ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ এর স্বপ্নের শিক্ষা

ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ একবার স্বপ্নে দেখলেন তিঁনি রাসূল সল্লল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবর খুঁড়তে লাগলেন এবং একপর্যায়ে রাসূলের কাফন ধরে টানতে লাগলেন। এরপরই তাঁর স্বপ্ন ভেঙ্গে যায়!
এমন অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে তিঁনি বিচলিত হয়ে পড়েন।রাসূলের শানে বড় কোন বেয়াদবি হয়ে গেল কিনা কিংবা কোন গুরুতর অপরাধের কারণে রাসূলের সুন্নতের অপমান হওয়ায় তিঁনি এমন স্বপ্ন দেখলেন কিনা এ নিয়ে সংশয়ে পড়ে গেলেন। কিন্তু কোন কূলকিনারা খুঁজে পেলেন না।বিজ্ঞ আলিমদের সানিধ্যে যোগাযোগ করে স্বপ্নের ব্যাখ্যা চাইলেন কিন্তু কেউ সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারল না।অবশেষে গেলেন প্রখ্যাত ইসলামিক পণ্ডিত তাবেয়ী ইমাম মুহাম্মদ ইবনু সীরিন রহিমাহুল্লাহ এর কাছে।তিঁনি স্বপ্নের সুন্দর ব্যাখ্যা করতে জানতেন।একজনের স্বপ্ন আপাত দৃষ্টিতে যত খারাপ হোক তিঁনি এটাকে সবসময় পজিটিভভাবে ব্যাখ্যা করতেন।অন্যদের মত হুটহাট উত্তর না দিয়ে ভেবে চিন্তে উত্তর দিতেন।কেননা এর ওপর অনেক সময় ব্যক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয়ে থাকে।
প্রাজ্ঞ এই আলেম স্বপ্নের জবাবে বলেন,ইমাম আবু হানিফা সুন্নতের পুনরুজ্জীবন ঘটাবেন।ইসলামের খেদমতে নববী পদ্ধতির বাস্তবায়ন ঘটাবেন–যা ভুলে যাওয়া হয়েছে।
এরপরের ঘটনা আমাদের অজানা নয়।ইসলামের যে কয়জন ইমামের মাজহাব আজ বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে মানা হয় তাদের মধ্যে ইমাম আবু হানিফা অন্যতম।তাঁর ছাত্ররা ইসলামের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন পৃথিবীর দিকদিগন্তে।বর্তমানে সম্ভবত এমন আলিম খুঁজে পাওয়া যাবে না যিনি ইমাম আবু হানিফার দ্বারা উপকৃত হননি। তিঁনি আজও অমর হয়ে আছেন কোটি মুসলিমের অন্তরে।
একবার ভেবে দেখুন–এই স্বপ্নকে দুভাবেই ব্যাখ্যা করা যেত।আমরা হলে হয়ত বলতাম ইমাম আবু হানিফা রাসূলকে অপমানিত করবেন।কিন্তু, ইবনু সিরীন রহিমাহুল্লাহ এমন ব্যাখ্যা করেছেন যা আজ আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ কে স্মরণীয় বরণীয় করে রেখেছে।তাই স্বপ্নের ক্ষেত্রে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।যাকে তাকে স্বপ্নের কথা বলে বেড়ানো উচিত নয়।বিজ্ঞ আলিমের সানিধ্যে গিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে স্বপ্নের কথা ব্যক্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিঃদ্রঃ স্বপ্নের ব্যাখ্যা খারাপভাবে করলে ব্যক্তির জীবনে খারপটাই ঘটে যায়– এমন অনেক উদাহরণ হাদিসের মাধ্যমে পাওয়া যায়।তাই আপন শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা বিজ্ঞ আলিম ব্যতীত স্বপ্নের কথা বলে বেড়ানো অনুচিত।