Khutbah-জুমার প্রথম এবং ২য় খুৎবা

 

الحمد لله الذي امتن علي عباده بنبيه المرسل . صلى الله عليه وسلم و كتابه المنزل , حتى ا تسع على اهل الافكار طريق الاعتبار بما فيه من القصص والاخبار وتضح به سلوك المنهج القويم والصراط المستقيم
بما فصل فيه من الاحكام, و فرق بين الحلال والحرام, ونشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له, ونشهد ان سيدنا ومولانا محمدا عبده ورسوله, الذي نزل الفرقان عليه ليكون للعالمين نذيرا, صلى الله عليه وسلم وعلى اله واصحابه الذين تذ كروا بالقران, وذكروا به الناس تذكير ا

اما بعد فقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: خيركم من تعلم القران وعلمه وقال عليه الصلاه والسلام: يقال لصاحب القران اقرا وارتق ورتل كما كنت ترتل في الدنيا فان منزلتك عند اخر ايه تقرؤها,

وقال عليه الصلاه والسلام: ان الذي ليس في جوفه شيء من القران كالبيت الخرب. وقال عليه الصلاه والسلام: من قرا حرفا من كتاب الله تعالي فله حسنه والحسنه بعشر امثالها, وقال عليه الصلاه والسلام: من قرا القران فاستظهره فأحل حلاله وحرم حرمه ادخله الله الجنه وشفاعه في عشره من اهل بيته كلهم قد وجبت له النار, اعوذ بالله من الشيطان الرجيم. فلا اقسم بمواقع النجوم. وانه لقسم لو تعلمون عظيم. انه لقران كريم. في كتاب مكنون. لا يمسه الا المطهرون.

 

الخطبه الاخيره للجميع خطب الرساله

الحمد لله أ ستعينه و أ ستغفره ونعوذ بالله من شرور انفسنا. من يهد ى الله فلا مضل له. ومن يضلل فلا هادي له, واشهد ان لا اله الا الله وحده لا شريك له. واشهد ان محمدا عبده ورسوله. أ رسله بالحق بشيرا ونذيرا بين يدي الساعه. من يطع الله ورسوله فقد رشد ومن يعصهما فانه لا يضر الا نفسه. ولا يضر الله شيئا, اعوذ بالله من الشيطان الرجيم. ان الله وملائكته يصلون على النبي. يا ايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما. اللهم صل على محمد عبدك ورسولك وصل على المؤمنين والمؤمنات, والمسلمين والمسلمات, وبارك على محمد وازواجه وذريته. قأل النبي صلى الله عليه وسلم: ارحم امتي بامتي ابو بكر, واشدهم في عمر الله عمر, واصدقهم حياء عثمان. واقضاهم علي, و فاطمه سيده نساء اهل الجنه, الحسن والحسين سيدا شباب اهل الجنه, و حمزه اسد الله واسد رسوله, اللهم اغفر للعباس وولده مغفره ظاهره وباطنه لا تغادر ذنبا. الله الله في اصحابي لا تتخذوهم غر ضأ من بعدي. فمن احبهم فبحبي احبهم. ومن ابغضهم فبعضي ابغضهم

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

জুমার খুতবা আরবীতে হতে হবে নাকি বাংলা ভাষায়?

 

জুমার খুতবা আরবীতে হতে হবে নাকি বাংলা ভাষায়? (একটি গবেষণাধর্মী দলিলভিত্তিক পর্যালোচনা)

আবহমান কাল থেকে এই বিষয়ে বিতর্ক চলে আসছে। কেউ বলছেন খুতবা আরবি ভাষা দিতেই হবে, মাতৃভাষায় খুতবা দেওয়া মাকরূহে তাহরীমী। আবার কেউ বলছেন যে মাতৃভাষাও দেওয়া যায়েজ কিংবা উত্তম। আবার কেউ কেউ বলেছেন মাতৃভাষায় খুতবা দেওয়া ওয়াজিব। আমরা উভয় পক্ষের যুক্তিগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখব যে, আসলে কোনটা সত্যের বেশি নিকটবর্তী। মহান আল্লাহর তৌফিক কামনা করছি

#যারা আরবি ভাষায় খুতবা দেওয়াকে বাধ্যতামূলক মনে করেন তাদের কাছে কোনো দলিল নাই তবে এর স্বপক্ষে কিছু যুক্তি রয়েছে। তাদের #প্রথম যুক্তি হচ্ছে যে, রাসূল (সা), সাহাবায়ে কেরাম ও প্রাচীন মুসলিমগণ সব সময়ই আরবিতে খুতবা প্রদান করেছেন এবং অন্য কোনো ভাষা ব্যবহার করেননি। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বৈঠকে কখনো কখনো অনারবী ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকতো কিন্তু কোনো আয়াত থেকে জানা যায় না যে, তিনি তাদেরকে বোঝানোর জন্য আরবি ভাষা ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় ভাষণ দিয়েছেন ।

#খণ্ডনঃ যারা এই যুক্তি দিয়ে থাকেন তাদের এখানে একাধিক গলদ রয়েছে। #প্রথমত তারা শরীয়ত সম্মত কর্মকাণ্ড এবং প্রথাসিদ্ধ ও স্বভাবসুলভ কর্মকাণ্ডের মধ্যে এবং সুন্নত ও তার উপকরণের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। মূলত খুতবা হচ্ছে এবাদত, ভাষা তার উপকরণ, যেমন হজ হচ্ছে এবাদত বাহন তার উপকরণ। যদি বাহনকে এবাদত ধরা হয় তাহলে রাসুলুল্লাহ উঠে চড়ে হজে গিয়েছিলেন, আমাদেরকেও উঠে চড়ে হজে যাওয়া লাগবে। আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কার‌ও পক্ষেই ফরজ আদায় করা সম্ভব নয়। অনুরূপ ভাষাকে এবাদত মনে না করে উপকরণ হিসেবে ধরলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।

#দ্বিতীয়তঃ রাসুলের ভাষা আরবি ছিল। যাদের সাথে তার কথা বলার সম্পর্ক ছিল তারা সকলে হয় আরবি ছিল অথবা এমন অনারব ছিল যারা আরবি এলাকায় বসবাস করত এবং আরবি ভাষা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান ছিল । যেমন হযরত সালমান ফারসী (রাঃ)। তাদের সামনে তিনি আরবী ছাড়া আর কোন ভাষায় খুতবা দিবেন? অনুরূপ সাহাবায়ে কেরামও বিভিন্ন দেশে গিয়ে যে সব লোকদের সামনে বক্তৃতা দিয়েছেন তাদের অধিকাংশ লোকই আরবী জানতো , তাই আরবি ভাষাভাষী নবী বা তাঁর অনুসারীরা আরব-অনারব জনগণের সামনে আরবিতে বক্তৃতা দিবেন, এটা তো একটা স্বভাবসুলভ কাজ । এটাকে শরীয়তের ব্যাপারে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা কিভাবে যুক্তিসঙ্গত হতে পারে? তিনি যদি বলতেন যে, খুতবা আরবি ভাষায় দিতে হবে এবং অন্য কোনো ভাষায় দেওয়া যাবে না, তাহলে সেটা অবশ্যই শরীয়তের ব্যাপারে দলিল হত।
,
#দ্বিতীয় যুক্তি হিসেবে তারা খুতবাকে সালাতের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। তারা বলেন যে, জুমার সালাত জোহরের মতো চার রাকাত ছিল । খুতবার জন্য দুই রাকাত কমিয়ে তার পরিবর্তে দুইটি খুতবা চালু করা হয়েছে। কেননা, কোনো কোনো বর্ণনা থেকে জানা যায়, হযরত ওমরসহ কিছু সাহাবী ও তাবেয়ী বলেছেন যে, খুতবার কারণে জুমার সালাত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে ।

#খণ্ডনঃ প্রথমত তারা সাহাবী ও তাবেয়ীদের এই কথার মর্মার্থ বুঝতে পারেননি। এখানে সলফে সালেহীন খুতবার গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে বলেছেন যে, খুতবায় উপস্থিতি এত গুরুত্বপূর্ণ যে, এর জন্য সালাতকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে । তারা খুতবাকে সালাতের স্থলাভিষিক্ত করেননি। কয়েকটা কারণে তাদের এই যুক্তি সঠিক নয়।
১) নামাজের জন্য অজু শর্ত কিন্তু খুতবার জন্য অজু শর্ত নয়।
২) নামাজের জন্য কেবলা মুখী হওয়ার শর্ত কিন্তু খুতবার জন্য তা জরুরী তো নয় বরং কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে মুক্তাদির দিকে মুখ করে খুতবা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩) নামাজের মধ্যে কথা বললে নামাজ নষ্ট হয়ে যায় কিন্তু খুতবার সময় প্রয়োজনীয় কথাবার্তা বলা জায়েজ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সা)ও খুতবার মধ্যে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেছেন।
৪) দাঁড়িয়ে ইমামতি করা ফরজ কিন্তু দাড়িয়ে খুতবা দেওয়া ফরজ নয়। হেদায়া গ্রন্থকার বলেন, ولو خطب قاعدا او على غير طاهرا جاز لحصول المقصود ” ইমাম সাহেব যদি বসে খুতবা দেন কিংবা অপবিত্র অবস্থায় খুতবা দেন তাহলে তা জায়েয, কেননা তাতেও উদ্দেশ্য সিদ্ধ হয় । (হেদায়া 1/82)

ইমাম ইবনে খুযাইমা বলেন، ان الخطبة ليست بالصلاه “খুতবা সালাতের অংশ নয়”। (সহীহ ইবনে খুযাইমা, ২/২৫২)
হানাফী মাযহাবের ইমাম ও ফকীহ আল্লাহ সারাখসী বলেন, والاصح انها لا تقوم مقام الشطر الصلاه “সঠিক মত হল খুতবা সালাতের অংশ নয় বা দুই রাকাতের স্থলাভিষিক্ত‌ও নয়। কারণ খুতবায় কিবলামুখী হতে হয় না, কথাবার্তা বললে খুতবা নষ্ট হয় না ,ওযু ছাড়া খুতবা দিলেও তা আদায় হয়ে যায়। (আল মাবসূত, ২/৩১৩)।

#তৃতীয় যুক্তি হিসেবে তারা বলেন যে, কুরআনে বলা হয়েছে, فسعوا الى ذكر الله । এখানে জিকির বলতে খুতবাকে বোঝানো হয়েছে । আর জিকির আরবি ভাষায় হতে হবে।

#খণ্ডনঃ প্রথম নাম্বার কথা হচ্ছে জিকির আরবি ভাষায় হতে হবে এটা হানাফী মাযহাব বিরোধী ফতোয়া। কেননা, ইমাম আবু হানিফা বলেছেন, الذكر يحصل بكل لسان “যে কোনো ভাষাতেই জিকিরের উদ্দেশ্য হাসিল হতে পারে”। (আল মাবসূত 1/36) । এছাড়া এই জিকির দ্বারা কী বুঝানো হয়েছে তা নিয়ে আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কার‌ও মতে খুতবা উদ্দেশ্য, আবার কারো মতে খুতবা ও সালাত দুটি উদ্দেশ্য আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, শুধু সালাত উদ্দেশ্য। এখানে জিকির দ্বারা উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, যারাই জিকির দ্বারা খুতবা উদ্দেশ্য নিয়েছেন তারা প্রত্যেকেই খুতবা বলতে ইমামের ওয়াজ, নসিহত ও উপদেশ বুঝিয়েছেন। আর এগুলোতো মাতৃভাষায় হওয়াই যুক্তিসঙ্গত।

সাঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব বলেন, এই আয়াত দ্বারা বোঝানো হয়েছে, موعظة الامام “অর্থাৎ ইমামের নসিহত।” (আইনী, উমদাতুল কারী , 6/162)
ইমাম ইবনে হুমাম বলেন, فالظاهر ان المراد بالذكر الصلاة ويجوز كون المراد به الخطبه “এই আয়াতে জিকির অর্থ বাহ্যত সালাত তবে খুতবা অর্থ‌ও হতে পারে। (ফাতহুল কাদীর, 2/49)
ইমাম যারকানী বলেন,
موعظة الامام بالخطبة أو الصلاة أو هما معا
“এই আয়াত দ্বারা খুতবার মাধ্যমে ইমামের নসিহত অথবা সালাত অথবা একসাথে দুটোই বুঝায়” (শরহে যারকানী 1/389)
তাফসীরে তাবারীতেও বলা হয়েছে, মাওইযাতুল ইমাম। (23/384)
ইমাম সরাখসী বলেন, والخطبة كلها وعظ وامر بمعروف “খুতবা তো পুরাপুরি ওয়াজ ও ন্যায়ের আদেশ” । (আল মাবসূত ২/৩২৫) ।
বিভিন্ন হাদীসেও জুমার খুতবাকে ওয়াজ বলা হয়েছে। (সহীহ আবু দাউদ, ১/৯৫; মুসনাদে আহমদ, (৫/৯৯; ৪/২৬৮; হাইসামী , মাজমাউয যাওয়াইদ , ২/১৮৮)। আর ওয়াজ তো মাতৃভাষাতেই হতে হবে। وما ارسلنا من رسول الا بلسان قومه ليبين لهم

#চতুর্থ যুক্তি হিসেবে তারা বলেন, বাংলা খুতবা দিলে বাংলায় নামাজ‌ও পড়তে হবে।

#খণ্ডনঃ তাদের এই যুক্তি মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা দুইটার মৌলিকত্ব ও উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। নামাজের নির্দিষ্ট পদ্ধতি এবং নির্দিষ্ট শব্দাবলী রয়েছে , এর বাহিরে যাবার কোনো সুযোগ নেই । তাই যে ব্যক্তি আরবি জানেন তিনি সামান্য একটু সময় ব্যয় করলেই সহজে তার অনুবাদ মুখস্ত কিংবা মর্মার্থ বুঝে নিতে পারেন। কেননা এর শব্দ বিন্যাস একেবারেই সীমিত। কিন্তু খুতবার ব্যাপারটা ঠিক এর বিপরীত। এর কোনো শাব্দিক রূপ নেই। প্রত্যেক জুম্মার একটা নতুন খুতবা দিতে হয় । এবং আগ থেকে তা অনুবাদ করে বুঝে নেওয়া বা বাড়ি থেকে হৃদয়াঙ্গম করে আসা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

১) তাই সবার জন্য আরবিকে বাধ্যতামূলক করার নিশ্চিত ফল এই হবে যে, আরবি না জানা লোকদের জন্য তার নিজ একটা নিরর্থক জিনিস এবং একটা নিস্প্রান ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পরিণত হবে। এতে করে খুতবা প্রবর্তনের শরীয়তে যেসব উদ্দেশ্য নিহিত ছিল শেষ হয়ে যাবে। একজন সাধারণ জ্ঞান সম্পন্ন মানুষ বুঝতে পারে যে, তুর্কি ভাষাভাষীর সামনে জার্মানি ভাষায় বক্তৃতা করা একটা অহেতুক অনুষ্ঠান ছাড়া আর কিছু নয়। যে মহাবিজ্ঞানী শরীয়তের বিধান প্রণয়ন করেছেন তার সম্পর্কে কিভাবে এরূপ ধারণা করা চলে যে, ইসলামের নির্দেশনা বলে বুঝানো এবং নৈতিক শিক্ষা প্রদানের জন্য তিনি আদৌ বুঝতে পারে না এমন বক্তৃতা দেওয়ার নির্দেশ দেবেন?

২) যদি রাসুলের অনুসরন করুনার্থে আরবি ভাষায় খুতবা দেওয়া জরুরি হইত তাহলে খুতবার মধ্যে রাসুলুল্লাহ যেসব শব্দের প্রয়োগ করেছেন সাহাবায়ে কেরাম সেই রকম শব্দ প্রয়োগ করে তাঁর পূর্ণ অনুসরণ করতেন কিন্তু কোনো সাহাবী রাসুলুল্লাহ এই অনুসরণ করেননি বরং প্রত্যেকেই সৃজনশীল পদ্ধতিতে খুতবা দিয়েছেন।

৩) বিভিন্ন হাদিস থেকে জানা যায়, রাসূল সা খুতবার মাধ্যমে বিভিন্ন উপদেশ দিতেন , নির্দেশ দিতেন, বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতেন । আর এগুলো তো এমন ভাষায় হওয়া বাঞ্চনীয় , যে ভাষায় বললে শ্রোতা বুঝতে পারে।

৪) রাসূল (সা)ও তাঁর সাহাবারা খুতবা দিতেন, ওয়াজ করতেন কিন্তু আমরা তো খুতবা দেই না বরং খুতবা পড়ি। বই দেখে আবেগহীন সুরে কিছু আরবী তেলাওয়াত করি অথচ এই রকম পড়া সুন্নত নয়, সুন্নত হচ্ছে আবেগময় ওয়াজ করা।

৫) যদি আরবিতে খুতবা দিতেই হয় তাহলে একটি বই দেখে না বুঝে কিছু আরবী বাক্য পাঠ করার চাইতে তো কোরআন তেলাওয়াত করাই উত্তম। কেননা কুরআন তেলাওয়াত করলে আর্থ না বুঝলেও অন্তত প্রতি অক্ষরের ১০-১০ করে নেকি পাওয়া যাবে।

#ইমাম আবু হানিফার মতঃ
ইমাম আবু হানিফার মতে মাতৃভাষায় খুতবা দেওয়া জায়েজ। তিনি বলেন, “যে কোনো ভাষাতেই জিকিরের উদ্দেশ্য হাসিল হতে পারে”। (আল মাবসূত 1/36) ।” বলাবাহুল্য যে, খুতবা একটি জিকির। তাঁর মতে সালাতে তাকবীরে তাহরীমা ফারসি ভাষায় বললে তা জায়েয হবে। আর হানাফী মাযহাবের সর্বসম্মতি ফ‌ত‌ওয়া হচ্ছে যে, আরবি ভাষা জানেন এমন ব্যক্তিও প্রাণী জবাই করার সময় ফার্সিতে (মাতৃভাষায়) আল্লাহর নাম নিলেও তার প্রাণী হালাল হয়ে যাবে। (আল মাবসূত, ১/৩৬-৩৭)

মাতৃভাষায় তাকবীরে তাহরীমা বললে যদি তা জায়েয হয়, পশু জবাই করার সময় যদি মাতৃভাষা জিকির করা জায়েজ হয় , যে কোনো ভাষাতেই জিকির করলে যদি উদ্দেশ্য হাসিল হয় তাহলে খুতবা দেওয়ার সময় মাতৃভাষায় বক্তব্য দিলে নাযায়েজ হ‌ওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই বরং উদ্দেশ্যের দিকে লক্ষ রেখে মাতৃভাষাতেই খুতবা দেওয়া উত্তম।

(এটা আমার সামান্য গবেষণা । যদি শুদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আর যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে।)

 

আরও পড়ুন…

 

Salam-সঠিক ভাবে সালাম দেওয়া ও নেওয়ার নিয়ম ও পদ্ধতি

 

সালাম ইসলামের সৌন্দর্যময় একটি দিক। সালাম আদান প্রদানের ফলে শত্রু থেকে সখ্যে পরিণত হয়। দুই ব্যাক্তির মাঝে ভালবাসা ফয়দা হয়। চেনা পরিচিতদের মাঝে ভালবাসা বৃদ্ধি পায়। অচেনা মানুষকে আপন করে নেওয়া যায়। এই মনোহর রূপমাধুরী শুধুমাত্র ইসলামেই রয়েছে। যা অন্য কোন ধর্মে নেই।

জনৈক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলেন— ইসলামে কোন্‌ জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে। সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১২

“সালাম” মানেই শান্তি কামনা করা। আমি খুব অবাক হয় মাদ্রাসার ছাত্রদের দেখে! তাদের মাঝে রয়েছে সালামের প্রচার-প্রসার। ছোট-বড় সবাইকে সালাম দেয়। ছোট-বড় কোন ভেদাভেদ নেই। অধুনা আমাদের সমাজে এর বড়ই অভাব।

আমি বড় বলে ছোটরা আমাকে সালাম দিবে। আমি বড়, আমি কেন ছোটদের সালাম দেব? আর একটু নাম করা ব্যাক্তিত্ব হলে তো কথায় নেই। না দিলে পিছনে গিয়ে শেকায়ত করে— অমুকের ছেলে বড় বিয়াদব। আমি পাশ দিয়ে আসতেছি দেখা সত্বেও সালাম দেয়নি।

রাসূল সা. এরকম ভেদাভেদ করতেন না। রাসূল (ﷺ) ছোট-বড় সবাইকে সালাম দিতেন। আমরাও এই অভ্যাসকে নিজেদের মাঝে ফিট্ করে নেওয়ার প্রয়াস চালাব-ইন শা আল্লাহ!

সালাম মানেই শান্তি। কোন মুসলমান ভাইকে দেখামাত্র বললাম, “আসসালামু আলাইকুম।” অর্থ হলো, “আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক।” সালামের উত্তরে বলল, “ওয়ালাইকুমুস সালাম”। অর্থ হলো, “আপনার উপরেও শান্তি বর্ষিত হোক।” এভাবে পরিচিত অপরিচিত সবার জন্য শান্তি কামনা করা একমাত্র ইসলামেই রয়েছে।

যে আগে সালাম দেয়, সে অহংকার মুক্ত হয়। কারণ, অহংকার ব্যাক্তিরা আগে সালাম দিতে লজ্জাবোধ করে। বরং তাঁরা অন্যের সালামের প্রতি মুখাপেক্ষী। আমি একজন নামকরা ব্যাক্তি। আমি কীভাবে দিনমজুরকে সালাম দিব? অহংকারীরা সর্বসাধারণ জনগণকে তুচ্ছ মনে করে। কিন্তু, ইসলাম এই ভেদাভেদকে দূরীভূত করতেই সালামকে প্রাধান্য দিয়েছে। হাদীসে আছে—

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন—মানুষের মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বাধিক উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে আগে সালাম দেয়। সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৫১৯৭

আল্লাহ তাআলা এরশাদ ফরমান—

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হবে, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে অথবা জবাবে তাই দেবে।’ সুরা-৪ নিসা, আয়াত: ৮৬

তবে অধুনা আমাদের সমাজে কিছু কুসংস্কার এখনো রয়ে গেছে। যখন কোন মুসলমান ভাইয়ের সাথে দেখা হয়, সালাম দিয়ে মুসাফাহা করত। কিন্তু, এখন বলে হাত নাড়িয়ে হাই (hi)। অথচ তাঁর মাঝে কোন বরকত নেই। না আছে নেকি, না আছে বরকত!

আরেকটি কুসংস্কার হলো— মাথা নিছু করে পা ধরে সালাম করা। যেটি সম্পূর্ণ শরীয়তবহির্ভূত কাজ। একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা ছাড়া কারো কাছে মাথা নত করা সম্পূর্ণ হারাম। পা ধরে সালাম বিধর্মীদের সংস্কার, যেটি আঁকড়ে ধরছে মুসলমানরা।

ইসলামের মনোহারিত্ব নিয়ে লিখতে গেলে অনেক লিখা। তন্মধ্যে সালাম হলো ইসলামের সৌন্দর্যময় একটি দিক। সালাম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আকারে উপস্থাপন করলাম।

 

সালামের সঠিক ও সুন্নতি পদ্ধতি কি?

 

 
 
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল দাঈ: ইসলাম এক উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতিভূ। এর প্রতিটি কর্মই অত্যন্ত চমৎকার, পবিত্র ও কল্যাণকর। ইসলামি সম্ভাষণ রীতি হলো, এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ। একজন বিবেকবান ব্যক্তি যদি চিন্তা করে তাহলে তার কাছে প্রতিভাত হবে যে, ইসলামি সম্ভাষণ রীতি অন্য সকল ধর্মীয় ও প্রচলিত রীতিনীতি থেকে সুন্দর, অর্থবহ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ।
 
এটি কেবল সম্ভাষণ নয় বরং রীতিমত একটি ইবাদত। অর্থাৎ এর মাধ্যমে আমরা নেকি অর্জন করতে পারি কিন্তু হাই-হ্যালো, আদাব, নমস্কার ইত্যাদি বিধর্মীদের সম্ভাষণ রীতিতে ইসলামি রীতির মদো তাৎপর্য, গাম্ভীর্য ও আবেদন কখনও খুঁজে পাওয়া যায় না। নিম্নে সালামের সঠিক পদ্ধতি এবং তার মমার্থ তুলে ধরা হলো:

 

সালামের সঠিক ও সুন্নতি পদ্ধতি:

 
সালামের শরিয়ত সম্মত তিনটি স্তর রয়েছে:
 
◍ ১) পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোচ্চ স্তর হলো, এভাবে বলা: ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’। [অর্থ: আপনার প্রতি শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক]
◍ ২) এর চেয়ে নিম্নস্তরের হলো, এভাবে বলা, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ” [অর্থ: আপনার প্রতি শান্তি এবং আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হোক]।
◍ ৩) সবচেয়ে নিম্নস্তরের হলো: “আসসালামু আলাইকুম” [অর্থ: আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক] বলা।
 
হাদিসে এসেছে যে,
عن عِمران بن الحصين رضي الله عنهما قَالَ: جاءَ رجُلٌ إِلَى النَّبيِّ ﷺ فَقَالَ: “السَّلامُ عَلَيكُم”، فَرَدَّ عَلَيْهِ، ثُمَّ جَلَسَ، فَقَالَ النبيُّ ﷺ: عَشْرٌ، ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ: “السَّلامُ عَلَيكُم وَرَحْمَةُ اللهِ”، فَرَدَّ عليهِ، فَجَلَسَ، فَقَالَ: عِشْرون، ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ: “السَّلامُ عَلَيكُم وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُه”، فَرَدَّ عليهِ، فَجَلَسَ، فَقَالَ: ثَلاثُونَ. رواه أَبُو داود والترمذي وقال: حديثٌ حسنٌ.
 
ইমরান ইবনুল হুসাইন রা. হতে বর্ণিত, একজন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম’। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আালইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে ছিলেন। সাহাবিগণও তার সাথেই ছিলেন। তিনি সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর লোকটি বসলে তিনি বললেন, দশ। (অর্থাৎ তুমি ১০টি নেকি পেয়েছ।) এরপর আরেক ব্যক্তি এসে বলল, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।”
 
তিনি সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর লোকটি বসলে তিনি বললেন, বিশ। (অর্থাৎ তুমি ২০টি নেকি পেয়েছ।) অতঃপর আরও এক ব্যক্তি এসে বলল, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।” তিনি সালামের উত্তর দিলেন। অতঃপর লোকটি বসলে তিনি বললেন, ত্রিশ। (অর্থাৎ তুমি ৩০টি নেকি পেয়েছ) [আবু দাউদ, তিরমিযী- হাদিসটি হাসান।]
 
➧ ইমাম নওবি রহ. বলেন, ” اعلم أن الأفضل أن يقول المُسَلِّم : السَّلامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ ، فيأتي بضمير الجمع وإن كان المسلَّم عليه واحداً ، ويقولُ المجيب : وَعَلَيْكُمُ السَّلامُ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَركاتُه .
 
“জেনে রাখো, সালাম দাতার জন্য সবচেয়ে উত্তম হলো, “আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু” বলা। বহু বচনের সর্বনাম ব্যবহার করবে যদিও যাকে উদ্দেশ্য করে সালাম দেয়া হচ্ছে সে একজন ব্যক্তি হয়। আর উত্তর দাতা বলবে, “ওয়ালাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।”
 
(আল আযকার, পৃষ্ঠা: ৩৫৬-৩৫৮) ❂ উল্লেখ্য যে, মাঝেমধ্যে ‘সালামুন আলাইকুম’, “সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ”, সালামুন আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ” ইত্যাদি বাক্য দ্বারাও সালাম প্রদান করা জায়েজ আছে।
 
এ বাক্য দ্বারা ফেরেশতাগণ জান্নাতবাসীদেরকে সম্ভাষণ জানাবেন বলে কুরআনের একাধিক আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। দেখুন: সূরা যুমার/৭৩, সূরা নাহল/৩২। অনুরূপভাবে সূরা কাসাস এর ৫৫ নং এবং সূরা আনআমের ৫৪ নং আয়াতের মাধ্যমেও এ সব বাক্য দ্বারা সালাম দেয়ার বৈধতা প্রমাণিত হয়। তাছাড়াও এসব বাক্য দ্বারা আমাদের পারস্পারিক সালাম লেনদেন প্রসঙ্গে আলাদা সহিহ হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
হাদিসটি হলো:
 
أنَّ رجُلًا مرَّ على رسولِ اللهِ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم وهو في مجلسٍ فقال: سلامٌ عليكم فقال: ( عشرُ حسناتٍ ) ثمَّ مرَّ رجُلٌ آخَرُ فقال: سلامٌ عليكم ورحمةُ اللهِ فقال: ( عشرونَ حسنةً) فمرَّ رجُلٌ آخَرُ فقال: سلامٌ عليكم ورحمةُ اللهِ وبركاتُه فقال: ( ثلاثونَ حسنةً ) فقام رجُلٌ مِن المجلسِ ولم يُسلِّمْ فقال النَّبيُّ صلَّى اللهُ عليه وسلَّم: (ما أوشَك ما نسي صاحبُكم ! إذا جاء أحدُكم إلى المجلسِ فلْيُسلِّمْ فإنْ بدا له أنْ يجلِسَ فلْيجلِسْ فإنْ قام فلْيُسلِّمْ فليستِ الأُولى بأحقَّ مِن الآخِرةِ
 
আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি তখন এক মজলিসে ছিলেন।
 
সে বলল, আসসালামু আলাইকুম (অর্থ: আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালামের জবাব দিয়ে বললেন): “দশ নেকি।” অতঃপর অপর এক ব্যক্তি যাওয়ার সময় বলল: সালামুন আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ (অর্থ: আপনার/ প্রতি শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক)।
 
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “বিশ নেকি।” আরেক ব্যক্তি সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় বলল: সালামুন আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ (অর্থ: আপনার উপর শান্তি, আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক)।
 
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (সালামের জবাব দিয়ে বললেন) বললেন: “তিরিশ নেকি।” অতঃপর এক ব্যক্তি মজলিস থেকে উঠে চলে গেলো কিন্তু সালাম দিলো না।
 
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনে, “হয়তো তোমাদের সাথী ভুলে গেছে। তোমাদের কেউ বৈঠকে এসে পৌছলে যেন সালাম দেয়। তারপর বৈঠকে বসার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলে বসবে। আবার সে যখন চলে যাবে তখনও যেন সালাম দেয়। কেননা পরের সালাম পূর্বের সালামের চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ নয়।” (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, আহমাদ, আবু দাউদ-সহিহ)
 
❒ ‘স্লামালিকুম’ এর কি কোনও অর্থ আছে? এভাবে কি সালাম দেয়া যাবে?
 
উত্তর:’স্লামালিকুম’ মূলত: ‘আসসালামু আলাইকুম’ এর বিকৃত রূপ। আমাদের সমাজের ইসলাম সম্পর্কে জ্ঞানহীন কতিপয় মানুষ বা তথাকথিত উচ্চ ডিগ্রীধারী শিক্ষিত মূর্খরা এভাবে বলে থাকে।
 
এর কোনও অর্থ নাই। তাই জেনেবুঝে ‘স্লামালিকুম’ এ বিকৃত শব্দ দ্বারা সালাম দেয়া বৈধ নয়। বরং আমাদের কতর্ব্য, সঠিক পদ্ধতি ও বিশুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দেয়া। আল্লাহ তাওফিক দান করুন এবং। আমিন। লেখক: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল, দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব  

সম্মানিত ভাই ও বোনেরা, সালাম দেওয়া সুন্নত এবং উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আমাদের অনেকেরই সালাম দিতে গিয়ে বা সালামের উত্তর দিতে গিয়ে অজান্তেই ভুল হয়ে যায়। যেমনঃ আমরা প্রতিদিন অনেককেই এভাবে সালাম দিতে শুনি যে, স্লামালাইকুম, আস সালামালাইকুম, সেলামালাইকুম, ইত্যাদি। আবার উত্তর দেয়ার সময়ও শোনা যায় ভুল শব্দের ব্যবহার।

যেমন, অলাইকুম সালাম, অলাইকুম আস-সালাম ইত্যাদি। সালাম একটি দুআ। ইসলামের শেআর ও প্রতিক পর্যায়ের একটি আমল। এর সহীহ উচ্চারণের প্রতি গুরুত্ব দেয়া জরুরি। কমপক্ষে এতটুকু বিশুদ্ধ উচ্চারণ অবশ্যই জরুরি, যার দ্বারা অর্থ ঠিক থাকে।

সালাম এর সঠিক উচ্চারণ হলো, السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ আস-সালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি, ওয়া বার-কাতুহ্। وَعَلَيْكُمُ السَّلَامُ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ ‘ওয়া আলাইকুমুস-সালাম, ওয়া রহমাতুল্লাহি, ওয়া বার-কাতুহ্।

আরবী দেখে এর সহীহ উচ্চারণ শিখে নেয়া উচিত অন্যথায় কন্ঠ বাদ পড়ে যায়- ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম’-এর স্থলে ‘অলাইকুম আস সালাম’ হয়ে যায়, যা স্পষ্ট ভুল। ইসলামে সালামের গুরুত্ব অপরিসীম। সালাম শান্তির প্রতীক। সালামে রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। সালাম এভাবে দিতে হয়, ‘আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।’ সালাম মুসলমানদের পরস্পরে ভালোবাসা, হৃদ্যতা সৃষ্টি করে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা ইমানদার না হওয়া পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, আর ইমানদার হতে পারবে না পরস্পরে ভালোবাসা না হলে। তোমাদের কি এমন একটি বিষয়ের কথা বলব, যা করলে তোমাদের পরস্পরে ভালোবাসা সৃষ্টি হবে? তোমরা পরস্পরের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটাও।’ (মুসলিম : ৫৪)

এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলেন, ইসলামের কোন কাজ সবচেয়ে ভালো? রাসুল (সা.) বললেন, ‘খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।’ (বোখারি : ১২)

সালামের প্রতিটি বাক্যে দশ নেকি। সালামে মোট তিনটি বাক্য আছে। সুতরাং যে পূর্ণ সালাম দেবে তার ত্রিশটি নেকি অর্জন হবে। একবার এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ‘আস্সালামু আলাইকুম’, রাসুল তার উত্তর দিলেন, তারপর সে বসল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, ‘দশ নেকি।’ অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি এলো। সে বলল, ‘আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।’

রাসুল (সা.) উত্তর দিলেন। পরে ওই ব্যক্তি বসে পড়ল। রাসুল (সা.) বললেন, ‘বিশ নেকি।’ অতঃপর অন্য একজন এলো। সে বলল, ‘আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।’ রাসুল (সা.) উত্তর দিলেন। সেও বসে পড়ল। রাসুল (সা.) বললেন, ‘ত্রিশ নেকি।’

(তিরমিজি : ২৬৮৯) সালামের বিধান ও তার পদ্ধতি : প্রথমে সালাম দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত, উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। যদি সালামের দ্বারা কোনো দলকে উদ্দেশ্য করা হয়, তাহলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিবে কেফায়া।

অর্থাৎ একজন উত্তর দিলে সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে, তবে সবারই উত্তর দেওয়া উত্তম। উত্তর দেওয়ার সময় সালামের চেয়ে বাড়িয়ে উত্তর দেওয়া সুন্নাত। যেমন কেউ ‘আস্সালামু আলাইকুম’ বললে উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বলবে।

কেউ ‘আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ’ বললে উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু’ বলবে। চিঠি বা মেসেজ ইত্যাদির শুরুতে সালাম দেওয়া সুন্নাত। এর মৌখিক বা লিখিত উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। (তিরমিজি ২/১০১)

সালামের আদবসমূহ : মানুষের মধ্যে সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটানো প্রয়োজন, যাতে তা মুসলমানদের প্রতীকে পরিণত হয়। বিশেষ কোনো দলকে সালাম দেওয়া বা শুধু বড়দের দেওয়া কিংবা ছোটদের না দেওয়া উচিত নয়।

অনুরূপভাবে অপরিচিতকে বাদ দিয়ে শুধু পরিচিতকে সালাম দেওয়াও কাম্য নয়। (বুখারি : ১২) উত্তম হলো- ছোট বড়কে প্রথমে সালাম দেবে। পথচারী উপবিষ্টকে সালাম দেবে। আরোহণকারী পথচারীকে সালাম দেবে। কম লোক বেশি লোককে সালাম দেবে।

(বুখারি : ৬২৩১) উচ্চ স্বরে সালাম দেওয়া ও উত্তর দেওয়া সুন্নাত। কেননা সালাম উচ্চারণ করতে হয়। হাত বা মাথার ইশারা ইত্যাদি সালাম বলে বিবেচিত হবে না।

হ্যাঁ, দূরে হলে বা উত্তর শুনতে কোনো কিছু বাধা হলে মুখে উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে হাত বা মাথার ইশারায় উত্তর দেওয়ার কথা জানিয়ে দেবে। কাছে হলে সালামে হাত ওঠানো অপ্রয়োজনীয় ও সুন্নাতের খেলাফ। (তিরমিজি ২/৯৯)

সুন্নাত হলো দুজন আলাদা হওয়ার পর পুনরায় সাক্ষাৎ হলে আবার সালাম দেওয়া। সাহাবায়ে কেরাম যখন হাঁটতেন, তখন তাঁদের সামনে কোনো গাছ অথবা স্তূপ পড়ত, তাঁরা ডানে-বাঁয়ে আলাদা হয়ে যেতেন। অতঃপর আবার সাক্ষাৎ হলে একে অন্যকে সালাম দিতেন।

সালাম শুধু মুমিনদের অভিবাদন, কাফেরদের সালাম দেওয়া বৈধ নয়। হ্যাঁ, যদি এমন জায়গায় উপস্থিত হয় যেখানে কাফের-মুসলমান একত্রে থাকে, সেখানে সালাম দেওয়ার সময় মুসলমানের নিয়ত করবে। (সুনানে আবি দাউদ : ৫২০৫)

যদি কোনো অমুসলিম সালাম দেয় তাহলে তার জবাবে ‘আস্সালামু আলা মানিত্তাবাআল হুদা’ বলবে। (মুসনাদে আহমাদ : ২৪৩০৪) কিংবা ‘ওয়ালাইকা’ বা ওয়ালাইকুম’ বলবে। অমুসলিমদের বিশেষ প্রয়োজনে সালাম ছাড়া অন্য কোনোভাবে অভিবাদন জানানো বৈধ। যেমন শুভ সকাল বা শুভ রাত্রি ইত্যাদি।

তবে এমন বাক্য ব্যবহার করা যাবে না, যা অন্য ধর্মের জন্য নির্ধারিত। অন্যের মাধ্যমে কারো কাছে সালাম পৌঁছানোও সুন্নাত। যার কাছে সালাম পৌঁছানো হবে উত্তর দেওয়া তার দায়িত্ব। (তিরমিজি ২/৯৯) মাহরাম (যাদের দেখা বৈধ) নারীদের বা স্ত্রীদেরও সালাম দেওয়া সুন্নাত।

আর ফেতনা থেকে নিরাপদ হলে পরনারীদেরও সালাম দেওয়া জায়েজ। অনুরূপ নারীরাও পরপুরুষদের ফেতনার আশঙ্কা না হলে সালাম দিতে পারবে। (রদ্দুল মুহতার ৬/৩৬৯) কাউকে ঝুঁকে সালাম দেওয়া জায়েজ নেই। (তিরমিজি : ২৭২৮)

যেসব অবস্থায় সালাম দেওয়া মাকরুহ : যে ব্যক্তি সালামের উত্তর দিতে অক্ষম তাকে সালাম দেওয়া মাকরুহ। যথা : নামাজ, আজান-ইকামত, জিকির, তিলাওয়াত, ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা, খানাপিনা ও ইস্তিঞ্জারত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া, গুনাহের কাজে লিপ্ত ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া, স্ত্রী সহবাস ইত্যাদি অবস্থায় সালাম দেওয়া মাকরুহ। (রদ্দুল মুহতার ১/৪১৪) লেখক : ফতোয়া গবেষক, ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার

কিছু কিছু ক্ষেত্র সালাম দেয়া যাবে না

১. আযানরত, ইকামতরত কিংবা খুদবা পড়া অবস্থায় কোন ব্যক্তিকে সালাম দেওয়া উচিত নয়।

২. যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে খেল-তামাশায় মগ্ন তাকে সালাম দেওয়া উচিত নয়।

৩. বার্থ রুম এ থাকা অবস্থায় সালাম দেওয়া উচিত নয়।

৪. অমুসলিমকে সালাম দেওয়া উচিত নয়। তাই আমরা আমাদের সমাজে, পরিবারে, অফিসে সালামের প্রচলন করব। সেই সাথে আমরা ইসলামকে মেনে চলব। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

অমুসলিমকে সালাম দেওয়ার বিধান কী? এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা কি জায়েজ?

অমুসলিমকে ‘সালাম’ দেওয়া বৈধ নয়। কোনো প্রয়োজনে দিতে হলে ‘আসসালামু আল মানিত্তাবাআল হুদা’ বলবে। আর অমুসলিমরা সালাম দিলে তদুত্তরে শুধু ‘ওয়া আলাইকুম’ বলবে। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে মুসলিমদের ওপর অমুসলিমদের প্রাধান্য দেওয়া নিন্দনীয়।

তবে তাদের সঙ্গে যাবতীয় লেনদেন, সদাচরণ ও সাধারণ সম্পর্ক রাখা বৈধ। (সুরা মায়েদা, আয়াত : ৫১, সুরা আল ইমরান, আয়াত : ১১৮, আল বাহরুর রায়েক : ৮/৩৭৪, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ১৯/৫৪৫, ফাতাওয়ায়ে ফকিহুল মিল্লাত : ১২/১০৩)

 

সালাম আদান-প্রদানে যে ১২ ভুল করা উচিত নয়

 

  ১. অশুদ্ধ উচ্চারণে সালাম দেওয়া: এটি মারাত্মক ভুল কাজ। আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ হচ্ছে পূর্ণ সালাম। শুধু আসসালামু আলাইকুম বললেও চলবে। তবে উচ্চারণে ভুল করা যাবে না।

২. ছোটদের প্রতি বড়দের সালাম না দেওয়া: এটিও ভুল প্রচলন। বড় বা বয়স্ক মানুষ ছোটদের সালাম দিতে কোনো বাধা নেই। যেমন- শিক্ষক ছাত্রদের এবং বাবা-মা সন্তানদের সালাম দেবেন। আগে সালামকারী বেশি সওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী হয়ে থাকেন।

৩. অপরিচিত কাউকে সালাম না দেওয়া: পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়ার নির্দেশ এসেছে। তাই পরিচিত ও মুখ চিনে সালাম দেওয়া গর্হিত ও নিন্দিত কাজ।

৪. সালাম দেওয়ার সময় মাথা ও বুক ঝুঁকে নিচু করা: সালাম দেওয়ার সময় মাথা ও বুক ঝুঁকে নিচু হয়ে সালাম দেওয়া নিষেধ। অনেকে পদস্থ বা বড় কোনো ব্যক্তিকে সালাম দেওয়ার সময় এমন করে থাকে। হাদিসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এ থেকে বিরত থাকা বাঞ্ছনীয়।

৫. সালামের উত্তর দিয়ে আবার সালাম: আপনাকে কেউ সালাম দিল, আপনি উত্তর দেওয়ার পর ওই সালামকারীকে আবার সালাম দিলেন। অনেকে এ কাজটি অজ্ঞতাবশত করে থাকেন। উত্তম হলো, কারো সালামের অপেক্ষা না করে নিজেই আগে সালাম দেওয়া। কিন্তু কেউ আগে সালাম দিয়ে ফেললে তার সালামের উত্তর দেওয়াই নিয়ম। তাকে আবার সালাম দিতে হবে না।

৬. সালামের উত্তর না দিয়ে আবার সালাম: সালাম পাওয়ার পর উত্তর দেওয়াই বিধান। কিন্তু অনেকে সালাম দেওয়ার পর উত্তর না দিয়ে সালামদাতাকে আবার সালাম দেয়। এমনটি ঠিক নয়। দুজনের একজন সালাম দেবেন, অপরজন সালামের উত্তর দেবেন এটাই বিধান।

৭. সালাম দেওয়ার পর সালাম দিয়েছি বলা: কাউকে সালাম দেওয়ার পর সালাম না শুনলে বা উত্তর না-দিলে আমরা বলি, ‘আপনাকে সালাম দিয়েছি’। এভাবে বলা ঠিক নয়। তাকে আবার পূর্ণ সালাম দেওয়াই নিয়ম।

৮. কতক্ষণ বসার পর সালাম দেওয়া: সাক্ষাতের শুরুতেই সালাম দেওয়া সুন্নত। কতক্ষণ বসার পর সালাম করা অনুচিত।

৯. সালাম পাঠানোর পদ্ধতি: কারো কাছে সালাম পাঠানোর দরকার হলে আমরা বলি, অমুককে গিয়ে আমার সালাম দেবেন/বলবেন। এভাবে বলা ঠিক নয়। নিয়ম হল এভাবে বলা, অমুককে আমার পক্ষ থেকে আসসালামু আলাইকুম… বলবেন। তেমনি, সালাম পৌঁছানোর পরও ‘অমুকে আপনাকে সালাম দিয়েছেন’ এ রকম না বলে বলা উচিত, অমুক আপনাকে আসসালামু আলাইকুম… বলেছেন। 

এক্ষেত্রে সালামের উত্তরদাতাও কেবল প্রেরককে উত্তর দেবেন না। বরং প্রেরক ও বাহক উভয়কে দোয়ায় শরিক করবেন। তিনি এভাবে উত্তর দেবেন, ওয়া আলাইকা ওয়া আলাইহিস সালাম।

১০. ফোনে বা সাক্ষাতে সালামের আগে হ্যালো বা অন্যকিছু বলা: ফোন বা মোবাইল ফোনে সালাম দেওয়ার আগে হ্যালো বা অন্য কোনো কথা বলা ঠিক নয়। আগে সালাম দিয়ে তারপর অন্য কথা বলবেন। হ্যালো বলার দরকার হলে সালাম দেওয়ার পর বলবেন। ফোন ছাড়া সাক্ষাতের বেলায়ও কথাবার্তার আগেই সালাম দেওয়াই সুন্নত। কেননা রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কথাবার্তা বলার আগে সালাম দিতে হয়। (তিরমিযি, হাদিস নং- ২৬৯৯)

১১. অনুষ্ঠান শেষে বা বিয়ের আকদ হওয়ার পর সালাম: অনেক জায়গায় দেখা গেছে, কোনো অনুষ্ঠান- বিশেষত দোয়া বা এ ধরনের কোনো মজলিস শেষ হওয়ার পর সালাম দেন অনেকে। এছাড়া বিয়ের আকদ হওয়ার পর বর উপস্থিত সবাইকে সালাম দেন।

বর সালাম না দিতে চাইলে বা ভুলে গেলে অন্যরা তাকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, সালাম দাও। না দিলে খারাপ এবং বেয়াদবি মনে করা হয়। এসব কুসংস্কার ও ভুল প্রচলন। সালাম হবে সাক্ষাতের সময়। সুতরাং কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার পর কারো সঙ্গে দেখা হলে তাকে সালাম করবেন। কিন্তু অনুষ্ঠান শেষে সালামের প্রথা বর্জন করা উচিত।

১২. বক্তব্যে প্রথমেই সালাম দেওয়া: সাক্ষাতের শুরুতেই সালাম দিয়ে কথাবার্তা শুরু হবে- এটিই ইসলামের নিয়ম। কিন্তু আজকাল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়, বক্তা বিভিন্ন কথা বলার পর সালাম দেন।

যেমন তিনি বলেন, মঞ্চে উপবিষ্ট মান্যবর সভাপতি, অতিথিরা… সবাইকে আমার সালাম আসসালামু আলাইকুম। এভাবে সালাম বলা ইসলামী রীতির পরিপন্থি। শ্রোতা ও দর্শকদের মুখোমুখি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই  সালাম দেওয়া নিয়ম।-প্রিয়.কম লিখেছেন: মুফতি মুহিউদ্দীন কাসেমী, সম্পাদনা: সোহেলুর রহমান  

 

অনেকেই সালাম দেওয়ার সময় দেখি কপালে হাত ঠেকান। এটা করা কি ঠিক?

  উত্তর : সালাম দেওয়ার সময় হাত উঠানো বা কপালে ঠেকানো নিতান্তই অর্থহীন ব্যাপার। মুখে ‘আসসালামু আলাইকুম’ স্পষ্ট করে বলাই সালাম।

হাত উঠানো বা কপালে ঠেকানো দেশিয় রীতি, সুন্নত বা শরীয়তের বিধান নয়। এসব রীতি যথাসম্ভব বর্জনীয়। উত্তর দিয়েছেন : আল্লামা মুফতি উবায়দুর রহমান খান নদভী, সূত্র : জামেউল ফাতাওয়া, ইসলামী ফিক্হ ও ফাতওয়া বিশ্বকোষ। প্রশ্ন পাঠাতে নিচের ইমেইল ব্যবহার করুন। info@IslamiDawahCenter.com

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 
Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com