ অন্তর্ভুক্ত of, ٱلْخَٰسِرِينَ ক্ষতিগ্রস্তদের the losers )

 

(65) وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَواْ مِنكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُواْ قِرَدَةً خَاسِئِينَ তোমরা তাদেরকে ভালরূপে জেনেছ, যারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘণ করেছিল। আমি বলেছিলামঃ তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও। And well ye knew those amongst you who transgressed in the matter of the Sabbath: We said to them: “Be ye apes, despised and rejected.”

( وَلَقَدْ এবং নিশ্চয়ই And indeed, عَلِمْتُمُ তোমরা জেনেছো you knew, ٱلَّذِينَ তাদেরকে যারা those who, ٱعْتَدَوْا۟ সীমালঙ্ঘন করেছিল transgressed, مِنكُمْ তোমাদের মধ্য হতে among you, فِى সম্পর্কে in, ٱلسَّبْتِ শনিবারের (বিধান) the (matter of) Sabbath, فَقُلْنَا আমরা তখন বলেছিলাম So We said, لَهُمْ তাদের to them, كُونُوا۟ ‘তোমরা হও “Be, قِرَدَةً বানর apes, خَٰسِـِٔينَ ঘৃণিত” despised” )

 

(66) فَجَعَلْنَاهَا نَكَالاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهَا وَمَا خَلْفَهَا وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ অতঃপর আমি এ ঘটনাকে তাদের সমসাময়িক ও পরবর্তীদের জন্য দৃষ্টান্ত এবং আল্লাহভীরুদের জন্য উপদেশ গ্রহণের উপাদান করে দিয়েছি। So We made it an example to their own time and to their posterity, and a lesson to those who fear Allah.

( فَجَعَلْنَٰهَا আমরা এরপর এটাকে বানিয়েছি So We made it, نَكَٰلًا (শিক্ষামূলক) শাস্তি a deterrent punishment, لِّمَا তাদের জন্য যারা (ছিল) for those, بَيْنَ আগে(মাঝে) (in) front, يَدَيْهَا তার(হাতের) (of) them, وَمَا ও যারা (ছিল) and those, خَلْفَهَا তারপরে after them, وَمَوْعِظَةً এবং উপদেশ and an admonition, لِّلْمُتَّقِينَ মুত্তাকীদের জন্য for those who fear (Allah) )

 

(67) وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُواْ بَقَرَةً قَالُواْ أَتَتَّخِذُنَا هُزُواً قَالَ أَعُوذُ بِاللّهِ أَنْ أَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু জবাই করতে বলেছেন। তারা বলল, তুমি কি আমাদের সাথে উপহাস করছ? মূসা (আঃ) বললেন, মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। And remember Moses said to his people: “(Allah) commands that ye sacrifice a heifer.” They said: “Makest thou a laughing-stock of us?” He said: “(Allah) save me from being an ignorant (fool)!”

( وَإِذْ এবং (স্মরণ কর) যখন And when, قَالَ বলেছিল said, مُوسَىٰ মুসা Musa, لِقَوْمِهِۦٓ তার জাতির উদ্দেশে to his people, إِنَّ ‘নিশ্চয়ই “Indeed, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ Allah, يَأْمُرُكُمْ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন commands you, أَن যে that, تَذْبَحُوا۟ তোমরা জবাই কর you slaughter, بَقَرَةً একটি গাভীকে” a cow”, قَالُوٓا۟ তারা বলেছিল They said, أَتَتَّخِذُنَا ‘আমাদের তুমি গ্রহণ করেছ কি “Do you take us, هُزُوًا বিদ্রুপের (বস্তু) হিসেবে” (in) ridicule”, قَالَ সে বলল He said, أَعُوذُ ‘আমি আশ্রয় চাই “I seek refuge, بِٱللَّهِ আল্লাহ্‌র কাছে in Allah, أَنْ যে that, أَكُونَ আমি হব I be, مِنَ অন্তর্ভুক্ত among, ٱلْجَٰهِلِينَ মূর্খদের” the ignorant” )

 

(68) قَالُواْ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لّنَا مَا هِيَ قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لاَّ فَارِضٌ وَلاَ بِكْرٌ عَوَانٌ بَيْنَ ذَلِكَ فَافْعَلُواْ مَا تُؤْمَرونَ তারা বলল, তুমি তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর, যেন সেটির রূপ বিশ্লেষণ করা হয়। মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলছেন, সেটা হবে একটা গাভী, যা বৃদ্ধ নয় এবং কুমারীও নয়-বার্ধক্য ও যৌবনের মাঝামাঝি বয়সের। এখন আদিষ্ট কাজ করে ফেল। They said: “Beseech on our behalf Thy Lord to make plain to us what (heifer) it is!” He said; “He says: The heifer should be neither too old nor too young, but of middling age. Now do what ye are commanded!”

( قَالُوا۟ তারা বলেছিল They said, ٱدْعُ ‘দোয়া করো “Pray, لَنَا আমাদের জন্য for us, رَبَّكَ তোমার রবের কাছে (যেন) (to) your Lord, يُبَيِّن তিনি বর্ননা করেন to make clear, لَّنَا আমাদের জন্য to us, مَا কেমন what, هِىَ সেটা” it (is)”, قَالَ সে বলল He said, إِنَّهُۥ ‘তিনি নিশ্চয়ই “Indeed He, يَقُولُ বলেন says, إِنَّهَا ‘তা নিশ্চয়ই “[Indeed] it, بَقَرَةٌ একটি গাভী (is) a cow, لَّا না not, فَارِضٌ বুড়ো old, وَلَا আর না and not, بِكْرٌ বাচ্চা young, عَوَانٌۢ মধ্যম বয়সের middle aged, بَيْنَ মাঝামাঝি between, ذَٰلِكَ এর” that”, فَٱفْعَلُوا۟ অতএব তোমরা করো so do, مَا যা what, تُؤْمَرُونَ তোমাদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে” you are commanded” )

 

(69) قَالُواْ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا لَوْنُهَا قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنّهَا بَقَرَةٌ صَفْرَاء فَاقِـعٌ لَّوْنُهَا تَسُرُّ النَّاظِرِينَ তারা বলল, তোমার পালনকর্তার কাছে আমাদের জন্য প্রার্থনা কর যে, তার রঙ কিরূপ হবে? মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেছেন যে, গাঢ় পীতবর্ণের গাভী-যা দর্শকদের চমৎকৃত করবে। They said: “Beseech on our behalf Thy Lord to make plain to us Her colour.” He said: “He says: A fawn-coloured heifer, pure and rich in tone, the admiration of beholders!”

( قَالُوا۟ তারা বলেছিল They said, ٱدْعُ ‘দোয়া করো “Pray, لَنَا আমাদের জন্য for us, رَبَّكَ তোমার রবের কাছে (to) your Lord, يُبَيِّن তিনি বর্ণনা করেন (যেন) to make clear, لَّنَا আমাদের জন্য to us, مَا কী হবে what, لَوْنُهَا তার রং” (is) its color”, قَالَ সে বলল He said, إِنَّهُۥ ‘তিনি নিশ্চয়ই “Indeed He, يَقُولُ বলেন says, إِنَّهَا তা নিশ্চয়ই [Indeed] it is, بَقَرَةٌ গাভী a cow, صَفْرَآءُ হলুদ রঙের yellow, فَاقِعٌ উজ্জল গাড় bright, لَّوْنُهَا তার রং (in) its color, تَسُرُّ আনন্দদেয় pleasing, ٱلنَّٰظِرِينَ দর্শকদের জন্য (to) those who see (it) )

 

(70) قَالُواْ ادْعُ لَنَا رَبَّكَ يُبَيِّن لَّنَا مَا هِيَ إِنَّ البَقَرَ تَشَابَهَ عَلَيْنَا وَإِنَّآ إِن شَاء اللَّهُ لَمُهْتَدُونَ তারা বলল, আপনি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করুন-তিনি বলে দিন যে, সেটা কিরূপ? কেননা, গরু আমাদের কাছে সাদৃশ্যশীল মনে হয়। ইনশাআল্লাহ এবার আমরা অবশ্যই পথপ্রাপ্ত হব। মূসা (আঃ) বললেন, তিনি বলেন যে, এ গাভী ভূকর্ষণ ও জল সেচনের শ্রমে অভ্যস্ত নয়-হবে নিষ্কলঙ্ক, নিখুঁত। They said: “Beseech on our behalf Thy Lord to make plain to us what she is: To us are all heifers alike: We wish indeed for guidance, if Allah wills.”

( قَالُوا۟ তারা বলেছিল They said, ٱدْعُ ‘তুমি দোয়া করো “Pray, لَنَا আমদের জন্য for us, رَبَّكَ তোমার রবের কাছে (to) your Lord, يُبَيِّن তিনি বর্ণনা করেন (যেন) to make clear, لَّنَا আমাদের জন্য to us, مَا কেমন what, هِىَ তা it (is), إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱلْبَقَرَ গাভীটি [the] cows, تَشَٰبَهَ একই রকম look alike, عَلَيْنَا আমাদের কাছে to us, وَإِنَّآ এবং নিশ্চয়ই আমরা And indeed we, إِن যদি if, شَآءَ চান wills, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, لَمُهْتَدُونَ অবশ্যই সঠিক জ্ঞান প্রাপ্ত হব” (will) surely be those who are guided” )

 

(71) قَالَ إِنَّهُ يَقُولُ إِنَّهَا بَقَرَةٌ لاَّ ذَلُولٌ تُثِيرُ الأَرْضَ وَلاَ تَسْقِي الْحَرْثَ مُسَلَّمَةٌ لاَّ شِيَةَ فِيهَا قَالُواْ الآنَ جِئْتَ بِالْحَقِّ فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُواْ يَفْعَلُونَ তারা বলল, এবার সঠিক তথ্য এনেছ। অতঃপর তারা সেটা জবাই করল, অথচ জবাই করবে বলে মনে হচ্ছিল না। He said: “He says: A heifer not trained to till the soil or water the fields; sound and without blemish.” They said: “Now hast thou brought the truth.” Then they offered her in sacrifice, but not with good-will.

( قَالَ (মূসা) বলল He said, إِنَّهُۥ ‘তিনি নিশ্চয়ই “Indeed He, يَقُولُ বলেন says, إِنَّهَا ‘তা নিশ্চয়ই “[Indeed] it, بَقَرَةٌ একটি গাভী (is) a cow, لَّا না not, ذَلُولٌ লাগান হয়েছে trained, تُثِيرُ চাষে to plough, ٱلْأَرْضَ জমি the earth, وَلَا আর না and not, تَسْقِى সেচ করেছে water, ٱلْحَرْثَ ক্ষেতে the field;, مُسَلَّمَةٌ সুস্থ্য sound, لَّا নেই no, شِيَةَ কোনো খুঁত blemish, فِيهَا তার মধ্যে” in it”, قَالُوا۟ তারা বলেছিল They said ٱلْـَٰٔنَ ‘এখন “Now, جِئْتَ তুমি এনেছ (বর্ণনা) you have come, بِٱلْحَقِّ সঠিক তথ্য নিয়ে” with the truth”, فَذَبَحُوهَا তারা জবাই করল তখন তা So they slaughtered it, وَمَا এবং না and not, كَادُوا۟ আগ্রহী ছিল they were near, يَفْعَلُونَ তারা করতে (to) doing (it) )

 

(72) وَإِذْ قَتَلْتُمْ نَفْساً فَادَّارَأْتُمْ فِيهَا وَاللّهُ مُخْرِجٌ مَّا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ যখন তোমরা একজনকে হত্যা করে পরে সে সম্পর্কে একে অপরকে অভিযুক্ত করেছিলে। যা তোমরা গোপন করছিলে, তা প্রকাশ করে দেয়া ছিল আল্লাহর অভিপ্রায়। Remember ye slew a man and fell into a dispute among yourselves as to the crime: But Allah was to bring forth what ye did hide.

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, قَتَلْتُمْ তোমরা হত্যা করেছিলে you killed, نَفْسًا এক ব্যক্তিকে a man, فَٱدَّٰرَْٰٔتُمْ তোমরা অতঃপর একে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছিলে then you disputed, فِيهَا সে ব্যাপারে concerning it, وَٱللَّهُ এবং আল্লাহ্‌ but Allah, مُخْرِجٌ প্রকাশকারী (is) the One Who brought forth, مَّا যা what, كُنتُمْ (আপনি) you were, تَكْتُمُونَ তোমরা গোপন করছিলে concealing )

 

(73) فَقُلْنَا اضْرِبُوهُ بِبَعْضِهَا كَذَلِكَ يُحْيِي اللّهُ الْمَوْتَى وَيُرِيكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ অতঃপর আমি বললামঃ গরুর একটি খন্ড দ্বারা মৃতকে আঘাত কর। এভাবে আল্লাহ মৃতকে জীবিত করেন এবং তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শণ সমূহ প্রদর্শন করেন-যাতে তোমরা চিন্তা কর। So We said: “Strike the (body) with a piece of the (heifer).” Thus Allah bringeth the dead to life and showeth you His Signs: Perchance ye may understand.

( فَقُلْنَا আমরা তখন বলেছিলাম So We said, ٱضْرِبُوهُ ‘তাকে তোমরা আঘাত কর “Strike him, بِبَعْضِهَا তার কিছু অংশ দিয়ে (এবং সে বেঁচে উঠল)’ with a part of it”, كَذَٰلِكَ এভাবে Like this, يُحْىِ জীবিত করেন revives, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, ٱلْمَوْتَىٰ মৃতকে the dead, وَيُرِيكُمْ এবং তোমাদের দেখান and shows youm, ءَايَٰتِهِۦ তাঁর নিদর্শনগুলোকেHis Signs, لَعَلَّكُمْ তোমরা যাতে perhaps you may, تَعْقِلُونَ বুঝতে পার use your intellect )

 

(74) ثُمَّ قَسَتْ قُلُوبُكُم مِّن بَعْدِ ذَلِكَ فَهِيَ كَالْحِجَارَةِ أَوْ أَشَدُّ قَسْوَةً وَإِنَّ مِنَ الْحِجَارَةِ لَمَا يَتَفَجَّرُ مِنْهُ الأَنْهَارُ وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَشَّقَّقُ فَيَخْرُجُ مِنْهُ الْمَاء وَإِنَّ مِنْهَا لَمَا يَهْبِطُ مِنْ خَشْيَةِ اللّهِ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ অতঃপর এ ঘটনার পরে তোমাদের অন্তর কঠিন হয়ে গেছে। তা পাথরের মত অথবা তদপেক্ষাও কঠিন। পাথরের মধ্যে এমন ও আছে; যা থেকে ঝরণা প্রবাহিত হয়, এমনও আছে, যা বিদীর্ণ হয়, অতঃপর তা থেকে পানি নির্গত হয় এবং এমনও আছে, যা আল্লাহর ভয়ে খসেপড়তে থাকে! আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। Thenceforth were your hearts hardened: They became like a rock and even worse in hardness. For among rocks there are some from which rivers gush forth; others there are which when split asunder send forth water; and others which sink for fear of Allah. And Allah is not unmindful of what ye do.

( ثُمَّ পরে Then, قَسَتْ কঠিন হয়ে গেল hardened, قُلُوبُكُم তোমাদের অন্তরগুলো your hearts, مِّنۢ থেকে from, بَعْدِ পরে after, ذَٰلِكَ এর that, فَهِىَ তা অতঃপর (হয়ে গেল) so they, كَٱلْحِجَارَةِ মতো পাথরে (became) like [the] stones, أَوْ অথবা (তার চেয়েও) or, أَشَدُّ অধিকতর stronger, قَسْوَةً কঠিন (in) hardness, وَإِنَّ অথচ নিশ্চয়ই And indeed, مِنَ কিছু from, ٱلْحِجَارَةِ পাথর (এমনও আছে) the stones, لَمَا অবশ্যই যা certainly (there are some) which, يَتَفَجَّرُ ফেটে বের হয় gush forth, مِنْهُ তা হতে from it, ٱلْأَنْهَٰرُ ঝর্ণাধারা [the] rivers, وَإِنَّ এবং নিশ্চয়ই and indeed, مِنْهَا তার কিছু (এমনও আছে) from them, لَمَا অবশ্যই যা certainly (there are some) which, يَشَّقَّقُ ফেটে যায় split, فَيَخْرُجُ অতঃপর বের হয় so comes out, مِنْهُ তা থেকে from it, ٱلْمَآءُ পানি [the] water, وَإِنَّ এবং নিশ্চয়ই and indeed, مِنْهَا তার কিছু (এমনও আছে) from them, لَمَا অবশ্যই যা certainly (there are some) which, يَهْبِطُ ধসে পড়ে fall down, مِنْ কারণে from, خَشْيَةِ ভয়ের fear, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, وَمَا এবং না And not, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ (is) Allah, بِغَٰفِلٍ অনবহিত unaware, عَمَّا তাহতে যা of what, تَعْمَلُونَ তোমরা করছো you do )

 

(75) أَفَتَطْمَعُونَ أَن يُؤْمِنُواْ لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِّنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلاَمَ اللّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِن بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ হে মুসলমানগণ, তোমরা কি আশা কর যে, তারা তোমাদের কথায় ঈমান আনবে? তাদের মধ্যে একদল ছিল, যারা আল্লাহর বাণী শ্রবণ করত; অতঃপর বুঝে-শুনে তা পরিবর্তন করে দিত এবং তারা তা অবগত ছিল। Can ye (o ye men of Faith) entertain the hope that they will believe in you?- Seeing that a party of them heard the Word of Allah, and perverted it knowingly after they understood it.

( أَفَتَطْمَعُونَ তবে কি তোমরা আশা কর Do you hope, أَن যে that, يُؤْمِنُوا۟ তারা ঈমান আনবে they will believe, لَكُمْ তোমাদের (দাওয়াতে) [for] you, وَقَدْ অথচ নিশ্চয়ই while indeed, كَانَ আছে (there) has been, فَرِيقٌ একদল a party, مِّنْهُمْ তাদের মধ্যে of them, يَسْمَعُونَ (যারা) শুনে (who used to) hear, كَلَٰمَ (কালাম) বাণী (the) words, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, ثُمَّ পরে then, يُحَرِّفُونَهُۥ তা তারা বিকৃত করে they distort it, مِنۢ থেকে from, بَعْدِ এরপর after, مَا যা [what], عَقَلُوهُ তা তারা বুঝেছিল they understood it, وَهُمْ অথচ তারা while they, يَعْلَمُونَ (ভালভাবে) জানেও know? )

 

(76) وَإِذَا لَقُواْ الَّذِينَ آمَنُواْ قَالُواْ آمَنَّا وَإِذَا خَلاَ بَعْضُهُمْ إِلَىَ بَعْضٍ قَالُواْ أَتُحَدِّثُونَهُم بِمَا فَتَحَ اللّهُ عَلَيْكُمْ لِيُحَآجُّوكُم بِهِ عِندَ رَبِّكُمْ أَفَلاَ تَعْقِلُونَ যখন তারা মুসলমানদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলেঃ আমরা মুসলমান হয়েছি। আর যখন পরস্পরের সাথে নিভৃতে অবস্থান করে, তখন বলে, পালনকর্তা তোমাদের জন্যে যা প্রকাশ করেছেন, তা কি তাদের কাছে বলে দিচ্ছ? তাহলে যে তারা এ নিয়ে পালকর্তার সামনে তোমাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। তোমরা কি তা উপলব্ধি কর না? Behold! when they meet the men of Faith, they say: “We believe”: But when they meet each other in private, they say: “Shall you tell them what Allah hath revealed to you, that they may engage you in argument about it before your Lord?”- Do ye not understand (their aim)?

( وَإِذَا এবং যখন And when, لَقُوا۟ তারা মিলে (তাদের সাথে) they meet, ٱلَّذِينَ যারা those who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believe[d], قَالُوٓا۟ তারা বলে they say, ءَامَنَّا ‘আমরা ঈমান এনেছি” “We have believed”, وَإِذَا এবং যখন But when, خَلَا মিলে গোপনে meet in private, بَعْضُهُمْ তাদের কেউ some of them, إِلَىٰ সাথে with, بَعْضٍ কারো some (others), قَالُوٓا۟ তারা বলে they say, أَتُحَدِّثُونَهُم ‘তাদেরকে তোমরা বলে দাও কি “Do you tell them, بِمَا ঐ বিষয়ে যা what, فَتَحَ প্রকাশ করেছেন has, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, عَلَيْكُمْ তোমাদের কাছে to you, لِيُحَآجُّوكُم তোমাদের বিরুদ্ধে যেন প্রমাণ পেশ করতে পারে so that they argue with you, بِهِۦ তা দিয়ে therewith, عِندَ কাছে before, رَبِّكُمْ তোমাদের রবের your Lord?, أَفَلَا না তবে কি? Then do (you) not, تَعْقِلُونَ তোমরা বুঝ” understand?”,

 

(77) أَوَلاَ يَعْلَمُونَ أَنَّ اللّهَ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ তারা কি এতটুকুও জানে না যে, আল্লাহ সেসব বিষয়ও পরিজ্ঞাত যা তারা গোপন করে এবং যা প্রকাশ করে? Know they not that Allah knoweth what they conceal and what they reveal?

( أَوَلَا না কি Do not, يَعْلَمُونَ তারা জানে they know, أَنَّ যে that, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ Allah, يَعْلَمُ জানেন knows, مَا যা কিছু what, يُسِرُّونَ তারা গোপন করে they conceal, وَمَا ও যা and what, يُعْلِنُونَ তারা প্রকাশ করে they declare?,)

 

(78) وَمِنْهُمْ أُمِّيُّونَ لاَ يَعْلَمُونَ الْكِتَابَ إِلاَّ أَمَانِيَّ وَإِنْ هُمْ إِلاَّ يَظُنُّونَ তোমাদের কিছু লোক নিরক্ষর। তারা মিথ্যা আকাঙ্খা ছাড়া আল্লাহর গ্রন্থের কিছুই জানে না। তাদের কাছে কল্পনা ছাড়া কিছুই নেই। And there are among them illiterates, who know not the Book, but (see therein their own) desires, and they do nothing but conjecture.

( وَمِنْهُمْ এবং তাদের মধ্যে কিছু (আছে) And among them, أُمِّيُّونَ নিরক্ষর (are) unlettered ones, لَا না (who) do not, يَعْلَمُونَ তারা জানে know, ٱلْكِتَٰبَ কিতাব the book, إِلَّآ এছাড়া except, أَمَانِىَّ আশা আকাঙ্ক্ষা wishful thinking, وَإِنْ এবং না and not, هُمْ তারা they, إِلَّا এছাড়া (do anything) except, يَظُنُّونَ (অমূলক) ধারণা করে guess )

 

(79) فَوَيْلٌ لِّلَّذِينَ يَكْتُبُونَ الْكِتَابَ بِأَيْدِيهِمْ ثُمَّ يَقُولُونَ هَـذَا مِنْ عِندِ اللّهِ لِيَشْتَرُواْ بِهِ ثَمَناً قَلِيلاً فَوَيْلٌ لَّهُم مِّمَّا كَتَبَتْ أَيْدِيهِمْ وَوَيْلٌ لَّهُمْ مِّمَّا يَكْسِبُونَ অতএব তাদের জন্যে আফসোস! যারা নিজ হাতে গ্রন্থ লেখে এবং বলে, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ-যাতে এর বিনিময়ে সামান্য অর্থ গ্রহণ করতে পারে। অতএব তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের হাতের লেখার জন্য এবং তাদের প্রতি আক্ষেপ, তাদের উপার্জনের জন্যে। Then woe to those who write the Book with their own hands, and then say:”This is from Allah,” to traffic with it for miserable price!- Woe to them for what their hands do write, and for the gain they make thereby.

( فَوَيْلٌ অতএব দুর্ভোগ So woe, لِّلَّذِينَ তাদের জন্য (যারা) to those who, يَكْتُبُونَ লিখে write, ٱلْكِتَٰبَ কিতাবে (অর্থাৎ শরয়ীবিধান) the book, بِأَيْدِيهِمْ তাদের হাত দিয়ে with their (own) hands, ثُمَّ পরে then, يَقُولُونَ তারা বলে they say, هَٰذَا ‘এটা (এসেছে) “This, مِنْ থেকে (is), عِندِ নিকট from, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র” Allah”, لِيَشْتَرُوا۟ (এরূপ করে) তারা কিনতে পারে to barter, بِهِۦ তা দিয়ে with it, ثَمَنًا মূল্য (অর্থাৎ স্বার্থ) (for) a price, قَلِيلًا সামান্য little, فَوَيْلٌ অতএব দুর্ভোগ So woe, لَّهُم তাদের জন্য to them, مِّمَّا তা হতে যা for what, كَتَبَتْ লিখেছে have written, أَيْدِيهِمْ তাদের হাত their hands, وَوَيْلٌ এবং দুর্ভোগ and woe, لَّهُم তাদের জন্য to them, مِّمَّا তা হতে যা for what, يَكْسِبُونَ তারা উপার্জন করেছে they earn )

 

(80) وَقَالُواْ لَن تَمَسَّنَا النَّارُ إِلاَّ أَيَّاماً مَّعْدُودَةً قُلْ أَتَّخَذْتُمْ عِندَ اللّهِ عَهْدًا فَلَن يُخْلِفَ اللّهُ عَهْدَهُ أَمْ تَقُولُونَ عَلَى اللّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَ তারা বলেঃ আগুন আমাদিগকে কখনও স্পর্শ করবে না; কিন্তু গণাগনতি কয়েকদিন। বলে দিনঃ তোমরা কি আল্লাহর কাছ থেকে কোন অঙ্গীকার পেয়েছ যে, আল্লাহ কখনও তার খেলাফ করবেন না-না তোমরা যা জান না, তা আল্লাহর সাথে জুড়ে দিচ্ছ। And they say: “The Fire shall not touch us but for a few numbered days:” Say: “Have ye taken a promise from Allah, for He never breaks His promise? or is it that ye say of Allah what ye do not know?”

( وَقَالُوا۟ এবং তারা বলে And they say, لَن ‘কখনও না “Never, تَمَسَّنَا আমাদেরকে স্পর্শ করবে will touch us, ٱلنَّارُ আগুন the Fire, إِلَّآ (যদিও করে) তবে except, أَيَّامًا কিছুদিন (for) days, مَّعْدُودَةً গোনাগাঁথা” numbered”, قُلْ তুমি বলো Say, أَتَّخَذْتُمْ ‘তোমরা গ্রহণ করেছ কি “Have you taken, عِندَ নিকট হতে from, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah, عَهْدًا অঙ্গীকার (যা) a covenant, فَلَن কখনও না so never, يُخْلِفَ ভঙ্গ করবেন will break, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, عَهْدَهُۥٓ তাঁর অঙ্গীকার His Covenant?, أَمْ অথবা Or, تَقُولُونَ তোমরা বলছ (do) you say, عَلَى উপর(সম্বন্ধে) against, ٱللَّهِ আল্লাহর Allah, مَا যা what, لَا না not, تَعْلَمُونَ তোমরা জান” you know? )

 

(81) بَلَى مَن كَسَبَ سَيِّئَةً وَأَحَاطَتْ بِهِ خَطِيـئَتُهُ فَأُوْلَـئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ হাঁ, যে ব্যক্তি পাপ অর্জন করেছে এবং সে পাপ তাকে পরিবেষ্টিত করে নিয়েছে, তারাই দোযখের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। Nay, those who seek gain in evil, and are girt round by their sins,- they are companions of the Fire: Therein shall they abide (For ever).

( بَلَىٰ বরং (সত্য হলো) Yes, مَن যে কেউ whoever, كَسَبَ উপার্জন করবে earned, سَيِّئَةً পাপ evil, وَأَحَٰطَتْ এবং ঘিরে নিয়েছে and surrounded him, بِهِۦ তাকে নিয়ে with, خَطِيٓـَٔتُهُۥ তার পাপসমূহ his sins, فَأُو۟لَٰٓئِكَ ফলে ঐসব লোক [so] those, أَصْحَٰبُ অধিবাসী (হবে) (are the) companions, ٱلنَّارِ আগুনের (of) the Fire, هُمْ তারাই they, فِيهَا তার মধ্যে in it, خَٰلِدُونَ চিরস্থায়ী হবে (will) abide forever )

 

(82) وَالَّذِينَ آمَنُواْ وَعَمِلُواْ الصَّالِحَاتِ أُولَـئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ পক্ষান্তরে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানেই চিরকাল থাকবে। But those who have faith and work righteousness, they are companions of the Garden: Therein shall they abide (For ever).

( وَٱلَّذِينَ আর যারা And those who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believed, وَعَمِلُوا۟ ও কাজ করেছে and did, ٱلصَّٰلِحَٰتِ সৎ righteous deeds, أُو۟لَٰٓئِكَ ঐসব লোক those, أَصْحَٰبُ অধিবাসী (হবে) (are the) companions, ٱلْجَنَّةِ জান্নাতের (of) Paradise;, هُمْ তারাই they, فِيهَا তার মধ্যে in it, خَٰلِدُونَ চিরস্থায়ী হবে (will) abide forever )

 

(83) وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ لاَ تَعْبُدُونَ إِلاَّ اللّهَ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَاناً وَذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَقُولُواْ لِلنَّاسِ حُسْناً وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ ثُمَّ تَوَلَّيْتُمْ إِلاَّ قَلِيلاً مِّنكُمْ وَأَنتُم مِّعْرِضُونَ যখন আমি বনী-ইসরাঈলের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারও উপাসনা করবে না, পিতা-মাতা, আত্নীয়-স্বজন, এতীম ও দীন-দরিদ্রদের সাথে সদ্ব্যবহার করবে, মানুষকে সৎ কথাবার্তা বলবে, নামায প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত দেবে, তখন সামান্য কয়েকজন ছাড়া তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিলে, তোমরাই অগ্রাহ্যকারী। And remember We took a covenant from the Children of Israel (to this effect): Worship none but Allah. treat with kindness your parents and kindred, and orphans and those in need; speak fair to the people; be steadfast in prayer; and practise regular charity. Then did ye turn back, except a few among you, and ye backslide (even now).

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, أَخَذْنَا আমরা নিয়ে ছিলাম We took, مِيثَٰقَ প্রতিশ্রুতি (the) covenant, بَنِىٓ বনী (from the) Children, إِسْرَٰٓءِيلَ ইসরাঈলের (থেকে)(of) Israel, لَا ‘(যে) না “Not, تَعْبُدُونَ তোমরা ইবাদাত করবে you will worship, إِلَّا ছাড়া except, ٱللَّهَ আল্লাহর Allah, وَبِٱلْوَٰلِدَيْنِ এবং পিতামাতার সাথে and with [the] parents, إِحْسَانًا সদয় ব্যবহার করবে (be) good, وَذِى এবং and (with), ٱلْقُرْبَىٰ আত্বীয়স্বজনের relatives, وَٱلْيَتَٰمَىٰ ও ইয়াতীমদের and [the] orphans, وَٱلْمَسَٰكِينِ ও দরিদ্রের(সাথে) and the needy, وَقُولُوا۟ এবং তোমরা বলবে and speak, لِلنَّاسِ মানুষের উদ্দেশে to [the] people, حُسْنًا ভালভাবে (কথা) good, وَأَقِيمُوا۟ এবং তোমরা প্রতিষ্ঠা করবে and establish, ٱلصَّلَوٰةَ সলাত the prayer, وَءَاتُوا۟ ও তোমরা দেবে and give, ٱلزَّكَوٰةَ যাকাত the zakah, ثُمَّ এরপরেও Then, تَوَلَّيْتُمْ তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলে you turned away, إِلَّا ব্যতীত except, قَلِيلًا সামান্য কিছু (লোক) a few, مِّنكُمْ তোমাদের মধ্য হতে of you, وَأَنتُم এবং তোমরা (আজও) and you (were), مُّعْرِضُونَ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ refusing )

 

(84) وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ لاَ تَسْفِكُونَ دِمَاءكُمْ وَلاَ تُخْرِجُونَ أَنفُسَكُم مِّن دِيَارِكُمْ ثُمَّ أَقْرَرْتُمْ وَأَنتُمْ تَشْهَدُونَ যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলাম যে, তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে না এবং নিজেদেরকে দেশ থেকে বহিস্কার করবে না, তখন তোমরা তা স্বীকার করেছিলে এবং তোমরা তার সাক্ষ্য দিচ্ছিলে। And remember We took your covenant (to this effect): Shed no blood amongst you, nor turn out your own people from your homes: and this ye solemnly ratified, and to this ye can bear witness.

( وَإِذْ এবং যখন And when, أَخَذْنَا আমরা নিয়েছিলাম We took, مِيثَٰقَكُمْ তোমাদের প্রতিশ্রুতি your covenant, لَا ‘(যে) না “Not, تَسْفِكُونَ তোমরা ঝরাবে will you shed, دِمَآءَكُمْ তোমাদের রক্ত your blood, وَلَا না এবং and not, تُخْرِجُونَ তোমরা তাড়িয়ে দেবে (will) evict, أَنفُسَكُم তোমাদের নিজেদেরকে yourselves, مِّن থেকে from, دِيَٰرِكُمْ তোমাদের ঘর” your homes”, ثُمَّ এরপর then, أَقْرَرْتُمْ তোমরা স্বীকার করেছিলে you ratified, وَأَنتُمْ এবং তোমরাই while you, تَشْهَدُونَ সাক্ষ্য দিচ্ছ (were) witnessing )

 

(85) ثُمَّ أَنتُمْ هَـؤُلاء تَقْتُلُونَ أَنفُسَكُمْ وَتُخْرِجُونَ فَرِيقاً مِّنكُم مِّن دِيَارِهِمْ تَظَاهَرُونَ عَلَيْهِم بِالإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَإِن يَأتُوكُمْ أُسَارَى تُفَادُوهُمْ وَهُوَ مُحَرَّمٌ عَلَيْكُمْ إِخْرَاجُهُمْ أَفَتُؤْمِنُونَ بِبَعْضِ الْكِتَابِ وَتَكْفُرُونَ بِبَعْضٍ فَمَا جَزَاء مَن يَفْعَلُ ذَلِكَ مِنكُمْ إِلاَّ خِزْيٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يُرَدُّونَ إِلَى أَشَدِّ الْعَذَابِ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ অতঃপর তোমরাই পরস্পর খুনাখুনি করছ এবং তোমাদেরই একদলকে তাদের দেশ থেকে বহিস্কার করছ। তাদের বিরুদ্ধে পাপ ও অন্যায়ের মাধ্যমে আক্রমণ করছ। আর যদি তারাই কারও বন্দী হয়ে তোমাদের কাছে আসে, তবে বিনিময় নিয়ে তাদের মুক্ত করছ। অথচ তাদের বহিস্কার করাও তোমাদের জন্য অবৈধ। তবে কি তোমরা গ্রন্থের কিয়দংশ বিশ্বাস কর এবং কিয়দংশ অবিশ্বাস কর? যারা এরূপ করে পার্থিব জীবনে দূগর্তি ছাড়া তাদের আর কোনই পথ নেই। কিয়ামতের দিন তাদের কঠোরতম শাস্তির দিকে পৌঁছে দেয়া হবে। আল্লাহ তোমাদের কাজ-কর্ম সম্পর্কে বে-খবর নন। After this it is ye, the same people, who slay among yourselves, and banish a part of you from their homes; assist (Their enemies) against them, in guilt and rancor; and if they come to you as captives, ye ransom them, though it was not lawful for you to banish them. Then is it only a part of the Book that ye believe in, and do ye reject the rest? but what is the reward for those among you who behave like this but disgrace in this life?- and on the Day of Judgment they shall be consigned to the most grievous penalty. For Allah is not unmindful of what ye do.

( ثُمَّ আবার Then, أَنتُمْ তোমরাই you, هَٰٓؤُلَآءِ ঐসব (লোক যারা) (are) those, تَقْتُلُونَ তোমরা হত্যা করছ (who) kill, أَنفُسَكُمْ তোমাদের নিজেদেরকে yourselves, وَتُخْرِجُونَ এবং তোমরা তাড়িয়ে দিচ্ছ and evict, فَرِيقًا এক দলকে a party, مِّنكُم তোমাদের মধ্য থেকে of you, مِّن হতে from, دِيَٰرِهِمْ তাদের ঘরগুলো their homes, تَظَٰهَرُونَ তোমরা সাহায্য করছ you support one another, عَلَيْهِم তাদের বিরুদ্ধে against them, بِٱلْإِثْمِ অন্যায় in sin, وَٱلْعُدْوَٰنِ ও সীমালঙ্ঘন and [the] transgression, وَإِن এবং যদি And if, يَأْتُوكُمْ তোমাদের কাছে আসে they come to you, أُسَٰرَىٰ বন্দি (হয়ে) (as) captives, تُفَٰدُوهُمْ তাদের ছাড়াও মুক্তিপণ দিয়ে you ransom them, وَهُوَ অথচ তা while it, مُحَرَّمٌ নিষিদ্ধ (was) forbidden, عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর to you, إِخْرَاجُهُمْ তাদের তাড়িয়ে দেওয়া their eviction, أَفَتُؤْمِنُونَ তোমরা তবে কি বিশ্বাস কর So do you believe, بِبَعْضِ কিছু অংশের(ব্যাপারে) in part (of), ٱلْكِتَٰبِ কিতাবের the Book, وَتَكْفُرُونَ এবং অবিশ্বাস কর and disbelieve, بِبَعْضٍ (অপর) কিছু অংশকে in part?, فَمَا সুতরাং কী(হতে পারে) Then what, جَزَآءُ প্রতিদান (should be the) recompense, مَن যে (for the one) who, يَفْعَلُ করবে does, ذَٰلِكَ এরূপ that, مِنكُمْ তোমাদের মধ্য থেকে among you, إِلَّا এছাড়া যে except, خِزْىٌ অপমান disgrace, فِى মধ্যে in, ٱلْحَيَوٰةِ জীবনের the life, ٱلدُّنْيَا পার্থিব (of) the world, وَيَوْمَ এবং দিনে and (on the) Day, ٱلْقِيَٰمَةِ কিয়ামাতের of [the] Resurrection, يُرَدُّونَ তারা নিক্ষিপ্ত হবে they will be sent back, إِلَىٰٓ দিকে to, أَشَدِّ কঠোর (the) most severe, ٱلْعَذَابِ শাস্তির punishment?, وَمَا এবং না And not, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ (is) Allah, بِغَٰفِلٍ উদাসীন unaware, عَمَّا এ বিষয়ে যা of what, تَعْمَلُونَ তোমরা করছ you do )

(86) أُولَـئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُاْ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا بِالآَخِرَةِ فَلاَ يُخَفَّفُ عَنْهُمُ الْعَذَابُ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ এরাই পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবন ক্রয় করেছে। অতএব এদের শাস্তি লঘু হবে না এবং এরা সাহায্যও পাবে না। These are the people who buy the life of this world at the price of the Hereafter: their penalty shall not be lightened nor shall they be helped.

( أُو۟لَٰٓئِكَ ঐ সব (লোক) Those, ٱلَّذِينَ (তারাই) যারা (are) the ones who, ٱشْتَرَوُا۟ কিনে নিয়েছে bought, ٱلْحَيَوٰةَ জীবনকে the life, ٱلدُّنْيَا পার্থিব (of) the world, بِٱلْءَاخِرَةِ আখিরাতের বিনিময়ে for the Hereafter;, فَلَا না ফলে so not, يُخَفَّفُ হালকা করা হবে will be lightened, عَنْهُمُ তাদের থেকে for them, ٱلْعَذَابُ শাস্তি the punishment, وَلَا এবং না and not, هُمْ তারা they, يُنصَرُونَ সাহায্যপ্রাপ্ত হবে will be helped,

 

(87) وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِن بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ أَفَكُلَّمَا جَاءكُمْ رَسُولٌ بِمَا لاَ تَهْوَى أَنفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقاً كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقاً تَقْتُلُونَ অবশ্যই আমি মূসাকে কিতাব দিয়েছি। এবং তার পরে পর্যায়ক্রমে রসূল পাঠিয়েছি। আমি মরিয়ম তনয় ঈসাকে সুস্পষ্ট মোজেযা দান করেছি এবং পবিত্র রূহের মাধ্যমে তাকে শক্তিদান করেছি। অতঃপর যখনই কোন রসূল এমন নির্দেশ নিয়ে তোমাদের কাছে এসেছে, যা তোমাদের মনে ভাল লাগেনি, তখনই তোমরা অহংকার করেছ। শেষ পর্যন্ত তোমরা একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছ এবং একদলকে হত্যা করেছ। We gave Moses the Book and followed him up with a succession of apostles; We gave Jesus the son of Mary Clear (Signs) and strengthened him with the holy spirit. Is it that whenever there comes to you an apostle with what ye yourselves desire not, ye are puffed up with pride?- Some ye called impostors, and others ye slay!

( وَلَقَدْ এবং নিশ্চয়ই And indeed, ءَاتَيْنَا আমরা দিয়েছি We gave, مُوسَى মূসাকে Musa, ٱلْكِتَٰبَ কিতাব the Book, وَقَفَّيْنَا এবং পর্যায়ক্রমে আমরা পাঠিয়েছি and We followed up, مِنۢ থেকে from, بَعْدِهِۦ তারপর after him, بِٱلرُّسُلِ রাসূলদেরকে with [the] Messengers, وَءَاتَيْنَا এবং আমরা দিয়েছি And We gave, عِيسَى ঈসাকে Isa, ٱبْنَ পুত্র (the) son, مَرْيَمَ মারইয়ামের (of) Maryam, ٱلْبَيِّنَٰتِ সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ [the] clear signs, وَأَيَّدْنَٰهُ ও তাকে আমরা সাহায্য করেছি and We supported him, بِرُوحِ আত্মা দিয়ে (with), ٱلْقُدُسِ পবিত্র the Holy Spirit, أَفَكُلَّمَا যখনই অতঃপর কি Is it (not) so (that) whenever, جَآءَكُمْ তোমাদের কাছে এসেছে came to you, رَسُولٌۢ কোনো রাসূল a Messenger, بِمَا তা নিয়ে যা with what, لَا না (does) not, تَهْوَىٰٓ পছন্দ করে desire, أَنفُسُكُمُ তোমাদের মন yourselves, ٱسْتَكْبَرْتُمْ তোমরা অহঙ্কার করেছ you acted arrogantly?, فَفَرِيقًا অতঃপর একদলকে So a party, كَذَّبْتُمْ তোমরা অস্বীকার করছো you denied, وَفَرِيقًا আর একদলকে and a party, تَقْتُلُونَ তোমরা হত্যা করেছ you kill(ed) )

 

(88) وَقَالُواْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَل لَّعَنَهُمُ اللَّه بِكُفْرِهِمْ فَقَلِيلاً مَّا يُؤْمِنُونَ তারা বলে, আমাদের হৃদয় অর্ধাবৃত। এবং তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন। ফলে তারা অল্পই ঈমান আনে। They say, “Our hearts are the wrappings (which preserve Allah.s Word: we need no more).” Nay, Allah.s curse is on them for their blasphemy: Little is it they believe.

( وَقَالُوا۟ এবং তারা বলেছিল And they said, قُلُوبُنَا ‘আমাদের অন্তর “Our hearts, غُلْفٌۢ আচ্ছাদিত (সুরক্ষিত)” (are) wrapped”, بَل বরং (সত্য হল) Nay, لَّعَنَهُمُ তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন has cursed them, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, بِكُفْرِهِمْ, তাদের অবিশ্বাসের কারণে for their disbelief, فَقَلِيلًا তাই কম (লোকই) so little, مَّا যারা (is) what, يُؤْمِنُونَ ঈমান আনবে they believe)

 

(89) وَلَمَّا جَاءهُمْ كِتَابٌ مِّنْ عِندِ اللّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ وَكَانُواْ مِن قَبْلُ يَسْتَفْتِحُونَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُواْ فَلَمَّا جَاءهُم مَّا عَرَفُواْ كَفَرُواْ بِهِ فَلَعْنَةُ اللَّه عَلَى الْكَافِرِينَ যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে কিতাব এসে পৌঁছাল, যা সে বিষয়ের সত্যায়ন করে, যা তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা পূর্বে করত। অবশেষে যখন তাদের কাছে পৌঁছল যাকে তারা চিনে রেখেছিল, তখন তারা তা অস্বীকার করে বসল। অতএব, অস্বীকারকারীদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। And when there comes to them a Book from Allah, confirming what is with them,- although from of old they had prayed for victory against those without Faith,- when there comes to them that which they (should) have recognised, they refuse to believe in it but the curse of Allah is on those without Faith.

( وَلَمَّا এবং যখন And when, جَآءَهُمْ এসেছে তাদের কাছে came to them, كِتَٰبٌ কিতাব a Book, مِّنْ থেকে of, عِندِ নিকট from, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah, مُصَدِّقٌ সত্যায়নকারী confirming, لِّمَا তার জন্য যা what (was), مَعَهُمْ তাদের সাথে(আছে) with them, وَكَانُوا۟ এবং তারা ছিল though they used to, مِن (থেকে) from, قَبْلُ পূর্ব থেকে before, يَسْتَفْتِحُونَ বিজয় চাইত (that), pray for victory, عَلَى উপর(বিরুদ্ধে) over, ٱلَّذِينَ (তাদের) যারা those who كَفَرُوا۟ অবিশ্বাস করেছে disbelieved, فَلَمَّا অতঃপর যখন then when, جَآءَهُم আসল তাদের কাছে came to them, مَّا যা what, عَرَفُوا۟ তারা জানত they recognized, كَفَرُوا۟ অস্বীকার করল they disbelieved, بِهِۦ তার প্রতি in it, فَلَعْنَةُ ফলে অভিশাপ So (the) curse, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, عَلَى উপর (is) on, ٱلْكَٰفِرِينَ প্রত্যাখ্যানকারীদের the disbelievers,

 

(90) بِئْسَمَا اشْتَرَوْاْ بِهِ أَنفُسَهُمْ أَن يَكْفُرُواْ بِمَا أنَزَلَ اللّهُ بَغْياً أَن يُنَزِّلُ اللّهُ مِن فَضْلِهِ عَلَى مَن يَشَاء مِنْ عِبَادِهِ فَبَآؤُواْ بِغَضَبٍ عَلَى غَضَبٍ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ مُّهِينٌ যার বিনিময়ে তারা নিজেদের বিক্রি করেছে, তা খুবই মন্দ; যেহেতু তারা আল্লাহ যা নযিল করেছেন, তা অস্বীকার করেছে এই হঠকারিতার দরুন যে, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা অনুগ্রহ নাযিল করেন। অতএব, তারা ক্রোধের উপর ক্রোধ অর্জন করেছে। আর কাফেরদের জন্য রয়েছে অপমানজনক শাস্তি। Miserable is the price for which they have sold their souls, in that they deny (the revelation) which Allah has sent down, in insolent envy that Allah of His Grace should send it to any of His servants He pleases: Thus have they drawn on themselves Wrath upon Wrath. And humiliating is the punishment of those who reject Faith.

( بِئْسَمَا কতই নিকৃষ্ট তা Evil (is) that, ٱشْتَرَوْا۟ তারা বিক্রি করেছে (for) which they have sold, بِهِۦٓ যার বিনিময়ে with, أَنفُسَهُمْ তাদের আত্মাকে themselves, أَن (থেকে) that, يَكْفُرُوا۟ তারা অস্বীকার করে যে they disbelieve, بِمَآ ঐ বিষয় যা in what, أَنزَلَ অবতীর্ণ করেছেন has revealed, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, بَغْيًا জিদ বশতঃ grudging, أَن (এজন্য) যে that, يُنَزِّلَ অবতীর্ণ করেছেন sends down, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, مِن কারণে of, فَضْلِهِۦ তাঁর অনুগ্রহের His Grace, عَلَىٰ উপর on, مَن যাকে whom, يَشَآءُ তিনি চান He wills, مِنْ মধ্য হতে from, عِبَادِهِۦ তাঁর বান্দাদের His servants, فَبَآءُو তারা ফলে পরিবেষ্টিত হয়েছে So they have drawn (on themselves), بِغَضَبٍ রাগ দিয়ে wrath, عَلَىٰ উপর upon, غَضَبٍ রাগের wrath, وَلِلْكَٰفِرِينَ এবং কাফিরদের জন্য(রয়েছে) And for the disbelievers, عَذَابٌ শাস্তি (is) a punishment, مُّهِينٌ অপমানকর humiliating,

 

(91) وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُواْ بِمَا أَنزَلَ اللّهُ قَالُواْ نُؤْمِنُ بِمَآ أُنزِلَ عَلَيْنَا وَيَكْفُرونَ بِمَا وَرَاءهُ وَهُوَ الْحَقُّ مُصَدِّقاً لِّمَا مَعَهُمْ قُلْ فَلِمَ تَقْتُلُونَ أَنبِيَاء اللّهِ مِن قَبْلُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা পাঠিয়েছেন তা মেনে নাও, তখন তারা বলে, আমরা মানি যা আমাদের প্রতি অবর্তীণ হয়েছে। সেটি ছাড়া সবগুলোকে তারা অস্বীকার করে। অথচ এ গ্রন্থটি সত্য এবং সত্যায়ন করে ঐ গ্রন্থের যা তাদের কাছে রয়েছে। বলে দিন, তবে তোমরা ইতিপূর্বে পয়গম্বরদের হত্যা করতে কেন যদি তোমরা বিশ্বাসী ছিলে? When it is said to them, “Believe in what Allah Hath sent down, “they say, “We believe in what was sent down to us:” yet they reject all besides, even if it be Truth confirming what is with them. Say: “Why then have ye slain the prophets of Allah in times gone by, if ye did indeed believe?”

( وَإِذَا এবং যখন And when, قِيلَ বলা হয় it is said, لَهُمْ তাদের উদ্দেশে to them, ءَامِنُوا۟ ‘তোমরা ঈমান আনো “Believe, بِمَآ ঐবিষয়ে যা in what, أَنزَلَ অবতীর্ণ করেছেন has revealed, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌” Allah”, قَالُوا۟ তারা বলে they say, نُؤْمِنُ ‘আমরা ঈমান আনব “We believe, بِمَآ ঐবিষয়ে যা in what, أُنزِلَ অবতীর্ণ করা হয়েছে was revealed, عَلَيْنَا আমাদের উপর” to us”, وَيَكْفُرُونَ ও তারা অস্বীকার করে And they disbelieve, بِمَا যা(আছে) in what, وَرَآءَهُۥ তা ছাড়া (is) besides it, وَهُوَ অথচ সেটাই while it, ٱلْحَقُّ সত্য (is) the truth, مُصَدِّقًا সত্যায়নকারী confirming, لِّمَا তার জন্য যা what, مَعَهُمْ তাদের সাথে(আছে) (is) with them, قُلْ বলো Say, فَلِمَ ‘কেন তাহলে “Then why, تَقْتُلُونَ তোমরা হত্যা করেছ (did) you kill, أَنۢبِيَآءَ নবীদেরকে (the) Prophets, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, مِن থেকে from, قَبْلُ পূর্ব before, إِن যদি if, كُنتُم তোমরা হয়ে থাক you were, مُّؤْمِنِينَ মুমিন” believers?” )

 

(92) وَلَقَدْ جَاءكُم مُّوسَى بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِهِ وَأَنتُمْ ظَالِمُونَ সুস্পষ্ট মু’জেযাসহ মূসা তোমাদের কাছে এসেছেন। এরপর তার অনুপস্থিতিতে তোমরা গোবৎস বানিয়েছ। বাস্তবিকই তোমরা অত্যাচারী। There came to you Moses with clear (Signs); yet ye worshipped the calf (Even) after that, and ye did behave wrongfully.

( وَلَقَدْ এবং নিশ্চয়ই And indeed, جَآءَكُم তোমাদের কাছে এসেছিল came to you, مُّوسَىٰ মূসা Musa, بِٱلْبَيِّنَٰتِ সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহ নিয়ে with [the] clear signs, ثُمَّ এরপর then, ٱتَّخَذْتُمُ গ্রহণ করেছিলে তোমরা you took, ٱلْعِجْلَ গো বাছুরকে (উপাস্যরূপে) the calf, مِنۢ থেকে from, بَعْدِهِۦ তারপর after him, وَأَنتُمْ এবং তোমরা(ছিলে) and you, ظَٰلِمُونَ সীমালঙ্ঘনকারী (were) wrongdoers )

 

(93) وَإِذْ أَخَذْنَا مِيثَاقَكُمْ وَرَفَعْنَا فَوْقَكُمُ الطُّورَ خُذُواْ مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاسْمَعُواْ قَالُواْ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا وَأُشْرِبُواْ فِي قُلُوبِهِمُ الْعِجْلَ بِكُفْرِهِمْ قُلْ بِئْسَمَا يَأْمُرُكُمْ بِهِ إِيمَانُكُمْ إِن كُنتُمْ مُّؤْمِنِينَ আর যখন আমি তোমাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিলাম এবং তুর পর্বতকে তোমাদের উপর তুলে ধরলাম যে, শক্ত করে ধর, আমি যা তোমাদের দিয়েছি আর শোন। তারা বলল, আমরা শুনেছি আর অমান্য করেছি। কুফরের কারণে তাদের অন্তরে গোবৎসপ্রীতি পান করানো হয়েছিল। বলে দিন, তোমরা বিশ্বাসী হলে, তোমাদের সে বিশ্বাস মন্দ বিষয়াদি শিক্ষা দেয়। And remember We took your covenant and We raised above you (the towering height) of Mount (Sinai): (Saying): “Hold firmly to what We have given you, and hearken (to the Law)”: They said:” We hear, and we disobey:” And they had to drink into their hearts (of the taint) of the calf because of their Faithlessness. Say: “Vile indeed are the behests of your Faith if ye have any faith!”

( وَإِذْ এবং যখন And when, أَخَذْنَا আমরা গ্রহণ করেছিলাম We took, مِيثَٰقَكُمْ তোমাদের প্রতিশ্রুতি your covenant, وَرَفَعْنَا এবং উঠিয়েছিলাম and We raised, فَوْقَكُمُ তোমাদের উপর over you, ٱلطُّورَ তুর পাহাড়কে the mount, خُذُوا۟ ‘(বলেছিলাম) তোমরা ধরো “Hold, مَآ (তা)যা what, ءَاتَيْنَٰكُم তোমাদেরকে আমরা দিয়েছি We gave you, بِقُوَّةٍ শক্তভাবে with firmness, وَٱسْمَعُوا۟ ও তোমরা শুনো” and listen”, قَالُوا۟ তারা বলেছিল  They said, سَمِعْنَا ‘আমরা শুনলাম “We heard, وَعَصَيْنَا কিন্তু আমরা অমান্য করলাম” and we disobeyed”, وَأُشْرِبُوا۟ এবং সিঞ্চিত হয়েছিল And they were made to drink, فِى মধ্যে in, قُلُوبِهِمُ তাদের অন্তরগুলোর their hearts, ٱلْعِجْلَ গোবাছুর (পূজা) (love of) the calf, بِكُفْرِهِمْ অবিশ্বাসের কারণে তাদের because of their disbelief, قُلْ বলো Say, بِئْسَمَا ‘কতই না নিকৃষ্ট “Evil (is) that, يَأْمُرُكُم তোমাদের নির্দেশ দেয় orders you (to do) it, بِهِۦٓ যার প্রতি with, إِيمَٰنُكُمْ তোমাদের ঈমান your faith, إِن যদি if, كُنتُم তোমরা হয়ে থাক you are, مُّؤْمِنِينَ মুমিন” believers” )

 

(94) قُلْ إِن كَانَتْ لَكُمُ الدَّارُ الآَخِرَةُ عِندَ اللّهِ خَالِصَةً مِّن دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُاْ الْمَوْتَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ বলে দিন, যদি আখেরাতের বাসস্থান আল্লাহর কাছে একমাত্র তোমাদের জন্যই বরাদ্দ হয়ে থাকে-অন্য লোকদের বাদ দিয়ে, তবে মৃত্যু কামনা কর, যদি সত্যবাদী হয়ে থাক। Say: “If the last Home, with Allah, be for you specially, and not for anyone else, then seek ye for death, if ye are sincere.”

( قُلْ বলো Say, إِن ‘যদি “If, كَانَتْ হয় (নির্দিষ্ট) is, لَكُمُ তোমাদের জন্য for you, ٱلدَّارُ ঘর the home, ٱلْءَاخِرَةُ আখিরাতের (of) the Hereafter, عِندَ কাছে with, ٱللَّهِ আল্লাহ Allah, خَالِصَةً কেবল (তোমাদেরই) exclusively, مِّن থেকে(দিয়ে) from, دُونِ ব্যতীত(বাদ) excluding, ٱلنَّاسِ (সমগ্র)মানুষকে the mankind, فَتَمَنَّوُا۟ তোমরা তাহলে কামনা করো then wish, ٱلْمَوْتَ মৃত্যুর (for) [the] death, إِن যদি if, كُنتُمْ তোমরা হয়ে থাক you are, صَٰدِقِينَ সত্যবাদী” truthful” )

 

(95) وَلَن يَتَمَنَّوْهُ أَبَدًا بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ وَاللّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمينَ কস্মিনকালেও তারা মৃত্যু কামনা করবে না ঐসব গোনাহর কারণে, যা তাদের হাত পাঠিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ গোনাহগারদের সম্পর্কে সম্যক অবগত রয়েছেন। But they will never seek for death, on account of the (sins) which their hands have sent on before them. and Allah is well-acquainted with the wrong-doers.

( وَلَن কিন্তু নিশ্চয়ই না And never (will), يَتَمَنَّوْهُ তা কামনা করবে তারা they wish for it, أَبَدًۢا কখনও ever, بِمَا এ কারণে যা because, قَدَّمَتْ আগে পাঠিয়েছে (of what) sent ahead, أَيْدِيهِمْ তাদের হাত their hands, وَٱللَّهُ এবং আল্লাহ্‌ And Allah, عَلِيمٌۢ খুবই অবহিত (is) All-Knower, بِٱلظَّٰلِمِينَ সীমালঙ্ঘঙ্কারীদের সম্পর্কে of the wrongdoers )

 

(96) وَلَتَجِدَنَّهُمْ أَحْرَصَ النَّاسِ عَلَى حَيَاةٍ وَمِنَ الَّذِينَ أَشْرَكُواْ يَوَدُّ أَحَدُهُمْ لَوْ يُعَمَّرُ أَلْفَ سَنَةٍ وَمَا هُوَ بِمُزَحْزِحِهِ مِنَ الْعَذَابِ أَن يُعَمَّرَ وَاللّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ আপনি তাদেরকে জীবনের প্রতি সবার চাইতে, এমনকি মুশরিকদের চাইতেও অধিক লোভী দেখবেন। তাদের প্রত্যেকে কামনা করে, যেন হাজার বছর আয়ু পায়। অথচ এরূপ আয়ু প্রাপ্তি তাদেরকে শাস্তি থেকে রক্ষা করতে পারবে না। আল্লাহ দেখেন যা কিছু তারা করে। Thou wilt indeed find them, of all people, most greedy of life,-even more than the idolaters: Each one of them wishes He could be given a life of a thousand years: But the grant of such life will not save him from (due) punishment. For Allah sees well all that they do.

( وَلَتَجِدَنَّهُمْ এবং তোমরা অবশ্যই তাদেরকে পাবে And surely you will find them, أَحْرَصَ অত্যধিক লোভী (the) most greedy, ٱلنَّاسِ মানুষের মধ্যে (of) [the] mankind, عَلَىٰ প্রতি for, حَيَوٰةٍ বেঁচে থাকার life, وَمِنَ এবং (তাদের) চেয়েও and (greedier) than, ٱلَّذِينَ যারা those who, أَشْرَكُوا۟ শিরক করে associate[d] partners (with Allah), يَوَدُّ চায় Loves, أَحَدُهُمْ তাদের প্রত্যেকে (each) one of them, لَوْ যদি if, يُعَمَّرُ আয়ু দেয়া হত he could be granted a life, أَلْفَ এক হাজার (of) a thousand, سَنَةٍ বছরের year(s), وَمَا অথচ না But not, هُوَ তা (অর্থাৎ দীর্ঘায়ু) it, بِمُزَحْزِحِهِۦ তাকে টলাতে পারবে (will) remove him, مِنَ থেকে from, ٱلْعَذَابِ শাস্তি the punishment, أَن যে that, يُعَمَّرَ আয়ু দেয়া হয়ও he should be granted life, وَٱللَّهُ এবং আল্লাহ্‌ And Allah, بَصِيرٌۢ খুব দেখেন (is) All-Seer, بِمَا ঐ বিষয় যা of what, يَعْمَلُونَ তারা করছে they do )

 

(97) قُلْ مَن كَانَ عَدُوًّا لِّجِبْرِيلَ فَإِنَّهُ نَزَّلَهُ عَلَى قَلْبِكَ بِإِذْنِ اللّهِ مُصَدِّقاً لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَهُدًى وَبُشْرَى لِلْمُؤْمِنِينَ আপনি বলে দিন, যে কেউ জিবরাঈলের শত্রু হয়-যেহেতু তিনি আল্লাহর আদেশে এ কালাম আপনার অন্তরে নাযিল করেছেন, যা সত্যায়নকারী তাদের সম্মুখস্থ কালামের এবং মুমিনদের জন্য পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা। Say: Whoever is an enemy to Gabriel-for he brings down the (revelation) to thy heart by Allah.s will, a confirmation of what went before, and guidance and glad tidings for those who believe,-

( قُلْ বলো Say, مَن ‘যে “Whoever, كَانَ হবে is, عَدُوًّا শত্রু an enemy, لِّجِبْرِيلَ জিব্রাইলের (সে জেনে রাখুক) to Jibreel, فَإِنَّهُۥ সে নিশ্চয়ই then indeed he, نَزَّلَهُۥ তা অবতীর্ণ করেছে brought it down, عَلَىٰ উপর on, قَلْبِكَ তোমার অন্তরে your heart, بِإِذْنِ অনুমতি নিয়ে by (the) permission, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, مُصَدِّقًا সত্যায়নকারী confirming, لِّمَا (তার জন্য) যা what, بَيْنَ মাঝে (was), يَدَيْهِ তার সামনে (আছে) before it, وَهُدًى এবং পথপ্রদর্শক and a guidance, وَبُشْرَىٰ ও সুসংবাদ and glad tiding(s), لِلْمُؤْمِنِينَ মুমিনদের জন্য” for the believers” )

 

(98) مَن كَانَ عَدُوًّا لِّلّهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَرُسُلِهِ وَجِبْرِيلَ وَمِيكَالَ فَإِنَّ اللّهَ عَدُوٌّ لِّلْكَافِرِينَ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাঁর ফেরেশতা ও রসূলগণ এবং জিবরাঈল ও মিকাঈলের শত্রু হয়, নিশ্চিতই আল্লাহ সেসব কাফেরের শত্রু। Whoever is an enemy to Allah and His angels and apostles, to Gabriel and Michael,- Lo! Allah is an enemy to those who reject Faith.

( مَن যে Whoever, كَانَ হবে is, عَدُوًّا শত্রু an enemy, لِّلَّهِ আল্লাহ্‌র জন্য (to) Allah, وَمَلَٰٓئِكَتِهِۦ ও তাঁর ফেরেশতাদের and His Angels, وَرُسُلِهِۦ ও তার রাসূলদের and His Messengers, وَجِبْرِيلَ ও জীব্রাঈলের and Jibreel, وَمِيكَىٰلَ ও মিকাঈলের and Meekael, فَإِنَّ নিশ্চয়ই ফলে then indeed, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ (হবেন) Allah, عَدُوٌّ শত্রু (is) an enemy, لِّلْكَٰفِرِينَ (সেইসব) কাফিরদের জন্য to the disbelievers )

(99) وَلَقَدْ أَنزَلْنَآ إِلَيْكَ آيَاتٍ بَيِّنَاتٍ وَمَا يَكْفُرُ بِهَا إِلاَّ الْفَاسِقُونَ আমি আপনার প্রতি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ অবতীর্ণ করেছি। অবাধ্যরা ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করে না। We have sent down to thee Manifest Signs (ayat); and none reject them but those who are perverse.

( وَلَقَدْ এবং নিশ্চয়ই And indeed, أَنزَلْنَآ আমরা অবতীর্ণ করেছি We revealed, إِلَيْكَ তোমার প্রতি to you, ءَايَٰتٍۭ আয়াত সমূহ Verses, بَيِّنَٰتٍ সুস্পষ্ট clear, وَمَا এবং না and not, يَكْفُرُ অস্বীকার করে disbelieves, بِهَآ তার প্রতি in them, إِلَّا ছাড়া except, ٱلْفَٰسِقُونَ সত্যত্যাগী the defiantly disobedient )

 

(100) أَوَكُلَّمَا عَاهَدُواْ عَهْداً نَّبَذَهُ فَرِيقٌ مِّنْهُم بَلْ أَكْثَرُهُمْ لاَ يُؤْمِنُونَ কি আশ্চর্য, যখন তারা কোন অঙ্গীকারে আবদ্ধ হয়, তখন তাদের একদল তা ছুঁড়ে ফেলে, বরং অধিকাংশই বিশ্বাস করে না। Is it not (the case) that every time they make a covenant, some party among them throw it aside?- Nay, Most of them are faithless.

( أَوَكُلَّمَا এমন নয়কি যখনই And is (it not that) whenever, عَٰهَدُوا۟ তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে they took, عَهْدًا কোন প্রতিশ্রুতি a covenant, نَّبَذَهُۥ তা নিক্ষেপ করেছে threw it away, فَرِيقٌ কোনো একদল a party, مِّنْهُم তাদের মধ্য থেকে of them?, بَلْ বরং Nay, أَكْثَرُهُمْ তাদের অধিকাংশ most of them, لَا না (do) not, يُؤْمِنُونَ বিশ্বাস করে believe )

 

(101) وَلَمَّا جَاءهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ اللّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ الَّذِينَ أُوتُواْ الْكِتَابَ كِتَابَ اللّهِ وَرَاء ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لاَ يَعْلَمُونَ যখন তাদের কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রসূল আগমন করলেন-যিনি ঐ কিতাবের সত্যায়ন করেন, যা তাদের কাছে রয়েছে, তখন আহলে কেতাবদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে পশ্চাতে নিক্ষেপ করল-যেন তারা জানেই না। And when there came to them an apostle from Allah, confirming what was with them, a party of the people of the Book threw away the Book of Allah behind their backs, as if (it had been something) they did not know!

( وَلَمَّا এবং যখনই And when, جَآءَهُمْ তাদের কাছে এসেছে came to them, رَسُولٌ কোন রাসূল a Messenger, مِّنْ থেকে (of), عِندِ কাছ from, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah, مُصَدِّقٌ সত্যায়নকারী confirming, لِّمَا (তার জন্য) যা what, مَعَهُمْ তাদের সাথে (আছে) (was) with them, نَبَذَ নিক্ষেপ করেছে threw away, فَرِيقٌ কোনো একদল a party, مِّنَ (তাদের) মধ্য থেকে of, ٱلَّذِينَ যাদের those who, أُوتُوا۟ দেয়া হয়েছে were given, ٱلْكِتَٰبَ কিতাব the Book, كِتَٰبَ কিতাব (the) Book, ٱللَّهِ আল্লাহর (of) Allah, وَرَآءَ পিছনে behind, ظُهُورِهِمْ তাদের পিঠের their backs, كَأَنَّهُمْ তারা যেন as if they, لَا না (do) not, يَعْلَمُونَ তারা জানেই know )

 

(102) وَاتَّبَعُواْ مَا تَتْلُواْ الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـكِنَّ الشَّيْاطِينَ كَفَرُواْ يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولاَ إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلاَ تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ بِإِذْنِ اللّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلاَ يَنفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُواْ لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلاَقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْاْ بِهِ أَنفُسَهُمْ لَوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত। They followed what the evil ones gave out (falsely) against the power of Solomon: the blasphemers Were, not Solomon, but the evil ones, teaching men Magic, and such things as came down at Babylon to the angels Harut and Marut. But neither of these taught anyone (Such things) without saying: “We are only for trial; so do not blaspheme.” They learned from them the means to sow discord between man and wife. But they could not thus harm anyone except by Allah.s permission. And they learned what harmed them, not what profited them. And they knew that the buyers of (magic) would have no share in the happiness of the Hereafter. And vile was the price for which they did sell their souls if they but knew!

( وَٱتَّبَعُوا۟ এবং তারা অনুসরণ করেছে And they followed, مَا (তার) যা what, تَتْلُوا۟ পাঠ করত recite(d), ٱلشَّيَٰطِينُ শয়তানরা the devils, عَلَىٰ সম্পর্কে over, مُلْكِ রাজত্বের (the) kingdom, سُلَيْمَٰنَ সুলায়মানের (of) Sulaiman, وَمَا আর না And not, كَفَرَ অবিশ্বাস করেছিল disbelieved, سُلَيْمَٰنُ সুলাইমান Sulaiman, وَلَٰكِنَّ কিন্তু [and] but, ٱلشَّيَٰطِينَ শয়তানরা the devils, كَفَرُوا۟ অবিশ্বাস করেছিল disbelieved, يُعَلِّمُونَ (তারাই) শিখাত they teach, ٱلنَّاسَ মানুষদেরকে the people, ٱلسِّحْرَ জাদু [the] magic, وَمَآ এবং (আয়ত্ত্ব করত) যা and what, أُنزِلَ অবতীর্ণ করা হয়েছিল was sent down, عَلَى উপর to, ٱلْمَلَكَيْنِ দুই ফেরেশতার the two angels, بِبَابِلَ বাবেল (শহরে) in Babylon, هَٰرُوتَ হারুত Harut, وَمَٰرُوتَ ও মারূত (নামের) and Marut, وَمَا অথচ না And not, يُعَلِّمَانِ দুজনে শিখিয়েছে they both teach, مِنْ কোনো any, أَحَدٍ কাউকে one, حَتَّىٰ যতক্ষণ না unless, يَقُولَآ দুজনে বলেছে they [both] say, إِنَّمَا ‘মূলত “Only, نَحْنُ আমরা we, فِتْنَةٌ পরীক্ষা (মাত্র) (are) a trial, فَلَا অতএব না so (do) not, تَكْفُرْ অবিশ্বাস করো” disbelieve”, فَيَتَعَلَّمُونَ তবুও তারা শিখে But they learn, مِنْهُمَا তাদের দুজন থেকে from those two, مَا যা what, يُفَرِّقُونَ তারা বিচ্ছেদ ঘটাত [they] causes separation, بِهِۦ তা দিয়ে with it, بَيْنَ মাঝে between, ٱلْمَرْءِ পুরুষের (স্বামীর) the man, وَزَوْجِهِۦ ও তার স্ত্রীর and his spouse, وَمَا এবং না And not, هُم তারা they (could), بِضَآرِّينَ ক্ষতি করতে পারত at all [be those who] harm, بِهِۦ এ দিয়ে with it, مِنْ কোনো any, أَحَدٍ কাউকে one, إِلَّا এ ছাড়া except, بِإِذْنِ অনুমতি নিয়ে by permission, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, وَيَتَعَلَّمُونَ এবং তারা শিখে And they learn, مَا (এমনকিছু) যা what, يَضُرُّهُمْ ক্ষতি করত তাদের harms them, وَلَا এবং না and not, يَنفَعُهُمْ তাদের উপকার করত profits them, وَلَقَدْ এবং নিশ্চয়ই And indeed, عَلِمُوا۟ তারা জেনেছিল they knew, لَمَنِ অবশ্যই যে কেউ that whoever, ٱشْتَرَىٰهُ তা কিনবে buys it, مَا নেই not, لَهُۥ তার জন্য for him, فِى মধ্যে in, ٱلْءَاخِرَةِ আখিরাতে the Hereafter, مِنْ কোনো any, خَلَٰقٍ অংশ share, وَلَبِئْسَ এবং অবশ্যই কত নিকৃষ্ট And surely evil, مَا তা (is) what, شَرَوْا۟ বিনিময়ে তারা বিক্রি করে they sold, بِهِۦٓ যার with it, أَنفُسَهُمْ তাদের জীবনকে themselves, لَوْ যদি if, كَانُوا۟ (তারা) they were, يَعْلَمُونَ তারা জানতো (to) know )

 

(103) وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُواْ واتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِّنْ عِندِ اللَّه خَيْرٌ لَّوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ যদি তারা ঈমান আনত এবং খোদাভীরু হত, তবে আল্লাহর কাছ থেকে উত্তম প্রতিদান পেত। যদি তারা জানত। If they had kept their Faith and guarded themselves from evil, far better had been the reward from their Lord, if they but knew!

( وَلَوْ এবং যদি And if, أَنَّهُمْ তারা [that] they, ءَامَنُوا۟ ঈমান আনত (had) believed, وَٱتَّقَوْا۟

এবং তাকওয়া অবলম্বন করত and feared (Allah), لَمَثُوبَةٌ অবশ্যই পুরস্কার পেত surely (the) reward, مِّنْ থেকে (of), عِندِ নিকট from, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah, خَيْرٌ উত্তম (would have been) better, لَّوْ যদি if, كَانُوا۟ (তারা) they were, يَعْلَمُونَ তারা জানত (to) know )

 

(104) يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ لاَ تَقُولُواْ رَاعِنَا وَقُولُواْ انظُرْنَا وَاسْمَعُوا ْوَلِلكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ হে মুমিন গণ, তোমরা ‘রায়িনা’ বলো না-‘উনযুরনা’ বল এবং শুনতে থাক। আর কাফেরদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। O ye of Faith! Say not (to the Messenger. words of ambiguous import, but words of respect; and hearken (to him): To those without Faith is a grievous punishment.

( يَٰٓأَيُّهَا হে O you, ٱلَّذِينَ যারা who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছ believe[d]!, لَا ‘না “(Do) not, تَقُولُوا۟ তোমরা বলো say, رَٰعِنَا ‘রায়িনা” “Raina”, وَقُولُوا۟ বরং তোমরা বলো and say, ٱنظُرْنَا ‘উনজুরনা” “Unzurna”, وَٱسْمَعُوا۟ এবং তোমরা শুনো and listen, وَلِلْكَٰفِرِينَ এবং কাফিরদের জন্য (রয়েছে) And for the disbelievers, عَذَابٌ শাস্তি (is) a punishment, أَلِيمٌ নিদারুণ painful )

 

(105) مَّا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلاَ الْمُشْرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْكُم مِّنْ خَيْرٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَاللّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَن يَشَاء وَاللّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ আহলে-কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কাফের, তাদের মনঃপুত নয় যে, তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের প্রতি কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ ভাবে স্বীয় অনুগ্রহ দান করেন। আল্লাহ মহান অনুগ্রহদাতা। It is never the wish of those without Faith among the People of the Book, nor of the Pagans, that anything good should come down to you from your Lord. But Allah will choose for His special Mercy whom He will – for Allah is Lord of grace abounding.

( مَّا না (Do) not, يَوَدُّ চায় like, ٱلَّذِينَ যারা those who, كَفَرُوا۟ অবিশ্বাস করেছে disbelieve, مِنْ মধ্য হতে from, أَهْلِ আহলে (the) People, ٱلْكِتَٰبِ কিতাবের (of) the Book, وَلَا এবং না and not, ٱلْمُشْرِكِينَ মুশরিকদের (মধ্য হতে) those who associate partners (with Allah), أَن যে that, يُنَزَّلَ অবতীর্ণ হোক (there should) be sent down, عَلَيْكُم তোমাদের উপর to you, مِّنْ কোনো any, خَيْرٍ কল্যাণ good, مِّن পক্ষ হতে from, رَّبِّكُمْ তোমাদের রবের your Lord, وَٱللَّهُ কিন্তু আল্লাহ্‌ And Allah, يَخْتَصُّ বিশেষভাবে মনোনীত করেন chooses, بِرَحْمَتِهِۦ তার দয়া দিয়ে for His Mercy, مَن যাকে whom, يَشَآءُ তিনি চান He wills, وَٱللَّهُ এবং আল্লাহ্‌ And Allah, ذُو (একটি) (is the) Possessor, ٱلْفَضْلِ অনুগ্রহের অধিকারী (of) [the] Bounty, ٱلْعَظِيمِ মহা [the] Great)

 

(106) مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللّهَ عَلَىَ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? None of Our revelations do We abrogate or cause to be forgotten, but We substitute something better or similar: Knowest thou not that Allah Hath power over all things?

( مَا যা What, نَنسَخْ আমরা রহিত করি We abrogate, مِنْ (অর্থাৎ) কোনো (of), ءَايَةٍ আয়াত a sign, أَوْ অথবা or, نُنسِهَا তা আমরা ভুলিয়ে দিই [We] cause it to be forgotten, نَأْتِ আনি আমরা We bring, بِخَيْرٍ উত্তম better, مِّنْهَآ তার চেয়ে than it, أَوْ অথবা or, مِثْلِهَآ তার অনুরূপ similar (to) it, أَلَمْ নাকি Do not, تَعْلَمْ তুমি জান you know, أَنَّ নিশ্চয়ই that, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ Allah, عَلَىٰ উপর over, كُلِّ সব every, شَىْءٍ কিছুর thing, قَدِيرٌ সর্বশক্তিমান (is) All-Powerful? )

 

(107) أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللّهِ مِن وَلِيٍّ وَلاَ نَصِيرٍ তুমি কি জান না যে, আল্লাহর জন্যই নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের আধিপত্য? আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধু ও সাহায্যকারী নেই। Knowest thou not that to Allah belongeth the dominion of the heavens and the earth? And besides Him ye have neither patron nor helper.

( أَلَمْ নাকি Do not, تَعْلَمْ তুমি জান you know, أَنَّ যে that, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ (এমন যে) Allah, لَهُۥ তাঁরই জন্যে for Him, مُلْكُ সার্বভৌমত্ব (is the) Kingdom, ٱلسَّمَٰوَٰتِ আকাশের (of) the heavens, وَٱلْأَرْضِ ও পৃথিবীর and the earth?, وَمَا এবং And not, لَكُم নেই তোমাদের জন্য (is) for you, مِّن দিয়ে(থেকে) from, دُونِ বাদ besides, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌কে Allah, مِن কোনো any, وَلِىٍّ বন্ধু protector, وَلَا আর না and not, نَصِيرٍ কোনো সাহায্যকারী any helper )

 

(108) أَمْ تُرِيدُونَ أَن تَسْأَلُواْ رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَى مِن قَبْلُ وَمَن يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاء السَّبِيلِ ইতিপূর্বে মূসা (আঃ) যেমন জিজ্ঞাসিত হয়েছিলেন, (মুসলমানগন, ) তোমরাও কি তোমাদের রসূলকে তেমনি প্রশ্ন করতে চাও? যে কেউ ঈমানের পরিবর্তে কুফর গ্রহন করে, সে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। Would ye question your Messenger as Moses was questioned of old? but whoever changeth from Faith to Unbelief, Hath strayed without doubt from the even way.

( أَمْ কি Or, تُرِيدُونَ তোমরা চাও (do) you wish, أَن যে that, تَسْـَٔلُوا۟ প্রশ্ন করবে you ask, رَسُولَكُمْ তোমাদের রাসূলকে your Messenger, كَمَا যেমন as, سُئِلَ প্রশ্ন করা হয়েছিল was asked, مُوسَىٰ মূসা Musa, مِن থেকে from, قَبْلُ পূর্বে before?, وَمَن এবং যে And whoever, يَتَبَدَّلِ পরিবর্তন করল exchanges, ٱلْكُفْرَ অবিশ্বাস [the] disbelief, بِٱلْإِيمَٰنِ ঈমানের বদলে with [the] faith, فَقَدْ নিশ্চয়ই so certainly, ضَلَّ সে হারাল he went astray (from), سَوَآءَ সরল সোজা (the) evenness, ٱلسَّبِيلِ পথ (of) the way )

 

(109) وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّن بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّاراً حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ فَاعْفُواْ وَاصْفَحُواْ حَتَّى يَأْتِيَ اللّهُ بِأَمْرِهِ إِنَّ اللّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ আহলে কিতাবদের অনেকেই প্রতিহিংসাবশতঃ চায় যে, মুসলমান হওয়ার পর তোমাদেরকে কোন রকমে কাফের বানিয়ে দেয়। তাদের কাছে সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর (তারা এটা চায়)। যাক তোমরা আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত তাদের ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা কর। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। Quite a number of the People of the Book wish they could Turn you (people) back to infidelity after ye have believed, from selfish envy, after the Truth hath become Manifest unto them: But forgive and overlook, Till Allah accomplish His purpose; for Allah Hath power over all things.

( وَدَّ কামনা করে Wish[ed], كَثِيرٌ অনেকে many, مِّنْ মধ্য থেকে from, أَهْلِ অধিকারীদের (the) People, ٱلْكِتَٰبِ কিতাবের (of) the Book, لَوْ যদি if, يَرُدُّونَكُم তোমাদের ফিরাতে পারত they could turn you back, مِّنۢ থেকে from, بَعْدِ পর after, إِيمَٰنِكُمْ তোমাদের ঈমানের your (having) faith, كُفَّارًا অবিশ্বাস (to) disbelievers, حَسَدًا হিংসা বশত (out of) jealousy, مِّنْ থেকে from, عِندِ কাছে (of), أَنفُسِهِم তাদের নিজেদের themselves, مِّنۢ থেকে (even) from, بَعْدِ এরপর after, مَا যা [what], تَبَيَّنَ সুস্পষ্ট হয়েছে became clear, لَهُمُ তাদের কাছে to them, ٱلْحَقُّ প্রকৃত সত্য the truth, فَٱعْفُوا۟ অতএব তোমরা ক্ষমা করো So forgive, وَٱصْفَحُوا۟ ও উপেক্ষা করো and overlook, حَتَّىٰ যতক্ষণ না until, يَأْتِىَ (ফায়সালা করে) দেন brings, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, بِأَمْرِهِۦٓ তাঁর নির্দেশ দিয়ে His Command, إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ Allah, عَلَىٰ উপর on, كُلِّ সব every, شَىْءٍ কিছুর thing, قَدِيرٌ সর্বশক্তিমান (is) All-Powerful )

 

(110) وَأَقِيمُواْ الصَّلاَةَ وَآتُواْ الزَّكَاةَ وَمَا تُقَدِّمُواْ لأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللّهِ إِنَّ اللّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর এবং যাকাত দাও। তোমরা নিজের জন্যে পূর্বে যে সৎকর্ম প্রেরণ করবে, তা আল্লাহর কাছে পাবে। তোমরা যা কিছু কর, নিশ্চয় আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন। And be steadfast in prayer and regular in charity: And whatever good ye send forth for your souls before you, ye shall find it with Allah. for Allah sees Well all that ye do.

( وَأَقِيمُوا۟ এবং তোমরা প্রতিষ্ঠা করো And establish, ٱلصَّلَوٰةَ সলাত the prayer, وَءَاتُوا۟ ও তোমরা আদায় করো and give, ٱلزَّكَوٰةَ যাকাত [the] zakah, وَمَا এবং যা And whatever, تُقَدِّمُوا۟ তোমরা আগে পাঠাবে you send forth, لِأَنفُسِكُم তোমাদের নিজেদের জন্য for yourselves, مِّنْ কোনো of, خَيْرٍ কল্যাণ good (deeds), تَجِدُوهُ তা তোমরা পাবে you will find it, عِندَ কাছে with, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah, إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ Allah, بِمَا ঐ ব্যাপারে of what, تَعْمَلُونَ তোমরা করছ you do, بَصِيرٌ খুব দেখছেন (is) All-Seer )

(111) وَقَالُواْ لَن يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلاَّ مَن كَانَ هُوداً أَوْ نَصَارَى تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ قُلْ هَاتُواْ بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ ওরা বলে, ইহুদী অথবা খ্রীস্টান ব্যতীত কেউ জান্নাতে যাবে না। এটা ওদের মনের বাসনা। বলে দিন, তোমরা সত্যবাদী হলে, প্রমাণ উপস্থিত কর। And they say: “None shall enter Paradise unless he be a Jew or a Christian.” Those are their (vain) desires. Say: “Produce your proof if ye are truthful.”

( وَقَالُوا۟ এবং তারা বলে And they said, لَن ‘কখনও না “Never, يَدْخُلَ প্রবেশ করবে (অন্য কেউ) will enter, ٱلْجَنَّةَ জান্নাতে the Paradise, إِلَّا এছাড়া except, مَن যে who, كَانَ হবে is, هُودًا ইহুদী (a) Jew[s], أَوْ অথবা or, نَصَٰرَىٰ খ্রিষ্টান” (a) Christian[s]”, تِلْكَ এটা That, أَمَانِيُّهُمْ তাদের মিথ্যাআসা মাত্র (is) their wishful thinking, قُلْ বলো Say, هَاتُوا۟ ‘তোমরা নিয়ে আস “Bring, بُرْهَٰنَكُمْ তোমাদের প্রমাণ your proof, إِن যদি if, كُنتُمْ তোমরা হও you are, صَٰدِقِينَ সত্যবাদী” [those who are] truthful” )

 

(112) بَلَى مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِندَ رَبِّهِ وَلاَ خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلاَ هُمْ يَحْزَنُونَ হাঁ, যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমর্পন করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও বটে তার জন্য তার পালনকর্তার কাছে পুরস্কার বয়েছে। তাদের ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। Nay,-whoever submits His whole self to Allah and is a doer of good,- He will get his reward with his Lord; on such shall be no fear, nor shall they grieve.

( بَلَىٰ তবে হ্যাঁ Yes, مَنْ যে whoever, أَسْلَمَ সঁপে দিয়েছে submits, وَجْهَهُۥ তার সত্তাকে his face, لِلَّهِ আল্লাহ্‌র জন্য to Allah, وَهُوَ এবং সে and he, مُحْسِنٌ সত্যনিষ্ঠও (is) a good-doer, فَلَهُۥٓ তবে তার জন্য so for him, أَجْرُهُۥ তার প্রতিফল (রয়েছে) (is) his reward, عِندَ কাছে with, رَبِّهِۦ তার রবের his Lord, وَلَا এবং না (আছে) And no, خَوْفٌ কোনো ভয় fear, عَلَيْهِمْ তাদের জন্য (will be) on them, وَلَا আর না and not, هُمْ তারা they, يَحْزَنُونَ চিন্তা করবে (will) grieve )

 

(113) وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَى عَلَىَ شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَى لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَى شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ لاَ يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ فَاللّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُواْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ ইহুদীরা বলে, খ্রীস্টানরা কোন ভিত্তির উপরেই নয় এবং খ্রীস্টানরা বলে, ইহুদীরা কোন ভিত্তির উপরেই নয়। অথচ ওরা সবাই কিতাব পাঠ করে! এমনিভাবে যারা মূর্খ, তারাও ওদের মতই উক্তি করে। অতএব, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তাদের মধ্যে ফয়সালা দেবেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছিল। The Jews say: “The Christians have naught (to stand) upon; and the Christians say: “The Jews have naught (To stand) upon.” Yet they (Profess to) study the (same) Book. Like unto their word is what those say who know not; but Allah will judge between them in their quarrel on the Day of Judgment.

( وَقَالَتِ এবং বলে And said, ٱلْيَهُودُ ইহূদীরা the Jews, لَيْسَتِ ‘নেই “Not, ٱلنَّصَٰرَىٰ খ্রিষ্টানরা the Christians, عَلَىٰ উপর (are) on, شَىْءٍ কোন কিছুর (প্রতিষ্ঠিত)” anything”, وَقَالَتِ এবং বলে and said, ٱلنَّصَٰرَىٰ খ্রিষ্টানরা the Christians, لَيْسَتِ ‘নেই “Not, ٱلْيَهُودُ ইহুদীরা the Jews, عَلَىٰ উপর (are) on, شَىْءٍ কোন কিছুর (প্রতিষ্ঠিত)” anything”, وَهُمْ অথচ তারা although they, يَتْلُونَ তিলাওয়াত করে recite, ٱلْكِتَٰبَ কিতাব the Book, كَذَٰلِكَ এভাবে Like that, قَالَ (তারাও) বলে said, ٱلَّذِينَ যারা those who, لَا না (do) not, يَعْلَمُونَ জানে (প্রকৃত সত্য) know, مِثْلَ মতো similar, قَوْلِهِمْ তাদের কথার their saying, فَٱللَّهُ অতএব আল্লাহ্‌ [So] Allah, يَحْكُمُ মীমাংসা করবেন will judge, بَيْنَهُمْ তাদের মাঝে between them, يَوْمَ দিনে (on the) Day, ٱلْقِيَٰمَةِ কিয়ামাতের (of) Resurrection, فِيمَا সে বিষয়ে যা in what, كَانُوا۟ তারা ছিল they were, فِيهِ সে ব্যাপারে [in it], يَخْتَلِفُونَ তারা মতবিরোধ করত differing )

 

(114) وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَى فِي خَرَابِهَا أُوْلَـئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلاَّ خَآئِفِينَ لهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ যে ব্যাক্তি আল্লাহর মসজিদসমূহে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে বাধা দেয় এবং সেগুলোকে উজাড় করতে চেষ্টা করে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে? এদের পক্ষে মসজিদসমূহে প্রবেশ করা বিধেয় নয়, অবশ্য ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায়। ওদের জন্য ইহকালে লাঞ্ছনা এবং পরকালে কঠিন শাস্তি রয়েছে। And who is more unjust than he who forbids that in places for the worship of Allah, Allah.s name should be celebrated?-whose zeal is (in fact) to ruin them? It was not fitting that such should themselves enter them except in fear. For them there is nothing but disgrace in this world, and in the world to come, an exceeding torment.

( وَمَنْ এবং কে (আছে) And who, أَظْلَمُ বড় সীমালঙ্ঘনকারী (is) more unjust, مِمَّن তার চেয়ে যে than (one) who, مَّنَعَ বাধা দেয় prevents, مَسَٰجِدَ মাসজিদে (the) masajid, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, أَن যে to, يُذْكَرَ স্মরণ করা be mentioned, فِيهَا তার মধ্যে in them, ٱسْمُهُۥ তার নাম His name, وَسَعَىٰ এবং সে চেষ্টা করে and strives, فِى ব্যাপারে for, خَرَابِهَآ তার ধ্বংসের their destruction?, أُو۟لَٰٓئِكَ ঐসব লোক Those!, مَا নয় Not, كَانَ (সঙ্গত) ছিল it is, لَهُمْ তাদের জন্য for them, أَن যে that, يَدْخُلُوهَآ তাতে প্রবেশ করবে they enter them, إِلَّا এছাড়া যে except, خَآئِفِينَ ভীত হয়ে (like) those in fear, لَهُمْ তাদের জন্য(রয়েছে) For them, فِى মধ্যে in, ٱلدُّنْيَا পৃথিবীর the world, خِزْىٌ লাঞ্ছনা (is) disgrace, وَلَهُمْ ও তাদের জন্য(রয়েছে) and for them, فِى মধ্যে in, ٱلْءَاخِرَةِ আখিরাতের the Hereafter, عَذَابٌ শাস্তি (is) a punishment, عَظِيمٌ কঠিন great )

 

(115) وَلِلّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ فَأَيْنَمَا تُوَلُّواْ فَثَمَّ وَجْهُ اللّهِ إِنَّ اللّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লারই। অতএব, তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও, সেদিকেই আল্লাহ বিরাজমান। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বব্যাপী, সর্বজ্ঞ। To Allah belong the east and the West: Whithersoever ye turn, there is the presence of Allah. For Allah is all-Pervading, all-Knowing.

( وَلِلَّهِ এবং আল্লাহরই জন্যে And for Allah, ٱلْمَشْرِقُ পূর্ব (is) the east, وَٱلْمَغْرِبُ ও পশ্চিম and the west, فَأَيْنَمَا অতএব যে দিকেই so wherever, تُوَلُّوا۟ মুখ ফিরাও তোমরা you turn, فَثَمَّ অতঃপর সেখানেই [so] there, وَجْهُ দিক (is the) face, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ Allah, وَٰسِعٌ সর্বব্যাপী (is) All-Encompassing, عَلِيمٌ সবকিছু জানেন All-Knowing )

 

(116) وَقَالُواْ اتَّخَذَ اللّهُ وَلَدًا سُبْحَانَهُ بَل لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি তো এসব কিছু থেকে পবিত্র, বরং নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সবই তার আজ্ঞাধীন। They say: “(Allah) hath begotten a son” :Glory be to Him.-Nay, to Him belongs all that is in the heavens and on earth: everything renders worship to Him.

( وَقَالُوا۟ এবং তারা বলে And they said, ٱتَّخَذَ ‘গ্রহণ করেছেন “has taken, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, وَلَدًا সন্তান” a son”, سُبْحَٰنَهُۥ তিনি পবিত্র Glory be to Him!, بَل বরং Nay, لَّهُۥ (রয়েছে) তাঁর জন্যে for Him, مَا যা কিছু (আছে) (is) what, فِى মধ্যে (is) in, ٱلسَّمَٰوَٰتِ আকাশ সমূহের the heavens, وَٱلْأَرْضِ ও পৃথিবীর and the earth, كُلٌّ সবকিছুই All, لَّهُۥ তাঁরই জন্য to Him, قَٰنِتُونَ অনুগত (are) humbly obedient )

 

(117) بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَإِذَا قَضَى أَمْراً فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের উদ্ভাবক। যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদনের সিন্ধান্ত নেন, তখন সেটিকে একথাই বলেন, ‘হয়ে যাও’ তৎক্ষণাৎ তা হয়ে যায়। To Him is due the primal origin of the heavens and the earth: When He decreeth a matter, He saith to it: “Be,” and it is.

( بَدِيعُ (তিনি) স্রষ্টা (The) Originator, ٱلسَّمَٰوَٰتِ আকাশ সমূহের (of) the heavens, وَٱلْأَرْضِ ও পৃথিবীর and the earth!, وَإِذَا এবং যখন And when, قَضَىٰٓ সিদ্ধান্ত করেন He decrees, أَمْرًا কোনো কাজ (করার) a matter, فَإِنَّمَا শুধুমাত্র [so] only, يَقُولُ বলেন He says, لَهُۥ তার to it, كُن ‘হও” “Be”, فَيَكُونُ তখনই তা হয়ে যায় and it becomes )

 

(118) وَقَالَ الَّذِينَ لاَ يَعْلَمُونَ لَوْلاَ يُكَلِّمُنَا اللّهُ أَوْ تَأْتِينَا آيَةٌ كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّثْلَ قَوْلِهِمْ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ قَدْ بَيَّنَّا الآيَاتِ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ যারা কিছু জানে না, তারা বলে, আল্লাহ আমাদের সঙ্গে কেন কথা বলেন না? অথবা আমাদের কাছে কোন নিদর্শন কেন আসে না? এমনি ভাবে তাদের পূর্বে যারা ছিল তারাও তাদেরই অনুরূপ কথা বলেছে। তাদের অন্তর একই রকম। নিশ্চয় আমি উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি তাদের জন্যে যারা প্রত্যয়শীল। Say those without knowledge: “Why speaketh not Allah unto us? or why cometh not unto us a Sign?” So said the people before them words of similar import. Their hearts are alike. We have indeed made clear the Signs unto any people who hold firmly to Faith (in their hearts).

( وَقَالَ এবং বলে And said, ٱلَّذِينَ যারা those who, لَا না (do) not, يَعْلَمُونَ জানে know, لَوْلَا ‘কেন না “Why not, يُكَلِّمُنَا আমাদের সাথে কথা বলেন speaks to us, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah, أَوْ অথবা or, تَأْتِينَآ আমাদের কাছে আসে (না) comes to us, ءَايَةٌ কোনো নিদর্শন” a sign?”, كَذَٰلِكَ এভাবে Like that, قَالَ বলেছিল said, ٱلَّذِينَ যারা (ছিল) those, مِن (থেকে) from, قَبْلِهِم তাদের পূর্বে before them, مِّثْلَ অনূরূপ similar, قَوْلِهِمْ তাদের কথার their saying, تَشَٰبَهَتْ সদৃশ হয়েছে Became alike, قُلُوبُهُمْ তাদের অন্তরসমুহ their hearts, قَدْ নিশ্চয়ই Indeed, بَيَّنَّا বর্ণনা করেছি আমরা We have made clear, ٱلْءَايَٰتِ নিদর্শন সমূহ the signs, لِقَوْمٍ (সেই) সম্প্রদায়ের জন্য for people, يُوقِنُونَ (যারা) বিশ্বাস করে (who) firmly believe )

 

(119)  إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا وَلاَ تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ নিশ্চয় আমি আপনাকে সত্যধর্মসহ সুসংবাদদাতা ও ভীতি প্রদর্শনকারীরূপে পাঠিয়েছি। আপনি দোযখবাসীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না। Verily We have sent thee in truth as a bearer of glad tidings and a warner: But of thee no question shall be asked of the Companions of the Blazing Fire.

( إِنَّآ নিশ্চয়ই আমরা Indeed We!, أَرْسَلْنَٰكَ তোমাকে পাঠিয়েছি [We] have sent you, بِٱلْحَقِّ সত্য দিয়ে with the truth, بَشِيرًا সুসংবাদদাতা (as) a bearer of good news, وَنَذِيرًا ও সতর্ককারী হিসাবে and (as) a warner, وَلَا এবং না And not, تُسْـَٔلُ তোমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে you will be asked, عَنْ সম্পর্কে about, أَصْحَٰبِ আধিবাসীদের (the) companions, ٱلْجَحِيمِ জাহান্নামের (of) the blazing Fire )

 

(120)  وَلَن تَرْضَى عَنكَ الْيَهُودُ وَلاَ النَّصَارَى حَتَّى تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ قُلْ إِنَّ هُدَى اللّهِ هُوَ الْهُدَى وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءهُم بَعْدَ الَّذِي جَاءكَ مِنَ الْعِلْمِ مَا لَكَ مِنَ اللّهِ مِن وَلِيٍّ وَلاَ نَصِيرٍ ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই। Never will the Jews or the Christians be satisfied with thee unless thou follow their form of religion. Say: “The Guidance of Allah,-that is the (only) Guidance.” Wert thou to follow their desires after the knowledge which hathreached thee, then wouldst thou find neither Protector nor helper against Allah.

( وَلَن এবং কখনও না And never, تَرْضَىٰ খুশি হবে will be pleased, عَنكَ তোমার প্রতি with you, ٱلْيَهُودُ ইহূদীরা the Jews, وَلَا আর না and [not], ٱلنَّصَٰرَىٰ খ্রিষ্টানরা the Christians, حَتَّىٰ যতক্ষণ না until, تَتَّبِعَ তুমি অনুসরণ করবে you follow, مِلَّتَهُمْ তাদের ধর্মাদর্শ their religion, قُلْ বলো Say, إِنَّ ‘নিশ্চয়ই “Indeed, هُدَى পথ নির্দেশনা (the) Guidance, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, هُوَ সেটাই it, ٱلْهُدَىٰ সঠিক পথনির্দেশনা” (is) the Guidance”, وَلَئِنِ এবং অবশ্যই যদি And if, ٱتَّبَعْتَ তুমি অনুসরণ কর you follow, أَهْوَآءَهُم তাদের খেয়ালখুশির their desires, بَعْدَ পরেও after, ٱلَّذِى যা what, جَآءَكَ তোমার কাছে এসেছে has come to you, مِنَ থেকে of, ٱلْعِلْمِ (সঠিক) জ্ঞান the knowledge, مَا না not, لَكَ তোমার জন্য (পাবে) for you, مِنَ হতে from, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌ (বাঁচাতে) Allah, مِن কোনো any, وَلِىٍّ বন্ধু protector, وَلَا আর না and not, نَصِيرٍ কোনো সাহায্যকারী any helper )

 

(121) الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلاَوَتِهِ أُوْلَـئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَمن يَكْفُرْ بِهِ فَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ আমি যাদেরকে গ্রন্থ দান করেছি, তারা তা যথাযথভাবে পাঠ করে। তারাই তৎপ্রতি বিশ্বাস করে। আর যারা তা অবিশ্বাস করে, তারাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত। Those to whom We have sent the Book study it as it should be studied: They are the ones that believe therein: Those who reject faith therein,- the loss is their own.

( ٱلَّذِينَ যারা Those, ءَاتَيْنَٰهُمُ তাদের আমরা দিয়েছি We have given them, ٱلْكِتَٰبَ কিতাব the Book, يَتْلُونَهُۥ তা তারা তিলাওয়াত recite it, حَقَّ যথোপযুক্ত (as it has the) right, تِلَاوَتِهِۦٓ তার তিলাওয়াত (of) its recitation, أُو۟لَٰٓئِكَ তারাই Those (people), يُؤْمِنُونَ ঈমান আনে believe, بِهِۦ এর উপর in it, وَمَن এবং যে And whoever, يَكْفُرْ অস্বীকার করে disbelieves, بِهِۦ তার প্রতি in it, فَأُو۟لَٰٓئِكَ ঐসব (লোক) মূলত then those, هُمُ তারাই they,  ٱلْخَٰسِرُونَ ক্ষতিগ্রস্থ (are) the losers )

 

(122) يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُواْ نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ হে বনী-ইসরাঈল! আমার অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর, যা আমি তোমাদের দিয়েছি। আমি তোমাদেরকে বিশ্বাবাসীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। O Children of Israel! call to mind the special favour which I bestowed upon you, and that I preferred you to all others (for My Message.

( يَٰبَنِىٓ হে বনী O Children, إِسْرَٰٓءِيلَ ইসরাঈল (of) Israel!, ٱذْكُرُوا۟ তোমরা স্মরণ করো Remember, نِعْمَتِىَ আমার অনুগ্রহের(কথা) My Favor, ٱلَّتِىٓ যা which, أَنْعَمْتُ আমি অনুগ্রহ দিয়েছি I bestowed, عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর upon you, وَأَنِّى ও আমি নিশ্চয়ই and that I, فَضَّلْتُكُمْ তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি [I] preferred you, عَلَى উপর over, ٱلْعَٰلَمِينَ সারা বিশ্বের the worlds )

 

(123) وَاتَّقُواْ يَوْماً لاَّ تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئاً وَلاَ يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلاَ تَنفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَلاَ هُمْ يُنصَرُونَ তোমরা ভয় কর সেদিনকে, যে দিন এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তি বিন্দুমাত্র উপকৃত হবে না, কারও কাছ থেকে বিনিময় গৃহীত হবে না, কার ও সুপারিশ ফলপ্রদ হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত ও হবে না। Then guard yourselves against a-Day when one soul shall not avail another, nor shall compensation be accepted from her nor shall intercession profit her nor shall anyone be helped (from outside).

( وَٱتَّقُوا۟ এবং তোমরা ভয় করো And fear, يَوْمًا সেদিনের a day, لَّا না not, تَجْزِى কাজে আসবে will avail, نَفْسٌ কোনো ব্যক্তি a soul, عَن জন্য (of), نَّفْسٍ কোনো ব্যক্তির (another) soul, شَيْـًٔا কিছুমাত্রও anything, وَلَا এবং না and not, يُقْبَلُ গ্রহণ করা হবে will be accepted, مِنْهَا তার থেকে from it, عَدْلٌ কোনো বিনিময় any compensation, وَلَا এবং না and not, تَنفَعُهَا তাকে উপকার দেবে will benefit it, شَفَٰعَةٌ কোনো সুপারিশ any intercession, وَلَا এবং না and not, هُمْ তারা they, يُنصَرُونَ সাহায্যপ্রাপ্ত হবে will be helped )

 

(124) وَإِذِ ابْتَلَى إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِي قَالَ لاَ يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ যখন ইব্রাহীমকে তাঁর পালনকর্তা কয়েকটি বিষয়ে পরীক্ষা করলেন, অতঃপর তিনি তা পূর্ণ করে দিলেন, তখন পালনকর্তা বললেন, আমি তোমাকে মানবজাতির নেতা করব। তিনি বললেন, আমার বংশধর থেকেও! তিনি বললেন আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের পর্যন্ত পৌঁছাবে না। And remember that Abraham was tried by his Lord with certain commands, which he fulfilled: He said: “I will make thee an Imam to the Nations.” He pleaded: “And also (Imams) from my offspring!” He answered: “But My Promise is not within the reach of evil-doers.”

( وَإِذِ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, ٱبْتَلَىٰٓ পরীক্ষা করেছিলেন tried, إِبْرَٰهِۦمَ ইবরাহীমকে Ibrahim, رَبُّهُۥ তার রব his Lord, بِكَلِمَٰتٍ কয়েকটা কথা দ্বারা with words, فَأَتَمَّهُنَّ সে অতঃপর সেগুলো পূর্ণ করল and he fulfilled them, قَالَ (আল্লাহ্‌) বললেন He said, إِنِّى ‘নিশ্চয়ই আমি “Indeed I, جَاعِلُكَ তোমাকে নিয়োগ করব (am) the One to make you, لِلنَّاسِ মানুষের জন্য for the mankind, إِمَامًا নেতা হিসাবে” a leader”, قَالَ সে বলল He said, وَمِن ‘এবং থেকেও “And from, ذُرِّيَّتِى আমার বংশধরদের” my offspring?”, قَالَ (আল্লাহ্‌) বললেন He said, لَا ‘না “(Does) not, يَنَالُ প্রযোজ্য হবে reach, عَهْدِى আমার প্রতিশ্রুতি My Covenant, ٱلظَّٰلِمِينَ সীমালঙ্ঘনকারীদের (জন্য)” (to) the wrongdoers” )

 

(125) وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْناً وَاتَّخِذُواْ مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى وَعَهِدْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ যখন আমি কা’বা গৃহকে মানুষের জন্যে সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, আর তোমরা ইব্রাহীমের দাঁড়ানোর জায়গাকে নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার গৃহকে তওয়াফকারী, অবস্থানকারী ও রুকু-সেজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখ।Remember We made the House a place of assembly for men and a place of safety; and take ye the station of Abraham as a place of prayer; and We covenanted with Abraham and Isma’il, that they should sanctify My House for those who compass it round, or use it as a retreat, or bow, or prostrate themselves (therein in prayer).

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, جَعَلْنَا আমরা নির্দিষ্ট করেছলাম We made, ٱلْبَيْتَ (কাবা) ঘরকে the House, مَثَابَةً মিলনকেন্দ্র a place of return, لِّلنَّاسِ মানুষের জন্যে for mankind, وَأَمْنًا ও শাস্তির (জায়গা হিসেবে) and (a place of) security, وَٱتَّخِذُوا۟ এবং (নির্দেশ দিলাম) তোমরা গ্রহণ করো and (said) Take, مِن থেকে [from], مَّقَامِ দাঁড়ানোর জায়গাকে (the) standing place, إِبْرَٰهِۦمَ ইবরাহিমের (of) Ibrahim, مُصَلًّى সলাতের জায়গা হিসেবে” (as) a place of prayer”, وَعَهِدْنَآ এবং আমরা আদেশ করেছিলাম And We made a covenant, إِلَىٰٓ প্রতি with, إِبْرَٰهِۦمَ ইবরাহীমের Ibrahim, وَإِسْمَٰعِيلَ ও ইসমাঈলের (প্রতি) and Ismail, أَن যে [that], طَهِّرَا ‘পবিত্র রাখো(উভয়ে) “[You both] purify, بَيْتِىَ আমার ঘরকে My House, لِلطَّآئِفِينَ তওয়াফকারীদের জন্য for those who circumambulate, وَٱلْعَٰكِفِينَ ও ইতিকাফকারীদের and those who seclude themselves for devotion and prayer, وَٱلرُّكَّعِ ও রুকুকারীদের and those who bow down, ٱلسُّجُودِ সিজদাকারীদের (জন্য) and those who prostrate )

 

(126) وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـَذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلاً ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَى عَذَابِ النَّارِ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ যখন ইব্রাহীম বললেন, পরওয়ারদেগার! এ স্থানকে তুমি শান্তিধান কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা অল্লাহ ও কিয়ামতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে ফলের দ্বারা রিযিক দান কর। বললেনঃ যারা অবিশ্বাস করে, আমি তাদেরও কিছুদিন ফায়দা ভোগ করার সুযোগ দেব, অতঃপর তাদেরকে বলপ্রয়োগে দোযখের আযাবে ঠেলে দেবো; সেটা নিকৃষ্ট বাসস্থান। And remember Abraham said: “My Lord, make this a City of Peace, and feed its people with fruits,-such of them as believe in Allah and the Last Day.” He said: “(Yea), and such as reject Faith,-for a while will I grant them their pleasure, but will soon drive them to the torment of Fire,- an evil destination (indeed)!”

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, قَالَ বলেছিল said, إِبْرَٰهِۦمُ ইবরাহীম Ibrahim, رَبِّ ‘হে আমার রব “My Lord, ٱجْعَلْ বানাও make, هَٰذَا এই this, بَلَدًا নগরকে a city, ءَامِنًا নিরাপদ secure, وَٱرْزُقْ ও জীবিকা দাও and provide, أَهْلَهُۥ তার অধিবাসীদের its people, مِنَ থেকে with, ٱلثَّمَرَٰتِ (সব রকমের) ফলমূল fruits, مَنْ যে কেউ (to) whoever, ءَامَنَ ঈমান আনবে believed, مِنْهُم তাদের মধ্য থেকে from them, بِٱللَّهِ আল্লাহ্‌র উপরই in Allah, وَٱلْيَوْمِ ও দিনে and the Day, ٱلْءَاخِرِ আখিরাতের” the Last”, قَالَ (আল্লাহ্‌) বললেন He said, وَمَن ‘আর যে কেউ “And whoever, كَفَرَ অবিশ্বাস করবে disbelieved, فَأُمَتِّعُهُۥ তাকেও উপভোগ করাব [then] I will grant him enjoyment, قَلِيلًا কিছুদিন পর্যন্ত a little;, ثُمَّ এরপর then, أَضْطَرُّهُۥٓ তাকে আমি বাধ্য করব I will force him, إِلَىٰ দিকে to, عَذَابِ শাস্তির (the) punishment, ٱلنَّارِ আগুনের (of) the Fire, وَبِئْسَ এবং (তা) অতি নিকৃষ্ট and evil, ٱلْمَصِيرُ স্থান (is) the destination )

 

(127) وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ স্মরণ কর, যখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল কা’বাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দোয়া করেছিলঃ পরওয়ারদেগার! আমাদের থেকে কবুল কর। নিশ্চয়ই তুমি শ্রবণকারী, সর্বজ্ঞ। And remember Abraham and Isma’il raised the foundations of the House (With this prayer): “Our Lord! Accept (this service) from us: For Thou art the All-Hearing, the All-knowing.

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, يَرْفَعُ উঠায় (was) raising, إِبْرَٰهِۦمُ ইবরাহীম Ibrahim, ٱلْقَوَاعِدَ প্রাচীর বা ভিত্তি the foundations, مِنَ এর of, ٱلْبَيْتِ (কাবা) ঘর the House, وَإِسْمَٰعِيلُ ও ইসমাঈল and Ishmael, رَبَّنَا (তারা বলেছিল) হে আমাদের রব (saying), “Our Lord!, تَقَبَّلْ প্রহন করো Accept, مِنَّآ আমাদের থেকে (এ কাজ) from us, إِنَّكَ তুমি নিশ্চয়ই Indeed You!, أَنتَ তুমিই [You] (are), ٱلسَّمِيعُ শ্রবণকারী the All-Hearing, ٱلْعَلِيمُ সবকিছু জ্ঞাত the All-Knowing)

 

(128) رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَآ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ পরওয়ারদেগার! আমাদের উভয়কে তোমার আজ্ঞাবহ কর এবং আমাদের বংশধর থেকেও একটি অনুগত দল সৃষ্টি কর, আমাদের হজ্বের রীতিনীতি বলে দাও এবং আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি তওবা কবুলকারী। দয়ালু। “Our Lord! make of us Muslims, bowing to Thy (Will), and of our progeny a people Muslim, bowing to Thy (will); and show us our place for the celebration of (due) rites; and turn unto us (in Mercy); for Thou art the Oft-Returning, Most Merciful.

( رَبَّنَا হে আমাদের রব Our Lord!, وَٱجْعَلْنَا এবং আমাদেরকে বানাও [and] Make us, مُسْلِمَيْنِ উভয়কে অনুগত both submissive, لَكَ তোমারই জন্য to You, وَمِن এবং মধ্যে হতেও And from, ذُرِّيَّتِنَآ আমাদের বংশধরদের our offspring, أُمَّةً একটি জাতি (বানাও) a community, مُّسْلِمَةً অনুগত submissive, لَّكَ তোমারই to You, وَأَرِنَا এবং আমাদেরকে দেখাও And show us, مَنَاسِكَنَا আমাদের ইবাদাতের নিয়মপদ্ধতি our ways of worship, وَتُبْ এবং ক্ষমাশীল হও and turn, عَلَيْنَآ আমাদের উপর to us, إِنَّكَ নিশ্চয়ই তুমি Indeed You!, أَنتَ তুমিই [You] (are), ٱلتَّوَّابُ ক্ষমাশীল the Oft-returning, ٱلرَّحِيمُ পরমদয়ালু the Most Merciful )

 

(129) رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولاً مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ إِنَّكَ أَنتَ العَزِيزُ الحَكِيمُ হে পরওয়ারদেগার! তাদের মধ্যে থেকেই তাদের নিকট একজন পয়গম্বর প্রেরণ করুণ যিনি তাদের কাছে তোমার আয়াতসমূহ তেলাওয়াত করবেন, তাদেরকে কিতাব ও হেকমত শিক্ষা দিবেন। এবং তাদের পবিত্র করবেন। নিশ্চয় তুমিই পরাক্রমশালী হেকমতওয়ালা। “Our Lord! send amongst them an Messenger of their own, who shall rehearse Thy Signs to them and instruct them in scripture and wisdom, and sanctify them: For Thou art the Exalted in Might, the Wise.”

( رَبَّنَا হে আমাদের রব Our Lord!, وَٱبْعَثْ এবং পাঠাও [And] raise up, فِيهِمْ তাদের মাঝে in them, رَسُولًا একজন রাসূল a Messenger, مِّنْهُمْ তাদের মধ্য হতে from them, يَتْلُوا۟ সে তিলাওাত করবে (who) will recite, عَلَيْهِمْ তাদের কাছে to them, ءَايَٰتِكَ তোমার আয়াতগুলোকে Your Verses, وَيُعَلِّمُهُمُ এবং তাদের সে শিখাবে and will teach them, ٱلْكِتَٰبَ কিতাব the Book, وَٱلْحِكْمَةَ ও প্রজ্ঞা and the wisdom, وَيُزَكِّيهِمْ ও তাদের পরিশুদ্ধ করবে and purify them, إِنَّكَ তুমি নিশ্চয়ই Indeed You!, أَنتَ তুমিই You (are), ٱلْعَزِيزُ পরাক্রমশালী the All-Mighty, ٱلْحَكِيمُ মহাবিজ্ঞ” the All-Wise” )

 

(130) وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلاَّ مَن سَفِهَ نَفْسَهُ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا وَإِنَّهُ فِي الآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ ইব্রাহীমের ধর্ম থেকে কে মুখ ফেরায়? কিন্তু সে ব্যক্তি, যে নিজেকে বোকা প্রতিপন্ন করে। নিশ্চয়ই আমি তাকে পৃথিবীতে মনোনীত করেছি এবং সে পরকালে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত। And who turns away from the religion of Abraham but such as debase their souls with folly? Him We chose and rendered pure in this world: And he will be in the Hereafter in the ranks of the Righteous.

( وَمَن আর কে And who, يَرْغَبُ মুখ ফেরাবে will turn away, عَن হতে from, مِّلَّةِ দীন (the) religion, إِبْرَٰهِۦمَ ইবরাহীমের (of) Ibrahim, إِلَّا এছাড়া except, مَن যে who, سَفِهَ নির্বোধ বানিয়েছে fooled, نَفْسَهُۥ তার নিজেকে himself?, وَلَقَدِ এবং নিশ্চয়ই And indeed, ٱصْطَفَيْنَٰهُ তাকে আমরা মনোনীত করেছি We chose him, فِى মধ্যে in, ٱلدُّنْيَا পৃথিবীর the world, وَإِنَّهُۥ এবং সে নিশ্চয়ই(হবে) and indeed he, فِى মধ্যে in, ٱلْءَاخِرَةِ আখিরাতের” the Hereafter, لَمِنَ অন্তর্ভুক্ত অবশ্যই surely (will be) among, ٱلصَّٰلِحِينَ সৎলোকদের the righteous )

 

(131) إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ স্মরণ কর, যখন তাকে তার পালনকর্তা বললেনঃ অনুগত হও। সে বললঃ আমি বিশ্বপালকের অনুগত হলাম। Behold! his Lord said to him: “Bow (thy will to Me):” He said: “I bow (my will) to the Lord and Cherisher of the Universe.”

( إِذْ (সে ছিল এমন যে) যখন When, قَالَ বলেছিলেন said, لَهُۥ তার to him, رَبُّهُۥٓ তার রব his Lord, أَسْلِمْ ‘তুমি আত্মসমর্পণ করো” “Submit (yourself)”, قَالَ সে বলেছিল he said, أَسْلَمْتُ ‘আমি আত্মসমর্পণ করলাম “I (have) submitted (myself), لِرَبِّ রবের কাছে to (the) Lord, ٱلْعَٰلَمِينَ জগতের” (of) the worlds” )

 

(132) وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلاَ تَمُوتُنَّ إَلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ এরই ওছিয়ত করেছে ইব্রাহীম তার সন্তানদের এবং ইয়াকুবও যে, হে আমার সন্তানগণ, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ ধর্মকে মনোনীত করেছেন। কাজেই তোমরা মুসলমান না হয়ে কখনও মৃত্যুবরণ করো না। And this was the legacy that Abraham left to his sons, and so did Jacob; “Oh my sons! Allah hath chosen the Faith for you; then die not except in the Faith of Islam.”

( وَوَصَّىٰ এবং জোর নির্দেশ দিয়েছিল And enjoined, بِهَآ এ সম্বন্ধে [it], إِبْرَٰهِۦمُ ইবরাহীম Ibrahim, بَنِيهِ তার সন্তানদেরকে (upon) his sons, وَيَعْقُوبُ এবং ইয়াকুবও and Yaqub, يَٰبَنِىَّ ‘(সে বলেছিল) হে আমার সন্তানেরা “O my sons!, إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱللَّهَ আল্লাহ্‌ Allah, ٱصْطَفَىٰ মনোনীত করেছেন has chosen, لَكُمُ তোমাদের জন্য for you, ٱلدِّينَ (এই) দীনকে the religion, فَلَا না অতএব so not, تَمُوتُنَّ তোমরা মৃত্যুবরণ করো (should) you die, إِلَّا এছাড়া except, وَأَنتُم তোমরা যখন while you, مُّسْلِمُونَ আত্মসমর্পণকারী হবে” (are) submissive” )

 

(133) أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاء إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِن بَعْدِي قَالُواْ نَعْبُدُ إِلَـهَكَ وَإِلَـهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ إِلَـهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ তোমরা কি উপস্থিত ছিলে, যখন ইয়াকুবের মৃত্যু নিকটবর্তী হয়? যখন সে সন্তানদের বললঃ আমার পর তোমরা কার এবাদত করবে? তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য। Were ye witnesses when death appeared before Jacob? Behold, he said to his sons: “What will ye worship after me?” They said: “We shall worship Thy Allah and the Allah of thy fathers, of Abraham, Isma’il and Isaac,- the one (True) Allah. To Him we bow (in Islam).”

( أَمْ অথবা (কি) Or, كُنتُمْ তোমরা ছিলে were you, شُهَدَآءَ উপস্থিত witnesses, إِذْ যখন when, حَضَرَ উপস্থিত হয়েছিল came to, يَعْقُوبَ ইয়াকুবের Yaqub, ٱلْمَوْتُ মৃত্যু [the] death, إِذْ যখন when, قَالَ সে বলেছিল he said, لِبَنِيهِ তার পুত্রদের উদ্দেশ্য to his sons, مَا ‘কার “What, تَعْبُدُونَ তোমরা উপাসনা করবে will you worship, مِنۢ থেকে from, بَعْدِى আমার পর” after me?”, قَالُوا۟ তারা বলেছিল They said, نَعْبُدُ ‘ইবাদাত করব আমরা “We will worship, إِلَٰهَكَ তোমার ইলাহকে your God, وَإِلَٰهَ এবং ইলাহ and (the) God, ءَابَآئِكَ তোমার পূর্ব পুরুষের (of) your forefathers, إِبْرَٰهِۦمَ (অর্থাৎ) ইবরাহীমের Ibrahim, وَإِسْمَٰعِيلَ ও ইসমাঈলের and Ismail, وَإِسْحَٰقَ ও ইসহাকের (ইলাহকে) and Ishaq, إِلَٰهًا (যিনি) ইলাহ God, وَٰحِدًا একই One, وَنَحْنُ এবং আমরা And we, لَهُۥ তাঁরই কাছে to Him, مُسْلِمُونَ আত্মসমর্পণকারী” (are) submissive” )

 

(134) تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ وَلاَ تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ আমরা সবাই তাঁর আজ্ঞাবহ। তারা ছিল এক সম্প্রদায়-যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদেরই জন্যে। তারা কি করত, সে সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না। That was a people that hath passed away. They shall reap the fruit of what they did, and ye of what ye do! Of their merits there is no question in your case!

( تِلْكَ সেই This, أُمَّةٌ জাতি (was) a community, قَدْ নিশ্চয়ই (which), خَلَتْ গত হয়েছে has passed away, لَهَا তার জন্য(আছে) for it, مَا যা what, كَسَبَتْ সে অর্জন করেছে it earned, وَلَكُم আর তোমাদের জন্য(আছে) and for you, مَّا যা what, كَسَبْتُمْ তোমরা অর্জন করেছ you earned, وَلَا এবং না And not, تُسْـَٔلُونَ তোমাদের প্রশ্ন করা হবে you will be asked, عَمَّا সে সম্পর্কে যা about what, كَانُوا۟ তারা ছিল they used to, يَعْمَلُونَ তারা কাজ করছিল do )

 

(135) وَقَالُواْ كُونُواْ هُودًا أَوْ نَصَارَى تَهْتَدُواْ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ তারা বলে, তোমরা ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান হয়ে যাও, তবেই সুপথ পাবে। আপনি বলুন, কখনই নয়; বরং আমরা ইব্রাহীমের ধর্মে আছি যাতে বক্রতা নেই। সে মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। They say: “Become Jews or Christians if ye would be guided (To salvation).” Say thou: “Nay! (I would rather) the Religion of Abraham the True, and he joined not gods with Allah.

( وَقَالُوا۟ এবং তারা বলে And they said, كُونُوا۟ ‘তোমরা হও “Be, هُودًا ইহুদী Jews, أَوْ অথবা or, نَصَٰرَىٰ খ্রিষ্টান Christians, تَهْتَدُوا۟ তোমরা সঠিক পথ পাবে” (then) you will be guided”, قُلْ বলো Say, بَلْ ‘(না তা নয়) বরং “Nay, مِلَّةَ (গ্রহণ কর) দীনকে (the) religion, إِبْرَٰهِۦمَ ইবরাহীমের (of) Ibrahim, حَنِيفًا একনিষ্ঠভাবে (the) upright;, وَمَا এবং না and not, كَانَ সেছিল he was, مِنَ অন্তর্ভুক্ত of, ٱلْمُشْرِكِينَ মুশরিকদের” those who associated partners (with Allah)” )

 

(136) قُولُواْ آمَنَّا بِاللّهِ وَمَآ أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالأسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ তোমরা বল, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর উপর এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে আমাদের প্রতি এবং যা অবতীর্ণ হয়েছে ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তদীয় বংশধরের প্রতি এবং মূসা, ঈসা, অন্যান্য নবীকে পালনকর্তার পক্ষ থেকে যা দান করা হয়েছে, তৎসমুদয়ের উপর। আমরা তাদের মধ্যে পার্থক্য করি না। আমরা তাঁরই আনুগত্যকারী। Say ye: “We believe in Allah, and the revelation given to us, and to Abraham, Isma’il, Isaac, Jacob, and the Tribes, and that given to Moses and Jesus, and that given to (all) prophets from their Lord: We make no difference between one and another of them: And we bow to Allah (in Islam).”

( قُولُوٓا۟ (হে মুসলিম) তোমরা বলো Say, ءَامَنَّا ‘আমরা ঈমান এনেছি “We have believed, بِٱللَّهِ আল্লাহ্‌র উপর in Allah, وَمَآ এবং যা and what, أُنزِلَ অবতীর্ণ করা হয়েছে (is) revealed, إِلَيْنَا আমাদের প্রতি to us, وَمَآ এবং যা and what, أُنزِلَ অবতীর্ণ করা হয়েছে was revealed, إِلَىٰٓ প্রতি to, إِبْرَٰهِۦمَ ইবরাহীমের Ibrahim, وَإِسْمَٰعِيلَ ও ইসমাঈলের and Ismail, وَإِسْحَٰقَ ও ইসহাকের and Ishaq, وَيَعْقُوبَ ও ইয়াকুবের and Yaqub, وَٱلْأَسْبَاطِ ও (তাদের) বংশধরদের (উপর) and the descendants, وَمَآ এবং যা and what, أُوتِىَ দেওয়া হয়েছে was given, مُوسَىٰ মূসাকে (to) Musa, وَعِيسَىٰ ও ঈসাকে and Isa, وَمَآ এবং যা and what, أُوتِىَ দেয়া হয়েছে was given, ٱلنَّبِيُّونَ নবীদেরকে (to) the Prophets, مِن পক্ষ হতে from, رَّبِّهِمْ তাদের রবের their Lord, لَا না Not, نُفَرِّقُ আমরা পার্থক্য করি we make distinction, بَيْنَ মাঝে between, أَحَدٍ কারো any, مِّنْهُمْ তাদের মধ্য হতে of them, وَنَحْنُ এবং আমরা And we, لَهُۥ তাঁরই কাছে to Him, مُسْلِمُونَ আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম) হয়েছি” (are) submissive” )

 

(137) فَإِنْ آمَنُواْ بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَواْ وَّإِن تَوَلَّوْاْ فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ অতএব তারা যদি ঈমান আনে, তোমাদের ঈমান আনার মত, তবে তারা সুপথ পাবে। আর যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে তারাই হঠকারিতায় রয়েছে। সুতরাং এখন তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী। So if they believe as ye believe, they are indeed on the right path; but if they turn back, it is they who are in schism; but Allah will suffice thee as against them, and He is the All-Hearing, the All-Knowing.

( فَإِنْ অতএব যদি So if, ءَامَنُوا۟ তারা ঈমান আনে they believe[d], بِمِثْلِ অনুরূপ in (the) like, مَآ যেমন (of) what, ءَامَنتُم তোমরা ঈমান এনেছ you have believed, بِهِۦ তার উপর in [it], فَقَدِ তবে নিশ্চয়ই then indeed, ٱهْتَدَوا۟ তারা সঠিক পথ পাবে they are (rightly) guided, وَّإِن আর যদি But if, تَوَلَّوْا۟ তারা মুখ ফিরায়ে নেয় they turn away, فَإِنَّمَا তবে প্রকৃতপক্ষে then only, هُمْ তারা they, فِى মধ্যে (লিপ্ত) (are) in, شِقَاقٍ বিরোধের dissension, فَسَيَكْفِيكَهُمُ সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে তোমার জন্য যথেষ্ট So will suffice you against them, ٱللَّهُ আল্লাহই Allah, وَهُوَ এবং তিনি and He, ٱلسَّمِيعُ সবকিছু শোনেন (is) the All-Hearing, ٱلْعَلِيمُ সবকিছু জানেন the All-Knowing )

 

(138) صِبْغَةَ اللّهِ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللّهِ صِبْغَةً وَنَحْنُ لَهُ عَابِدونَ আমরা আল্লাহর রং গ্রহণ করেছি। আল্লাহর রং এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে?আমরা তাঁরই এবাদত করি। (Our religion is) the Baptism of Allah. And who can baptize better than Allah. And it is He Whom we worship.

( صِبْغَةَ (গ্রহণ কর) রং (অর্থাৎ দীন) (The) color (religion), ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah!, وَمَنْ এবং কে (আছে) And who, أَحْسَنُ বেশী (is) better, مِنَ চেয়ে than, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah, صِبْغَةً রঙে at coloring?, وَنَحْنُ এবং আমরা And we, لَهُۥ তাঁরই to Him, عَٰبِدُونَ ইবাদাতকারী (are) worshippers )

 

(139) قُلْ أَتُحَآجُّونَنَا فِي اللّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ আপনি বলে দিন, তোমরা কি আমাদের সাথে আল্লাহ সম্পর্কে তর্ক করছ? অথচ তিনিই আমাদের পালনকর্তা এবং তোমাদের ও পালনকর্তা। আমাদের জন্যে আমাদের কর্ম তোমাদের জন্যে তোমাদের কর্ম। এবং আমরা তাঁরই প্রতি একনিষ্ঠ। Say: Will ye dispute with us about Allah, seeing that He is our Lord and your Lord; that we are responsible for our doings and ye for yours; and that We are sincere (in our faith) in Him?

( قُلْ বলো Say, أَتُحَآجُّونَنَا ‘আমাদের সাথে কি তর্ক করছ “Do you argue with us, فِى ব্যাপারে about, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah, وَهُوَ অথচ তিনি while He, رَبُّنَا আমাদের রব (is) our Lord, وَرَبُّكُمْ ও তোমাদের রব and your Lord?, وَلَنَآ এবং আমাদের জন্য And for us, أَعْمَٰلُنَا আমাদের কাজ (are) our deeds, وَلَكُمْ ও তোমাদের জন্য and for you, أَعْمَٰلُكُمْ তোমাদের কাজ (are) your deeds, وَنَحْنُ এবং আমরা and we, لَهُۥ তাঁরই to Him,  مُخْلِصُونَ একনিষ্ঠভাবে (দাসত্বকারী) (are) sincere )

(140) أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَـقَ وَيَعْقُوبَ وَالأسْبَاطَ كَانُواْ هُودًا أَوْ نَصَارَى قُلْ أَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللّهُ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَادَةً عِندَهُ مِنَ اللّهِ وَمَا اللّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ অথবা তোমরা কি বলছ যে, নিশ্চয়ই ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব (আঃ) ও তাদের সন্তানগন ইহুদী অথবা খ্রীষ্টান ছিলেন? আপনি বলে দিন, তোমরা বেশী জান, না আল্লাহ বেশী জানেন? Or do ye say that Abraham, Isma’il Isaac, Jacob and the Tribes were Jews or Christians? Say: Do ye know better than Allah. Ah! who is more unjust than those who conceal the testimony they have from Allah. but Allah is not unmindful of what ye do!

( أَمْ অথবা (কি) Or, تَقُولُونَ তোমরা বল (do) you say, إِنَّ নিশ্চয়ই that, إِبْرَٰهِۦمَ ইবরাহীম Ibrahim, وَإِسْمَٰعِيلَ ও ইসমাঈল and Ismail, وَإِسْحَٰقَ ও ইসহাক and Ishaq, وَيَعْقُوبَ ও ইয়াকুব and Yaqub, وَٱلْأَسْبَاطَ এবং (তাদের) বংশধর and the descendants, كَانُوا۟ তারা ছিল were, هُودًا ইহুদী Jews, أَوْ অথবা or, نَصَٰرَىٰ খ্রিষ্টান” Christians?”, قُلْ বলো Say, ءَأَنتُمْ ‘তোমরা কি “Are you, أَعْلَمُ বেশি জান better knowing, أَمِ অথবা or, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ (বেশি জানেন)” (is) Allah?”, وَمَنْ এবং কে And who, أَظْلَمُ বড় সীমালঙ্ঘনকারী (is) more unjust, مِمَّن তার চেয়ে যে than (the one) who, كَتَمَ গোপন করে concealed, شَهَٰدَةً একটি সাক্ষ্য (বা প্রমাণ) a testimony, عِندَهُۥ (যা আছে) তার কাছে (that) he has, مِنَ পক্ষ হতে from, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র Allah?, وَمَا এবং না And not, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ (is) Allah, بِغَٰفِلٍ উদাসীন unaware, عَمَّا সে সম্পর্কে যা of what, تَعْمَلُونَ তোমরা কাজ করছ you do )

 

(141) تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ وَلاَ تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ তার চাইতে অত্যাচারী কে, যে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার কাছে প্রমাণিত সাক্ষ্যকে গোপন করে? আল্লাহ তোমাদের কর্ম সম্পর্কে বেখবর নন। সে সম্প্রদায় অতীত হয়ে গেছে। তারা যা করেছে, তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা করছ, তা তোমাদের জন্যে। তাদের কর্ম সম্পর্কে তোমাদের জিজ্ঞেস করা হবে না। That was a people that hath passed away. They shall reap the fruit of what they did, and ye of what ye do! Of their merits there is no question in your case:

( تِلْكَ সেই This, أُمَّةٌ জাতি (was) a community, قَدْ নিশ্চয়ই (which), خَلَتْ অতীত হয়েছে তা has passed away, لَهَا তার জন্য(আছে) for it, مَا যা what, كَسَبَتْ সে উপার্জন করেছে it earned, وَلَكُم এবং তোমাদের জন্য and for you, مَّا যা what, كَسَبْتُمْ তোমরা উপার্জন করেছ you have earned, وَلَا এবং না And not, تُسْـَٔلُونَ তোমাদের প্রশ্ন করা হবে you will be asked, عَمَّا সে সম্পর্কে যা about what, كَانُوا۟ তারা ছিল they used to, يَعْمَلُونَ তারা কাজ করতে do )

 

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন।

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

Islami Dawah Center Cover photo

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ )