ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ইবাদাত

শিরোনাম দেখে অবাক হবার কিছুই নেই। রাতের বেলায় এমন একটি আমল আছে, যা করলে ঘুমিয়ে থেকেও রাতভর ইবাদত করা যায়। অগণিত নেকীও হাসিল করা যায়। কোন সে আমল? আসুন জেনে নেই –
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি রাতের বেলায় একশটি আয়াত তিলাওয়াত করে, তার আমলনামায় পুরো রাত ইবাদত করার সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হবে।” (সহীহ ইবনু খুজাইমাহ), সুবহানাল্লাহ!
এই নেকী হাসিলের সহজ একটি ফর্মূলা আছে। বলছি শুনুন –
১। সূরা বাকারাহ – ১-৭ = ৭ আয়াত
২। সূরা বাকারাহ – ২৫৫-২৫৭ =৩ আয়াত (১০)
৩। সূরা বাকারাহ – ২৮৪-২৮৬ = ৩ আয়াত (১৩)
৪। সূরা আলি ইমরান – ১-৭ = ৭ আয়াত (২০)
৫। সূরা কাহাফ – ১-১০ = ১০ আয়াত (৩০)
৬। সূরা কাহাফ – ১০০-১১০ = ১০ আয়াত (৪০)
৭। সূরা আস-সাজদা – ১-৩০ = ৩০ আয়াত (৭০)
৮। সূরা মূলক – ১-৩০ = ৩০ আয়াত (১০০)
সুবহানাল্লাহ! এক ঢীলে কতো পাখি। এক আমলের সাথে কতো আমলের যোগসাজশ।
এখন দেখা যাক এই আমলের সাথে আর কী কী আমল যোগ হলো –
১। শুরুতেই সূরা বাকারাহ। আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “তোমাদের ঘরকে কবরে পরিণত করো না। নিশ্চয় যে ঘরে সূরা বাকারাহ পাঠ করা হয় সেখানে শয়তান প্রবেশ করে না।” (তিরমিযী)
অতঃপর আয়াতুল কুরসী (২৫৫ আয়াত)। সবশেষে সূরা বাকারার শেষের দুই আয়াত। হাদীসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি রাতে এ দুটি আয়াত পাঠ করবে, তার জন্য এটাই যথেষ্ট।’ (সহীহ বুখারী)
অপর এক হাদীসে রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, ‘সূরা আল-বাকারাহ কে আল্লাহ তাআলা এমন দুটি আয়াত দ্বারা শেষ করেছেন, যা আমাকে আল্লাহর আরশের নিচের ভান্ডার থেকে দান করা হয়েছে। তাই তোমরা এই আয়াতগুলো শিখবে। তোমাদের স্ত্রীদেরও শেখাবে। কারণ এ আয়াতগুলো হচ্ছে রহমত, (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের উপায় ও (দীন দুনিয়ার সকল) কল্যাণ লাভের দুআ।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)
আলী (রা.) বলেছেন, ‘আমার মতে যার সামান্যতম বুদ্ধিজ্ঞান আছে, সে এ দুটি আয়াত তিলাওয়াত করা ছাড়া নিদ্রা যাবে না।’
এছাড়া সূরা বাকারাহ তিলাওয়াতে রয়েছে আরো ফজিলত। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেছেন, “প্রত্যেক জিনিসের একটি শীর্ষ স্থান রয়েছে। আর কুরআনের শীর্ষ স্থান হল সূরা বাকারাহ।” (দারেমী)
২। সূরা আলে ইমরানের তিলাওয়াতের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “কুরআন তিলাওয়াত করো, কারণ কিয়ামতের দিন এটি তেলাওয়াতকারীদের জন্য সুপারিশকারীরূপে আসবে। দুটি উজ্জ্বল সূরা – ‘সূরা আল বাকারা’ এবং ‘সূরা আলে ইমরান’ তেলাওয়াত করো, কারণ কিয়ামতের দিন তারা দুটি মেঘ বা দুটি ছায়া, বা পাখির দুটি ঝাঁক হিসেবে আসবে, যারা তাদের তিলাওয়াত করবে – তাদের জন্য সুপারিশ করবে। সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত করো, এ থেকে শরণাপন্ন হওয়া আশীর্বাদ এবং এটা ত্যাগ করা দুঃখের কারণ এবং যাদুকরেরা এর মোকাবিলা করতে পারে না।”(সহীহ মুসলিম)
৩। সূরা কাহাফ তিলাওয়াতের অনেক ফজিলত রয়েছে। এ সূরা তিলাওয়াত করলে বাড়িতে শান্তি ও বরকত নাযিল হয়। এক সাহাবী এই সূরাটি তিলাওয়াত করার সময় তাঁর বাড়িতে থাকা একটি জন্তু লাফাতে শুরু করে। সাহাবী লক্ষ করে দেখলেন, সামিয়ানার মত এক খণ্ড মেঘ তাঁর ওপর ছায়া করেছে। তিনি এটা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট বর্ণনা করলে তিনি (সাঃ) বললেন, “তুমি এটা পাঠ করতে থাকতে। এটা হল আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ঐ ‘সাকীনা’ বা প্রশান্তি যা কুরআন পাঠের সময় অবতীর্ণ হয়ে থাকে।”(সহীহ মুসলিম)
এছাড়াও দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচতে সূরা কাহাফের এই দশটি আয়াত মুখস্থ রাখা জরূরী।
৪। সূরা আস-সিজদাহ তিলাওয়াত মানে মৃত সুন্নাতকে জিন্দা করার অপার সুযোগ। কেননা জাবের (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাঃ) সূরা সাজদাহ এবং সূরা মুলক তিলাওয়াত না করে রাতে ঘুমাতেন না। (তিরমিযী)
৫। আর সূরা মূলকের ব্যাপারে আমাদের সবারই কমবেশী জানা আছে। আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণিত হাদীসে নবী (সাঃ) বলেন, “নিশ্চয়ই কুরআনে ত্রিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা রয়েছে যা কিয়ামত দিবসে পাঠককে সুপারিশ করবে ফলে তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হবে। তা হল সূরা মুলক।” (আবূূ দাঊদ, তিরমিযী ও নাসায়ী)
আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, “কুরআনে একটি সূরা আছে যা তিলাওয়াতকারীর জন্য আল্লাহ তাআলার সাথে বাকবিতণ্ডা করবে, এমনকি বাকবিতন্ডা করতে করতে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। তা হল সূরা মুলক। (দুররুল মানসুর ৬/২৪৬, মাজমাউয যাওয়ায়েদ)
সুবহানাল্লাহ! একবার চিন্তা করুন। একটা আমলের সাথে বাকী কতো আমল জুড়ে গেলো। আগে শুনতাম এক ঢীলে দুই পাখি, আজ জানলাম এক ঢীলে শত পাখি শিকারেরও সুযোগ আছে। প্রতি হরফে দশ নেকী সেটা তো রয়েছেই।
বি:দ্র: যেকোনো সূরার যেকোনো আয়াত হলেই হবে।উপরের আয়াত গুলো দেওয়ার কারণ হলো ঐগুলোর আলাদা কিছু ফজিলতও আছে।

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ, ফার্স্ট ক্লাস )