দাসীর সাথে সহবাস এবং সন্তান জন্মদান বিষয়ে কোরআন, হাদিস ও ফিকাহ শাস্ত্রে কি বলা হয়েছে?

 

 

উত্তর প্রদান করেছেন শাইখ Abu Bakar Tauhid হাফিঃ

কয়েকটি পয়েন্টে জবাব দিচ্ছি

১, ইসলাম আসার বহু আগ হতে দাস দাসীর প্রথা প্রচলিত।

২, জি, আমাদের নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাসী ছিল। হযরত মারিয়া কিবতিয়া রা, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দাসী ছিলেন। পূর্বের অনেক নবীরও দাসী ছিল। সাহাবায়ে কিরামেরও অসংখ্য দাসী ছিলেন। অনেক বড় বড় তাবেয়ীরাও এ দাসীদের সন্তান ছিলেন।

৩, স্বাভাবিক অবস্থায় এদের দাসী বলা হয়, আর মনিব সহবাস করলে সারিয়্যা বা উপপত্নী আর মনিবের ঘরে দাসীর সন্তান হলে উম্মে ওয়ালাদ বা বাচ্চার মা ডাকা হয়। আর মনিবের এ সন্তানরা পিতার পরিচয়ে বড় হবে ও স্বাধীন হিসেবে গণ্য হবে।

৪, কোরআনে কারীমে সূরা নিসা, মুমিনুন এর আয়াতসহ বহু আয়াতে স্ত্রীদের পাশাপাশি দাসীদের সাথে সহবাসের বৈধতার কথা বলা হয়েছে। এজন্য দাসী গ্রহন ও সহবাসকে কেউ খারাপ ও নিন্দনীয় কাজ মনে করলে কাফির হয়ে যাবে।

৫, দাসী ব্যবহার ও সহবাস করা বৈধ। তবে মুসলিম বা আহলে কিতাব দাসী হতে হবে। মুশরিক দাসীর সাথে সহবাস বৈধ নয়। আর উপযুক্ত ওজর ছাড়া সহবাস না করা দাসীর জন্য অনুমোদিত নয়। কারন দাসী মানে মামলুকাহ তথা অধীনস্থ। সে পুরোপুরি মালিকের অধীনস্থ তাই বৈধভাবে ভোগের অধিকারও মনিবের থাকবে। এখানে গ্রহনযোগ্য কারন ছাড়া দাসীর বাধা দেয়ার স্বাধীনতা থাকবে না।

৬, দাস-দাসী বানানোর কিছু নিয়ম রয়েছে। কোন মানুষকে চাইলেই দাস দাসী বানানো যায় না।
নিয়মগুলো হল :

★ জিহাদে যে সমস্ত কাফিররা বন্দী হয় তাদের মুক্তি দেয়া না হলে তারা দাস দাসী হবে।
★ পরবর্তীতে তারা মুসলমান হলেও দাস দাসীই থাকবে এবং তারা যদি বিবাহিত হয় তাহলে তাদের সন্তানরাও দাস দাসী হবে।
মানে অন্য কোথাও দাসীর বিবাহ হলে সন্তান গোলাম হবে এবং মনিব তাকে ভোগ করতে পারবে না। আর দাসীর সংসার না থাকলে মনিব ভোগ করতে পারবে ও মনিবের ঘরে সন্তান হলে তা স্বাধীন হবে।
★পরবর্তীতে তাদেরকে কেউ ক্রয় করে নিলে বা অন্য কাউকে উপহার দেয়া হলে, কিংবা মিরাস হিসেবে আসলে পরের মালিকের কাছেও তারা দাসত্বের শিকলে থাকবে।

৭,এটা থেকে বুঝা যাচ্ছে

মূলত দাসত্ব টা মৌলিক ভাবে কুফরীর পরিনাম।
কোনো স্বাধীন মানুষকে ধরে দাস বানানো বৈধ নয়।
এটা চরম ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ।
তাকে পাচার বা বিক্রি করলে সে বিক্রি বাতিল হবে ও স্বাধীনতা বাতিল হবে না।

তবে জিনা যেহেতু সর্বদাই হারাম তাই জোর করে জিনা করানো হলেও সে কাজ করা বৈধ হবে না ও করলে গুনাহগার হতে হবে তবে এতে হদ বা বেত্রাঘাতের শাস্তি আবশ্যক হবে না।

৮,আর ইসলাম দাসপ্রথাকে উৎসাহিত করেনি। এজন্য দাসমুক্তিকে নানাভাবে উৎসাহিত করেছে এবং কাফফারা সহ নানা ক্ষেত্রে দাস মুক্তিকে প্রথম অপশন হিসেবে পেশ করেছে।

 

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ )