সালাতুল খুসুফ বা চন্দ্রগ্রহণের নামাজের নিয়ম কানুন!

 

আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অসংখ্য কুদরতের মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ। আজ বুধবার (২৬ মে, ২০২১) সন্ধ্যায় পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহণ হতে যাচ্ছে ইনশাআল্লাহ। সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত ভীতসন্ত্রস্ত থাকতেন। এ সময়ে সালাত আদায় করা ও তাওবা-ইস্তিগফার করে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা সুন্নাহ।

 

॥॥ সালাতুল খুসুফ বা চন্দ্রগ্রহণের নামাজের সময় ॥॥

অবস্থান ভেদে দেশের আকাশে মেঘের উপস্থিতির সাপেক্ষে সন্ধ্যা ৬ঃ৩০ থেকে প্রায় রাত ৮টা পর্যন্ত চন্দ্রগ্রহণ দেখা যাবে। ঢাকায় চন্দ্রগ্রহণ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং শেষ হবে ৭টা ৫১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। ময়মনসিংহে শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৭টা ৫৩ মিনিটে। চট্টগ্রামে সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে ‍শুরু হবে এবং শেষ হবে ৭টা ৪২ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে। সিলেটে শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৭টা ৪৭ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে।

খুলনায় শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪২ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৭টা ৫২ মিনিট ৪২ সেকেন্ডে। বরিশালে শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৯ মিনিটে এবং শেষ হবে ৭টা ৫৩ মিনিট ১৮ সেকেন্ডে। রাজশাহীতে শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৭টা ৫৯ মিনিট ১২ সেকেন্ডে। আর রংপুরে শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিট ৩০ সেকেন্ডে এবং শেষ হবে ৭টা ৫৯ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডে।

 

॥॥ সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের নামাযের পদ্ধতি ॥॥

১) তাকবিরে তাহরিমা (আল্লাহু আকবার) বলবে। সানা পড়বে। এরপর আউযুবিল্লাহ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়বে। তারপর দীর্ঘ তেলাওয়াত করবে।

২) এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করবে।

৩) এরপর রুকু থেকে উঠে ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলবে।

৪) এরপর সূরা ফাতিহা পড়বে এবং দীর্ঘ তেলাওয়াত করবে; তবে পরিমাণে প্রথম রাকাতের তেলাওয়াতের চেয়ে কম।

৫) এরপর দ্বিতীয়বার রুকু করবে এবং দীর্ঘক্ষণ রুকুতে থাকবে; তবে প্রথম রুকুর চেয়ে কম সময়।

৬) এরপর রুকু থেকে উঠে ‘সামি আল্লাহু লিমান হামিদা, রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ’ বলে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে।

৭) এরপর দীর্ঘ দীর্ঘ দুইটি সেজদা করবে এবং দুই সেজদার মাঝখানেও দীর্ঘসময় বসে থাকবে।

৮) এরপর দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়াবে এবং প্রথম রাকাতের মত দুই রুকুসহ ইত্যাদি করবে। কিন্তু, সবকিছুর দীর্ঘতা প্রথম রাকাতের চেয়ে কম হবে।

৯) এরপর তাশাহুদ পড়ে সালাম ফিরাবে।

[দেখুন: ইবনে কুদামার রচিত ‘আল-মুগনি’ (৩/৩২৩), নববীর রচিত ‘আল-মাজুম’ (৫/৪৮)।

 

॥॥ সালাতুল কুসূফ (সূর্যগ্রহণের সালাত) ও সালাতুল খুসুফ (চন্দ্রগ্রহণের সালাত) ॥॥

সূর্য ও চন্দ্র যখন গ্রহণের সময় আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারা ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যেতো। তখন তিনি সাহাবীদের নিয়ে জামায়াতে নামাজ পড়তেন, কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। আরবীতে সূর্যগ্রহণকে ‘কুসূফ’ আর চন্দ্রগ্রহণকে ‘খুসুফ’ বলা হয়। আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে ‘সালাতুল কুসূফ’ এবং চন্দ্রগ্রহণের নামাজকে ‘সালাতুল খুসুফ’ বলা হয়।

দশম হিজরীতে যখন পবিত্র মদীনায় সূর্যগ্রহণ হয়, ঘোষণা দিয়ে লোকদেরকে নামাজের জন্য সমবেত করা হয়েছিল। তারপর সম্ভবত নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনের সর্বাধিক দীর্ঘ নামাজের জামায়াতের ইমামতি করেছিলেন। সেই নামাজের কিয়াম, রুকু, সিজদাহ মোটকথা, প্রত্যেকটি রুকন সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিলো।

হাদীসের দলিলের আলোকে ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ ও ইমাম সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহর মতে চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণের নামাজটি ২টি রুকু ও ৪টি সিজদা সহকারে দুই রাকাআত বিশিষ্ট। অর্থাৎ আমরা যে কোনো সুন্নত-নফল ২ রাকাত নামাজ যেভাবে পড়ি এ নামাজও সেই একই নিয়মে পড়তে হবে। যদিও অন্য হাদীসে চার রুকু ও চার সিজদার মাধ্যমে দুই রাকাত নামাজ পড়ার বর্ণনাও পাওয়া যায়। এ বর্ণনার আলোকে অন্য মাযহাবের অনেক ইমামগণ দ্বিতীয় পদ্ধতির ব্যাপারে মত দিয়ে থাকেন।

সূর্যগ্রহণকালীন সালাতুল কুসূফ নামাজ মসজিদে জামায়াতের সাথে পড়া সুন্নাহ। তবে একাকী ঘরে পড়লেও তা আদায় হবে। ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহর মতে চন্দ্রগ্রহণের নামাজ বাসায় পড়া উত্তম যেহেতু এটা রাতে পড়তে হয়। নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই এ নামাজ পড়া সুন্নাহ।

 

॥॥ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কেন হয়? ॥॥

সূর্য, চাঁদ, পৃথিবী এক সরল রেখাতে এলে গ্রহণের ঘটনা ঘটে। সূর্যগ্রহণের সময়, ভ্রমণরত অবস্থায় চাঁদ কিছু সময়ের জন্য পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে পড়ে, তখন কিছু সময়ের জন্য পৃথিবীর কিছু জায়গা থেকে সূর্যকে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে আর দেখা যায় না। চাঁদের ছায়া এসে পৌঁছায় পৃথিবীর ওপর। যে কারণে ছায়া পড়া অংশে খানিক সময়ের জন্য দিনের আলো থাকে না।

অপরদিকে চন্দ্রগ্রহণ হয়, যখন চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে থাকে পৃথিবীর অবস্থান। পৃথিবী তখন আলোর উৎস বন্ধ করে দেয়। ফলে সূর্য থেকে কিছু সময়ের জন্য চাঁদের উপর আলো পড়ত পারে না। তখন আমরা চাঁদের পৃষ্ঠে পৃথিবীর ছায়া দেখতে পাই।

অবিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা প্রথম যখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সালাতুল কুসূফের (সূর্যগ্রহণের নামাজের) আমল সম্পর্কে জানতে পারলো, তখন তারা এটা নিয়ে বিদ্রুপ করলো (নাউযুবিল্লাহ)। তারা বললো, এ সময় এত ভয় পাওয়ার বা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার কী যৌক্তিকতা আছে? সূর্যগ্রহণের সময় চন্দ্রটি পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে বলে সূর্যগ্রহণ হয়। ব্যস এতটুকুই! এখানে কান্নাকাটি করার কী আছে? মজার বিষয় হলো, বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় যখন এ বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হলো, তখন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই আমলের তাৎপর্য বেরিয়ে আসলো।

 

॥॥ সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ নিয়ে কুসংস্কার ॥॥

চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ নিয়ে আমাদের দেশে অসংখ্য কুসংস্কার আছে। অনেক কুপ্রথা আছে। যেগুলো আসলে কোনো ভাবেই ইসলামের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। আগের কালের ‘মুরুব্বি’দের ধারণাপ্রসূত এসব কুসংস্কারগুলো বিজ্ঞান বা ইসলাম সম্মত নয়। যেমন – বলা হয়ে থাকে সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী নারী মুরগি কাটলে বিকলাঙ্গ সন্তান জন্ম নেয়। এসময় রান্না করা বা খাওয়া যাবে না ইত্যাদি। এসকল কথাই ভিত্তিহীন ও কুসংস্কার। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোনো বিষয়কে সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্যের লক্ষণ মনে করাকে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছেন। যা অনেক সময় শিরকের পর্যায়ে চলে যায়।

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সময় করণীয় কী সে বিষয়ে সুস্পষ্ট হাদীস রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন “… চন্দ্র ও সূর্য আল্লাহর দু’টি নিদর্শন। আর চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ কারো জন্ম ও মুত্যুর কারণে সংঘটিত হয় না। অতএব তোমরা যখন চন্দ্র গ্রহণ ও সূর্য গ্রহণ দেখতে পাও, তখন তাকবীর পড় আর আল্লাহর কাছে দু‘আ কর এবং সলাত আদায় কর ও সদাক্বাহ্‌ কর।…।” (মুসলিম ১৯৭৪)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পুত্র ইবরাহীম যেদিন ইন্তিকাল করেন সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। সাহাবিরা বলাবলি করছিলেন যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পুত্র ইন্তিকাল করায় সূর্যগ্রহণ হয়েছে। সে প্রসঙ্গেই বলা হয়েছে যে ‘কারো জন্ম বা মৃত্যুতে তার আলো নিষ্প্রভ হয় না’।

এমনিভাবে প্রত্যেক ভীতিকর অবস্থাতে যেমন- প্রবল বাতাস প্রবাহকালে, অতিবৃষ্টি, গাঢ় অন্ধকার, ভূমিকম্প ইত্যাদি সময়ে নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব। চন্দ্র গ্রহণের নামাজ কারও কারও মতে, সূর্য গ্রহণের নামাজের অনুরূপ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করা সুন্নত। কিন্তু ইমাম আবু হানিফা রাহিমাহুল্লাহ বলেন, যেহেতু এ নামাজ রাত্রিকালীন তাই ঘরে একাকী আদায় করা উত্তম।

আল্লাহ আমাদেরকে চন্দ্র-সূর্যের গ্রহণকালীন ক্ষতিকর বিকিরণ ও অন্যান্য যে কোনো আশংকা বা বিপর্যয় যদি থেকে থাকে তা থেকে রক্ষা করুন। আমাদেরকে রক্ষা করুন সকল ধরণের কুসংস্কার ও কুপ্রথা পালন করা থেকে। আমাদেরকে অটল রাখুন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সুন্নাহর উপর। আমীন।

Courtesy: Daily Ayah

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

Islami Dawah Center Cover photo

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ, ফার্স্ট ক্লাস )