হারিয়ে যাওয়া চমৎকার কিছু উসমানীয় রীতি-নীতি!

১. উসমানীয়দের প্রত্যেকের বাড়ির দরজায় দুটো হুক থাকতো। একটি চিকন, অন্যটি তুলনামূলক মোটা ও ভারী। কোনো মহিলা বেড়াতে এলে তিনি চিকন হুক দিয়ে দরজায় টোকা দিতেন আর তখন বাড়ির একজন মহিলা দরজা খুলত। বিপরীতে কোনো পুরুষ এলে তিনি মোটা ও ভারী হুক দিয়ে টোকা দিতেন। তখন বাড়ির পুরুষেরা দরজা খুলত। বাড়ির মহিলারা পর্দার আড়ালে চলে যেত।
২. তাদের সবার বাড়িতে ফুল বাগিচা থাকতো। জানালার সামনে হলুদ ফুল থাকলে বোঝা যেত ‘এই বাড়িতে একজন অসুস্থ ব্যক্তি আছেন। বাড়ির সামনে কিংবা রাস্তায় হট্টগোল করবেন না’। আর যদি জানালার সামনে লাল ফুল থাকত, তবে বোঝানো হতো এই বাড়িতে একজন বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আচরণে সীমালঙ্ঘন করবেন না এবং শালীন ভাষা ব্যবহার করবেন।’
৩. রমাদানের সময়ে উসমানীয় ধনীরা মফস্বল কিংবা অপরিচিত মুদি দোকানে গিয়ে দোকানীকে বাকির খাতা বের করতে বলত। এরপর খাতার শুরু, মাঝে কিংবা শেষের যেকোনো পাতা খুলে টাকা পরিশোধ করে দিত। যে ব্যক্তির নামে বাকি ছিল, তিনি জানতেও পারতেন না কে টাকা পরিশোধ করেছে।
৪. সিড়ি বেয়ে ওঠার সময় মহিলাদের পেছনে পুরুষরা থাকতো। এতে মহিলাদের দেখা যেতো না এবং কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে পুরুষ ব্যক্তি মহিলাকে ধরে ফেলতে পারতেন। আর সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ঠিক উল্টোটা করা হতো। পুরুষ ব্যক্তি সামনে, মহিলা তার পেছনে।
৫. কেউ মেহমান এলে তাকে কফির সঙ্গে পানিও দেওয়া হতো। অতিথি খালিপেটে থাকলে পানি খেতেন, অন্যথায় কফি। আর এভাবে অতিথির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে হয় ভারী খাবার নয়ত ফলমূল পরিবেশন করা হতো।
৬. রাস্তায় চলার সময়, বয়স্কদের সামনে ছোটোরা হাঁটত না।
৭. উসমানীয় আমলে, রমাদানের সময়ে মানুষজন সওয়াবের আশায় বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে প্রচুর ইফতার বিতরণ করত। সবার মধ্যে অতিথি আপ্যায়নের হিড়িক লেগে যেত এবং মানুষজন রীতিমত প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। ইফতারের সময় প্রত্যেক বাড়ির সদর দরজা খোলা রাখা হতো যেন যে কেউ চাইলেই ইফতারে অংশগ্রহণ করতে পারে। এ জন্য পূর্বপরিচিত হতে হতো না কিংবা ইফতার করা যাবে কি না তা জিজ্ঞাসারও প্রয়োজন হতো না!
৮. ঈদ উসমানীয়দের কাছে এক জৌলুসময় উৎসব হিসেবে বিবেচিত হতো। বিশেষ করে শিশুরা ঈদ খুব জাঁকজমকের সাথে পালন করত। তারা রং-বেরঙের ঈদের পোশাক পরে রাস্তায় দলবেঁধে ঘুরে বেড়াত। চাঁদরাতে তাদের মুখগুলো খুশিতে চাঁদের মতোই জ্বলজ্বল করত। সপ্তাহের কেনাকাটা শেষে ঈদের দিনটা যেন এক অপরিমেয় আনন্দ নিয়ে হাজির হতো উসমানীয় শিশুদের কাছে।
৯. ঈদের অনুষ্ঠান শুরু হতো সুলতানের মাসজিদে নামাজে যোগদানের সময় হতে। নামাজ শেষে সুলতান ঘরে ফিরে সর্বপ্রথম তার মায়ের হাতে চুমু খেতেন। এরপর তার স্ত্রী-সন্তানদের সঙ্গে মিলিত হতেন। সুলতান এরপর কারুকার্যময় থলেসমেত বাচ্চাদের ঈদের সালামি দিতেন। বাচ্চারা তা পেয়ে ভীষণ খুশি হতো।
১০. মাথার পাগড়ির ধরণ দেখেই কে কী কাজ করে তা বোঝা যেত। মানুষজন বাহারি রকমের পাগড়ি পরতেন। কেউ উঁচু, কেউ স্বল্প বসনের। কেউবা শুধু টুপি।
১১. সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি পরিবারের প্রধান হিসেবে বিবেচিত হতেন। পিতৃ বা মাতৃ সম্পর্কের সবাই একটা ম্যানশনে একত্রে বসবাস করতেন। সবার প্রধানের আদেশ নিষেধ মেনে চলতেন। আর সাধারণ রীতি ছিল- সবাই একসঙ্গে খাবার খেতেন।

আমাদের ভুলে যাওয়া এমন চমৎকার সব সংস্কৃতিগুলো আবার জেগে উঠুক। ছড়িয়ে পড়ুক অটোমান বা উসমানীয় সংস্কৃতি। (তার্কিশ পত্রিকা সাবাহ-এ প্রকাশিত এই আর্টিকেলটি অনুবাদ করে দিয়ে কৃতজ্ঞ করেছেন প্রিয় Abu Bakar Siddik ভাই)

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

 

Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ )