+88 01737 196 111 hi@islamidawahcenter.com Ka: 65/5, Shahjadpur, Gulshan, Dhaka

জাদুর ইসলামিক চিকিৎসা! (রুকইয়াহ)

 

 

 

যাদুগ্রস্ত (১)

[ক] বিসমিল্লাহ। রুকইয়াহ শারিয়্যাহ সিরিজের তৃতীয় অধ্যায়; তথা ব্ল্যাক ম্যাজিক সিরিজ শুরু হল। শুরুতে কিছু বিষয় বলে রাখলে পাঠক লেখক সবারই ফায়দা হবে। প্রথমত: যাদুর অনেক শাখাপ্রশাখা রয়েছে, কোরআন হাদিস তাফসির তারিখে যাদু বিষয়ে অনেক অনেক আলোচনা আছে। যাদু শাস্ত্রের সব বিষয় এখানে আলোচনা করা সম্ভব নয়। আমাদের আলোচ্য বিষয়, যাদুটোনা করে কারো ক্ষতি করলে, ইসলাম সমর্থিত পদ্ধতিতে এর প্রতিকার কি হবে। ইনশাআল্লাহ এখানে আমরা ১০-১২ প্রকারের যাদুর ট্রিটমেন্ট আলোচনা করবো। দ্বিতীয়ত: এই সিরিজে চিকিৎসার এমন সব পদ্ধতি আলোচনা করা হবে যেগুলোকে ইসলাম বৈধ বলে। তবে এটা মনে করার অবকাশ নেই, শুধুমাত্র এই একটা পদ্ধতিই জায়েজ। বরং একাধিক জায়েজ পদ্ধতি থাকতে পারে। রুকইয়াহ শারইয়্যার শরঈ বিধান নিয়ে আগেও আমরা আলোচনা করেছি, আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন। বরাবরের মতই প্রথমে আমাদের আলোচ্য বিষয়ে ইসলামী আক্বিদা জানবো। কোরআন, হাদিস এবং সালাফের দৃষ্টিতে এর মূল্যায়ন দেখবো, এরপর অন্য প্রসঙ্গে যাবো। .

 

[খ] কোরআনুল কারিমের অনেক যায়গায় যাদুর কথা রয়েছে। অন্তত ৩-৪প্রকারের যাদুর কথা বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে ৫০এরও বেশি স্থানে! এর মাঝে অধিকাংশ আয়াতে এরকম এসেছে, কোনো নবী কওমের কাছে দাওয়াত নিয়ে গেছেন, আর তাঁরা নবীর ওপর যাদুকর হওয়ার অপবাদ দিয়েছে, অথবা বলেছে তোমাকে কেউ যাদু করেছে তাই তুমি এসব বকছো!(নাউযুবিল্লাহ) এথেকে বুঝা যায়, মানব সভ্যতার শুরু থেকেই যাদু একটি ঘৃণিত বিষয়; একটি অভিশপ্ত শাস্ত্র!

দেখুন আল্লাহ তা’আলা কি বলছেন-

১. “এমনিভাবেই তাদের পূর্ববর্তীদের কাছে যখনই কোন রসূল এসেছে,তারা বলেছেঃ যাদুকর, না হয় উম্মাদ!” (সুরা যারিয়াত, আয়াত ৫৬)

২. “যদি আমি ওদের সামনে আকাশের কোন দরজাও খুলে দেই আর তাতে ওরা দিনভর আরোহণ ও করতে থাকে। তবুও ওরা একথাই বলবে যে, আমাদের চোখ ভুল দেখছে? না আমরা যাদু আক্রান্ত হয়ে পড়েছি। (সুরা হিজর, ১৫) এই আয়াত দিয়ে এক ভাই সেদিন ওয়ার্মহোলের দিকে ইংগিত দিচ্ছিলেন। হতে পারে, আল্লাহ মালুম! তবে যাইহোক না কেন.. যাদু দ্বারা এমন অস্বাভাবিক কাজ করা যায়, যা বাহ্যদৃষ্টে অবিশ্বাস্য; এটা এই আয়াত থেকে স্পষ্টই বুঝা যায়। আয়াতটি আরেকবার দেখে নিন। এরপর মুসা আ. এর ঘটনা বিভিন্ন সুরায় এসেছে, যেমনঃ সুরা আরাফ, সুরা ইউনুস, সুরা ত্বাহা। সুরা আ’রাফের একটি আয়াত দেখুন-

৩. “তিনি (মুসা আ.) বললেন, তোমরাই নিক্ষেপ কর। যখন তারা নিক্ষেপ করল তখন তাদের যাদু লোকদের চোখগুলোকে ধাঁধিয়ে দিল, ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলল এবং তাঁরা বিরাট যাদু প্রদর্শন করল। তারপর আমি মূসাকে ওহী পাঠালাম, তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর। এরপর, যাদু দিয়ে তারা যা বানিয়েছিল সঙ্গে সঙ্গে সেটি (লাঠি) সবকিছু গিলতে লাগল।” (সুরা আরাফ, ১১৫, ১১৬) আমাদের রাসুল স. এর ওপরেও যাদু করা / বান মারা হয়েছিলো। তখন আল্লাহ দুয়া শিখিয়ে দিলেন রাসুল স.কে-

৪. “বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার, তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে, আর অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়, এবং গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে…” (সুরা ফালাক, ১-৪) রাসুল ﷺ এর ওপর যাদু করার কারণে তিনি অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। যাদু দ্বারা মানুষের ক্ষতি করা যায় তাঁ অন্য আরেক আয়াতেও স্পষ্ট বুঝা যায়, খেয়াল করুন-

৫. “…অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন যাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না…” (সুরা বাকারা, ১০২ আয়াতের অংশ) এই আয়াত নিয়ে মুফাসসিরিনে কিরাম অনেক দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। লম্বাচওড়া তাফসির দেখতে চাইলে আগ্রহীদের জন্য বয়ানুল কোরআন এবং তাফসিরে ইবনে কাসির রয়েছে, আর সংক্ষিপ্ত আলোচনার তাওযিহুল কোরআন অথবা মা’রিফুল কোরআন তো আছেই। . তবে যাদু সম্পর্কে অধিকাংশের ধারণা হচ্ছে এটা আলাদীনের চেরাগের মত! ঘষা দিলেই যা খুশি পাওয়া যায়। সিনেমা নাটক আর আলি লায়লার গাঁজাখুরি গল্প দেখে এই আজগুবি ধারনা জন্ম নিসে। এই ধারণা অনেক বড় ভুল, বরং যাদুর জন্য অনেক কিছু সেক্রিফাইস করতে হয়, আর চাইলেই সব পাওয়া যায়না। এর অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এখানে সংক্ষেপে একটা আক্বিদা না বললেই নয়, ‘যাদুর শক্তি ইনভিজিবল, কিভাবে দড়ি দিয়ে সাপ বানিয়ে ফেললো তা আমাদের বোধগম্য নয়। তারমানে এটা না, যাদুর নিজস্ব ক্ষমতা আছে। বরং আর দশটা শক্তির মত যাদুও ঐশ্বরিক শক্তির ওপরেই নির্ভরশীল।’ খেয়াল করুন উপরোল্লেখিত আয়াতেই আল্লাহ বলেছেন! “আল্লাহ না চাইলে যাদু দিয়ে তারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না…” .

 

[গ] কোরআনে যাদু বিষয়ে এত বেশি আলোচনা আছে, আক্বিদা বয়ানের জন্য এরপর অন্য কোনো রেফারেন্সের প্রয়োজনই থাকেনা।

তবুও আমরা কিছু হাদিস দেখবোঃ 

১. হযরত আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাতটি ধ্বংসকারী জিনিস থেকে দূরে থাকো। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে জিনিসগুলো কি? তিনি বললেনঃ আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরীক করা, যাদু বিদ্যা শেখা ও তার চর্চা করা, যে জীবনকে হত্যা করা আল্লাহ নিষিদ্ধ করেছেন, তাকে অবৈধভাবে হত্যা করা, সূদী লেনদেন করা, ইয়াতীমের ধন আত্মসাৎ করা, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাওয়া, পবিত্র চরিত্রের অধিকারী মুমিন নারীর ওপর অপবাদ দেয়া। (বুখারী, মুসলিম)

২. আবু বাকর ইবন আবি শায়বা রহ. সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আমি রাসুলুল্লাহ সা.-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি করে আজওয়া খেজুর (মদীনা শরীফে উৎপন্ন এক জাতীয় উৎকৃষ্ট মানের খেজুর) আহার করে, সেদিন তাকে কোন বিষ বা যাদু ক্ষতি করতে পারে না । (মুসলিম)

৩. এরপর রাসুল স.কে যাদু করার ব্যপারে বুখারীর দীর্ঘ হাদিসটি তো আছেই, হাদিসের সারকথা এরকম “আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, লাবীদ ইবনে আসাম নামক এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে যাদু করে। একরাত্রে রাসুল স. বারবার দু‘আ করতে থাকেন। তারপর তিনি বলেনঃ হে ‘আয়েশা! তুমি কি বুঝতে পেরেছ, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। আমার নিকট দু’জন লোক এসেছিলো। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দু‘পায়ের কাছে বসেন। একজন জিজ্ঞেস করলোঃ এ লোকটির কি ব্যথা? আরেকজন বললো, যাদু করা হয়েছে। প্রথমজন বলেনঃ কে যাদু করেছে? দ্বিতীয়জন বলেনঃ লাবীদ ইন আ‘সাম। প্রথমজন জিজ্ঞাসা করেনঃ কি দিয়ে? দ্বিতীয়জন উত্তর দেনঃ চিরুনী, মাথা আচড়ানোর সময় উঠা চুল এবং পুরুষ খেজুর গাছের খোসার মাধ্যমে….” (বুখারিতে বর্ণিত এই হাদিসটি বেশ দীর্ঘ)

৪. আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি জ্যোতিষ বিদ্যার কিছু শিক্ষা করলো, সে যেন যাদু বিদ্যার একটা শাখা আয়ত্ত করলো, এখন তা যত বাড়ায় বাড়াক। (আহমাদ, আবূ দাউদ)

৫. ইমরান বিন হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল স. বলেছেন- যে কুলক্ষণ নির্ণয় করে, আর যার জন্য নির্ণয় করা হয়।যে যাদু করে,আর যার জন্য যাদু করা হয়। এবং যে গণকের নিকট এলো এবং তাঁর কথা বিশ্বাস করলো..। এরা আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। (মুসনাদে বাযযার, সনদ হাসান) এই হাদিস অনুযায়ী যাদুকর, গণক, ট্যারট কার্ড ওয়ালা সবাই কুফরি করছে। এবং তাদের কাছে যারা যাচ্ছে, হেল্প চাচ্ছে তারাও… আসুন আমরা সতর্ক হই। …. এরকম অনেক হাদিস রয়েছে, সব উল্লেখ করা তো সম্ভব না। তবে ইসলাম যাদুর অস্তিত্ব স্বীকার করে কিনা, আশা করছি এব্যাপারে আর কারো দ্বিমত নেই। আজ এপর্যন্তই..

যাদুগ্রস্ত (২)

[ক] গতপর্বে কোরআন – হাদিস থেকে যাদু সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, এবার আমরা কয়েকজন সালাফের মতামত দেখি।

১. ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন- আহলুস সুন্নাত এব্যাপারে একমত যে, যাদু সত্য এবং এর প্রভাব রয়েছে। কিছু মুতাযিলা এটি অস্বীকার করে, এবং বলে এটা শুধুই চোখের ভ্রম…। (এরপর ইমাম কুরতুবী রহ. মুতাযিলা ফিরকার আক্বিদা খণ্ডন করেছেন)… [তাফসিরে কুরতুবী ২/৪৭ দ্রষ্টব্য]

২. নববী রহ. বলেন- বিশুদ্ধ মত হচ্ছে যাদুর অস্তিত্ব রয়েছে, বেশিরভাগ আলেমের মত এটাই। আর এব্যাপারে কোরআন হাদিসেও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। [ফাতহুল বারি, ১০/২২২]

৩. ইবনে ক্বুদামা রহ. বলেন- এর দ্বারা হত্যা করা হয়। যাদুর প্রভাবে মানুষ মানসিক ও শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। যাদুর প্রভাবে স্বামীস্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে। (এরপর ইবনে ক্বুদামা রহ. তাঁর কথার স্বপক্ষে কোরআন হাদিস থেকে উদ্ধৃতি দেন) [আল মুগনী, ১০/১০৬ দ্রষ্টব্য]

৪. ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন- সুরা ফালাক্বের ওয়া মিন শাররিন্নাফফাসাতি… আয়াত এবং আয়েশা রা, এর হাদিস দ্বারা প্রমাণ হয় যাদু নিঃসন্দেহে সত্য। [বাদাইউল ফাওয়ায়েদ, ২/২২৭]

৫. ইমাম রাযি রহ. তো যাদুর ৭ রকম ভাগ করে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, ইবনে কাসির রহ. সেটা উদ্ধৃত করে পর্যালোচনা করেছেন। [তাফসিরে ইবনে কাসির, সুরা বাক্বারা ১০২-৩ আয়াতের আলোচনা দ্রষ্টব্য]

৬. ইমাম রাগেব ইস্পাহানী রহ. যাদুকে ৪ ভাগে ভাগ করে ব্যাখ্যা করেছেন। [আল মুফরাদাত, س-ح-ر মাদ্দা দ্রষ্টব্য]

 

[খ] মানুষের ওপর যাদু কিভাবে করা হয়?

যাদুর অনেক ধরণ আছে, একেকটা একেকভাবে করা হয়। মানুষের ক্ষতি করার জন্য সমাজে প্রচলিত যাদুকে প্রাথমিকভাবে আমরা দুইভাগে ভাগ করবো-

১. যেসব যাদুতে শয়তান পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে।

২. যেসব যাদুর জন্য জিন-শয়তানদের কাছে সরাসরি সাহায্য চাওয়া হয়। .. কর্মপদ্ধতির দিক থেকে চারভাগে ভাগ করা যায়-

১. যাকে যাদু করা হবে তাঁর ব্যবহৃত কোনো জিনিশ / কাপড় অথবা শরীরের কোন অংশ যেমন: চুল, নখ ইত্যাদি কোনো গাছের ডাল, ভুডু ডল বা এরকম কিছুতে রেখে যাদু করা হয়

২. কখনো যাদুকর নিজে পারেনা, তখন জিন দিয়ে যাদু করায়

৩. কখনো নিজে যাদু করে, সাথে জিনও পাঠায় ক্ষতি করার জন্য

৪. কখনো ব্যবহারের জিনিশ না পেলে মন্ত্র পড়া পানি বাড়ির সামনে ফেলে যায়, ওর ওপর দিয়ে হেটে গেলে যাদু লেগে যায়। …….. আলতুফালতু সিনেমা নাটক আর আলিফ লায়লা দেখে দেখে মানুষ ধারণা করে যাদু আলাদিনের চেরাগের মত। ঘষা দিয়ে, যা ইচ্ছা বলল। আর হয়ে গেল। বাস্তবে যাদুর জন্য অনেক সেক্রিফাইস করতে হয়, অনেক ঝামেলা আছে। যাদু হচ্ছে মূলত: প্রকৃতির নিয়ম ওলটপালট করা। আর ব্যাপারটা মোটেও সোজা না। উদাহরণস্বরূপ, ট্রাম্প তো এমনিতেই পাগল, আপনি চাইলেই যাদু করে ট্রাম্পকে একদম পাগল বানাতে পারেন না। এজন্য ট্রাম্পের মাথার চুল অথবা মাথার ঘাম লাগানো কোনো কাপড় লাগবে, অথবা যাদুর জিনিশের গন্ধ ট্রাম্পের ব্রেইনে পৌঁছানো লাগবে। এরসাথে যে যাদু করবে তাকে শয়তানের নিয়ম মত সেক্রিফাইস করতে হবে। শয়তান সন্তুষ্ট না হলে যাদু হবে না। .

সতর্কতা:

১. উল্লেখিত প্রথম কারণে কোনো কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করতে গেলে যদি আপনার কাপড় চায়, ভুলেও দিবেন না।

২. বাড়িতে মেহমান এসেছিল, কদিন পর হটাত খেয়াল করলেন কোনো কাপড়ের কোনা কাটা! সাথে-সাথে সাবধান হয়ে যান, মাসনুন আমলে গুরুত্ব বাড়িয়ে দিন, সমস্যার সন্দেহ হলে রুকইয়া করুন।

৩. উল্লেখিত দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কারণে সিহরের জন্য রুকইয়া করতে লাগলে কখনো রুগীর ওপর জিন চলে আসে। এজন্য রাক্বির মানসিক প্রস্তুতি থাকা জরুরী। (বিস্তারিত পরে বলা হবে ইনশাআল্লাহ)  

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

জাদুর লক্ষন সমূহঃ 

 
যারা নিজেদেরকে যাদুগ্রস্থ মনে করছেন অথবা বুঝতে পারছেন না কিভাবে যাচাই করবেন আসলেই আপনি যাদুগ্রস্থ কিনা তাদের জন্য এই পোস্ট উপকারী হবে ইনশাআল্লাহ।
 
নিচের লক্ষণগুলো মিলিয়ে দেখুন আপনার সাথে কতগুলো লক্ষণ মিলেঃ
 
১। চোখের অবস্থা অস্বাভাবিক বা অসুন্দর লাগা।
২। কোন কারণ ছাড়াই শরীর গরম থাকা। 
৩। ব্যাকপেইন। বিশেষত মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা করা।
৪। (মহিলাদের ক্ষেত্রে) অনিয়মিত মাসিক (পুরুষদের ক্ষেত্রে) প্রস্রাবে ইনফেকশন এর সমস্যা।
৫। প্রায়সময় পেট ব্যথা থাকা। 
৬। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও কোন রোগ ভালো না হওয়া।
৭। তীব্র মাথা ব্যথা, ঔষধ খেয়েও তেমন লাভ হয়না।
৮। হঠাৎ করে কারো প্রতি তীব্র ঘৃণা বা তীব্র ভালোলাগা অনুভব হওয়া।
৯। পরিবার, বাসা, সমাজের প্রতি তীব্র বিতৃষ্ণা থাকা। 
১০। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত খুব অস্বস্তিতে ভুগা অথবা মেজাজ খারাপ থাকা।
১১। কোন কারণ ছাড়াই বাড়ি থেকে দৌড় দিয়ে বের হয়ে যেতে ইচ্ছা হওয়া। 
১২। শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে অতিরিক্ত ব্যথা হওয়া। 
১৩। ঠিকমত ঘুমাতে না পারা। ঘুমালেও ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা।
৪। স্বপ্নে কোনো গাড়ি বা প্রাণিকে আক্রমণ করতে বা ধাওয়া করতে দেখা (যেমনঃ কুকুর, বিড়াল, গরু, মহিষ, বাঘ, সিংহ, সাপ)। ১৫। স্বপ্নে কোন ফাঁকা বাড়ি, মরুভূমি বা গোরস্থানে হাঁটাচলা করতে দেখা। 
১৬। স্বপ্নে বিভিন্ন যায়গায় পানি দেখা (যেমন সাগর, নদী, পুকুর, ইত্যাদি)। 
১৭। স্বপ্নে ঘনঘন কোথাও আগুন জ্বলতে বা কিছু পোড়াতে দেখা।
১৮। স্বপ্নে নিজেকে উড়তে দেখা বা কোন পাখি অথবা বড়বড় গাছ দেখা।
 
এসব লক্ষণ যদি দুই একটা মিলে যায় তাহলে ইনশাআল্লাহ আপনার রুকইয়াহ করা লাগবেনা। ফরজ কাজগুলোর পাশাপাশি নিয়মিত সকাল-সন্ধ্যা এবং ঘুমানোর আগের মাসনুন আমল এবং বেশি বেশি দোয়া করলেই যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ। মাসনুন আমল সম্পর্কে এখানে দেখুন- 
 
এসব লক্ষণ যদি ৫ টা বা তারও বেশি মিলে যায় তাহলে আপনার উচিত রুকইয়াহ তিলাওয়াত শুনে টেস্ট করা। ডাউনলোড পেইজেগিয়ে “বিভিন্ন ক্বারিদের সাধারণ রুকইয়াহ” শিরোনামে যেকোন অডিও শুনে টেস্ট করতে পারেন। এক্ষেত্রে শাইখ সুদাইস(১১ নাম্বার), এবং শাইখ লুহাইদানের (২০ নাম্বার) অডিও শুনতে পারেন। গায়ে বা ঘরে তাবিজ থাকলে, সেটা খুলে নষ্ট করে তাওবা করার পর রুকইয়াহ শুনবেন। তাবিজ নষ্ট করার জন্য এই লিংক ফলো করবেন ।  যাদুর সমস্যা থাকলে রুকইয়াহ অডিও শুনে বেশকিছু প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন- বমি হওয়া অথবা বমি বমি ভাব হওয়া, পেটে অথবা ঘারে অথবা মাথায় তীব্র ব্যথা হওয়া, কান্না পাওয়া ইত্যাদি। রুকইয়াহ শুনে যদি এরকম যেকোন প্রতিক্রিয়া হয় তাহলে আপনার উচিত অন্তত দুই সপ্তাহ যাদুর রুকইয়াহ করা। যাদু বা সিহরের রুকইয়াহ  দুই সপ্তাহ করে পুরোপুরি ভালো না হলে প্রয়োজনে তিন সপ্তাহ করতে পারেন। দুই বা তিন সপ্তাহ করে গ্রুপে নতুন পোস্ট দিয়ে আপনার আপডেট জানাতে পারেন।
 
উপরে উল্লেখিত যাদুগ্রস্থ হওয়ার লক্ষনগুলোর সাথে যদি আপনার জ্বিন সংক্রান্ত সমস্যা থাকে তাহলে রুকইয়াহ শুরুর পূর্বে এডমিনদের পরামর্শ নিবেন। জ্বিন সংক্রান্ত সমস্যার লক্ষন  এখান থেকে যদি ৩-৪ টা মিলে তাহলে ইনশাআল্লাহ সিহরের রুকইয়াহ করতে কোন অসুবিধা নেই। তারও বেশি লক্ষণ মিলে গেলে সিহরের পোস্টে বলা নিয়মে রুকইয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন একঘন্টা আয়াতুল কুরসির অডিও শুনবেন। আর প্রায় সব লক্ষণ মিলে গেলে অবশ্যই এডমিন ভাইদের পরামর্শ নিবেন।
 
নোটঃ ১। মেয়েদের পিরিয়ড শুরু হলেও রুকইয়াহ করতে পারবে। গোসলের পানি অন্য কেউ পড়ে দিবে। ২। একজন পানি তৈরি করে দিলে অন্য জন গোসল করতে পারবে। ৩। রুকইয়াহ শুরু করলে প্রথমদিকে শরীর খারাপ করতে পারে। তখন বন্ধ করা যাবে না। ধৈর্য্য ধরে রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে হবে। ইনশা আল্লাহ সাফল্য আসবে। ৪। গায়ে/ঘরে কোন তাবিজ থাকলে অবশ্যই নষ্ট করে ফেলতে হবে আগে। কোন মূর্তি, পুতুল, ছবি ইত্যাদি থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে। ঘরে কুকুর থাকা চলবে না। তাবিজ নষ্টের জন্য পুরো লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। একবার না বুঝলে কয়েকবার পড়ুন। আল্লাহ চায়তো এরপর নিজেই সিহরের রুকইয়াহ করতে পারবেন। কাউকে জিজ্ঞেস করতে হবে না, বরং অন্যদেরও পরামর্শ দিতে পারবেন। তবে আপনার অভিজ্ঞতা আমাদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আল্লাহ আপনাকে এমন আরোগ্য দান করুন যাতে আর কোন রোগ বাকি না থাকে। আমীন।

 

[গ] সিহরের চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা-

১. কারো ওপর এক সাথে একাধিক যাদু করতে পারে, তখন সবরের সাথে একটা একটা করে চিকিৎসা করতে হবে।

২. একবার রুকইয়া করেছেন, অথবা যাদুর ট্রিটমেন্ট করার পর ভালো হয়ে গেছে। যে যাদু করেছে জানলে আবার যাদু করতে পারে। এজন্য উত্তম হচ্ছে, এসব বিষয়ে যারতার সাথে গল্প করে দ্বিতীয়বার বিপদ না ডেকে আনা।

৩. কোনো কোনো কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করতে গেলে জোরে জোরে কোরআনের আয়াত পড়ে, আর আস্তে আস্তে মন্ত্র পড়ে। কেউ কেউ প্রতিদিন দোয়া-কালাম লেখা কাগজ পুড়াতে বলে। এদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।

৪. যাদু দিয়ে যাদুর ট্রিটমেন্ট করানো – করা দুইটাই গুনাহ, মন্ত্রে কোনো কুফরি বাক্য থাকলে তো স্পষ্ট কুফরি। চাই সেটা ভালো কাজে ব্যবহার হোক অথবা খারাপ কাজে।

৫. বাস্তবতা হচ্ছে, যেসব কবিরাজ যাদু-টোনা করে ওদের কাছে চিকিৎসা করিয়ে একটা সমস্যা ভালো হলে আরো নতুন সমস্যা তৈরি হয়। অনেকে তো এমন, আগেরবার চিকিৎসার নামে অনেক টাকা ফেঁড়েছে, আবার যেন তাঁর কাছে আসে, এজন্য কবিরাজ-ই যাদু করে।

৬. তাই সবচেয়ে নিরাপদ হচ্ছে, শুধু কোরআনের আয়াত এবং রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো কোনো দু’আ দিয়ে যাদুর জন্য রুকইয়া করা। ভণ্ড কবিরাজদের থেকে দূরে থাকা।

৭. কোনো হিন্দু বা অন্য ধর্মাবলম্বীদের জন্য চিকিৎসা করলেও, কোরআন বা দোয়ায়ে মাসুর দিয়েই করতে হবে। কোরআন সবার ওপরেই প্রভাব ফেলে।

 

Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ, ফার্স্ট ক্লাস )

 

 

যাদুগ্রস্ত (৩)চিকিৎসাঃ পূর্বকথা

 

[ক] প্রথম কথা হচ্ছে, অন্যান্য সিরিজের মত এই সিরিজে লম্বাচওড়া ইন্ট্রু দিতে পারলাম না বলে দুঃখিত। সত্যি বলতে ইদানীং আর মাথা চলছেনা অতটা। দ্বিতীয়তঃ যাদু সিরিজে আমাদের আলোচনার স্ট্র্যাকচার ইনশাআল্লাহ এমন হবে ১. ভূমিকা ২. আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ ৩. লাইভ রুকইয়া ৪. সেলফ রুকইয়া ৫. মন্তব্য। তৃতীয়তঃ রুকইয়ার শরঈ বিধান নিয়ে ইতিপূর্বে অনেক-অনেকবার আলোচনা হয়েছে। এজন্য এখানে আর বলা হবেনা। আগ্রহীরা চাইলে ইনডেক্স থেকে পুরাতন নোট দেখে নিবেন, লিংক কমেন্টে। চতুর্থ এবং শেষ কথা, জানিয়ে রাখা ভালো, আমাদের আলোচনায় অনেক ক্ষেত্রে শাইখ ওয়াহিদ আব্দুস সালামের আস-সরিমুল বাত্তার.. গ্রন্থের সর্বশেষ (২১তম) আরবি সংস্করণ এর সহায়তা নেয়া হবে, (উনার প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানালে একদমই অনুচিত হতো, আল্লাহ উনাকে জাযায়ে খায়ের দিক) এছাড়াও অন্যান্য সোর্স, আমার এবং বিভিন্নজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারও সহায়তা নেয়া হবে। ইনশাআল্লাহ। আমরা মূল আলোচনায় যাচ্ছি… . লক্ষণীয়ঃ পরবর্তি পোস্টগুলোতে বাববার এই লেখাটির রেফারেন্স ব্যবহার করা হবে। এজন্য আজকের আলোচনাগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ।

 

[খ] চিকিৎসার প্রস্তুতি

 

রাক্বির ব্যক্তিগত সেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত, জ্বিন সিরিজের ৫ম পর্বে সেগুলো আলোচনা করা হয়েছে, অনুগ্রপূর্বক খেয়াল রাখবেন। এরপর যে ঘরে চিকিৎসা করা হবে, তাঁর পরিবেশ মানানসই হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ। অন্য কাউকে রুকইয়া করলে তো এসব খেয়াল রাখবেনই, নিজে নিজের জন্য রুকইয়া (সেলফ রুকইয়া) করলেও ঘরের পরিবেশের দিকে খেয়াল রাখবেন। (এই আলোচনা পূর্বেও গত হয়েছে, ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে আবার বলা হচ্ছে) .

১. চিকিৎসার পূর্বে ঘর টাঙানো বা সাজিয়ে রাখা কোন জীবের ছবি এবং ভাস্কর্য থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে। যেন রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করে।

২. কোনও মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট থাকলে সরিয়ে ফেলতে হবে।

৩. রুগীর সাথে কোনও তাবিজ থাকলে খুলে ফেলতে হবে। তাবিজ আল্লাহর ওপর তাওয়াককুলের প্রতিবন্ধক।

৪. সেখানে উপস্থিত কেউ যেন অনৈসলামিক অবস্থায় না থাকে, সেটা খেয়াল রাখতে হবে। যেমন: কোনও পুরুষ স্বর্ণ পরে আছে, অথবা কোনও মহিলা বেপর্দা হয়ে আছে।

৫. রুগী এবং তার পরিবারকে এবিষয়ে ইসলামি দর্শন সংক্ষেপে বলবেন, যেমন: এই চিকিৎসায় আমার কোনও ক্ষমতা নাই, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা’আলার। আল্লাহ তা’আলা কোরআন এর মাঝে শিফা (আরোগ্য) রেখেছেন, আর রাসূল সা. কোরআন দ্বারা চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছেন এজন্য আমরা রুকইয়াহ পারফর্ম করবো। আর শিরকি ঝাড়ফুঁক বিষয়েও সতর্ক করবেন।

৬. রুগী মহিলা হলে… রুগীকে সম্পূর্ণ পর্দাবৃত অবস্থায় থাকতে হবে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় “যদি মাহরাম পুরুষ রুকইয়াহ করে, তাহলে অতিরিক্ত কোনও ঝামেলা হবেনা।”

৭. আর মহিলা রুগীর কোন মাহরাম যেন অবশ্যই উপস্থিত থাকে, যেমন: বাবা, ভাই অথবা স্বামী থাকতে পারে। এছাড়া সেখানে অন্য গাইরে মাহরাম কেউ যেন না থাকে। পর্দার বিধান যেন লঙ্ঘন না হয়, এব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

৮. প্রতিটা যাদুর সেসব লক্ষণ রয়েছে (পর্যায়ক্রমে বলা হবে ইনশাআল্লাহ) সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করে নিন। জ্বিনের সমস্যার লক্ষণগুলোর ব্যপারেও প্রশ্ন করুন। যেমনঃ স্বপ্নে কোনও প্রাণী ধাওয়া করে কি না। বোবায় ধরে কি না। অনেক উঁচু থেকে পড়তে দেখে কিনা। ঘুমের মধ্যে চিৎকার করে বা ভুল বকে কিনা। ইত্যাদি ইত্যাদি। মোটকথা, জ্বিনের সমস্যা লক্ষণ এবং যাদুর যে সমস্যা মনে হচ্ছে তাঁর লক্ষণগুলো নিয়ে প্রশ্ন করে, অবস্থা সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা নিয়ে রুকইয়া শুরু করবেন।

৯. চিকিৎসা করার পূর্বে রুগী এবং আপনি; উভয়েরই ওযু করে নেয়া উচিত। উত্তম হচ্ছে কোনো নামাজের পরপরেই রুকইয়া করা। এবং নামাজ পড়া নিষিদ্ধ এমন কোনো সময়ে রুকইয়া না করা।

১০. সবশেষে, মনে মনে ইস্তিগফার-দরুদ পড়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে চিকিৎসা শুরু করুন… .

[গ] রুকইয়ার আয়াত সমূহ ——-

১ সুরা ফাতিহাহ

(1 بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু। In the name of Allah, Most Gracious, Most Merciful.

(2 الْحَمْدُ للّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার যিনি সকল সৃষ্টি জগতের পালনকর্তা। Praise be to Allah, the Cherisher and Sustainer of the worlds;

(3 الرَّحْمـنِ الرَّحِيمِ যিনি নিতান্ত মেহেরবান ও দয়ালু। Most Gracious, Most Merciful;

(4 مَـالِكِ يَوْمِ الدِّينِ যিনি বিচার দিনের মালিক। Master of the Day of Judgment.

(5 إِيَّاكَ نَعْبُدُ وإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং শুধুমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি। Thee do we worship, and Thine aid we seek.

(6 اهدِنَــــا الصِّرَاطَ المُستَقِيمَ আমাদেরকে সরল পথ দেখাও, Show us the straight way,

(7 صِرَاطَ الَّذِينَ أَنعَمتَ عَلَيهِمْ غَيرِ المَغضُوبِ عَلَيهِمْ وَلاَ الضَّالِّينَ সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে। The way of those on whom Thou hast bestowed Thy Grace, those whose (portion) is not wrath, and who go not astray.

 

২ সুরা বাকারা ১-৫

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(1   الم আলিফ লাম মীম। A.L.M.

(2   ذَلِكَ الْكِتَابُ لاَ رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ এ সেই কিতাব যাতে কোনই সন্দেহ নেই। পথ প্রদর্শনকারী পরহেযগারদের জন্য, This is the Book; in it is guidance sure, without doubt, to those who fear Allah.

(3   الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ যারা অদেখা বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করে। আর আমি তাদেরকে যে রুযী দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে Who believe in the Unseen, are steadfast in prayer, and spend out of what We have provided for them;

(4   والَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ এবং যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে সেসব বিষয়ের উপর যা কিছু তোমার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে এবং সেসব বিষয়ের উপর যা তোমার পূর্ববর্তীদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে। আর আখেরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করে। And who believe in the Revelation sent to thee, and sent before thy time, and (in their hearts) have the assurance of the Hereafter.

(5   أُوْلَـئِكَ عَلَى هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ وَأُوْلَـئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ তারাই নিজেদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে সুপথ প্রাপ্ত, আর তারাই যথার্থ সফলকাম। They are on (true) guidance, from their Lord, and it is these who will prosper.

 

৩ সুরা বাকারাহ ১০২

(102   وَاتَّبَعُواْ مَا تَتْلُواْ الشَّيَاطِينُ عَلَى مُلْكِ سُلَيْمَانَ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـكِنَّ الشَّيْاطِينَ كَفَرُواْ يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّى يَقُولاَ إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلاَ تَكْفُرْ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ وَمَا هُم بِضَآرِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلاَّ بِإِذْنِ اللّهِ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلاَ يَنفَعُهُمْ وَلَقَدْ عَلِمُواْ لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الآخِرَةِ مِنْ خَلاَقٍ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْاْ بِهِ أَنفُسَهُمْ لَوْ كَانُواْ يَعْلَمُونَ

তারা ঐ শাস্ত্রের অনুসরণ করল, যা সুলায়মানের রাজত্ব কালে শয়তানরা আবৃত্তি করত। সুলায়মান কুফর করেনি; শয়তানরাই কুফর করেছিল। তারা মানুষকে জাদুবিদ্যা এবং বাবেল শহরে হারুত ও মারুত দুই ফেরেশতার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছিল, তা শিক্ষা দিত। তারা উভয়ই একথা না বলে কাউকে শিক্ষা দিত না যে, আমরা পরীক্ষার জন্য; কাজেই তুমি কাফের হয়ো না। অতঃপর তারা তাদের কাছ থেকে এমন জাদু শিখত, যদ্দ্বারা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। তারা আল্লাহর আদেশ ছাড়া তদ্দ্বারা কারও অনিষ্ট করতে পারত না। যা তাদের ক্ষতি করে এবং উপকার না করে, তারা তাই শিখে। তারা ভালরূপে জানে যে, যে কেউ জাদু অবলম্বন করে, তার জন্য পরকালে কোন অংশ নেই। যার বিনিময়ে তারা আত্নবিক্রয় করেছে, তা খুবই মন্দ যদি তারা জানত।

They followed what the evil ones gave out (falsely) against the power of Solomon: the blasphemers Were, not Solomon, but the evil ones, teaching men Magic, and such things as came down at babylon to the angels Harut and Marut. But neither of these taught anyone (Such things) without saying: “We are only for trial; so do not blaspheme.” They learned from them the means to sow discord between man and wife. But they could not thus harm anyone except by Allah.s permission. And they learned what harmed them, not what profited them. And they knew that the buyers of (magic) would have no share in the happiness of the Hereafter. And vile was the price for which they did sell their souls, if they but knew!

 

৪ সুরা বাকারাহ ১৬৩-১৬৪

(163   وَإِلَـهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لاَّ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ

আর তোমাদের উপাস্য একইমাত্র উপাস্য। তিনি ছাড়া মহা করুণাময় দয়ালু কেউ নেই।

And your Allah is One Allah. There is no god but He, Most Gracious, Most Merciful.  

(164   إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلاَفِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنزَلَ اللّهُ مِنَ السَّمَاء مِن مَّاء فَأَحْيَا بِهِ الأرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِن كُلِّ دَآبَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخِّرِ بَيْنَ السَّمَاء وَالأَرْضِ لآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَعْقِلُونَ

নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’ আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্দ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু। আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে। Behold! in the creation of the heavens and the earth; in the alternation of the night and the day; in the sailing of the ships through the ocean for the profit of mankind; in the rain which Allah Sends down from the skies, and the life which He gives therewith to an earth that is dead; in the beasts of all kinds that He scatters through the earth; in the change of the winds, and the clouds which they Trail like their slaves between the sky and the earth;- (Here) indeed are Signs for a people that are wise.  

৫ সুরা বাকারাহ ২৫৫

(255   اللّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلاَ نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَاء وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ وَلاَ يَؤُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, তিনি জীবিত, সবকিছুর ধারক। তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসীমা থেকে তারা কোন কিছুকেই পরিবেষ্টিত করতে পারে না, কিন্তু যতটুকু তিনি ইচ্ছা করেন। তাঁর সিংহাসন সমস্ত আসমান ও যমীনকে পরিবেষ্টিত করে আছে। আর সেগুলোকে ধারণ করা তাঁর পক্ষে কঠিন নয়। তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান।

Allah. There is no god but He,-the Living, the Self-subsisting, Eternal. No slumber can seize Him nor sleep. His are all things in the heavens and on earth. Who is there can intercede in His presence except as He permitteth? He knoweth what (appeareth to His creatures as) before or after or behind them. Nor shall they compass aught of His knowledge except as He willeth. His Throne doth extend over the heavens and the earth, and He feeleth no fatigue in guarding and preserving them for He is the Most High, the Supreme (in glory).  

 

৬ সুরা বাকারাহ ২৮৫-২৮৬

(285 آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّ آمَنَ بِاللّهِ وَمَلآئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لاَ نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ وَقَالُواْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ

রসূল বিশ্বাস রাখেন ঐ সমস্ত বিষয় সম্পর্কে যা তাঁর পালনকর্তার পক্ষ থেকে তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছে এবং মুসলমানরাও সবাই বিশ্বাস রাখে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর গ্রন্থসমুহের প্রতি এবং তাঁর পয়গম্বরগণের প্রতি। তারা বলে আমরা তাঁর পয়গম্বরদের মধ্যে কোন তারতম্য করিনা। তারা বলে, আমরা শুনেছি এবং কবুল করেছি। আমরা তোমার ক্ষমা চাই, হে আমাদের পালনকর্তা। তোমারই দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।

The Messenger believeth in what hath been revealed to him from his Lord, as do the men of faith. Each one (of them) believeth in Allah, His angels, His books, and His apostles. “We make no distinction (they say) between one and another of His apostles.” And they say: “We hear, and we obey: (We seek) Thy forgiveness, our Lord, and to Thee is the end of all journeys.”

(286 لاَ يُكَلِّفُ اللّهُ نَفْسًا إِلاَّ وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لاَ تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلاَ تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلاَ تُحَمِّلْنَا مَا لاَ طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَآ أَنتَ مَوْلاَنَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যাতীত কোন কাজের ভার দেন না, সে তাই পায় যা সে উপার্জন করে এবং তাই তার উপর বর্তায় যা সে করে। হে আমাদের পালনকর্তা, যদি আমরা ভুলে যাই কিংবা ভুল করি, তবে আমাদেরকে অপরাধী করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! এবং আমাদের উপর এমন দায়িত্ব অর্পণ করো না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর অর্পণ করেছ, হে আমাদের প্রভূ! এবং আমাদের দ্বারা ঐ বোঝা বহন করিও না, যা বহন করার শক্তি আমাদের নাই। আমাদের পাপ মোচন কর। আমাদেরকে ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি দয়া কর। তুমিই আমাদের প্রভু। সুতরাং কাফের সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদের কে সাহায্যে কর।

On no soul doth Allah Place a burden greater than it can bear. It gets every good that it earns, and it suffers every ill that it earns. (Pray:) “Our Lord! Condemn us not if we forget or fall into error; our Lord! Lay not on us a burden Like that which Thou didst lay on those before us; Our Lord! Lay not on us a burden greater than we have strength to bear. Blot out our sins, and grant us forgiveness. Have mercy on us. Thou art our Protector; Help us against those who stand against faith.”

 

৭ সুরা আলে ইমরান ১৮-১৯

(18 شَهِدَ اللّهُ أَنَّهُ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ وَالْمَلاَئِكَةُ وَأُوْلُواْ الْعِلْمِ قَآئِمَاً بِالْقِسْطِ لاَ إِلَـهَ إِلاَّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তাঁকে ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই। ফেরেশতাগণ এবং ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।

There is no god but He: That is the witness of Allah, His angels, and those endued with knowledge, standing firm on justice. There is no god but He, the Exalted in Power, the Wise.

(19 إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللّهِ الإِسْلاَمُ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوْتُواْ الْكِتَابَ إِلاَّ مِن بَعْدِ مَا جَاءهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًا بَيْنَهُمْ وَمَن يَكْفُرْ بِآيَاتِ اللّهِ فَإِنَّ اللّهِ سَرِيعُ الْحِسَابِ

নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম। এবং যাদের প্রতি কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের নিকট প্রকৃত জ্ঞান আসার পরও ওরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছে, শুধুমাত্র পরস্পর বিদ্বেষবশতঃ, যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের প্রতি কুফরী করে তাদের জানা উচিত যে, নিশ্চিতরূপে আল্লাহ হিসাব গ্রহণে অত্যন্ত দ্রুত।

The Religion before Allah is Islam (submission to His Will): Nor did the People of the Book dissent therefrom except through envy of each other, after knowledge had come to them. But if any deny the Signs of Allah, Allah is swift in calling to account.

 

৮ সুরা আ’রাফ ৫৪-৫৬

(54 إِنَّ رَبَّكُمُ اللّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلاَ لَهُ الْخَلْقُ وَالأَمْرُ تَبَارَكَ اللّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ

নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্টিত হয়েছেন। তিনি পরিয়ে দেন রাতের উপর দিনকে এমতাবস্থায় যে, দিন দৌড়ে রাতের পিছনে আসে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র দৌড় স্বীয় আদেশের অনুগামী। শুনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা। আল্লাহ, বরকতময় যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

Your Guardian-Lord is Allah, Who created the heavens and the earth in six days, and is firmly established on the throne (of authority): He draweth the night as a veil o’er the day, each seeking the other in rapid succession: He created the sun, the moon, and the stars, (all) governed by laws under His command. Is it not His to create and to govern? Blessed be Allah, the Cherisher and Sustainer of the worlds!

(55 ادْعُواْ رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً إِنَّهُ لاَ يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ

তোমরা স্বীয় প্রতিপালককে ডাক, কাকুতি-মিনতি করে এবং সংগোপনে। তিনি সীমা অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না। Call on your Lord with humility and in private: for Allah loveth not those who trespass beyond bounds.

(56 وَلاَ تُفْسِدُواْ فِي الأَرْضِ بَعْدَ إِصْلاَحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا إِنَّ رَحْمَتَ اللّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ

পৃথিবীকে কুসংস্কারমুক্ত ও ঠিক করার পর তাতে অনর্থ সৃষ্টি করো না। তাঁকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয় আল্লাহর করুণা সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী।

Do no mischief on the earth, after it hath been set in order, but call on Him with fear and longing (in your hearts): for the Mercy of Allah is (always) near to those who do good.  

 

৯ সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২

(117 وَأَوْحَيْنَا إِلَى مُوسَى أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ

তারপর আমি ওহীযোগে মূসাকে বললাম, এবার নিক্ষেপ কর তোমার লাঠিখানা। অতএব সঙ্গে সঙ্গে তা সে সমুদয়কে গিলতে লাগল, যা তারা বানিয়েছিল যাদু বলে। We put it into Moses’s mind by inspiration:

“Throw (now) thy rod”:and behold! it swallows up straight away all the falsehoods which they fake!

(118 فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُواْ يَعْمَلُونَ সুতরাং এভাবে প্রকাশ হয়ে গেল সত্য বিষয় এবং ভুল প্রতিপন্ন হয়ে গেল যা কিছু তারা করেছিল। Thus truth was confirmed, and all that they did was made of no effect.

(119 فَغُلِبُواْ هُنَالِكَ وَانقَلَبُواْ صَاغِرِينَ সুতরাং তারা সেখানেই পরাজিত হয়ে গেল এবং অতীব লাঞ্ছিত হল। So the (great ones) were vanquished there and then, and were made to look small.

(120 وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ এবং যাদুকররা সেজদায় পড়ে গেল। But the sorcerers fell down prostrate in adoration.

(121 قَالُواْ آمَنَّا بِرِبِّ الْعَالَمِينَ বলল, আমরা ঈমান আনছি মহা বিশ্বের পরওয়ারদেগারের প্রতি। Saying: “We believe in the Lord of the Worlds,-

(122 رَبِّ مُوسَى وَهَارُونَ যিনি মূসা ও হারুনের পরওয়ারদেগার। “The Lord of Moses and Aaron.”  

 

১০ সুরা ইউনুস ৮১-৮২

(81 فَلَمَّا أَلْقَواْ قَالَ مُوسَى مَا جِئْتُم بِهِ السِّحْرُ إِنَّ اللّهَ سَيُبْطِلُهُ إِنَّ اللّهَ لاَ يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ

অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু-এবার আল্লাহ এসব ভন্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না।

When they had had their throw, Moses said: “What ye have brought is sorcery: Allah will surely make it of no effect: for Allah prospereth not the work of those who make mischief.

(82 وَيُحِقُّ اللّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ

আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন স্বীয় নির্দেশে যদিও পাপীদের তা মনঃপুত নয়।

“And Allah by His words doth prove and establish His truth, however much the sinners may hate it!”  

 

১১ সুরা ত্বহা ৬৯

(69 وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَى

তোমার ডান হাতে যা আছে তুমি তা নিক্ষেপ কর। এটা যা কিছু তারা করেছে তা গ্রাস করে ফেলবে। তারা যা করেছে তা তো কেবল যাদুকরের কলাকৌশল। যাদুকর যেখানেই থাকুক, সফল হবে না।

“Throw that which is in thy right hand: Quickly will it swallow up that which they have faked what they have faked is but a magician’s trick: and the magician thrives not, (no matter) where he goes.”  

 

১২ সুরা মু’মিনুন ১১৫-১১৮

(15 ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে After that, at length ye will die

(16 ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ অতঃপর কেয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে। Again, on the Day of Judgment, will ye be raised up.

(17 وَلَقَدْ خَلَقْنَا فَوْقَكُمْ سَبْعَ طَرَائِقَ وَمَا كُنَّا عَنِ الْخَلْقِ غَافِلِينَ আমি তোমাদের উপর সুপ্তপথ সৃষ্টি করেছি এবং আমি সৃষ্টি সম্বন্ধে অনবধান নই। And We have made, above you, seven tracts; and We are never unmindful of (our) Creation.  

(18 وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاء مَاء بِقَدَرٍ فَأَسْكَنَّاهُ فِي الْأَرْضِ وَإِنَّا عَلَى ذَهَابٍ بِهِ لَقَادِرُونَ আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে থাকি পরিমাণ মত অতঃপর আমি জমিনে সংরক্ষণ করি এবং আমি তা অপসারণও করতে সক্ষম। And We send down water from the sky according to (due) measure, and We cause it to soak in the soil; and We certainly are able to drain it off (with ease).  

 

১৩ সুরা সফফাত ১-১০

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
 
(1 وَالصَّافَّاتِ صَفًّا
শপথ তাদের যারা সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ানো,
By those who range themselves in ranks,
(2 فَالزَّاجِرَاتِ زَجْرًا
অতঃপর ধমকিয়ে ভীতি প্রদর্শনকারীদের,
And so are strong in repelling (evil),
(3 فَالتَّالِيَاتِ ذِكْرًا
অতঃপর মুখস্থ আবৃত্তিকারীদের-
And thus proclaim the Message (of Allah.!
(4 إِنَّ إِلَهَكُمْ لَوَاحِدٌ
নিশ্চয় তোমাদের মাবুদ এক।
Verily, verily, your Allah is one!-
(5 رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَرَبُّ الْمَشَارِقِ
তিনি আসমান সমূহ, যমীনও এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর পালনকর্তা এবং পালনকর্তা উদয়াচলসমূহের।
Lord of the heavens and of the earth and all between them, and Lord of every point at the rising of the sun!
(6 إِنَّا زَيَّنَّا السَّمَاء الدُّنْيَا بِزِينَةٍ الْكَوَاكِبِ
নিশ্চয় আমি নিকটবর্তী আকাশকে তারকারাজির দ্বারা সুশোভিত করেছি।
We have indeed decked the lower heaven with beauty (in) the stars,-
(7 وَحِفْظًا مِّن كُلِّ شَيْطَانٍ مَّارِدٍ
এবং তাকে সংরক্ষিত করেছি প্রত্যেক অবাধ্য শয়তান থেকে।
(For beauty) and for guard against all obstinate rebellious evil spirits,
(8 لَا يَسَّمَّعُونَ إِلَى الْمَلَإِ الْأَعْلَى وَيُقْذَفُونَ مِن كُلِّ جَانِبٍ
ওরা উর্ধ্ব জগতের কোন কিছু শ্রবণ করতে পারে না এবং চার দিক থেকে তাদের প্রতি উল্কা নিক্ষেপ করা হয়।
(So) they should not strain their ears in the direction of the Exalted Assembly but be cast away from every side,
(9 دُحُورًا وَلَهُمْ عَذَابٌ وَاصِبٌ
ওদেরকে বিতাড়নের উদ্দেশে। ওদের জন্যে রয়েছে বিরামহীন শাস্তি।
Repulsed, for they are under a perpetual penalty,
(10 إِلَّا مَنْ خَطِفَ الْخَطْفَةَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ ثَاقِبٌ
তবে কেউ ছোঁ মেরে কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড তার পশ্চাদ্ধাবন করে।
Except such as snatch away something by stealth, and they are pursued by a flaming fire, of piercing brightness.

 

১৪ সুরা আহকাফ ২৯-৩২

(29 وَإِذْ صَرَفْنَا إِلَيْكَ نَفَرًا مِّنَ الْجِنِّ يَسْتَمِعُونَ الْقُرْآنَ فَلَمَّا حَضَرُوهُ قَالُوا أَنصِتُوا فَلَمَّا قُضِيَ وَلَّوْا إِلَى قَوْمِهِم مُّنذِرِينَ

যখন আমি একদল জিনকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করেছিলাম, তারা কোরআন পাঠ শুনছিল,। তারা যখন কোরআন পাঠের জায়গায় উপস্থিত হল, তখন পরস্পর বলল, চুপ থাক। অতঃপর যখন পাঠ সমাপ্ত হল, তখন তারা তাদের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারীরূপে ফিরে গেল।

Behold, We turned towards thee a company of Jinns (quietly) listening to the Qur’an: when they stood in the presence thereof, they said, “Listen in silence!” When the (reading) was finished, they returned to their people, to warn (them of their sins).

(30 قَالُوا يَا قَوْمَنَا إِنَّا سَمِعْنَا كِتَابًا أُنزِلَ مِن بَعْدِ مُوسَى مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ يَهْدِي إِلَى الْحَقِّ وَإِلَى طَرِيقٍ مُّسْتَقِيمٍ

তারা বলল, হে আমাদের সম্প্রদায়, আমরা এমন এক কিতাব শুনেছি, যা মূসার পর অবর্তীণ হয়েছে। এ কিতাব পূর্ববর্তী সব কিতাবের প্রত্যায়ন করে, সত্যধর্ম ও সরলপথের দিকে পরিচালিত করে।

They said, “O our people! We have heard a Book revealed after Moses, confirming what came before it: it guides (men) to the Truth and to a Straight Path.

(31 يَا قَوْمَنَا أَجِيبُوا دَاعِيَ اللَّهِ وَآمِنُوا بِهِ يَغْفِرْ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُجِرْكُم مِّنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

হে আমাদের সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মান্য কর এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর। তিনি তোমাদের গোনাহ মার্জনা করবেন।

“O our people, hearken to the one who invites (you) to Allah, and believe in him: He will forgive you your faults, and deliver you from a Penalty Grievous.

(32 وَمَن لَّا يُجِبْ دَاعِيَ اللَّهِ فَلَيْسَ بِمُعْجِزٍ فِي الْأَرْضِ وَلَيْسَ لَهُ مِن دُونِهِ أَولِيَاء أُوْلَئِكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

আর যে ব্যক্তি আল্লাহর দিকে আহবানকারীর কথা মানবে না, সে পৃথিবীতে আল্লাহকে অপারক করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তার কোন সাহায্যকারী থাকবে না। এ ধরনের লোকই প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত।

“If any does not hearken to the one who invites (us) to Allah, he cannot frustrate ((Allah)’s Plan) on earth, and no protectors can he have besides Allah. such men (wander) in manifest error.”  

 

১৫ সুরা আর-রাহমান ৩৩-৩৬

(33 يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ হে জিন ও মানবকূল, নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের প্রান্ত অতিক্রম করা যদি তোমাদের সাধ্যে কুলায়, তবে অতিক্রম কর। কিন্তু ছাড়পত্র ব্যতীত তোমরা তা অতিক্রম করতে পারবে না। O ye assembly of Jinns and men! If it be ye can pass beyond the zones of the heavens and the earth, pass ye! not without authority shall ye be able to pass!

(34 فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? Then which of the favours of your Lord will ye deny?

(35 يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّن نَّارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنتَصِرَانِ ছাড়া হবে তোমাদের প্রতি অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও ধুম্রকুঞ্জ তখন তোমরা সেসব প্রতিহত করতে পারবে না। On you will be sent (O ye evil ones twain!) a flame of fire (to burn) and a smoke (to choke): no defence will ye have:

(36 فَبِأَيِّ آلَاء رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের পালনকর্তার কোন কোন অবদানকে অস্বীকার করবে? Then which of the favours of your Lord will ye deny?  

 

১৬ সুরা হাশর ২১-২৪

(21 لَوْ أَنزَلْنَا هَذَا الْقُرْآنَ عَلَى جَبَلٍ لَّرَأَيْتَهُ خَاشِعًا مُّتَصَدِّعًا مِّنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ যদি আমি এই কোরআন পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ করতাম, তবে তুমি দেখতে যে, পাহাড় বিনীত হয়ে আল্লাহ তা’আলার ভয়ে বিদীর্ণ হয়ে গেছে। আমি এসব দৃষ্টান্ত মানুষের জন্যে বর্ণনা করি, যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে। Had We sent down this Qur’an on a mountain, verily, thou wouldst have seen it humble itself and cleave asunder for fear of Allah. Such are the similitudes which We propound to men, that they may reflect.

(22 هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ তিনিই আল্লাহ তা’আলা, তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যকে জানেন তিনি পরম দয়ালু, অসীম দাতা। Allah is He, than Whom there is no other god;- Who knows (all things) both secret and open; He, Most Gracious, Most Merciful.

(23 هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ তিনিই আল্লাহ তিনি ব্যতিত কোন উপাস্য নেই। তিনিই একমাত্র মালিক, পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তাদাতা, আশ্রয়দাতা, পরাক্রান্ত, প্রতাপান্বিত, মাহাত্নøশীল। তারা যাকে অংশীদার করে আল্লাহ তা’ আলা তা থেকে পবিত্র। Allah is He, than Whom there is no other god;- the Sovereign, the Holy One, the Source of Peace (and Perfection), the Guardian of Faith, the Preserver of Safety, the Exalted in Might, the Irresistible, the Supreme: Glory to Allah. (High is He) above the partners they attribute to Him.

(24 هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاء الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ তিনিই আল্লাহ তা’আলা, স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নাম সমূহ তাঁরই। নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়। He is Allah, the Creator, the Evolver, the Bestower of Forms (or Colours). To Him belong the Most Beautiful Names: whatever is in the heavens and on earth, doth declare His Praises and Glory: and He is the Exalted in Might, the Wise.  

 

১৭ সুরা জিন ১-৯

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(1 قُلْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ فَقَالُوا إِنَّا سَمِعْنَا قُرْآنًا عَجَبًا বলুনঃ আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে, অতঃপর তারা বলেছেঃ আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি; Say: It has been revealed to me that a company of Jinns listened (to the Qur’an). They said, ‘We have really heard a wonderful Recital!

(2 يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ فَآمَنَّا بِهِ وَلَن نُّشْرِكَ بِرَبِّنَا أَحَدًا যা সৎপথ প্রদর্শন করে। ফলে আমরা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছি। আমরা কখনও আমাদের পালনকর্তার সাথে কাউকে শরীক করব না। ‘It gives guidance to the Right, and we have believed therein: we shall not join (in worship) any (gods) with our Lord.

(3 وَأَنَّهُ تَعَالَى جَدُّ رَبِّنَا مَا اتَّخَذَ صَاحِبَةً وَلَا وَلَدًا এবং আরও বিশ্বাস করি যে, আমাদের পালনকর্তার মহান মর্যাদা সবার উর্ধ্বে। তিনি কোন পত্নী গ্রহণ করেননি এবং তাঁর কোন সন্তান নেই। ‘And Exalted is the Majesty of our Lord: He has taken neither a wife nor a son.

(4 وَأَنَّهُ كَانَ يَقُولُ سَفِيهُنَا عَلَى اللَّهِ شَطَطًا আমাদের মধ্যে নির্বোধেরা আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে বাড়াবাড়ির কথাবার্তা বলত। ‘There were some foolish ones among us, who used to utter extravagant lies against Allah.

(5 وَأَنَّا ظَنَنَّا أَن لَّن تَقُولَ الْإِنسُ وَالْجِنُّ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا অথচ আমরা মনে করতাম, মানুষ ও জিন কখনও আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না। ‘But we do think that no man or spirit should say aught that untrue against Allah.

(6 وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্নম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত। ‘True, there were persons among mankind who took shelter with persons among the Jinns, but they increased them in folly.

(7 وَأَنَّهُمْ ظَنُّوا كَمَا ظَنَنتُمْ أَن لَّن يَبْعَثَ اللَّهُ أَحَدًا তারা ধারণা করত, যেমন তোমরা মানবেরা ধারণা কর যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ তা’আলা কখনও কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না। ‘And they (came to) think as ye thought, that Allah would not raise up any one (to Judgment).

(8 وَأَنَّا لَمَسْنَا السَّمَاء فَوَجَدْنَاهَا مُلِئَتْ حَرَسًا شَدِيدًا وَشُهُبًا আমরা আকাশ পর্যবেক্ষণ করছি, অতঃপর দেখতে পেয়েছি যে, কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিন্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ। ‘And we pried into the secrets of heaven; but we found it filled with stern guards and flaming fires.

(9 وَأَنَّا كُنَّا نَقْعُدُ مِنْهَا مَقَاعِدَ لِلسَّمْعِ فَمَن يَسْتَمِعِ الْآنَ يَجِدْ لَهُ شِهَابًا رَّصَدًا আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শ্রবণার্থে বসতাম। এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে জলন্ত উল্কাপিন্ড ওঁৎ পেতে থাকতে দেখে। ‘We used, indeed, to sit there in (hidden) stations, to (steal) a hearing; but any who listen now will find a flaming fire watching him in ambush.  

 

১৮ সুরা ইখলাস

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ | শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

 
 
112(1 قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ
বলুন, তিনি আল্লাহ, এক,
Say: He is Allah, the One and Only;
 
112(2 اللَّهُ الصَّمَدُ
আল্লাহ অমুখাপেক্ষী,
Allah, the Eternal, Absolute;
 
112(3 لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ
তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি
He begetteth not, nor is He begotten;
 
112(4 وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ
এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।
And there is none like unto Him.

  ১৯ সুরা ফালাক

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ
শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।
 
(1 قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি প্রভাতের পালনকর্তার,
Say: I seek refuge with the Lord of the Dawn
 
(2 مِن شَرِّ مَا خَلَقَ
তিনি যা সৃষ্টি করেছেন, তার অনিষ্ট থেকে,
From the mischief of created things;
 
(3 وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ
অন্ধকার রাত্রির অনিষ্ট থেকে, যখন তা সমাগত হয়,
From the mischief of Darkness as it overspreads;
 
(4 وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ
গ্রন্থিতে ফুঁৎকার দিয়ে জাদুকারিনীদের অনিষ্ট থেকে
From the mischief of those who practice secret arts;
 
(5 وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ
এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।
And from the mischief of the envious one as he practices envy.

  ২০ সুরা নাস

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

 
114(1 قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ
বলুন, আমি আশ্রয় গ্রহণ করিতেছি মানুষের পালনকর্তার,
Say: I seek refuge with the Lord and Cherisher of Mankind,
 
114(2 مَلِكِ النَّاسِ
মানুষের অধিপতির,
The King (or Ruler) of Mankind,
 
114(3 إِلَهِ النَّاسِ
মানুষের মা’বুদের
The Allah (for judge) of Mankind,
 
114(4 مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ
তার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় ও আত্নগোপন করে,
From the mischief of the Whisperer (of Evil), who withdraws (after his whisper),
 
114(5 الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ
যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে
(The same) who whispers into the hearts of Mankind,
 
114(6 مِنَ الْجِنَّةِ وَ النَّاسِ
জ্বিনের মধ্য থেকে অথবা মানুষের মধ্য থেকে।
Among Jinns and among men.

— [পিডিএফ ডাউনলোড] সাধারণত ভার্শন: http://bit.ly/2pVTBHz মোবাইল ভার্শন: http://bit.ly/2oYYUZw রুকইয়া ডাউনলোড পেইজের একদম শেষেও পাওয়া যাবে — [ঘ] উপরে বলা আয়াতগুলো কমন আয়াত। অর্থাৎ সবধরনের রুকইয়ার ক্ষেত্রেই এগুলো পড়া যাবে। রুকইয়া করার সময় যেসব খেয়াল রাখবেন- ১. সিহরের জন্য রুকইয়া করলে- ‘সুরা বাকারার ১০২, আরাফ ১২০, ইউনুস ৮১এর মাঝের অংশ (ইন্নাল্লহা সাইউবতিলুহ), ত্বহা ৬৯, সুরা ফালাক ৪’ -এসব আয়াত বারবার পড়বেন। আর এক্ষেত্রে প্রতিবার বিসমিল্লাহ পড়ার দরকার নেই, শুধু প্রথমে পড়বেন। ২. তিলাওয়াতের সময় অবশ্যই সহীহ-শুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করবেন। উদাহরণ হিসেবে পছন্দের কোনো ক্বারির তিলাওয়াত শুনে নিন। আমি শায়েখ সুদাইসেরটা সাজেস্ট করবো। ৩. তিলাওয়াতের সময় (জ্বিনের সমস্যা থাকলে) রুগী চিল্লাচিল্লি করলে থামবেন না। পড়তে থাকবেন। যদি জ্বিন চলে যেতে চায় ওয়াদা করাবেন যেন আর না আসে। ৪. এত কিছু পড়তে ইচ্ছা না হলে সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস এগুলো বারবার পড়ে রুকইয়া করতে পারেন, এতেও উপকার হবে। [ঙ] লক্ষণীয়ঃ ১. কি দিয়ে যাদু করেছে যদি পাওয়া যায়, অথবা কোন সন্দেহজনক তাবিজ পাওয়া যায়। তাহলে ভেতর থেকে তাবিজের কাগজটা বের করবেন। (সতর্কতা হিসেবে যাদুর কোন জিনিশ খালি হাতে ধরা উচিত না) ২. এরপর একটা পাত্রে পানি নিবেন, তারপর “সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” একবার, এরপর সুরা ইখলাস ফালাক নাস ৩বার পড়বেন, এবং পানিতে ফুঁ দিবেন। তারপর যাদুর জিনিশগুলো পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখবেন । তাবিজ হলে, কাগজ, ঠোঙা, সুতা সব ডুবাবেন। তারপর কাগজটা নষ্ট করে দিবেন। তাহলে ইনশাআল্লাহ যাদু ধ্বংস হয়ে যাবে। ৩. যদি যাদুর জিনিশগুলো খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে বাড়িতেই কোথাও পুঁতে রাখা আছে এরকম জানা যায়। তাহলে উপরের আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে তিনদিন পুরো বাড়িতে ছিটিয়ে দিলে ইনশাআল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে।  

 

 

 

 

 

জাদু,ক্ষতিকারক তাবিজ থেকে রক্ষা পাওয়ার কার্যকর আমল || دعاء السحر || Curse Against Magician

  https://youtu.be/mqeB2Q4kJIE?list=PLWNG5hvMgAMFJt4J2H9FgiUXRf-t91Zrf  

 

ডিটক্স

কারও সমস্যা যদি অনেক প্রকারের কিংবা অনেক বেশি হয়, তখন সেটাকে একটা মাত্রায় আনার জন্য আমরা ডিটক্স সাজেস্ট করে থাকি। এছাড়া এই রুটিনটা “সার্বজনীন পূর্ণ রুকইয়াহ প্রোগ্রামে” প্রোগ্রামের মাঝেও প্রেসক্রাইব করা হয়েছে। আমাদের যা যা দরকার হবে – ১. পানি। সাড়ে তিন থেকে চার লিটার।
  • জমজমের পানি হলে সবচেয়ে ভালো। রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এর মাঝে শিফা আছে।
  •  নইলে বৃষ্টির পানি – আল্লাহ তা’আলা এটাকে বরকতময় বলেছেন।
  •  এসব না পেলে সাধারণ পানি – রাসূল স. সাধারণ পানিও রুকইয়ার জন্য ব্যবহার করেছেন। (জমজম বা বৃষ্টির পানি অল্প থাকলে বরকতের জন্য সাধারণ পানির সাথে মিক্স করা যেতে পারে)
২. অলিভ অয়েল। কোরআনুল কারিমে যাইতুনের তেলকে বরকতময় বলা হয়েছে। ১০০মিলি. হলে যথেষ্ট হবে ইনশাআল্লাহ।
  •  সবচেয়ে ভালো হয় মধ্যপ্রাচ্যের কোন দেশের এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল হলে।
  •  নইলে এমনি সাধারণ ভালো কোন অলিভ অয়েল।
৩. মধু। ২৫০ গ্রাম। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, মধুর মাঝে মানুষের জন্য শিফা রয়েছে।
  •  যথাসম্ভব পিওর মধু। এক্ষেত্রে পরিচিত কারও থেকে বা নির্ভরযোগ্য অনলাইন শপের সহায়তা নেয়া যায়।
৪. কালোজিরা। ৫০গ্রাম। রাসূল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কালোজিরা মৃত্যু ব্যতীত সকল রোগের শিফা।
  • এটাও ভালো হওয়া উচিত, ব্যবহারের আগে সম্ভব হলে ময়লা ঝেড়ে ফেলা।
৫. তিলাওয়াতের জন্য কোরআন শরিফ। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন- বিশ্বাসীদের জন্য কোরআনের মাঝে শিফা এবং রহমত রয়েছে। এসব যদি সংগ্রহ করা হয়ে যায়, তাহলে আমরা শুরু করতে পারি। উপকরণগুলো হাতের কাছে রেখে নিম্নের আয়াতগুলো পড়ুন এবং সেগুলোতে ফুঁ দিন ।
 
১. সুরা ফাতিহা – ৭বার
২. আয়াতুল কুরসি – ৭বার
৩. সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস – সব তিনবার করে।
৪. সুরা বাক্বারা সম্পূর্ণ। এক বসাতেই পুরাটা পড়ে শেষ করতে হবে এমন না, একবারে যতটুকু পারবেন পড়বেন, ফুঁ দিবেন। এরপর কোন কাজ থাকলে সেটা শেষ করে এসে বাকিটা পড়বেন, প্রয়োজনে দুই-তিন দিনে প্রস্তুত করবেন, এরপর কোর্স শুরু করবেন। সমস্যা নাই।  এসব পড়ুন আর মাঝে মাঝে পানি অলিভ অয়েল ফুঁ দিন। এরপর মধু ও কালোজিরায় ফু দিন।
 
এই স্টেপগুলো ঠিকভাবে অনুসরণ করে থাকলে আপনি “সুস্থতার পথে ৭ দিন” প্রোগ্রাম শুরু করার জন্য প্রস্তুত!
 
কিভাবে ব্যবহার করবেন?
 
১. প্রথম ৩দিন ঘুমের আগে মাথা থেকে পায়ের তালু পর্যন্ত, পুরো শরীরে রুকইয়া করা অলিভ অয়েল মাখবেন।
২. এরপর আধা গ্লাস রুকইয়ার পানিতে এক চা চামচ মধু দিন। এর সাথে সাতটা কালোজিরা মিশিয়ে এটাকে গুলিয়ে খেয়ে ফেলুন। এটাকে শরবত না, বরং ঔষধ মনে করে খাবেন।
৩. ঘুম থেকে উঠে সাবান দিয়ে ভালোভাবে গোসল করবেন, এবং গোসলের পানিতে এক গ্লাস রুকইয়ার পানি মিশিয়ে নিবেন। শীতকালে হালকা গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন, কোন সমস্যা নেই।
৪. সকালে গোসলের পর আবার আধা গ্লাস রুকইয়ার পানিতে, ১ চামচ মধু এবং ৭টা কালোজিরা গুলিয়ে খেয়ে নিন। (এই রুটিন প্রথম তিনদিনের জন্য)
৫. পরের ৪দিন একই রুটিন তবে  ঘুমের আগে শরীরের যেসব যায়গায় ব্যথা আছে, শুধু সে জায়গাগুলোতে রুকইয়া করা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।
 
এই কয়দিনে কি ঘটতে পারে?
 
১. প্রথম দিন হয়তো তেমন কিছুই অনুভব করবেন না। তবে কারো কারো প্রথম দিন থেকেই ইফেক্ট শুরু হয়।
২. দ্বিতীয় এবং তৃতীয়দিন সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়বেন, প্রচণ্ড দুর্বল লাগবে। অথবা পুরো শরীর বা বিভিন্ন অঙ্গ ব্যথা হয়ে থাকবে। ভারি ব্যায়াম করলে যেমন ব্যথা হয়, সেরকম হতে পারে।
৩. চতুর্থ দিন থেকে সমস্যা কমতে শুরু হবে ইনশাআল্লাহ, এবং ৭দিনের প্রোগ্রাম শেষ হতে হতে আল্লাহ চায়তো আপনি একদম ফ্রেশ হয়ে যাবেন।
৪. যদি (আল্লাহ না করুক) ৭ দিন পরেও আপনার যথেষ্ট উন্নতি দেখা না যায়, তাহলে আপনার উচিত হবে অভিজ্ঞ কারও পরামর্শ নিয়ে লাগাতার কয়েকমাস “সর্বজনীন পূর্ণ রুকইয়াহ প্রোগ্রাম” অনুসরণ করা।
৫. আপনার উচিত হবে এই কয়দিন নিজের গুনাহ থেকে ক্ষমা চেয়ে ইস্তেগফার করতে থাকা। প্রতিদিনের মাসনুন আমলগুলো করা। আর বেশি বেশি দোয়া করা, যেন সপ্তাহ শেষে আপনি একদম সুস্থ হয়ে যান।
৬. এই কয়দিন চাইলে যেকোনো কারির রুকইয়াহ শুনতে পারেন। নিজে তিলাওয়াত করলে আরও ভালো, সম্ভব হলে রুকইয়ার নিয়াতে প্রতিদিন সুরা বাক্বারা তিলাওয়াত করুন / মনোযোগ দিয়ে শুনুন। ইনশাআল্লাহ অনেক উপকার হবে।
৭. আর হ্যাঁ! এই রুটিন ফলো করার সময় একটা ডায়েরি বা নোটবুক রাখুন, খুব সংক্ষেপে আপনার অবস্থা নোট করুন। যেন প্রোগ্রাম শেষে সেটা আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুস্থ এবং নিরাপদ রাখুন, আমিন। পাশাপাশি ডাউনলোড পেইজের বিভিন্ন কারীদের সাধারন রুকইয়াহ (১১ থেকে ২১ পর্যন্ত) থেকে যেকোন একটা শোনাতে পারেন। একই সাথে সুরা আর-রাহমান শোনাবেন। যদি আপনি নিজে তেলাওয়াত করে শোনাতে পারেন তাহলে আরও ভাল। নাহলে অডিও ডাউনলোড করে নিন।
 
২। ডিটক্স শেষ হলে সাধারন অসুস্থতার রুকইয়াহ করবেন। এর নিয়ম উপরের ২ এবং ৩নং পদ্ধতির মতই। নিচের লিংকে এবিষয়ে আরও বিবরণ পাবেন। এভাবে রুকইয়াহ চালিয়ে যেতে থাকবেন। আল্লাহ চাইলে উপকার পাবেন।

 

 

সাধারন অসুস্থতার জন্য রুকইয়াহ 

  বিভিন্ন অসুখ-বিসুখের জন্য রুকইয়া করতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনেক দু’আ-কালাম পাওয়া যায়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুগীর মাথায়/কপালে হাত রেখে এসব পড়তেন, কখনো এসব পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে ফুঁ দিতেন। সব এখানে লেখা সম্ভব না, কমন একটা রুকইয়া বলা হচ্ছে। এটা ফলো করলে ইনশাআল্লাহ উপকার পাওয়া যাবে। কোরআন থেকে প্রসিদ্ধ কয়েকটি আয়াতে রুকইয়া- “সুরা ফাতিহা, সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস, ৬টি আয়াতে শিফা, ৭টি আয়াতে সালাম” এগুলো তিনবার বা সাতবার করে পড়া । এর সাথে রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রুকইয়ার দোয়াগুলো পড়া।
 
৬টি আয়াতে শিফা (৯/১৪, ১০/৫৭, ১৬/৬৯, ১৭/৮২, ২৬/৮০, ৪১/৪৪)
 
১.وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ
২. وَشِفَاء لِّمَا فِي الصُّدُورِ
৩. يخْرُجُ مِن بُطُونِهَا شَرَابٌ مُّخْتَلِفٌ أَلْوَانُهُ فِيهِ شِفَاء لِلنَّاسِ
৪. وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاء وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
৫. وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ
৬. قُلْ هُوَ لِلَّذِينَ آمَنُوا هُدًى وَشِفَاء
 
এরপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত অনেক দো’আ আছে, এর মাঝে কয়েকটি হল-
 
১. اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاسَ، اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا
২. بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ، مِنْ كُلِّ شَيْءٍ يُؤْذِيكَ، مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسٍ أَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيكَ بِسْمِ اللَّهِ أَرْقِيكَ
৩. بِاسْمِ اللَّهِ يُبْرِيكَ، وَمِنْ كُلِّ دَاءٍ يَشْفِيكَ، وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ، وَشَرِّ كُلِّ ذِي عَيْنٍ
৪. اَسْأَلُ اللهَ الْعَظِيْم، رَبَّ الْعَرْشِ الْعَظِيْم، اَنْ يَّشْفِيَكْ
৫. بِسْمِ اللَّه، بِسْمِ اللَّه، بِسْمِ اللَّه، أَعُوذُ بِعِزَّةِ اللَّهِ وَقُدْرَتِهِ، مِنْ شَرِّ مَا أَجِدُ وَأُحَاذِرُ

৭টি আয়াতে সালাম কুরআন মাজীদে সাত জায়গায় সাতটি সালাম শব্দ আছে। এগুলোকে আয়াতে সালাম বলা হয়। এগুলোর ফযীলত হচ্ছে, যারা সকাল সন্ধ্যা এ আয়াত পাঠ করবে তারা আল্লাহর রহমতে সকল বিপদ আপদ থেকে রক্ষা পাবে। আয়াতগুলোর বাংলা উচ্চারণ ও কোন কাজের ক্ষেত্রে কোন আয়াত পাঠ করতে হবে তা নিচে বর্ননা করা হলোঃ

(১) সালামুন কাওলাম মির রাব্বির রাহীম। পরম দয়ালু প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদেরকে বলা হবে সালাম। আল্লাহর এই সালাম ফিরিশতাগণ জান্নাতীগণের নিকট পৌঁছে দেবেন। অনেকে বলেন যে, আল্লাহ তাআলা নিজে সরাসরি তাদেরকে সালাম দিয়ে সম্মানিত করবেন। (ইয়াসিনঃ ৫৮)

(২) সালামুন আলা নূহিন ফিল আলামীন। সমগ্র বিশ্বের মধ্যে নূহের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক! (সাফফাতঃ ৭৯)

(৩) সালামুন আলা ইব্রাহীম। ইবরাহীমের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! (সাফফাতঃ ১০৯)

(৪) সালামুন আলা মূসা ওয়া হারুন। মূসা ও হারূনের প্রতি সালাম। (সাফফাতঃ ১২০)

(৫) সালামুন আলা ইলইয়াসিন। ইল-ইয়াসীনের উপর শান্তি বৰ্ষিত হোক। এই আয়াতগুলি তেলায়াতে তাদের প্রতি শান্তি ও নিরাপত্তা বর্ষিত হয়। (সাফফাতঃ ১২০)

(৬) সালামুন আলাইকুম তিবতুম ফাদখুলুহা খালিদুন। (ফুরকানঃ ৬৩) চরিত্র সংশোধন ও কথা কাজ সুন্দর হওয়ার জন্য এ আয়াত পাঠ করুন

(৭) সালামুন হিয়া হাত্তা মাতলাইল ফাজর। শান্তিময় সে রাত, ফজরের আবির্ভাব পর্যন্ত। (কদরঃ ৫) আল্লাহর রহমতের ছায়ায় আশ্রয় পাওয়ার জন্য এ আয়াত পাঠ করুন। সন্ধ্যা থেকে সকাল পর্যন্ত সারাটা রাত শুধু শান্তিই শান্তি, মঙ্গলই মঙ্গল তথা কল্যাণে পরিপূর্ণ। সে রাত্র সর্বপ্রকার অনিষ্ট থেকে মুক্ত। [কদরের রাতের ফজিলতঃ তাবারী] .

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

যাদুগ্রস্ত (৪) বিয়ে ভাঙার যাদু

[ক] কাউকে বিয়ে ভাঙা বা আটকে রাখার জন্য বান মারলে / তাবিজ করলে / যাদু করলে সাধারণত এমন দেখা যায় প্রস্তাব আসে, সবকিছু পারফেক্ট থাকলেও পছন্দ হয়না। সব ঠিকঠাক থাকার পরও হয়তো ছেলে বেঁকে বসে, নয়তো মেয়ে। কোনোনা কোনোভাবে বিয়ে ভেঙে যায়। মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় অনেক গুণধর হওয়া সত্ত্বেও কোনো প্রস্তাব আসে না। কেউ প্রস্তাব দিলে পছন্দ হওয়ার বদলে উল্টা খারাপ লাগতে লাগে। আমার এক রিলেটিভের এই সমস্যা ছিল, ওর বিয়ের আলোচনা উঠলেই সপ্তাহ-খানেকের জন্য অসুস্থ হয়ে যেত! এপিক!!

এই যাদুতে আক্রান্ত হলে সচরাচর কিছু লক্ষণ দেখা যায়-

১. মাথা ব্যথা। ঔষধ খেয়েও তেমন ফায়দা হয়না।

২. প্রায়সময়ই মানসিক অশান্তিতে থাকা, থাকা। মাঝেমধ্যেই বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত খুব অস্বস্তিতে ভুগা।

৩. ঘুমের মধ্যে শান্তি না পাওয়া, ঠিকমত ঘুমোতে না পারা, আবার ঘুম থেকে উঠার পর অনেকক্ষণ কষ্ট হওয়া।

৪. মাঝেমধ্যেই পেট ব্যথা করা।

৫. ব্যাকপেইন। বিশেষত: মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা করা। . লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, অনেকের ওপর বিয়ের আটকে রাখার জন্য যাদু করতে জ্বিনের সাহায্য নেয়া হয়। এজন্য কারো-কারো এই যাদু সংক্রান্ত সমস্যার সাথে সাথে জ্বিন রিলেটেড সমস্যাগুলোও দেখা যায়। দুঃখজনক হলেও সত্য, এই শয়তানী যাদুর প্রচলন আমাদের দেশে খুব বেশি। আল্লাহ হিফাজত করুন। আমরা প্রথমে লাইভ রুকইয়ার পদ্ধতি আলোচনা করে, তারপর সেলফ রুকইয়ার নিয়ম আলোচনা করবো। আপনি যদি নিজেই নিজের জন্য রুকইয়া করতে চান, তাহলে সোজা [গ] অনুচ্ছেদে চলে যান! .

[খ] বিয়ে সমস্যার জন্য রুকইয়া:

-১. আগের পর্বে বলা নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে আপনি রুগীর পাশে বসে জোর আওয়াজে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়বেন, মাঝেমধ্যে ফুঁ দিবেন। যদি জ্বিনের সমস্যা থাকে তবে রুগীর ওপর জ্বিন চলে আসবে, তখন জ্বিন সিরিজের ৬ষ্ঠ-৭ম পর্বে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে ডিল করবেন। এখানে আবার সব নতুন করে সব বলা কষ্টসাধ্য। তবে এখানে একটা বিষয় হচ্ছে, জ্বিন এলে জিজ্ঞেস করতে পারেন- ‘কিভাবে যাদু করেছে, যেসব জিনিশ দিয়ে যাদু করেছে, সেগুলো কোথায় আছে’। জ্বিনেরা যদিওবা খুব মিথ্যুক তবুও যদি বলে দেয় ভালো, না বললে নাই। যাহোক, সম্ভব হলে এটা জিজ্ঞেস করে, তারপর জ্বিন তাড়াবেন। আর যাদুর জিনিশ যদি পাওয়া যায়, তাহলে “সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে সেগুলো কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হবে, তাহলে ইনশাআল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে।

-২. আর যদি জ্বিন না আসে। এমনি অস্বস্তি বোধ করে, ঘুমঘুম লাগে, মাথাব্যথা করে, কান্না পায়… তাহলে বুঝতে জ্বিন দিয়ে যাদু করেনি, অন্যভাবে করেছে। তাহলে আরও ২/১বার রুকইয়া করে দেখুন। এরপর ৩য় পয়েন্ট অনুসরণ করুন।

-৩. উপরের নিয়মে রুকইয়া করার পর একটা বোতলে পানি নিয়ে “সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। কিছুটা এখনি খেতে বলুন, বাকিটা রেখে দিতে বলুন। এরপর নিচে [ঘ] অনুচ্ছেদে বলা প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন। আর এক-দুই সপ্তাহ পরপর আপডেট জানাতে বলুন। .

[গ] সেলফ রুকইয়া:

১. বিয়ে সমস্যার জন্য নিজে নিজে রুকইয়া করতে চাইলে প্রথমে মানসিক প্রস্তুতি নিন। এটা পাক্কা ইরাদা করে নিন সমস্যার একটা বিহিত করেই ক্ষান্ত হবো। নিজে নিজে রুকইয়া করলে অনেককে কয়েকদিন পরেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে দেখা যায়। এজন্য রুকইয়া করার ক’দিন মানসিক সাপোর্ট দেয়ার মত একজন থাকলে খুব ভালো হয়।

২. খুব ভালোভাবে পাক-পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়ুন, সবচেয়ে উত্তম হল তাহাজ্জুদের সময়। নইলে অন্য যেকোনো জায়েজ ওয়াক্তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। এরপর দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যা থেকে ‘পরিত্রাণের’ জন্য এবং সুস্থতার জন্য দু’আ করে ইস্তিগফার দরুদ শরিফ পড়ে ট্রিটমেন্ট শুরু করুন। হাতের কাছে এক বোতল পানি নিয়ে বসুন। প্রথমে সিহরের রুকইয়া (ডাউনলোড পেইজের ২নাম্বারেরটা) অথবা শাইখ সুদাইসের বা অন্য কোনো ক্বারির সাধারণ রুকইয়া শুনুন। সমস্যা থাকলে অবশ্যই বুঝতে পারবেন, যেমন: অনেক ঘুম ধরবে, মাথাব্যথা করতে পারে, তলপেটে ব্যথা করতে পারে, হাতপা ব্যথা করতে পারে, শরীরের ভেতর ছটফট করতে পারে, অকারণে কান্না আসতে পারে। কিছু খাইয়ে যাদু করলে রুকইয়া শুনতে গিয়ে বমি বমি লাগতে পারে, বমি হয়ে গেলে ভালো, হয়তোবা সাথে যাদুর জিনিশ বের হয়ে যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, যাদের রুকইয়া শুনে বমি হয়, সাধারণত তাঁরা সহজেই সুস্থ হয়ে যান।

৩. রুকইয়া শোনার পর পানির বোতলটি নিন, নিয়ে “সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। কিছু পানি এখনি খেয়ে নিন, বাকিটা রেখে দিন। এবং নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করুন। .

[ঘ] প্রেসক্রিপশন:

১. এই পানি ৩দিন বা ৭দিন দুইবেলা করে খেতে হবে। আর প্রতিদিন গোসলের পানিতে কিছু পানি মিশিয়ে গোসল করতে হবে। চাইলে আপনি সাধারণ রুকইয়ার গোসলও করতে পারেন (নিয়ম পরে বলছি)। আর রুকইয়ার ওঁই পানি যদি শেষ হয়ে যায়, তাহলে আবার এক বোতল পানি নিয়ে শুদ্ধ করে কোরআন পড়তে পারে; এরকম কেউ আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিলেই হবে। এজন্য প্রফেশনাল কারো দরকার নেই, তবে বরকতের জন্য কোনো মুরব্বি অথবা আলেমকে অনুরোধ করতে পারেন, সেটা ভিন্ন বিষয়।যার সমস্যা সে নিজে পড়তে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। সাধারণ রুকইয়ার গোসল: বালতিতে পানি নিয়ে তাতে দু’হাত ডুবিয়ে যেকোনো দরুদ শরিফ, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক, নাস, শেষে আবার দরুদ শরিফ- সব ৭বার করে পড়ে ওই পানি দিয়ে গোসল করবেন। উপরের যেকোনোভাবে রুকইয়ার গোসল করে পরে চাইলে অন্য পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন।

২. দুই থেকে চার সপ্তাহ প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে রুকইয়া শুনতে হবে। আয়াতুল কুরসি’র রুকইয়া ১ঘন্টা সুরা ইখলাস, ফালাক্ব, নাস-এর রুকইয়া ১ঘন্টা। কোনো দিন খুব ব্যস্ত থাকলে আধাঘণ্টা করে হলেও শুনবেন। বাদ দিবেন না। (ডাউনলোড লিংক http://talimtube.blogspot.com/20…/…/download-ruqyah-bn.html… ) তবে এখানে একটা অপশন আছে, প্রতিদিন শোনার ক্ষেত্রে অন্য কারো হেল্প নিতে পারেন, অর্থাৎ অন্য কেউ যদি আপনার সমস্যার নিয়াতে রুকইয়া শোনে তবুও আপনি উপকার পাবেন। ব্যস্ততা থাকলে চাইলে ভাগ করে নিতে পারেন, আপনার ফ্রেন্ড শুনল ১ঘন্টা, আপনি ১ঘন্টা শুনলেন! এটা পরিক্ষিত!!

৩. রুকইয়া ভালোভাবে কাজ করার জন্য নামাজ-কালাম ঠিকঠাক পড়তে হবে। ফরজ ইবাদাতে যেন ত্রুটি না হয়। (মেয়েদের পর্দা করা ফরজ)

৪. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া, এবং ৩ ক্বুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস)এর আমল ঠিকঠাক করবেন।

৫. ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবেন। আর তিনবার ৩ ক্বুল পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিবেন।

. রিমাইন্ডার: ৩ – ৭দিন রুকইয়ার পানি খেতে হবে এবং গোসল করতে হবে। আর ২ থেকে ৪ সপ্তাহ প্রতিদিন রুকইয়া শুনতে হবে। .

[ঙ] মন্তব্য:

১। কয়দিন মেয়াদি রুকইয়া করবেন এটা প্রথমেই ঠিক করে নিন। অর্থাৎ ৩দিন না ৭দিন পানি খাবেন আর গোসল করবেন, কতদিন রুকইয়া শুনবেন ২ সপ্তাহ, ৩ সপ্তাহ নাকি ১মাস এগুলো শুরুতেই ঠিক করে নিন। প্রতি সপ্তাহ শেষে যে আপনাকে মানসিক সাপোর্ট দিচ্ছে তাঁরসাথে আপনার অবস্থা পর্যালোচনা করুন।

২। উপরের নিয়ম অনুযায়ী একবার ২সপ্তাহ বা একমাসের রুকইয়া শেষে আল্লাহ না করুক যদি বুঝেন সমস্যা এখনো যায়নি, তবে আবার শুরু থেকে রুকইয়া করবেন। অনেকে ওপর একাধিক যাদু করে, তখন একটা একটা করে চিকিৎসা করতে হবে।

৩। খেয়াল রাখবেন, বিয়ের জন্য রুকইয়া করতে গেলে অধিকাংশেরই প্রথম প্রথম বেশ কষ্ট হয়, কখনো সমস্যা বেড়ে যায়, তবে ধৈর্য ধরে চিকিৎসা করে যেতে হবে, ইনশাআল্লাহ আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।

৪. বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম সপ্তাহেই উন্নতি টের পাওয়া যায়, তবে এরপরেও সপ্তাহখানেক আধঘণ্টা-একঘণ্টা করে হলেও রুকইয়া শুনে যাওয়া উচিৎ। তাহলে ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবে। ৫. আর যাদুর কারণে যদি শারীরিক কোনো সমস্যা তথা অসুখ-বিসুখ হয়, যা ভালো হচ্ছিলো না। এসবের জন্য রুকইয়া করার পর ডাক্তারের চিকিৎসা করালে ঠিক হয়ে ইনশাআল্লাহ। ইনশাআল্লাহ চলবে.. যাদুগ্রস্ত

(৫) সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদু ——————

[ক] কারো সাথে কারো সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য বান মারলে / তাবিজ করলে / যাদু করলে দেখা যায়- সব ভালোই ছিল, হঠাৎ একজন অপরজনকে সহ্য করতে পারছেনা। এই যাদু যেমন স্বামীস্ত্রীর সম্পর্কে ফাটল ধরাতে করে, তেমন পরিবারের অন্যান্য সদস্য যেমন পিতা-মাতা-ভাই-বোন এসব সম্পর্কে ফাটল ধরাতেও করা হয়। দুই বন্ধু, ব্যবসার পার্টনারদের মাঝে ঝামেলা বাধাতেও করা হয়। আর কখনো এমন হয়, বিয়ের আগে কেউ যাদু করে রেখেছে, বিয়ের পর স্বামীস্ত্রীর কোনোভাবেই মিলছে না। তো যাইহোক এই যাদুর পরিধি যেমন ব্যাপক, এর প্রাচীনকাল থেকে চর্চাও অনেক বেশি। এমনকি এই যাদুর কথা স্বয়ং আল্লাহ তা’আলা কোরআনে বলেছেন- “..অতঃপর তাদের কাছে তারা এমন জাদু শিখত, যা দ্বারা স্বামীস্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটে…।” [বাকারা:১০২] . আমাদের আলোচনা স্বামীস্ত্রীর কথা উল্লেখ করেই করা হবে, এই অনুযায়ী অন্য সম্পর্কগুলোতেও পাঠকরা মিলিয়ে নিবেন।

এই যাদুতে আক্রান্ত হলে সচরাচর কিছু লক্ষণ দেখা যায়-

১. স্বামী বাহিরে থাকলে স্ত্রী ভালো থাকে, বাড়িতে আসলেই মন-মেজাজ খারাপ হয়ে যায়

২. দুজনের কেউ খুব বেশি সন্দেহপ্রবন হয়ে যায়

৩. ছোটছোট বিষয়ে ছাড় দিতে চায়না, ঝগড়া বেধে যায়

৪. স্ত্রী দেখতে যেমনই হোক, স্বামীর কাছে খারাপ লাগে, ভালো আচরণ করলেও ভালো লাগেনা।

৫. স্বামী একটা যায়গায় বসেছে, বা একটা জিনিশ ব্যবহার করেছে ওই জিনিশটাও স্ত্রী অপছন্দ করে।

৬. অন্যদের সাথে আচরণ স্বাভাবিক, কিন্তু স্বামীস্ত্রী কথা বার্তা বলতে গেলেই উলটাপালটা শুরু হয়ে যায়। এরকম ঘটনা যদি সচরাচর ঘটতেই থাকে, তবে বুঝতে হবে কোনো একটা ঘাপলা আছে। আর কথা হচ্ছে, প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই সব লক্ষণ মিলবে তেমন না! তবে সমস্যা থাকলে অন্তত ২-৩টা মিলে যাওয়ার কথা। .

গুরুত্বপূর্ণ নোটঃ এই যাদুর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে, এই যাদু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জ্বিন দিয়ে করা হয়, পাশাপাশি এমনি যাদুও করা হয়। এজন্য প্রথমত: সাজেস্ট করবো কোনো আলেমের কাছে গিয়ে রুকইয়া করিয়ে নিন। তবুও নিজে রুকইয়া করতে চাইলে বলবো, এই সমস্যার জন্য সেলফ রুকইয়ায় ইনশাআল্লাহ অনেকেই ভালো ফল পাবেন, তবে যদি জ্বিনের সমস্যা বুঝতে পারেন, তবে কোনো আলেমকে দিয়ে রুকইয়া করানোই উত্তম হবে। দ্বিতীয়ত: এই যাদুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে কিউর হতে অনেকের লম্বা সময় লাগে, এজন্য ধৈর্যহারা হওয়া যাবেনা। সবরের সাথে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। . মনে রাখবেন, আপনার শত্রু আপনার ক্ষতি করলেই সফল হয়ে যায়না, সে তখনই সফল হয়, যখন আপনি সমাধানের ব্যাপারে হাল ছেড়ে দেন। শয়তান আপনাকে দিয়ে গুনাহ করালেই সফল হয়না, বরং শয়তান তখনই সফল হয়, যখন আপনি নিরাশ হয়ে তাওবা করা ছেড়ে দেন। এজন্য একবার যদি বুঝতে পারেন সমস্যা আছে, তবে এর শেষ না দেখে ছাড়বেন না। Keep moving forward!

[খ] সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানো যাদুর জন্য রুকইয়া:

-১. প্রথমে উপরের লক্ষণগুলোর ব্যপারে প্রশ্ন করে নিশ্চিত হোন, এরপর তৃতীয় পর্বে বলা নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্বপ্রস্তুতি নিয়ে আপনি রুগীর পাশে বসে জোর আওয়াজে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়তে থাকুন, মাঝেমধ্যে ফুঁ দিবেন। যদি জ্বিনের সমস্যা থাকে তবে রুগীর ওপর জ্বিন চলে আসবে, তখন জ্বিন সিরিজের ৬ষ্ঠ-৭ম পর্বে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে সামলাবেন। জ্বিন এলে জিজ্ঞেস করবেন- ‘কিভাবে যাদু করেছে, যেসব জিনিশ দিয়ে যাদু করেছে, সেগুলো কোথায় আছে’। জ্বিনেরা যদিওবা খুব বেশি মিথ্যুক, তবুও যদি বলে ভালো, না বললে নাই। সম্ভব হলে এটা জিজ্ঞেস করে, তারপর জ্বিন তাড়াবেন। আর যদি কোনো যায়গার কথা বলে সেখানে লোক পাঠিয়ে যাদুর জিনিশপত্র খুঁজে বের করবেন, সত্যি বলে থাকলে পাওয়া যাবে, মিথ্যা বললে পাবেন না। যদি খুঁজে পান তবে “সুরা বাক্বারা ১০২, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে যাদুর জিনিশপত্র কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখতে হবে, তাহলে ইনশাআল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে। যদি বলে কোনোকিছু খাইয়ে যাদু করা হয়েছে, বা যাদুর পানি রাস্তায় ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে তবে তবে তবে সরাসরি [ঘ] অনুচ্ছেদের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করতে বলে দিন, এবং বলুন ১ সপ্তাহ পর যেন আপডেট জানায়। যদি জ্বিন বলে অমুক যায়গায় যাদুর জিনিশ লুকানো আছে, কিন্তু আমি বিস্তারিত জানিনা। তাহলে উপরের আয়াতগুলো পড়া পানি ওঁই যায়গায় কয়েকদিন ছিটালে ইনশাআল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে। .

-২. আর যদি জ্বিন না আসে। এমনি খুব অস্বস্তি বোধ করে, রুকইয়ার সময় টায়ার্ড হয়ে পড়ে, খুব মাথাব্যথা করে, কান্না পায়… তাহলে বুঝবেন জ্বিন দিয়ে যাদু করেনি, অন্যভাবে করেছে। তাহলে আরও ২/৩বার রুকইয়া করে দেখুন। এরপর [ঘ] পয়েন্টের প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন, এবং বলুন অবস্থা যেমনি হোক ১ সপ্তাহ পর যেন আপডেট জানায়।

-৩. এক সপ্তাহ পর আবার শুরু থেকে রুকইয়া করে দেখুন, সমস্যার একদম ভালো হয়ে গেলে তো আলহামদুলিল্লাহ! হয়েই গেলো, আর পুরাপুরি ভালো না হলে তো বুঝতেই পারবেন, জ্বিনের সমস্যা হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন, আর যাদুর সমস্যা হলে আবার সেইম প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন। ইনশাআল্লাহ আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে। .

[গ] বিচ্ছেদের যাদুর জন্য সেলফ রুকইয়া:

১. আগেও বলেছি, এই যাদুর ক্ষেত্রে অনেক সময় সেলফ রুকইয়া যথেষ্ট হয় না, সরাসরি রুকইয়া করা লাগে। তবুও যদি নিজে রুকইয়া করতে চান, তবে বলবো একজন আলেমের সাথে যোগাযোগ রাখুন, যেন সমস্যা হলে তাঁর সহায়তা নিতে পারেন। তো বরাবরের মতই বলবো, নিজে নিজে রুকইয়া করলে মানসিক সাপোর্ট দেয়ার মত একজন থাকা উচিৎ, নইলে অনেককে কয়েকদিন গেলে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে দেখা যায়।

২. ভালোভাবে পাক-পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। এরপর দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যা থেকে ‘পরিত্রাণের’ জন্য এবং সুস্থতার জন্য দু’আ করে ইস্তিগফার দরুদ শরিফ পড়ে ট্রিটমেন্ট শুরু করুন। হাতের কাছে এক বোতল পানি নিয়ে বসুন। প্রথমে সিহরের রুকইয়া (ডাউনলোড পেইজের ২ নাম্বারেরটা) অথবা শাইখ সুদাইসের বা অন্য কোনো ক্বারির সাধারণ রুকইয়া শুনুন। সমস্যা থাকলে অবশ্যই বুঝতে পারবেন, যেমন: অনেক ঘুম ধরবে, মাথাব্যথা করতে পারে, কিছু খাইয়ে যাদু করলে পেটব্যথা করবে, বমি বমি লাগতে পারে, হাতপা ব্যথা করতে, খুব টায়ার্ড লাগতে পারে। এরকম কিছু হলে বুঝে নিবেন সমস্যা আছে। আর উপরে তো লক্ষণ বলেছিই, যদি ২-৩টা মিলে যায়, তবে নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করুন।

৩. ৭দিন পর আবার রুকইয়া করুন, ভালো না হলে আরো ৭দিনের মেয়াদ বাড়িয়ে নিন। . [ঘ] প্রেসক্রিপশন: ১. একটা বোতলে পানি নিয়ে “সুরা বাক্বারা ১০২, আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। এখনি কিছুটা খেতে হবে, বাকিটা রেখে দিবে। আর এরপর এই পানি দুইবেলা করে খেতে হবে। আর প্রতিদিন গোসলের পানিতে কিছু পানি মিশিয়ে গোসল করতে হবে। ২. সুরা ইয়াসিন, সুরা সফফাত, সুরা দুখান, সুরা জ্বিন- ৩বার শুনতে হবে, অথবা তিলাওয়াত করতে হবে হবে। কোনো দিন খুব ব্যস্ত থাকলে অন্তত একবার হলেও শুনবেন। (এই ৪টা সুরা একসাথে ডাউনলোড লিংক কমেন্টে) চাইলে প্রতিদিন শোনার ক্ষেত্রে অন্য কারো হেল্প নিতে পারেন, অর্থাৎ অন্য কেউ যদি আপনার সমস্যার নিয়াতে রুকইয়া শোনে তবুও আপনি উপকার পাবেন। ৩. তবে যদি যাদুর সাথে জ্বিনের সমস্যাও থাকে, তাহলে প্রতিদিন এই চারটা সুরা একবার শুনবেন, এবং আয়াতুল কুরসি শুনবেন ১ থেকে দেড় ঘণ্টা।

৪. প্রতিদিন ১০০বার ইস্তিগফার এবং “লা-হাওলা ওয়ালা ক্বুওওয়াতা ইল্লা-বিল্লাহ” পড়বেন। বেশি পড়লে আরো ভালো।

৫. রুকইয়া ভালোভাবে কাজ করার জন্য গানবাজনা শোনা যাবেনা। নামাজ-কালাম ঠিকঠাক পড়তে হবে। ফরজ ইবাদাতে যেন ত্রুটি না হয়। (মেয়েদের পর্দা করাও ফরজ)

৬. ঘুমের আগে আয়াতুল কুরসি পড়বেন। আর ৩ ক্বুল তিনবার পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নিবেন।

৭. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া, এবং ৩ ক্বুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস)এর আমল ঠিকঠাক করবেন। ….

লক্ষণীয়ঃ আজকের আলোচনায় সুরা বাঁকারার ১০২ নং আয়াতের কথা রয়েছে, যা গতদিন (বিয়ে ভাঙার যাদু)-এর আলোচনায় ছিল না। .

[ঙ] গুরুত্বপূর্ণ নোট: এই বিচ্ছেদের যাদু একদম ভালো হতে হতে অনেকেরই কয়েক সপ্তাহ বা মাসখানেক লেগে যায়। আর রুকইয়া শুনতে থাকলে, সাথে পানি খেতে এবং গোসল করতে থাকলেও প্রথম ১০ থেকে ১৫ দিন সমস্যা বাড়ে, এরপর আস্তে আস্তে কমতে কমতে মাসের শেষের দিকে একদম ভালো হয়ে যায়। সবার ক্ষেত্রেই এমন হয় যে তা বলছি না। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই হয়, এজন্য অগ্রিম জানিয়ে রাখা ভালো, সমস্যা বাড়তে দেখলে যেন রুকইয়া করা বাদ না দেন। প্রথম প্রথম সমস্যা বাড়তে পারে, পরে আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। অন্য কারো জন্য রুকইয়া করলেও প্রেসক্রিপশন দেয়ার সময় এই কথাটা বলে দিবেন। . আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুক… যাদুগ্রস্ত

(৬) আসক্ত, অনুগত বা বশ করার যাদু ——————

[ক] একধরণের যাদুর প্রচলন আছে বেশ, তা হলো ‘আসক্ত করার যাদু’। অর্থাৎ যাদু করে কাউকে নিজের প্রতি আসক্ত – অনুরক্ত বানিয়ে নেয়া। এটা সাধারণত পরিচিতজনদের মাঝেই কেউ করে থাকে। কখনো সন্দেহপ্রবণ স্ত্রী করে, কখনো সম্পদের লোভে পুত্র বা রক্ত সম্পর্কের কেউ করে। এই যাদুর সবচেয়ে জঘন্য ব্যবহার হচ্ছে, কোনও মেয়েকে পছন্দ করলে তাঁকে বিয়ে করার জন্য এই যাদু করা হয়। এই যাদু কখনো তাবিজের নামে, কখনো দোয়া-কালামের নামে ভণ্ড কবিরাজরা করে থাকে। সাধারণ মানুষ না বুঝে ঈমান আমলের ক্ষতি করে। তবে সবচেয়ে বেশি এই যাদু করে বউ জাতি! অনেক মহিলা স্বামীর ব্যাপারে সন্দেহ করে, সে বাহিরে গিয়ে অন্য কারো সাথে কোনো গুনাহ করছে কিনা! তখন কবিরাজ বাবার কাছে গিয়ে ধর্ণা দেয়। আমরা আলোচনা স্বামী-স্ত্রী উল্লেখ করেই করবো, বাকিদের ক্ষেত্রে এ অনুযায়ী মিলিয়ে নিবেন। খেয়াল রাখা উচিৎ প্রিয় ভাই ও বোনেরা! এটা অনেক বড় গুনাহ। মুসনাদে আহমাদ এবং সুনানে আবু দাউদের এক হাদিসে আছে, রাসুল স. বলেছেন- ‘তিওয়ালা শিরক’। (আবু দাউদ:৩৮৮৩) আর মুহাদ্দিসরা ‘তিওয়ালা’ শব্দের অর্থ করেছেন ‘আসক্ত করার যাদু’। উদাহরণস্বরূপ ইবনুল আসির রহ. এর বক্তব্য দেখা যেতে পারে (নিহায়া ১/২২২) এছাড়া মোল্লা আলি ক্বারি রহ. এবং ইমাম খাত্তাবি রহ.ও অনুরূপ অর্থ করেছেন। তাহলে বুঝা যাচ্ছে, এই যাদু শুধু গুনাহই না, ঈমানের জন্যও ক্ষতিকর! আমাদের সাবধান হওয়া উচিৎ… .

তো এই যাদুর লক্ষণগুলো সাধারণত প্রকাশ্যই বুঝা যায়। যেমন-

১. সবসময় বউয়ের চিন্তা মাথায় ঘুরে, বাড়ির বাহিরে থাকতে পারেনা। বাড়িতে থাকলেও সারাদিন বউয়ের পিছেপিছে ঘুরে। অথবা বউয়ের সাথে যখনতখন শুধু ‘ইয়ে’ করতে ইচ্ছে হয়!

২. কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই কারো প্রতি অতিরিক্ত অনুরক্ত হয়ে যাওয়া। এটা স্বাভাবিক দৃষ্টিতেও সন্দেহজনক।

৩. যাকে অপছন্দ করতেন বা পাত্তা দিতেন না। হঠাৎ তেমন কোনো কারণ ছাড়াই তাঁর প্রেমে পড়ে যাওয়া!!

৪. কোনো বাছবিচার ছাড়াই কারো কথা অন্ধের মত মানতে শুরু করা, পরে কখনো যদিওবা এটা বুঝতে পারেন, তবুও অজানা কারণে নিজেকে তাঁর প্রতি বাধ্য মনে হয়! . তবে একটা বিষয় হচ্ছে, প্রচলিত যাদুগুলোর মধ্যে এই যাদুটার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উল্টাপাল্টা ইফেক্ট হয়। যেমন-

৫. কখনো আসক্ত হওয়ার বদলে অপছন্দ মনোভাব বেড়ে যায়, এমনকি কেউকেউ এজন্য বউকে তালাকও দিয়ে দেয়!

৬. এই যাদুর প্রভাবে কখনো প্রায় পাগল বা অন্য অসুখে আক্রান্ত হয়..

৬. কখনো বউ বাদে বাকি সবাই যেমন, ভাইবোন বাবামা সবার প্রতি বিদ্বেষী হয়ে যায়। এমন অনেক কিছুই হয়। . এই যাদুর ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বিনের সাহায্য নেয়া হয় না। কিছু খাইয়ে বা হাঁটাচলার রাস্তায় পানি ঢেলে দিয়ে যাদু করা হয়। এজন্য রুকইয়া করার সময় জ্বিন ভর করবে এমন সম্ভাবনাও নেই। তাই এই যাদুর ক্ষেত্রে আশা করার যায় সেলফ রুকইয়াও যথেষ্ট হবে। তবে যদি সাথে অন্য সমস্যাও থাকে সেটার কথা ভিন্ন।

 

[খ]আসক্ত করার যাদুর জন্য রুকইয়া:

-১. রুগীর কাছে বসে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়বেন। সাথে সুরা তাগাবুন এর ১৪, ১৫, ১৬ এই তিন আয়াত যোগ করুন। রুকইয়ার মধ্যে কোরআন এর ধারাবাহিকতা অনুযায়ী সুরা হাশরের ৪ আয়াত পড়া শেষে এগুলো পড়তে পারেন, অথবা একদম শুরুতে বা শেষেও পড়তে পারেন, এটা তেমন কোনো বিষয় না। তো যদি সমস্যা থাকে তবে খুব অস্বস্তি বোধ করবে, খুব মাথাব্যথা, বুকে ব্যাথা, পেটব্যাথা করতে পারে, বমি বমি লাগতে পারে, এই যাদুর আক্রান্ত হলে কখনো শরীর প্রায় অবশ হয়ে আসে… এরকম কিছু হলে বুঝে নিতে হবে যাদু আক্রান্ত।

-২. তখন “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। সাথেসাথেই যদি বমি হয়, তবে বেশ ভালো কথা আশা করা যায় অল্প কদিনেই একদম ভালো হয়ে যাবে। এরপর প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন এবং ৩ সপ্তাহ পর আবার দেখা করতে বলুন।

-৩. তিন সপ্তাহ পর আবার শুরু থেকে রুকইয়া করে দেখুন, সমস্যার একদম ভালো হয়ে গেলে তো আলহামদুলিল্লাহ! হয়েই গেলো, আর পুরাপুরি ভালো না হলে তো বুঝতেই পারবেন, আবার সেইম প্রেসক্রিপশন দিয়ে দিন। ইনশাআল্লাহ আস্তে আস্তে ভালো হয়ে যাবে। .

[গ] আসক্ত করার যাদুর জন্য সেলফ রুকইয়া:

১. এই যাদুর ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেলফ রুকইয়া যথেষ্ট হয়ে যায়, তবে সময় লাগতে পারে। ধৈর্য ধরে সমস্যা একদম ভালো হয় পর্যন্ত ট্রিটমেন্ট করে যেতে হবে। তবে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, সেলফ রুকইয়া করবেন স্ত্রী যেন না জানে, জানলে আবার যাদু করতে পারে।এজন্য সতর্ক থাকতে হবে।

২. প্রথমে ভালোভাবে পাক-পবিত্র হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। এরপর দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যা থেকে ‘পরিত্রাণের’ জন্য এবং সুস্থতার জন্য দু’আ করে দরুদ শরিফ ইস্তিগফার পড়ে ট্রিটমেন্ট শুরু করুন। এক বোতল পানি হাতের কাছে রাখুন। প্রথমে সিহরের রুকইয়া (ডাউনলোড লিস্টে ২নংটা) বা অন্য কারো কমন রুকইয়া শুনুন। সমস্যা থাকলে তো অবশ্যই বুঝতে পারবেন, যেমন: অনেক ঘুম ধরবে, মাথাব্যথা পেটব্যাথা করতে পারে, বমি বমি লাগতে পারে, হাতপা অবশ হয়ে আসতে পারে। এরকম কিছু হলে বুঝে নিবেন সমস্যা আছে। আর এই যাদুর ক্ষেত্রে সাধারণত বুঝাই যায়, উপরেও কিছু লক্ষণ বলেছি সেগুলো মিলিয়ে নিন।

৩. যদি বুঝতে পারেন সমস্যা আছে। তবে এক গ্লাস পানি নিয়ে “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। সাথেসাথে যদি বমি হয়ে তবে বেশি ভালো, অল্প কদিনেই ইনশাআল্লাহ সেরে যাবে। সমস্যা একদম ভালো হয়ে যাওয়া পর্যন্ত নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করুন।

৪. তিন সপ্তাহ পর আবার রুকইয়া করে দেখুন, সমস্যা বুঝতে পারলে প্রেসক্রিপশনের মেয়াদ বাড়িয়ে নিন। .

[ঘ] প্রেসক্রিপশন:

১. একটা বোতলে পানি নিয়ে “সুরা বাক্বারা ২৫৫(আয়াতুল কুরসি), আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” আয়াতগুলো পড়ে ফুঁ দিন। উপরে বলা অনুযায়ী এখনি কিছুটা খেতে হবে, বাকিটা রেখে দিবে। আর এরপর তিন সপ্তাহ এই পানি দুইবেলা করে খেতে হবে।

২. চাইলে প্রতিদিন কিছুক্ষণ রুকইয়া শুনতে পারে, এক্ষেত্রে সাধারণ রুকইয়া সাজেসটেড, অথবা সুরা তাগাবুন শুনতে পারেন।

৩. রুকইয়া ভালোভাবে কাজ করার জন্য গানবাজনা শোনা যাবেনা। নামাজ-কালাম ঠিকঠাক পড়তে হবে। ফরজ ইবাদাতে যেন ত্রুটি না হয়। (মেয়েদের পর্দা করাও ফরজ)

৪. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া, এবং ৩ ক্বুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস)এর আমল ঠিকঠাক করবেন। …

[ঙ] গুরুত্বপূর্ণ নোট:

প্রথমত: এই যাদুর ক্ষেত্রে বড় সমস্যা হচ্ছে সাধারণত পরিচিত জনেরাই এই যাদু করে, নিজের বউ-ই করে! তাই আপনি যে চিকিৎসা করছেন এটা যেন সে না জানতে পারে। জানলে আবার যাদু করার সম্ভাবনা আছে, তাই সতর্ক থাকতে হবে, এটা নিয়ে গল্পগুজব করা যাবেনা। সুস্থ হয়ে যাওয়ার পরেও না। কারো কাছে গিয়ে সরাসরি রুকইয়া করালেও এটা খেয়াল রাখবেন, আপনি ট্রিটমেন্ট করাচ্ছেন যে যাদু করেছে সে যেন এই খবর না জানতে পারে। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে, যেন সর্বপ্রকার শত্রুতা এবং ক্ষয়ক্ষতি থেকে যেন আমাদের হিফাজত করেন।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

যাদুগ্রস্ত (৭) অসুস্থ বানানোর যাদু

[ক] আমাদের আলোচনায় ৪র্থ প্রকার যাদু হচ্ছে ‘কাউকে রোগাক্রান্ত বা অসুস্থ বানিয়ে দেয়ার যাদু’। এটা বিভিন্ন রকমের হয়, কখনো শরীরের কোনো অঙ্গ একেবারে বিকল হয়ে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়। কখনো চিকিৎসা করলে আবার সুস্থ হয়। এরকমও হয়, কোনো অঙ্গ মাঝেমধ্যে নাড়াচাড়া করতে পারে, মাঝেমধ্য অচল হয়ে যায়। কারো পুরো শরীর আক্রান্ত হয়।

তো যাদুর ক্ষেত্রে সাধারণ লক্ষণগুলো এরকম বলা যায়-

১. শরীরের কোনো অঙ্গে সবসময় ব্যথা থাকা

২. কোনো অঙ্গ একেবারে অচল হয়ে যাওয়া

৩. পুরো শরীর নিশ্চল হয়ে যাওয়া

৪. মাঝেমধ্যেই শরীর ঝাঁকুনি বা খিঁচুনি দিয়ে বেহুঁশ হয়ে যাওয়া।

৫. কোনো ইন্দ্রিয়শক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া (যেমন: স্বাদ বা গন্ধ না বুঝতে পাওয়া, শুনতে না পারা) . এতক্ষণে একটা বড় প্রশ্ন আপনার মনে উঁকি দেয়ার কথা, ‘প্যারালাইসিস, পোলিও, এপিলেপ্সি কিংবা অন্যান্য অসুখ-বিসুখের কারণেও তো এসব হয়, তাহলে কেউ যাদু করেছে না অসুখের কারণে হয়েছে তা বুঝার উপায় কী?’ হুম, যৌক্তিক প্রশ্ন বটে! যাদুটোনা বা জ্বিনের সমস্যার কারণে সমস্যা হলে সাধারণত ডাক্তারের চিকিৎসায় ফায়দা হয়না। ল্যাব টেস্ট, এক্স-রে, সিটি স্ক্যানে উল্লেখযোগ্য কিছুই পাওয়া যায়না। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে, রুকইয়া করে দেখতে হবে। যদি কোরআনের আয়াত কিংবা দোয়া পড়ার সময় ইফেক্ট দেখা যায়, যেমন- শরীরে ঝাঁকুনি দিয়ে ওঠে, অজ্ঞান হয়ে যায়, মাথাব্যথা পেটব্যথা শুরু হয় তবে বুঝা যাবে যাদু করেছে কেউ। আর এরকম কিছু না হলে বুঝতে হবে যাদুটাদু নাই, তখন ডাক্তারের চিকিৎসা করাতে হবে। .

[খ] এই যাদুর জন্য রুকইয়া:

১. রুগীর কাছে বসে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়বেন। যদি জ্বিনের সমস্যা থাকে তবে জ্বিন চলে আসবে, তখন জ্বিন সিরিজে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে ডিল করুন। জিজ্ঞেস করুন কেন ক্ষতি করছে, কেন কষ্ট দিচ্ছে। কেউ যাদু করলে কোথায় আছে যাদুর জিনিশ এসব জিজ্ঞেস করে জ্বিন বিদায় করতে হবে। আর যদি অন্যান্য যাদুর সমস্যা হয় তবে শরীরে ঝাঁকুনি দিয়ে উঠবে, অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে, মাথাব্যথা পেটব্যথা শুরু হতে পারে। এই যাদুর জন্য রুকইয়া করলে অনেকের ক্ষেত্রে সাথে সাথেই ফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্যারালাইসিস আক্রান্তের মত হয়ে আছে, রুকইয়া করলে সাথে সাথেই কথা বলে ওঠে। সবার ক্ষেত্রে নাও হতে পারে।

-২. কয়েকবার রুকইয়া করে দেখুন, যদি এখনি ভালো হয়ে যায় আলহামদুলিল্লাহ। তবে এক গ্লাস পানি নিয়ে “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। এবং সেটা এখনি খেতে বলুন, অনেকের ক্ষেত্রে সাথেসাথে বমি হয়ে ভালো হয়ে যায়। এমন হলে আলহামদুলিল্লাহ ঝামেলা শেষ হয়ে গেল।

-৩. আর যদি দেখা যায় কোনো অংশে এখনো ব্যথা আছে। বা যাদুর কারণে এক অসুখ থেকে অন্যান্য আরো অসুখ হয়ে যায় তবে স্বাভাবিক ডাক্তারের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে পাশাপাশি কালোজিরার তেল, এবং কালোজিরার ওপর রুকইয়া করে ব্যবহার করতে হবে। প্রেস্ক্রিপশন অংশে বলা হবে সেটা।

-৪. ঘ অংশে বলা প্রেস্ক্রিপশন দিয়ে দিন, একমাস পর আবার দেখা করে আপডেট জানাতে বলুন। সাধারণত ভালো হতে একমাস লাগেনা, এরমধ্যে ভালো হয়ে গেলে আলহামদুলিল্লাহ! আর পুরাপুরি ভালো না হলে, আবার রুকইয়া করে দেখুন, লাগলে আবার একই প্রেস্ক্রিপশন দিন। ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে। .

[গ] সেলফ রুকইয়া:

১. এই যাদুর ক্ষেত্রে জ্বিনের সাহায্য নেয়া হয়, তবে কম। তাই সেলফ রুকইয়া করে দেখা যেতে পারে, তবে রুকইয়ার সময় অবশ্যই কাউকে কাছে রাখবেন, যেন সে পর্যবেক্ষণ করতে পারে আপনার অবস্থা। আর একজন আলেমের সাথে যোগাযোগ রাখা তো এমনিতেই সবার জন্য জরুরী, যদি নিজে নিজে রুকইয়ার সময় অস্বাভাবিক এটিচিউড দেখা যায়, তাহলে আলেমের বা রাক্বীর সাহায্য নিতে হবে। এবং সামনাসামনি রুকইয়া করতে হবে।

২. নিজে রুকইয়া করতে চাইলে প্রথমে পাকসাফ হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। এরপর দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য এবং সুস্থতার জন্য দু’আ করুন, তারপর দরুদ ইস্তিগফার পড়ে ট্রিটমেন্ট শুরু করুন। এক গ্লাস পানি, কালোজিরা এবং কালোজিরার তেল রাখুন কাছে। এরপর প্রথমে সিহরের রুকইয়া বা অন্য কারো কমন রুকইয়া শুনুন। সমস্যা থাকলে তো অবশ্যই বুঝতে পারবেন, উপরে যেমন বলা হয়েছে। তেমন কিছু হলে বুঝবেন যাদুর সমস্যা আছে।

৩. যদি বুঝতে পারেন সমস্যা আছে। তবে এক গ্লাস পানি নিয়ে “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। এবং খেয়ে নিন, কষ্ট হলেও খাবেন। সাথেসাথে যদি ভেতর বমি হয়, তবে অনেকের তখনই ভালো হয়ে যাইয়। নইলে সমস্যা একদম ভালো হয়ে যাওয়া পর্যন্ত নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করুন। ৪. একমাস পর আবার শুরু থেকে রুকইয়া করে দেখুন, সমস্যা বুঝতে পারলে প্রেসক্রিপশনের মেয়াদ বাড়িয়ে নিন। .

[ঘ] প্রেসক্রিপশন:

১. “সুরা ফাতিহা, আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯, সুরা ইখলাস, ফালাক্ব, নাস” একবার এবং وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ (বনি ইসরাইলের ৭৬নং আয়াতের প্রথমাংশ) ৭বার, এরপর – اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ أَذْهِبْ الْبَاسَ اشْفِهِ وَأَنْتَ الشَّافِي لَا شِفَاءَ إِلَّا شِفَاؤُكَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا – بِسْمِ اللّهِ أَرْقِيكَ.. اللَّهُ يشْفِيك.. مِنْ كُلِّ داءٍ يُؤْذِيكَ.. مِنْ شَرِّ كُلِّ نَفْسِ.. اَوْ عَيْنِ حَاسِدٍ، اللَّهُ يَشْفِيْكَ ৩বার করে পড়ে কালোজিরায় এবং কালোজিরার তেলে ফুঁ দিন।

২. ওই কালো জিরা প্রতিদিন অল্প করে খাবেন, আর দিনে দুইবার সকাল-বিকেল কালোজিরার তেল কপালে এবং যে অঙ্গে ব্যথা সেখানে মালিশ করবেন।

৩. প্রতিদিন আয়াতুল কুরসি এবং তিনকুলের রুকইয়া কয়েকবার, আর সুরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান, জ্বিন এর রুকইয়া একবার শুনবেন। সময় কম পেলে শুধু তিন ক্বুলের রুকইয়া শুনবেন।

৪. রুকইয়া ভালোভাবে কাজ করার জন্য গানবাজনা শোনা যাবেনা। নামাজ-কালাম ঠিকঠাক পড়তে হবে। ফরজ ইবাদাতে যেন ত্রুটি না হয়। (মেয়েদের জন্য পর্দা করাও ফরজ)

৫. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া-কালাম, এবং ৩ ক্বুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস)এর আমল ঠিকমত করবেন। …

[ঙ] গুরুত্বপূর্ণ নোট: উপরে বলেছি, আবার স্মরণ করিয়ে দেই, শারীরিক সমস্যার জন্য রুকইয়ার পাশাপাশি ডাক্তারও দেখাবেন। শারীরিক যে ক্ষতি ইতোমধ্যে হয়ে গেছে, এজন্য স্বাভাবিক চিকিৎসা করাবেন। আর সুস্থ হওয়া অব্ধি রুকইয়া তো করবেনই। আর হ্যাঁ! হিজামা করাতে পারেন, ইনশাআল্লাহ উপকার পাবেন। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে, যেন আল্লাহ সুস্থ করে দেয়, এবং ভবিষ্যতেও এরকম ক্ষতি থেকে হিফাজত করেন।

 

যাদুগ্রস্থ (৮)পাগল বানানো এবং পড়ালেখা নষ্ট করার যাদু

 

[ক] একটা ব্রেকের পর আবার আমরা আলোচনা শুরু করছি। আজকে পাগল করার যাদু নিয়ে আলোচনা করা হবে। অর্থাৎ যাদু করার কারণে কেউ যদি পাগল হয়ে যায়, বা পাগল করার যাদুর ক্ষেত্রে প্রায় সময়ই জ্বিন দিয়ে করা হয়, এজন্য প্রথমে সরাসরি রুকইয়া করাই উত্তম, পরে সাজেশন অনুযায়ী তিলাওয়াতের অডিও শোনা যেতে পারে। অন্যান্য ক্ষতিকারক যাদুর মত পাগল করার যাদুতেও সাধারণত আস্তে আস্তে প্রভাব পড়ে, একদিনেই মাথা নষ্ট হয় না।

এর লক্ষণ হিসেবে বলা যায়-

১. ঠিকমতো ঘুমাতে না পারা

২. কোনো কাজ ধীরস্থিরভাবে করতে না পারা

৩. এক যায়গায় অল্পক্ষণ থাকলেই অধৈর্য হয়ে যাওয়া

৪. কাজকর্মে কথাবার্তায় ভুল ভ্রান্তি বেড়ে যাওয়া

৫. চোখের অবস্থা অস্বাভাবিক বা অসুন্দর লাগা

৬. অহেতুক কোনো কারণ ছাড়া হাটতে থাকা

৭. অবস্থা বেশি খারাপ হলে একদম পাগলের মত আচরণ করবে . রাসুল স. এর সময়ের একটা ঘটনা আছে এরকম, কোনো গোত্রের একটা লোক পাগল হয়ে গিয়েছিল, পরে এক সাহাবী ওঁই গোত্রের এলাকার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তারা বলে- তোমাদের সাথি (মুহাম্মাদ স.) নাকি আল্লাহর পক্ষ থেকে কল্যাণ এনেছেন? দেখত এর কিছু করতে পারো কিনা, আমরা অনেক চিকিৎসা করিয়েছি সুস্থ হয়নি। তখন ওঁই সাহাবী সুরা ফাতিহা পড়ে রুকিয়া করেছেন, আর পাগল লোকটা সুস্থ হয়ে গেছে। পরে সাহাবী এসে রাসুল স.কে এই ঘটনা শোনালে রাসুল স. জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি শুধুই সুরা ফাতিহা পড়েছিলে? সাহাবী রা. বলেন হ্যাঁ, তখন কোরআন দিয়ে রুকইয়া করার জন্য রাসুল স. প্রশংসা করেন। [আবু দাউদ] (কোথাও দেখেছিলাম, অন্য বর্ণনায় আছে উনি ৩দিন সকাল-সন্ধ্যা সুরা ফাতিহা কয়েকবার পড়েছেন, আর পড়া শেষে ওই অসুস্থ ব্যক্তিকে থুতু দিয়েছেন) . [সংযুক্তি] লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, কারো পড়ালেখা নষ্ট করার জন্য সচরাচর এই যাদুটাই করা হয়। অর্থাৎ পড়ালেখায় আগে বেশ ভালো ছিল, পরে হঠাত ধ্বস নেমেছে। এর পেছনে কারণ যদি হয় কেউ যাদু করছে, তাহলে আজকের পদ্ধতিতেই রুকিয়া করাবেন। .

[খ] পাগল বানানোর যাদুর জন্য রুকইয়া:

১. নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়ে, রুগীর কাছে বসে যথাসম্ভব জোর আওয়াজে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়বেন। হয়তো জ্বিন চলে আসবে, তখন জ্বিন সিরিজে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে ডিল করবেন। জিজ্ঞেস করুন কেন ক্ষতি করছে, কেন কষ্ট দিচ্ছে। কেউ যাদু করলে কোথায় আছে যাদুর জিনিশ ইত্যাদি জিজ্ঞেস করে জ্বিন বিদায় করতে হবে।

২. আর যদি জ্বিন না আসে তবে আরো ২/৩বার রুকইয়া করে দেখুন। এরপর তবে এক গ্লাস পানি নিয়ে “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। এবং সেটা এখনি খেতে বলুন, অনেকের ক্ষেত্রে পানি খেয়ে সাথেসাথেই বমি হয়ে একদম ভালো হয়ে যায়।

৩. তারপরে নিচে বলা প্রেস্ক্রিপশন দিয়ে দিন, একমাস অথবা পঁয়তাল্লিশ দিন দেখা করে আপডেট জানাতে বলুন। পুরাপুরি ভালো না হলে, আবার রুকইয়া করে দেখুন, লাগলে আবার একই প্রেস্ক্রিপশন দিন। ইনশাআল্লাহ ভালো হয়ে যাবে। .

[গ] পাগল বানানোর যাদুর জন্য সেলফ রুকইয়া:

১. এই যাদুর ক্ষেত্রে যেহেতু জ্বিনের সাহায্য নেয়া হয়, এজন্য রুকইয়া করার পাশাপাশি একজন আলেমের সাথেও যোগাযোগ রাখবেন, তাহলে উনিও হেল্প করতে পারবেন। অথবা যদি পরিবারের অন্য কেউ যদি রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়ে রুকইয়া করেন, তাহলেও হবে। আর এক্ষেত্রে অনেকের অবস্থা যেহেতু খুবই খারাপ থাকে, তাই সাধারণত অন্য কারো হেল্প নেয়া লাগেই। সব মিলিয়ে বলবো, একা একা রুকইয়া না করে, অন্তত অবস্থা পর্যবেক্ষন করার জন্য হলেও কেউ একজন সাথে থাকলে খুব ভালো হয়।

২. সেলফ রুকইয়ার জন্য প্রথমে পাকসাফ হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। এরপর আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যার কথা বলে সুস্থতার জন্য দু’আ করুন, তারপর দরুদ ইস্তিগফার পড়ে ট্রিটমেন্ট শুরু করুন। পানি রাখুন কাছে। এরপর প্রথমে সিহরের রুকইয়া বা অন্য কারো কমন রুকইয়া শুনুন। সমস্যা থাকলে তো বুঝতে পারবেন, যে যাদুর সমস্যা আছে।

৩. এরপর এক গ্লাস পানি নিয়ে “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। এবং খেয়ে নিন, কষ্ট হলেও খাবেন। সাথেসাথে বমি হয়ে অনেকের তখনই ভালো হয়ে যায়। নইলে সমস্যা একদম ভালো হয়ে যাওয়া পর্যন্ত নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করুন।

৪. একমাস পর আবার শুরু থেকে রুকইয়া করে দেখুন, সমস্যা বুঝতে পারলে প্রেসক্রিপশনের মেয়াদ বাড়িয়ে নিন। .

[ঘ] প্রেসক্রিপশন:

১. এক থেকে দেড় মাস প্রতিদিন বেশি থেকে বেশি রুকইয়া শুনতে হবে। সাধারণ রুকইয়া, সুরা বাক্বারা, সুরা ইয়াসিন, সফফাত, দুখান, মূলক, জ্বিন, আ’লা, যিলযাল, ইখলাস, ফালাক্ব, নাস এগুলো কমপক্ষে ২-৩ ঘণ্টা শুনবেন। যদি আরো বেশি শুনতে পারেন, আরো ভালো! (ডাউনলোড লিংক কমেন্টে দেখুন)

২. এই সিহরের চিকিৎসায় রুকইয়া শুনতে হয় বেশি, তবুও মাঝেমধ্যে রুকইয়ার গোসল করবেন। রুকইয়ার গোসলের নিয়ম: বালতিতে পানি নিয়ে তাতে দু’হাত ডুবিয়ে যেকোনো দরুদ শরিফ, সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক, নাস, শেষে আবার দরুদ শরিফ- সবগুলো ৭বার করে পড়বেন। (৭বার নাহলে ৩বার পড়ুন, বাঁধাধরা নেই। বেশি পড়লে বেশি ভালো) পড়া শেষে ফুঁ দিবেন না, এমনিই ওই পানি দিয়ে গোসল করবেন। রুকইয়ার গোসল করার পর, চাইলে অন্য পানি দিয়ে গোসল করতে পারেন। আর টয়লেট এবং গোসলখানা একসাথে থাকলে সুরাগুলো পড়ার সময় বালতি বাহিরে এনে পড়বেন।

৩. রুকইয়া ভালোভাবে কার্যকর হতে নামাজ-কালাম ঠিকঠাক পড়তে হবে। ফরজ ইবাদাতে যেন ত্রুটি না হয়। (মেয়েদের জন্য পর্দা করাও ফরজ)

৪. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন দোয়া, এবং ৩ ক্বুল (সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস)এর আমল ঠিকঠাক করবেন।

৫. ঘুমের আগে তিনবার সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে বুলিয়ে নিবেন। আর আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবেন। .

[ঙ] লক্ষণীয়ঃ

১। রুকইয়া চলবে যে কয়দিন, এর মাঝে ব্যাথানাশক কোনো ঔষধ খাওয়া যাবেনা। চাইলে হিজামা করাতে পারেন, ইনশাআল্লাহ উপকার হবে।

২। যদি ইতোমধ্যেই ব্রেইনের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়, তবে অবশ্যই রুকইয়ার সাথে ডাক্তারের চিকিৎসা করাতে হবে।

৩। রুকইয়া শোনার সময় কষ্ট হতে পারে, হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে যদি বেশি কষ্ট হয়, তখন উপরে বলা নিয়ম অনুযায়ী একবার রুকইয়ার গোসল করে নিবেন। আর পাগল করার যাদু আক্রান্ত হলে রুকইয়া শুনতে গিয়ে অনেক সময় এমনও হয়, রুকইয়া শুনতে শুনতে অজ্ঞান হয়ে যায়, জ্বিন ভর করে আবোলতাবোল বকতে থাকে। এক্ষেত্রে রুকইয়া বন্ধ করা যাবেনা, শুনাতেই থাকতে হবে। না শুনতে চাইলে জোর করে বা কৌশলে শোনাতে হবে।

৪। আর সমস্যা ভালো হওয়ার পরেও অন্তত এক-দুই সপ্তাহ রুকইয়াহ শোনাতে হবে, আর আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করতে হবে।

যাদুগ্রস্ত (৯) সেক্সুয়াল প্রবলেমের জন্য যাদু

[ক] আজকের দুটি বিষয় একটু ট্যাবু ধরণের, স্বাভাবিক গল্পগুজবের বিষয় না। তাই আজকের পর্বে অন্য পর্বের স্ট্রাকচার অনুসরণ না করে, সংক্ষেপে দুই ধরনের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।

১. ইস্তিহাযা বা অনিয়মিত স্রাবের যাদু

২. স্ত্রীসহবাসে অক্ষম করার যাদু . (এখানে সিরিয়াস আলোচনা হচ্ছে, কারো যদি পড়তে না মন চায় এখানেই বিদায় হন! ফালতু কমেন্ট বা হাহা রিয়েক্ট দিয়ে মেজাজ খারাপ করবেন না) ……….

[খ] ইস্তিহাযা বা অনিয়মিত স্রাব সমস্যা ——- ইস্তিহাযা বা অনিয়মিত মাসিক স্রাব বলতে বুঝাচ্ছে রেগুলার মাসিক পিরিয়ডের বাহিরেও রক্ত ঝরতে থাকা। স্বাভাবিক পিরিয়ডের মেয়াদ সর্বনিম্ন ৩দিন থেকে সর্বোচ্চ ১০ দিন। এর ব্যতিক্রম যদি কারো হয়, যেমন: অনেকের সবসময়ই রক্ত ঝরতে থাকে, অথবা অনেকের মাসে ২০—২৫ দিন ধরে এই অবস্থা থাকে। এক্ষেত্রে বুঝতে হবে এটা হায়েয নয়, বরং ইস্তিহাযা। অথবা অসুখ। এব্যাপারে বিস্তারিত ফিকহি মাসায়েল এখানে আলোচনা করা সম্ভব না, আজ আমরা এর চিকিৎসা জানবো। এক মহিলা সাহাবির ইস্তিহাযার সমস্যা ছিল, তার ব্যাপারে রাসুল স. বলেছেন- এটা তো শয়তানের আঘাতের জন্য হয়েছে (তিরমিযি, আবু দাউদ) খেয়াল রাখা উচিত, সাধারণত ইস্তিহাযা মেডিকেলে চিকিৎসা করার মত কোনো কারণে হয়না। এটা হয়তো শয়তান রক্তের মাঝে দৌড়াদৌড়ি করতে গিয়ে আঘাত দিয়েছে এজন্য হয়, অথবা কেউ যাদু করেছে এজন্য হয়।

[গ] ইস্তিহাযার জন্য রুকইয়া

প্রথমে রুকইয়ার আয়াত তিলাওয়াত করে দেখতে হবে আসলেই কেউ যাদু করেছে কি না। সেলফ রুকইয়ার ক্ষেত্রে আয়াতগুলো শুনবেন। এরপর “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯, ইখলাস, ফালাক্ব, নাস” পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে কয়েকদিন খেতে হবে, আর গোসলের সময় ওই পানি মিশিয়ে গোসল করতে হবে। ইনশাআল্লাহ সপ্তাহ খানেকের মধ্যেই ভালো হয়ে যাবে। তবে পরামর্শ হল অন্তত ৩সপ্তাহ কন্টিনিউ করা। পাশাপাশি কোনো ক্বারির সাধারণ রুকইয়া শুনতে পারে চাইলে। … যদি কয়েক সপ্তাহ এমন করার পরেও ভালো না হয়, তবে সুরা আন’আম ৬৭ নং আয়াতের প্রথমাংশ لِّـكُلِّ نَبَاٍ مُّسْتَقَرٌّ ৭০ বার পড়ে পানিতে ফুঁ দিয়ে কয়েকদিন খেতে হবে। … অনেক আলেম এক্ষেত্রে সাজেস্ট করেছেন- আয়াতটি পবিত্র কালি দিয়ে লিখে সেটা পানিতে গুলিয়ে নিতে, পরে ওই পানি কয়েকদিন খেতে। (এই পদ্ধতি জায়েজ হবার ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়া রহ. এর ফাতওয়া আছে)  

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

[ঘ] সহবাসে অক্ষম করার যাদু

এই সমস্যাটা কয়েক রকম হতে পারে, স্বামীস্ত্রী উভয়ের জন্যই হতে পারে। এই যাদুর প্রভাব কয়েক রকম হতে পারে-

১. ইন্টারকোর্সের সময় দুজনের কেউ অনুভূতিহীন হয়ে যায়

২. অথবা কেউ একজন অন্য কোনোভাবে বাধা দেয়, যার ওপর নিজেরই নিয়ন্ত্রণ থাকেনা

৩. ইন্টারকোর্সের সময় জরায়ু থেকে রক্ত বের হতে লাগে

৪. স্বামীর ক্ষেত্রে এমন হতে পারে, অন্যসময় স্বাভাবিক থাকে, কিন্তু ওয়াইফের সাথে মিলনের সময় আর ইরেকশন হয়না। ইত্যাদি ইত্যাদি…. . লক্ষণীয়: এই যাদুর জন্য অনেকসময় পুরুষের স্বাভাবিক যৌনক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। তাই প্রয়োজনে রুকইয়ার পাশাপাশি ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

 

[ঘ] সহবাসে অক্ষম করার যাদুর জন্য রুকইয়া

১. প্রথমত রুকইয়া করে দেখতে হবে, যেহেতু এই যাদু অনেক সময় জ্বিনের সাহায্যে করা হয়, এজন্য রুকইয়া করতে গিয়ে রুগীর ওপর জ্বিন চলে আসলে জিজ্ঞেস করে নিবেন কোথায় যাদুর জিনিশগুলো আছে। এরপর জ্বিন সিরিজে বলা পদ্ধতিতে বিদায় করবেন।

২. সুরা ফাতিহা, সুরা আলাম নাশরাহ একবার, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯ এই আয়াতগুলো তিনবার, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস ৭বার করে পড়ে পানিতে ফু দিতে হবে। এরপর এই পানি এক সপ্তাহ খেতে হবে, আর এটা মিশিয়ে গোসল করতে হবে। ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবে।

৩. আর যাদুর কারণে যদি কারো যৌন সক্ষমতা নষ্ট হয় তবে এর চিকিৎসা হচ্ছে, ৭টা তাজা সবুজ বরইয়ের পাতা পাটায় পিষতে হবে, এরপর বালতিতে পানি নিয়ে সেখানে ওইটা গুলাতে হবে, আর এই আয়াতগুলো পড়ে বারবার ফুঁ দিতে হবে- আয়াতুল কুরসি ৭বার, সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস ৩বার করে। এরপর ওঁই পানি থেকে সামান্য খাবে, তারপর বাকিটা দিয়ে গোসল করবে। এই পানির সাথে অন্য পানি মিশাবে না, পানি গরমও করবে না। ইনশাআল্লাহ প্রথম গোসলেই যাদু নষ্ট হয়ে যাবে। তবুও পরামর্শ থাকবে তিনদিন এই নিয়মে গোসল করুন। বরই পাতা না পেলে, কর্পূরের পাতা অথবা নিম পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে বরইয়ের পাতাই প্রেফারড। (লক্ষণীয়: এই পদ্ধতির গোসল অন্যান্য যাদুর চিকিৎসাতেও খুব কার্যকরী)

 

যাদুগ্রস্ত (১০) গর্ভের সন্তান নষ্ট করার যাদু

[ক] সমাজে প্রচলিত শয়তানী যাদুর মাঝে এটাও একটা। সেদিন ফুফুর কাছে এর কিছু ঘটনা শুনলাম, আর ইনবক্সেও কজন এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। বাচ্চা না হওয়ার জন্য, কিংবা বাচ্চা হতে লাগলেও যেন নষ্ট হয়ে যায় এজন্য স্বামী বা স্ত্রী উভয়কেই যাদু করা যায়। এই যাদুতে আক্রান্ত হলে পুরুষের ক্ষেত্রে সাধারণত স্পার্মের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়! এজন্য স্ত্রীর বাচ্চা আসেনা। আর মেয়েরা আক্রান্ত হলে সাধারণত বাচ্চা আসে, কিন্তু অসময়ে গর্ভপাত হয়ে যায়। যদি দেখা যায়, বারবার গর্ভপাত হচ্ছে, আর ডাক্তাররা এর সন্তোষজনক কোন ব্যাখ্যা দিতে পারছে না, তবে ধারনা করা উচিত কেউ যাদু করেছে। এক্ষেত্রে রুকইয়া করে যাচাই করতে হবে সমস্যা আছে কি না। .

এই যাদুতে আক্রান্ত হলে সচরাচর কিছু লক্ষণ দেখা যায়..

১. মানসিক অশান্তিতে থাকা, বিশেষত বিকেল থেকে মধ্যরাত

২. বেশিবেশি মতিভ্রম হওয়া

৩. শর্ট টাইম মেমোরি লস

৪. ঘুমের মাঝে অস্থিরতা, ঠিকভাবে ঘুমাতে না পারা

৫. মেরুদণ্ডের নিচের দিকে ব্যথা

৬. ভয়ংকর সব স্বপ্ন দেখা এছাড়াও এই যাদু করতে অনেক সময় যেহেতু জ্বিনের সাহায্য নেয়া হয়, তাই জ্বিন আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণগুলোও কিছু মিলে যেতে পারে। (জ্বিন সিরিজ ৪র্থ পর্ব দ্রষ্টব্য) .

[খ] বাচ্চা নষ্ট করার যাদুর জন্য রুকইয়া:

১. নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নিন, রুগীর কাছে বসে যথাসম্ভব জোর আওয়াজে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়বেন। হয়তোবা জ্বিন চলে আসবে, তখন জ্বিন সিরিজে যেভাবে বলা হয়েছে সেভাবে ডিল করবেন। জিজ্ঞেস করুন কেন ক্ষতি করছে, যাদুর জিনিশ কোথায় রাখা আছে, ইত্যাদি! এরপর জ্বিন বিদায় করবেন।

-২. আর যদি জ্বিন না আসে তবে আরো ২/৩বার রুকইয়া করে দেখুন। সমস্যা যদি থাকে তাহলে তো অবশ্যই লক্ষণ দেখা যাবে। যেমন পেট ব্যথা, মাথাব্যথা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি শুরু হয়ে যাবে। মেরুদণ্ড বা পিঠে ব্যথা করতে পারে। এরপর তবে এক গ্লাস পানি নিয়ে “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। এবং সেটা এখনি খেতে বলুন, যদি লালচে বা কালোর মত বমি হয়ে কিছু বের হয়ে যায় তাহলে ভালো, সহজেই সুস্থ হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

-৩. সবশেষে নিচের প্রেস্ক্রিপশন সাজেস্ট করুন। এবং একমাস পর দেখা করে আপডেট জানাতে বলুন। পুরাপুরি ভালো হতে অনেকের ৩ মাস পর্যন্ত লাগে। তিনমাস প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করার পর আবার রুকইয়া করে দেখুন। সমস্যা ভালো হয়ে গেলে আলহামদুলিল্লাহ, নইলে আবার একই সাজেশন দিয়ে দিন। ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবে। .

[গ] বাচ্চা নষ্ট করার যাদুর জন্য সেলফ রুকইয়া:

১. এই যাদুতে যদিওবা অনেক সময়ই জ্বিনের সাহায্য নেয়া হয়, তবুই নিজে নিজে রুকইয়া করা ইনশাআল্লাহ যথেষ্ট হবে। তবে কোন আলেমের সাথে যোগাযোগ রাখা ভালো। খেয়াল করার বিষয় হচ্ছে, এই চিকিৎসায় যেহেতু একটু সময় লাগতে পারে, তাই মানসিক সাপোর্ট দেয়ার মত কেউ পাশে থাকা জরুরি। বাচ্চা হওয়া নিয়ে সমস্যা যেহেতু, তাই স্বামী-স্ত্রী এঁকে অপরের সহায়তা করতে পারেন এক্ষেত্রে!

২. সেলফ রুকইয়ার জন্য প্রথমে পাকসাফ হয়ে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ুন। এরপর আল্লাহর কাছে আপনার সমস্যার কথা বলে প্রাণভরে দু’আ করুন, তারপর দরুদ ইস্তিগফার পড়ে ট্রিটমেন্ট শুরু করুন। পানি রাখুন কাছে। এরপর প্রথমে সিহরের রুকইয়া বা অন্য কারো কমন রুকইয়া শুনুন। সমস্যা থাকলে তো বুঝতে পারবেন, যে যাদুর সমস্যা আছে।

৩. এরপর এক গ্লাস পানি নিয়ে “আয়াতুল কুরসি, সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২, ইউনুস ৮১-৮২, সুরা ত্বহা ৬৯” এই আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন। এবং খেয়ে নিন, কষ্ট হলেও খাবেন। সাথেসাথে লালচে বা কালোর মত বমি হলে ভালো, তাহলে সহজেই সুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ৪. একমাস নিচের প্রেসক্রিপশন ফলো করুন, তারপর আবার শুরু থেকে রুকইয়া করে দেখুন, সমস্যা বুঝতে পারলে চিকিৎসার মেয়াদ আরও ১মাস বাড়িয়ে নিন। .

[ঘ] প্রেসক্রিপশন:

১. সুরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, বাক্বারার শেষ রুকু, আলে ইমরানের শেষ রুকু, ফালাক্ব, নাস পড়ে কালোজিরার তেলে ফুঁ দিন। এই কালোজিরার তেল প্রতিদিন ঘুমানোর আগে বুকে, কপালে, এবং মেরুদণ্ডে মালিশ করবেন।

২. উপরের সুরা এবং আয়াতগুলো পড়ে খাঁটি মধুতে ফুঁ দিন। এই মধু ১ চামচ করে প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেতে হবে।

৩. প্রতিদিন সকালে সুরা সফফাত পড়বেন, নইলে অন্তত শুনবেন।

৪. প্রতিদিন রাতে সুরা মা’আরিজ পড়বেন, নইলে শুনবেন।

৫. কোন কারীর সাধারণ রুকইয়া প্রতিদিন কমপক্ষে ৩বার শুনবেন। (ডাউনলোড লিংক কমেন্টে দেখুন)

৬. সকাল সন্ধ্যার মাসনুন আমল করবেন, বিশেষত সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস তিনবার পড়বেন।

৭. ঘুমের আগে তিনবার সুরা ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে বুলিয়ে নিবেন। আর আয়াতুল কুরসি পড়ে ঘুমাবেন।

৮. ফজর এবং আসরের পর “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া’হদাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল ‘হামদ, ওয়াহুওয়া ‘আলা- কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর” এটা ১০০বার পড়া। কোনোদিন না পারলে অন্তত ১০বার পড়বেন। .

[ঙ] লক্ষণীয়:

১। এই সমস্যায় রুকইয়া তো করবেনই, কিন্তু মেডিকেল টেস্টে যদি কোন অসুখ ধরা পড়ে যার জন্য সমস্যা হচ্ছে, তাহলে পাশাপাশি ডাক্তারের কাছে সেটার জন্য চিকিৎসাও করাবেন।

২। সমস্যা ভালো হতে ৩ মাস পর্যন্ত লাগতে পারে, ধৈর্য ধরে চালিয়ে যেতে হবে। রুকইয়ার সময় অনেক কষ্ট হলেও বাদ দিবেন না।

৩। কয়েকদিন করেই যদি ভালো ফিল করতে লাগেন, তখন বাদ দিয়ে দিবেন না। বরং আরও দুই-এক সপ্তাহ রুকইয়া চালিয়ে যান। আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন… —— এই সিরিজে আমরা ৮ ধরনের যাদুর চিকিৎসা নিয়ে আলোচনা করেছি। বিদায়ের ঘণ্টা বোধহয় বাজছে… তাই আপাতত এতটুকুই! পাঠকের সুবিধার্থে আগামী পর্বে বিভিন্ন প্রকার যাদু আর বিভিন্ন রুকইয়া নিয়ে কিছু ঘটনা বলা হবে। তারপর যাদু থেকে বাঁচার মাসনুন আমল আলোচনা করে এই সিরিজ শেষ হবে ইনশাআল্লাহ…

 

যাদুগ্রস্ত (১১) প্রাসঙ্গিক কিছু ঘটনা

[১] আল্লাহর রহমতে আমরা রুকিয়া শারইয়্যাহ সিরিজের প্রায় শেষের দিকে চলে এসেছি, আজকের আমরা যাদু বা সিহরের চিকিৎসা বিষয়ে কিছু ঘটনা জানবো। ঘটনা বলা হয় মূলত উদাহরণের জন্য, থিওরির সাথে উদাহরণ থাকলে আলোচনা জীবন্ত হয়ে ওঠে। মনে রাখাও সহজ হয়। আল্লাহর সুবহানাহু তা’আলা কোরআনুল কারিমকে অতুলনীয় সব উপমা দিয়ে সাজিয়েছেন। আর হ্যাঁ! আমাদের উচিত ছিল প্রতিটা আলোচনার সাথে সেই প্রাসঙ্গিক উদাহরণ উল্লেখ করা, কিন্তু লেখার আকার বড় হয়ে গেলে অনেকে শুরুতেই ঘাবড়ে যান, পড়তে সাহস পান না। । এজন্য ঘটনা বা গল্পগুলোকে আমরা এক ধারে জমা করলাম। এবং এই পর্বেও আমরা ঘটনাগুলো খুবই সংক্ষেপে বর্ণনা করবো, অস্বাভাবিক বা ছন্দহীন লাগলেও করার কিছুই নাই, আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। চলুন শুরু করা যাক…।

[২] বিয়ে আটকে রাখার যাদু ——— প্রথম ঘটনা বরিশালের এক ভাইয়ের উনার বিয়ে হচ্ছিল না, উনি সন্দেহ করছিলেন কেউ হয়তো কিছু করেছে। পরে এক হযরতের পরামর্শে উনি রুকইয়ার গোসল করা শুরু করেন প্রতিদিন। দু’সপ্তাহের মাঝে আলহামদুলিল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যায়, এবং উনার বিয়েও হয়ে যায়। পরের ঘটনা মিশরের! এক মেয়ের সমস্যা ছিল সে এমনিতেই রাজি থাকে, কিন্তু বিয়ে আসলেই মাথা খারাপ হয়ে যায় এবং ভেঙ্গে যায় অথবা না করে দেয়। পরে আবার বিশেষ কোন কারণ খুঁজে পায়না কেন বিয়ে ভাঙল! এক শাইখের কাছে গেলে উনি রুকিয়া করেন, এবং জ্বিন চলে আসে। জিনটা মুসলিম ছিল, স্বাভাবিকভাবে দাওয়াত দেয়াতেই সে রাজি হয়ে চলে যায়, এবং পরে সব ঠিক হয়ে যায়। শেষ ঘটনা আমার এক রিলেটিভের, তার ওপর অনেকগুলো যাদু করা ছিল, বিয়ের জন্যও ছিল। নিয়ম মাফিক ৩দিন রুকইয়া করার পরেই সে অনেক বেটার ফিল করছিল, পাশাপাশি প্রায় দুই সপ্তাহ কমবেশি রুকইয়া শোনাও চলছিল। তখন কয়েকদিনের মধ্যেই বেশ কিছু প্রস্তাব এসেছিল ওর জন্য। কিন্তু এখনই যেহেতু বিয়ের প্ল্যান নেই, তাই দুঃখজনকভাবে না করে দেয়া লেগেছে সবগুলোতে। [আল্লাহ যেন তাঁর জন্য সময়মত ভালো জুটি মিলিয়ে দেন, আমিন]

[৩] বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদু ——– এক লোকের সমস্যা ছিল, বিয়ের পর থেকে স্ত্রীর সাথে মিলছিল না। সারাদিন ভালোই থাকে সব। কিন্তু উনি অফিস থেকে ফিরে বাসায় ঢুকলেই স্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে যায়, খারাপ ব্যবহার শুরু করে দেয়। পরে রুকইয়া করা হলে উনার স্ত্রীর ওপর জ্বিন চলে আসে। জ্বিন চলে যেতে অপারগতা প্রকাশ করে, আর বলে ‘আমি ফেরত গেলে যে যাদুকর আমাকে পাঠিয়েছে সে আমাকে মেরে ফেলবে’। পরে যে শায়খ রুকইয়া করছিলেন, উনি জ্বিনকে তাওবাহ করিয়ে আয়াতুল কুরসি শিখিয়ে দেন। বলেন নিয়মিত পড়তে, তাহলে আর কেউ তোমার ক্ষতি করতে পারবেনা। এরপরে জ্বিন চলে যায়, আর উনাদের সম্পর্কও স্বাভাবিক হয়ে যায়।

[৪] আসক্ত বা বশ করার যাদু ——– ঘটনা মিসরের। এক লোকের সমস্যা ছিল, বাড়ির বাহিরে সে ঠিকমতো থাকতেই পারতো না। শুধু বউয়ের কাছে ফেরার জন্য মত চাইতো, বাড়িতে আসলেও সারাদিন বউয়ের পিছে পিছে…. পরে উনার সন্দেহ হলে উনি শাইখ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালামের কাছে যান, উনি রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়ে তিন সপ্তাহ পানি খেতে এবং গোসল করতে বলেন। তিন সপ্তাহ পরেও কিছুটা প্রভাব ছিল, তখন উনি আবার একই রুকইয়া করেন, পরে আলহামদুলিল্লাহ একদম ঠিক হয়ে যায়। আমরা বলেছিলাম এই যাদুর সবচেয়ে বেশি উল্টাপাল্টা হয়। এক মহিলা তাঁর স্বামীকে বশ করার যাদু করতে এক কবিরাজের কাছে গিয়েছিল। কিন্তু যাদু উল্টা কাজ করেছিল, তাঁর স্বামী হঠাত করেই প্রচণ্ড রাগারাগি শুরু করে দেয়, এবং কয়েকদিন না যেতেই তালাক দিয়ে দেয়!! [ভালো স্টোরি ছিল এটা!]

[৫] শারীরিকভাবে অসুস্থ বানানোর যাদু ———- একটা ছেলে পোলিও রোগীর মত শরীর অবশ হয়ে ছিল, ডাক্তারদের চিকিৎসায় কোন লাভ হয়নি। পরে শায়েখ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালামের কাছে এলে উনি রুকইয়া করেন, এবং কিছু আয়াত পড়ে কালোজিরার তেলে ফু দিয়ে প্রতিদিন অবশ অঙ্গগুলোতে মালিশ করতে বলেন, কয়েক সপ্তাহের মাঝেই আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ হয়ে যায়। আরেকটা মেয়ের ঘটনা, একমাসের বেশ সময় ধরে কথা বলতে পারছিল না, তাঁর সামনে রুকইয়ার আয়াতগুলো পড়া শুরু করলে একটু পর সে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ওঠে! এবং সুস্থ হয়ে যায়।

[৬] পাগল বানানোর যাদু ———- এক সাহাবি নতুন মুসলমান হয়েছিলেন, উনি ইসলাম গ্রহণ করে ফিরে যাওয়ার সময় এক গোত্রের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে একটা পাগলকে সেকল দিয়ে বাধা ছিল। গোত্রের একজন এসে সাহাবিদের বলল, আপনাদের একজন সাথি (মুহাম্মাদ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নাকি অনেক কল্যাণের বিষয় নিয়ে এসেছেন, তাহলে এই পাগলের জন্য কি কোন সমাধান আছে? তখন নতুন ইসলাম গ্রহণ করা ওঁই সাহাবি কয়েকবার সুরা পরে পাগলের গায়ে থুতু নিক্ষেপ করেন এবং সে সুস্থ হয়ে যায়। (আরেক বর্ণনায় আছে তিনদিন সকাল-বিকাল উনি এটা করেছেন) পরে ওঁই গোত্রের লোকেরা ১০০টি ছাগল দিল। তিনি এসে রাসুল স. কে জানালেন এব্যাপারে। রাসুলুল্লাহ স. তুমি কি সুরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কিছু পড়েছিলে? সাহাবি বলেন, একদমই না। রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি সেসব (ছাগল) নিতে পারো, কত লোক আছে যারা ভ্রান্ত ঝাড়ফুঁক করে কামাই করে, তুমি নিশ্চয় সঠিক রুকইয়া করেছ। [সুনানে আবি দাউদ, সনদ সহিহ]

[৭] সেক্সুয়াল সমস্যার জন্য রুকইয়া ——— এক যুবক বিয়ের রাতে হঠাত করেই যৌন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, এবং কিছুদিনের মধ্যেই পাগল হয়ে যায়। সমস্যা মূলত ছিল, তাঁর স্ত্রী কবিরাজের কাছে গিয়েছিল যেন, সে বাদে অন্য কোন মেয়ের প্রতি আকর্ষণ না থাকে এমন তাবিজ/যাদু করতে। অর্থাৎ আসক্ত করার যাদু, কিন্তু এখানেও উল্টাপাল্টা ইফেক্ট হয়, পরে ওঁই কবিরাজের কাছে গিয়ে দেখে সে কয়েকদিন আগেই মরে গেছে! এরপর সে শায়েখ ওয়াহিদের কাছে গেলে উনি বরই পাতা জোগাড় করতে বলেন, না পেলে কর্পূরের পাতা দিয়ে রুকইয়া করেন। সেগুলো পিষে আয়াতুল কুরসি, ইখলাস, ফালাক, নাস পড়ে ফুঁ দেন আর পানিতে মিশান। এরপর ওঁই পানি খেতে বলেন আর গোসল করতে বলেন। গোসল করার পরপরই যুবকটি সুস্থ হয়ে যায়। পরের ঘটনা গত সপ্তাহের, এক ভাই ইনবক্সে নক করলেন। কিছু বলতে চাচ্ছিলেন, কিন্তু লজ্জা পাচ্ছিলেন। পরে জানালেন, উনি ওয়াইফের সাথে ইয়ে করতে পারছেন না, বিয়ের পর আস্তে আস্তে উনি সক্ষমতা হারিয়েছেন। আগে এই সমস্যা ছিল না। উনাকে এবিষয়ে লেখাটার লিংক দিলাম, তিনদিন ওভাবে গোসল করা আর পানি খাবার পর আপডেট জানাতে বললাম। তিনদিন পর জানালেন, আলহামদুলিল্লাহ তিনি এখন পারছেন। [সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্য]

[৮] এছাড়া বিক্ষিপ্ত আরও কিছু ঘটনা আছে, নিজের কিছু অভিজ্ঞতা আছে। সব তো এখানে উল্লেখ করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে শাইখ ওয়াহিদ বিন আব্দুস সালামের الصارم البتار في التصدي للسحرة الأشرار এবং وقاية الإنسان من الجن والشيطان গ্রন্থ দুটিতে এবিষয়ে অনেকগুলো ঘটনা আছে, আগ্রহীরা দেখে নিতে পারেন। আরেকটি কথা হচ্ছে, একটা প্রবণতা দেখা যায়, কাউকে দিয়ে রুকইয়া করানোর পর সুস্থ হয়ে গেলে অনেকেই আর কোন যোগাযোগ করে না। আপডেট জানায় না। সত্যি কথা হচ্ছে, সাকসেস স্টোরি জমা হলে ভবিষ্যতে কাজের উৎসাহ পাওয়া যায়। এজন্য সুস্থ হলে বা অবস্থার উন্নতি হলে জানানো উচিত। আর একটা বিরাট বড় প্রশ্ন থেকেই গেছে “যাদুর ক্ষতি থেকে বাঁচতে কি করবো? যেন কেউ আমাকে যাদু না করতে পারে?” – হুম! আগামী পর্বে এই আলোচনা করে যাদুগ্রস্তের চিকিৎসা সিরিজের ইতি টানবো ইনশাআল্লাহ!

 

যাদুগ্রস্থ (১২/শেষ) যাদু এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়

[ক] বিসমিল্লাহ! …যারা যাদু আক্রান্ত হয়েছেন তাঁরা তো বটেই, তাদের সাথে আমাদের সবারই যাদু এবং জ্বিন-শয়তানের ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিখিয়ে দেয়া আমলগুলো যত্নসহকারে করা উচিত। এগুলোকে মাসনুন আমল অর্থাৎ সুন্নাহসম্মত আমল বলে। এসবের অসাধারণ সব উপকারিতার পাশাপাশি বড় যে লাভ রয়েছে, তা হচ্ছে আল্লাহর ওপর তাওয়াককুল বাড়ে। সব সুন্নাতই গুরুত্বপূর্ণ, আর সারাদিনের; বিশেষত সকাল-সন্ধ্যার ফযিলতপূর্ণ অনেক দুয়া ও যিকর হাদিসে আছে, সবকিছু বিস্তারিত এখানে উল্লেখ করা তো সম্ভব না। আর সবসময় সবগুলোর ওপর আমলও সম্ভব না। তাই আমরা এখানে অল্প কিছু মাসনুন দোয়া এবং আমল নিয়ে আলোচনা করবো। আল্লাহ আমাদের এসবের প্রতি যত্নবান হবার তাওফিক দেন। আমিন… আর হ্যাঁ! আজকের পোস্টের সাথে একটা ছোট্ট অডিও ক্লিপ রয়েছে, [লিংক পোস্টের শেষে] পোস্টে লেখা দু’আ যাদের বুঝতে সমস্যা হবে, তাঁরা যেন অডিও শুনে নিশ্চিত হতে পারেন। আরেকটা কথা, আরবি দোয়া অথবা কোরআনের আয়াতের উচ্চারণ বাংলায় লেখতে আমার কাছে কেমন যেন লাগে! কিন্তু অতীতে এই ধরনের পোস্টে অনেকেই উচ্চারণ চেয়ে পীড়াপীড়ি করেছে, তাই কয়েকটার উচ্চারণ লিখে দিলাম। .

[খ] সকাল-সন্ধ্যার আমল ——-

১. আ’উযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত্তা-ম্মা-তি, মিং-শাররি মা-খলাক্ব। أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া। বিষ, যাদু এবং অন্যান্য ক্ষতি থেকে বাঁচতে। (জামে তিরমিযী, ৩৫৫৯) .

২. বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা-ইয়াদ্বুররু মা‘আসমিহী, শাইউং ফিলআরদ্বী ওয়ালা- ফিসসামা-ই, ওয়াহুওয়াস সামি’উল ‘আলীম। بِسْمِ اللهِ الَّذِي لاَ يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الأَرْضِ وَلاَ فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ العَلِيمُ সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার পড়া। সব ধরনের ক্ষতি এবং বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ থাকতে..। (জামে তিরমিযী, ৩৩৩৫) .

৩. সুরা তাওবাহ ১২৯ নং আয়াতের অংশ- حَسْبِيَ اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ، عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَهُوَ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় সাতবার এটি পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। (সুনানে আবি দাউদ) .

৪. সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস: প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনবার করে পড়া। সব ধরনের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে এটা রাসুল স. এর শিখানো আমল। (সুনানে আবি দাউদ) .

৫. লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারীকালাহ, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হ্ামদ, ওয়াহুওয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বদীর لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ ، لَهُ الْمُلْكُ ، وَلَهُ الْحَمْدُ ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ প্রতিদিন সকালে ১০০বার পড়া। এর অনেক বেশি ফজিলত, এবং জ্বিন-শয়তানের ক্ষতি থেকে বাঁচতে এটা পরিক্ষিত আমল। (বুখারি, মুসলিম হাদিস নং ৪৮৫৭) একশতবার না পারলে, অন্তত ফজর ও আসরের পর ১০বার করে পড়া। (আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ) .

[গ] অন্যান্য সময়ের আমল ————-

১. সম্ভব হলে মদিনার আজওয়া খেজুরের ব্যবস্থা করা, না হয় যে কোন আজওয়া খেজুরেও হবে। রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সাতটি আজওয়া খেজুর সকাল বেলায় আহার করবে সেদিন তাকে কোন বিষ ও যাদু ক্ষতি করতে পারবে না। (বুখারী) .

২. ঘুমের আগে- ক. ওযু করে ঘুমানো, তাহলে ফিরিশতারা হিফাজতের জন্য দুয়া করতে থাকে। ডান কাত হয়ে ঘুমানো। এমনিতেও সর্বদা ওযু অবস্থায় থাকা সুন্নাত। (মু’জামুল আওসাত; সনদ হাসান-জায়্যিদ) খ. শোয়ার পূর্বে কোন কাপড় বা ঝাড়ু দিয়ে বিছানা ঝেড়ে নেয়া। (মুসলিম) গ. আয়াতুল কুরসি পড়া। (বুখারী) সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পড়া। (বুখারী) ঘ. সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক, সুরা নাস পড়ে হাতের তালুতে ফু দেয়া, এরপর পুরো শরীরে হাত বুলিয়ে নেয়া। (বুখারী) .

৩. টয়লেটে ঢুকার পূর্বে দোয়া পড়া- اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبْثِ وَالْخَبَائِثِ আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা, মিনাল খুবসি ওয়াল খবা-ইছ। অর্থ: হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি খারাপ জ্বিন ও খারাপ পরী থেকে। (সহীহ মুসলিম, ৩৭৫) .

৪. বিয়ের প্রথম রাতে স্ত্রীর কাছে গিয়ে পড়া [*] اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ [*] এবিষয়ে প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হচ্ছে, অনেকে এটি স্ত্রীর মাথায় হাত রেখেই পড়তে হবে। কিছু হাদিসে মাথায় হাত রেখে পড়ার কথা থাকলেও, প্রসিদ্ধ হাদিসগুলোতে কিন্তু স্ত্রীর কাছে গিয়ে শুধু পড়ার কথা আছে। (সুনানে আবি দাউদ ২২৪৩ এবং ইবনে মাযাহ ১৯০৮ দ্রষ্টব্য) .

৫. স্ত্রী সহবাসের পূর্বে দোয়া পড়া। بِسْمِ اللَّهِ، اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ، وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا বিসমিল্লাহি আল্লা-হুম্মা জান্নিবনাশ শাইত্বা-না, ওয়া জান্নিবিশ্-শাইত্বানা মা-রযাকতানা। (বুখারী, ৪৮৭০) .

৬. দৈনিক একবার হলেও মসজিদে প্রবেশের দোয়া পড়া أَعُوذُ بِاللَّهِ الْعَظِيمِ وَبِوَجْهِهِ الْكَرِيمِ وَسُلْطَانِهِ الْقَدِيْمِ مِنْ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: মসজিদে প্রবেশের সময় কেউ এটা পড়লে শয়তান বলে, এই ব্যক্তি আজ সারাদিনের জন্য আমার থেকে রক্ষা পেয়ে গেল। (সুনানে আবি দাউদ, ৩৯৩) .

৭. বিসমিল্লাহ বলে দরজা-জানালা লাগানো। খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলা। . —————– আল্লাহর রহমতে ব্ল্যাক ম্যাজিক সিরিজ সমাপ্ত… =================== যাদু / ব্ল্যাক ম্যাজিক / বান মারার জন্য রুকইয়া:

[সতর্কতাঃ এডমিনরা সাজেস্ট না করলে এই পদ্ধতি অনুসরণ করবেন না। অন্যথায় সব দায়ভার আপনার] যাদুর প্রকারভেদ অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার রুকইয়া করা হয়। তবে কমন সেলফ রুকইয়া হচ্ছে- প্রথমে সমস্যার জন্য নিয়াত ঠিক করে নিন, ইস্তিগফার, দরুদ শরিফ পড়ে শুরু করুন। এরপর একটি বোতল ভর্তি পানি নিয়ে ক. সুরা আ’রাফ ১১৭-১২২ খ. ইউনুস ৮১-৮২ গ. সুরা ত্বহা ৬৯নং আয়াত পড়ে ফুঁ দিন। ১. وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ ۖ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ – فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ – فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانقَلَبُوا صَاغِرِينَ – وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ -قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ – رَبِّ مُوسَىٰ وَهَارُونَ – ২. فَلَمَّا أَلْقَوْا قَالَ مُوسَىٰ مَا جِئْتُم بِهِ السِّحْرُ ۖ إِنَّ اللَّهَ سَيُبْطِلُهُ ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يُصْلِحُ عَمَلَ الْمُفْسِدِينَ – وَيُحِقُّ اللَّهُ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُجْرِمُونَ – ৩. وَأَلْقِ مَا فِي يَمِينِكَ تَلْقَفْ مَا صَنَعُوا ۖ إِنَّمَا صَنَعُوا كَيْدُ سَاحِرٍ ۖ وَلَا يُفْلِحُ السَّاحِرُ حَيْثُ أَتَىٰ – ঘ. এরপর সুরা ফালাক্ব, সুরা নাস ৩বার পড়ে ফুঁ দিন। তিন থেকে সাতদিন সকাল-বিকাল এই পানি খেতে হবে এবং গোসলের পানিতে মিশিয়ে গোসল করতে হবে। আর ৩/৪ সপ্তাহ প্রতিদিন কমপক্ষে দুইঘণ্টা রুকইয়া শুনতে হবে। একঘণ্টা সাধারণ রুকইয়া (ডাউনলোড পেইজের ১১ থেকে ২৩ নং পর্যন্ত রুকয়াহ গুলো সাধারণ রুকইয়াহ। আপনার যেটা ইচ্ছা ডাউনলোড করে শুনবেন) আর একঘণ্টা সুরা ইখলাস, ফালাক, নাসের (ডাউনলোড পেইজের ৯ নং) রুকইয়াহ। (ডাউনলোড লিংক www.ruqyahbd.org/download )। আর পাশাপাশি তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে দোআ করতে হবে। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে প্রথম সপ্তাহেই উন্নতি টের পাওয়া যায়, তবে এরপরের কয়েক সপ্তাহ একঘন্টা করে হলেও রুকইয়া শুনে যেতে হবে। বাদ দেয়া যাবে না। তাহলে ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই সুস্থ হয়ে যাবে। যদি দুই-তিন সপ্তাহ পরেও সমস্যা শেষ না হয়, তবে আবার অনুরূপ করতে হবে।

যাদুর কোন জিনিশ অথবা তাবিজ খুঁজে পেলে:

কি দিয়ে যাদু করেছে যদি পাওয়া যায়, অথবা সন্দেহজনক কোন তাবিজ পেলে উপরে বলা আয়াতগুলো পড়ে পানিতে ফুঁ দিন, এরপর তাবিজ অথবা যাদুর জিনিশগুলো ডুবিয়ে রাখুন কিছুক্ষণ, তাহলে ইনশাআল্লাহ যাদু নষ্ট হয়ে যাবে। পরে সেগুলো পুড়িয়ে বা নষ্ট করে দিন। যাদু আক্রান্ত হলে বোঝার উপায়ঃ রুকইয়ার আয়াতগুলো যাদু আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর পড়লে, অথবা রুকইয়ার আয়াতের অডিও শুনলে যাদুগ্রস্তের অস্বাভাবিক অনুভূতি হয়। যেমন, প্রচণ্ড মাথাব্যথা, পেট ব্যথা, বুক ধড়ফড় করা ইত্যাদি। যাদু, জ্বিন, বদনজর সম্পর্কিত একাধিক সমস্যায় আক্রান্ত হলে: একসাথে একাধিক সমস্যায় আক্রান্ত হলে প্রথমে বদনজরের জন্য রুকইয়া করতে হবে, এরপর জ্বিনের রুকইয়া এবং যাদুর জন্য রুকইয়া।

কেউ যাদু আক্রান্ত হলে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে দোয়া করা।

আমরা জানি জাদুর জিনিসগুলো যদি পাওয়া যায় আর সেগুলো নষ্ট করে ফেলা হয়, তাহলে মানুষ খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়। তাই তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত যেন আল্লাহ জানিয়ে দেন, যাদুর জিনিশগুলো কোথায় পাওয়া যাবে, কিভাবে পাওয়া যাবে, কিভাবে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এটা কিন্তু রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহ। আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহা থেকে যে ঘটনাটি বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে যখন যাদু করা হয়েছিল, উনি কয়েকদিন খুব বেশি বেশি দোয়া করেছেন, এরপর একদিন হঠাৎ বললেন “আয়েশা তুমি কি বুঝতে পেরেছ যে ব্যাপারে আমি দোয়া করছিলাম আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন?“ ওই সময়েই রাসুল সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রুকইয়ার জন্য সুরা ফালাক সুরা নাস নাযিল হয়। রাসুলুল্লাহকে জানিয়ে দেয়া হয়, আপনাকে এভাবে যাদু করা হয়েছে, অমুক যায়গায় আছে যাদুর জিনিস। ইত্যাদি… (বুখারি ৫৪৩০, মুসলিম, নাসাঈ, ইবনে মাযাহ, মুসনাদে আহমাদ) তো এখানে মুল যে বিষয়ে আমি ফোকাস করতে চাচ্ছি, তা হচ্ছে দোয়া করা। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই রুকইয়াহ অসম্পূর্ণ যেখানে দোয়া নেই। তাই আমাদের অবশ্যই দোয়া করা উচিত।

১. বেলাল রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমাদের সম্পদ হিফাজত কর যাকাত প্রদানের মাধ্যমে, তোমাদের রোগের চিকিৎসা কর সাদকার মাধ্যমে, আর তোমাদের বিপদ দূর কর দু’আর মাধ্যমে। (মুজামুল আওসাত ২০০৬, বায়হাক্বি ৩২৭৪)

২. জাবির রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি নবী ﷺ কে বলতে শুনেছি, রাতে এমন একটি সময় রয়েছে যে, কোন মুসলমান ব্যাক্তি আল্লাহর কাছে দুনিয়া-আখিরাতের কোন কল্যাণের প্রার্থনা করা অবস্থায় যদি সময়টি পেয়ে যায়, তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে তা দান করবেন। আর এই সময় আছে প্রতিটি রাতেই। (মুসলিম ৭৫৭)

৩. আবূ হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমাদের বরকতময় ও মহান প্রতিপালক প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকার সময় পৃথিবীর আসমানে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, কে আছে আমাকে ডাকবে, তাহলে আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে আমার কাছে চাইবে, তবে আমি তাকে দিয়ে দিব। কে আছে আমার কাছে ইস্তিগফার করবে, তবে আমি তাকে মাফ করে দেব। (বুখারি ৫৯৬২, তিরমিযি)

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার (রুকইয়াহ) হাদিয়া।

ঢাকার মধ্যে রুকইয়ার হাদিয়া প্রতি রোগী প্রথমবার ৫০০০ টাকা, ২য়/তয় বার ৪০০০ টাকা, আর ঢাকার বাহিরে হলে প্রথমবার ১০,০০০ টাকা, ২য়/৩য়  বার  ৮০০০ টাকা । বি. দ্রঃ খুব বেশি দূরত্ব, অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বড় বেশি কঠিন রোগীর ক্ষেত্রে হাদিয়া আলোচনা সাপক্ষে কম বেশি হতে পারে। এই ইসলামিক চিকিৎসা পদ্ধতি দিয়ে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে, কোরআন হাদিসের চিকিৎসা সমাজে কায়েম করানো, আল্লাহ্‌ আমাদের সবাইকে দীন-ইসলামের খাদেম হিসাবে কবুল করুন, আমীন, সুম্মা আমীন।

  1. পর্ব-১ (যাদু বিষয়ে ইসলামী আক্বিদা)
  2. পর্ব-২ (সালাফের মন্তব্য, কিভাবে যাদু করে, সতর্কতা)
  3. পর্ব-৩ (পূর্ব কথা, রুকইয়ার আয়াত, পিডিএফ)
  4. পর্ব-৪ (বিয়ে ভাঙার বা আটকে রাখার যাদু)
  5. পর্ব-৫ (সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানোর যাদু)
  6. পর্ব-৬ (আসক্ত, অনুগত বা বশ করার যাদু)
  7. পর্ব-৭ (শারীরিকভাবে অসুস্থ বানানোর যাদু)
  8. পর্ব-৮ (পাগল করা এবং পড়ালেখা নষ্টের যাদু)
  9. পর্ব-৯ (দুই প্রকার সেক্সুয়াল ডিজিজের জন্য যাদু)
  10. পর্ব-১০ (গর্ভের সন্তান নষ্ট করার যাদু)
  11. পর্ব-১১ (প্রাসঙ্গিক কিছু ঘটনা)
  12. পর্ব-১২ (যাদু এবং অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি থেকে বাঁচার উপায়)
  13. সিহরের কমন রুকইয়াহ
  14. বরই পাতার গোসল

Payment Method

Subscribe to get update abot islamc info  in your email box.


    Contact Us

    Ka/65/5, Shahjadpur, Gulshan, Dhaka.

    +88 01737 196 111 or +88 01716 988 953

    hi@islamidawahcenter.com

    www.islamidawahcenter.com


    ©2018-2021 Islami Dawah Center, All Rights Reserved

    has been added to the cart. View Cart