Surah Fajr সূরা আল ফজর ও সূরা আল ফজরের ফযিলত

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

 

(1)  وَالْفَجْرِ  শপথ ফজরের, By the break of Day

( وَٱلْفَجْرِ শপথ ঊষার By the dawn )

 

(2)  وَلَيَالٍ عَشْرٍ  শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার, ( জিলহজ মাসের ১ম ১০ দিন ) By the Nights twice five;

(  وَلَيَالٍ শপথ রাতের And the nights, عَشْرٍ দশ ten )

 

(3) وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ যা জোড় ও যা বিজোড় By the even and odd (contrasted);

( وَٱلشَّفْعِ শপথ জোড়ের And the even,  وَٱلْوَتْرِ ও বেজোড়ের and the odd )

 

(4) وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ  এবং শপথ রাত্রির যখন তা গত হতে থাকে And by the Night when it passeth away;-

( وَٱلَّيْلِ শপথ রাতের And the night, إِذَا যখন when, يَسْرِ তা যেতে থাকে it passes )

 

(5)  هَلْ فِي ذَلِكَ قَسَمٌ لِّذِي حِجْرٍ এর মধ্যে আছে শপথ জ্ঞানী ব্যক্তির জন্যে। Is there (not) in these an adjuration (or evidence) for those who understand?

(  هَلْ কি Is, فِى মধ্যে (আছে) in, ذَٰلِكَ এর that, قَسَمٌ কোনো শপথ (কোনো প্রমাণ) an oath, لِّذِى সম্পন্ন ব্যক্তির জন্য for those, حِجْرٍ বোধশক্তি who understand? )

 

(6)  أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন,  Seest thou not how thy Lord dealt with the ‘Ad (people),-

( أَلَمْ নি কি Do not, تَرَ তুমি দেখ you see, كَيْفَ কেমন how, فَعَلَ করেছেন dealt, رَبُّكَ তোমার রব your Lord, بِعَادٍ আ’দ বংশের সাথে with Aad )

 

(7) إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং Of the (city of) Iram, with lofty pillars,

(  إِرَمَ ইরাম গোত্রের (প্রতি) Iram, ذَاتِ অধিকারী (ছিল) possessors (of), ٱلْعِمَادِ সুউচ্চ প্রাসাদের lofty pillars )

 

(8)  الَّتِي لَمْ يُخْلَقْ مِثْلُهَا فِي الْبِلَادِ যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি   শহরসমূহে  ) The like of which were not produced in (all) the land

( ٱلَّتِى যা (এমন ছিল যে) Which, لَمْ নি ,not يُخْلَقْ নির্মিত হয় had been created, مِثْلُهَا  তার সমতুল্য (কোন জাতি) like them,  فِى  হতে in, ٱلْبِلَٰدِ দেশ সমূহে he cities )

 

(9)  وَثَمُودَ الَّذِينَ جَابُوا الصَّخْرَ بِالْوَادِ এবং সামুদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল।  And with the Thamud (people), who cut out (huge) rocks in the valley?-

(  وَثَمُودَ এবং (কেমন করেছেন সামূদদের সাথে) And Thamud, ٱلَّذِينَ যারা who, جَابُوا۟ কেটেছিল carved out, ٱلصَّخْرَ পাথর (ভূমি সমূহ) the rocks, بِٱلْوَادِ উপত্যকার in the valley )

 

(10) وَفِرْعَوْنَ ذِي الْأَوْتَادِ এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে And with Pharaoh, lord of stakes?

( وَفِرْعَوْنَ  এবং (কেমন করেছেন) ফিরআউনের সাথে  And Firaun,  ذِى (যে ছিল) অধিপতি owner of, ٱلْأَوْتَادِ  কীলকসমূহের (সৈন্য শিবিরের) stakes? )

 

(11)  الَّذِينَ طَغَوْا فِي الْبِلَادِ যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল।  (All) these transgressed beyond bounds in the lands,

( ٱلَّذِينَ যারা Who, طَغَوْا۟ সীমালঙ্ঘন করেছিলো transgressed, فِى মধ্যে in, ٱلْبِلَٰدِ (বিভিন্ন) দেশে the lands )

 

(12)  فَأَكْثَرُوا فِيهَا الْفَسَادَ অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।  And heaped therein mischief (on mischief).

( فَأَكْثَرُوا۟ আর বৃদ্ধি করেছিল And made much,  فِيهَا তার মধ্যে therein, ٱلْفَسَادَ বিপর্যয়/ অশান্তি corruption) 

 

(13)  فَصَبَّ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ سَوْطَ عَذَابٍ অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন।   Therefore did thy Lord pour on them a scourge of diverse chastisements:

( فَصَبَّ তারপর আঘাত করলেন So poured, عَلَيْهِمْ তাদের উপর on them, رَبُّكَ তোমার রব your Lord, سَوْطَ চাবুকের scourge, عَذَابٍ শাস্তির (of) punishment )

 

(14)  إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। For thy Lord is (as a Guardian) on a watch-tower.

( إِنَّ নিশ্চয়ই Indeed, رَبَّكَ তোমার রব your Lord, لَبِٱلْمِرْصَادِ অবশ্যই (ধরবেন) ঘাঁটিতে (is) surely Ever Watchful )

 

(15)  فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَاهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَعَّمَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَمَنِ  মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন। Now, as for man, when his Lord trieth him, giving him honor and gifts, then saith he, (puffed up), “My Lord hath honored me.”

( فَأَمَّا অতঃপর ব্যাপার হলো And as for,  ٱلْإِنسَٰنُ মানুষের man, إِذَا যখন when, مَا তাকে does, ٱبْتَلَىٰهُ পরীক্ষা করেন try him, رَبُّهُۥ তার রব his Lord, فَأَكْرَمَهۥ তাকে সম্মান দেন and is generous to him, وَنَعَّمَهُۥ ও তাকে অনুগ্রহ করেন and favors him, فَيَقُولُ তখন সে বলে he says, رَبِّىٓ “আমার রব “My Lord, أَكْرَمَنِ আমাকে সম্মানিত করেছেন” has honored me” )

 

(16)  وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَاهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي أَهَانَنِ এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিযিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলেঃ আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন।  But when He trieth him, restricting his subsistence for him, then saith he (in despair), “My Lord hath humiliated me!”

(  وَأَمَّآ আর  But,  إِذَا যখন when,  مَا তাকে does,  ٱبْتَلَىٰهُ পরীক্ষা করেন He try him,  فَقَدَرَ সংকীর্ণ করেন and restricts,  عَلَيْهِ তার উপর for him, رِزْقَهُۥ তার রিযক his provision,  فَيَقُولُ তখন সে বলে then he says,  رَبِّىٓ “আমার রব “My Lord,  أَهَٰنَنِ আমাকে হেয় করেছেন” (has) humiliated me” )

 

(17)  كَلَّا بَل لَّا تُكْرِمُونَ الْيَتِيمَ এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না। Nay, nay! but ye honor not the orphans!

(  كَلَّا কখনও না Nay!,  بَل বরং But, لَّا না not,  تُكْرِمُونَ তোমরা সম্মান করো you honor,  ٱلْيَتِيمَ ইয়াতীমের the orphan ) 

 

(18)  وَلَا تَحَاضُّونَ عَلَى طَعَامِ الْمِسْكِينِ এবং মিসকীনকে অন্নদানে পরস্পরকে উৎসাহিত কর না। Nor do ye encourage one another to feed the poor!-

(  وَلَا এবং না And not,  تَحَٰٓضُّونَ তোমরা পরস্পরকে উৎসাহিত করো you feel the urge,  عَلَىٰ জন্য to,  طَعَامِ খাদ্য দানের feed,  ٱلْمِسْكِينِ অভাবগ্রস্তদের the poor ) 

 

(19)  وَتَأْكُلُونَ التُّرَاثَ أَكْلًا لَّمًّا এবং তোমরা মৃতের ত্যাজ্য সম্পত্তি সম্পূর্ণরূপে কুক্ষিগত করে ফেল  And ye devour inheritance – all with greed,

(  وَتَأْكُلُونَ এবং তোমরা খাও And you consume,  ٱلتُّرَاثَ উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য সম্পদ the inheritance,  أَكْلًا খাওয়া devouring,  لَّمًّا সম্পূর্ণরূপে altogether ) 

 

 (20)  وَتُحِبُّونَ الْمَالَ حُبًّا جَمًّا এবং তোমরা ধন-সম্পদকে প্রাণভরে ভালবাস।  And ye love wealth with inordinate love!

(  وَتُحِبُّونَ এবং তোমরা ভালোবাস And you love,  ٱلْمَالَ ধনসম্পদ wealth,  حُبًّا ভালোবাসা (with) love,  جَمًّا খুব বেশি exceeding ) 

 

(21)  كَلَّا إِذَا دُكَّتِ الْأَرْضُ دَكًّا دَكًّا এটা অনুচিত। যখন পৃথিবী চুর্ণ-বিচুর্ণ হবে Nay! When the earth is pounded to powder,

(  كَلَّآ কখনও নয় Nay!,  إِذَا যখন When,  دُكَّتِ চূর্ণবিচূর্ণ করা হবে is leveled,  ٱلْأَرْضُ পৃথিব the earth, دَكًّا চূর্ণ pounded, دَكًّا বিচূর্ণ (and) crushed ) 

 

(22)  وَجَاء رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا এবং আপনার পালনকর্তা ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে উপস্থিত হবেন And thy Lord cometh, and His angels, rank upon rank,

(  وَجَآءَ এবং আসবেন And comes,  رَبُّكَ তোমার রব   your Lord,  وَٱلْمَلَكُ ও ফেরেশতারা and the Angels,  صَفًّا সারি rank, صَفًّا সারি (upon) rank ) 

 

(23)  وَجِيءَ يَوْمَئِذٍ بِجَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ يَتَذَكَّرُ الْإِنسَانُ وَأَنَّى لَهُ الذِّكْرَى এবং সেদিন জাহান্নামকে আনা হবে, সেদিন মানুষ স্মরণ করবে, কিন্তু এই স্মরণ তার কি কাজে আসবে? And Hell, that Day, is brought (face to face),- on that Day will man remember, but how will that remembrance profit him?

(  وَجِا۟ىٓءَ এবং আনা হবে And is brought,  يَوْمَئِذٍۭ সেদিন that Day,  بِجَهَنَّمَ জাহান্নামকে (সর্বসমক্ষে) Hell,  يَوْمَئِذٍ সেদিন That Day,  يَتَذَكَّرُ স্মরণ করবে will remember,  ٱلْإِنسَٰنُ  মানুষ man,  وَأَنَّىٰ আর কোথায় but how,  لَهُ তার জন্য (will be) for him,  ٱلذِّكْرَىٰ এ স্মরণ (লাভজনক হবে) the remembrance? ) 

 

(24)  يَقُولُ يَا لَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِيnসে বলবেঃ হায়, এ জীবনের জন্যে আমি যদি কিছু অগ্রে প্রেরণ করতাম!  He will say: “Ah! Would that I had sent forth (good deeds) for (this) my (Future) Life!”

(  يَقُولُ সে বলবে He will say,  يَٰلَيْتَنِى “হায় আমার আফসোস “O! I wish!,  قَدَّمْتُ আমি আগে পাঠাতাম (যদি) I had sent forth,  لِحَيَاتِى আমার এ জীবনের জন্য (কিছু নেকী)” for my life” ) 

 

(25)  فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُعَذِّبُ عَذَابَهُ أَحَدٌ সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবে না।  For, that Day, His Chastisement will be such as none (else) can inflict,

(  فَيَوْمَئِذٍ অতঃপর সেদিন So that Day,  لَّا না not,  يُعَذِّبُ শাস্তি দিতে পারবে will punish,  عَذَابَهُۥٓ তাঁর শাস্তির মতো (as) His punishment,  أَحَدٌ (অন্য) কেউ anyone ) 

 

(26)  وَلَا يُوثِقُ وَثَاقَهُ أَحَدٌ  এবং তার বন্ধনের মত বন্ধন কেউ দিবে না।  And His bonds will be such as none (other) can bind.

(  وَلَا এবং না And not,  يُوثِقُ বাঁধতে পারবে will bind,  وَثَاقَهُۥٓ তাঁর বাঁধনের (মতো) (as) His binding,  أَحَدٌ (অন্য) কেউ anyone ) 

 

(27)  يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ হে প্রশান্ত মন, (To the righteous soul will be said:) “O (thou) soul, in (complete) rest and satisfaction!

(  يَٰٓأَيَّتُهَا “(বলা হবে) হে “O, ٱلنَّفْسُ  আত্মা  soul!,   ٱلْمُطْمَئِنَّةُ প্রশান্ত who is satisfied, 

 

(28)  ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَّرْضِيَّةً তুমি তোমার পালনকর্তার নিকট ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে।  “Come back thou to thy Lord,- well-pleased (thyself), and well-pleasing unto Him!

(  ٱرْجِعِىٓ তুমি ফিরে আস Return, إِلَىٰ দিকে to,  رَبِّكِ  তোমার রবের (এ অবস্থায় যে) your Lord,  رَاضِيَةً (তুমি) সন্তুষ্ট well pleased,  مَّرْضِيَّةً প্রিয় পাত্রও (তাঁর নিকট) and pleasing )

 

(29)  فَادْخُلِي فِي عِبَادِي অতঃপর আমার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। “Enter thou, then, among My devotees!

(  فَٱدْخُلِى অতঃপর শামিল হও So enter,  فِى মধ্যে among,  عِبَٰدِى আমার (নেক) বান্দাদের/ দাসদের My slaves ) 

 

(30)  وَادْخُلِي جَنَّتِي এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ কর। “Yea, enter thou My Heaven!  

(  وَٱدْخُلِى এবং তুমি প্রবেশ করো And enter,  جَنَّتِى আমার জান্নাতে” My Paradise”, 

 

==========================================

Aad nation – অহঙ্কারী আদ জাতির পরিণতি

মুফতি মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৮ জুলাই ২০২০,

অহঙ্কারী আদ জাতির পরিণতি 

আল্লাহ তায়ালা হজরত আদম আ: থেকে শেষনবী সা: পর্যন্ত বহু শক্তিশালী জাতি পৃথিবীতে প্রেরণ করেন। যেমন- হজরত নুহ আ:-এর জাতি, ইবরাহিম আ:-এর জাতি, হজরত মুসা আ:-এর জাতি তুব্বা, আদ, সামুদ, আমালেকা প্রমুখ জাতি। হজরত ইউনুস আ:, হজরত লুত আ:, হজরত জাকারিয়া আ:, হজরত দাউদ আ:, হজরত সুলায়মান আ:-এর জাতি এবং হজরত মুহাম্মদ সা:-এর কুরাইশ জাতি। প্রত্যেক জাতিই নিজের যুগের শ্রেষ্ঠ ও শক্তিশালী জাতি বলে দাবি করেছে। তবে সবচেয়ে মারাত্মক ও জঘন্য শব্দ ব্যবহার করেছে আদ জাতি। আল্লাহ বলেন, অতঃপর আদ জাতি, তারা পৃথিবীতে অযথা অহঙ্কার করেছে এবং বলেছে, আমাদের চেয়ে শক্তিধর কে আছে? তারা কি লক্ষ্য করেনি যে আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের অপেক্ষা অধিক শক্তিধর? বস্তুত তারা আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকার করেছে (সূরা হামিম সিজদা-১৫)।

আদ জাতির পরিচয় :

 

‘আদ’ জাতি হজরত নূহ আ:-এর পুত্র সামের বংশধর। সামের পঞ্চম পুরুষদের একজনের নাম ছিল ‘আদ’। তার নামেই এ বংশের নাম হয়েছে ‘আদ’ বংশ। কুরআন মাজিদের সূরা আন নজমে ‘আদে উলা’ এবং সূরা আল-ফজরে ‘ইরামাযাতিল ইমাদ’ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, আদ সম্প্রদায়কে ‘ইরাম’ও বলা হয়। তাছাড়া প্রথম আদের বিপরীতে দ্বিতীয় আদও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে প্রসিদ্ধ কথা হলোÑ আদের দাদার নাম ইরাম। তার এক ছেলে আওসের বংশধররাই আদ। তাদের বলা হয় ‘প্রথম আদ’। অপর ছেলে জাসুর ছেলে হলো সামুদ। তার বংশকে দ্বিতীয় আদ বলা হয়। সারকথা হলো- আদ ও সামুদ উভয়ই ইরামের দু’টি শাখা। এক শাখাকে ‘প্রথম আদ’, আর দ্বিতীয় শাখাকে ‘দ্বিতীয় আদ’ বলা হয়। কোনো কোনো তাফসিরবিদ বলেন, আদ সম্প্রদায়ের ওপর যখন আজাব নাজিল হয়, তখন তাদের একটি প্রতিনিধি দল মক্কা গমন করেছিল। ফলে তারা আজাব থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। তাদের বলা হয় দ্বিতীয় আদ। (বয়ানুল কুরআন) আদ গোত্রের তেরটি পরিবার ছিল। আম্মান থেকে শুরু করে হাযরা মওত ও ইয়ামেন পর্যন্ত তাদের বসতি ছিল। তাদের খেত-খামারগুলো অত্যন্ত সজীব ও শস্য শ্যামল ছিল। সব ধরনের বাগ-বাগিচা ছিল তাদের। তারা দৈহিক গঠন ও শক্তি সাহসে ছিল অন্য সব জাতি থেকে স্বতন্ত্র। আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে বলেছেন, এমন দীর্ঘকায় ও শক্তিশালী জাতি ইতোপূর্বে পৃথিবীতে সৃজিত হয়নি। (সূরা আল ফজর-৮)। হজরত ইবন আব্বাস রা: ও মুকাতিল র: থেকে একটি (ইসরাইলি) বর্ণনায় রয়েছে, তাদের উচ্চতা ছিল ১৮ ফুট (১২ হাত)। তাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ আরো বলেন, তিনি তাদের দেহের বিস্তৃতি করেছেন অধিক। (সূরা আরাফ-৬৯)

 

Aad Nations’s নবী :

আল্লাহ তায়ালা ‘আদ’ জাতির কাছে হজরত হুদ আ:-কে নবী করে প্রেরণ করেন। আল্লাহ বলেন, আর আদ সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছি, তাদের ভাই হুদকে। (সূরা আ’রাফ : ৬৫) হজরত হুদ আ: হজরত নূহ আ:-এর ছেলে সামের বংশের পঞ্চম পুরুষ। আদ সম্প্রদায় এবং হুদ আ:-এর বংশতালিকা চতুর্থ পুরুষে সাম পর্যন্ত পৌঁছে এক হয়ে যায়। এ হিসেবে হুদ আ: তাদের বংশগত ভাই।

দাওয়াত : আদ জাতি ছিল মূর্তিপুজক। তা ছাড়া তারা আরো নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। হজরত হুদ আ: তাদের মূর্তিপূজা ছেড়ে একত্ববাদের অনুসরণ করতে এবং সর্বপ্রকার অত্যাচার উৎপীড়ন বর্জন করে ন্যায় ও সুবিচারের পথ ধরতে আদেশ করেন। কিন্তু তারা নিজেদের ধনৈশ্বর্যের মোহে মত্ত হয়ে তাঁর আদেশ অমান্য করে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি আজাব নাজিল করেন। বর্তমানে হাযরামওতে হজরত হুদ আ:-এর কবর রয়েছে।

আদ জাতির পরিণতি :

নবীর কথা অমান্য করে পাপাচারে লিপ্ত থাকার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ধ্বংস করে দেন। তাদের প্রতি প্রথম আজাব ছিল অনাবৃষ্টি। তিন বছর পর্যন্ত তাদের এলাকায় বৃষ্টি বন্ধ ছিল। এতে তাদের ফসল জ্বলেপুড়ে ছারখার হয়ে যায়। ফলে দেশে অভাব দেখা দেয়। তারপরও তারা শিরক ও মূর্তিপূজা ত্যাগ করেনি। অতঃপর আট দিন সাত রাত তাদের এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়। এতে তাদের বাড়ি-ঘর, বাগ-বাগিচা, জীব-জন্তু সব ধ্বংস হয়ে যায়। তারা নিজেরাও শূন্যে উড়তে থাকে। এতে তারা মরে উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে থাকে। আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর সেরা শক্তিধর আদ জাতিকে এভাবে ধ্বংস করেন। আল্লাহ তায়ালা হজরত হুদ আ: ও তাঁর অনুসারী মুমিনদেরকে এ গজব থেকে রক্ষা করেন। বর্তমানে আদ জাতির এলাকা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে।

বংশ পরিচয়

ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী, আদ জাতি হচ্ছে নূহের পুত্র (আরবি: سام بن نوح‎‎, সাম ইবনে নূহ) সামের উত্তরাধিকারী, যিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে এসেছিলেন এবং আদিত্যদের পূর্বপুরুষ ছিলেন। তিনি নূহের (نوح) পুত্র সাম (سام), সামের পুত্র ইরাম (إرم), ইরামের পুত্র আওয়াদের (উজ) (عوض) ছিলেন।

‘আদ ও ছামূদ উভয় গোত্রই ইরাম-এর দু’টি শাখা। আদ সম্প্রদায়ের ১৩টি পরিবার বা গোত্র ছিল। আম্মান থেকে শুরু করে হাযারামাউত ও ইয়েমেন পর্যন্ত তাদের বসতি ছিল।[১] উল্লেখ্য যে, নূহের প্লাবনের পরে এরাই সর্বপ্রথম মূর্তিপূজা শুরু করে।

কুরআনে উল্লেখিত

কুরআন অনুযায়ী, ইরাম এমন একটি স্থান যেখানে নবী হুদকে (هود) তার লোকদের ইসলামের সৎ পথে পরিচালিত করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তারা ইসলামকে প্রত্যাখানতা করে এবং তাদের মূর্তিপূজার পথে চলতে থাকে, যার ফলে আল্লাহ তাদের শহরে একটি বড় ঝড়ের পতন ঘটান।

কুরআন, সূরা ৮৯ (আল-ফাজ্‌র), আয়াত ৬ থেকে ১৪[২]:

৬. আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার রব আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন,
৭. যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং
৮. যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি
৯. এবং সামূদ গোত্রের সাথে, যারা উপত্যকায় পাথর কেটে গৃহ নির্মাণ করেছিল।
১০. এবং বহু কীলকের অধিপতি ফেরাউনের সাথে
১১. যারা দেশে সীমালঙ্ঘন করেছিল।
১২. অতঃপর সেখানে বিস্তর অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।
১৩. অতঃপর আপনার পালনকর্তা তাদেরকে শাস্তির কশাঘাত করলেন।
১৪. নিশ্চই আপনার পালনকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন।
বিবরন
এখানে আদ, সামূদ এবং ফেরাউন তিনটি জাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের উপরে আল্লাহ তা’আলার গজব নাযিল হয়েছিল। আদ ও সামূদ জাতিদ্বয়ের বংশতালিকা উপরের দিকে ইরামে গিয়ে এক হয়ে যায়। তারা অত্যন্ত দীর্ঘকায় জাতি ছিল ও অহংকারী ছিল।[৩] এই আদ জাতির দৈহিক গঠন ও শক্তি-সাহসে অন্য সব জাতি থেকে স্বতস্ত্র ছিল। কোরআনে তাদের স্বাতস্ত্র্য অতন্ত্য পরিষ্কার ভাষায় ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেছেঃ এমন দীর্ঘকায় ও শক্তিশালী জাতি ইতিপূর্বে পৃথিবীতে সৃজিত হয়নি। এতদসত্ত্বেও কোরআনে তাদের দেহের মাপ অনাবশ্যক বিবেচনা করে উল্লেখ করেনি। ইসরাঈলী রেওয়ায়েতসমূহে তাদের দৈহিক গঠন ও শক্তি সস্পর্কে অদ্ভুত ধরনের কথাবার্তা বর্ণিত আছে। হযরত ইবনে আব্বাস ও মুকাতিল থেকে তাদের উচ্চতা বার হাত তথা ১৮ ফুট বর্ণিত আছে। বলাবাহুল্য, তাঁরা ইসরাঈলী রেওয়ায়েত দৃষ্টেই একথা বলেছেন।[৪]

কোন কোন তফসীরবিদ বলেনঃ ইরাম আদ তনয় শাদ্দাদ একটি বেহেশত নির্মাণ করে। এই অনুপম প্রাসাদটি বহু স্তম্ভের উপর দন্ডায়মান ছিল এবং স্বর্ণ-রৌপ্য ও মণিমুক্তা দ্বারা নির্মিত ছিল, যাতে মানুষ পরকালের বেহেশতের পরিবর্তে এ বেহেশতকে পছন্দ করে নেয়। কিন্তু এই বিরাট প্রাসাদটি নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর যখন শাদ্দাদ তার সভাসদ নিয়ে এ বেহেশতে প্রবেশ করার ইচ্ছা করল, তখন আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে আযাব নাযিল হল। ফলে সাবাই ধ্বংস হয়ে গেল এবং কৃত্রিম বেহেশতও ধূলিসাৎ হয়ে গেল।

ফেরাউনকে কীলকওয়ালা বলার বিভিন্ন কারণ তফসীরবিদগণ বর্ণনা করেছেন। অন্য এক তফসীরের বর্ণিত রয়েছে যে, এই শব্দের মধ্যে তার জুলুম-নিপীড়ন ও শাস্তির বর্ণনা রয়েছে। ফেরাউন যার প্রতি কুপিত হত, তার চার হাত-পায়ে কীলক মেরে রৌদ্রে শুইয়ে তার শরীরের উপর সাপ-বিচ্ছু ছেড়ে দিত। কোন কোন তফসীরবিদ এ প্রসঙ্গে ফেরাউনের স্ত্রী আছিয়া আল্লাহ্‌র উপর ঈমান আনার ফলে ফেরাউন তাঁকে এ ধরনের শাস্তি দেয়ার দীর্ঘ কাহিনী বর্ণনা করেছেন।

আদ, সামূদ এবং ফেরাউন গোত্রের অপকীর্তির ফলে আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদের উপর আযাব নাযিল করেছেন। আল্লাহ্‌ তা’আলা প্রতিটি লোকের প্রতিটি ক্রিয়া-কর্ম ও গতিবিধির উপর দৃষ্টি রাখছেন এবং সবাইকে তার প্রতিদান ও শাক্তি দেবেন।

আপতিত গজব
আদ-এর অমার্জনীয় পাপের ফলে প্রাথমিক গজব হিসাবে তিন বছর বৃষ্টিপাত বন্ধ থাকে। তাদের শস্যক্ষেত সমূহ শুষ্ক বালুকাময় মরুভূমিতে পরিণত হয়। বাগ-বাগিচা জ্বলে-পুড়ে যায়। এতেও তারা শিরক ও মূর্তিপূজা ত্যাগ করেনি। কিন্তু অবশেষে তারা বাধ্য হয়ে আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করে। তখন আসমানে সাদা, কালো ও লাল মেঘ দেখা দেয় এবং গায়েবী আওয়ায আসে যে, “তোমরা কোনটি পছন্দ করো?” লোকেরা বলল কালো মেঘ। তখন কালো মেঘ এলো। লোকেরা তাকে স্বাগত জানিয়ে বলল, “এটি আমাদের বৃষ্টি দেবে”। জবাবে বলা হয়, বরং এটা সেই বস্তু, যা তোমরা তাড়াতাড়ি চেয়েছিলে। এটা বায়ু এতে রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি। তার পালনকর্তার আদেশে সে সব কিছুকে ধ্বংস করে দেবে।[৭][৮] ফলে অবশেষে পরদিন ভোরে আল্লাহর চূড়ান্ত গজব নেমে আসে। সাত রাত্রি ও আট দিন ব্যাপী অনবরত ঝড়-তুফান বইতে থাকে। মেঘের বিকট গর্জন ও বজ্রাঘাতে বাড়ী-ঘর সব ধ্বসে যায়, প্রবল ঘুর্ণিঝড়ে গাছ-পালা সব উপড়ে যায়, মানুষ ও জীবজন্তু শূন্যে উত্থিত হয়ে সজোরে যমীনে পতিত হয়।[৯][১০]

তথ্যসূত্র
কুরতুবী, আ‘রাফ ৬৫।
“৮৯) সূরা আল ফজর ( মক্কায় অবতীর্ণ ), আয়াত সংখাঃ ৩০”। www.ourholyquran.com। ২০১৮-০৮-২২ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-৩১।
“অহঙ্কারী আদ জাতি”। The Daily Sangram। ২০১৮-০৮-০৮ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২০১৮-০৭-৩১।
তফসীর মাআরেফুল কোরআন
কুরতুবী
মাযাহারী
সূরা আল আহক্বাফ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৬ আগস্ট ২০১৭ তারিখে, আয়াত ২৪-২৫, মারেফুল কোরআন।
ইবনু কাছীর, সূরা আ‘রাফ ৭১।
সূরা আল ক্বামার ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৫ আগস্ট ২০১৭ তারিখে, আয়াত ১৮-২১, মারেফুল কোরআন।
সূরা আল হাক্বক্বাহ ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৬ আগস্ট ২০১৭ তারিখে, আয়াত ৬-৮, মারেফুল কোরআন।

সামুদ জাতির পরিচিতিঃ

৩. আমি সামুদ জাতির কাছে তাদের ভাই সালেহকে পাঠালাম। সে (এসে) বলল, ‘হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ছাড়া তোমাদের কোনো মাবুদ নেই। তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ প্রমাণ এসে গেছে। আর সেটা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে নিদর্শন রূপে আসা এই উটনী। তোমরা এটাকে (স্বাধীনভাবে) ছেড়ে দাও, যাতে আল্লাহর জমিতে (বিচরণ করে) খেতে পারে। আর তোমরা এটাকে কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে স্পর্শ কোরো না। তাহলে কোনো কঠোর আজাব তোমাদের পাকড়াও করবে।

৭৪. সেই সময়ের কথা স্মরণ করো, যখন তিনি তোমাদের (সামুদ জাতিকে) আদ জাতির স্থলাভিষিক্ত করেছেন। আর পৃথিবীতে তিনি তোমাদের এভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে তোমরা সমতল ভূমিতে দালানকোঠা নির্মাণ করছ এবং পাহাড় কেটে কেটে বাসস্থান তৈরি করছ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর নিয়ামতগুলো স্মরণ করো। আর তোমরা পৃথিবীতে নৈরাজ্য সৃষ্টি কোরো না।

৭৫. তার (সালেহ আ.) জাতির দাম্ভিক নেতারা দুর্বল-দরিদ্র লোক ইমানদারদের জিজ্ঞেস করল, তোমরা কি এটা বিশ্বাস করো যে সালেহ তার প্রভুর পক্ষ থেকে রাসুল হয়ে এসেছেন? তারা বলল, ‘নিশ্চয়ই আমরা তো তাঁর রিসালাতে বিশ্বাস করি।’

৭৬. সেই দাম্ভিক লোকেরা বলল, ‘তোমরা তাঁর যে রিসালাতে বিশ্বাস করো, আমরা তো তা অস্বীকার করি।’ (সুরা: আরাফ, আয়াত: ৭৩-৭৬)

তাফসির: আদ ও সামুদ একই দাদার বংশধরের দুই ব্যক্তির নাম। সামুদ জাতি ছিল আদ জাতিরই পরবর্তী শাখা। হুদ (আ.) ও তাঁর যেসব ইমানদার সঙ্গী আল্লাহর আজাব থেকে রক্ষা পেয়েছিল, এরা তাদের বংশধর। এ জাতিকে দ্বিতীয় আদও বলা হয়। আরব ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী অঞ্চলকে তখন হিজর বলা হতো, সে এলাকায় এ জাতি বসবাস করত। তারা খুবই শক্তিশালী ও বীর জাতি ছিল। প্রস্তর খোদাই ও স্থাপত্যবিদ্যায় তারা পারদর্শী ছিল। সমতল ভূমির বিশাল এলাকাজুড়ে অট্টালিকা নির্মাণ ছাড়াও পর্বত খোদাই করে তারা নানা ধরনের প্রকোষ্ঠ নির্মাণ করত। এ সম্প্রদায়ের ভেতর কালক্রমে মূর্তিপূজাসহ নানা রকম কুসংস্কারের প্রচলন ঘটে। এর ফলে তাদের সমাজে নানা রকম অন্যায়, অপরাধ ও পাপাচার বিস্তার লাভ করে। সালেহ (আ.) ছিলেন সে জাতিরই লোক। আল্লাহ তাআলা সেই বিভ্রান্ত জাতিকে সঠিক পথ দেখানোর জন্য তাঁকে নবী করে পাঠান। তিনি সারা জীবন তাদের হেদায়েতের পথে আনার জন্য চেষ্টা করেছেন। এতে অল্প কিছু সঙ্গী ছাড়া গোটা জাতি তাঁর অবাধ্যই থেকে যায়। একপর্যায়ে তারা দাবি করল, আপনি যদি সত্যিই নবী হয়ে থাকেন, তাহলে আমাদের অলৌকিক কিছু দেখান। এটা করতে পারলে আমরা আপনার প্রতি ইমান আনব। নবী সালেহ (আ.) আল্লাহর কাছে প্রার্থনা জানালেন। আল্লাহর কুদরতে পাহাড় থেকে একটি অদ্ভুত রকমের মাদি উট বের হয়ে এলো। তা দেখে কিছু লোক ইমান আনল বটে, তবে তাদের সরদাররা ইমান আনল না। এমনকি তারা সে উটনীকে হত্যা করে ফেলে। এতে নবী সালেহ (আ.) তাঁর কওমের ওপর আল্লাহর গজব নেমে আসার আশঙ্কা করেন। এ অবস্থায় হজরত সালেহ (আ.) তাদের সতর্ক করে দিলেন যে তোমাদের ওপর আজাব নেমে আসবে। তিন দিন পরই আল্লাহর গজব নেমে এসে তোমাদের ধ্বংস করে দেবে। এতদসত্ত্বেও সামুদ জাতির জেদি নেতারা তওবা ও ইস্তেগফারে রত হলো না। বরং তারা হজরত সালেহ (আ.)-কে হত্যার ষড়যন্ত্র আঁটল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের সেই ষড়যন্ত্র সফল হতে দিলেন না। সালেহ (আ.) যেমন বলেছিলেন তেমনিভাবেই তিন দিন অতিবাহিত হওয়ার পর প্রচণ্ড ভূমিকম্প শুরু হয়ে যায়। সেই সঙ্গে আকাশ থেকে ভয়াল শব্দ আসতে থাকে। এতে গোটা সামুদ জাতি ধ্বংস হয়ে যায়। এখনো তাদের ধ্বংসস্তূপ বিদ্যমান রয়েছে।

(তাফসিরে মা’আরেফুল কোরআন ও ইবনে কাছির অবলম্বনে)

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।