Surah Kahaf  সূরা কাহাফ ও সূরা কাহাফের ফজিলত

 

 

Sura-Kahaf

 

 

সূরা কাহাফ ও সূরা কাহাফের ফজিলত! সূরা কাহাফের ৪ টি ঘটনা ও তার শিক্ষা যা সকল মুসলিমের জানা উচিত।

18) সূরা কাহফ – Surah Al-Kahf (মক্কায় অবতীর্ণ – Ayah 110)

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

(1) الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ وَلَمْ يَجْعَل لَّهُ عِوَجَا সব প্রশংসা আল্লাহর যিনি নিজের বান্দার প্রতি এ গ্রন্থ নাযিল করেছেন এবং তাতে কোন বক্রতা রাখেননি। Praise be to Allah, Who hath sent to His Servant the Book, and hath allowed therein no Crookedness.

(  ٱلْحَمْدُ সকল প্রশংসা All Praise,  لِلَّهِ জন্যে আল্লাহর (is) for Allah,  ٱلَّذِىٓ যিনি the One Who, أَنزَلَ  অবতীর্ণ করেছেন (has) revealed, عَلَىٰ উপর to, عَبْدِهِ তাঁর দাসের His slave,  ٱلْكِتَٰبَ এই গ্রন্থ the Book,  وَلَمْ এবং and not,  يَجْعَل রাখেননি (has) made, لَّهُۥ জন্যে তার in it,  عِوَجَا কোনো বক্রতা any crookedness ) 

 

(2)  قَيِّمًا لِّيُنذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِن لَّدُنْهُ وَيُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ভীষণ বিপদের ভয় প্রদর্শন করে এবং মুমিনদেরকে যারা সৎকর্ম সম্পাদন করে-তাদেরকে সুসংবাদ দান করে যে, তাদের জন্যে উত্তম প্রতিদান রয়েছে। (He hath made it) Straight (and Clear) in order that He may warn (the godless) of a terrible Punishment from Him, and that He may give Glad Tidings to the Believers who work righteous deeds, that they shall have a goodly Reward.

(  قَيِّمًا দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত Straight,  لِّيُنذِرَ জন্যে সতর্ক করার to warn,  بَأْسًا শাস্তি (সম্পর্কে) (of) a punishment,  شَدِيدًا কঠিন severe,  مِّن থেকে from,  لَّدُنْهُ তাঁর পক্ষ near Him,  وَيُبَشِّرَ এবং সুসংবাদ দেয় and give glad tidings, ٱلْمُؤْمِنِينَ মু’মিনদেরকে (to) the believers,  ٱلَّذِينَ যারা those who,  يَعْمَلُونَ কাজ করে do,  ٱلصَّٰلِحَٰتِ সৎ righteous deeds,  أَنَّ যে that,  لَهُمْ জন্যে তাদের আছে for them,  أَجْرًا পুরস্কার (is) a good reward,  حَسَنًا উত্তম (is) a good reward , 

 

(3)  مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا তারা তাতে চিরকাল অবস্থান করবে। Wherein they shall remain for ever.

( مَّٰكِثِينَ তারা বসবাসকারী (হবে) (They will) abide,  فِيهِ মধ্যে তার in it,  أَبَدًا চিরকাল forever )

 

(4)  وَيُنذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا এবং তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করার জন্যে যারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে। Further, that He may warn those (also) who say, “(Allah) hath begotten a son”

(  وَيُنذِرَ এবং সতর্ক করে And to warn,  ٱلَّذِينَ (তাদেরকে) যারা those who,  قَالُوا۟ বলে say,  ٱتَّخَذَ “গ্রহণ করেছেন “Allah has taken,  ٱللَّهُ “আল্লাহ “Allah has taken, وَلَدًا সন্তান” a son” ) 

 

(5)  مَّا لَهُم بِهِ مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ إِن يَقُولُونَ إِلَّا كَذِبًا এ সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও নেই। কত কঠিন তাদের মুখের কথা। তারা যা বলে তা তো সবই মিথ্যা। No knowledge have they of such a thing, nor had their fathers. It is a grievous thing that issues from their mouths as a saying what they say is nothing but falsehood!

(  مَّا নেই Not, لَهُم কাছে তাদের they have,  بِهِۦ সম্পর্কে সে about it,  مِنْ কোনো any, عِلْمٍ জ্ঞান knowledge,  وَلَا এবং না (আছে) and not,  لِءَابَآئِهِمْ কাছে পিতৃপুরুষদের তাদের their forefathers,  كَبُرَتْ সাংঘাতিক Mighty (is), كَلِمَةً কথা the word, تَخْرُجُ তা বের হয় (that) comes out,  مِنْ থেকে of, أَفْوَٰهِهِمْ মুখগুলোর তাদের their mouths, إِن না Not,  يَقُولُونَ তারা বলে they say,  إِلَّا ছাড়া except, كَذِبًا মিথ্যা a lie

 

(6)  فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ إِن لَّمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا যদি তারা এই বিষয়বস্তুর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে, তবে তাদের পশ্চাতে সম্ভবতঃ আপনি পরিতাপ করতে করতে নিজের প্রাণ নিপাত করবেন। Thou wouldst only, perchance, fret thyself to death, following after them, in grief, if they believe not in this Message.

(  فَلَعَلَّكَ তবে তুমি সম্ভবতঃ Then perhaps you would (be),  بَٰخِعٌ বিনাশকারী হবে the one who kills, نَّفْسَكَ তোমার প্রাণ yourself,  عَلَىٰٓ থেকে থেকে over,  ءَاثَٰرِهِمْ পিছনে তাদের their footsteps,  إِن যদি if,  لَّمْ না not,  يُؤْمِنُوا۟ তারা ঈমান আনে they believe,  بِهَٰذَا উপর এই in this,  ٱلْحَدِيثِ কথার [the] narration,  أَسَفًا দুঃখে (in) grief )

 

(7)  إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا আমি পৃথিবীস্থ সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করেছি, যাতে লোকদের পরীক্ষা করি যে, তাদের মধ্যে কে ভাল কাজ করে। That which is on earth we have made but as a glittering show for the earth, in order that We may test them – as to which of them are best in conduct.

(  إِنَّا নিশ্চয়ই আমরা Indeed We,  جَعَلْنَا আমরা বানিয়েছি We have made,  مَا যা (আছে) what,  عَلَى উপর (is) on,  ٱلْأَرْضِ জমিনের the earth,  زِينَةً শোভা adornment,  لَّهَا জন্যে তার for it,  لِنَبْلُوَهُمْ যাতে পরীক্ষা করি আমরা তাদেরকে that We may test [them],  أَيُّهُمْ কে মধ্যে তাদের which of them, أَحْسَنُ উত্তম (is) best,  عَمَلًا কাজে (in) deed )

 

(8)  وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا এবং তার উপর যাকিছু রয়েছে, অবশ্যই তা আমি উদ্ভিদশূন্য মাটিতে পরিণত করে দেব। Verily what is on earth we shall make but as dust and dry soil (without growth or herbage.

(  وَإِنَّا এবং নিশ্চয়ই আমরা And indeed We,  لَجَٰعِلُونَ অবশ্যই পরিণতকারী (will) surely make,  مَا যা আছে what,  عَلَيْهَا উপর তার (is) on it,  صَعِيدًا ভূমি soil,  جُرُزًا বিরান barren ) 

 

(9)  أَمْ حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ كَانُوا مِنْ آيَاتِنَا عَجَبًا আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল ? Or dost thou reflect that the Companions of the Cave and of the Inscription were wonders among Our Sign?

(  أَمْ কি Or,  حَسِبْتَ তুমি মনে করেছো you think,  أَنَّ যে that,  أَصْحَٰبَ অধিবাসীরা (the) companions,  ٱلْكَهْفِ গুহার (of) the cave,  وَٱلرَّقِيمِ ও রাকীমের and the inscription,  كَانُوا۟ ছিলো were, مِنْ মধ্য থেকে among,  ءَايَٰتِنَا আমাদের নিদর্শনগুলোর Our Signs,عَجَبًا আশ্চর্যজনক a wonder? ) 

 

(10)  إِذْ أَوَى الْفِتْيَةُ إِلَى الْكَهْفِ فَقَالُوا رَبَّنَا آتِنَا مِن لَّدُنكَ رَحْمَةً وَهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দোআ করেঃ হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন। Behold, the youths betook themselves to the Cave: they said, “Our Lord! bestow on us Mercy from Thyself, and dispose of our affair for us in the right way!”

(  إِذْ যখন When,  أَوَى আশ্রয় নিয়েছিলো retreated,  ٱلْفِتْيَةُ যুবকরা the youths,  إِلَى মধ্যে to,  ٱلْكَهْفِ  গুহার the cave,  فَقَالُوا۟ তখন তারা বলেছিলো and they said,  رَبَّنَآ “হে আমাদের রব “Our Lord!,  ءَاتِنَا আমাদের দাও Grant us,  مِن থেকে from,  لَّدُنكَ তোমার পক্ষ Yourself,  رَحْمَةً অনুগ্রহ Mercy,  وَهَيِّئْ এবং ব্যবস্হা করে দাও and facilitate,  لَنَا জন্যে আমাদের for us,  مِنْ থেকে [from],  أَمْرِنَا আমাদের কাজ our affair,  رَشَدًا সুষ্ঠ ভাবে” (in the) right way” ) 

 

(11)  فَضَرَبْنَا عَلَى آذَانِهِمْ فِي الْكَهْفِ سِنِينَ عَدَدًا তখন আমি কয়েক বছরের জন্যে গুহায় তাদের কানের উপর নিদ্রার পর্দা ফেলে দেই। Then We draw (a veil) over their ears, for a number of years, in the Cave, (so that they heard not.

(  فَضَرَبْنَا অতঃপর আমরা (ঘুমের পর্দা) দিলাম So We cast,  عَلَىٰٓ উপর over,  ءَاذَانِهِمْ কানগুলোর তাদের their ears,  فِى মধ্যে in,  ٱلْكَهْفِ গুহার the cave,  سِنِينَ বছর years -,  عَدَدًا কয়েক a number ) 

 

(12)  ثُمَّ بَعَثْنَاهُمْ لِنَعْلَمَ أَيُّ الْحِزْبَيْنِ أَحْصَى لِمَا لَبِثُوا أَمَدًا অতঃপর আমি তাদেরকে পুনরত্থিত করি, একথা জানার জন্যে যে, দুই দলের মধ্যে কোন দল তাদের অবস্থানকাল সম্পর্কে অধিক নির্ণয় করতে পারে। Then We roused them, in order to test which of the two parties was best at calculating the term of years they had tarried!.

(  ثُمَّ এরপর Then,  بَعَثْنَٰهُمْ আমরা জাগালাম তাদের We raised them up,  لِنَعْلَمَ যেন আমরা জানি that We make evident,  أَىُّ কোনটি which,  ٱلْحِزْبَيْنِ দু’দলের (of) the two parties,  أَحْصَىٰ হিসাব করেছিলো (সঠিক) best calculated, لِمَا জন্যে যা for what,  لَبِثُوٓا۟ তারা অবস্থান করেছিলো (they had) remained,  أَمَدًا সময়কাল (in) time )

 

(13)  نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُم بِالْحَقِّ إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ وَزِدْنَاهُمْ هُدًى আপনার কাছে তাদের ইতিবৃত্তান্ত সঠিকভাবে বর্ণনা করছি। তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছিলাম। We relate to thee their story in truth: they were youths who believed in their Lord, and We advanced them in guidance.

(  نَّحْنُ আমরা We,  نَقُصُّ বর্ণনা করছি narrate,  عَلَيْكَ কাছে তোমার to you,  نَبَأَهُم খবর তাদের their story,  بِٱلْحَقِّ  ভাবে সঠিক in truth, إِنَّهُمْ নিশ্চয়ই তারা Indeed they (were),  فِتْيَةٌ যুবক (ছিলো) youths,  ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছিলো who believed,  بِرَبِّهِمْ উপর রবের তাদের  in their Lord,  وَزِدْنَٰهُمْ এবং আমরা বাড়িয়ে দিয়েছিলাম তাদের and We increased them,  هُدًى পথের দিশা (in) guidance ) 

 

(14)  وَرَبَطْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَن نَّدْعُوَ مِن دُونِهِ إِلَهًا لَقَدْ قُلْنَا إِذًا شَطَطًا আমি তাদের মন দৃঢ় করেছিলাম, যখন তারা উঠে দাঁড়িয়েছিল। অতঃপর তারা বললঃ আমাদের পালনকর্তা আসমান ও যমীনের পালনকর্তা আমরা কখনও তার পরিবর্তে অন্য কোন উপাস্যকে আহবান করব না। যদি করি, তবে তা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হবে। We gave strength to their hearts: Behold, they stood up and said: “Our Lord is the Lord of the heavens and of the earth: never shall we call upon any god other than Him: if we did, we should indeed have uttered an enormity!.

(  وَرَبَطْنَا এবং আমরা দৃঢ় করেছিলাম And We made firm,  عَلَىٰ উপর [on], قُلُوبِهِمْ  অন্তরগুলো তাদের their hearts, إِذْ যখন when,  قَامُوا۟ তারা দাঁড়িয়েছিলো they stood up, فَقَالُوا۟ তখন তারা বলেছিলো and said,  رَبُّنَا “আমাদের রব “Our Lord,  رَبُّ রব (is) the Lord,  ٱلسَّمَٰوَٰتِ আকাশসমূহের (of) the heavens,  وَٱلْأَرْضِ এবং পৃথিবীর and the earth,  لَن কখনও না Never, نَّدْعُوَا۟  আমরা ডাকবো we will invoke,  مِن ছাড়া besides Him,  دُونِهِۦٓ তাকে besides Him,  إِلَٰهًا (অন্য) ইলাহকে any god,  لَّقَدْ নিশ্চয়ই (যদি করি) Certainly,  قُلْنَآ আমরা বলবো we would have said, إِذًا তাহ’লে  then,  شَطَطًا গর্হিত (কথা) an enormity ) 

 

(15)  هَؤُلَاء قَوْمُنَا اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ آلِهَةً لَّوْلَا يَأْتُونَ عَلَيْهِم بِسُلْطَانٍ بَيِّنٍ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللَّهِ كَذِبًا এরা আমাদেরই স্ব-জাতি, এরা তাঁর পরিবর্তে অনেক উপাস্য গ্রহণ করেছে। তারা এদের সম্পর্কে প্রকাশ্য প্রমাণ উপস্থিত করে না কেন? যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা উদ্ভাবন করে, তার চাইতে অধিক গোনাহগার আর কে? These our people have taken for worship gods other than Him: why do they not bring forward an authority clear (and convincing) for what they do? Who doth more wrong than such as invent a falsehood against Allah.

(  هَٰٓؤُلَآءِ এসব These,  قَوْمُنَا আমার স্বজাতির লোক our people, ٱتَّخَذُوا۟ গ্রহণ করেছে have taken,  مِن ছাড়া besides Him,  دُونِهِۦٓ তাঁকে besides Him,  ءَالِهَةً বহু উপাস্য gods,  لَّوْلَا কেন না Why not, يَأْتُونَ তারা আসে they come,  عَلَيْهِم কাছে তাদের to them, بِسُلْطَٰنٍۭ নিয়ে প্রমাণ with an authority,  بَيِّنٍ সুস্পষ্ট clear?, فَمَنْ অতঃপর কে And who, أَظْلَمُ অধিক সীমালঙ্ঘনকারী (is) more wrong,  مِمَّنِ তার চেয়ে যে than (one) who,  ٱفْتَرَىٰ আরোপ করে invents,  عَلَى উপর against,  ٱللّهِ আল্লাহ্‌র Allah,  كَذِبًا মিথ্যা a lie? ) 

 

(16)  وَإِذِ اعْتَزَلْتُمُوهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ إِلَّا اللَّهَ فَأْوُوا إِلَى الْكَهْفِ يَنشُرْ لَكُمْ رَبُّكُم مِّن رَّحمته ويُهَيِّئْ لَكُم مِّنْ أَمْرِكُم مِّرْفَقًا তোমরা যখন তাদের থেকে পৃথক হলে এবং তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের এবাদত করে তাদের থেকে, তখন তোমরা গুহায় আশ্রয়গ্রহণ কর। তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের জন্যে দয়া বিস্তার করবেন এবং তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের কাজ কর্মকে ফলপ্রসু করার ব্যবস্থা করবেন। When ye turn away from them and the things they worship other than Allah, betake yourselves to the Cave: Your Lord will shower His mercies on you and disposes of your affair towards comfort and ease.”

(  وَإِذِ এবং যখন And when,  ٱعْتَزَلْتُمُوهُمْ তোমরা বিচ্ছিন্ন হয়েছো তাদের (থেকে) you withdraw from them, وَمَا এবং যাদের and what, يَعْبُدُونَ তারা উপাসনা করে they worship, إِلَّا ছাড়া except,  ٱللَّهَ আল্লাহ্‌র Allah, فَأْوُۥٓا۟ তাহ’লে আশ্রয় নাও then retreat, إِلَى মধ্যে to,  ٱلْكَهْفِ গুহার the cave,  يَنشُرْ প্রশস্ত করবেন Will spread,  لَكُمْ জন্যে তোমাদের for you,  رَبُّكُم রব তোমাদের your Lord,  مِّن  সাহায্যে of رَّحْمَتِهِۦ তাঁর অনুগ্রহের His Mercy, وَيُهَيِّئْ এবং তৈরি করে দিবেন and will facilitate,  لَكُم জন্যে তোমাদের for you,  مِّنْ থেকে [from], أَمْرِكُم কাজ তোমাদের your affair, مِّرْفَقًا ফলপ্রসূ” (in) ease” 

 

(17) وَتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَت تَّزَاوَرُ عَن كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَإِذَا غَرَبَت تَّقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ وَهُمْ فِي فَجْوَةٍ مِّنْهُ ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ مَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي وَمَن يُضْلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُّرْشِدًا তুমি সূর্যকে দেখবে, যখন উদিত হয়, তাদের গুহা থেকে পাশ কেটে ডান দিকে চলে যায় এবং যখন অস্ত যায়, তাদের থেকে পাশ কেটে বামদিকে চলে যায়, অথচ তারা গুহার প্রশস্ত চত্বরে অবস্থিত। এটা আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম। আল্লাহ যাকে সৎপথে চালান, সেই সৎপথ প্রাপ্ত এবং তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি কখনও তার জন্যে পথপ্রদর্শনকারী ও সাহায্যকারী পাবেন না। Thou wouldst have seen the sun, when it rose, declining to the right from their Cave, and when it set, turning away from them to the left, while they lay in the open space in the midst of the Cave. Such are among the Signs of Allah. He whom Allah, guides is rightly guided; but he whom Allah leaves to stray,- for him wilt thou find no protector to lead him to the Right Way.

(  وَتَرَى এবং তুমি দেখবে And you (might) have seen,  ٱلشَّمْسَ সূর্যকে the sun, إِذَا যখন when, طَلَعَت উদয় হয় it rose, تَّزَٰوَرُ সরে যায় inclining away, عَن থেকে from, كَهْفِهِمْ গুহা তাদের their cave, ذَاتَ পাশ দিয়ে to, ٱلْيَمِينِ ডান the right, وَإِذَا এবং যখন and when, غَرَبَت অস্ত যায় it set, تَّقْرِضُهُمْ তা অতিক্রম করে তাদেরকে passing away from them, ذَاتَ পাশ দিয়ে to, ٱلشِّمَالِ বাম the left, وَهُمْ অথচ তারা while they, فِى মধ্যে (lay) in, فَجْوَةٍ প্রশস্ত চত্বরের the open space, مِّنْهُ থেকে তা thereof, ذَٰلِكَ এটা That, مِنْ মধ্য থেকে (was) from, ءَايَٰتِ নিদর্শনাদির (the) Signs, ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah, مَن যাকে Whoever, يَهْدِ পথ দেখান Allah guides, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah guides, فَهُوَ অতঃপর সেই and he, ٱلْمُهْتَدِ সঠিক পথপ্রাপ্ত (is) the guided one, وَمَن এবং যাকে and whoever, يُضْلِلْ পথভ্রষ্ট করেন He lets go astray,  فَلَن তখন কখনও না then never,  تَجِدَ তুমি পাবে  you will find, لَهُۥ জন্যে তার for him, وَلِيًّا কোনো অভিভাবক a protector,  مُّرْشِدًا কোনো পথ প্রদর্শক a guide ) 

 

(18)  وَتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ وَنُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ وَكَلْبُهُم بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ بِالْوَصِيدِ لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا وَلَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংক গ্রস্ত হয়ে পড়তে। Thou wouldst have deemed them awake, whilst they were asleep, and We turned them on their right and on their left sides: their dog stretching forth his two fore-legs on the threshold: if thou hadst come up on to them, thou wouldst have certainly turned back from them in flight, and wouldst certainly have been filled with terror of them.

(  وَتَحْسَبُهُمْ এবং তুমি মনে করবে তাদের And you (would) think them,  أَيْقَاظًا জাগ্রত awake,  وَهُمْ অথচ তারা (ছিলো) while they,  رُقُودٌ ঘুমন্ত (were) asleep,  وَنُقَلِّبُهُمْ এবং পাশ ফেরাতাম আমরা তাদের And We turned them,  ذَاتَ পাশে to,  ٱلْيَمِينِ ডান the right,  وَذَاتَ ও পাশে and to, ٱلشِّمَالِ বাম the left,  وَكَلْبُهُم এবং (ছিলো) তাদের কুকুর while their dog,  بَٰسِطٌ প্রসারিতকারী stretched, ذِرَاعَيْهِ তার সামনের দু’পা his two forelegs,  بِٱلْوَصِيدِ মধ্যে গর্তের মুখের at the entrance,  لَوِ যদি If,  ٱطَّلَعْتَ উঁকি মেরে দেখতে you had looked,  عَلَيْهِمْ দিকে তাদের at them, لَوَلَّيْتَ অবশ্যই তুমি পিঠ ফিরাতে you (would) have surely turned back,  مِنْهُمْ থেকে তাদের from them,  فِرَارًا পালিয়ে (in) flight,  وَلَمُلِئْتَ এবং অবশ্যই সঞ্চার হতো and surely you would have been filled,  مِنْهُمْ থেকে তাদের by them, رُعْبًا ভয় (with) terror ) 

 

(19)  وَكَذَلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءلُوا بَيْنَهُمْ قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ فَابْعَثُوا أَحَدَكُم بِوَرِقِكُمْ هَذِهِ إِلَى الْمَدِينَةِ فَلْيَنظُرْ أَيُّهَا أَزْكَى طَعَامًا فَلْيَأْتِكُم بِرِزْقٍ مِّنْهُ وَلْيَتَلَطَّفْ وَلَا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا আমি এমনি ভাবে তাদেরকে জাগ্রত করলাম, যাতে তারা পরস্পর জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাদের একজন বললঃ তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ? তাদের কেউ বললঃ একদিন অথবা একদিনের কিছু অংশ অবস্থান করছি। কেউ কেউ বললঃ তোমাদের পালনকর্তাই ভাল জানেন তোমরা কতকাল অবস্থান করেছ। এখন তোমাদের একজনকে তোমাদের এই মুদ্রাসহ শহরে প্রেরণ কর; সে যেন দেখে কোন খাদ্য পবিত্র। অতঃপর তা থেকে যেন কিছু খাদ্য নিয়ে আসে তোমাদের জন্য; সে যেন নম্রতা সহকারে যায় ও কিছুতেই যেন তোমাদের খবর কাউকে না জানায়। Such (being their state), we raised them up (from sleep), that they might question each other. Said one of them, “How long have ye stayed (here)?” They said, “We have stayed (perhaps) a day, or part of a day.” (At length) they (all) said, “(Allah) (alone) knows best how long ye have stayed here…. Now send ye then one of you with this money of yours to the town: let him find out which is the best food (to be had) and bring some to you, that (ye may) satisfy your hunger therewith: And let him behave with care and courtesy, and let him not inform any one about you.

(  وَكَذَٰلِكَ এবং এভাবেই And similarly,  بَعَثْنَٰهُمْ আমরা উঠালাম তাদের We raised them,  لِيَتَسَآءَلُوا۟ যেন তারা পরস্পরে জিজ্ঞেস করে that they might question,  بَيْنَهُمْ মাঝে তাদের among them,  قَالَ বললো Said, قَآئِلٌ একজন কথক a speaker,  مِّنْهُمْ মধ্য থেকে তাদের among them,  كَمْ “কত (দিন)”How long,  لَبِثْتُمْ অবস্থান করেছিলে তোমরা” have you remained?”,  قَالُوا۟ তারা বলেছিলো They said,  لَبِثْنَا “অবস্থান করেছিলাম আমরা “We have remained, يَوْمًا  একদিন a day, أَوْ বা or, بَعْضَ কিছু অংশ a part, يَوْمٍ একদিনের” (of) a day”,  قَالُوا۟ তারা বলেছিলো They said, رَبُّكُمْ “রব তোমাদের “Your Lord,  أَعْلَمُ খুব জানেন knows best,  بِمَا এ সম্বন্ধে যা how long, لَبِثْتُمْ  অবস্থান করেছো তোমরা you have remained, فَٱبْعَثُوٓا۟ তোমরা এখন পাঠাও So send,  أَحَدَكُم তোমাদের একজনকে one of you, بِوَرِقِكُمْ দিয়ে তোমাদের মুদ্রা with this silver coin of yours,  هَٰذِهِۦٓ এই with this silver coin of yours,  إِلَى দিকে to,  ٱلْمَدِينَةِ শহরটির the city,  فَلْيَنظُرْ তবে সে যেন দেখে and let him see,  أَيُّهَآ কোনটি which is,  أَزْكَىٰ পবিত্রতম the purest,  طَعَامًا খাদ্য food,  فَلْيَأْتِكُم অতঃপর তোমাদের কাছে আসবে and let him bring to you, بِرِزْقٍ নিয়ে খাদ্য provision,  مِّنْهُ তা থেকে from it,  وَلْيَتَلَطَّفْ এবং সে যেন সতর্ক হয় and let him be cautious,  وَلَا এবং না And let not be aware,  يُشْعِرَنَّ টের পেতে দেয় And let not be aware,  بِكُمْ সম্বন্ধে তোমাদের about you,  أَحَدًا  কাউকে” anyone” ) 

 

(20)  إِنَّهُمْ إِن يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ وَلَن تُفْلِحُوا إِذًا أَبَدًا তারা যদি তোমাদের খবর জানতে পারে, তবে পাথর মেরে তোমাদেরকে হত্যা করবে, অথবা তোমাদেরকে তাদের ধর্মে ফিরিয়ে নেবে। তাহলে তোমরা কখনই সাফল্য লাভ করবে না। “For if they should come upon you, they would stone you or force you to return to their cult, and in that case ye would never attain prosperity.

(  إِنَّهُمْ “নিশ্চয়ই তারা “Indeed [they],  إِن যদি if,  يَظْهَرُوا۟ তারা টের পায় they come to know,  عَلَيْكُمْ সম্পর্কে তোমাদের about you, يَرْجُمُوكُمْ পাথর মেরে হত্যা করবে তোমাদের they will stone you, أَوْ অথবা or, يُعِيدُوكُمْ ফিরিয়ে আনবে তোমাদের return you,  فِى মধ্যে to, مِلَّتِهِمْ ধর্মের তাদের their religion, وَلَن এবং কখনও না And never, تُفْلِحُوٓا۟ তোমরা সফল হবে will you succeed, إِذًا তাহ’লে then -, أَبَدًا কখনও” ever” ) 

 

(21)  وَكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِم بُنْيَانًا رَّبُّهُمْ أَعْلَمُ بِهِمْ قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِم مَّسْجِدًا এমনিভাবে আমি তাদের খবর প্রকাশ করে দিলাম, যাতে তারা জ্ঞাত হয় যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কেয়ামতে কোন সন্দেহ নেই। যখন তারা নিজেদের কর্তব্য বিষয়ে পরস্পর বিতর্ক করছিল, তখন তারা বললঃ তাদের উপর সৌধ নির্মাণ কর। তাদের পালনকর্তা তাদের বিষয়ে ভাল জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হল, তারা বললঃ আমরা অবশ্যই তাদের স্থানে মসজিদ নির্মান করব। Thus did We make their case known to the people, that they might know that the promise of Allah is true, and that there can be no doubt about the Hour of Judgment. Behold, they dispute among themselves as to their affair. (Some) said, “Construct a building over them”: Their Lord knows best about them: those who prevailed over their affair said, “Let us surely build a place of worship over them.

( وَكَذَٰلِكَ এবং এভাবে And similarly, أَعْثَرْنَا আমরা জানিয়ে দিলাম We made known, عَلَيْهِمْ সম্পর্কে তাদের about them, لِيَعْلَمُوٓا۟ যেন তারা জানে that they might know,  أَنَّ যে that,  وَعْدَ প্রতিশ্রুতি (the) Promise,  ٱللَّهِ আল্লাহ্‌র (of) Allah,  حَقٌّ সত্য (is) true,  وَأَنَّ এবং (এও) যে and that, ٱلسَّاعَةَ ক্বিয়ামাত আসবেই (about) the Hour, لَا নেই (there is) no,  رَيْبَ কোনো সন্দেহ doubt, فِيهَآ মধ্যে তার in it, إِذْ যখন When, يَتَنَٰزَعُونَ তারা পরস্পরে বিতর্ক করছিলো they disputed,  بَيْنَهُمْ মাঝে তাদের among themselves, أَمْرَهُمْ কাজে তাদের about their affair, فَقَالُوا۟ তখন তারা বলেছিলো and they said, ٱبْنُوا۟ “তোমরা নির্মাণ করো “Construct, عَلَيْهِم উপর তাদের over them, بُنْيَٰنًا সৌধ a structure, رَّبُّهُمْ রব তাদের Their Lord,  أَعْلَمُ ভালো জানেন knows best, بِهِمْ সম্বন্ধে তাদের” about them”, قَالَ বললো Said, ٱلَّذِينَ যারা those who, غَلَبُوا۟ প্রবল হয়েছিলো prevailed, عَلَىٰٓ উপর in, أَمْرِهِمْ তাদের মতের their matter, لَنَتَّخِذَنَّ “অবশ্যই আমরা নির্মাণ করবো “Surely we will take,  عَلَيْهِم উপর তাদের over them,  مَّسْجِدًا মাসজিদ” a place of worship” ) 

 

(22)  سَيَقُولُونَ ثَلَاثَةٌ رَّابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ وَيَقُولُونَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًا بِالْغَيْبِ وَيَقُولُونَ سَبْعَةٌ وَثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ قُل رَّبِّي أَعْلَمُ بِعِدَّتِهِم مَّا يَعْلَمُهُمْ إِلَّا قَلِيلٌ فَلَا تُمَارِ فِيهِمْ إِلَّا مِرَاء ظَاهِرًا وَلَا تَسْتَفْتِ فِيهِم مِّنْهُمْ أَحَدًا অজ্ঞাত বিষয়ে অনুমানের উপর ভিত্তি করে এখন তারা বলবেঃ তারা ছিল তিন জন; তাদের চতুর্থটি তাদের কুকুর। একথাও বলবে; তারা পাঁচ জন। তাদের ছষ্ঠটি ছিল তাদের কুকুর। আরও বলবেঃ তারা ছিল সাত জন। তাদের অষ্টমটি ছিল তাদের কুকুর। বলুনঃ আমার পালনকর্তা তাদের সংখ্যা ভাল জানেন। তাদের খবর অল্প লোকই জানে। সাধারণ আলোচনা ছাড়া আপনি তাদের সম্পর্কে বিতর্ক করবেন না এবং তাদের অবস্থা সম্পর্কে তাদের কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ ও করবেন না। Some) say they were three, the dog being the fourth among them; others) say they were five, the dog being the sixth,- doubtfully guessing at the unknown; (yet others) say they were seven, the dog being the eighth. Say thou: “My Lord knoweth best their number; It is but few that know their (real case).” Enter not, therefore, into controversies concerning them, except on a matter that is clear, nor consult any of them about (the affair of) the Sleepers.

(  سَيَقُولُونَ তারা শীঘ্রই বলবে They say,  ثَلَٰثَةٌ তিন (তাদের সংখ্যা) (they were) three, رَّابِعُهُمْ চতুর্থটি (ছিলো) তাদের the forth of them, كَلْبُهُمْ কুকুর তাদের their dog;, وَيَقُولُونَ এবং (কিছু লোক) বলবে and they say, خَمْسَةٌ পাঁচ (জন) (they were) five, سَادِسُهُمْ ষষ্ঠটি তাদের the sixth of them, كَلْبُهُمْ কুকুর তাদের their dog -, رَجْمًۢا আনুমানিক (কথা) guessing,  بِٱلْغَيْبِ বিষয়ে অজানা about the unseen;,  وَيَقُولُونَ এবং (কিছু লোক) বলবে and they say,  سَبْعَةٌ সাত (তাদের সংখ্যা) (they were) seven,  وَثَامِنُهُمْ এবং অষ্টমটি তাদের and the eight of them,  كَلْبُهُمْ কুকুর তাদের their dog,  قُل বলো Say, رَّبِّىٓ “আমার রব “My Lord,  أَعْلَمُ ভালো জানেন knows best,  بِعِدَّتِهِم সম্পর্কে তাদের সংখ্যা their number, مَّا না None, يَعْلَمُهُمْ জানে তাদের knows them, إِلَّا ছাড়া except, قَلِيلٌ অল্প (লোক) a few, فَلَا  অতএব So (do) not, تُمَارِ বিতর্ক করো না argue, فِيهِمْ বিষয়ে তাদের about them, إِلَّا ছাড়া except, مِرَآءً আলোচনা (with) an argument,  ظَٰهِرًا মামুলি obvious,  وَلَا এবং না and (do) not, تَسْتَفْتِ জিজ্ঞেস করবে তুমি inquire,  فِيهِم বিষয়ে তাদের about them,  مِّنْهُمْ মধ্য থেকে তাদের among them, أَحَدًا কাউকে” (from) anyone” ) 

 

(23)  وَلَا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَلِكَ غَدًا আপনি কোন কাজের বিষয়ে বলবেন না যে, সেটি আমি আগামী কাল করব। Nor say of anything, “I shall be sure to do so and so tomorrow”.

(  وَلَا এবং না And (do) not,  تَقُولَنَّ বলবে কখনও say,  لِشَا۟ىْءٍ কোনো কিছুকে of anything,  إِنِّى “নিশ্চয়ই আমি “Indeed I,  فَاعِلٌ সম্পাদনকারী will do,  ذَٰلِكَ এটা that,  غَدًا আগামীকাল” tomorrow” ) 

 

(24)  إِلَّا أَن يَشَاء اللَّهُ وَاذْكُر رَّبَّكَ إِذَا نَسِيتَ وَقُلْ عَسَى أَن يَهْدِيَنِ رَبِّي لِأَقْرَبَ مِنْ هَذَا رَشَدًا‘ আল্লাহ ইচ্ছা করলে’ বলা ব্যতিরেকে। যখন ভুলে যান, তখন আপনার পালনকর্তাকে স্মরণ করুন এবং বলুনঃ আশা করি আমার পালনকর্তা আমাকে এর চাইতেও নিকটতম সত্যের পথ নির্দেশ করবেন। Without adding, “So please Allah.” and call thy Lord to mind when thou forgettest, and say, “I hope that my Lord will guide me ever closer (even) than this to the right road.”

(  إِلَّآ ছাড়া Except,  أَن “যে “If,  يَشَآءَ  ইচ্ছে করেন”  Allah wills”,  ٱللَّهُ আল্লাহ্‌” Allah wills”,  وَٱذْكُر এবং স্মরণ করো And remember,  رَّبَّكَ তোমার রবকে your Lord,  إِذَا যদি when,  نَسِيتَ তুমি ভুলে যাও you forget,  وَقُلْ এবং বলো and say,  عَسَىٰٓ “সম্ভবতঃ “Perhaps,  أَن যে [that],  يَهْدِيَنِ আমাকে পথ দেখাবেন will guide me,  رَبِّى আমার রব my Lord,  لِأَقْرَبَ নিকটবর্তী (কথা) to a nearer (way),  مِنْ চেয়ে than,  هَٰذَا এটার this,  رَشَدًا সত্যের” right way” ) 

 

(25)  وَلَبِثُوا فِي كَهْفِهِمْ ثَلَاثَ مِائَةٍ سِنِينَ وَازْدَادُوا تِسْعًا তাদের উপর তাদের গুহায় তিনশ বছর, অতিরিক্ত আরও নয় বছর অতিবাহিত হয়েছে। So they stayed in their Cave three hundred years, and (some) add nine (more.

(  وَلَبِثُوا۟ এবং তারা অবস্থান করেছিলো And they remained,  فِى মধ্যে in,  كَهْفِهِمْ গুহার তাদের their cave,  ثَلَٰثَ তিন (for) three,  مِا۟ئَةٍ শত hundred,  سِنِينَ বছর years,  وَٱزْدَادُوا۟ এবং তারা বৃদ্ধি করেছিলো and add,  تِسْعًا (আরও) নয় nine ) 

 

(26)  قُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوا لَهُ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَبْصِرْ بِهِ وَأَسْمِعْ مَا لَهُم مِّن دُونِهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا বলুনঃ তারা কতকাল অবস্থান করেছে, তা আল্লাহই ভাল জানেন। নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান তাঁরই কাছে রয়েছে। তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন। তিনি ব্যতীত তাদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই। তিনি কাউকে নিজ কর্তৃত্বে শরীক করেন না। Say: “(Allah) knows best how long they stayed: with Him is (the knowledge of) the secrets of the heavens and the earth: how clearly He sees, how finely He hears (everything)! They have no protector other than Him; nor does He share His Command with any person whatsoever.

(  قُلِ বলো Say,  ٱللَّهُ “আল্লাহ্‌ই  “Allah,  أَعْلَمُ ভালো জানেন knows best,  بِمَا সম্পর্কে যা about what (period),  لَبِثُوا۟ তারা অবস্থান করেছিলো they remained,  لَهُۥ আছে তাঁরই For Him,  غَيْبُ অদৃশ্যের জ্ঞান (is the) unseen,  ٱلسَّمَٰوَٰتِ আকাশসমূহের (of) the heavens,  وَٱلْأَرْضِ এবং পৃথিবীর and the earth, أَبْصِرْ কত সুন্দরভাবে দেখেন How clearly He sees!,  بِهِۦ সম্পর্কে তা [of it],  وَأَسْمِعْ এবং কত সুন্দর শুনেন And how clearly He hears!,  مَا নেই Not,  لَهُم জন্যে তাদের for them,  مِّن ছাড়া besides Him,  دُونِهِۦ তিনি besides Him,  مِن কোনো any,  وَلِىٍّ (অন্য) অভিভাবক protector,  وَلَا এবং না and not,  يُشْرِكُ তিনি শরিক করেন He shares,  فِى ব্যাপারে [in],  حُكْمِهِۦٓ তাঁর কর্তৃত্বের His Commands,  أَحَدًا (অন্য) কাউকে” (with) anyone”, ) 

 

 (27)  وَاتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِن كِتَابِ رَبِّكَ لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ وَلَن تَجِدَ مِن دُونِهِ مُلْتَحَدًا আপনার প্রতি আপনার পালনকর্তার যে, কিতাব প্রত্যাদিষ্ট করা হয়েছে, তা পাঠ করুন। তাঁর বাক্য পরিবর্তন করার কেউ নাই। তাঁকে ব্যতীত আপনি কখনই কোন আশ্রয় স্থল পাবেন না। And recite (and teach) what has been revealed to thee of the Book of thy Lord: none can change His Words, and none wilt thou find as a refuge other than Him.

(  وَٱتْلُ এবং আবৃত্তি করো And recite,  مَآ যা what,  أُوحِىَ ওহী করা হয়েছে has been revealed,  إِلَيْكَ প্রতি তোমার to you,  مِن থেকে of,  كِتَابِ কিতাব the Book,  رَبِّكَ তোমার রবের (of) your Lord,  لَا নেই None,  مُبَدِّلَ পরিবর্তনকারী can change,  لِكَلِمَٰتِهِۦ তাঁর কথাগুলোর His Words,  وَلَن এবং কখনও না and never,  تَجِدَ তুমি পাবে you will find,  مِن ছাড়া besides Him,  دُونِهِۦ তিনি besides Him,  مُلْتَحَدًا আশ্রয়স্থান a refuge 

 

(28)  وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا আপনি নিজেকে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখুন যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে এবং আপনি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবেন না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না। And keep thy soul content with those who call on their Lord morning and evening, seeking His Face; and let not thine eyes pass beyond them, seeking the pomp and glitter of this Life; no obey any whose heart We have permitted to neglect the remembrance of Us, one who follows his own desires, whose case has gone beyond all bounds.

(  وَٱصْبِرْ এবং স্থিতিশীল রাখবে And be patient, نَفْسَكَ তোমার নিজেকে yourself, مَعَ সাথে with, ٱلَّذِينَ (তাদের) যারা those who,  يَدْعُونَ ডাকে call, رَبَّهُم রবকে তাদের their Lord,  بِٱلْغَدَوٰةِ বেলায় সকাল in the morning, وَٱلْعَشِىِّ ও সন্ধ্যায় and the evening,  يُرِيدُونَ তারা চায় desiring,  وَجْهَهُۥ তাঁর সন্তুষ্টি His Face,  وَلَا এবং না And (let) not,  تَعْدُ ফিরিয়ে নিও pass beyond,  عَيْنَاكَ তোমার দু’চোখ your eyes,  عَنْهُمْ থেকে তাদের over them,  تُرِيدُ তুমি চাও desiring, زِينَةَ শোভা adornment,  ٱلْحَيَوٰةِ  জীবনের (of) the life,  ٱلدُّنْيَا পার্থিব (of) the world, وَلا এবং না and (do) not,  تُطِعْ আনুগত্য করো obey, مَنْ (তার) যার whom,  أَغْفَلْنَا আমরা অমনোযোগী করে দিয়েছি We Have Made Heedless,  قَلْبَهُۥ অন্তরকে তার his heart,  عَن থেকে of, ذِكْرِنَا আমাদের স্মরণ Our rememberance,  وَٱتَّبَعَ এবং অনুসরণ করে and follows,  هَوَىٰهُ তাদের খেয়াল-খুশির his desires,  وَكَانَ এবং হয়েছে and is,  أَمْرُهُۥ তার কাজ his affair,  فُرُطًا সীমালঙ্ঘনমূলক (in) excess )

 

(29)  وَقُلِ الْحَقُّ مِن رَّبِّكُمْ فَمَن شَاء فَلْيُؤْمِن وَمَن شَاء فَلْيَكْفُرْ إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بِهِمْ سُرَادِقُهَا وَإِن يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاء كَالْمُهْلِ يَشْوِي الْوُجُوهَ بِئْسَ الشَّرَابُ وَسَاءتْ مُرْتَفَقًا বলুনঃ সত্য তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে আগত। অতএব, যার ইচ্ছা, বিশ্বাস স্থাপন করুক এবং যার ইচ্ছা অমান্য করুক। আমি জালেমদের জন্যে অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি, যার বেষ্টনী তাদের কে পরিবেষ্টন করে থাকবে। যদি তারা পানীয় প্রার্থনা করে, তবে পুঁজের ন্যায় পানীয় দেয়া হবে যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে। কত নিকৃষ্ট পানীয় এবং খুবই মন্দ আশ্রয়। Say, “The truth is from your Lord”: Let him who will believe, and let him who will, reject (it): for the wrong-doers We have prepared a Fire whose (smoke and flames), like the walls and roof of a tent, will hem them in: if they implore relief they will be granted water like melted brass, that will scald their faces, how dreadful the drink! How uncomfortable a couch to recline on!

(  وَقُلِ এবং বলো And say,  ٱلْحَقُّ “(এসেছে) সত্য “The truth,  مِن পক্ষ হ’তে (is) from,  رَّبِّكُمْ  রবের তোমার  your Lord,  فَمَن অতএব যে so whoever,  شَآءَ ইচ্ছে করে wills -,  فَلْيُؤْمِن  অতঃপর ঈমান আনুক let him believe,  وَمَن এবং যে and whoever,  شَآءَ ইচ্ছে করে wills – فَلْيَكْفُرْ অতঃপর অস্বীকার করুক” let him disbelieve”,  إِنَّآ নিশ্চয়ই আমরা Indeed We,  أَعْتَدْنَا আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি have prepared, لِلظَّٰلِمِينَ জন্যে সীমালঙ্ঘনকারীদের for the wrongdoers,  نَارًا জাহান্নামের আগুন a Fire,  أَحَاطَ পরিবেষ্টন করেছে will surround,  بِهِمْ সহ তাদেরকে them,  سُرَادِقُهَاতার শিখা its walls,  وَإِن এবং যদি And if,  يَسْتَغِيثُوا۟ তারা পান করতে চায় they call for relief, يُغَاثُوا۟ তাদের পানি দেয়া হবে they will be relieved,  بِمَآءٍ এমন পানি with water,  كَٱلْمُهْلِ মতো তেলের গাদের like molten brass,  يَشْوِى ঝলসে দিবে (which) scalds,  ٱلْوُجُوهَ মুখসমূহকে the faces,  بِئْسَ কত নিকৃষ্ট Wretched,  ٱلشَّرَابُ পানীয় (is) the drink, وَسَآءَتْ এবং অতিশয় খারাপ and evil,  مُرْتَفَقًا আশ্রয়স্থল (is) the resting place) 

 

(30)  إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম সম্পাদন করে আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কার নষ্ট করি না। As to those who believe and work righteousness, verily We shall not suffer to perish the reward of any who do a (single) righteous deed.

( إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed,  ٱلَّذِينَ যারা those who,  ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believed,  وَعَمِلُوا۟ এবং কাজ করেছে and did,  ٱلصَّٰلِحَٰتِ সৎ the good deeds,  إِنَّا নিশ্চয়ই আমরা indeed, We,  لَا না will not let go waste,  نُضِيعُ আমরা বিনষ্ট করি will not let go waste,  أَجْرَ পুরস্কার (the) reward,  مَنْ যে (of one) who,  أَحْسَنَ ভালো করে does good,  عَمَلًا কাজ deeds) 

 

(31)  أُوْلَئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِن ذَهَبٍ وَيَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِّن سُندُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ مُّتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الْأَرَائِكِ نِعْمَ الثَّوَابُ وَحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا তাদেরই জন্যে আছে বসবাসের জান্নাত। তাদের পাদদেশে প্রবাহিত হয় নহরসমূহ। তাদের তথায় স্বর্ণ-কংকনে অলংকৃত করা হবে এবং তারা পাতলা ও মোটা রেশমের সবুজ কাপর পরিধান করবে এমতাবস্থায় যে, তারা সিংহাসনে সমাসীন হবে। চমৎকার প্রতিদান এবং কত উত্তম আশ্রয়। For them will be Gardens of Eternity; beneath them rivers will flow; they will be adorned therein with bracelets of gold, and they will wear green garments of fine silk and heavy brocade: They will recline therein on raised thrones. How good the recompense! How beautiful a couch to recline on!

(  أُو۟لَٰٓئِكَ এসব লোক Those,  لَهُمْ জন্যে রয়েছে তাদের for them,  جَنَّٰتُ জান্নাতসমূহ (are) Gardens,  عَدْنٍ স্থায়ী of Eden,  تَجْرِى প্রবাহিত হয় flows,  مِن থেকে from,  تَحْتِهِمُ নিচ তার underneath them,  ٱلْأَنْهَٰرُ ঝর্নাসমূহ the rivers,  يُحَلَّوْنَ তাদের অলংকৃত করা হবে They will be adorned,  فِيهَا মধ্যে তার therein,  مِنْ দিয়ে [of] (with),  أَسَاوِرَ কঙ্কণ bracelets,  مِن তৈরী of, ذَهَبٍ সোনার gold,  وَيَلْبَسُونَ এবং তাদের পরানো হবে and will wear,  ثِيَابًا পোষাক garments,  خُضْرًا সবুজ green, مِّن তৈরি of,  سُندُسٍ মিহি রেশমের fine silk,  وَإِسْتَبْرَقٍ ও মোটা রেশমের and heavy brocade,  مُّتَّكِـِٔينَ হেলান দিয়ে বসবে reclining,  فِيهَا মধ্যে তার therein,  عَلَى উপর on,  ٱلْأَرَآئِكِ উঁচু আসনের adorned couches,  نِعْمَ কত সুন্দর Excellent,  ٱلثَّوَابُ প্রতিদান (is) the reward,  وَحَسُنَتْ এবং অতি উত্তম and good,  مُرْتَفَقًا আশ্রয়স্থল (is) the resting place ) 

 

(32)  وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلًا رَّجُلَيْنِ جَعَلْنَا لِأَحَدِهِمَا جَنَّتَيْنِ مِنْ أَعْنَابٍ وَحَفَفْنَاهُمَا بِنَخْلٍ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُمَا زَرْعًا আপনি তাদের কাছে দু ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দু’টিকে খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দু এর মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র। Set forth to them the parable of two men: for one of them We provided two gardens of grape-vines and surrounded them with date palms; in between the two We placed corn-fields.

(  وَٱضْرِبْ এবং পেশ করো And set forth,  لَهُم জন্যে তাদের to them,  مَّثَلًا একটি দৃষ্টান্ত the example,  رَّجُلَيْنِ দু’ব্যক্তির of two men:,  جَعَلْنَا আমরা দিয়েছিলাম We provided,  لِأَحَدِهِمَا দু’জনের একজনকে তাদের for one of them,  جَنَّتَيْنِ দু’বাগান two gardens,  مِنْ থেকে of,  أَعْنَٰبٍ আঙ্গুরসমূহের grapes,  وَحَفَفْنَٰهُمَا এবং দু’টিকে আমরা ঘিরে দিয়েছিলাম and We bordered them,  بِنَخْلٍ দিয়ে খেজুর গাছ with date-palms,  وَجَعَلْنَا এবং আমরা বানিয়েছিলাম and We placed,  بَيْنَهُمَا মাঝে উভয়ের between both of them,  زَرْعًا শস্যক্ষেত্র crops ) 

 

(33)  كِلْتَا الْجَنَّتَيْنِ آتَتْ أُكُلَهَا وَلَمْ تَظْلِمْ مِنْهُ شَيْئًا وَفَجَّرْنَا خِلَالَهُمَا نَهَرًا উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি নহর প্রবাহিত করেছি। Each of those gardens brought forth its produce, and failed not in the least therein: in the midst of them, We caused a river to flow.

(  كِلْتَا উভয় Each,  ٱلْجَنَّتَيْنِ বাগান (of) the two gardens,  ءَاتَتْ দিতো brought forth,  أُكُلَهَا তার ফল its produce,  وَلَمْ এবং নি and not,  تَظْلِم কম করে did wrong,  مِّنْهُ থেকে তা of it,  شَيْـًٔا কিছু anything,  وَفَجَّرْنَا এবং আমরা প্রবাহিত করলাম And We caused to gush forth,  خِلَٰلَهُمَا দু’টির ফাঁকে ফাঁকে তাদের within them,  نَهَرًا ঝর্না a river ) 

 

(34)  وَكَانَ لَهُ ثَمَرٌ فَقَالَ لِصَاحِبِهِ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَنَا أَكْثَرُ مِنكَ مَالًا وَأَعَزُّ نَفَرًا সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বললঃ আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী। (Abundant) was the produce this man had: he said to his companion, in the course of a mutual argument: “more wealth have I than you and more honor and power in (my following of) men.”

(  وَكَانَ এবং ছিলো And was,  لَهُۥ জন্যে তার for him,  ثَمَرٌ (প্রচুর) ধনসম্পদ fruit,  فَقَالَ অতঃপর সে বললো so he said,  لِصَٰحِبِهِۦ তার সাথীকে to his companion,  وَهُوَ এমতাবস্হায় যে, সে while he,  يُحَاوِرُهُۥٓ তার সাথে আলোচনা করছিলো (was) talking with him,  أَنَا۠ “আমি “I am,  أَكْثَرُ অধিকতর greater,  مِنكَ তোমার চেয়ে than you,  مَالًا সম্পদে (in) wealth,  وَأَعَزُّ ও অধিক শক্তিশালী and stronger,  نَفَرًا জনশক্তিতে” (in) men” ) 

 

(35)  وَدَخَلَ جَنَّتَهُ وَهُوَ ظَالِمٌ لِّنَفْسِهِ قَالَ مَا أَظُنُّ أَن تَبِيدَ هَذِهِ أَبَدًا নিজের প্রতি জুলুম করে সে তার বাগানে প্রবেশ করল। সে বললঃ আমার মনে হয় না যে, এ বাগান কখনও ধ্বংস হয়ে যাবে। He went into his garden in a state (of mind) unjust to his soul: He said, “I deem not that this will ever perish,

(  وَدَخَلَ এবং প্রবেশ করলো And he entered,  جَنَّتَهُۥ তার বাগানে his garden,  وَهُوَ এবং এ অবস্থায় যে সে ছিলো while he,  ظَالِمٌ সীমালঙ্ঘনকারী (was) unjust,  لِّنَفْسِهِۦ  উপর তার নিজের to himself,  قَالَ সে বললো He said,  مَآ “না “Not,  أَظُنُّ আমি মনে করি I think,  أَن যে that,  تَبِيدَ ধ্বংস হবে will perish,  هَٰذِهِۦٓ এই (সম্পদ) this,  أَبَدًا কখনও ever ) 

 

(36)  وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِن رُّدِدتُّ إِلَى رَبِّي لَأَجِدَنَّ خَيْرًا مِّنْهَا مُنقَلَبًا এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব। ” Nor do I deem that the Hour (of Judgment) will (ever) come: Even if I am brought back to my Lord, I shall surely find (there) something better in exchange.

(  وَمَآ এবং না And not,  أَظُنُّ আমি মনে করি I think,  ٱلسَّاعَةَ ক্বিয়ামাত the Hour,  قَآئِمَةً সংঘটিত হবে will occur,  وَلَئِن এবং অবশ্যই যদি And if,  رُّدِدتُّ আমি প্রত্যাবর্তিত হই I am brought back,  إِلَىٰ দিকে to,  رَبِّى আমার রবের my Lord,  لَأَجِدَنَّ অবশ্যই আমি পাবো I will surely find,  خَيْرًا উত্তম better,  مِّنْهَا তাদের দু’টির চেয়েও than this,  مُنقَلَبًا প্রত্যাবর্তনস্থান” (as) a return” ) 

 

(37)  قَالَ لَهُ صَاحِبُهُ وَهُوَ يُحَاوِرُهُ أَكَفَرْتَ بِالَّذِي خَلَقَكَ مِن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ سَوَّاكَ رَجُلًا তার সঙ্গী তাকে কথা প্রসঙ্গে বললঃ তুমি তাঁকে অস্বীকার করছ, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে, অতঃপর বীর্য থেকে, অতঃপর র্পূনাঙ্গ করেছেন তোমাকে মানবাকৃতিতে? His companion said to him, in the course of the argument with him: “Dost thou deny Him Who created thee out of the dust, then out of a sperm-drop, then fashioned thee into a man?

(   قَالَ বললো Said,  لَهُۥ তাকে  to him,  صَاحِبُهُۥ তার সাথী his companion,  وَهُوَ এমতাবস্হায় যে সে while he,  يُحَاوِرُهُۥٓ তার সাথে আলোচনা করেছিলো was talking to him,  أَكَفَرْتَ “কি তুমি অস্বীকার করছো “Do you disbelieve, بِٱلَّذِى (ঐ সত্ত্বা) কে যিনি in One Who,  خَلَقَكَ তোমাকে সৃষ্টি করেছেন created you,  مِن থেকে from,  تُرَابٍ মাটি dust, ثُمَّ এরপর then,  مِن থেকে from,  نُّطْفَةٍ শুক্র a minute quantity of semen,  ثُمَّ এরপর then,  سَوَّىٰكَ তোমাকে সম্পূর্ণ করেছেন fashioned you,  رَجُلًا মানুষে (into) a man? ) 

(38) لَّكِنَّا هُوَ اللَّهُ رَبِّي وَلَا أُشْرِكُ بِرَبِّي أَحَدًا  কিন্তু আমি তো একথাই বলি, আল্লাহই আমার পালনকর্তা এবং আমি কাউকে আমার পালনকর্তার শরীক মানি না। “But (I think) for my part that He is Allah, My Lord, and none shall I associate with my Lord.

(  لَّٰكِنَّا۠ কিন্তু (আমি বলি) But as for me,  هُوَ তিনি He, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ (is) Allah, رَبِّى আমার রব my Lord, وَلَآ এবং না and not,  أُشْرِكُ শরিক করি আমি I associate,  بِرَبِّىٓ সাথে আমার রবের with my Lord,  أَحَدًا কাউকে anyone ) 

 

(39 ) وَلَوْلَا إِذْ دَخَلْتَ جَنَّتَكَ قُلْتَ مَا شَاء اللَّهُ لَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ إِن تُرَنِ أَنَا أَقَلَّ مِنكَ مَالًا وَوَلَدًا যদি তুমি আমাকে ধনে ও সন্তানে তোমার চাইতে কম দেখ, তবে যখন তুমি তোমার বাগানে প্রবেশ করলে, তখন একথা কেন বললে না; আল্লাহ যা চান, তাই হয়। আল্লাহর দেয়া ব্যতীত কোন শক্তি নেই। “Why didst thou not, as thou wentest into thy garden, say: ‘(Allah)’s will (be done)! There is no power but with Allah.’ If thou dost see me less than thee in wealth and sons,

(  وَلَوْلَآ এবং কেন না And why (did you) not,  إِذْ যখন when, دَخَلْتَ তুমি প্রবেশ করছিলে you entered,  جَنَّتَكَ তোমার বাগানে your garden,  قُلْتَ তুমি বলেছিলে say,  مَا “যা “What,  شَآءَ চেয়েছেন wills,  ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ (তাই হয়েছে) Allah,  لَا নেই (there is) no, قُوَّةَ কোনো শক্তি power, إِلَّا ছাড়া except,  بِٱللَّهِ আল্লাহ্‌” with Allah”,  إِن যদি If,  تَرَنِ আমাকে দেখো you see, أَنَا۠ আমি me,  أَقَلَّ স্বল্পতর lesser,  مِنكَ তোমার চেয়ে than you,  مَالًا সম্পদে (in) wealth,  وَوَلَدًا এবং সন্তানে and children ) 

 

(40)  فَعَسَى رَبِّي أَن يُؤْتِيَنِ خَيْرًا مِّن جَنَّتِكَ وَيُرْسِلَ عَلَيْهَا حُسْبَانًا مِّنَ السَّمَاء فَتُصْبِحَ صَعِيدًا زَلَقًا আশাকরি আমার পালকর্তা আমাকে তোমার বাগান অপেক্ষা উৎকৃষ্টতর কিছু দেবেন এবং তার (তোমার বাগানের) উপর আসমান থেকে আগুন প্রেরণ করবেন। অতঃপর সকাল বেলায় তা পরিষ্কার ময়দান হয়ে যাবে। “It may be that my Lord will give me something better than thy garden, and that He will send on thy garden thunderbolts (by way of reckoning) from heaven, making it (but) slippery sand!

(  فَعَسَىٰ তবে হয়তো It may be,  رَبِّىٓ আমার রব that my Lord, أَن যে that my Lord,  يُؤْتِيَنِ আমাকে দান করবেন will give me, خَيْرًا উত্তম better, مِّن থেকে than,  جَنَّتِكَ তোমার বাগান your garden,  وَيُرْسِلَ এবং প্রেরণ করবেন and will send,  عَلَيْهَا উপর তার upon it,  حُسْبَانًا বিপর্যয় a calamity, مِّنَ থেকে from, ٱلسَّمَآءِ আকাশ the sky, فَتُصْبِحَ অতঃপর তা হয়ে যাবে then it will become, صَعِيدًا মাটি ground, زَلَقًا উদ্ভিদশূন্য slippery ) 

 

(41)  أَوْ يُصْبِحَ مَاؤُهَا غَوْرًا فَلَن تَسْتَطِيعَ لَهُ طَلَبًا অথবা সকালে তার পানি শুকিয়ে যাবে। অতঃপর তুমি তা তালাশ করে আনতে পারবে না। Or the water of the garden will run off underground so that thou wilt never be able to find it.

( أَوْ অথবা Or, يُصْبِحَ হয়ে যাবে will become,  مَآؤُهَا তার পানি its water, غَوْرًا শুষ্ক sunken,  فَلَن অতঃপর কখনও না so never,  تَسْتَطِيعَ তুমি সক্ষম হবে you will be able, لَهُۥ জন্যে তার” to find it”, طَلَبًا খুঁজে বের করতে” to find it” )

 

(42)  وَأُحِيطَ بِثَمَرِهِ فَأَصْبَحَ يُقَلِّبُ كَفَّيْهِ عَلَى مَا أَنفَقَ فِيهَا وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا وَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُشْرِكْ بِرَبِّي أَحَدًا অতঃপর তার সব ফল ধ্বংস হয়ে গেল এবং সে তাতে যা ব্যয় করেছিল, তার জন্য সকালে হাত কচলিয়ে আক্ষেপ করতে লাগল। বাগনটি কাঠসহ পুড়ে গিয়েছিল। সে বলতে লাগলঃ হায়, আমি যদি কাউকে আমার পালনকর্তার সাথে শরীক না করতাম। So his fruits (and enjoyment) were encompassed (with ruin), and he remained twisting and turning his hands over what he had spent on his property, which had (now) tumbled to pieces to its very foundations, and he could only say, “Woe is me! Would I had never ascribed partners to my Lord and Cherisher!

(  وَأُحِيطَ এবং (বিপর্যয়ে) পরিবেষ্টিত হলো And were surrounded,  بِثَمَرِهِۦ সহ তার ফল his fruits,  فَأَصْبَحَ ফলে সে শুরু করলো so he began,  يُقَلِّبُ মুচড়াতে twisting,  كَفَّيْهِ দু’হাত তার his hands, عَلَىٰ এর উপর over,  مَآ যা what,  أَنفَقَ সে খরচ করেছে he (had) spent, فِيهَا মধ্যে তার on it,  وَهِىَ এবং তা while it (had),  خَاوِيَةٌ উল্টে পড়েছিলো collapsed, عَلَىٰ উপর on, عُرُوشِهَا তার মাচাগুলোর its trellises, وَيَقُولُ এবং সে বললো and he said, يَٰلَيْتَنِى “হায় (যদি) “Oh! I wish,  لَمْ না I had not associated,  أُشْرِكْ আমি শরিক করতাম I had not associated,   بِرَبِّىٓ সাথে আমার রবের with my Lord, أَحَدًا অন্য কাউকে” anyone” )

 

(43)  وَلَمْ تَكُن لَّهُ فِئَةٌ يَنصُرُونَهُ مِن دُونِ اللَّهِ وَمَا كَانَ مُنتَصِرًا আল্লাহ ব্যতীত তাকে সাহায্য করার কোন লোক হল না এবং সে নিজেও প্রতিকার করতে পারল না। Nor had he numbers to help him against Allah, nor was he able to deliver himself.

(  وَلَمْ এবং না And not,  تَكُن ছিলো was,  لَّهُۥ জন্যে তার for him, فِئَةٌ কোনো দল a group,  يَنصُرُونَهُۥ তাকে তারা সাহায্য করবে (to) help him,  مِن থেকে other than,  دُونِ ছাড়া other than,  ٱللَّهِ  আল্লাহ্‌  Allah, وَمَا আর না and not, كَانَ সে ছিলো was, مُنتَصِرًا প্রতিরোধকারী (he) supported ) 

 

(44)  هُنَالِكَ الْوَلَايَةُ لِلَّهِ الْحَقِّ هُوَ خَيْرٌ ثَوَابًا وَخَيْرٌ عُقْبًا এরূপ ক্ষেত্রে সব অধিকার সত্য আল্লাহর। তারই পুরস্কার উত্তম এবং তারই প্রদত্ত প্রতিদান শ্রেষ্ঠ। There, the (only) protection comes from Allah, the True One. He is the Best to reward, and the Best to give success.

( هُنَالِكَ এ ক্ষেত্রে (জানতে পারলো) There,  ٱلْوَلَٰيَةُ অভিভাবকত্বের (অধিকার) the protection, لِلَّهِ জন্যে আল্লাহ্‌রই (is) from Allah, ٱلْحَقِّ তিনি সত্য the True, هُوَ তিনিই He, خَيْرٌ উত্তম (is the) best,  ثَوَابًا পুরস্কারদানে (to) reward,  وَخَيْرٌ ও উত্তম and (the) best,  عُقْبًا পরিণামে (for) the final end )

 

(45)  وَاضْرِبْ لَهُم مَّثَلَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا كَمَاء أَنزَلْنَاهُ مِنَ السَّمَاء فَاخْتَلَطَ بِهِ نَبَاتُ الْأَرْضِ فَأَصْبَحَ هَشِيمًا تَذْرُوهُ الرِّيَاحُ وَكَانَ اللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ مُّقْتَدِرًا তাদের কাছে পার্থিব জীবনের উপমা বর্ণনা করুন। তা পানির ন্যায়, যা আমি আকাশ থেকে নাযিল করি। অতঃপর এর সংমিশ্রণে শ্যামল সবুজ ভূমিজ লতা-পাতা নির্গত হয়; অতঃপর তা এমন শুস্ক চুর্ণ-বিচুর্ণ হয় যে, বাতাসে উড়ে যায়। আল্লাহ এ সবকিছুর উপর শক্তিমান। Set forth to them the similitude of the life of this world: It is like the rain which we send down from the skies: the earth’s vegetation absorbs it, but soon it becomes dry stubble, which the winds do scatter: it is (only) Allah who prevails over all things.

(  وَٱضْرِبْ এবং পেশ করো And present,  لَهُم জন্যে তাদের to them,  مَّثَلَ একটি দৃষ্টান্ত the example,  ٱلْحَيَوٰةِ জীবনের (of) the life, ٱلدُّنْيَا পার্থিব (of) the world,  كَمَآءٍ মতো পানির like water, أَنزَلْنَٰهُ তা আমরা বর্ষণ করি which We send down,  مِنَ থেকে from,  ٱلسَّمَآءِ আকাশ the sky,  فَٱخْتَلَطَ তখন ঘন হয়ে উঠে then mingles,  بِهِۦ দিয়ে তা with it, نَبَاتُ উদ্ভিদ (the) vegetation,  ٱلْأَرْضِ মাটির (of) the earth,  فَأَصْبَحَ অতঃপর হয়ে যায় then becomes,  هَشِيمًا ভুষি dry stalks, تَذْرُوهُ তা উড়িয়ে নিয়ে যায় it (is) scattered,  ٱلرِّيَٰحُ বাতাস (by) the winds,  وَكَانَ এবং হলেন And Allah,  ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ And Allah,  عَلَىٰ উপর over,  كُلِّ সব every,  شَىْءٍ কিছুর thing,  مُّقْتَدِرًا সর্বশক্তিমান (is) All Able ) 

 

(46)  الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম। Wealth and sons are allurements of the life of this world: But the things that endure, good deeds, are best in the sight of thy Lord, as rewards, and best as (the foundation for) hopes.

(  ٱلْمَالُ ধনসম্পদ The wealth,  وَٱلْبَنُونَ ও সন্তান-সন্ততি and children,  زِينَةُ শোভা (are) adornment,  ٱلْحَيَوٰةِ জীবনের (of) the life,  ٱلدُّنْيَا পার্থিব (of) the world,  وَٱلْبَٰقِيَٰتُ স্থায়ী But the enduring, ٱلصَّٰلِحَٰتُ সৎ কাজসমূহ good deeds, خَيْرٌ উত্তম (are) better, عِندَ কাছে near,  رَبِّكَ তোমার রবের your Lord,  ثَوَابًا প্রতিফল হিসেবে (for) reward, وَخَيْرٌ ও উত্তম and better,  أَمَلًا আকাঙ্ক্ষা হিসেবে (for) hope ) 

 

(47)  وَيَوْمَ نُسَيِّرُ الْجِبَالَ وَتَرَى الْأَرْضَ بَارِزَةً وَحَشَرْنَاهُمْ فَلَمْ نُغَادِرْ مِنْهُمْ أَحَدًا যেদিন আমি পর্বতসমূহকে পরিচালনা করব এবং আপনি পৃথিবীকে দেখবেন একটি উম্মুক্ত প্রান্তর এবং আমি মানুষকে একত্রিত করব অতঃপর তাদের কাউকে ছাড়ব না। One Day We shall remove the mountains, and thou wilt see the earth as a level stretch, and We shall gather them, all together, nor shall We leave out any one of them.

(  وَيَوْمَ এবং যেদিন And the Day, نُسَيِّرُ আমরা চালাবো We will cause (to) move, ٱلْجِبَالَ পর্বতসমূহকে the mountains, وَتَرَى এবং তুমি দেখবে and you will see,  ٱلْأَرْضَ পৃথিবীকে the earth,  بَارِزَةً খোলা মাঠ (as) a leveled plain,  وَحَشَرْنَٰهُمْ এবং আমরা একত্র করবো তাদের and We will gather them,  فَلَمْ অতঃপর না and not,  نُغَادِرْ আমরা ছাড়বো We will leave behind,  مِنْهُمْ মধ্য হ’তে তাদের from them, أَحَدًا কাউকে anyone )

 

(48)  وَعُرِضُوا عَلَى رَبِّكَ صَفًّا لَّقَدْ جِئْتُمُونَا كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ بَلْ زَعَمْتُمْ أَلَّن نَّجْعَلَ لَكُم مَّوْعِدًا তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধ ভাবে এবং বলা হবেঃ তোমরা আমার কাছে এসে গেছ; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না। And they will be marshalled before thy Lord in ranks, (with the announcement), “Now have ye come to Us (bare) as We created you first: aye, ye thought We shall not fulfil the appointment made to you to meet (Us)!”

(  وَعُرِضُوا۟ এবং তাদের পেশ করা হবে And they will be presented, عَلَىٰ কাছে before, رَبِّكَ তোমার রবের your Lord, صَفًّا সারিবদ্ধভাবে (in) rows, لَّقَدْ “নিশ্চয়ই “Certainly, جِئْتُمُونَا আমাদের কাছে তোমরা এসেছো you have come to Us, كَمَا যেমন as, خَلَقْنَٰكُمْ আমরা সৃষ্টি করেছিলাম তোমাদেরকে We created you, أَوَّلَ প্রথম the first, مَرَّةٍۭ বার time, بَلْ বরং Nay,  زَعَمْتُمْ তোমরা ভেবেছিলে you claimed, أَلَّن যে কখনও না that not, نَّجْعَلَ আমরা উপস্থিত করবো We made, لَكُم জন্যে তোমাদের for you, مَّوْعِدًا প্রতিশ্রুত সময়” an appointment” )

 

(49)  وَوُضِعَ الْكِتَابُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يَا وَيْلَتَنَا مَالِ هَذَا الْكِتَابِ لَا يُغَادِرُ صَغِيرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصَاهَا وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا আর আমলনামা সামনে রাখা হবে। তাতে যা আছে; তার কারণে আপনি অপরাধীদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত দেখবেন। তারা বলবেঃ হায় আফসোস, এ কেমন আমলনামা। এ যে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়নি-সবই এতে রয়েছে। তারা তাদের কৃতকর্মকে সামনে উপস্থিত পাবে। আপনার পালনকর্তা কারও প্রতি জুলুম করবেন না। And the Book (of Deeds) will be placed (before you); and thou wilt see the sinful in great terror because of what is (recorded) therein; they will say, “Ah! woe to us! what a Book is this! It leaves out nothing small or great, but takes account thereof!” They will find all that they did, placed before them: And not one will thy Lord treat with injustice.

( وَوُضِعَ এবং রাখা হবে And (will) be placed, ٱلْكِتَٰبُ (হিসেবের) কিতাব the Book, فَتَرَى অতঃপর তুমি দেখবে and you will see, ٱلْمُجْرِمِينَ অপরাধীদেরকে the criminals, مُشْفِقِينَ আতঙ্কগ্রস্ত fearful, مِمَّا তা থেকে যা of what, فِيهِ মধ্যে আছে তার (is) in it, وَيَقُولُونَ এবং তারা বলবে and they will say, يَٰوَيْلَتَنَا “দুর্ভাগ্য হায়! আমাদের “Oh woe to us!, مَالِ কেমন What (is) for, هَٰذَا এই this, ٱلْكِتَٰبِ (হিসেবের) কিতাব [the] Book, لَا না not, يُغَادِرُ ছাড়ে leaves, صَغِيرَةً ছোট a small, وَلَا আর না and not, كَبِيرَةً বড় a great,  إِلَّآ কিন্তু except, أَحْصَىٰهَا তা গুনে রেখেছে” has enumerated it?”, وَوَجَدُوا۟ তারা পাবে And they will find, مَا যা what, عَمِلُوا۟ তারা কাজ করছে they did, حَاضِرًا উপস্থিত presented, وَلَا এবং না And not, يَظْلِمُ অন্যায় করবেন deals unjustly, رَبُّكَ তোমার রব your Lord, أَحَدًا কাউকে (with) anyone ) 

 

(50)  وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ كَانَ مِنَ الْجِنِّ فَفَسَقَ عَنْ أَمْرِ رَبِّهِ أَفَتَتَّخِذُونَهُ وَذُرِّيَّتَهُ أَوْلِيَاء مِن دُونِي وَهُمْ لَكُمْ عَدُوٌّ بِئْسَ لِلظَّالِمِينَ بَدَلًا যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললামঃ আদমকে সেজদা কর, তখন সবাই সেজদা করল ইবলীস ব্যতীত। সে ছিল জিনদের একজন। সে তার পালনকর্তার আদেশ অমান্য করল। অতএব তোমরা কি আমার পরিবর্তে তাকে এবং তার বংশধরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করছ? অথচ তারা তোমাদের শত্রু। এটা জালেমদের জন্যে খুবই নিকৃষ্ট বদল। Behold! We said to the angels, “Bow down to Adam”: They bowed down except Iblis. He was one of the Jinns, and he broke the Command of his Lord. Will ye then take him and his progeny as protectors rather than Me? And they are enemies to you! Evil would be the exchange for the wrong-doers!

( وَإِذْ এবং (স্মরণ করো) যখন And when, قُلْنَا আমরা বলেছিলাম We said, لِلْمَلَٰٓئِكَةِ ফেরেশতাদেরকে to the Angels, ٱسْجُدُوا۟ “তোমরা সিজদা করো “Prostrate, لِءَادَمَ আদমকে” to Adam”, فَسَجَدُوٓا۟ তখন তারা সিজদা করেছিলো so they prostrated, إِلَّآ ছাড়া except, إِبْلِيسَ ইবলীশ Iblis, كَانَ সে ছিলো (He) was, مِنَ অন্তর্ভুক্ত of, ٱلْجِنِّ জিনদের the jinn, فَفَسَقَ তাই সে অমান্য করলো and he rebelled, عَنْ থেকে against, أَمْرِ নির্দেশ the Command, رَبِّهِۦٓ তার রবের (of) his Lord, أَفَتَتَّخِذُونَهُۥ কি তোমরা গ্রহণ করেছো তাকে Will you then take him, وَذُرِّيَّتَهُۥٓ ও তার বংশধরকে and his offspring, أَوْلِيَآءَ অভিভাবকরূপে (as) protectors, مِن ছাড়া other than Me, دُونِى আমাকে other than Me, وَهُمْ অথচ তারা while they, لَكُمْ জন্যে তোমাদের (are) to you, عَدُوٌّۢ শত্রু enemies?, بِئْسَ বড়ই খারাপ Wretched, لِلظَّٰلِمِينَ জন্যে সীমালঙ্ঘনকারীদের for the wrongdoers, بَدَلًا বিনিময় হিসেবে (is) the exchange )

 

(51)  مَا أَشْهَدتُّهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنفُسِهِمْ وَمَا كُنتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّينَ عَضُدًا নভোমন্ডল ও ভুমন্ডলের সৃজনকালে আমি তাদেরকে সাক্ষ্য রাখিনি এবং তাদের নিজেদের সৃজনকালেও না। এবং আমি এমনও নই যে, বিভ্রান্ত কারীদেরকে সাহায্যকারীরূপে গ্রহণ করবো। I called them not to witness the creation of the heavens and the earth, nor (even) their own creation: nor is it for helpers such as Me to take as lead (men) astray!

(  مَّآ নি Not, أَشْهَدتُّهُمْ তাদেরকে আমি সাক্ষী করি I made them witness, خَلْقَ সৃষ্টিতে the creation, ٱلسَّمَٰوَٰتِ আকাশসমূহের (of) the heavens, وَٱلْأَرْضِ ও পৃথিবীর and the earth, وَلَا আর না and not, خَلْقَ সৃষ্টিতে the creation, أَنفُسِهِمْ নিজেদের তাদের (of) themselves, وَمَا এবং না and not, كُنتُ আমি ছিলাম I Am, مُتَّخِذَ গ্রহণকারী the One to take, ٱلْمُضِلِّين বিভ্রান্তকারীদেরকে the misleaders, عَضُدًا সাহায্যকারীরূপে (as) helper(s) )

 

(52)  وَيَوْمَ يَقُولُ نَادُوا شُرَكَائِيَ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا যেদিন তিনি বলবেনঃ তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে ডাক। তারা তখন তাদেরকে ডাকবে, কিন্তু তারা এ আহবানে সাড়া দেবে না। আমি তাদের মধ্যস্থলে রেখে দেব একটি মৃত্যু গহবর। One Day He will say, “Call on those whom ye thought to be My partners,” and they will call on them, but they will not listen to them; and We shall make for them a place of common perdition.

( وَيَوْمَ এবং যেদিন And the Day, يَقُولُ তিনি বলবেন He will say, نَادُوا۟ “তোমরা ডাকো “Call, شُرَكَآءِىَ আমার শরিকদেরকে My partners, ٱلَّذِينَ যাদেরকে those who, زَعَمْتُمْ মনে করেছিলে তোমরা” you claimed”, فَدَعَوْهُمْ তখন তারা ডাকবে তাদেরকে then they will call them, فَلَمْ কিন্তু না but not, يَسْتَجِيبُوا۟ তারা ডাকে সাড়া দিবে they will respond, لَهُمْ তাদেরকে to them, وَجَعَلْنَا এবং আমরা রেখে দিবো And We will make, بَيْنَهُم মাঝে তাদের between them, مَّوْبِقًا ধ্বংসের স্থান a barrier )

 

(53)  وَرَأَى الْمُجْرِمُونَ النَّارَ فَظَنُّوا أَنَّهُم مُّوَاقِعُوهَا وَلَمْ يَجِدُوا عَنْهَا مَصْرِفًا অপরাধীরা আগুন দেখে বোঝে নেবে যে, তাদেরকে তাতে পতিত হতে হবে এবং তারা তা থেকে রাস্তা পরিবর্তন করতে পারবে না। And the Sinful shall see the fire and apprehend that they have to fall therein: no means will they find to turn away therefrom.

(  وَرَءَا এবং দেখবে And will see, ٱلْمُجْرِمُونَ অপরাধীরা the criminals, ٱلنَّارَ আগুন the Fire, فَظَنُّوٓا۟ তখন তারা ভাববে and they (will be) certain, أَنَّهُم যে তারা that they, مُّوَاقِعُوهَا তাতে ফেলা হবে are to fall in it, وَلَمْ এবং না And not, يَجِدُوا۟ তারা পাবে they will find, عَنْهَا থেকে তা from it, مَصْرِفًا ফিরার স্থান a way of escape )

 

(54)  وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِن كُلِّ مَثَلٍ وَكَانَ الْإِنسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়। We have explained in detail in this Qur’an, for the benefit of mankind, every kind of similitude: but man is, in most things, contentious.

(  وَلَقَدْ এবং নিশ্চয়ই And certainly, صَرَّفْنَا আমরা বিশদভাবে বর্ণনা করেছি We have explained, فِى মধ্যে in, هَٰذَا এই this, ٱلْقُرْءَانِ কুরআনের the Quran, لِلنَّاسِ জন্যে মানুষদের for mankind, مِن থেকে of, كُلِّ প্রত্যেক every, مَثَلٍ দৃষ্টান্ত example, وَكَانَ অথচ হলো But is,  ٱلْإِنسَٰنُ মানুষ the man, أَكْثَرَ অধিকাংশ (in) most, شَىْءٍ বিষয়ে things, جَدَلًا ঝগড়াটে quarrelsome )

 

(55)  وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَن يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءهُمُ الْهُدَى وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًاহেদায়েত আসার পর এ প্রতীক্ষাই শুধু মানুষকে বিশ্বাস স্থাপন করতে এবং তাদের পালনকর্তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বিরত রাখে যে, কখন আসবে তাদের কাছে পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি অথবা কখন আসবে তাদের কাছেআযাব সামনাসামনি। And what is there to keep back men from believing, now that Guidance has come to them, nor from praying for forgiveness from their Lord, but that (they ask that) the ways of the ancients be repeated with them, or the Wrath be brought to them face to face?

(  وَمَا এবং কি (জিনিস) And nothing, مَنَعَ বাদা দেয় prevents, ٱلنَّاسَ মানুষদেরকে men, أَن যে that, يُؤْمِنُوٓا۟ তারা ঈমান আনবে they believe, إِذْ যখন when, جَآءَهُمُ এসেছে তাদের কাছে has come to them, ٱلْهُدَىٰ পথ নির্দেশ the guidance, وَيَسْتَغْفِرُوا۟ এবং তারা ক্ষমা চাইতে and they ask forgiveness, رَبَّهُمْ রবের কাছে তাদের (of) their Lord, إِلَّآ ছাড়া except, أَن যে that, تَأْتِيَهُمْ কাছ আসবে তাদের comes to them, سُنَّةُ অনুসৃত রীতি (the) way, ٱلْأَوَّلِينَ পূর্ববর্তীদের (of) the former (people), أَوْ অথবা or, يَأْتِيَهُمُ কাছে আসবে তাদের comes to them, ٱلْعَذَابُ শাস্তি the punishment, قُبُلًا সামনাসামনি before (them)? )

 

(56)  وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ وَيُجَادِلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَمَا أُنذِرُوا هُزُوًا আমি রাসূলগনকে সুসংবাদ দাতা ও ভয় প্রদর্শন কারীরূপেই প্রেরণ করি এবং কাফেররাই মিথ্যা অবলম্বনে বিতর্ক করে, তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার উদ্দেশে এবং তারা আমার নিদর্শনাবলীও যদ্বারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করা হয়, সেগুলোকে ঠাট্টারূপে গ্রহণ করেছে। We only send the apostles to give Glad Tidings and to give warnings: But the unbelievers dispute with vain argument, in order therewith to weaken the truth, and they treat My Signs as a jest, as also the fact that they are warned!

( وَمَا এবং না And not, نُرْسِلُ আমরা প্রেরণ করি We send, ٱلْمُرْسَلِينَ রাসূলদেরকে the Messengers, إِلَّا ছাড়া except, مُبَشِّرِينَ সুসংবাদদাতা (as) bearers of glad tidings, وَمُنذِرِينَ এবং সতর্ককারী (রূপে) and (as) warners, وَيُجَٰدِلُ এবং বিতর্ক করে And dispute, ٱلَّذِينَ যারা those who, كَفَرُوا۟ অস্বীকার করেছে disbelieve, بِٱلْبَٰطِلِ দিয়ে মিথ্যা with falsehood, لِيُدْحِضُوا۟ যেন তারা ব্যর্থ করতে পারে to refute, بِهِ দিয়ে তা thereby, ٱلْحَقَّ সত্যকে the truth, وَٱتَّخَذُوٓا۟ এবং তারা গ্রহণ করেছে And they take, ءَايَٰتِى আমার নিদর্শনগুলোকে My Verses, وَمَآ এবং (সেগুলোকে) যার and what, أُنذِرُوا۟ সতর্ক করা হয়েছে they are warned, هُزُوًا বিদ্রূপরূপে (in) ridicule )

 

(57)  وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا وَإِن تَدْعُهُمْ إِلَى الْهُدَى فَلَن يَهْتَدُوا إِذًا أَبَدًا তার চাইতে অধিক জালেম কে, যাকে তার পালনকর্তার কালাম দ্বারা বোঝানো হয়, অতঃপর সে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার পূর্ববর্তী কৃতকর্মসমূহ ভুলে যায়? আমি তাদের অন্তরের উপর পর্দা রেখে দিয়েছি, যেন তা না বোঝে এবং তাদের কানে রয়েছে বধিরতার বোঝা। যদি আপনি তাদেরকে সৎপথের প্রতি দাওয়াত দেন, তবে কখনই তারা সৎপথে আসবে না। And who doth more wrong than one who is reminded of the Signs of his Lord, but turns away from them, forgetting the (deeds) which his hands have sent forth? Verily We have set veils over their hearts lest they should understand this, and over their ears, deafness, if thou callest them to guidance, even then will they never accept guidance.

(  وَمَنْ এবং কে And who, أَظْلَمُ অধিক সীমালঙ্ঘনকারী (is) more wrong, مِمَّن (তার) চেয়ে যাকে than (he) who, ذُكِّرَ স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়েছে is reminded,  بِـَٔايَٰتِ দিয়ে নিদর্শন of the Verses, رَبِّهِۦ রবের তার (of) his Lord, فَأَعْرَضَ তবুও সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে but turns away, عَنْهَا থেকে তা from them, وَنَسِىَ ও ভুলে গিয়েছে and forgets, مَا যা what, قَدَّمَتْ আগে পাঠিয়েছে have sent forth, يَدَاهُ তার দু’হাত his hands?, إِنَّا নিশ্চয়ই আমরা Indeed We, جَعَلْنَا আমরা দিয়েছি [We] have placed, عَلَىٰ উপর over, قُلُوبِهِمْ তাদের অন্তরগুলোর their hearts, أَكِنَّةً আবরণ coverings, أَن যেন (না) lest يَفْقَهُوهُ তা তারা বুঝে they understand it, وَفِىٓ ও মধ্যে and in, ءَاذَانِهِمْ কানগুলোর তাদের their ears, وَقْرًا বধিরতা (দিয়েছি) (is) deafness, وَإِن এবং যদি And if, تَدْعُهُمْ তুমি ডাকো তাদেরকে you call them, إِلَى দিকে to, ٱلْهُدَىٰ সৎপথে the guidance, فَلَن তবুও না then never, يَهْتَدُوٓا۟ তারা সঠিক পথ পাবে they will be guided, إِذًا তাহ’লে then, أَبَدًا কখনও ever ) 

 

(58)  وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ لَوْ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ بَل لَّهُم مَّوْعِدٌ لَّن يَجِدُوا مِن دُونِهِ مَوْئِلًا আপনার পালনকর্তা ক্ষমাশীল, দয়ালু, যদি তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের জন্যে পাকড়াও করেন তবে তাদের শাস্তি ত্বরাম্বিত করতেন, কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে একটি প্রতিশ্রুত সময়, যা থেকে তারা সরে যাওয়ার জায়গা পাবে না। But your Lord is Most forgiving, full of Mercy. If He were to call them (at once) to account for what they have earned, then surely He would have hastened their punishment, but they have their appointed time, beyond which they will find no refuge.

( وَرَبُّكَ এবং তোমার রব And your Lord, ٱلْغَفُورُ ক্ষমাশীল (is) the Most Forgiving, ذُو অধিকারী Owner, ٱلرَّحْمَةِ অনুগ্রহের (of) the Mercy, لَوْ যদি If, يُؤَاخِذُهُم পাকড়াও করতেন তিনি তাদের He were to seize them, بِمَا এ কারণে যা for what, كَسَبُوا۟ তারা অর্জন করেছিলো they have earned, لَعَجَّلَ অবশ্যই তাড়াতাড়ি এগিয়ে আনতেন surely, He (would) have hastened, لَهُمُ জন্যে তাদের for them,  ٱلْعَذَابَ শাস্তি the punishment,  بَل বরং But, لَّهُم জন্যে রয়েছে তাদের for them, مَّوْعِدٌ প্রতিশ্রুত সময় (is) an appointment,  لَّن কখনও না never, يَجِدُوا۟ তারা পাবে they will find,  مِن ছাড়া other than it, دُونِهِۦ তিনি other than it, مَوْئِلًا পালানোর জায়গা an escape ) 

 

(59)  وَتِلْكَ الْقُرَى أَهْلَكْنَاهُمْ لَمَّا ظَلَمُوا وَجَعَلْنَا لِمَهْلِكِهِم مَّوْعِدًا এসব জনপদও তাদেরকে আমি ধংস করে দিয়েছি, যখন তারা জালেম হয়ে গিয়েছিল এবং আমি তাদের ধ্বংসের জন্যে একটি প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করেছিলাম। Such were the populations we destroyed when they committed iniquities; but we fixed an appointed time for their destruction.

(  وَتِلْكَ এবং এসব And these, ٱلْقُرَىٰٓ জনপদগুলো [the] towns, أَهْلَكْنَٰهُمْ আমরা ধ্বংস করেছি তাদের We destroyed them, لَمَّا যখন when, ظَلَمُوا۟ তারা সীমালঙ্ঘন করেছিলো they wronged, وَجَعَلْنَا এবং আমরা নির্দিষ্ট করে রেখেছি and We made, لِمَهْلِكِهِم জন্যে তাদের ধ্বংসের for their destruction, مَّوْعِدًا একটা নির্দিষ্ট সময় an appointed time )

 

(60)  وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِفَتَاهُ لَا أَبْرَحُ حَتَّى أَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ أَوْ أَمْضِيَ حُقُبًا যখন মূসা তাঁর যুবক (সঙ্গী) কে বললেনঃ দুই সমুদ্রের সঙ্গমস্থলে না পৌছা পর্যন্ত আমি আসব না অথবা আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকব। Behold, Moses said to his attendant, “I will not give up until I reach the junction of the two seas or (until) I spend years and years in travel.

( وَإِذْ এবং যখন And when, قَالَ বলেছিলো said, مُوسَىٰ মূসা Musa, لِفَتَىٰهُ তার যুবক (সেবক)-কে to his boy, لَآ “না “Not, أَبْرَحُ আমি থামবো I will cease, حَتَّىٰٓ যতক্ষণ না until, أَبْلُغَ পৌঁছাবো আমি I reach, مَجْمَعَ সংগমস্থলে the junction,  ٱلْبَحْرَيْنِ দুই সাগরের (of) the two seas, أَوْ বা or, أَمْضِىَ আমি চলতে থাকবো I continue, حُقُبًا যুগ যুগ (দীর্ঘকাল)” (for) a long period” ) 

 

(61)  فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَيْنِهِمَا نَسِيَا حُوتَهُمَا فَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ سَرَبًا অতঃপর যখন তাঁরা দুই সুমুদ্রের সঙ্গমস্থলে পৌছালেন, তখন তাঁরা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেলেন। অতঃপর মাছটি সমুদ্রে সুড়ঙ্গ পথ সৃষ্টি করে নেমে গেল। But when they reached the Junction, they forgot (about) their Fish, which took its course through the sea (straight) as in a tunnel.

(  فَلَمَّا অতঃপর যখন But when, بَلَغَا দু’জনে পৌঁছে গেলো they reached, مَجْمَعَ সংগমস্থলে the junction, بَيْنِهِمَا দুই (সাগরের) মাঝের between them, نَسِيَا দু’জনে ভুলে গেলো they forgot, حُوتَهُمَا দু’জনের মাছকে their fish, فَٱتَّخَذَ অতঃপর (মাছ) করে নিলো and it took, سَبِيلَهُۥ পথ তার its way, فِى মধ্যে into, ٱلْبَحْرِ সমুদ্রের the sea, سَرَبًا সুড়ঙ্গ করে slipping away ) 

 

(62)  فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءنَا لَقَدْ لَقِينَا مِن سَفَرِنَا هَذَا نَصَبًا যখন তাঁরা সে স্থানটি অতিক্রম করে গেলেন, মূসা সঙ্গী কে বললেনঃ আমাদের নাশতা আন। আমরা এই সফরে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছি। When they had passed on (some distance), Moses said to his attendant: “Bring us our early meal; truly we have suffered much fatigue at this (stage of) our journey.

( فَلَمَّا অতঃপর যখন Then when, جَاوَزَا দু’জনে অতিক্রম করলো they had passed beyond, قَالَ সে বললো he said, لِفَتَىٰهُ তার যুবক (সেবক)-কে to his boy, ءَاتِنَا “আমাদেরকে দাও “Bring us, غَدَآءَنَا আমাদের (নাশতা) খাবার our morning meal, لَقَدْ নিশ্চয়ই Certainly, لَقِينَا আমরা পেয়েছি we have suffered, مِن থেকে in, سَفَرِنَا আমাদের ভ্রমণ our journey, هَٰذَا এই this, نَصَبًا ক্লান্তি” fatigue” ) 

 

(63)  قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنسَانِيهُ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا সে বললঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন প্রস্তর খন্ডে আশ্রয় নিয়েছিলাম, তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। শয়তানই আমাকে একথা স্মরণ রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছিল। মাছটি আশ্চর্য জনক ভাবে সমুদ্রে নিজের পথ করে নিয়েছে। He replied: “Sawest thou (what happened) when we betook ourselves to the rock? I did indeed forget (about) the Fish: none but Satan made me forget to tell (you) about it: it took its course through the sea in a marvellous way!

(  قَالَ সে বললো He said, أَرَءَيْتَ “কি আপনি লক্ষ্য করেছেন “Did you see, إِذْ যখন when, أَوَيْنَآ আমরা আশ্রয় নিয়েছিলাম we retired, إِلَى কাছে to, ٱلصَّخْرَةِ পাথরের the rock?, فَإِنِّى তখন আমি নিশ্চয়ই Then indeed I, نَسِيتُ ভুলে গিয়েছিলাম [I] forgot, ٱلْحُوتَ মাছকে the fish,وَمَآ এবং না And not, أَنسَىٰنِيهُ তা আমাকে ভুলিয়েছিলো made me forget it, إِلَّا ছাড়া except, ٱلشَّيْطَٰنُ শয়তান the Shaitaan, أَنْ যে that, أَذْكُرَهُۥ তা উল্লেখ করবো আমি I mention it, وَٱتَّخَذَ এবং করে নিলো (মাছ) And it took, سَبِيلَهُۥ পথ তার its way, فِى মধ্যে into, ٱلْبَحْرِ সাগরের the sea, عَجَبًا আশ্চর্যভাবে” amazingly” ) 

 

(64)  قَالَ ذَلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ فَارْتَدَّا عَلَى آثَارِهِمَا قَصَصًا মূসা বললেনঃ আমরা তো এ স্থানটিই খুঁজছিলাম। অতঃপর তাঁরা নিজেদের চিহ্ন ধরে ফিরে চললেন। Moses said: “That was what we were seeking after:” So they went back on their footsteps, following (the path they had come).

( قَالَ সে বললো He said, ذَٰلِكَ “সেটাই “That, مَا যা (is) what, كُنَّا চেয়েছি we were, نَبْغِ  আমরা” seeking”, فَٱرْتَدَّا, অতঃপর দু’জনে ফিরে চললো So they returned, عَلَىٰٓ উপর on, ءَاثَارِهِمَا তাদের দু’জনের পায়ের চিহ্ন their footprints, قَصَصًا অনুসরণ করে retracing )

(65)  فَوَجَدَا عَبْدًا مِّنْ عِبَادِنَا آتَيْنَاهُ رَحْمَةً مِنْ عِندِنَا وَعَلَّمْنَاهُ مِن لَّدُنَّا عِلْمًا অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান। So they found one of Our servants, on whom We had bestowed Mercy from Ourselves and whom We had taught knowledge from Our own Presence.

( فَوَجَدَا তখন দু’জনে পেলো Then they found, عَبْدًا এক দাসকে a servant, مِّنْ মধ্য হ’তে from, عِبَادِنَآ আমাদের দাসদের Our servants,  ءَاتَيْنَٰهُ তাকে আমরা দিয়েছিলাম whom We had given, رَحْمَةً অনুগ্রহ mercy, مِّنْ থেকে from, عِندِنَا আমাদের নিকট Us, وَعَلَّمْنَٰهُ এবং তাকে আমরা শিখিয়েছিলাম and We had taught him, مِن থেকে from,  لَّدُنَّا আমাদের Us, عِلْمًا জ্ঞান a knowledge )

 

(66)  قَالَ لَهُ مُوسَى هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَى أَن تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا মূসা তাঁকে বললেনঃ আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন? Moses said to him: “May I follow thee, on the footing that thou teach me something of the (Higher) Truth which thou hast been taught?”

(  قَالَ বললো Said, لَهُۥ তাকে to him,  مُوسَىٰ মূসা Musa, هَلْ “কি “May,  أَتَّبِعُكَ আপনাকে অনুসরণ করবো I follow you,  عَلَىٰٓ (এ কথার) উপর on,  أَن যে that,  تُعَلِّمَنِ আপনি আমাকে শিখাবেন you teach me, مِمَّا তা হ’তে যা of what, عُلِّمْتَ আপনাকে শিখানো হয়েছে you have been taught, رُشْدًا সত্য জ্ঞান” (of) right guidance?” ) 

 

(67)  قَالَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا তিনি বললেনঃ আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্যধারণ করে থাকতে পারবেন না। (The other) said: “Verily thou wilt not be able to have patience with me!”

( قَالَ সে বললো He said, إِنَّكَ “নিশ্চয়ই আপনি “Indeed you,  لَن কখনও না never,  تَسْتَطِيعَ পারবেন will be able, مَعِىَ আমার সাথে with me, صَبْرًا ধৈর্য ধরতে (to have) patience ) 

 

(68)  وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَى مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا যে বিষয় বোঝা আপনার আয়ত্তাধীন নয়, তা দেখে আপনি ধৈর্য্যধারণ করবেন কেমন করে?  “And how canst thou have patience about things about which thy understanding is not complete?”

(  وَكَيْفَ এবং কেমমন করে And how can,  تَصْبِرُ ধৈর্য ধরবেন you have patience, عَلَىٰ (এ বিষয়ের) উপর for, مَا যা what, لَمْ নি করেন not, تُحِطْ আয়ত্ত্ব you encompass, بِهِۦ সম্পর্কে তা of it, خُبْرًا অভিজ্ঞতায়” any knowledge”

 

(69)  قَالَ سَتَجِدُنِي إِن شَاء اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا মূসা বললেনঃ আল্লাহ চাহেন তো আপনি আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন এবং আমি আপনার কোন আদেশ অমান্য করব না। Moses said: “Thou wilt find me, if Allah so will, (truly) patient: nor shall I disobey thee in aught.

( قَالَ সে বললো He said, سَتَجِدُنِىٓ “অচিরেই আপনি পাবেন আমাকে “You will find me,  إِن যদি if, شَآءَ চান Allah wills, ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah wills, صَابِرًا ধৈর্যধারণকারীরূপে patient, وَلَآ এবং না and not, أَعْصِى আমি অবাধ্যতা করবো I will disobey,  لَكَ আপনার your, أَمْرًا নির্দেশের “order”, ) 

 

(70)  قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَن شَيْءٍ حَتَّى أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا তিনি বললেনঃ যদি আপনি আমার অনুসরণ করেনই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করবেন না, যে পর্যন্ত না আমি নিজেই সে সম্পর্কে আপনাকে কিছু বলি। The other said: “If then thou wouldst follow me, ask me no questions about anything until I myself speak to thee concerning it.”

(  قَالَ সে বললো He said, فَإِنِ “তাহ’লে যদি “Then if, ٱتَّبَعْتَنِى আমার অনুসরণ করেন you follow me,  فَلَا তবে না (do) not, تَسْـَٔلْنِى আমাকে প্রশ্ন করবেন ask me, عَن সম্বন্ধে about, شَىْءٍ কোনো কিছু anything, حَتَّىٰٓ যতক্ষণ না until, أُحْدِثَ আমি বলি I present, لَكَ আপনার জন্য to you, مِنْهُ তা থেকে of it, ذِكْرًا কিছু বর্ণনা” a mention” ) 

 

(71)  فَانطَلَقَا حَتَّى إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا অতঃপর তারা চলতে লাগলঃ অবশেষে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করল, তখন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি কি এর আরোহীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্যে এতে ছিদ্র করে দিলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি গুরুতর মন্দ কাজ করলেন। So they both proceeded: until, when they were in the boat, he scuttled it. Said Moses: “Hast thou scuttled it in order to drown those in it? Truly a strange thing hast thou done!”

(  فَٱنطَلَقَا অতঃপর দু’জন চললো So they both set out, حَتَّىٰٓ এমনকি until, إِذَا যখন when,  رَكِبَا দু’জন চড়লো they had embarked,  فِى মধ্যে on,  ٱلسَّفِينَةِ একটি নৌকার the ship, خَرَقَهَا তা সে ফুটো করে দিলো he made a hole in it,  قَالَ (মূসা) বললো He said,  أَخَرَقْتَهَا “তা আপনি কি ফুটো করে দিলেন “Have you made a hole in it,  لِتُغْرِقَ জন্যে ডুবানোর to drown,  أَهْلَهَا তার আরোহীদেরকে its people?,  لَقَدْ নিশ্চয়ই Certainly,  جِئْتَ আপনি করে এসেছেন you have done,  شَيْـًٔا কাজ a thing, إِمْرًا গুরুতর” grave” ) 

 

(72)  قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্য্য ধরতে পারবেন না ? He answered: “Did I not tell thee that thou canst have no patience with me?”

(  قَالَ সে বললো He said,  أَلَمْ “কি নি “Did not,  أَقُلْ আমি বলি I say,  إِنَّكَ নিশ্চয়ই আপনি indeed you, لَن কখনও না never, تَسْتَطِيعَ পারবেন will be able, مَعِىَ আমার সাথে with me, صَبْرًا ধৈর্য ধরতে” (to have) patience?” ) 

 

(73)  قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا মূসা বললেনঃ আমাকে আমার ভুলের জন্যে অপরাধী করবেন না এবং আমার কাজে আমার উপর কঠোরতা আরোপ করবেন না। Moses said: “Rebuke me not for forgetting, nor grieve me by raising difficulties in my case.”

(  قَالَ বললো (মূসা) He said, لَا “না “(Do) not, تُؤَاخِذْنِى ধরবেন আমাকে blame me, بِمَا এ কারণে যা for what, نَسِيتُ আমি ভুলে গিয়েছি I forgot, وَلَا এবং না and (do) not,  تُرْهِقْنِى আমার উপর আরোপ করবেন be hard (upon) me,  مِنْ মধ্যে in,  أَمْرِى আমার কাজের my affair,  عُسْرًا কঠোরতা” (raising) difficulty” ) 

 

(74)  فَانطَلَقَا حَتَّى إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَّقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُّكْرًا অতঃপর তারা চলতে লাগল। অবশেষে যখন একটি বালকের সাক্ষাত পেলেন, তখন তিনি তাকে হত্যা করলেন। মূসা বললেন? আপনি কি একটি নিস্পাপ জীবন শেষ করে দিলেন প্রাণের বিনিময় ছাড়াই? নিশ্চয়ই আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন। Then they proceeded: until, when they met a young man, he slew him. Moses said: “Hast thou slain an innocent person who had slain none? Truly a foul (unheard of) thing hast thou done!

( فَٱنطَلَقَا অতঃপর দু’জনে চড়লো Then they both set out, حَتَّىٰٓ এমনকি until, إِذَا যখন when,  لَقِيَا দু’জনে দেখা পেলো they met,  غُلَٰمًا এক বালকের a boy,  فَقَتَلَهُۥ তখন সে হত্যা করলো তাকে then he killed him,  قَالَ (মূসা) বললো He said,  أَقَتَلْتَ “কি আপনি হত্যা করলেন “Have you killed,  نَفْسًا একটি জীবনকে a soul,  زَكِيَّةًۢ নিষ্পাপ pure,  بِغَيْرِ ছাড়া (হত্যা) for other than,  نَفْسٍ কোনো জীবন a soul?,  لَّقَدْ নিশ্চয়ই Certainly,  جِئْتَ করে এসেছেন you have done,  شَيْـًٔا কাজ a thing,  نُّكْرًا গুরুতর অন্যায়” evil” )

 

(75)  قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِي صَبْرًا তিনি বললেনঃ আমি কি বলিনি যে, আপনি আমার সাথে ধৈর্য্য ধরে থাকতে পারবেন না। He answered: “Did I not tell thee that thou canst have no patience with me?”

( قَالَ সে বললো He said, أَلَمْ “কি নি “Did not, أَقُل আমি বলি I say, لَّكَ আপনাকে to you, إِنَّكَ নিশ্চয়ই আপনি that you,  لَن কখনও না never,  تَسْتَطِيعَ পারবেন will be able,  مَعِىَ আমার সাথে with me,  صَبْرًا ধৈর্য ধরতে” (to have) patience?” ) 

 

(76)  قَالَ إِن سَأَلْتُكَ عَن شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي قَدْ بَلَغْتَ مِن لَّدُنِّي عُذْرًا মূসা বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে আপনি আমাকে সাথে রাখবেন না। আপনি আমার পক্ষ থেকে অভিযোগ মুক্ত হয়ে গেছেন। (Moses) said: “If ever I ask thee about anything after this, keep me not in thy company: then wouldst thou have received (full) excuse from my side.”

(  قَالَ (মূসা) বললো He said, إِن “যদি “If, سَأَلْتُكَ আপনাকে আমি প্রশ্ন করি I ask you,  عَن সম্বন্ধে about, شَىْءٍۭ কোনো কিছু anything,  بَعْدَهَا এরপর after it, فَلَا তাহ’লে না then (do) not,  تُصَٰحِبْنِى আমাকে আপনি সঙ্গে রাখবেন keep me as a companion, قَدْ নিশ্চয়ই Verily,  بَلَغْتَ আপনি পৌঁছে গেছেন you have reached,  مِن থেকে from me,  لَّدُنِّى আমার পক্ষ from me, عُذْرًا অজুহাতের শেষ সীমায়” an excuse” ) 

 

(77)  فَانطَلَقَا حَتَّى إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَن يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَنْ يَنقَضَّ فَأَقَامَهُ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا অতঃপর তারা চলতে লাগল, অবশেষে যখন একটি জনপদের অধিবাসীদের কাছে পৌছে তাদের কাছে খাবার চাইল, তখন তারা তাদের অতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর তারা সেখানে একটি পতনোম্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন, সেটি তিনি সোজা করে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মূসা বললেনঃ আপনি ইচ্ছা করলে তাদের কাছ থেকে এর পারিশ্রমিক আদায় করতে পারতেন। Then they proceeded: until, when they came to the inhabitants of a town, they asked them for food, but they refused them hospitality. They found there a wall on the point of falling down, but he set it up straight. (Moses) said: “If thou hadst wished, surely thou couldst have exacted some recompense for it!”

(  فَٱنطَلَقَا অতঃপর দু’জনে চললো So they set out,  حَتَّىٰٓ এমনকি until,  إِذَآ যখন when,  أَتَيَآ দু’জনে আসলো they came, أَهْلَ আধিবাসীদের কাছে (to the) people, قَرْيَةٍ এক জনপদের (of) a town, ٱسْتَطْعَمَآ দু’জনে খাদ্য চাইলো they asked for food,  أَهْلَهَا তার অধিবাসীদের কাছে (from) its people,  فَأَبَوْا۟ কিন্তু তারা অস্বীকার করলো but they refused, أَن যে to, يُضَيِّفُوهُمَا তারা আতিথেয়তা করবে তাদের দু’জনকে offer them hospitality, فَوَجَدَا অতঃপর দু’জন পেলো Then they found, فِيهَا মধ্যে তার in it, جِدَارًا একটি দেয়াল a wall,  يُرِيدُ চাচ্ছিলো (that) want(ed), أَن যে to, يَنقَضَّ ভেঙ্গে পড়বে collapse, فَأَقَامَهُۥ অতঃপর তা সে দাঁড় করিয়ে দিলো so he set it straight, قَالَ (মূসা) বললো He said, لَوْ “যদি “If, شِئْتَ আপনি চাইতেন you wished, لَتَّخَذْتَ অবশ্যই আপনি নিতে পারতেন surely you (could) have taken, عَلَيْهِ এর বিনিময়ে for it, أَجْرًا পারিশ্রমিক” a payment” )

 

(78)  قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِع عَّلَيْهِ صَبْرًا তিনি বললেনঃ এখানেই আমার ও আপনার মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ হল। এখন যে বিষয়ে আপনি ধৈর্য্য ধরতে পারেননি, আমি তার তাৎপর্য বলে দিচ্ছি। He answered: “This is the parting between me and thee: now will I tell thee the interpretation of (those things) over which thou wast unable to hold patience.

( قَالَ সে বললো He said, هَٰذَا “এটাই “This, فِرَاقُ (যাত্রা শেষ) বিচ্ছেদ (is) parting, بَيْنِى মাঝে আমার between me, وَبَيْنِكَ ও মাঝে আপনার and between you, سَأُنَبِّئُكَ শীঘ্রই আপনাকে জানিয়ে দিবো I will inform you, بِتَأْوِيلِ সম্পর্কে তাৎপর্য of (the) interpretation, مَا যে বিষয়ে (of) what, لَمْ নি not, تَسْتَطِع পারেন you were able, عَّلَيْهِ উপর তার on it, صَبْرًا ধৈর্য ধরতে (to have) patience ) 

 

(79)  أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ فَأَرَدتُّ أَنْ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَاءهُم مَّلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا নৌকাটির ব্যাপারে-সেটি ছিল কয়েকজন দরিদ্র ব্যক্তির। তারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষন করত। আমি ইচ্ছা করলাম যে, সেটিকে ক্রটিযুক্ত করে দেই। তাদের অপরদিকে ছিল এক বাদশাহ। সে বলপ্রয়োগে প্রত্যেকটি নৌকা ছিনিয়ে নিত। As for the boat, it belonged to certain men in dire want: they plied on the water: I but wished to render it unserviceable, for there was after them a certain king who seized on every boat by force.

( أَمَّا ব্যাপার হলো As for, ٱلسَّفِينَةُ নৌকাটির the ship, فَكَانَتْ অতঃপর সেটা ছিলো it was, لِمَسَٰكِينَ ক’জন গরীব ব্যক্তির of (the) poor people, يَعْمَلُونَ পরিশ্রম করতো working, فِى মধ্যে in,ٱلْبَحْرِ সমুদ্রের the sea, فَأَرَدتُّ সুতরাং আমি চেয়েছি So I intended, أَنْ যে that, أَعِيبَهَا তা ত্রুটিযুক্ত করি I cause defect (in) it, وَكَانَ এবং ছিলো (as there) was, وَرَآءَهُم পিছনে তাদের after them, مَّلِكٌ এক রাজা a king, يَأْخُذُ নিয়ে নিতো who seized, كُلَّ প্রত্যেক every, سَفِينَةٍ নৌকা ship, غَصْبًا জোর করে (by) force ) 

(80)  وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَا أَن يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا বালকটির ব্যাপার তার পিতা-মাতা ছিল ঈমানদার। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে অবাধ্যতা ও কুফর দ্বারা তাদেরকে প্রভাবিত করবে। As for the youth, his parents were people of Faith, and we feared that he would grieve them by obstinate rebellion and ingratitude (to Allah and man).

( وَأَمَّا আর ব্যাপার হলো And as for, ٱلْغُلَٰمُ ছেলেটির the boy, فَكَانَ অতঃপর ছিলো his parents were, أَبَوَاهُ তার পিতামাতা his parents were, مُؤْمِنَيْنِ দু’জন মু’মিন believers, فَخَشِينَآ তখন আমরা আশঙ্কা করলাম and we feared, أَن যে that, يُرْهِقَهُمَا তাদের দু’জনকে সে কষ্ট দিবে he would overburden them, طُغْيَٰنًا অবাধ্যতা করে (by) transgression, وَكُفْرًا ও অবিশ্বাস (পথে চলে) and disbelief )

 

(81)  فَأَرَدْنَا أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِّنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا অতঃপর আমি ইচ্ছা করলাম যে, তাদের পালনকর্তা তাদেরকে মহত্তর, তার চাইতে পবিত্রতায় ও ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর একটি শ্রেষ্ঠ সন্তান দান করুক। So we desired that their Lord would give them in exchange (a son) better in purity (of conduct) and closer in affection.

( فَأَرَدْنَآ সুতরাং আমরা চাইলাম So we intended, أَن যে that, يُبْدِلَهُمَا দু’জনকে পরিবর্তে দিবেন would change for them, رَبُّهُمَا দু’জনের রব their Lord, خَيْرًا উত্তম a better, مِّنْهُ তার চেয়ে than him, زَكَوٰةً পবিত্রতায় (in) purity, وَأَقْرَبَ এবং ঘনিষ্টতর and nearer, رُحْمًا দয়ার দিক থেকে (in) affection )

 

(82)  وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَنْ يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ذَلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِع عَّلَيْهِ صَبْرًا প্রাচীরের ব্যাপার-সেটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তারা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা। As for the wall, it belonged to two youths, orphans, in the Town; there was, beneath it, a buried treasure, to which they were entitled: their father had been a righteous man: So thy Lord desired that they should attain their age of full strength and get out their treasure – a mercy (and favour) from thy Lord. I did it not of my own accord. Such is the interpretation of (those things) over which thou wast unable to hold patience.

( وَأَمَّا আর ব্যাপার (হলো) And as for, ٱلْجِدَارُ দেয়ালটির (এই যে) the wall, فَكَانَ অতঃপর সেটা ছিলো it was, لِغُلَٰمَيْنِ দু’টি ছেলের for two orphan boys, يَتِيمَيْنِ পিতৃহীন for two orphan boys, فِى মধ্যে in, ٱلْمَدِينَةِ শহরটির the town, وَكَانَ এবং ছিলো and was, تَحْتَهُۥ নিচে তার underneath it, كَنزٌ গুপ্তধন a treasure, لَّهُمَا জন্যে দু’জনের for them, وَكَانَ এবং ছিলো and was, أَبُوهُمَا তাদের দু’জনের পিতা their father, صَٰلِحًا সৎ ব্যক্তি righteous, فَأَرَادَ সুতরাং চাইলেন So intended, رَبُّكَ আপনার রব your Lord, أَن যে that, يَبْلُغَآ দু’জনে পৌঁছবে they reach, أَشُدَّهُمَا দু’জনের যৌবনে তাদের their maturity, وَيَسْتَخْرِجَا এবং দু’জনে উদ্ধার করবে and bring forth, كَنزَهُمَا গুপ্তধন দু’জনের their treasure, رَحْمَةً (এটা) দয়া (as) a mercy, مِّن থেকে from, رَّبِّكَ আপনার রবের your Lord, وَمَا এবং না And not, فَعَلْتُهُۥ তা আমি করেছি I did it, عَنْ থেকে on, أَمْرِى আমার ইচ্ছা my (own) accord, ذَٰلِكَ এটা That, تَأْوِيلُ ব্যাখ্যা (is the) interpretation, مَا যে বিষয়ে (of) what, لَمْ নি not, تَسْطِع পারেন you were able, عَّلَيْهِ উপর তার on it, صَبْرًا ধৈর্য ধরতে” (to have) patience” )

 

(83)  وَيَسْأَلُونَكَ عَن ذِي الْقَرْنَيْنِ قُلْ سَأَتْلُو عَلَيْكُم مِّنْهُ ذِكْرًا তারা আপনাকে যুলকারনাইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুনঃ আমি তোমাদের কাছে তাঁর কিছু অবস্থা বর্ণনা করব। They ask thee concerning Zul-qarnain. Say, “I will rehearse to you something of his story.

( وَيَسْـَٔلُونَكَ এবং তোমাকে প্রশ্ন করছে And they ask you, عَن সম্বন্ধে about, ذِى বিশিষ্ট Dhul-qarnain, ٱلْقَرْنَيْنِ দুই গুচ্ছ Dhul-qarnain, قُلْ বলো Say, سَأَتْلُوا۟ “অচিরেই পাঠ করে শোনাবো “I will recite, عَلَيْكُم কাছে তোমাদের to you, مِّنْهُ থেকে তা about him, ذِكْرًا (কিছু) বর্ণনা” a remembrance” ) 

 

(84)  إِنَّا مَكَّنَّا لَهُ فِي الْأَرْضِ وَآتَيْنَاهُ مِن كُلِّ شَيْءٍ سَبَبًا আমি তাকে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের কার্যোপকরণ দান করেছিলাম। Verily We established his power on earth, and We gave him the ways and the means to all ends.

( إِنَّا নিশ্চয়ই আমরা Indeed We, مَكَّنَّا আমরা কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম [We] established, لَهُۥ তাকে [for] him, فِى মধ্যে in, ٱلْأَرْضِ পৃথিবীর the earth, وَءَاتَيْنَٰهُ এবং তাকে আমরা দিয়েছিলাম and We gave him, مِن থেকে of, كُلِّ প্রত্যেক every, شَىْءٍ বস্তু thing, سَبَبًا পথ নির্দেশ a means )

 

(85)  فَأَتْبَعَ سَبَبًا অতঃপর তিনি এক কার্যোপকরণ অবলম্বন করলেন। One (such) way he followed,

( فَأَتْبَعَ অতঃপর সে অনুসরণ করলো So he followed, سَبَبًا এক পথ a course

 

(86)  حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَمِئَةٍ وَوَجَدَ عِندَهَا قَوْمًا قُلْنَا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِمَّا أَن تُعَذِّبَ وَإِمَّا أَن تَتَّخِذَ فِيهِمْ حُسْنًا অবশেষে তিনি যখন সুর্যের অস্তাচলে পৌছলেন; তখন তিনি সুর্যকে এক পঙ্কিল জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি সেখানে এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন। আমি বললাম, হে যুলকারনাইন! আপনি তাদেরকে শাস্তি দিতে পারেন অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পারেন। Until, when he reached the setting of the sun, he found it set in a spring of murky water: Near it, he found a People: We said: “O Zul-qarnain! (thou hast authority,) either to punish them or to treat them with kindness.

( حَتَّىٰٓ শেষ পর্যন্ত Until, إِذَا যখন when, بَلَغَ পৌঁছলো he reached, مَغْرِبَ অস্তাচলে (the) setting place, ٱلشَّمْسِ সূর্যের (of) the sun, وَجَدَهَا পেলো তা he found it, تَغْرُبُ অস্ত যাচ্ছে setting, فِى মধ্যে in, عَيْنٍ জলাশয় a spring, حَمِئَةٍ পঙ্কিল (of) dark mud, وَوَجَدَ এবং সে পেলো and he found, عِندَهَا তার কাছে near it, قَوْمًا এক জাতিকে a community, قُلْنَا আমরা বললাম We said, يَٰذَا  ٱلْقَرْنَيْنِ “হে জুলকারনাইন “O Dhul-qarnain!, إِمَّآ হয় Either, أَن যে [that], تُعَذِّبَ তুমি শাস্তি দিবে you punish, وَإِمَّآ আর না হয় or, أَن যে [that], تَتَّخِذَ তুমি অবলম্বন করো you take, فِيهِمْ জন্যে তাদের [in] them, حُسْنًا সদ্ব্যবহার” (with) goodness” )

 

(87)  قَالَ أَمَّا مَن ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهُ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَى رَبِّهِ فَيُعَذِّبُهُ عَذَابًا نُّكْرًا তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘনকারী হবে আমি তাকে শাস্তি দেব। অতঃপর তিনি তাঁর পালনকর্তার কাছে ফিরে যাবেন। তিনি তাকে কঠোর শাস্তি দেবেন। He said: “Whoever doth wrong, he shall we punish; then shall he be sent back to his Lord; and He will punish him with a punishment unheard-of (before).

( قَالَ সে বললো He said, أَمَّا “ব্যাপারে “As for, مَن (তার) যে (one) who, ظَلَمَ সীমালঙ্ঘন করেছে wrongs, فَسَوْفَ অতঃপর শীঘ্রই then soon, نُعَذِّبُهُۥ তাকে আমরা শাস্তি দিবো we will punish him, ثُمَّ এরপর Then, يُرَدُّ ফিরিয়ে আনা হবে he will be returned, إِلَىٰ দিকে to, رَبِّهِۦ তার রবের his Lord, فَيُعَذِّبُهُۥ অতঃপর তিনি শাস্তি দিবেন তাকে and He will punish him, عَذَابًا শাস্তি (with) a punishment, نُّكْرًا কঠিন terrible ) 

 

(88)  وَأَمَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُ جَزَاء الْحُسْنَى وَسَنَقُولُ لَهُ مِنْ أَمْرِنَا يُسْرًا এবং যে বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম করে তার জন্য প্রতিদান রয়েছে কল্যাণ এবং আমার কাজে তাকে সহজ নির্দেশ দেব। But whoever believes, and works righteousness,- he shall have a goodly reward, and easy will be his task as We order it by our Command.

( وَأَمَّا আর ব্যাপারে But as for, مَنْ (তার) যে (one) who, ءَامَنَ ঈমান আনবে believes, وَعَمِلَ ও কাজ করে and does, صَٰلِحًا সৎ righteous (deeds), فَلَهُۥ তবে তার জন্যে then for him, جَزَآءً পুরস্কার (রয়েছে) (is) a reward, ٱلْحُسْنَىٰ উত্তম good, وَسَنَقُولُ এবং অচিরেই আমরা বলবো And we will speak, لَهُۥ তাকে to him, مِنْ মধ্য হ’তে from, أَمْرِنَا আমাদের নির্দেশের our command, يُسْرًا যা সহজ” (with) ease” )

(89)  ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا অতঃপর তিনি এক উপায় অবলম্বন করলেন। Then followed he (another) way,

( ثُمَّ এরপর Then, أَتْبَعَ সে অনুসরণ করলো he followed, سَبَبًا আরও এক পথ (a) course )

 

(90)  حَتَّى إِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلَى قَوْمٍ لَّمْ نَجْعَل لَّهُم مِّن دُونِهَا سِتْرًا অবশেষে তিনি যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছলেন, তখন তিনি তাকে এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদয় হতে দেখলেন, যাদের জন্যে সূর্যতাপ থেকে আত্নরক্ষার কোন আড়াল আমি সৃষ্টি করিনি। Until, when he came to the rising of the sun, he found it rising on a people for whom We had provided no covering protection against the sun.

( حَتَّىٰٓ শেষ পর্যন্ত Until, إِذَا যখন when, بَلَغَ পৌঁছে গেল he reached, مَطْلِعَ উদয়াচলে (the) rising place, ٱلشَّمْسِ সূর্যের (of) the sun, وَجَدَهَا সে তা পেলো and he found it, تَطْلُعُ উদয় হ’তে rising, عَلَىٰ উপর on, قَوْمٍ এক জাতির a community, لَّمْ নি not, نَجْعَل আমরা সৃষ্টি করি We made, لَّهُم জন্যে তাদের for them, مِّن ছাড়া against it, دُونِهَا তা against it, سِتْرًا কোনো আড়াল  any shelter)

(91)  كَذَلِكَ وَقَدْ أَحَطْنَا بِمَا لَدَيْهِ خُبْرًا প্রকৃত ঘটনা এমনিই। তার বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি। He left them) as they were: We completely understood what was before him.

( كَذَٰلِكَ এরূপ ছিলো Thus, وَقَدْ এবং নিশ্চয়ই And verily, أَحَطْنَا আমরা পূর্ণ অবগত আছি We encompassed, بِمَا ঐ বিষয় যা of what, لَدَيْهِ তার সাথে ছিলো (was) with him, خُبْرًا বিবরণ (of the) information )

 

(92)  ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا আবার তিনি এক পথ ধরলেন। Then followed he (another) way,

( ثُمَّ  এরপর Then, أَتْبَعَ সে অনুসরণ করলো he followed, سَبَبًا (আরও) এক পথ a course )

 

(93)  حَتَّى إِذَا بَلَغَ بَيْنَ السَّدَّيْنِ وَجَدَ مِن دُونِهِمَا قَوْمًا لَّا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا অবশেষে যখন তিনি দুই পর্বত প্রচীরের মধ্যস্থলে পৌছলেন, তখন তিনি সেখানে এক জাতিকে পেলেন, যারা তাঁর কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না। Until, when he reached (a tract) between two mountains, he found, beneath them, a people who scarcely understood a word.

( حَتَّىٰٓ অবশেষে Until, إِذَا যখন when, بَلَغَ পৌঁছে গেলো he reached, بَيْنَ মাঝে between, ٱلسَّدَّيْنِ দুই (পর্বত) প্রাচীরের the two mountains, وَجَدَ সে পেলো he found, مِن ছাড়াও besides them, دُونِهِمَا তাদের দু’য়ের besides them, قَوْمًا এক জাতিকে a community, لَّا না not, يَكَادُونَ নিকটেও হতো who would almost, يَفْقَهُونَ তারা বুঝার understand, قَوْلًا কথা (his) speech )

 

(94)  قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَى أَن تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا তারা বললঃ হে যুলকারনাইন, ইয়াজুজ ও মাজুজ দেশে অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আপনি বললে আমরা আপনার জন্যে কিছু কর ধার্য করব এই শর্তে যে, আপনি আমাদের ও তাদের মধ্যে একটি প্রাচীর নির্মাণ করে দেবেন। They said: “O Zul-qarnain! the Gog and Magog (People) do great mischief on earth: shall we then render thee tribute in order that thou mightest erect a barrier between us and them?

( قَالُوا۟ তারা বললো They said, يَٰذَا” ٱلْقَرْنَيْنِ “হে জুলকারনাইন “O Dhul-qarnain!, إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, يَأْجُوجَ ইয়াজুজ Yajuj, وَمَأْجُوجَ এবং মাজুজ and Majuj, مُفْسِدُونَ অশান্তি সৃষ্টিকারী (are) corrupters, فِى মধ্যে in, ٱلْأَرْضِ পৃথিবীর (এ অঙ্গনে) the land, فَهَلْ তবে কি So may, نَجْعَلُ আমরা দিবো we make, لَكَ তোমার জন্যে for you, خَرْجًا কর an expenditure, عَلَىٰٓ এই শর্তে [on], أَن যে that, تَجْعَلَ তুমি বানাবে you make, بَيْنَنَا মাঝে আমাদের between us, وَبَيْنَهُمْ এবং মাঝে তাদের and between them, سَدًّا একটি প্রাচীর” a barrier?” )

 

(95)  قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا তিনি বললেনঃ আমার পালনকর্তা আমাকে যে সামর্থø দিয়েছেন, তাই যথেষ্ট। অতএব, তোমরা আমাকে শ্রম দিয়ে সাহায্য কর। আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যে একটি সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মাণ করে দেব। He said: (The power) in which my Lord has established me is better (than tribute): Help me therefore with strength (and labor): I will erect a strong barrier between you and them

(  قَالَ সে বললো He said, مَا “যা “What, مَكَّنِّى আমাকে ক্ষমতা দিয়েছেন has established me, فِيهِ মধ্যে তার [in it], رَبِّى আমার রব my Lord, خَيْرٌ (তাই) উৎকৃষ্ট (is) better, فَأَعِينُونِى সুতরাং আমাকে তোমরা সাহায্য করো but assist me, بِقُوَّةٍ দিয়ে শ্রম with strength, أَجْعَلْ বানাবো আমি I will make, بَيْنَكُمْ মাঝে তোমাদের between you, وَبَيْنَهُمْ এবং মাঝে তাদের and between them, رَدْمًا শক্ত দেয়াল a barrier ) 

 

(96)  آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ حَتَّى إِذَا سَاوَى بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انفُخُوا حَتَّى إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ آتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا তোমরা আমাকে লোহার পাত এনে দাও। অবশেষে যখন পাহাড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থান পূর্ণ হয়ে গেল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাক। অবশেষে যখন তা আগুনে পরিণত হল, তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তামা নিয়ে এস, আমি তা এর উপরে ঢেলে দেই। Bring me blocks of iron.” At length, when he had filled up the space between the two steep mountain-sides, He said, “Blow (with your bellows)” Then when he had made it (red) as fire, he said: “Bring me, that I may pour over it, molten lead.

( ءَاتُونِى আমাকে এনে দাও Bring me, زُبَرَ পাতসমূহ sheets, ٱلْحَدِيدِ লোহার” (of) iron”, حَتَّىٰٓ অবশেষে until, إِذَا যখন when, سَاوَىٰ সমান হলো he (had) leveled, بَيْنَ মাঝে between, ٱلصَّدَفَيْنِ পাহাড়ের ফাঁকা জায়গা দুই the two cliffs, قَالَ সে বললো he said, ٱنفُخُوا۟ “তোমরা (হাপরে) দম দাও” “Blow”, حَتَّىٰٓ অবশেষে until, إِذَا যখন when, جَعَلَهُۥ তা পরিণত করলো he made it, نَارًا আগুনের মতো fire, قَالَ সে বললো he said, ءَاتُونِىٓ “আমাকে এনে দাও “Bring me, أُفْرِغْ আমি ঢেলে দেই I pour, عَلَيْهِ উপর তার over it, قِطْرًا গলানো তামা” molten copper” )

 

(97)  فَمَا اسْطَاعُوا أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا অতঃপর ইয়াজুজ ও মাজুজ তার উপরে আরোহণ করতে পারল না এবং তা ভেদ করতে ও সক্ষম হল না।Thus were they made powerless to scale it or to dig through it.

( فَمَا অতঃপর না So not, ٱسْطَٰعُوٓا۟ তারা সক্ষম হলো they were able, أَن যে to, يَظْهَرُوهُ তা তারা অতিক্রম করবে scale it, وَمَا এবং না and not, ٱسْتَطَٰعُوا۟ তারা সক্ষম হলো they were able, لَهۥ মধ্যে তার in it, نَقْبًا ছিদ্র করতে (to do) any penetration )

 

(98)  قَالَ هَذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي فَإِذَا جَاء وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاء وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য। He said: “This is a mercy from my Lord: But when the promise of my Lord comes to pass, He will make it into dust; and the promise of my Lord is true.

( قَالَ সে বললো He said, هَٰذَا “এটা “This, رَحْمَةٌ অনুগ্রহ (is) a mercy,  مِّن পক্ষ হ’তে from, رَّبِّى আমার রবের my Lord, فَإِذَا অতঃপর যখন But when, جَآءَ আসবে comes, وَعْدُ প্রতিশ্রুতি (the) Promise, رَبِّى আমার রবের (of) my Lord, جَعَلَهُۥ তা করে দিবেন He will make it, دَكَّآءَ চূর্ণবিচূর্ণ level, وَكَانَ এবং হলো And is, وَعْدُ প্রতিশ্রুতি (the) Promise, رَبِّى আমার রবের (of) my Lord, حَقًّا সত্য” true” )

 

(99)  وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا আমি সেদিন তাদেরকে দলে দলে তরঙ্গের আকারে ছেড়ে দেব এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সবাইকে একত্রিত করে আনব। On that day We shall leave them to surge like waves on one another: the trumpet will be blown, and We shall collect them all together.

( وَتَرَكْنَا এবং আমরা ছেড়ে দিববো And We (will) leave, بَعْضَهُمْ তাদের কাউকে some of them, يَوْمَئِذٍ সেদিন (on) that Day, يَمُوجُ তরঙ্গের মত পড়বে to surge, فِى মধ্যে over, بَعْضٍ কারও others, وَنُفِخَ এবং ফুঁ দেয়া হবে and (will be) blown, فِى মধ্যে in, ٱلصُّورِ শিঙ্গার the trumpet, فَجَمَعْنَٰهُمْ অতঃপর আমরা একত্র করবো তাদেরকে then We (will) gather them, جَمْعًا একসঙ্গে all together)

 

(100)  وَعَرَضْنَا جَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لِّلْكَافِرِينَ عَرْضًا সেদিন আমি কাফেরদের কাছে জাহান্নামকে প্রত্যক্ষ ভাবে উপস্থিত করব। And We shall present Hell that day for Unbelievers to see, all spread out,

( وَعَرَضْنَا এবং আমরা পেশ করবো And We (will) present, جَهَنَّمَ জাহান্নামকে Hell, يَوْمَئِذٍ সেদিন (on) that Day, لِّلْكَٰفِرِينَ জন্যে কাফিরদের to the disbelievers, عَرْضًا প্রত্যক্ষভাবে (on) display )

 

(101)  الَّذِينَ كَانَتْ أَعْيُنُهُمْ فِي غِطَاء عَن ذِكْرِي وَكَانُوا لَا يَسْتَطِيعُونَ سَمْعًا যাদের চক্ষুসমূহের উপর পর্দা ছিল আমার স্মরণ থেকে এবং যারা শুনতেও সক্ষম ছিল না (Unbelievers) whose eyes had been under a veil from remembrance of Me, and who had been unable even to hear.

( ٱلَّذِينَ যাদের Those, كَانَتْ ছিলো had been, أَعْيُنُهُمْ চোখগুলোর তাদের their eyes, فِى মধ্যে within, غِطَآءٍ পর্দা a cover, عَن থেকে from, ذِكْرِى আমার স্মরণ My remembrance, وَكَانُوا۟ এবং তারা ছিলো and were, لَا না not, يَسْتَطِيعُونَ সক্ষম হতো able, سَمْعًا শুনতে (to) hear ) 

 

(102)  أَفَحَسِبَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَن يَتَّخِذُوا عِبَادِي مِن دُونِي أَوْلِيَاء إِنَّا أَعْتَدْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ نُزُلًا কাফেররা কি মনে করে যে, তারা আমার পরিবর্তে আমার বান্দাদেরকে অভিভাবক রূপে গ্রহণ করবে? আমি কাফেরদের অভ্যর্থনার জন্যে জাহান্নামকে প্রস্তুত করে রেখেছি। Do the Unbelievers think that they can take My servants as protectors besides Me? Verily We have prepared Hell for the Unbelievers for (their) entertainment.

( أَفَحَسِبَ কি মনে করেছে Do then think, ٱلَّذِينَ যারা those who, كَفَرُوٓا۟ অস্বীকার করেছে disbelieve, أَن যে that, يَتَّخِذُوا۟ তারা গ্রহণ করবে they (can) take, عِبَادِى আমার দাসদেরকে My servants, مِن ছাড়া besides Me, دُونِىٓ আমাকে besides Me, أَوْلِيَآءَ অভিভাবকরূপে (as) protectors?, إِنَّآ নিশ্চয়ই আমরা Indeed, We, أَعْتَدْنَا আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি We have prepared, جَهَنَّمَ জাহান্নামকে Hell, لِلْكَٰفِرِينَ জন্যে কাফিরদের for the disbelievers, نُزُلًا মেহমানদারী হিসেবে (as) a lodging )

 

(103)  قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا বলুনঃ আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেব, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। Say: “Shall we tell you of those who lose most in respect of their deeds?

( قُلْ বলো Say, هَلْ “কি “Shall, نُنَبِّئُكُم খবর দিবো আমরা তোমাদেরকে We inform you, بِٱلْأَخْسَرِينَ সম্বন্ধে খুবই ক্ষতিগ্রস্তদের of the greatest losers, أَعْمَٰلًا কর্মসমূহে (as to their) deeds? )

 

(104)  الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিবজীবনে বিভ্রান্ত হয়, অথচ তারা মনে করে যে, তারা সৎকর্ম করেছে। Those whose efforts have been wasted in this life, while they thought that they were acquiring good by their works?

( ٱلَّذِينَ যাদের Those -, ضَلَّ পন্ড হয়েছে is lost, سَعْيُهُمْ তাদের প্রচেষ্টা their effort, فِى মধ্যে in, ٱلْحَيَوٰةِ জীবনের the life, ٱلدُّنْيَا পার্থিব (of) the world, وَهُمْ অথচ তারা while they, يَحْسَبُونَ মনে করে think, أَنَّهُمْ যে তারা that they, يُحْسِنُونَ উত্তম করছে (were) acquiring good, صُنْعًا কর্ম” (in) work” )

 

(105)  أُولَئِكَ الَّذِينَ كَفَرُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَلِقَائِهِ فَحَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا তারাই সে লোক, যারা তাদের পালনকর্তার নিদর্শনাবলী এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের বিষয় অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়। সুতরাং কেয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোন গুরুত্ব স্থির করব না। They are those who deny the Signs of their Lord and the fact of their having to meet Him (in the Hereafter): vain will be their works, nor shall We, on the Day of Judgment, give them any weight.

( أُو۟لَٰٓئِكَ ঐসব লোক Those, ٱلَّذِينَ (তারাই) যারা (are) the ones who, كَفَرُوا۟ অস্বীকার করেছে disbelieve, بِـَٔايَٰتِ নিদর্শনসমূহকে in the Verses, رَبِّهِمْ তাদের রবের (of) their Lord, وَلِقَآئِهِۦ ও তার সাক্ষাত and the meeting (with) Him, فَحَبِطَتْ তাই নিষ্ফল হয়েছে So (are) vain, أَعْمَٰلُهُمْ তাদের কাজগুলো their deeds, فَلَا সুতরাং না so not, نُقِيمُ দাঁড় করাববো আমরা We will assign, لَهُمْ জন্যে তাদের for them, يَوْمَ দিনে (on) the Day, ٱلْقِيَٰمَةِ ক্বিয়ামাতের (of) the Resurrection, وَزْنًا ওজন any weight )

 

(106)  ذَلِكَ جَزَاؤُهُمْ جَهَنَّمُ بِمَا كَفَرُوا وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَرُسُلِي هُزُوًا  জাহান্নাম-এটাই তাদের প্রতিফল; কারণ, তারা কাফের হয়েছে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও রসূলগণকে বিদ্রূপের বিষয় রূপে গ্রহণ করেছে। That is their reward, Hell, because they rejected Faith, and took My Signs and My Messengers by way of jest.

( ذَٰلِكَ এটাই That,  جَزَآؤُهُمْ প্রতিফল তাদের (is) their recompense -, جَهَنَّمُ জাহান্নাম Hell -, بِمَا কারণে এ যা because, كَفَرُوا۟ অস্বীকার করেছে they disbelieved, وَٱتَّخَذُوٓا۟ ও গ্রহণ করেছে and took, ءَايَٰتِى আমার নিদর্শনাবলী My Verses, وَرُسُلِى এবং আমার রাসুলদেরকেও and My Messengers, هُزُوًا বিদ্রুপরূপে (in) ridicule )

 

(107)  إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ كَانَتْ لَهُمْ جَنَّاتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস। As to those who believe and work righteous deeds, they have, for their entertainment, the Gardens of Paradise,

( إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, ٱلَّذِينَ যারা those who, ءَامَنُوا۟ ঈমান এনেছে believed, وَعَمِلُوا۟ ও কাজ করেছে and did, ٱلصَّٰلِحَٰتِ সৎ righteous deeds, كَانَتْ রয়েছে for them will be, لَهُمْ জন্যে তাদের for them will be, جَنَّٰتُ জান্নাতসমূহ Gardens, ٱلْفِرْدَوْسِ ফিরদৌসের (of) the Paradise, نُزُلًا আপ্যায়নরূপে (as) a lodging )

 

(108)  خَالِدِينَ فِيهَا لَا يَبْغُونَ عَنْهَا حِوَلًا সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, সেখান থেকে স্থান পরিবর্তন করতে চাইবে না। Wherein they shall dwell (for aye): no change will they wish for from them.

( خَٰلِدِينَ তারা চিরস্থায়ী হবে Abiding forever, فِيهَا মধ্যে তার in it, لَا না Not, يَبْغُونَ তারা চাইবে they will desire, عَنْهَا থেকে তা from it, حِوَلًا স্থানান্তর any transfer)

 

(109)  قُل لَّوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِّكَلِمَاتِ رَبِّي لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَن تَنفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي وَلَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا বলুনঃ আমার পালনকর্তার কথা, লেখার জন্যে যদি সমুদ্রের পানি কালি হয়, তবে আমার পালনকর্তার কথা, শেষ হওয়ার আগেই সে সমুদ্র নিঃশেষিত হয়ে যাবে। সাহায্যার্থে অনুরূপ আরেকটি সমুদ্র এনে দিলেও। Say: “If the ocean were ink (wherewith to write out) the words of my Lord, sooner would the ocean be exhausted than would the words of my Lord, even if we added another ocean like it, for its aid.

( قُل বলো Say, لَّوْ “যদি “If, كَانَ হয় were, ٱلْبَحْرُ সমুদ্র the sea, مِدَادًا (লেখার) কালি ink, لِّكَلِمَٰتِ কথাসমূহ (লেখার জন্যে) for (the) Words, رَبِّى আমার রবের (of) my Lord, لَنَفِدَ অবশ্যই নিঃশেষ হয়ে যাবে surely (would be) exhausted, ٱلْبَحْرُ সমুদ্র the sea, قَبْلَ পূর্বেই before, أَن যে [that], تَنفَدَ শেষ হবে (were) exhausted, كَلِمَٰتُ কথাসমূহ (the) Words, رَبِّى আমার রবের (of) my Lord, وَلَوْ এবং যদিও even if, جِئْنَا আমরা আসতাম We brought, بِمِثْلِهِۦ নিয়ে তার সমান (সমুদ্র) (the) like (of) it, مَدَدًا সাহায্যার্থে” (as) a supplement” )

 

(110)  قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِّثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاء رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا  বলুনঃ আমি ও তোমাদের মতই একজন মানুষ, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে, তোমাদের ইলাহই একমাত্র ইলাহ। অতএব, যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন, সৎকর্ম সম্পাদন করে এবং তার পালনকর্তার এবাদতে কাউকে শরীক না করে। Say: “I am but a man like yourselves, (but) the inspiration has come to me, that your Allah is one Allah. whoever expects to meet his Lord, let him work righteousness, and, in the worship of his Lord, admit no one as partner.

( قُلْ বলো Say, إِنَّمَآ “শুধুমাত্র “Only, أَنَا۠ আমি I, بَشَرٌ একজন মানুষ (am) a man, مِّثْلُكُمْ মতো তোমাদের like you, يُوحَىٰٓ ওহী করা হয় Has been revealed, إِلَىَّ আমার প্রতি to me, أَنَّمَآ যে that, إِلَٰهُكُمْ ইলাহ তোমাদের your God, إِلَٰهٌ ইলাহ (is) God, وَٰحِدٌ একই One, فَمَن সুতরাং যে কেউ So whoever, كَانَ সে ছিলো is, يَرْجُوا۟ কামনা করে hoping, لِقَآءَ সাক্ষাত (for the) meeting, رَبِّهِۦ তার রবের (with) his Lord, فَلْيَعْمَلْ অতঃপর সে কাজ করে যেন let him do, عَمَلًا কাজ deeds, صَٰلِحًا নেক righteous, وَلَا এবং না and not, يُشْرِكْ শির্‌ক করে associate, بِعِبَادَةِ ক্ষেত্রে তার ইবাদাতের in (the) worship, رَبِّهِۦٓ তার রবের (of) his Lord, أَحَدًۢا (অন্য) কাউকে” anyone” )

 

কুরআনের ১৮ নম্বর সূরা ‘সূরা কাহাফ’। এটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়। এর আয়াত সংখ্যা ১১০। হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, এ পুর্ণাঙ্গ সূরাটি এক সঙ্গে নাজিল হয়েছে এবং এর সঙ্গে ৭০ হাজার ফিরিস্তা দুনিয়াতে আগমন করেছেন। এ সূরার কিছু তথ্য জাগো নিউজে তুলে ধরা হলো-

 

সূরা কাহাফের শানে নুযূল-বিষয়বস্তু ও ফজিলত


কাহাফ শব্দের অর্থ:


সূরা কাহাফ: [الكهف] -কাহাফ সেই সমস্ত গুহাকে বলা হয়, যা পাহাড়ের ভিতরে থাকে । যেহতু লোকেরা আসহাবে কাহাফের নাম ও তাঁদের ঘটনা একটি ফলকের উপর লিখে তা সেই গুহার মুখে রেখে দিয়েছিল, তাই তাঁদেরকে আসহাবে কাহাফ ও আসহাবে রকিম বলা হয় ।
আসহাবে কাহাফ ও আসহাবে রকিম একই দলের দুইটি নাম । গুহার অধিবাসী হওয়ায় আসহাবে কাহাফ বলা হয় । আর যেহতু একটি ফলকে তাঁদের নাম লিপিবদ্ধ ছিল এ কারণে তাঁদেরকে আসহাবে রকিম বলা হয় ।
(তাফসীরে মা’আরিফুল কুরআন ‘কান্ধলভী’: খণ্ড- ৪, পৃষ্ঠা- ৩৮৮)

নামকরণের কারণ:

যেহতু এ সূরাতে আসহাবে কাহাফের ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে, সে কারণেই এ সূরাকে সূরা কাহাফ নামকরণ করা হয়েছে ।

সূরা কাহাফের আয়াত ও রুকু’ সংখ্যা:


এ সূরাটিতে ১১০ বা ১১৫টি আয়াত রয়েছে । আর রুকু’ রয়েছে ১২টি ।
এ সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে, তবে واصبر نفسك এ আয়াতটি মক্কী নয় ।

সূরা কাহাফের বিষয়বস্তু:


আসহাবে কাহাফ সম্পর্কে কাফেরদের করা প্রশ্নের উদ্দেশ্য ছিল নবী কারিম সা. এর নবুওয়াত ও রিসালাতকে অস্বীকার করা । তাই এ সূরার শুরুতে পবিত্র কুরআন নাযিল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে । কারণ, পবিত্র কুরআন নবী কারিম সা. এর নবুওয়াত ও রিসালাতের সর্বশ্রেষ্ঠ দলিল । এরপর আসহাবে কাহাফের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে ।আসহাবে কাহাফের ঘটনা দ্বারা মানবজাতির পুনরুত্থানের কথা প্রমাণ করা উদ্দেশ্য ছিল । তাই আসহাবে কাহাফের বর্ণনার পর দুনিয়ার অস্তিত্ব এবং আখেরাতের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে ।
যেমনিভাবে রূহ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ইরশাদ হয়েছে- وما اوتيتم من العلم الا قليلا
অর্থ: ‘তোমাদেরকে অল্পমাত্র জ্ঞান দান করা হয়েছে ।’ তেমনিভাবে আসহাবে কাহাফের বর্ণনার পর এ সূরায় হযরত মুসা আলাইহিস সাল্লাম ও হযরত খিজির আলাইহিস সালামের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে । যেন এ সত্য সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা’য়ালা বান্দাকে যে জ্ঞান দান করেছেন তা অতি সামান্য । কোন ব্যক্তিকে আল্লাহ তা’য়ালা যে বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান দিয়েছেন, অন্য ব্যক্তিকে তেমন জ্ঞান না দিয়ে ভিন্ন জ্ঞান দিয়েছেন । হযরত মুসা আ. ও হযরত খিজির আলাইহিস সালামের এই ঘটনা এ কথাযই প্রমাণ করে যে, মানুষকে আল্লাহ তা’য়ালা অতি সামান্য ইলম/জ্ঞানই দান করেছেন । এ সূরার শেষাংশে জুলকারনাইনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে । এরপর কেয়ামত ও আখেরাতের অবস্থা বর্ণিত হয়েছে । অবশেষে তাওহীদ-একত্ববাদ ও রিসালাতের বর্ণনার মাধ্যমে এ সূরা সমাপ্ত করা হয়েছে ।

সূরা কাহাফের শানে নুযূল:
ইবনে জারির ইকরিমা সূত্রে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা: এর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন- কুরাইশ গোত্রের লোকেরা নযর ইবনে হারেস ও ওকবা ইবনে আবু মুঈত নামক দুই ব্যক্তিকে এই নির্দেশ দিয়ে মদিনায় পাঠায় যে, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মাদ সা: এর অবস্থা মদিনার ইহুদি ধর্মযাজকদের কাছে বর্ণা করো এবং তাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করো । কারণ তাদের কাছে জ্ঞানের যে ভাণ্ডার রয়েছে আমাদের কাছে তা নেই । আর তারা তাঁর ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত দেয় তা আমাদেরকে জানাও । এরপর উভয় দূত যথাসময়ে মদিনায় পৌঁছে ইহুদি ধর্মযাজকদের সাথে সাক্ষাৎ করে নবী সা: এর অবস্থা তাদের কাছে বর্ণনা করে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে । তখন ইহুদি ধর্মযাজকরা বললো- তোমরা তাঁকে তিনটি প্রশ্ন করো । যদি তিনি এ তিনটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেন তাহলে নিশ্চিতভাবে জেনে রাখো, তিনি অবশ্যই আল্লাহর প্রেরিত রাসূল । আর যদি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তিনি দিতে না পারেন, তাহলে জেনে রাখো, তিনি সত্য নবী নন ।

প্রশ্ন তিনটি নিম্নরূপ-
১. সেই যুবকগণ কারা ছিলেন, যারা পূর্বে বিদায় নিয়েছেন এবং যাদের ঘটনা সারা পৃথিবীতে অত্যন্ত বিস্ময়কর ? আর সেই ঘটনাগুলো কী ?
২. সে ব্যক্তি কে, যিনি সারা পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম পর্যন্ত ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং তাঁর ঘটনাবলি কী ?
৩. রূহের তাৎপর্য কী ?

কুরাইশদের প্রেরিত দুই ব্যক্তি মক্কায় ফিরে এসে কুরাইশদেরকে তাদের ভ্রমণের ফলাফল জানিয়ে দেয় । এরপর তারা রাসূল সা: কে এই তিনটি প্রশ্ন করে । উত্তরে রাসূল সা: বললেন ‘আমি আগামীকাল বলবো ।’ কিন্তু তিনি ইনশাআল্লাহ বললেন না । তাই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে পনেরো দিন বিলম্ব হয় । এর মাঝে হযরত জিবরাঈল আ: ও আসেননি এবং আল্লাহ তা’য়ালা কোন ওহীও প্রেরণ করেননি । তখন নবী কারিম সা: অত্যন্ত অস্থির হয়ে পড়েন । আর এদিকে দুর্বৃত্ত কাফেররা ভিত্তিহীন-বানোয়াট কথাবার্তা ছড়াতে শুরু করে । অবশেষে আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে হযরত জিবরাঈল আ: সূরা কাহাফ নিয়ে অবতরণ করেন । এই সূরায় প্রথম দু’টি প্রশ্নের উত্তর রয়েছে । রূহ সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর সূরা বনী ইসরাঈলে আলোচনা করা হয়েছে । (তাফসিরে মাযহারী: খণ্ড-৭, পৃষ্ঠা-১৬৮)

সূরা কাহাফের ফজিলত:
হাদিস শরীফে সূরা কাহাফের অনেক ফজিলত বর্ণিত আছে ।
°মুসনাদে আহমদে বর্ণিত আছে- এক সাহাবী এ সূরা তেলাওয়াত করছিলেন তখন তার ঘরে একটি চতুষ্পদ জন্তু ছিল সেটি ছুটাছুটি করতে লাগল । সাহাবী লক্ষ্য করলেন আকাশে তার ঘরের উপরে একটি মেঘ-খন্ড শামিয়ানার মত ছায়া বিস্তার করে আছে । উক্ত সাহাবী নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যখন এই ঘটনা বর্ণনা করলেন তখন তিনি ইরশাদ করলেন- এটি সাকিনা (শান্তি), কুরআনে কারীম তেলাওয়াতের কারণে যা আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে নাযিল হয়েছে । বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত আছে, উক্ত সাহাবীর নাম ছিল হযরত ওবায়েদ ইবনে হুজায়ের রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু ।

°মুসনাদে আহমদের আরেক বর্ণনায় আছে- যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করবে, তাকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা করা হবে । তবে তিরমিযীতে তিন আয়াতের কথা উল্লেখ রয়েছে ।

°মুসনাদে আহমদে আরো বর্ণিত আছে- যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম ও শেষ অংশ তেলাওয়াত করবে, তার জন্য তা মাথা থেকে পা পর্যন্ত নুর হবে । আর যে সম্পূর্ণ সূরা তেলাওয়াত করবে সে জমিন থেকে আসমান পর্যন্ত নুর লাভ করবে । ইবনে মারদাওয়াইহ্ রহ. থেকে বর্ণিত- জুময়া’র দিন যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করবে তার পায়ের তলা থেকে আসমান পর্যন্ত এমন নূর প্রদান করা হবে যা কিয়ামতের দিন অতি উজ্জ্বল হবে এবং পরবর্তী জুম’য়া পর্যন্ত তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে ।

°হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত- যে ব্যক্তি জুম’য়ার দিন সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করে, তার নিকট থেকে নিয়ে বায়তুল্লাহ শরীফ পর্যন্ত নূরে পরিপূর্ণ হয়ে যায় ।
°হাকেম রহ. আরেকটি হাদীস বর্ণনা করেছেন- যে ব্যক্তি জুম’য়ার দিনে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করে, তার জন্য দুই জুম’য়ার মধ্যবর্তী সময়টুকু আলোকিত থাকবে ।
°ইবনে মারদাওয়াইহ্ রহ. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন- যে ঘরে এই সূরা কোন রাতে তেলাওয়াত করা হয়, সে ঘরে সে রাতে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না ।

°মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ, আহমদ, ইবনে হিব্বান রহ. প্রমুখ হযরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন- নবী কারিম সা: এরশাদ করেছেন- যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করবে, তাকে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা করা হবে । আরেক বর্ণনায় একথাটি সূরা কাহাফের শেষ দশটি আয়াত সম্পর্কে বলা হয়েছে ।
°হযরত কাতাদা রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত আছে- সূরা কাহাফ মক্কায় নাযিল হয়েছে । আর এ সূরা সম্পর্কে নবী কারিম সল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- আমি কি সেই সূরা সম্পর্কে তোমাদেরকে বলবো না যা নাযিল হওয়ার সময় সত্তর হাজার ফেরেশতা অবতরণ করেছিলেন ? তা হলো সূরা কাহাফ ।
°আরো বর্ণিত আছে- যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ লিখে একটি বোতলে সংরক্ষণ করে নিজ ঘরে রাখবে, সে কারো মুখাপেক্ষী হবে না এবং ঋণগ্রস্তও হবেনা । আর তার পরিবারবর্গকে কেউ কষ্ট দিতে পারবে না ।

(তাফসীরে জালালাইন: খণ্ড-৪, পৃষ্ঠা-১৮)

সূরা কাহাফের চার কাহিনী

রাসূল (সা.) বলেছেন,

“যে সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে, সে দাজ্জালের ফেতনা থেকে রক্ষা পাবে।” (মুসলিম)

কুরআনের ১১৪টি সূরার মধ্যে ১৮তম সূরা সূরা আল-কাহাফ। এই সূরার মধ্যে চারটি কাহিনী বর্ণিত আছে। এই চারটি কাহিনীর মধ্যেই আমাদের জন্য একটি করে মৌলিক শিক্ষা রয়েছে। এখানে সংক্ষেপে এই চারটি কাহিনী বর্ণনা করা হল।

 

১. আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীদের কাহিনী- বিশ্বাসের পরীক্ষা

এটি একদল যুবকের কাহিনী যারা নিজেদের ঈমানকে রক্ষার জন্য নিজেদের ঘর ছেড়ে একমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে পর্বতের গুহাবাসী হয়েছিল। গুহায় আশ্রয় নেওয়ার পর তারা ঘুমিয়ে পড়লে আল্লাহ তাদেরকে ৩০০ বছর ঘুমের মধ্যে রাখেন।

৩০০ বছর পর ঘুম থেকে তারা জেগে তাদের মধ্যে একজনকে শহর থেকে খাবার আনার জন্য পাঠালেন। তারা চিন্তা করেছিলেন, তারা হয়তো একদিন বা তার থেকে কম সময় ঘুমিয়ে কাটিয়েছেন।

খাবার আনতে যাওয়া ব্যক্তি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শহরের বাজারে যান, যাতে করে কেউ তাকে চিনে তার ক্ষতি করতে না পারে। কিন্তু তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একদল মানুষের মাঝে আবিষ্কার করেন এবং দোকানদার তার কাছে পুরাতন মুদ্রা পেয়ে তাকে পাকড়াও করে, মুদ্রা গুলো তিনি কোথায় পেয়েছেন জানতে চেয়ে।  

মূলত এই কাহিনীতে দেখানো হয়েছে, আল্লাহ তার উপর ভরসাকারী বান্দাদেরকে কি করে চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করেন। বাইবেলে এই কাহিনীটি এফসুসের সাত ঘুমন্ত ব্যক্তি শিরোনামে বর্ণিত হয়েছে। কুরআনে এ সম্পর্কে বলা হয়,

“আপনি কি ধারণা করেন যে, গুহা ও গর্তের অধিবাসীরা আমার নিদর্শনাবলীর মধ্যে বিস্ময়কর ছিল? যখন যুবকরা পাহাড়ের গুহায় আশ্রয়গ্রহণ করে তখন দোআ করে, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদেরকে নিজের কাছ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্যে আমাদের কাজ সঠিকভাবে পূর্ণ করুন। তখন আমি কয়েক বছরের জন্যে গুহায় তাদের কানের উপর নিদ্রার পর্দা ফেলে দেই।” (সূরা কাহাফ, আয়াত: ৯-১১)

শিক্ষাঃ ঈমানের উপর পরীক্ষা।

 

২. দুই বাগানের মালিকের কাহিনী- সম্পদের পরীক্ষা

“আপনি তাদের কাছে দুই ব্যক্তির উদাহরণ বর্ণনা করুন। আমি তাদের একজনকে দুটি আঙ্গুরের বাগান দিয়েছি এবং এ দুটিকে খেজুর গাছ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছি এবং দুইয়ের মাঝখানে করেছি শস্যক্ষেত্র। উভয় বাগানই ফলদান করে এবং তা থেকে কিছুই হ্রাস করত না এবং উভয়ের ফাঁকে ফাঁকে আমি নহর প্রবাহিত করেছি। সে ফল পেল। অতঃপর কথা প্রসঙ্গে সঙ্গীকে বলল, আমার ধন-সম্পদ তোমার চাইতে বেশী এবং জনবলে আমি অধিক শক্তিশালী।” (সূরা কাহাফ, আয়াত: ৩২-৩৪)

ধনবান লোকটি তার সম্পদের জন্য আল্লাহর শোকর করতে ভুলে গিয়ে নিজেই অহংকারে নিমজ্জিত হয়েছিল। ফলে আল্লাহ তার বাগানকে ধ্বংস করে দেন। এই কাহিনী তাদের জন্য শিক্ষণীয়, যারা দুনিয়ার সম্পদ পেয়ে আল্লাহকে ভুলে যায় এবং অহংকারে লিপ্ত হয়।

শিক্ষাঃ সম্পদের উপর পরীক্ষা।

 

৩. মুসা ও খিজির (আ.) এর কাহিনী- জ্ঞানের পরীক্ষা

হাদীসে এসেছে, একবার হযরত মুসা (আ.) বনী ইসরাইলের সমাবেশে তাদের হেদয়াতের জন্য কথা বলছিলেন। এসময় তাকে প্রশ্ন করা হল, দুনিয়া সবচেয়ে জ্ঞানী ব্যক্তি কে। তিনি জবাব দিয়েছিলেন, “আমি।” মুসা (আ.) এর উত্তরের জন্য আল্লাহ তাকে তিরস্কার করেন এবং বলেন, দুই সমুদ্রের সংযোগস্থলে তার চেয়ে অধিক  জ্ঞানী আল্লাহর এক বান্দা আছে। মুসা (আ.) তার সাথে সাক্ষাত করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে আল্লাহ তখন তার বান্দা খিজির (আ.) এর সাথে সাক্ষাতের জন্য নির্দেশনা দান করেন।

কুরআনে বলা হয়েছে,

“অতঃপর তাঁরা আমার বান্দাদের মধ্যে এমন একজনের সাক্ষাত পেলেন, যাকে আমি আমার পক্ষ থেকে রহমত দান করেছিলাম ও আমার পক্ষ থেকে দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান। মূসা তাঁকে বললেন, আমি কি এ শর্তে আপনার অনুসরণ করতে পারি যে, সত্যপথের যে জ্ঞান আপনাকে শেখানো হয়েছে, তা থেকে আমাকে কিছু শিক্ষা দেবেন?” (সূরা কাহাফ, আয়াত: ৬৫-৬৬)

এখানে মূলত আল্লাহ জ্ঞানের প্রকাশে বিনীত হতে এবং তা নিয়ে কখনো অহংকারের প্রকাশ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা প্রদান করেছেন।

শিক্ষাঃ জ্ঞানের উপর পরীক্ষা।

 

৪. যুলকারনাইনের কাহিনী- ক্ষমতার পরীক্ষা

কুরআনে বর্ণিত যুলকারনাইন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন, যিনি পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিশাল এক সাম্রাজ্যের অধিপতি ছিলেন। কুরআনে তার তিনটি অভিযানের কথা বর্ণিত আছে।

কুরআনে বর্ণিত তার শেষ অভিযানে তিনি দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী একটি স্থানে এসে উপস্থিত হন। সেখানকার অধিবাসীরা তাকে জানায়, দুই পাহাড়ের মধ্যবর্তী গিরিপথ ধরে দুইটি অসভ্য জাতি ইয়াজুজ ও মাজুজের লোকেরা এসে তাদের লুটপাট করে। তারা ইয়াজুজ-মাজুজের আক্রমন থেকে বাঁচার জন্য যুলকারনাইনের সাহায্য চায়। যুলকারনাইন তাদেরকে সাহায্য করার জন্য সম্মত হন।

যুলকারনাইন কখনোই তার ক্ষমতার জন্য গর্বিত ছিলেন না। ইয়াজুজ-মাজুজের আক্রমনের বিরুদ্ধে দুই পাহাড়ের মাঝে তার প্রাচীর তৈরির পর তার বক্তব্য থেকে প্রকাশ পায় আল্লাহর প্রতি তার ভরসা ও আনুগত্য।

“যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার পালনকর্তার অনুগ্রহ। যখন আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুত সময় আসবে, তখন তিনি একে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেবেন এবং আমার পালনকর্তার প্রতিশ্রুতি সত্য।” (সূরা কাহাফ, আয়াত: ৯৮)

শিক্ষাঃ ক্ষমতার উপর পরীক্ষা।

রাসূল (সা.) সূরা কাহাফ পাঠ করার জন্য অধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি প্রতি শুক্রবার সূরা কাহাফ পাঠ করবে, তবে পরবর্তী শুক্রবার পর্যন্ত আল্লাহ তাকে নূর প্রদান করবেন। আল্লাহ আমাদের নিয়মিত সূরা কাহাফ পাঠ করার এবং এর থেকে শিক্ষা নেওয়ার তৌফিক দান করুন।

 

সূরা কাহাফ : একটি রাজনৈতিক শিক্ষা

সূরা কাহাফে চারটি ঘটনার বর্ণনা আছে। এই চারটি ঘটনার সাথে জড়িত আছে চার ধরণের ফিতনা এবং তা থেকে মুক্তি পাবার উপায়।

ঘটনাগুলো হলো –

১) আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীদের ঘটক্ষা
২) দুই বাগানের মালিক ও তার বন্ধুর ঘটনা,
৩) মুসা (আ) ও খিজির (আ)-এর ঘটনা, এবং
৪) যুলকারনাইন এর ঘটনা,

আর, ফিতনাগুলো হলো –

১) সমাজের ফিতনা, যেখানে ধর্ম ও বিশ্বাস টিকিয়ে রাখা যায় না।
২) সম্পদের ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ নিজেকে সর্বাধিকারী মনে করে।
৩) জ্ঞানের ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ অহংকার করে। এবং
৪) ক্ষমতার ফিতনা, যা দিয়ে মানুষ অন্যের উপর জুলুম করে।

এবার আসুন, এই চারটি ঘটনার সাথে চারটি ফিতনার সংযুক্তি কি এবং এর থেকে মুক্তির উপায় কি, তা সূরা কাহাফ থেকে বিস্তৃতভাবে দেখে নেয়া যাক।

ঘটনাগুলো শুরু করার ঠিক আগেই আল্লাহ তায়ালা বলেন –

إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا

“পৃথিবীর উপর যা কিছু আছে, আমি সব কিছুকে পৃথিবীর জন্যে শোভা করে দিয়েছি। যাতে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি, কর্মের দিক থেকে তাদের মধ্যে কে উত্তম ।”
[সূরা কাহাফ, আয়াত – ৭]

সমাজ, সম্পদ, জ্ঞান ও ক্ষমতা – এ চারটি জিনিস আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আমাদের জন্যে যেমন নেয়ামত, তেমনি পরীক্ষা বা ফিতনাও বটে। তাই এই ঘটনাগুলো বর্ণনা করার পূর্বেই আল্লাহ তায়ালা বলে দিচ্ছেন যে, এগুলো হচ্ছে পৃথিবীর শোভা এবং তোমাদেরকে পরীক্ষা করার উপায়।

এখন খুবই সংক্ষেপে প্রথম ঘটনাটি দেখুন। এটি ছিল আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীদের ঘটনা।

ঘটনার বর্ণনা শুরু হয়েছে সূরাটির ৯ নং আয়াত থেকে, এবং শেষ হয়েছে ২৬ নং আয়াতে এসে। এরপর ২৮, ২৯, ৩০ এবং ৩১ নং –এ চারটি আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে, কিভাবে সমাজের বিভিন্ন ফিতনা থেকে আমদের নিজেকে রক্ষা করা সম্ভব।

একটি সমাজে কিছু তরুণ আল্লাহ তায়ালার প্রতি বিশ্বাস করত। কিন্তু তারা তাদের সমাজের অন্যায়-জুলুম-নির্যাতন এবং ধর্মহীন মানুষদের দেখে দেখে একেবারেই হতাশ হয়ে গিয়েছিল। ফলে তারা আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করল – “হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি নিজ হতে আমাদেরকে অনুগ্রহ দান কর। আমাদের জন্যে আমাদের কাজকর্মকে সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা কর।” [সূত্র : আয়াত – ১০]

আল্লাহ তায়ালা তাদের দোয়া কবুল করলেন এবং তাদেরকে বললেন – “তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর এবং তিনি তোমাদের জন্যে তোমাদের কাজকর্মকে ফলপ্রসূ করার ব্যবস্থা করবেন।” [সূত্র : আয়াত – ১৬]

ঘটনাটা এভাবে চলতে থাকে ২৬ নং আয়াত পর্যন্ত।

এই ঘটনাটিকে পৃথিবীর বিভিন্ন আদর্শের মানুষ বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন। সূফী ঘরনার মানুষেরা একভাবে ব্যাখ্যা করেন, আবার সমাজ পরিবর্তন কর্মীরা অন্যভাবে ব্যাখ্যা করেন। কোন ব্যাখ্যাটা ভুল বা কোনটা সঠিক সে তর্কে না গিয়ে ঘটনাটি আবার লক্ষ্য করি।

এক.
যেসব তরুণদের কথা এখানে বর্ণনা করা হয়েছে, তাদের কেউ নবী বা রাসূল ছিলেন না। তারা সবাই ছিলেন সমাজ পরিবর্তনকারী বা সমাজকর্মী। এ কারণে তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন – “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কাজকর্ম সঠিকভাবে পরিচালনার ব্যবস্থা করুন।” [সূত্র : আয়াত – ১০]

দুই.
এখানে কোনো বয়স্ক যুবক, পুরুষ বা বৃদ্ধ ব্যক্তির কথা বলা হয়নি। বরং আয়াতের ভাষ্যমতে বোঝা যায় যে, এরা হলো অবিবাহিত কিছু তরুণ, এবং যাদের বয়স ছিল কম। [সূত্র : আয়াত – ১০]

তিন.
এখানে একক কোনো ব্যক্তির কথা বর্ণনা করা হয়নি। বরং সঙ্ঘবদ্ধ কিছু তরুণের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। [সূত্র : আয়াত – ২২]

এবার আসুন, ঘটনাটির আলোকে আমাদের সমাজকে মিলিয়ে নিন।

সাধারণত ধর্মের ব্যাপারে তরুণেরা অনেক বেশি আশাবাদী হয়ে থাকে। তারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে সমাজ পরিবর্তন করে দিতে চায়। এটা তরুণের-ই স্বভাব, এবং এটা একটি ভালো কাজ।

কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়, যখন দুই ধরণের প্রান্তিক মানুষেরা তরুণদেরকে দু’টি ভিন্ন দিকে প্রভাবিত করতে চায়।

এক পক্ষ তরুণদেরকে নিরাশ করে দিয়ে বলেন – সঙ্ঘবদ্ধতা পরিত্যাগ কর। একা একা চল। পরিবর্তনের নেশা ছেড়ে দাও। শহর ছেড়ে গ্রামে চলে যাও। আসহাবে কাহাফ বা গুহাবাসীদের জীবন ধারণ কর।

অন্য পক্ষ তরুণদের মাঝে আতঙ্ক ছেড়ে দিয়ে বলেন – ধর্মহীন-ঘুণধরা-বেহায়াপনা এই সমাজকে আজ-ই পরিবর্তন করে ফেলতে হবে। প্রয়োজনে বোমা মেরে সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে হলেও।

কিন্তু দেখুন, আল্লাহ তায়ালা গুহাবাসীদের ঘটনাটি থেকে আমাদেরকে যে শিক্ষা দিচ্ছেন, তা উপরোক্ত দুটি মতের-ই বিপরীত।

আসহাবে কাহাফের এই ঘটনাটি বর্ণনা করার পরপরেই সূরা কাহাফের ২৭, ২৮, ২৯ এবং ৩০ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা আমাদের পথ দেখাচ্ছেন – কিভাবে সমাজের বিভিন্ন ফিতনা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

এক.
সমাজের চতুর্দিকে যখন ফিতনার ছড়াছড়ি থাকবে, যখন ঈমান নিয়ে টীকে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়বে, তখন তরুণদের প্রথম কাজ হলো নিয়মিত যত বেশি সম্ভব আল্লাহর কোর’আন অধ্যয়ন করা এবং কোর’আন বুঝতে চেষ্টা করা। কোর’আন-ই তাদেরকে পরবর্তী দিক-নির্দেশনা প্রদান করবে। যেমন আসহাবে কাহফের তরুণেরা গুহায় যাবার জন্যে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে আল্লাহর কাছে তাদের কর্মপদ্ধতি ও পথ-নির্দেশনা চেয়ে প্রার্থনা করেছিল। [সূত্র : আয়াত – ২৭ এবং ১০]

দুই.
সমাজের বিভিন্ন ফিতনা যেমন একদিনে তৈরি হয় না, তেমনি একদিনেই সবকিছুকে পরিবর্তন করে দেয়া যায় না। যথেষ্ট ধৈর্য সহকারে ও কৌশলে ক্রমান্বয়ে সমাজের ফিতনা সমূহ দূর করার চেষ্টা করতে হয়। এ জন্যেই আল্লাহ তায়ালা ঐ সকল তরুণদেরকে গুহার মধ্যে ৩০৯ বছর ঘুমন্ত রেখে দিয়ে তাদেরকে ধৈর্য শিক্ষা দিয়েছেন। এবং এই ঘটনাটি বর্ণনা শেষ করে আল্লাহ তায়ালা রাসূল (স) এবং আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেন – “আপনি ধৈর্য ধারণ করুন।” [সূত্র : আয়াত – ২৮ এবং ২৫]

তিন.
সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একা একা ধর্ম পালনের কোনো কথা ইসলামে নেই। ধর্মের প্রতিটি কাজ-ই সঙ্ঘবদ্ধভাবে করতে পালন করতে হয়। সালাত, যাকাত, সাওম, হজ্জ – সব কিছুই একেকটি সঙ্ঘবদ্ধ পদ্ধতি। ইসলাম মানুষকে বিচ্ছিন্নভাবে জীবনযাপন করতে নিষেধ করে।

প্রশ্ন হলো, তাহলে আল্লাহ তায়ালা কেন ঐ তরুণদেরকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গুহায় গিয়ে জীবনযাপন করতে বললেন? জবাব হলো, আসলে তারা গুহায় গিয়েছিল সঙ্ঘবদ্ধ হবার জন্যে, বিচ্ছিন্ন হবার জন্যে নয়। আসহাবে কাহফের ঐ তরুণেরা সবাই একই সমাজে বসবাস করলেও তারা পরস্পর মিলিত হতে পারত না। সেই সমাজে ধার্মিক তরুণদের সঙ্ঘবদ্ধ হবার কোনো সুযোগ-ই ছিল না। তাই তাই আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে নিরাপদ দূরত্বে বা পাহাড়ের গুহায় গিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ হবার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আল্লাহ তায়ালা কেবল যে ঐ তরুণদের সঙ্ঘবদ্ধভাবে চলার পরামর্শ দিয়েছিলেন, এমন না। ঘটনাটি বর্ণনা করা শেষে আমাদের জন্যে শিক্ষামূলক যে আয়াতগুলো বর্ণনা করেছেন, সেখানেও বলা হচ্ছে যে, সমাজের খারাপ মানুষদের থেকে ভালো মানুষেরা বের হয়ে গিয়ে আলাদা সবাই একসাথে সঙ্ঘবদ্ধভাবে জীবনযাপন করবে। আল্লাহ তায়ালা বলছেন –

وَاصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ ۖ وَلَا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۖ وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا

তুমি নিজেকে ধৈর্য সহকারে তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখ যারা সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহবান করে। তুমি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নিও না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, তুমি তার আনুগত্য করবেন না।
[সূরা কাহাফ, আয়াত – ২৮]

সমাজের বিভিন্ন ফিতনা থেকে বাঁচতে হলে ভালো মানুষগুলো সমাজের খারাপ মানুষদের বলয় থেকে বের হয়ে নিজেরা নিজেরা একসাথে সঙ্ঘবদ্ধভাবে জীবনযাপন করতে হয়। এতে পার্থিব জগতের সৌন্দর্য কম থাকলেও প্রশান্ত মনে জীবনযাপন করা সম্ভব হয়ে উঠে।

তাই, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে একটি ধর্মহীন সমাজকে ভেঙে দেয়ার চেষ্টা করার চেয়ে আল কোর’আনের সাহায্যে ধৈর্য সহকারে নিজের মত করে একটি ভালো সমাজ গড়ে তোলাই এই ঘটনাটির শিক্ষা।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন।

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 
 
Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ )