Surah Mulk সূরা মূলক ও সূরা মূলকের ফযিলত

 

بِسْمِ اللّهِ الرَّحْمـَنِ الرَّحِيمِ

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

 
 
(1 تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ পূণ্যময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব। তিনি সবকিছুর উপর সর্বশক্তিমান। Blessed be He in Whose hands is Dominion; and He over all things hath Power;-
( تَبَٰرَكَ বড় বরকতময় Blessed is, ٱلَّذِى সেই(সত্তা) He,  بِيَدِهِ যার হাতে in Whose Hand,  ٱلْمُلْكُ কর্তৃত্ব (is) the Dominion,  وَهُوَ এবং তিনিই and He, عَلَىٰ উপর (is) over,  كُلِّ সব every,  شَىْءٍ কিছুর thing,  قَدِيرٌ ক্ষমতাবান All-Powerful, )
 
(2 الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ যিনি সৃষ্টি করেছেন মরণ ও জীবন, যাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন-কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ? তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাময়।  He Who created Death and Life, that He may try which of you is best in deed: and He is the Exalted in Might, Oft-Forgiving;-
( ٱلَّذِى যিনি The One Who,  خَلَقَ সৃষ্টি করেছেন created,  ٱلْمَوْتَ মৃত্যু death,  وَٱلْحَيَوٰةَ এবং জীবন and life,  لِيَبْلُوَكُمْ তোমাদের পরীক্ষা করার জন্য that He may test you,  أَيُّكُمْ তোমাদের মধ্যে কে which of you,  أَحْسَنُ সর্বোত্তম (is) best,  عَمَلًا আমলে (in) deed,  وَهُوَ এবং তিনিই And He,  ٱلْعَزِيزُ পরাক্রমশালী (is) the All-Mighty,  ٱلْغَفُورُ ক্ষমাশীল the Oft-Forgiving, ) 
 
(3 الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا مَّا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِن تَفَاوُتٍ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَى مِن فُطُورٍ তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? He Who created the seven heavens one above another: No want of proportion wilt thou see in the Creation of ((Allah)) Most Gracious. So turn thy vision again: seest thou any flaw?
( ٱلَّذِى তিনিই The One Who,  خَلَقَ সৃষ্টি করেছেন created,  سَبْعَ সাত seven,  سَمَٰوَٰتٍ আকাশ heavens,  طِبَاقًا স্তরে স্তরে one above another,  مَّا না Not,  تَرَىٰ দেখতে পাবে you see,  فِى মধ্যে in,  خَلْقِ সৃষ্টির (the) creation, ٱلرَّحْمَٰنِ দয়াবানের (of) the Most Gracious,  مِن কোন any,  تَفَٰوُتٍ অসঙ্গতি fault,  فَٱرْجِعِ অতএব ফিরাও So return,  ٱلْبَصَرَ দৃষ্টিশক্তি  the vision,  هَلْ কি can,  تَرَىٰ দেখতে পাও  you see,  مِن কোন any,  فُطُورٍ ত্রুটি flaw? )
 
(4 ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِأً وَهُوَ حَسِيرٌ অতঃপর তুমি বার বার তাকিয়ে দেখ-তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। Again turn thy vision a second time: (thy) vision will come back to thee dull and discomfited, in a state worn out.
( ثُمَّ আবার Then,  ٱرْجِعِ ফিরাও return,  ٱلْبَصَرَ দৃষ্টি the vision,  كَرَّتَيْنِ বার বার twice again,  يَنقَلِبْ ফিরে আসবে Will return,  إِلَيْكَ তোমার দিকে to you, ٱلْبَصَرُ দৃষ্টি  the vision,  خَاسِئًا ব্যর্থ হয়ে humbled,  وَهُوَ এবং তা (হবে) while it,  حَسِيرٌ ক্লান্তশ্রান্ত (is) fatigued, )
 
(5 وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاء الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِّلشَّيَاطِينِ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।  And we have, (from of old), adorned the lowest heaven with Lamps, and We have made such (Lamps) (as) missiles to drive away the Evil Ones, and have prepared for them the Penalty of the Blazing Fire.
( وَلَقَدْ এবং নিশ্চয় And certainly,  زَيَّنَّا আমরা সাজিয়েছি We have beautified,  ٱلسَّمَآءَ আকাশকে the heaven,  ٱلدُّنْيَا নিকটবর্তী nearest,  بِمَصَٰبِيحَ প্রদীপরাশি দিয়ে with lamps,  وَجَعَلْنَٰهَا এবং তা আমরা বানিয়েছি and We have made them,  رُجُومًا নিক্ষেপ উপকরণ (as) missiles,  لِّلشَّيَٰطِينِ শয়তানদের জন্য for the devils,  وَأَعْتَدْنَا এবং আমরা প্রস্তুত করে রেখেছি and We have prepared,  لَهُمْ তাদের জন্যে for them, عَذَابَ শাস্তি punishment,  ٱلسَّعِيرِ প্রজ্জ্বলিত আগুনের (of) the Blaze,) 
 
(6 وَلِلَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ যারা তাদের পালনকর্তাকে অস্বীকার করেছে তাদের জন্যে রয়েছে জাহান্নামের শাস্তি। সেটা কতই না নিকৃষ্ট স্থান।  For those who reject their Lord (and Cherisher) is the Penalty of Hell: and evil is (such), Destination.
( وَلِلَّذِينَ এবং যারা জন্যে And for those who,  كَفَرُوا۟ অস্বীকার করেছে disbelieved,  بِرَبِّهِمْ তাদের রবকে in their Lord,  عَذَابُ শাস্তি (is the) punishment,  جَهَنَّمَ জাহান্নামের (of) Hell,  وَبِئْسَ এবং অত্যন্ত খারাপ and wretched is, ٱلْمَصِيرُ প্রত্যাবর্তন স্থল the destination )
 
(7 إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ যখন তারা তথায় নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তার উৎক্ষিপ্ত গর্জন শুনতে পাবে। When they are cast therein, they will hear the (terrible) drawing in of its breath even as it blazes forth,
( إِذَآ যখন When,  أُلْقُوا۟ নিক্ষিপ্ত হবে they are thrown,  فِيهَا তার মধ্যে therein,  سَمِعُوا۟ তারা শুনবে they will hear,  لَهَا তার জন্য from it,  شَهِيقًا বিকট শব্দ an inhaling,  وَهِىَ এবং তা while it,  تَفُورُ উদ্বেলিত হবে boils up ) 
 
(8 تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোন সম্প্রদায় নিক্ষিপ্ত হবে তখন তাদেরকে তার সিপাহীরা জিজ্ঞাসা করবে। তোমাদের কাছে কি কোন সতর্ককারী আগমন করেনি? Almost bursting with fury: Every time a Group is cast therein, its Keepers will ask, “Did no Warner come to you?
( تَكَادُ  উপক্রম হবে It almost,  تَمَيَّزُ ফেটে পড়ার bursts,  مِنَ মধ্য হতে with,  ٱلْغَيْظِ রোষে rage,  كُلَّمَآ যখনই Every time,  أُلْقِىَ নিক্ষিপ্ত হবে is thrown,  فِيهَا তার মধ্যে therein,  فَوْجٌ কোন দল a group,  سَأَلَهُمْ জিজ্ঞেস তাদের করবে will ask them,  خَزَنَتُهَآ তার রক্ষীরা its keepers,  أَلَمْ “নাই কি “Did not,  يَأْتِكُمْ তোমাদের কাছে আসে come to you,  نَذِيرٌ সতর্ককারী” a warner?” )
 
(9 قَالُوا بَلَى قَدْ جَاءنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِن شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ তারা বলবেঃ হ্যাঁ আমাদের কাছে সতর্ককারী আগমন করেছিল, অতঃপর আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম এবং বলেছিলামঃ আল্লাহ তা’আলা কোন কিছু নাজিল করেননি। তোমরা মহাবিভ্রান্তিতে পড়ে রয়েছ। They will say: “Yes indeed; a Warner did come to us, but we rejected him and said, ‘(Allah) never sent down any (Message): ye are nothing but an egregious delusion!
( قَالُوا۟ তারা বলবে They will say,  بَلَىٰ “হ্যাঁ “Yes,  قَدْ অবশ্যই indeed, جَآءَنَا এসেছিল আমাদের (কাছে) came to us,  نَذِيرٌ সতর্ককারী a warner,  فَكَذَّبْنَا তবে আমরা মিথ্যারোপ করেছিলাম  but we denied, وَقُلْنَا এবং আমরা বলে ছিলাম and we said,  مَا “নাই “Not,  نَزَّلَ নাযিল করেন has sent down,  ٱللَّهُ আল্লাহ্‌ Allah مِن কোন any,  شَىْءٍ কিছু thing,  إِنْ নও Not,  أَنتُمْ তোমরা you (are),  إِلَّا এছাড়া but,  فِى মধ্যে in,  ضَلَٰلٍ গুমরাহীর error,  كَبِيرٍ বড়” great” )
 
(10 وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ তারা আরও বলবেঃ যদি আমরা শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটাতাম, তবে আমরা জাহান্নামবাসীদের মধ্যে থাকতাম না। They will further say: “Had we but listened or used our intelligence, we should not (now) be among the Companions of the Blazing Fire!
( وَقَالُوا۟ এবং তারা বলবে And they will say,  لَوْ “‘যদি “If,  كُنَّا আমরা we had,  نَسْمَعُ শুনতাম listened,  أَوْ অথবা or, نَعْقِلُ আমরা বিবেচনা করতাম reasoned,  مَا না not,  كُنَّا আমরা হতাম we (would) have been,  فِىٓ মধ্যে among,  أَصْحَٰبِ অধিবাসীদের (the) companions,  ٱلسَّعِيرِ প্রজ্বলিত আগুনের” (of) the Blaze” ) 
 
(11 فَاعْتَرَفُوا بِذَنبِهِمْ فَسُحْقًا لِّأَصْحَابِ السَّعِيرِ অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। জাহান্নামীরা দূর হোক।  They will then confess their sins: but far will be (Forgiveness) from the Companions of the Blazing Fire!
(فَٱعْتَرَفُوا۟ এভাবে তারা স্বীকার করবে Then they (will) confess,  بِذَنۢبِهِمْ তাদের অপরাধকে their sins,  فَسُحْقًا অভিশাপ অতএব so away with,  لِّأَصْحَٰبِ অধিবাসীদের জন্য (the) companions,  ٱلسَّعِيرِ প্রজ্বলিত আগুনের (of) the Blaze ) 
 
(12 إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ নিশ্চয় যারা তাদের পালনকর্তাকে না দেখে ভয় করে, তাদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার। (  وَأَجْرٌ  = পুরস্কার ) As for those who fear their Lord unseen, for them is Forgiveness and a great Reward.
( إِنَّ নিশ্চয় Indeed,  ٱلَّذِينَ যারা those who,  يَخْشَوْنَ ভয় করে fear,  رَبَّهُم তাদের রবকে their Lord,  بِٱلْغَيْبِ অদেখা অবস্থায় unseen,  لَهُم তাদের জন্য for  them,  مَّغْفِرَةٌ ক্ষমা (is) forgiveness,  وَأَجْرٌ এবং প্রতিদান and a reward,  كَبِيرٌ বড় great ) 
 
(13 وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বল অথবা প্রকাশ্যে বল, তিনি তো অন্তরের বিষয়াদি সম্পর্কে সম্যক অবগত।  And whether ye hide your word or publish it, He certainly has (full) knowledge, of the secrets of (all) hearts.
( وَأَسِرُّوا۟ এবং তোমরা গোপন কর And conceal,  قَوْلَكُمْ তোমাদের কথা your speech,  أَوِ অথবা or,  ٱجْهَرُوا۟ প্রকাশ কর proclaim,  بِهِۦٓ তাকে it,  إِنَّهُۥ তিনি নিশ্চয়ই Indeed He,  عَلِيمٌۢ খুব জ্ঞাত (is the) All-Knower,  بِذَاتِ অবস্থা সম্পর্কে of what (is in), ٱلصُّدُورِ অন্তরগুলোর the breasts )
 
(14 أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি করে জানবেন না? তিনি সূক্ষ্জ্ঞানী, সম্যক জ্ঞাত। Should He not know,- He that created? and He is the One that understands the finest mysteries (and) is well-acquainted (with them).
(أَلَا  না কি Does not,  يَعْلَمُ তিনি জানেন know, مَنْ যিনি (the One) Who,  خَلَقَ সৃষ্টি করেছেন created?,  وَهُوَ অথচ তিনি And He,  ٱللَّطِيفُ সূক্ষ্মদর্শী (is) the Subtle,  ٱلْخَبِيرُ খুব অবগত the All-Aware, ) 
 
(15 هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে সুগম করেছেন, অতএব, তোমরা তার কাঁধে বিচরণ কর এবং তাঁর দেয়া রিযিক আহার কর। তাঁরই কাছে পুনরুজ্জীবন হবে।  It is He Who has made the earth manageable for you, so traverse ye through its tracts and enjoy of the Sustenance which He furnishes: but unto Him is the Resurrection.
( هُوَ তিনিই He,  ٱلَّذِى যিনি (is) the One Who,  جَعَلَ বানিয়েছেন made,  لَكُمُ তোমাদের জন্য for you,  ٱلْأَرْضَ ভূতলকে the earth,  ذَلُولًا অধীন subservient,  فَٱمْشُوا۟ তোমরা অতঃপর চল so walk,  فِى উপর in,  مَنَاكِبِهَا তার বক্ষের (the) paths thereof,  وَكُلُوا۟ এবং তোমরা খাও and eat,  مِن হতে of رِّزْقِهِۦ তার রিযক His provision,  وَإِلَيْهِ এবং তাঁরই দিকে and to Him,  ٱلنُّشُورُ পুনরুত্থান (is) the Resurrection ) 
 
(16 أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন, অতঃপর তা কাঁপতে থাকবে। Do ye feel secure that He Who is in heaven will not cause you to be swallowed up by the earth when it shakes (as in an earthquake)?
( ءَأَمِنتُم তোমরা নিরাপদ কি হয়েছ Do you feel secure,  مَّن (তাঁর থেকে) যিনি (from Him) Who,  فِى আছেন (is) in,  ٱلسَّمَآءِ আসমানে the heaven, أَن যে not,  يَخْسِفَ ধসিয়ে দেবেন He will cause to swallow,  بِكُمُ তোমাদের সহ you,  ٱلْأَرْضَ মাটিকে the earth, فَإِذَا অতঃপর when,  هِىَ তা it, تَمُورُ কাঁপবে sways? ) 
 
(17 أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاء أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ না তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের উপর প্রস্তর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী। Or do ye feel secure that He Who is in Heaven will not send against you a violent tornado (with showers of stones), so that ye shall know how (terrible) was My warning?
( أَمْ অথবা Or,  أَمِنتُم তোমরা নির্ভয় হয়েছ do you feel secure,  مَّن (তাঁর থেকে) যিনি (from Him) Who,  فِى আছেন (is) in,  ٱلسَّمَآءِ আসমানে the heaven,  أَن যে not,  يُرْسِلَ পাঠাবেন He will send,  عَلَيْكُمْ তোমাদের উপর against you,  حَاصِبًا কঙ্করবর্ষী ঝঞ্ঝা a storm of stones?, فَسَتَعْلَمُونَ তোমরা জানবে তখন Then you would know,  كَيْفَ কেমন how,  نَذِيرِ আমার সতর্কীকরণ (was) My warning?, ) 
 
(18 وَلَقَدْ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ তাদের পূর্ববর্তীরা মিথ্যারোপ করেছিল, অতঃপর কত কঠোর হয়েছিল আমার অস্বীকৃতি। But indeed men before them rejected (My warning): then how (terrible) was My rejection (of them)?
( وَلَقَدْ এবং করে ছিল নিশ্চয় And indeed,  كَذَّبَ মিথ্যারোপ denied, ٱلَّذِينَ যারা those,  مِن (ছিল) from,  قَبْلِهِمْ তাদের পূর্বে before them,  فَكَيْفَ কেমন ফলে and how,  كَانَ ছিল was,  نَكِيرِ আমার পাক্‌ড়াও My rejection, ) 
 
(19 أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَنُ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ তারা কি লক্ষ্য করে না, তাদের মাথার উপর উড়ন্ত পক্ষীকুলের প্রতি পাখা বিস্তারকারী ও পাখা সংকোচনকারী? রহমান আল্লাহ-ই তাদেরকে স্থির রাখেন। তিনি সর্ব-বিষয় দেখেন। Do they not observe the birds above them, spreading their wings and folding them in? None can uphold them except ((Allah)) Most Gracious: Truly ((Allah)) Most Gracious: Truly it is He that watches over all things.
( أَوَلَمْ কি নাই Do not,  يَرَوْا۟ তারা দেখে they see,  إِلَى প্রতি [to],  ٱلطَّيْرِ পাখিগুলির the birds,  فَوْقَهُمْ তাদের উপরে above them, صَٰٓفَّٰتٍ পাখা বিস্তার করে spreading (their wings),  وَيَقْبِضْنَ ও গুটিয়ে নেয় and folding?,  مَا না Not,  يُمْسِكُهُنَّ তাদের ধরে ধরে (অন্য কেউ) holds them,  إِلَّا ছাড়া except,  ٱلرَّحْمَٰنُ দয়াবান the Most Gracious,  إِنَّهُۥ তিনি নিশ্চয় Indeed He,  بِكُلِّ সব উপর (is) of every,  شَىْءٍۭ কিছুর thing,  بَصِيرٌ দৃষ্টিবান All-Seer )
 
(20 أَمَّنْ هَذَا الَّذِي هُوَ جُندٌ لَّكُمْ يَنصُرُكُم مِّن دُونِ الرَّحْمَنِ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ রহমান আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত তোমাদের কোন সৈন্য আছে কি, যে তোমাদেরকে সাহায্য করবে? কাফেররা বিভ্রান্তিতেই পতিত আছে।  Nay, who is there that can help you, (even as) an army, besides ((Allah)) Most Merciful? In nothing but delusion are the Unbelievers.
( أَمَّنْ অথবা কোন Who is,  هَٰذَا এমন this, ٱلَّذِى যা the one, هُوَ সেই he,  جُندٌ সৈন্যবাহিনী (is) an army,  لَّكُمْ তোমাদের জন্য আছে for you,  يَنصُرُكُم তোমাদের সাহায্য করবে to help you,  مِّن থেকে from,  دُونِ ছাড়া besides, ٱلرَّحْمَٰنِ রহমান the Most Gracious?,  إِنِ নয় Not, ٱلْكَٰفِرُونَ আমান্যকারীরা (are) the disbelievers,  إِلَّا এ ছাড়া but,  فِى মধ্যে in,  غُرُورٍ ধোঁকার delusion ) 
 
(21 أَمَّنْ هَذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ بَل لَّجُّوا فِي عُتُوٍّ وَنُفُورٍ তিনি যদি রিযিক বন্ধ করে দেন, তবে কে আছে, যে তোমাদেরকে রিযিক দিবে বরং তারা অবাধ্যতা ও বিমুখতায় ডুবে রয়েছে।  Or who is there that can provide you with Sustenance if He were to withhold His provision? Nay, they obstinately persist in insolent impiety and flight (from the Truth).
( أَمَّنْ কে অথবা আছে Who is,  هَٰذَا এমন this,  ٱلَّذِى যে the one,  يَرْزُقُكُمْ তোমাদের রিযক দেবে to provide you,  إِنْ যদি if,  أَمْسَكَ তিনি বন্ধ করেন He withheld, رِزْقَهُۥ তার রিযক His provision,  بَل বরং Nay,  لَّجُّوا۟ তারা অবিচল they persist,  فِى মধ্যে in,  عُتُوٍّ খোদাদ্রোহিতার pride, وَنُفُورٍ এবং সত্য পরিহারে and aversion,
 
(22 أَفَمَن يَمْشِي مُكِبًّا عَلَى وَجْهِهِ أَهْدَى أَمَّن يَمْشِي سَوِيًّا عَلَى صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে, সে-ই কি সৎ পথে চলে, না সে ব্যক্তি যে সোজা হয়ে সরলপথে চলে? Is then one who walks headlong, with his face groveling, better guided,- or one who walks evenly on a Straight Way?
( أَفَمَن যে অতএব কি Then is he who,  يَمْشِى চলে walks,  مُكِبًّا অধঃগতি fallen, عَلَىٰ উপর on,  وَجْهِهِۦٓ তার মুখের his face,  أَهْدَىٰٓ অধিক সত্য পথপ্রাপ্ত better guided, أَمَّن যে অথবা or (he) who,  يَمْشِى চলে walks,  سَوِيًّا সোজাসুজি upright,  عَلَىٰ উপর on, صِرَٰطٍ পথের (the) Path, مُّسْتَقِيمٍ সরল Straight? )
 
(23 قُلْ هُوَ الَّذِي أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ বলুন, তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং দিয়েছেন কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। Say: “It is He Who has created you (and made you grow), and made for you the faculties of hearing, seeing, feeling and understanding: little thanks it is ye give.
(  قُلْ বল Say,  هُوَ “তিনিই “He,  ٱلَّذِىٓ যিনি (is) the One Who,  أَنشَأَكُمْ তোমাদের সৃষ্টি করেছেন produced you, وَجَعَلَ এবং দিয়েছেন and made,  لَكُمُ তোমাদের জন্য for you,  ٱلسَّمْعَ শ্রবণশক্তি the hearing,  وَٱلْأَبْصَٰرَ ও দৃষ্টিশক্তি and the vision, وَٱلْأَفْـِٔدَةَ এবং অন্তঃকরণ and the feelings,  قَلِيلًا কমই Little,  مَّا যা (is) what,  تَشْكُرُونَ তোমরা শোকর কর” you give thanks”, ) 
 
(24 قُلْ هُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ বলুন, তিনিই তোমাদেরকে পৃথিবীতে বিস্তৃত করেছেন এবং তাঁরই কাছে তোমরা সমবেত হবে। Say: “It is He Who has multiplied you through the earth, and to Him shall ye be gathered together.
(  قُلْ বল Say,  هُوَ “তিনিই “He, ٱلَّذِى যিনি (is) the One Who,  ذَرَأَكُمْ তোমাদের ছড়িয়ে দিয়েছেন multiplied you,  فِى মধ্যে in,  ٱلْأَرْضِ পৃথিবীর the  earth,  وَإِلَيْهِ এবং তাঁরই দিকে and to Him,  تُحْشَرُونَ তোমাদের একত্রিত করা হবে” you will be gathered” ) 
 
(25 وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ কাফেররা বলেঃ এই প্রতিশ্রুতি কবে হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?  They ask: When will this promise be (fulfilled)? – If ye are telling the truth.
( وَيَقُولُونَ এবং তারা বলে And they say,  مَتَىٰ “কখন “When,  هَٰذَا এই (is) this,  ٱلْوَعْدُ প্রতিশ্রুতি promise,  إِن যদি if,  كُنتُمْ তোমরা হও you are,  صَٰدِقِينَ সত্যবাদী” truthful?” ) 
 
(26 قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِندَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُّبِينٌ বলুন, এর জ্ঞান আল্লাহ তা’আলার কাছেই আছে। আমি তো কেবল প্রকাশ্য সতর্ককারী। Say: “As to the knowledge of the time, it is with Allah alone: I am (sent) only to warn plainly in public.”
( قُلْ তুমি বল Say,  إِنَّمَا “শুধুমাত্র “Only,  ٱلْعِلْمُ (তার) জ্ঞান the knowledge,  عِندَ কাছে (is) with,  ٱللَّهِ আল্লাহর Allah, وَإِنَّمَآ এবং শুধুমাত্র and only,  أَنَا۠ আমি I am,  نَذِيرٌ সাবধানকারী a warner,  مُّبِينٌ স্পষ্ট” clear”, ) 
 
(27 فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هَذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَدَّعُونَ যখন তারা সেই প্রতিশ্রুতিকে আসন্ন দেখবে তখন কাফেরদের মুখমন্ডল মলিন হয়ে পড়বে এবং বলা হবেঃ এটাই তো তোমরা চাইতে। At length, when they see it close at hand, grieved will be the faces of the Unbelievers, and it will be said (to them): “This is (the promise fulfilled), which ye were calling for!
(  فَلَمَّا যখন পরে But when,  رَأَوْهُ তা দেখবে they (will) see it,  زُلْفَةً নিকটে approaching, سِيٓـَٔتْ মলিন হবে (will be) distressed,  وُجُوهُ মুখগুলো (the) faces, ٱلَّذِينَ যারা (তাদের) (of) those who,  كَفَرُوا۟ অস্বীকার করেছে disbelieved,  وَقِيلَ এবং বলা হবে and it will be said,  هَٰذَا “এই “This,  ٱلَّذِى যা (সেই) (is) that which,  كُنتُم তোমরা ছিলে you used (to),  بِهِۦ তা সম্পর্কে for it,  تَدَّعُونَ দাবি করতে” call” ) 
 
(28 قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِيَ اللَّهُ وَمَن مَّعِيَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ الْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ-যদি আল্লাহ তা’আলা আমাকে ও আমার সংগীদেরকে ধ্বংস করেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তবে কাফেরদেরকে কে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থেকে রক্ষা করবে? Say: “See ye?- If Allah were to destroy me, and those with me, or if He bestows His Mercy on us,- yet who can deliver the Unbelievers from a grievous Penalty?
( قُلْ বল Say,  أَرَءَيْتُمْ “তোমরা চিন্তা কি করেছ “Have you seen,  إِنْ যদি if,  أَهْلَكَنِىَ আমাকে ধ্বংস করেন destroys me,  ٱللَّهُ আল্লাহ Allah, وَمَن এবং যারা and whoever,  مَّعِىَ আমার সাথে (is) with me,  أَوْ অথবা or,  رَحِمَنَا আমাদের প্রতি দয়া করেন has mercy upon us,  فَمَن কে কিন্তু then who,  يُجِيرُ আশ্রয় দেবে (can) protect,  ٱلْكَٰفِرِينَ অস্বীকার কারীদের the disbelievers,  مِنْ থেকে from,  عَذَابٍ আযাব a punishment, أَلِيمٍ অত্যন্ত পীড়াদায়ক” painful” )
 
(29 قُلْ هُوَ الرَّحْمَنُ آمَنَّا بِهِ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ বলুন, তিনি পরম করুণাময়, আমরা তাতে বিশ্বাস রাখি এবং তাঁরই উপর ভরসা করি। সত্ত্বরই তোমরা জানতে পারবে, কে প্রকাশ্য পথ-ভ্রষ্টতায় আছে। Say: “He is ((Allah)) Most Gracious: We have believed in Him, and on Him have we put our trust: So, soon will ye know which (of us) it is that is in manifest error.
( قُلْ বল Say,  هُوَ “তিনিই “He,  ٱلرَّحْمَٰنُ পরম করুণাময় (is) the Most Gracious;, ءَامَنَّا আমরা ঈমান এনেছি we believe,  بِهِۦ তার উপর in Him,  وَعَلَيْهِ এবং তার উপর and upon Him,  تَوَكَّلْنَا আমরা নির্ভর করেছি we put (our) trust,  فَسَتَعْلَمُونَ অতএব শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে So soon you will know,  مَنْ কে who, هُوَ সে (is) it,  فِى মধ্যে (that is) in,  ضَلَٰلٍ গুমরাহীর error,  مُّبِينٍ সুস্পষ্ট” clear” ) 
 
(30 قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْرًا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَاء مَّعِينٍ বলুন, তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভের গভীরে চলে যায়, তবে কে তোমাদেরকে সরবরাহ করবে পানির স্রোতধারা? Say: “See ye?- If your stream be some morning lost (in the underground earth), who then can supply you with clear-flowing water?”
( قُلْ বলো Say,  أَرَءَيْتُمْ “তোমরা ভেবে কি দেখেছ “Have you seen,  إِنْ যদি if,  أَصْبَحَ হয়ে যায় becomes,  مَآؤُكُمْ তোমাদের পানি your water,  غَوْرًا ভূগর্ভস্থ sunken,  فَمَن কে তবে then who,  يَأْتِيكُم তোমাদের কাছে আনবে could bring you,  بِمَآءٍ পানি water,  مَّعِينٍۭ প্রবহমান” flowing?” ) 

সূরা মূলকের ফযীলত

এই সুরাকে হাদীসে ওয়াকিয়া ও মুনজিয়া বলা হয়েছে। ওয়াকিয়া শব্দের অর্থ রক্ষাকারী এবং মুনজিয়া অর্থ মুক্তিদানকারী।
 
হাদীস ১। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “এই সূরা আযাব রোধ করে এবং আযাব থেকে মুক্তি দেয়। যে এই সূরা পাঠ করে, তাকে এ সূরা কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবে।” – কুরতুবীর বরাতে মারেফুল কোরানে বর্ণিত
 
হাদীস ২। হযরত জাবির (রা) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলীফ লাম মীম তানযীল ও তাবারাকাল্লাযী না পড়িয়া কখনো ঘুমাইতেন না। – তিরমিযীর বরাতে তাফসীর ইবনে কাছীর এ বর্ণিত
 
হাদীস ৩। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আমার আন্তরিক বাসনা এই যে, সূরা মূলক প্রত্যেক মুমিনের অন্তরে গ্রথিত থাকুক।” – কুরতুবীর বরাতে মারেফুল কোরানে বর্ণিত, তাবারানীর বরাতে তাফসীর ইবনে কাছীর
 
হাদীস ৪। হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ তায়ালার কিতাবে একটি সূরা আছে, যার আয়াত তো মাত্র ত্রিশটি কিন্তু কিয়ামতের দিন এই সূরা এক এক ব্যক্তির পক্ষে সুপারিশ করবে এবং তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে দাখিল করবে; সেটা সূরা মূলক। – কুরতুবীর বরাতে মারেফুল কোরানে বর্ণিত
 
হাদীস ৫। হযরত আনাস (রা) হইতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ” কুরআনে এমন একটি সূরা আছে যাহা আল্লাহর সহিত ঝগড়া করিয়া তাহার পাঠকারীকে জান্নাতে প্রবেশ করাইয়াছে। – তাবারানীর বরাতে তাফসীর ইবনে কাছীর
 
হাদীস ৬। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) এক ব্যক্তিকে বলিলেন, আমি কি তোমাকে এমন একটি হাদীস শুনাইব, যাহা শুনিয়া তুমি খুশি হইবে? উত্তরে সে বলিল, হ্যাঁ শুনান। ইবনে আব্বাস (রা) বলিলেন, তুমি নিজে সূরা মূলক পড়, এবং পরিবারের সকলকে ও প্রতিবেশীকে উহা শিক্ষা দাও।কারণ উহা মুক্তিদানকারী ও ঝগড়াকারী। 
 
কিয়ামতের দিন আল্লাহর সহিত ঝগড়া করিয়া উহার পাঠকারীকে সে জাহান্নামের আযাব হইতে রক্ষা করিবে এবং কবরের আযাব হইতে বাঁচাইয়া রাখিবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, “আমার একান্ত কামনা যে, এই সূরাটি আমার প্রত্যেক উম্মতের অন্তরে গাঁথিয়া থাকুক।” – তাফসীর ইবনে কাছীর
 
 
Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ, ফার্স্ট ক্লাস )

 

আরো ফজিলত!

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘কোরআন শরীফে একটি ত্রিশ আয়াতের সূরা আছে। এই সূরা হাশরের দিন উহার নিয়মিত পাঠকারীদের জন্য সুপারিশ করে তাদের সমস্ত গোনাহ মাফ করিয়ে দিবে। উহা সূরা মূলক।’ সূরা আল-মূলক পবিত্র কোরআন শরীফের ৬৭ তম সূরা। এই সূরার আয়াত সংখ্যা ৩০, রুকু আছে ২টি। সূরা আল-মূলক মক্কায় অবতীর্ণ হয়। সূরা আল মূলকের নামের অর্থ, সার্বভৌম কর্তৃত্ব। এই সূরা পবিত্র কোরআন শরীফের ২৯ নং পারায় আছে। সূরা আল-মূলকের পূর্ববর্তী সূরা হচ্ছে সূরা আত-তাহরীম, আর পরবর্তী সূরা হচ্ছে সূরা আল-কলম। নিয়মিত সূরা আল মূলক পাঠ করলে কবরের আজাব হতে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। তিরিমিজি শরীফে এসেছে, মহানবী হজরত মুহম্মদ (সা.) আলাইহে ওয়া সাল্লাম সূরা আল-মূলক পাঠ না করে ঘুমাতে যেতেন না। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, ‘তোমরা সূরা মুলক শিখ এবং নিজেদের স্ত্রী-পুত্রদের শিখাও। এটা কবরের আজাব হতে রক্ষা করবে এবং কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে এই সূরা পাঠকারীর পক্ষে কথা বলে তাকে মুক্ত করবে।’ সূরা আল মূলক রাতের বেলা পড়া উত্তম, তবে অন্য যেকোনো সময়ও পড়া যাবে। এ সূরাটি অর্থ বুঝে নিয়মিত পড়ার তাৎপর্য রয়েছে। এই সূরা সালাতের সঙ্গে পড়াও উত্তম। মুখস্ত না থাকলে দেখে দেখে অর্থ বুঝে পড়লে বিশেষ সাওয়াব পাওয়া যাবে। হাদিসে আছে, সূরা মূলক একচল্লিশবার পাঠ করলে সমস্ত বিপদ-আপদ হতে রক্ষা পাওয়া যায় এবং ঋণ পরিশোধ হয়। এ সূরা পাঠে কবরের আজাব থেকে বাঁচা যায়। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম হাদিসে উল্লেখ করেন, ‘সূরাহ মুলক (তিলাওয়াতকারীকে) কবরের আজাব থেকে প্রতিরোধকারী।

 

 ১. তিরমিযী শরীফের মধ্যে একটি হাদীসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি দৈনিক সূরা মূলক পাঠ  করবে, সে করব আযাব ও কিয়ামতের মুছীবত হতে রক্ষা পাবে এবং জান্নাতবাসী হবে।
২. অন্য এক হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি নিয়মিত সূরা মূলক পাঠ করবে তাকে কবরের আজাব থেকে সূরা মূলক রক্ষা করবে কেয়ামত পর্যন্ত।
৩. আবু দাউদ (হাদিস নং ১৪০০) বর্ণিত আছে মুহাম্মদ (সঃ ) বলেছেন:  কাল কেয়ামতের মাঠে এক ব্যক্তির উপর জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছিলো। কিন্তু সে সূরা মূলক নিয়মিত পাঠ করতো। তখন সূরা মূলক আল্লাহকে বলবে উমুক ব্যক্তিকে আপনি ক্ষমা করে দিন।  আল্লাহ বললেন না। সূরাটি আবারও বলবে আল্লাহ উমুক ব্যক্তিকে আপনি ক্ষমা করে দিন কারণ সে আমাকে পাঠ করতো। আল্লাহ আবারও না বললেন। এইভাবে সূরাটি আল্লাহর কাছে উমুক ব্যক্তির জন্যে ক্ষমা চাইতেই থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আল্লাহ ব্যক্তিটিকে ক্ষমা না করেন।
৪. যে লোক সূরা মূলক নিয়মিত পাঠ করবে, তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে এবং পরকালে ইহা তার জন্য সুপারিশ করবে।
৫. আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত  মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, কুরআনে একটি সূরা রয়েছে যা কেবল ত্রিশটি আয়াত। এটি পাঠকারীকে জান্নাতে না নেওয়া পর্যন্ত তার সাথে থাকবে।
৬. মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন “সূরা আল মূলক কবরের আযাব থেকে রক্ষাকারী”
৭. জাবির বলেছিলেন যে তাবারকাল্লাদি বিয়াদিহিল মুলক (আল-মুলক) এবং আলিফ লাম মীম তানজিল (আস-সাজদা) পড়া না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে না যাওয়ার রীতি ছিল।
৮.  আহমদ, তিরমিযী ও সুনান আল-দারিমি থেকে বর্ণিত, জাবির বলেছিলেন যে তাবা-রাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু (আল-মুলক) এবং আলিফ লাম মীম তানজিল (আস-সাজদা) পড়া না হওয়া পর্যন্ত ঘুমাতে না।
৯. আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বর্ণনা করেছেন যে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আমার আকাঙ্ক্ষা / ভালবাসা যে সূরাতুল মুলক প্রত্যেক মুসলমানের অন্তরে থাকুক।
১০. তিরমিযী হাদিসে তে বর্ণিত আছে, ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ মুহাম্মাদ (সাঃ) এর একজন সাহাবী  না বুঝে একটি কবরের উপরে তাঁর তাঁবু স্থাপন করেছিলেন।  এবং সে করব থেকে শুনতে পেলো তাবা-রাকাল্লাযী বিয়াদিহিল মুলকু শেষ পর্যন্ত পাঠ করছে। তিনি গিয়ে মুহাম্মাদ (সাঃ) ঘটনাটি বললেন। এবং জানতে চাইলেন কে এটা পাঠ করছিলো? উত্তরে মুহাম্মাদ (সাঃ) বললেন “এটা হলো প্রতিরোধকারী, আল্লাহ তায়ালার আযাব থেকে রক্ষাকারী”
১১. মিশকাত আল মিসবাহ তে বর্ণিত আছে, খালেদ বিন মাদাম সূরা আল মুলক ও আস-সাজদা সম্পর্কে বলেছেন যে “এই দুটি সূরা কবরে তাদের আবৃতিকারীর জন্য লড়াই করবে এবং বলবে, হে আল্লাহ! আমরা যদি আপনার বইয়ের (কুরআনের ) অন্তর্ভুক্ত হই তবে তাঁর অনুগ্রহে আমাদের সুপারিশ গ্রহণ করুন। যদি আমরা না হই তবে আমাদের নির্মূল করুন। এই সূরাগুলি পাখির মতো ডানা ছড়িয়ে দেবে এবং ব্যক্তিকে কবরের আযাব থেকে রক্ষা করবে।”
১২. ইবনে উমর (রাঃ ) বলেছিলেন যে একবার মুহাম্মদ (সাঃ) সূরা মূলকের দ্বিতীয় আয়াত পাঠ করছিলেন  (তিনিই মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে তোমাদের মধ্যে কে কর্মে উত্তম) এবং যখন তিনি “কাজের মধ্যে উত্তম” কথাটি পৌঁছেছিলেন, তখন তিনি থামিয়ে ব্যাখ্যা করলেন। “কর্মে আরও ভাল” সেই ব্যক্তি হ’ল যে ব্যক্তি আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন সে বিষয় থেকে সর্বাধিক পরিহার করে এবং সর্বদা তাঁর আনুগত্য করতে প্রস্তুত থাকে। “

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

 

Islami Dawah Center Cover photo

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল )

ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ, ফার্স্ট ক্লাস )