একটি উটনির সদকা যেভাবে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনল এক মানুষকে! সদকার বরকত ও আল্লাহর ওপর ভরসার এক বিস্ময়কর ঘটনা
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম – Sadakar Borkot
মানুষ যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ থেকে কিছু দান করে, তখন সেই দানের প্রতিদান কীভাবে এবং কখন ফিরে আসবে, তা সে জানে না। কখনো সেই প্রতিদান আসে দুনিয়ার জীবনে, কখনো আসে বিপদের মুহূর্তে, আবার কখনো জমা থাকে আখিরাতের অনন্ত জীবনের জন্য।
আমরা অনেক সময় সম্পদ আঁকড়ে ধরে রাখি। মনে করি, দান করলে সম্পদ কমে যাবে। অথচ ইসলামের শিক্ষা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল্লাহর পথে ব্যয় করা সম্পদ কখনো প্রকৃত অর্থে নষ্ট হয় না। বরং সদকা মানুষের জীবনে কল্যাণ, বরকত ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ লাভের মাধ্যম হতে পারে।
আজ এমন একটি শিক্ষণীয় ঘটনার কথা তুলে ধরব, যেখানে একটি উটনি দান করার ঘটনা পরবর্তী সময়ে এক অসহায় মানুষের জীবন বাঁচানোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়।
নিজের সবচেয়ে প্রিয় সম্পদটি দান করার সিদ্ধান্ত
বর্ণিত ঘটনাটি প্রায় এক শতাব্দী আগের। আরবের মরুভূমি অঞ্চলে বসবাস করতেন ইবন জাদআঁন নামের এক ব্যক্তি। তাঁর অনেকগুলো উট ছিল। উটগুলো ছিল বেশ স্বাস্থ্যবান ও দুধে পরিপূর্ণ।
তাঁর প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র। তাঁর সংসারে ছিল সাতজন কন্যাসন্তান। অভাব-অনটনের মধ্যে কোনোভাবে দিন কাটত সেই পরিবারের।
একদিন ইবন জাদআঁনের মনে হলো, প্রতিবেশী পরিবারটির জন্য কিছু করা প্রয়োজন। তিনি চিন্তা করলেন, নিজের উটের পাল থেকে একটি ভালো উটনি তার বাচ্চাসহ ওই দরিদ্র প্রতিবেশীকে সদকা হিসেবে দিয়ে দেবেন।
এ সময় তাঁর মনে পড়ে গেল পবিত্র কুরআনের একটি অসাধারণ আয়াত:
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتَّىٰ تُنْفِقُوا مِمَّا تُحِبُّونَ ۚ
অর্থ: “তোমরা কখনো প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।”
—সুরা আলে ইমরান, আয়াত ৯২।
আয়াতটি তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিল। তিনি বুঝতে পারলেন, দানের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে দেওয়ার মধ্যে নয়; বরং নিজের পছন্দের ও মূল্যবান সম্পদ থেকেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করার মধ্যে রয়েছে।
অবশেষে তিনি তাঁর সবচেয়ে ভালো উটনিগুলোর একটি বেছে নিলেন। উটনিটির সঙ্গে তার বাচ্চাটিকেও নিয়ে দরিদ্র প্রতিবেশীর বাড়িতে উপস্থিত হলেন।
তিনি বললেন, “এটি আপনার জন্য আমার পক্ষ থেকে উপহার। আপনি গ্রহণ করুন।”
প্রতিবেশী যেন নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না! আনন্দে তাঁর চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এত বড় একটি উপহার তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
উটনিটির দুধ থেকে পরিবারটি উপকৃত হতে লাগল। প্রয়োজনের সময় সেটিকে কাজে লাগানো যেত, আবার উটের বাচ্চাটিও বড় হচ্ছিল। দরিদ্র পরিবারটির জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এল।
মরুভূমির গর্তে হারিয়ে গেলেন ইবন জাদআঁন
কিছুদিন পর বসন্তকাল শেষ হয়ে এলো। মরুভূমিতে শুরু হলো প্রচণ্ড গরম ও খরা। পানি এবং পশুদের খাবারের সন্ধানে ইবন জাদআঁন বের হলেন।
পানির সন্ধান করতে গিয়ে তিনি একটি গভীর প্রাকৃতিক গর্তের সন্ধান পেলেন। এ ধরনের গর্তের মাধ্যমে মরুভূমির ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধান পাওয়া যেত। তিনি পানির খোঁজে গর্তের ভেতরে প্রবেশ করলেন।
তাঁর তিন ছেলে বাইরে অপেক্ষা করতে লাগল।
একদিন গেল, দুই দিন গেল, তিন দিনও পেরিয়ে গেল। কিন্তু তাঁদের বাবা আর ফিরে এলেন না।
ছেলেরা ধারণা করল, হয়তো কোনো সাপ তাঁকে দংশন করেছে অথবা গর্তের গভীরে তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
তারা শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরে গেল। বাবার মৃত্যুর আশঙ্কায় তাঁর সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল।
কিছুদিন পর তাদের মনে পড়ল, বাবা এক দরিদ্র প্রতিবেশীকে একটি উটনি ও তার বাচ্চা দান করেছিলেন।
তারা প্রতিবেশীর কাছে গিয়ে বলল, বাবার দেওয়া উটনিটি ফেরত দিতে হবে। বিনিময়ে অন্য একটি উটনি নিতে পারেন। অন্যথায় তারা জোর করেই সেটি নিয়ে যাবে।
প্রতিবেশী অবাক হয়ে জানতে চাইলেন, কেন উটনিটি ফেরত দিতে হবে?
তখন ছেলেরা জানাল, তাদের বাবা মারা গেছেন। তাই তাঁর সম্পত্তি এখন উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ হবে।
প্রতিবেশী জানতে চাইলেন, ইবন জাদআঁন কোথায় এবং কীভাবে মারা গেছেন?
ছেলেরা বলল, তাঁদের বাবা মরুভূমির একটি গভীর গর্তে পানির সন্ধানে প্রবেশ করেছিলেন। এরপর আর ফিরে আসেননি।
কথাটি শুনে প্রতিবেশী অত্যন্ত বিচলিত হয়ে পড়লেন।
তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম! তোমরা আমাকে সেই জায়গায় নিয়ে চলো। তোমাদের উটনি তোমরা নিয়ে নাও। আমি আর সেটি চাই না। আগে আমাকে তোমাদের বাবার খোঁজ করতে হবে।”
এক সপ্তাহ পরেও জীবিত ছিলেন তিনি!
প্রতিবেশী ছেলেদের সঙ্গে নিয়ে সেই গর্তের কাছে গেলেন। সঙ্গে নিলেন একটি দড়ি, আলো এবং কিছু খাবার।
দড়ি নিরাপদ জায়গায় বেঁধে তিনি গর্তের ভেতরে প্রবেশ করলেন।
গর্তটি ছিল অত্যন্ত গভীর ও অন্ধকার। কোথাও হামাগুড়ি দিয়ে, কোথাও গড়িয়ে গড়িয়ে তাঁকে এগোতে হচ্ছিল।
একসময় তিনি ভেজা মাটির গন্ধ পেলেন। বুঝতে পারলেন, কাছাকাছি কোথাও পানি রয়েছে।
হঠাৎ তাঁর কানে ভেসে এলো মানুষের গোঙানির মতো একটি শব্দ।
তিনি শব্দের উৎস অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে গেলেন। অন্ধকারের মধ্যে হাত দিয়ে খুঁজতে খুঁজতে একসময় একজন মানুষকে স্পর্শ করলেন।
তাঁর শরীরে হাত দিয়ে বুঝতে পারলেন, লোকটি এখনো জীবিত!
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে অন্ধকার গর্তের মধ্যে আটকে থাকার পরও মানুষটির প্রাণ তখনো ছিল।
তিনি আর কেউ নন—ইবন জাদআঁন!
প্রতিবেশী অত্যন্ত কষ্ট করে তাঁকে গর্ত থেকে বের করে আনলেন। মরুভূমির তীব্র সূর্যালোক থেকে রক্ষা করতে নিজের হাত দিয়ে তাঁর চোখ আড়াল করে রাখলেন।
সঙ্গে নিয়ে যাওয়া খেজুর পানিতে ভিজিয়ে তাঁকে খেতে দিলেন। এরপর নিজের পিঠে করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে এলেন।
ধীরে ধীরে ইবন জাদআঁন সুস্থ হয়ে উঠলেন।
সাত দিন কীভাবে বেঁচে ছিলেন ইবন জাদআঁন?
সুস্থ হওয়ার পর প্রতিবেশী তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, “আপনি এত দিন অন্ধকার গর্তের মধ্যে কীভাবে বেঁচে ছিলেন?”
ইবন জাদআঁন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করলেন।
তিনি বললেন:
“গর্তের গভীরে গিয়ে আমি পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কোথাও বের হওয়ার পথ খুঁজে পাচ্ছিলাম না। সৌভাগ্যক্রমে সেখানে পানি ছিল। তাই পানি পান করে দিন পার করতে লাগলাম।
কিন্তু মানুষের শরীর তো শুধু পানি দিয়ে চলে না। কয়েক দিন পর ক্ষুধা অসহনীয় হয়ে উঠল। খাবারের অভাবে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ল।
একসময় আমি সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দিলাম। তাঁর কাছেই সাহায্য চাইলাম।
এরপর এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা হলো!
হঠাৎ অনুভব করলাম, আমার মুখের ওপর উষ্ণ দুধ পড়ছে। আমি উঠে বসার চেষ্টা করলাম। অন্ধকারের মধ্যে বুঝতে পারলাম, আমার সামনে দুধের একটি পাত্র রাখা হয়েছে।
আমি সেই দুধ পান করে ক্ষুধা নিবারণ করলাম।
এভাবে প্রতিদিন তিনবার দুধ আসত। আমি পেট ভরে দুধ পান করতাম। এভাবে কয়েক দিন পার হয়ে গেল।
তবে শেষ দুই দিন আর দুধ আসেনি। কেন এমন হয়েছিল, তা আমি বুঝতে পারিনি।”
প্রতিবেশী তখন তাঁকে সেই দানের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন।
তিনি বললেন:
“আপনি যে দরিদ্র পরিবারটিকে উটনি দান করেছিলেন, সেটিই ছিল আপনার বিপদের সময়ের একটি বিশেষ উপলক্ষ। আপনার ছেলেরা সেই উটনিটি ফেরত নিয়ে গেছে। সম্ভবত আল্লাহ সেই উটনির দুধের মাধ্যমেই আপনাকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।”
ইবন জাদআঁন তখন উপলব্ধি করলেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা একটি দান কীভাবে তাঁর জীবনের ভয়াবহ বিপদের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে গেল!
এই ঘটনাটি বর্ণনায় একটি গভীর শিক্ষা রয়েছে। মানুষ যখন আল্লাহর জন্য দান করে, তখন তার প্রতিদান কোন পথে আসবে, তা সে আগে থেকে জানে না।
এই ঘটনা থেকে আমাদের জীবনের জন্য ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা
১. নিজের প্রিয় সম্পদ থেকেও দান করতে শিখুন
আমরা অনেক সময় এমন জিনিস দান করি, যেগুলো নিজের কাছে তেমন প্রয়োজনীয় নয়। অথচ আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন, প্রকৃত পুণ্য অর্জনের জন্য প্রিয় সম্পদ থেকেও ব্যয় করতে হবে।
সুরা আলে ইমরানের ৯২ নম্বর আয়াত আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়।
২. দরিদ্র প্রতিবেশীর খোঁজখবর নিন
আমাদের আশপাশে এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা অভাবের কারণে কষ্টে জীবনযাপন করছে। অনেক সময় আমরা তাদের পাশেই বসবাস করি, অথচ তাদের দুঃখ-কষ্টের খবর রাখি না।
একজন প্রকৃত মুমিন শুধু নিজের পরিবারের কথা ভাবেন না; প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কেও সচেতন থাকেন।
৩. সদকা শুধু সম্পদ কমায় না, বরং কল্যাণের মাধ্যম হয়
সদকার কারণে আল্লাহ মানুষের জীবনে বরকত দান করেন। বিপদ থেকে রক্ষা করেন, অন্তরে প্রশান্তি দেন এবং এমন কল্যাণের ব্যবস্থা করেন, যা মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
৪. বিপদের সময় আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন
মানুষের সব পথ বন্ধ হয়ে গেলেও আল্লাহর রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না। তাই বিপদে হতাশ না হয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখতে হবে।
৫. মানুষের উপকার করার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না
কেউ আপনার সাহায্য চাইলে সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ান। কখনো অর্থ দিয়ে, কখনো খাবার দিয়ে, কখনো সময় দিয়ে কিংবা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করে মানুষের উপকার করা যায়।
৬. উত্তরাধিকার ও মানুষের অধিকার রক্ষা করুন
ইবন জাদআঁনের ছেলেরা বাবার দান করা সম্পদ ফেরত নিতে চেয়েছিল। অথচ জীবদ্দশায় বৈধভাবে কাউকে কোনো সম্পদ দান করে দিলে তা আর সাধারণভাবে উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তি থাকে না। মানুষের দান, চুক্তি ও অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা জরুরি।
৭. দানের প্রতিদান দুনিয়াতেই ফিরে আসবে—এমন প্রত্যাশা করবেন না
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, সদকা করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। প্রতিদান কখন, কীভাবে এবং কোথায় পাওয়া যাবে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। দুনিয়ায় কোনো প্রতিদান না পেলেও আখিরাতের প্রতিদান থেকে মুমিন কখনো নিরাশ হন না।
আল্লাহর ওপর ভরসা করলে তিনি পথ খুলে দেন
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ ۚ وَمَنْ يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
অর্থ: “আর যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ করে দেন। আর তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দান করেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য তিনিই যথেষ্ট।”
—সুরা আত-তালাক, আয়াত ২-৩।
এই আয়াত আমাদের জীবনের প্রতিটি সংকটের জন্য এক অনন্য আশার বার্তা।
চাকরি নেই, ব্যবসায় লোকসান, ঋণের বোঝা, পারিবারিক অশান্তি, অসুস্থতা কিংবা জীবনের কোনো কঠিন পরিস্থিতি—কোনো কিছুতেই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।
তাকওয়া অবলম্বন করতে হবে, হালাল পথে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, দোয়া করতে হবে এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে।
সদকা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সুসংবাদ
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
مَا نَقَصَتْ صَدَقَةٌ مِنْ مَالٍ
অর্থ: “সদকা করার কারণে কোনো সম্পদ কমে না।”
—সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৫৮৮।
অর্থাৎ বাহ্যিকভাবে সম্পদ থেকে কিছু অংশ চলে গেলেও আল্লাহ তাআলা তাতে বরকত দান করেন। সদকা মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটায় এবং আখিরাতের জন্য সওয়াবের ব্যবস্থা করে।
তাই আসুন, আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সদকা করি। শুধু রমজান মাসে নয়, বছরের প্রতিটি দিনই দান করার অভ্যাস গড়ে তুলি।
ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার: দ্বীনি শিক্ষা, দাওয়াহ ও মানবকল্যাণে আমাদের অঙ্গীকার
ইসলাম শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের কল্যাণ, অসহায়দের পাশে দাঁড়ানো, বিশুদ্ধ দ্বীনি শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে নৈতিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারের বিভিন্ন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন আপনিও।
১. IDC Foundation — মানবকল্যাণে আপনার সহযোগিতা
<PRIVATE_PERSON> Foundation-এর লক্ষ্য হলো দ্বীনি ও মানবিক কল্যাণমূলক উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া। অসহায় মানুষ, দরিদ্র পরিবার এবং সমাজের কল্যাণে পরিচালিত ভালো কাজগুলোতে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করুন।
আপনার ছোট্ট একটি সহযোগিতাও কারও জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
২. IDC Hajj Kafela — পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনে সহযোগী
হজ ও ওমরাহ মুসলিম জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ইবাদত পালনের স্বপ্ন পূরণে নির্ভরযোগ্য সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
IDC Hajj Kafela-এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহসংক্রান্ত সেবা, ভ্রমণ পরিকল্পনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।
আপনার ও পরিবারের সদস্যদের জন্য আল্লাহর ঘর জিয়ারতের সুযোগ সহজ হোক—এই আমাদের প্রত্যাশা।
৩. IDC English Medium Madrasha — আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধ
সন্তান আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। তাদের শুধু দুনিয়াবি শিক্ষায় শিক্ষিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং কুরআন-সুন্নাহর আলোকে নৈতিকতা, আদব-আখলাক ও ইসলামী মূল্যবোধ শেখানোও অত্যন্ত জরুরি।
IDC English Medium Madrasha-এর লক্ষ্য আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষা ও ইসলামী মূল্যবোধের গুরুত্বকে সামনে রেখে শিক্ষার একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা।
আমরা চাই, আগামী প্রজন্ম জ্ঞান, নৈতিকতা, তাকওয়া ও মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হয়ে বেড়ে উঠুক।
আপনিও দ্বীনি শিক্ষা ও মানবকল্যাণের এই উদ্যোগগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকুন।
শেষ কথা: আজই একটি ভালো কাজের নিয়ত করুন
প্রিয় পাঠক, ইবন জাদআঁনের এই বর্ণিত ঘটনাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষের জন্য করা ভালো কাজ কখনো তুচ্ছ নয়।
আপনার সামর্থ্য হয়তো অনেক বেশি নয়। কিন্তু একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দেওয়া, কোনো অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, একজন দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ বহন করা কিংবা দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে সহযোগিতা করাও হতে পারে আপনার আখিরাতের পাথেয়।
আজই নিয়ত করুন:
- প্রতিদিন অন্তত একটি ভালো কাজ করব।
- সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মিত সদকা করব।
- অসহায় প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখব।
- সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা ও উত্তম চরিত্র গঠনে যত্নবান হব।
- আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে হালাল পথে জীবন পরিচালনা করব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য প্রিয় সম্পদ ব্যয় করার তাওফিক দান করুন। আমাদের দান-সদকা কবুল করুন, বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দান করুন।
آمِين يَا رَبَّ الْعَالَمِينَ
ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার (Islami Dawah Center)
দ্বীনি শিক্ষা, ইসলামী দাওয়াহ ও মানবকল্যাণের উদ্যোগে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
ওয়েবসাইট: https://IslamiDawahCenter.com
IDC Hajj Kafela | IDC Foundation | IDC English Medium Madrasha
আসুন, নিজেরা ভালো কাজ করি এবং অন্যদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করি।
