মুমিনের উৎসবের সবসময় কখন কখন?

যারা ইসলাম সম্পর্কে কোনরূপ জ্ঞান রাখেন না, তারা অন্য যাদের পরিপূর্ণ ভাবে ইসলাম পালন করতে দেখেন তখন ভেবেই নেন ইসলাম এত নিরানন্দ কেন? কোন গান বাজনা করে আনন্দ ফূর্তি করা যায়না, দুই ঈদ ছাড়া কোন উৎসব নেই, জন্মদিন বিবাহবার্ষিকীও পালন করা যাবেনা, শবে বরাতের কল্যাণে যা হালুয়া রুটি মাংস খাওয়ার প্রচলন চালু ছিলো সেটাও নাকি আলিমরা এখন বিদায়াত বিদায়াত বলছেন, পর্দা করে ১৪ জন মাহরাম পুরুষের সামনে অতি প্রয়োজন ছাড়া খোশগল্প করা যাবে না। ইশ এত এত নিয়ম? সবই তো নিরামিষ! আসুন দেখি তো আসলেই নিরামিষ নাকি? আমার কাছে মনে হয় আমাদের মুসলিমদের জন্য প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্ত উৎসব! কিভাবে?
এইযে প্রতিদিন পাঁচবার আযানের মাধ্যমে নামাযের জন্য ডাকা হচ্ছে। আসলে কে ডাকছে ভেবে দেখেছেন কি? আযান দিচ্ছেন মুয়াজ্জিন ঠিকই কিন্তু যেসব বাক্য বলে ডাকছেন এগুলো তো তার লেখা কোন বানী নয়। এই বানীগুলো আল্লাহর। স্বয়ং, আল্লাহ সুবহানা তায়ালা আযানের লেখক। সুবহান আল্লাহ! আল্লাহ দিনে পাঁচ পাঁচ বার ডাকছেন এটা কত বড় আনন্দের বিষয়!! এমন না যে যখন ইচ্ছা হলো আমি আল্লাহর কাছে নামাযে বসবো! আল্লাহ নিজে কল দিচ্ছেন আমাকে, আপনাকে! আল্লাহর ডাকে সারা দেয়া রীতিমতো আনন্দ উৎসবের মত। আল্লাহর সাথে কথা বলার জন্য যেমন তেমন ভাবে যাওয়া যাবে না। ওযু করে পাক পবিত্র হয়ে, পরিষ্কার পরিচ্চন্ন হয়ে সুন্দর পোষাক পড়ে উপস্থিত হতে হবে। এই যে সাজ সাজ রব! আমরা বাহিরে গেলে কি পরিপাটি হয়ে যাই না? তাহলে? এটা তো আনন্দের বিষয়। ডাক আসা মাত্রই সব ছেড়ে আনন্দ নিয়ে পরিপাটি হয়ে আল্লাহর সামনে চলে যেতে হবে। বাড়ির এক কোণে যদি নামাযের একটা স্থান রাখা হয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সেই যায়গাতে নামায আদায় করতেই তো ইচ্ছা করবে। এক দিনের মধ্যে পাঁচ বার উৎসব!!! ভেবে দেখেছেন কি?
এই যে সামনে রমাদান মাস আসছে। রমাদানের প্রস্তুতি কজনা নিচ্ছি? রোজার মাস বলতেই খাওয়া দাওয়া, ফ্রোজেন খাবার বানানোর ধুম। কিন্তু, ইবাদত কখন কোন সময় কি কি করবো তার লিস্ট করছি কি? একটা খাতায় যদি ওই মাসের নিজেদের সুবিধামত রুটিন করা যায় অনেক ভালো হয়। কুরআন তেলাওয়াত, কুরআনের অর্থ বোঝা, নতুন আরবী শব্দ শেখা, তারাবীর নামায সবকিছু জন্য প্রস্তুতি নেয়া খুব দরকার। রমাদান আসছে তাই নিজেরা সহ বাড়ির বাচ্চাদের প্রস্তুতি নিতে শেখানো। বাড়িঘর পরিষ্কার করে, ইবাদতের জন্য তৈরি করা। বাচ্চাদের জন্য উৎসব মুখর পরিবেশ তৈরি করে রমাদানকে স্বাগত জানানোর ধাপ আপনিই দিতে পারেন। বাচ্চাদের হাতে রঙ্গিন কাগজ, পেন্সিল তুলে দিন। রমাদানকে ঘিরে তাদের মনে যা ভাবনা তা পোস্টারে ফুঁটিয়ে তুলতে বলুন। সেটা রমাদান মাস জুড়ে ঘরের দেয়ালে টানিয়ে রাখুন। পরিবারের সবাই আলাদা আলাদা একটা খাতা বানিয়ে তাতে যার যা দরকার সেটা লিখে রাখুন। রোজাদার ব্যক্তির দু’আ যেহেতু আল্লাহ কবুল করেন। ঠিক ইফতারের আগ দিয়ে পুরো খাতা খুলে বাচ্চারা যেন আল্লাহর কাছে চেয়ে নেয় তাদের প্রয়োজন। এভাবে উৎসব করা যায়।
আল্লাহ সুবহানা তায়ালা গোপন ইবাদতকে সবচেয়ে বেশী পছন্দ করেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামায তো প্রকাশ্য ইবাদত। পড়লে সবাই দেখবে। কিন্তু, এমন কোন আমল ইবাদত যা আপনি কাউকে বলেন নি, শুধু আল্লাহ জানেন আর আপনি। চিন্তা করে দেখেছেন আল্লাহর সাথে আপনার সম্পর্ক কত চমৎকার হবে? পরিবারের সব সদস্যকে নাসীহা দিন যে প্রতিদিন এমন কোন আমল করতে যা তারা কখনো কাউকে বলবে না। বিচারের দিন যেন আল্লাহ তা সবার সামনে আনেন, এর আগে নয়। গোপন আমল হতে পারে গভীর রাতে সবার অগোচরে তাহাজ্জুদ আদায়, হতে পারে নফল/সুন্নাত সিয়াম রাখা যা কেউই জানবেনা। কত বাহানায় সেদিন খাবার থেকে দূরত্ব বজায় রাখা বা সবার চোখের আড়ালে আপনি যে সেদিন খান নি সেটা না জানা। এটা যে কি মজার ব্যাপার যারা করে তারাই জানে। হতে পারে একজন রিকশাওয়ালাকে সালাম দেয়া, হতে পারে যাকে একদম সহ্যই করতে পারেন না তার জন্য সিজদায় গিয়ে আল্লাহর কাছে দু’আ করা, হতে পারে কোন অভাবীকে এক বেলা খুব সুস্বাদু কোন খাবার খাওয়ানো, হতে পারে কোন মাদ্রসা ছাত্র বা কুরআন পড়বে এরকম কাউকে একটা কুরআন উপহার দেয়া, হতে পারে পাখি সহ নানা প্রানীকে খেতে দেয়া, হতে পারে একদিন কোন মিথ্যা কথা না বলে থাকা, একদিন সম্পূর্ণ গীবতমুক্ত থাকা ইত্যাদি। এরকম আরো বহু কিছুই হতে পারে। আপনি আপনার মত এরকম প্রতিদিন কিছু না কিছু গোপন আমলের উৎসব গড়ে তুলুন। কোন গান বাজনা আপনাকে এই মানসিক প্রশান্তি কখনোই দিতে পারবে না। শুধুমাত্র আপনার এসব কর্মকান্ড জানবে আপনার রব। ভেবে দেখুন, মানুষ বেস্ট ফ্রেন্ড ছাড়া কাউকে তার গোপন কোন কিছু বলে না। তাহলে, আল্লাহকে বানিয়ে নিন আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড।
বাইরে থেকে এলে হাসিমুখে সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশ করা। আমরা সালাম শুধু বাইরে কারো বাসায় বেড়াতে গেলেই দেই। অথচ, নিজ বাসায় ঢুকার সময় যে ব্যক্তি দরজা খুলুক, হোক সে আমাদের বাবা,মা অথবা স্বামী, স্ত্রী তাকে সালাম দিয়েই ঘরে ঢোকা সুন্নাহ। বরং, কে কার আগে সালাম দিবে এটাই প্রতিযোগীতা হওয়া উচিত। এই যে, সালামের ব্যাপারটা। রীতিমতো উৎসব করে কে কার আগে উত্তম ভাবে সালাম দিতে পারে এটাই তো হবে প্রতিযোগিতা। বাচ্চাদেরও সালাম দিন। আমাদের নবী করিম (সা.) বাচ্চাদের সালাম দিতেন।
নবিজী (সা.) যে খাবারগুলো পছন্দ করতেন গুগল/বই ঘেটে সপ্তাহে একদিন চেষ্টা করুন সেই খাবারগুলো রান্না করতে। আনন্দ নিয়ে রান্না করুন, বাসার সবাই মিলে খান। প্রতিবেশীকে দিন। সুন্নাহ খাবারগুলো রান্না হোক উৎসবের মতো।
প্রতিদিন একটি করে নতুন ছোট্ট মাসনুন দু’আ গুলো অর্থ সহ শিখতে থাকুন।
বাড়ির সবাইকে ইসলামিক বই কিনে দিন। পড়ার পর সেই বই থেকে কুইজ টাইপের প্রশ্ন উত্তর প্রতিযোগীতা রাখুন। ছোট ছোট উপহার রাখুন প্রত্যেক সঠিক উত্তর দাতার জন্য।
প্রতিদিন সময়মত সবাই একসাথে নামায আদায় করতে না পারলেও সপ্তাহে একদিন চেষ্টা করুন পরিবারের সবাইকে নিয়ে জামায়া’তে নামায আদায় করতে। এটা যে কি আনন্দের তা বলে বোঝানো যাবে না। যে ইমাম হবে তার জন্য আনন্দের, বাড়ির ছেলে মেয়ে, স্ত্রী সবাই যার যার কাতারে দাঁড়িয়ে সলাত পড়বে। উফফ, কঠিন আনন্দ উৎসবের দৃশ্য।
কোন প্রাকৃতিক যায়গায় পরিবারকে নিয়ে যান। প্রকৃতির সাথে আল্লাহর সম্পর্ক খুঁজে পাবেন ভালো করে। মুগ্ধ হবেন আল্লাহর সৃষ্টি দেখে। চাঁদ উঠলে মাঝে মাঝে সপরিবারে ছাদে উঠে যান। ছাদে বসে আল্লাহর অপূর্ব নিদর্শন প্রাণভরে উপভোগ করুন। আল্লাহ বলেছেন ভ্রমন করে তার নিদর্শন দেখতে।
“তোমাদের পূর্বেও অনেক সম্প্রদায় গত হয়েছে, তোমরা দুনিয়া ভ্রমন কর, তারপর দেখ, যারা মিথ্যা ব’লে অমান্য করেছিল তাদের পরিণাম কী দাঁড়িয়েছে।”
(সূরা আল ইমরান, আয়াত ১৩৭)
হাজ্জের জন্য অল্প অল্প করে টাকা জমাতে থাকুন। একটু একটু করে মনে আশা নিয়ে। একদিন আল্লাহ বায়তুল্লাহ তে নিয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ। বাসার সবাইকেই তাদের পকেট মানি থেকে যে যার সামর্থ্য অনুযায়ী ফেলতে বলুন। বিন্দু বিন্দু করেই এক সময় তা গভীর হবে। এটাও অনেক বড় উৎসব।
সফরে বের হলে বাড়ির মহিলারা খুঁজে খুঁজে হয়রান হোন মহিলাদের নামাযের স্থানের জন্য। আমাদের দেশে এখনো বাইরে বের হলে মহিলাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে নামাযের স্থান নেই। তাই, এরকম পরিস্থিতিতে নামাযের যায়গা না পেলে যখন মন অস্থির হয়ে যাবে, মানসিক অশান্তি শুরু হয়ে যাবে। ভাবতে থাকুন, হাজেরা (আ.) এর কথা। সন্তানের পানির তৃষ্ণায় যিনি অস্থির হয়ে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে ছুটাছুটি করেছিলেন। আর যখন নামাযের স্থান পেয়ে যাবেন। নিশ্চিন্ত মনে নামায পড়ে মানসিক প্রশান্তি পাবেন তখন ভেবে নিবেন আল্লাহর পরম অনুগ্রহে আপনি যায়গা পেলেন৷ ঠিক যেমন, অস্থিরতার পর হাজেরা (আ.) এর জন্য যমযম কূপ নির্মিত হলো। তাই, হঠাত সফরে গিয়ে এরকম বাইরে মহিলাদের স্থানে নামায আদায় করা সেই মহিলার জন্য বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। এটা তার জন্য উৎসব।
মাঝে মাঝে বিভিন্ন মাদ্রাসা/এতিমখানার বাচ্চাদের/বাসার কাজের মানুষটার পুরো পরিবারের জন্য নিজের হাতে ভালো রান্না করে খাবার পাঠান। মানসিক প্রশান্তি পাবেন ইন শা আল্লাহ। যা দিবেন তার থেকে দ্বিগুন আল্লাহ আপনাকে উত্তম বিনিময় প্রদান করবেন ইন শা আল্লাহ।
ইসলাম হলো সেই দরজার নাম যা দেখলে মনে হয় দরজাটা দেখতে এমন মলিন। কিন্তু এ দরজা যারা খুলবে তারাই দেখতে পাবে দরজার পেছনে কি অদ্ভুত সুন্দর নি’আমাত! যা আগে কখনো আবিষ্কার করাই হয়নি! “এটা এক উপদেশ, কাজেই যার ইচ্ছে সে তার প্রতিপালকের পথ ধরুক।”

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।