Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর জীবনী

 

ইসলামের প্রথম খলিফা Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ)। তিনি আশারাতুল মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত। হযরত মুহাম্মদ (স:) এর প্রিয় সাহাবি ছিলেন। তাছাড়া ইসলামের প্রথম মুসলিম পুুুুরুষ Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ)। ইসলাম ধর্মের প্রথম খলিফা এবং হযরত মুহম্মদ (সাঃ)-এর শ্বশু

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর জন্মঃ

মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর বাল্য নাম ছিল আবদুল্লাহ্, আবু বকর ছিল তার ডাক নাম। 

ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি সিদ্দীক (সত্যবাদী) এবং আতিক (দানশীল) খেতাব লাভ করেছিলেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর পিতার নাম ছিল ওসমান, কিন্তু ইতিহাসে তিনি আবু কুহাফা নামেই সুপরিচিত ছিলেন। তাঁর মাতার নাম উম্মুল খায়ের সালমা। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর মাতাপিতা উভয়েই বিখ্যাত কুরাইশ বংশের তায়িম গোত্রের লোক ছিলেন। তার মা প্রথমদিকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পিতা হিজরী অষ্টম বৎসরে ইসলামে দীক্ষিত হন।


স্ত্রী:- কুতাইলা বিনতে আব্দুল উজ্জা(তালাকপ্রাপ্ত)।
উম্মে রুমান,আসমা বিনতে উমাইস,হাবিবা বিনতে খারিজা।

সন্তান:-*আব্দুল্লাহ ইবনে আবি বকর
             *আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর
             *মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর

            ★আসমা বিনতে আবি বকর
            ★আয়েশা (রা:)
            ★উম্মে কুলসুম বিনতে আবি বকর।


ভাইবোন:- *মুতাক
                   *উতাইক
                   *কুহাফা ইবনে উসমান

                  ★ফাদরা
                  ★কারিবা
                  ★উম্মে আমির

বংশ:- সিদ্দিকি।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর স্ত্রী কুতাইলা বিনতে আবদুল উজ্জা ইসলাম গ্রহণ করেননি। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) তাকে তালাক দিয়েছিলেন। তার অন্য স্ত্রী উম্ম রুমান ইসলাম গ্রহণ করেন। তার ছেলে আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর ছাড়া অন্য সবাই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। ফলে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটে। আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর পরবর্তীকালে মুসলিম হয়েছিলেন।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর বংশধারা ও উপাধি

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর পূর্ণ নাম আবদুল্লাহ ইবনে উসমান ইবনে আমির ইবনে আমর ইবনে কাব ইবনে সাদ ইবনে তায়িম ইবনে মুররাহ ইবনে কাব ইবনে লুয়াই ইবনে গালিব ইবনে ফিহর আল কুরাইশি।

মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সাথে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর বংশলতিকা পেছনের দিকে অষ্টম পর্যায়ে একইরূপ। মুররাহ ইবনে কাব তাদের উভয়ের পূর্বপুরুষ। মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পূর্বপুরুষের ধারা হল মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম ইবনে আবদ মানাফ ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব ইবনে মুররাহ।

কুরআনে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কে “গুহার দ্বিতীয় ব্যক্তি” হিসেবে সম্বোধন করা হয়েছে। হিজরতের সময় মুহাম্মাদ (সাঃ) এর সাথে সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নেয়ার কারণে এভাবে সম্বোধন করা হয়েছে। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) মিরাজের ঘটনা শোনা মাত্র বিশ্বাস করেছিলেন বলে তাকে মুহাম্মাদ (সাঃ) সিদ্দিক উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) ছিলেন মুহাম্মাদ (সাঃ) এর একজন প্রধান সাহাবি, ইসলামের প্রথম খলিফা এবং প্রথম মুসলিমদের মধ্যে অন্যতম। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্রহণের সম্মান তাকে দেওয়া হয়। এছাড়া তিনি রাসুল মুহাম্মাদ (সাঃ) এর শ্বশুর ছিলেন। রাসুল (সাঃ) এর মৃত্যুর পর তিনি খলিফা হন এবং মুসলিমদের নেতৃত্ব দেন। রাসুল (সাঃ) এর প্রতি অতুলনীয় বিশ্বাসের জন্য তাকে “সিদ্দিক” বা বিশ্বস্ত উপাধি প্রদান করা হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে কোন হাদিস পাওয়া যায়নি। হাদিসে অন্য তিনজনকে সিদ্দীক উপাধীকরণ করা হয়েছে। মিরাজের ঘটনা এক ব্যক্তির নিকট শুনে বিশ্বাস করেছিলেন। তাই তাকে আবু বকর সিদ্দিক নামেও সম্বোধন করা হয়।

 

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর প্রাক-ইসলাম জিবনঃ

অন্যান্য আরব শিশুদের মতো Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) বাল্যকাল অতিবাহিত করেন। দশ বছর বয়সে তিনি তার বাবার সাথে একটি বাণিজ্য কাফেলায় করে সিরিয়া যান। তরুণ বয়সে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) একজন বণিক হিসেবে জীবিকা নির্বাহ শুরু করেন। তিনি প্রতিবেশী সিরিয়া, ইয়েমেন ও অন্যান্য অঞ্চলে ব্যবসার কারণে ভ্রমণ করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সম্পদশালী হয়ে উঠেন এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তিনি তার গোত্রের একজন নেতা হয়ে উঠেছিলেন। তার পিতা বেঁচে থাকলেও Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) গোত্রের প্রধান হিসেবে সম্মান পেতে থাকেন। ইয়েমেন থেকে বাণিজ্য শেষে ফেরার পর তিনি মুহাম্মাদ (সাঃ) এর ইসলাম প্রচারের সংবাদ পান। এরপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) শিক্ষিত ছিলেন এবং কাব্যের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। তার স্মৃতিশক্তি ভালো ছিল এবং আরব গোত্রসমূহের বংশলতিকা নিয়ে পাণ্ডিত্য ছিল।

 

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণ

 

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) প্রথম যুগের ইসলাম গ্রহণকারীদের অন্যতম। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে তিনি প্রথম ইসলামগ্রহণ করেছিলেন। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, অন্যান্য সবার ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাদের মনে কিছু মাত্রায় দ্বিধা ছিল; কিন্তু Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) বিনা দ্বিধায় ইসলাম গ্রহণ করেন।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণ অনেককে ইসলাম গ্রহণে অণুপ্রাণিত করেছে। তিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ইসলাম গ্রহণে উৎসাহ যোগান। তার দ্বারা উৎসাহিত হয়ে অনেকে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর অনুপ্রেরণায় ইসলাম গ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন:

 

  • উসমান ইবনে আফফান (পরবর্তীতে তৃতীয় খলিফা)
  • জুবাইর ইবনুল আওয়াম
  • তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ
  • আবদুর রহমান ইবনে আউফ (রাশিদুন খিলাফতের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন)
  • সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (মুসলিমদের পারস্য বিজয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন)
  • আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (সিরিয়ায় রাশিদুন সেনাবাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন।)
  • আবু সালামা আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল আসাদ
  • খালিদ ইবনে সাইদ
  • আবু হুজাইফা ইবনে আল মুগিরা

 

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণের পরবর্তী জীবন

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর ইসলাম গ্রহণ সুদূরপ্রসারী ফলাফল এনেছিল। মক্কায় এসময় দাসপ্রথা প্রচলিত ছিল। দাসদের মধ্যে অনেকে ইসলাম গ্রহণ করে। স্বাধীন ব্যক্তিরা ইসলাম গ্রহণের পর বিরোধিতার সম্মুখীন হতে থাকে তবে তারা তাদের নিজ গোত্রের নিরাপত্তা ভোগ করত। কিন্তু দাসদের কোনো নিরাপত্তা ছিল না এবং তারা নির্যাতনের সম্মুখীন হয়। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) দাসদের প্রতি সদয় হয়ে অনেককে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর মুক্ত করা দাসরা অধিকাংশ নারী, বৃদ্ধ বা দুর্বল ব্যক্তি ছিল।

তার মুক্ত করা দাসদের মধ্যে রয়েছেন :

  • বিলাল ইবনে রাবাহ
  • আবু ফাকিহ
  • আম্মার ইবনে ইয়াসির
  • আবু ফুহাইরা
  • লুবাইনা
  • আন নাহদিয়া
  • উম্মে উবাইস
  • হারিসা বিনতে আল মুয়াম্মিল

কুরাইশদের নির্যাতনঃ

ইসলাম প্রচারের প্রথম তিন বছর মুসলিমরা তাদের বিশ্বাস প্রকাশ্যে প্রচার শুরু করে নি। এরপর আল্লাহর তরফ থেকে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উপর প্রকাশ্যে ইসলাম প্রচারের নির্দেশ আসলে তিনি তাতে অগ্রসর হন। এরপর মুসলিমদের উপর বিভিন্নভাবে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। আবু বকরও নিগ্রহের স্বীকার হয়েছিলেন।

মক্কায় শেষ বছরসমূহঃ

৬১৭ খ্রিষ্টাব্দে কুরাইশদের পক্ষ থেকে বনু হাশিম গোত্রকে একঘরে করে রাখা হয়। ফলে তারা মক্কার সামাজিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। এর পূর্বে কিছু মুসলিম আবিসিনিয়ায় হিজরত করেছিলেন। ৬২০ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মাদের স্ত্রী খাদিজা ও চাচা আবু তালিব মারা যান। এরপর সংঘটিত হওয়া মিরাজের ঘটনা আবু বকর বিনা প্রশ্নে বিশ্বাস করেছিলেন যার কারণে তাকে সিদ্দিক উপাধি দেওয়া হয়।

মদিনায় হিজরতঃ

৬২২ খ্রিষ্টাব্দে মুসলিমরা মদিনায় হিজরত করতে শুরু করে। কয়েকটি দলে এই হিজরত হয়। হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) ও Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) একই সাথে হিজরত করেন। রাসুল (সাঃ) তার কাছে গচ্ছিত মক্কাবাসীর সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য হযরত আলি ইবনে আবি তালিব (রাঃ) কে দায়িত্ব দিয়ে যান। হামলার আশঙ্কায় তারা মদিনামুখী উত্তরের পথ না ধরে দক্ষিণমুখী ইয়েমেনগামী পথ ধরে অগ্রসর হন এবং পাঁচ মাইল দূরে সাওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় নেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর ছেলে আবদুল্লাহ ইবনে আবি বকর এসময় তাদের সাথে রাতে থাকতেন এবং ভোরের পূর্বে মক্কায় ফিরে আসতেন যাতে অন্যদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি না হয়। এছাড়াও Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর এক দাস আমির বিন ফুহাইরাহ পর্বত পর্যন্ত ছাগল চরাতেন যাতে আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকরের চলাচলের চিহ্ন মুছে যায়। এছাড়াও তিনি তাদের ছাগলের দুধ পান করাতেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর মেয়ে আসমা বিনতে আবি বকর (রাঃ) তাদের খাবার নেয়ার কাজ করতেন।

হিজরতের সংবাদ জানতে পেরে তাদের ধরার জন্য মক্কা থেকে বিভিন্ন লোক বিভিন্ন দিকে পাঠানো হয়। অণুসন্ধানকারীরা গুহা পর্যন্ত পৌছে গেলে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) চিন্তিত হয়ে উঠেন। রাসুল (সাঃ) তাকে অভয় দিয়ে বলেন,

এরূপ দুজন সম্পর্কে তোমার কী ধারণা যাদের তৃতীয়জন হলেন আল্লাহ।

এ বিষয়ে কুরআনে উল্লেখ রয়েছে,

যদি তোমরা তাকে সাহায্য না কর, (তবে স্মরণ কর) আল্লাহ তাকে সাহায্য করেছিলেন যখন অবিশ্বাসীরা তাকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। সে ছিল দুজনের একজন। যখন তারা গুহার মধ্যে ছিল, সে তখন তার সঙ্গীকে বলেছিল, “মন খারাপ করো না, আল্লাহ তো আমাদের সাথেই আছেন”। তারপর আল্লাহ তার উপর প্রশান্তি বর্ষণ করলেন। (সূরা তওবা, আয়াত ৪০)

এই আয়াতে দুজনের একজন দ্বারা Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কে বোঝানো হয়েছে।

গুহায় তিনদিন ও তিনরাত অতিবাহিত করার পর তারা দুজন মদিনার দিকে অগ্রসর হন। তারা মদিনার শহরতলী কুবায় পৌঁছে সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। এরপর তারা মদিনায় পৌঁছান।

মদিনার জীবনঃ

রাসুল (সাঃ) মদিনায় একটি মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। এরপর মসজিদে নববী নির্মাণ করা হয়। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) নির্মাণকাজে অংশ নিয়েছিলেন। রাসুল (সাঃ) অন্যান্য সাহাবিদের ন্যায় Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর সাথে খারিজাহ বিন জাইদ আনসারি (রাঃ) কে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন।

খারিজাহ বিন জাইদ (রাঃ) মদিনার শহরতলী সুনহে থাকতেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ)ও সেখানে বসতি স্থাপন করেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর পরিবার মদিনায় চলে আসার পর তিনি রাসুল (সাঃ) এর নিকটে একটি বাড়ি কেনেন।

মক্কার তুলনায় মদিনার জলবায়ু ছিল আর্দ্র। ফলে মুহাজির মুসলিমদের অনেকে নতুন পরিবেশে অসুস্থ হয়ে পড়ে। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ)ও অসুস্থতায় আক্রান্ত হন এবং বেশ কয়েকদিন পর্যন্ত অসুস্থ ছিলেন। এসময় খারিজা ও তার পরিবার তার সেবা করে। মক্কায় Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) একজন কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি মদিনায়ও একই ব্যবসা শুরু করেন। মদিনায় দ্রুত তার ব্যবসা সমৃদ্ধি লাভ করে।

রাসুল (সাঃ) এর অধীনে সামরিক অভিযানঃ

৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) মুসলিম ও কুরাইশদের মধ্যে সংঘটিত প্রথম যুদ্ধ বদরের যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি রাসুল (সাঃ) তাবুর প্রহরার দায়িত্বে ছিলেন। পরের বছর উহুদের যুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন। পরে আবু বকর ইহুদি বনু নাদির গোত্রের বিরুদ্ধে অভিযানে অংশ নিয়েছেন।

৬২৭ সালে তিনি খন্দকের যুদ্ধ এবং পরবর্তী বনু কুরাইজা অভিযানে অংশ নিয়েছেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় রাসুল (সাঃ) সৈনিকদের বেশ কয়েকটি দলে ভাগ করে একেক অংশ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে একটি Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর তত্ত্বাবধানে ছিল। শত্রুরা নানাভাবে পরিখা অতিক্রমের চেষ্টা করলেও Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) তার দায়িত্বপ্রাপ্ত অংশে আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন। তার নামে সে অংশে একটি মসজিদ নির্মিত হয় যা মসজিদ-ই-সিদ্দিকি বলে পরিচিতি লাভ করে।

৬২৮ সালে তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি এই সন্ধির অন্যতম সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করেন। তিনি খায়বারের যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন।

৬৩০ সালে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) মক্কা বিজয়ে অংশ নিয়েছেন। এর পূর্বে তার বাবা উসমান আবু কুহাফা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।

৬৩০ সালে তিনি হুনায়নের যুদ্ধ এবং তাইফ অবরোধে অংশ নেন। হুনায়নের যুদ্ধের সময় মুসলিম সেনাবাহিনী হুনায়ন উপত্যকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের তীরের সম্মুখীন হয়। অপ্রস্তুত অবস্থায় হামলা হওয়ায় মুসলিমদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। অনেকে ছুটোছুটি শুরু করলেও কয়েকজন সাহাবি রাসুল (সাঃ) কে রক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) তন্মধ্যে অন্যতম।

৬৩০ সালে তাবুক অভিযানের সিদ্ধান্ত হয়। এতে সহায়তার জন্য রাসুল (সাঃ) মুসলিমদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়াতে বলেন। উসমান ইবনে আফফান এতে প্রায় নয়শ উট এবং একশ ঘোড়া পর্যন্ত দান করেন। উমর ইবনুল খাত্তাব তার সম্পদের অর্ধেক দান করেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) তার সকল সম্পদ দান করে এক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার বক্তব্য ছিল, “আমি আল্লাহ ও তার রাসুলকে আমার ও আমার পরিবারের জন্য রেখেছি”।

আমিরুল হজ্জ হিসেবে আবু বকর (রাঃ) 

৬৩১ সালে মুসলিমদের একটি দল হজ্জের উদ্দেশ্যে মক্কা গমন করে। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এই দলের নেতৃত্ব দেন। ইসলামের ইতিহাসে তিনি প্রথম আমিরুল হজ্জ বা হজ্জের নেতা হিসেবে স্বীকৃত।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হাজিদের দলটি হজ্জের উদ্দেশে রওয়ানা হবার পর হজ্জ এবং অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয়। তা জানানোর জন্য আলি (রাঃ) কে প্রেরণ করা হয়। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) তার কাছে জানতে চান যে তিনি নেতৃত্ব দিতে এসেছেন নাকি নির্দেশ নিয়ে এসেছেন। আলি (রাঃ) জানান যে তিনি নির্দেশ নিয়ে এসেছেন।

মক্কায় হজ্জের পর ১০ জিলহজ তারিখে কুরবানির দিন হজ্জের জন্য কংকর নিক্ষেপের স্থান জামারায় আলি (রাঃ) নতুন নির্দেশ ঘোষণা করেন। এতে বলা হয়,

১) এরপর থেকে অমুসলিমরা হজ্জের জন্য কাবায় আসতে পারবে না।

২) কেউ নগ্নভাবে কাবা তাওয়াফ করতে পারবে না।

৩) মুশরিকদের সাথে সম্পাদিত চুক্তিসমূহ বিলুপ্ত করা হয় এবং এসকল বিষয় নিষ্পত্তি করার জন্য চার মাস সময় দেওয়া হয়। চুক্তির আওতা বহির্ভূতদের ক্ষেত্রেও চারমাসের সময়ের কথা বলা হয়। তবে যদি মুশরিকরা মুসলিমদের সাথে চুক্তি সম্পাদনে ত্রুটি না করে বা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কারো সাহায্য না করে তবে তাদের অঙ্গীরকারনামা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বলবত রাখা হয়।

সামরিক অভিযানের নেতৃত্বঃ 

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) একটি সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন যা আবু বকর সিদ্দিকের অভিযান বলে পরিচিত। নজদে এই অভিযান সংঘটিত হয়।

 

IDC Partner

 

হুজুর পাক (সাঃ) এর ইন্তেকালের পূর্বে ও পরে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর ভুমিকাঃ 

বিদায় হজ্জ থেকে ফেরার কিছুকাল পর রাসুল (সাঃ) অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এমতাবস্থায় রাসুল (সাঃ) তাঁর মৃত্যুর চারদিন আগ পর্যন্ত নামাজের ইমামতি করেছেন।  এরপর অসুস্থতার মাত্রার কারণে ইমামতি করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। তিনি এসময় Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কে নামাজের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করেন।

রাসুল (সাঃ) এর মৃত্যু সংবাদ প্রচার হওয়ার পর হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) অশান্ত হয়ে পড়েন এবং তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন যে যেভাবে মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে চল্লিশ দিন ছিলেন তেমনি রাসুল (সাঃ) ফিরে আসবেন। এসময় Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) তার সুনহের বাড়ি থেকে এসে মা আয়িশার (রাঃ) ঘরে প্রবেশ করেন। এখানে রাসুল (সাঃ) এর মৃত্যু হয়েছিল। তিনি বলেন,

আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। আল্লাহ আপনার উপর দু’বার মৃত্যু একত্রিত করবেন না, এ মৃত্যু আপনার ভাগ্যলিপিতে ছিল সেটা এসে গেছে।

এরপর তিনি বাইরে এসে ঘোষণা করেন,

তোমাদের মধ্যে যারা মুহাম্মাদের (সাঃ) অনুসরণ করতে তারা জেনে রাখুক যে মুহাম্মাদ (সাঃ) মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যারা আল্লাহর ইবাদত করতে, অবশ্যই আল্লাহ সর্বদাই জীবিত থাকবেন কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কুরআন থেকে তিলাওয়াত করেন :

‘এবং মুহাম্মাদ তো একজন রাসুল। তার পূর্বে অনেক রাসুল গত হয়েছেন। সুতরাং তিনি যদি ইন্তেকাল করেন কিংবা শহীদ হন তবে কি তোমরা উল্টো পায়ে ফিরে যাবে ? এবং যে উল্টো পায়ে ফিরে যাবে সে আল্লাহর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। এবং অনতিবিলম্ভে আল্লাহ কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কার দেবেন।” (সুরা আল ইমরান, আয়াত ১৪৪, পারা ৪)অনুবাদ-কানযুল ইমান থেকে

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর বক্তব্যের পর হযরত উমর (রাঃ) এর অবস্থা শান্ত হয়।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর খলিফা নির্বাচনঃ

 

(খলিফা আবু বকরের শাসনের সর্বো‌চ্চ সীমানা)

 

হজরত মুহম্মদ (সাঃ)- এর মৃত্যুতে ইসলামী দুনিয়ায় এক ভয়াবহ ও সংশয়পূর্ণ পরিস্থিতির উদ্ভব হয়। নবীর কোন জীবিত পুত্র সন্তান ছিল না এবং নিজে গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ছিলেন বলে ওফাতের সময় তিনি উত্তরাধিকারীও মনোনয়ন করে যাননি বা উত্তরাধিকারী সংক্রান্ত কোন আইন বা নির্দেশ প্রদান করেননি। তাঁর জীবদ্দশায় অসুস্থতা বা অনুপস্থিতির জন্য Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কয়েক বার নামাজে ইমামতি করেছিলেন। এতকিছুর পরেও খলিফা নির্বাচনের প্রশ্নে চারটি দলের উদ্ভব হয়েছিল। এই দল চারটি হলো- আনসার, মোহাজের, কুরাইশ ও হযরত আলী (রাঃ) এর সমর্থকবৃন্দ। আনসারগণ দাবী করলেন যে, শত বিপদ আপদ উপেক্ষা করে তাঁরা ইসলাম ধর্ম, মহানবী ও তার অনুসারীদিগকে রক্ষা করেছেন এবং মদীনায় আশ্রয় দিয়েছেন। অতএব তাঁদের দল থেকেই খলিফা নির্বাচিত হওয়া উচিৎ। এরূপ মোহাজেররা ইসলামের প্রথম বিশ্বাসী হিসাবে নিজেদের গোত্র থেকে খলিফা নির্বাচনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া তাঁরা আরও দাবী করেন যে, তারা মহানবীর সগোত্রের লোক। কুরাইশরা ছিল আরবদের অভিজাত বংশ। মহানবী এই কুরাইশ বংশের লোক ছিলেন। অতএব তাঁরা দাবি করলেন যে, তাদের দলের লোককেই খলিফা নিযুক্ত করা উচিৎ।

আনসারগণ খাযরাজ গোত্রের নেতা সাদ বিন অবু ওবায়দা (রাঃ) কে খলিফা পদের জন্য মনোনীত করলেন। ইসলামের সেই সংকটপূর্ণ সময়ে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) শান্তভাবে বললেন যে, ইসলামের খেদমতের দিক দিয়ে আনসারদের কোন তুলনা নাই, কিন্তু আরবের জনগণ কুরাইশ বংশ হতে তাঁদের খলিফা নির্বাচনে পক্ষপাতী। পরিস্থিতি যখন আরও জটিল হয়ে উঠল, তখন Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) ওমর (রাঃ) অথবা আবু ওবায়দা (রাঃ) কে খলিফা হিসাবে মনোনীত করার কথা উত্থাপন করলেন। কিন্তু তাঁরা উভয়েই এই প্রস্তাব Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর অনুকূলে প্রত্যাখ্যান করলেন। এরপর হযরত ওমর, (রাঃ) Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর হাত ধরে তারা আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করলেন। হযরত ওমর (রাঃ) ও হযরত আবু ওবায়দা (রাঃ) এর আনুগত্যের পর আনসারগণ দলে দলে এগিয়ে এসে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর নেতৃত্ব স্বীকার করলেন এবং তিনি খলিফা নির্বাচিত হলেন।

সুন্নিরা তাকে “খলিফাতুর রাসুল” বা “আল্লাহর রাসুলের উত্তরাধিকারী” বলে সম্মান করে থাকে। তবে শিয়ারা Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কে বৈধ খলিফা বলে স্বীকার করে না। শিয়া মতাদর্শ অনুযায়ী হযরত আলি ইবনে আবি তালিব (রাঃ) প্রথম খলিফা হিসেবে যোগ্য।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর শাসনকাল

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর খিলাফত ২৭ মাস অর্থাৎ দুই বছরের কিছু বেশি সময় স্থায়ী ছিল। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তাকে বেশ কিছু অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হতে হয় এবং তিনি তা সফলভাবে মোকাবেলা করেন। নতুন নবী দাবিকারী বিদ্রোহীদেরকে তিনি রিদ্দার যুদ্ধে দমন করেছেন। তিনি বাইজেন্টাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন যা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) এবং হযরত উসমান ইবনে আফফান (রাঃ) এই অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন। এসব অভিযানের ফলে মুসলিম সাম্রাজ্য কয়েক দশকের মধ্যে শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়। খলিফা হওয়ার পর তিনি অন্যান্যদের পরামর্শক্রমে তার কাপড়ের ব্যবসা ছেড়ে দেন এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ভাতা গ্রহণ করতেন।

খলিফা হওয়ার পর Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) -কে বহুবিধ সমস্যার মোকাবিলা করতে হয়েছিল। এই সমস্যাগুলিকে কয়েকটি ভগে ভাগ করা যায়। যেমন-
১। ভণ্ড নবীদের উদ্ভব,

২। আভ্যন্তরীণ বিরোধী শক্তির উত্থান,

৩। ধর্মত্যাগী বা রিদ্দা আন্দোলন,

৪। পারস্য সম্রাটের শত্রুতা

৫। সম্রাটের বিরোধিতা।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর মৃত্যুর পূর্বে ওসামার নেতৃত্বে সিরিয়ার সীমান্তে একটি অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মুতার যুদ্ধে নিহত তাঁহার অনুচর ও পোষ্যপুত্র যায়েদ বিন হারিসের মৃত্যুর প্রতিশোধ গ্রহণ করা। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের বিদ্রোহ দমন করাও বিশেষ প্রয়োজন হয়ে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, এই অভিযান স্থগিত রাখা হয়। পরে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) খিলাফতের দায়িত্ব ভার গ্রহণ করে যায়েদের পুত্র ওসমানের নেতৃত্বে একদল সৈন্য সিরিয়ায় অভিযানে পাঠান।

 

রিদ্দার যুদ্ধঃ

(মানচিত্রে রিদ্দার যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ লড়াই সংঘটনের স্থান)

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর খিলাফত লাভের পর বেশ কিছু সমস্যার সৃষ্টি হয়। ফলে রাষ্ট্রের কাঠামোর উপর আঘাত আসে। বেশ কিছু আরব গোত্র বিদ্রোহ করে এবং কয়েকজন ব্যক্তি নবুওয়ত দাবি করে। তাদের মধ্যে মুসায়লিমা ছিল অন্যতম প্রধান। বিভিন্ন গোত্রের তরফ থেকে বক্তব্য আসে যে তারা শুধু মুহাম্মাদের প্রতি অনুগত ছিল এবং তার মৃত্যুর পর মিত্রতা শেষ হয়েছে। প্রাচীন আরবে এই ধরনের প্রথা প্রচলিত ছিল যার আওতায় গোত্রের নেতার মৃত্যুর পর মিত্রতা সমাপ্ত হত। এছাড়াও বিদ্রোহী গোত্রগুলো জাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আবু বকর তাদের দাবি অস্বীকার করেন এবং বিদ্রোহ দমনে অগ্রসর হন।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর শাসনকালের (৬৩২-৩৪ খ্রিষ্টাব্দ) অধিকাংশ সময় রিদ্দা যুদ্ধে অতিবাহিত হয়। রাদ্দা আরবী শব্দ। এর অর্থ হল প্রত্যাবর্তনকরণ। নও-মুসলমানরা যাতে তাদের পূর্ব-ধর্মে প্রত্যাবর্তন না করে, তার জন্য এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। আরবের বিভিন্ন গোত্রের বিদ্রোহ এবং ভণ্ড নবীদের উস্কানিমুলক কার্যকলাপ ইসলামকে এক বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। ধর্মত্যাগী মুসলমান ও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করার জন্য Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) ওসামার সৈন্যবহিনী ও অন্যান্য মুসলমানদের ধুলকাশাতে সমবেত হতে আহবান জানান। তিনি সৈন্যদলকে এগারটি ভাগে ভাগ করে- প্রতেকটি সৈন্যদলের নেতৃত্বে একজন অভিজ্ঞ সেনাপতিকে নিয়োগ করেন

এসকল ঘটনা ফলে রিদ্দার যুদ্ধের সূচনা হয়। মধ্য আরবে মুসায়লিমা ইয়ামামা থেকে ধর্মদ্রোহিতার নেতৃত্ব দেয়। বিদ্রোহের অন্যান্য কেন্দ্রসমূহ দক্ষিণ ও পূর্বে বাহরাইন, ওমান, মাহরা, ইয়েমেনে অবস্থিত ছিল। আবু বকর তার পরিকল্পনা প্রণয়ন করে মুসলিম সেনাবাহিনীকে ১১টি দলে গঠন করেন। সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাদলের নেতৃত্বে ছিলেন খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ)। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সাথে লড়াইয়ের জন্য তাদের ব্যবহার করা হত। তুলনামূলক কম শক্তিশালীদের সাথে লড়াইয়ে অন্য সেনাদলগুলোকে নিয়োজিত করা হত। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) প্রথমে পশ্চিম ও মধ্য আরবের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা, এরপর মালিক ইবনে নুয়াইরাকে মোকাবেলা করা এবং চূড়ান্তভাবে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ মুসায়লিমার মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করেন। বেশ কিছু সফল ও ধারাবাহিক অভিযানের পর শেষপর্যন্ত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) মুসায়লিমাকে ইয়ামামার যুদ্ধে পরাজিত করতে সক্ষম হন। শেষপর্যন্ত সকল বিদ্রোহীকে দমন করা হলে আরব পুনরায় খিলাফতের আওতায় ঐক্যবদ্ধ হয়।

৬৩২ সালের জুলাই মাসে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) রাসুল (সাঃ) নিজ গোত্র বনু হাশিমের সদস্যদের নিয়ে একটি সেনাদল গঠন করেন। আলি ইবনে আবি তালিব (রাঃ), তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ (রাঃ) ও জুবায়ের ইবনুল আওয়াম (রাঃ) প্রত্যেকে সেনাদলের এক তৃতীয়াংশের নেতৃত্ব লাভ করেন। তারা জু কিসার যুদ্ধে স্বঘোষিত নবী তুলায়হার সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। তুলায়হা ও তার অণুসারীরা রিদ্দার যুদ্ধের সময় মদিনা আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল। এই যুদ্ধে তুলায়হাকে পরাজিত করা হয়।

কুরআন মাজীদ সংকলনঃ

পবিত্র রমজান মানুষের ইহলৌকিক কল্যাণ ও পারলৌকিক মুক্তির দিকদর্শন আল-কোরআন নাজিলের মাস। 
রমজান মাসের শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত ‘আল-কোরআন’ বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি আল্লাহর কাছ থেকে 
জিব্রাইল ফেরেশতা মারফত সুদীর্ঘ ২৩ বছরে অবতীর্ণ হয়। এটি মানবজাতির সর্বাঙ্গীণ কল্যাণ ও মুক্তির দিশারি বা 
পথপ্রদর্শক। মাহে রমজানে আল-কোরআনকে সর্বকালের সর্বলোকের জীবনবিধান ও মুক্তির সনদ হিসেবে পাঠিয়ে 
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘রমজান মাস, এতে মানুষের দিশারি এবং সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন ও 
সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে আল-কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াতঃ ১৮৫)
আবু বকর সর্বপ্রথম গ্রন্থাকারে কুরআন সংকলন করেন। ইতিপূর্বে কুরআনের বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্নভাবে লিপিবদ্ধ ছিল।
এছাড়াও হাফেজরা কুরআন মুখস্থ করে রাখতেন। 
ইয়ামামার যুদ্ধে অনেক হাফেজ শহীদ হলে উমর ইবনুল খাত্তাব গ্রন্থাকারে কুরআন সংকলনের জন্য আবেদন জানান।
এই প্রথা রাসুল (সাঃ) এর সময় ছিল না বলে প্রথমে Hazrat Abu Bakr - হযরত আবু বকর (রাঃ) এতে রাজি 
ছিলেন না। কিন্তু হযরত উমর (রাঃ) তাকে রাজি করাতে সক্ষম হন। এজন্য জায়েদ ইবনে সাবিতকে প্রধান করে 
একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর সদস্যরা সবাই হাফেজ ছিলেন। তারা কুরআনের সকল অংশ সংগ্রহ করে একক 
গ্রন্থ হিসেবে লিপিবদ্ধ করেন এবং হাফেজদের স্মৃতির সাথে সেগুলো মিলিয়ে দেখা হয়।

মৃত্যুর আগে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কুরআনের এই কপিটি তার উত্তরসূরি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে দিয়ে যান। উমর (রাঃ) এর শাসনকালে এটি তার কাছেই রক্ষিত ছিল। উমর (রাঃ) কুরআনটি তার মেয়ে ও মুহাম্মাদ (সাঃ) এর স্ত্রী হাফসা বিনতে উমরকে দিয়ে যান। পরবর্তী খলীফা উসমান ইবনে আফফান রা. এই কুরআনের আরো প্রতিলিপি তৈরি করিয়ে তা খেলাফতের বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করেছিলেন।

সামরিক সম্প্রসারণঃ

রিদ্দার যুদ্ধে বিদ্রোহ দমন করার পর Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) বিজয় অভিযান শুরু করেন। এসময় বাইজেন্টাইন ও সাসানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। এসকল অভিযান সফল হয়েছিল। পরবর্তী খলিফারাও এই অভিযান চালু রাখেন। অভিযানের ধারাবাহিকতায় কয়েক দশকে মুসলিম সাম্রাজ্যে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সাম্রাজ্যের অন্যতম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ইরাকের মাধ্যমে অভিযান শুরু করা হয়েছিল। এটি ছিল পারস্য সাম্রাজ্যের সবচেয়ে ধনী প্রদেশ। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) সবচেয়ে দক্ষ সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) কে সাসানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলেন।

সাসানীয় সাম্রাজ্য জয়

(খালিদ বিন ওয়ালিদের ইরাক জয়ের সময় অগ্রসরের পথ)

উত্তর-পূর্ব দিকে পারস্য সাম্রাজ্য এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যকে আক্রমণ করা হয়েছিল। এসকল অভিযানের তিনটি উদ্দেশ্য ছিল বলে গণ্য করা হয় :

১. আরব এবং এই দুই সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানে বেশ কিছু আরব যাযাবর গোত্রের বসবাস ছিল যারা এই দুই সাম্রাজ্যের মিত্র হিসেবে কাজ করত। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর আশা ছিল যে তারা ইসলাম গ্রহণ করবে এবং তাদের আরব ভাইদের সাথে একতাবদ্ধ হবে।

২. পারস্য ও রোমানদের কর ব্যবস্থা ছিল অন্যায্য প্রকৃতির। তাই এসকল অঞ্চলের বাসিন্দারা মুসলিমদের অধীনে থাকতে পছন্দ করবে বলে বিশ্বাস করা হত।

৩. দুইটি বৃহৎ সাম্রাজ্যের মধ্যবর্তী স্থানে থাকার ফলে আরব নিরাপদ ছিল না। তাই ইরাক ও সিরিয়া আক্রমণ করে সীমান্ত অঞ্চল থেকে প্রতিপক্ষ হটিয়ে দেওয়ার জন্য Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) অগ্রসর হন।

উত্তর পূর্ব আরবের একজন গোত্রপ্রধান মুসান্না ইবনে হারিসা (রাঃ) ইরাকের পারস্য শহরগুলোতে আক্রমণ করেন। এসকল অভিযান সফল হয় এবং এ থেকে অনেক যুদ্ধলব্ধ সম্পদ অর্জিত হয়। মুসান্না ইবনে হারিসা (রাঃ) মদিনা গিয়ে খলিফা Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কে তার সাফল্যের ব্যাপারে জানান। তাকে তার লোকেদের নেতা নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর তিনি ইরাকের আরো ভেতরে প্রবেশ করেন। তার হালকা অশ্বারোহী বাহিনীর দ্রুত চলাচলের সুযোগ নিয়ে তিনি মরুভূমির নিকটবর্তী যে-কোনো শহরে আক্রমণ করে দ্রুত মরুভূমিতে আত্মগোপনে চলে যেতে পারতেন। সাসানীয় বাহিনীর পক্ষে তার পিছু নেওয়া সম্ভব ছিল না। মুসান্নার কার্যক্রম Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) কে সীমানা সম্প্রসারণে প্রভাবিত করে।

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) ইরাকের মাধ্যমে অভিযান শুরু করেন। সাসানীয়রা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হওয়ায় এসকল অভিযানে পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। সাফল্যের জন্য Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) দুইটি পদক্ষেপ নেন, প্রথমত, স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সেনাবাহিনী গড়ে তোলেন, দ্বিতীয়ত, তার সেরা সেনাপতি খালিদ বিন ওয়ালিদ (রাঃ) কে প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। ইয়ামামার যুদ্ধে মুসায়লিমাকে পরাজিত করার পর খালিদ ইয়ামামায় থাকাবস্থায় তাকে সাসানীয় সাম্রাজ্যে অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়। তাকে আল হিরা অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) তাকে অতিরিক্ত সৈন্য দিয়ে সাহায্য প্রেরণ করেন।

উত্তরপূর্ব আরবের গোত্রপ্রধান মুসান্না ইবনে হারিসা, মাজহুর বিন আদি, হারমালা ও সুলমাকে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে তারা তাদের লোকজনসহ খালিদের অধীনে কাজ করেন। ৬৩৩ সালের মার্চের তৃতীয় সপ্তাহের দিকে (১২ হিজরির মুহররমের প্রথম সপ্তাহ) খালিদ (রাঃ) ইয়ামামা থেকে ১০,০০০ সেনা নিয়ে অগ্রসর হন। গোত্রপ্রধানরা প্রত্যেকে ২,০০০ সৈনিক নিয়ে খালিদের সাথে যোগ দেন। এভাবে খালিদ (রাঃ) তার ১৮,০০০ সেনা নিয়ে পারস্য সাম্রাজ্যে প্রবেশ করেন।

ইরাকে প্রবেশের পর খালিদ (রাঃ) পরপর চারটি যুদ্ধে বিজয় লাভ করেন। এগুলো হল শিকলের যুদ্ধ, নদীর যুদ্ধ, ওয়ালাজার যুদ্ধ ও উলাইসের যুদ্ধ। ৬৩৩ সালের এপ্রিল থেকে মে মাসের মধ্যে এই যুদ্ধগুলো সংঘটিত হয়। এসময় পারস্য সাম্রাজ্য অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সমস্যাগ্রস্ত ছিল। ৬৩৩ সালের মে মাসের শেষ সপ্তাহে ইরাকের রাজধানী আল হিরা মুসলিমদের পদানত হয়। কিছু সময় বিরতির পর জুন মাসে খালিদ (রাঃ) আনবারের উপর অবরোধ আরোপ করেন। প্রথমে প্রতিরোধ এলেও পরে জুলাই মাসে তারা আত্মসমর্পণ করে।

এরপর খালিদ (রাঃ) দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে জুলাই মাসে আইনুল তামিরের যুদ্ধে শহর জয় করেন। ইতিমধ্যে প্রায় সমগ্র ইরাক মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে এসে পড়ে। এসময় উত্তর আরব থেকে আরেক মুসলিম সেনাপতি আয়াজ বিন গানাম সাহায্য চান। তার দল বিদ্রোহী কিছু গোত্রের ফাঁদে পড়ে গিয়েছিল। খালিদ (রাঃ) দাউমাতুল জান্দালের দিকে অগ্রসর হন এবং আগস্টের শেষ সপ্তাহে দাউমাতুল জান্দালের যুদ্ধে বিদ্রোহীদের পরাজিত করেন। আরব থেকে ফিরে এসে তিনি বৃহৎ আকারের একটি পারস্য বাহিনীর অগ্রসর হওয়ার খবর পান। তাদের সাথে কিছু আরব মিত্রও ছিল। খালিদ (রাঃ) তাদের পরাজিত করার জন্য দক্ষভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন। তিনি তার পুরো বাহিনীকে তিনটি দলে বিভক্ত করেন এবং রাতের বেলা তিনটি ভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ পরিচালনা করেন।

এসময় মুজিয়ার যুদ্ধ, সান্নির যুদ্ধ এবং জুমাইলের যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করা হয়। এসকল যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ইরাকে পারস্য সাম্রাজ্যে কর্তৃত্বের অবসান হয়। পারসিয়ান রাজধানী তিসফুন অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে ছিল। রাজধানী আক্রমণের পূর্বে খালিদ (রাঃ) দক্ষিণ ও পশ্চিমের সকল পারসিয়ান বাহিনীকে পরাজিত করেন। এরপর তিনি সীমান্তবর্তী ফিরাজ শহরের দিকে অগ্রসর হন এবং ৬৩৩ সালের ডিসেম্বরে সাসানীয়, বাইজেন্টাইন ও খ্রিষ্টান আরবদের সম্মিলিত বাহিনীকে ফিরাজের যুদ্ধে পরাজিত করেন। ইরাক অভিযানের এটি ছিল শেষ যুদ্ধ। তিসফুনের পথের একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গ কাদিসিয়া আক্রমণের জন্য অগ্রসর হওয়ার সময় তার কাছে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর নির্দেশ এসে পৌঁছায় যাতে তাকে সিরিয়ান ফ্রন্টে মুসলিম সেনাবাহিনীর দায়িত্ব নিতে আদেশ দেওয়া হয়।

 

বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যে অভিযানঃ

(লেভান্টে রাশিদুন খিলাফতের অভিযানের পথ)

সাসানীয় সাম্রাজ্যে সফল অভিযানের ফলে খালিদ (রাঃ) এর উপর Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর আস্থা বৃদ্ধি পায়। তিনি চারটি বৃহৎ সেনাদল জু কিসায় গঠণ করেন এবং তাদের রোমান সিরিয়ায় প্রেরণ করেন। প্রত্যেক সেনাদলের আলাদা কমান্ডার ও লক্ষ্যবস্তু ছিল। কমান্ডাররা গোয়েন্দা মারফত জানতে পারেন যে আজনাদায়নে একটি বড় আকারের বাইজেন্টাইন সেনাদল অগ্রসর হচ্ছে। তাই সেনাপতিরা অগ্রসর না হয়ে Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর কাছে অতিরিক্ত সাহায্য চেয়ে পাঠান।

এসময় ইরাকে মুসলিমদের অবস্থা সবল হওয়ায় Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) খালিদ (রাঃ) কে নির্দেশ দেন যাতে তিনি তার ইরাকের বাহিনীর অর্ধেক নিয়ে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হন। খালিদ (রাঃ) কে সিরিয়ায় মুসলিম সেনাবাহিনীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়। তৎকালীন বাইজেন্টাইন প্রদেশ সিরিয়া বর্তমান সিরিয়া, জর্ডান, ইসরায়েল, ফিলিস্তিনি অঞ্চল, লেবানন ও দক্ষিণ তুরস্ক নিয়ে গঠিত ছিল।

ইরাক থেকে সিরিয়ার দিকে যাওয়ার দুইটি পথ ছিল। একটি ছিল দাউমাতুল জান্দালের মধ্য দিয়ে আরেকটি রাকার মধ্য দিয়ে। খালিদ (রাঃ) অধিক প্রচলিত দাউমাতুল জান্দালের পথ ত্যাগ করেন। এই পথ ছিল দীর্ঘ এবং এতে সিরিয়া পৌঁছাতে সপ্তাহ লেগে যেত। তিনি রাকার মেসোপটেমিয়ান পথও এড়িয়ে যান কারণ বাইজেন্টাইন গেরিসন উত্তর সিরিয়া ও উত্তর মেসোপটেমিয়ার অংশ ছিল। তাদের মুখোমুখি হলে গণ্তব্যে পৌঁছানোর সময় বেশি প্রয়োজন হত। এসবের পরিবর্তে খালিদ (রাঃ) সিরিয়ান মরুভূমির মধ্য দিয়ে সংক্ষিপ্ত ও অপ্রচলিত পথের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেন। এভাবে খালিদ উত্তর (রাঃ) সিরিয়ায় প্রবেশ করেন। তিনি বাইজেন্টাইনদেরকে ডানদিক থেকে আক্রমণ করেন। তার অতর্কিত আক্রমণ বাইজেন্টাইনদের উপর প্রভাব ফেলেছিল।

(খালিদ বিন ওয়ালিদের সিরিয়া জয়ের সময় অগ্রসরের পথ)

 

খালিদ (রাঃ) ৬৩৪ সালের জুনে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন এবং দ্রুত সীমান্তবর্তী সাওয়া, আরাক, তাদমুর, সুখনা, কারইয়াতাইন ও হাওয়ারিন দুর্গ দখল করেন। এরপর তিনি দামেস্কের দিকে অগ্রসর হন। এরপর তিনি বুসরা দিকে যান। এই ছিল গাসানীয় আরব রাজ্যে রাজধানী। তারা বাইজেন্টাইনদের মিত্রপক্ষ ছিল। তিনি অন্যান্য মুসলিম সেনাপতিদের নির্দেশ দেন যাতে তারা বাহিনী নিয়ে বুসরায় জড়ো হয়। মারাজ আল রাহাবে খালিদ (রাঃ) গাসানীয় সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন। ইতিমধ্যে সিরিয়ায় মুসলিম সেনাবাহিনীর সর্বো‌চ্চ কমান্ডার আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) আরেক সেনাপতি শুরাহবিল ইবনে হাসানা (রাঃ) কে বুসরা আক্রমণের আদেশ দেন। শুরাহবিল (রাঃ) তার ক্ষুদ্র সেনাদল নিয়ে বুসরা অবরোধ করেন। বাইজেন্টাইন ও তাদের আরব মিত্ররা এই বাহিনীকে কোনো বড় মুসলিম বাহিনীর অগ্রবর্তী দল ভেবে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। তারা দুর্গ নগর থেকে বেরিয়ে এসে শুরাহবিলের বাহিনীকে আক্রমণ করে। খালিদ (রাঃ) সেখানে পৌঁছে তাদের সাথে যোগ দেন। খালিদ (রাঃ), শুরাহবিল (রাঃ) ও আবু উবাইদা (রাঃ) এর সম্মিলিত বাহিনী এরপর বুসরার যুদ্ধে যোগ দেয়। এর ফলে গাসানীয় রাজবংশের সমাপ্তি ঘটে।

এখানে খালিদ (রাঃ) খলিফার নির্দেশ মোতাবেক আবু উবাইদা (রাঃ) এর কাছ থেকে মুসলিম সেনাবাহিনীর দায়িত্বগ্রহণ করেন। বড় আকারের একটি বাইজেন্টাইন সেনাদল আজনাদায়নে জমায়েত হওয়া শুরু করে। খালিদ (রাঃ) নির্দেশ অনুযায়ী মুসলিম বাহিনী আজনাদায়নে জমায়েত হয়। এখানে সংঘটিত আজনাদায়নের যুদ্ধে বাইজেন্টাইনদের পরাজয়ের ফলে সিরিয়া মুসলিমদের হাতে পতিত হয়। খালিদ (রাঃ) বাইজেন্টাইনদের শক্ত ঘাঁটি দামেস্ক জয়ের সিদ্ধান্ত নেন। খালিদ (রাঃ) দামেস্কে পৌঁছে শহর অবরোধ করেন। বাকি অঞ্চল থেকে শহর বিচ্ছিন্ন করে ফেলার জন্য দক্ষিণে ফিলিস্তিনের পথে, উত্তরে দামেস্ক-এমেসার পথে এবং অন্যান্য কিছু স্থানে সেনা মোতায়েন করেন। শেষপর্যন্ত ৩০ দিনের অবরোধের পর খালিদ (রাঃ) দামেস্ক জয় করতে সক্ষম হন। দামেস্কের পতনের সংবাদ পাওয়ার পর হেরাক্লিয়াস এমেসা থেকে এন্টিওকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। বার্ষিক করের বিনিময়ে নাগরিকদের শান্তিতে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। দূরে চলে যাওয়ার জন্য বাইজেন্টাইন সেনাবাহিনীকে দেওয়া হয় তিন দিনের সুযোগ। এই সময়সীমা শেষ হওয়ার পর খালিদ (রাঃ) এর নেতৃত্বে দামেস্কের ১৯০ মাইল উত্তরে বাইজেন্টাইনদের সাথে মারজ আল দিবাজের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) মারা যাওয়ার পর তার উত্তরসূরি হিসেবে হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) খলিফা হন। তিনি খালিদ (রাঃ) কে সসম্মানে পদচ্যুত করে আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ (রাঃ) কে সিরিয়ার মুসলিম সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন।

 

Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) এর ইন্তেকালঃ

৬৩৪ সালের ২৩ আগস্ট Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনি বিছানায় শায়িতাবস্থায় থাকেন। Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) তার উত্তরসূরি মনোনীত করার জন্য প্রয়োজনীয়তা অণুভব করেন যাতে তার মৃত্যুর পর মুসলিমদের মধ্যে সমস্যা দেখা না দেয়। অন্যান্য সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করে তিনি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে তার উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ দেন।

২৩ হিজরীর ২২ জামাদি-উস-সানি (৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৩শে আগষ্ট) Hazrat Abu Bakr – হযরত আবু বকর (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন। মা আয়িশা (রাঃ) এর ঘরে রাসুল (সাঃ) এর পাশে তাকে দাফন করা হয়।

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন।

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

Islami Dawah Center Cover photo

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ। যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 (নগদ/বিকাশ পার্সোনাল) ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ )