Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর জীবনী

 

ভূমিকাঃ

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর আসল নাম আবু হামিদ মুহম্মদ। তার পিতা ও পিতামহ উভয়ের নামই মুহম্মদ। তিনি খোরাসানের অন্তর্গত তুস নগর এর গাজালা নামক স্থানে জন্ম গ্রহন করেন। তাই সবাই উনাকে গাজ্জালী নামেই চিনে। তার পিতা মুহাম্মদ তখনকার সময়ে একজন স্বনামধন্য সূতা ব্যাবসায়ী ছিলেন। গাজল অর্থ সূতা, নামকরনের এই সামঞ্জস্যতা তাই তার বংশকে গাজ্জালী নামে পরিচিত করেছে। আবার কারো মতে তিনি হরিণের চক্ষু বিশিষ্ট অপরূপ সুদর্শন ছিলেন, আর গাজাল অর্থ হরিণ, তাই পিতা মাতা তাকে শৈশবে আদর করে গাজ্জালী বলে ডাকতেন। উভয় বর্ণনানুসারে তাকে গাজ্জালী বা গাজালীও বলা হয়।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর যুগে পারস্যের সম্রাট ছিলেন সলজুক বংশীয় সুলতান রুকনুদ্দীন তোগরল বেগ। সলজুগ বংশীয় সুলতাংনের রাজত্বকাল মুসলমানদের চরম উন্নতির যুগ ছিল। তাদের পুর্বে ইরান শিয়া সম্প্রদায়ভুক্ত বুইয়া বংশীয় রাজাদের শাসনাধীন ছিল।এই সময় মুসলিম শক্তি সমুহ পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ,আক্রমন-প্রতিআক্রমনের ফলে দুর্বল হয়ে পরেছিল। কিন্তু সলজুক বংশীয় তুর্কীগন ইসলাম গ্রহন করলে তাদের প্রাক ইসলামী স্বভাব চরিত্র ও মুল্যবোধে বিড়াট পরিবর্তন সাধিত হয় এবং তাদের মাধ্যমে এক অনুপম সভ্যতা গড়ে উঠে। ফলে তারা মুসলিম বিশ্বের লুপ্ত প্রায় শক্তি ও প্রতিভাকে পুনর্জীবিত করতে সক্ষম হয়। এই শক্তির অভ্যুদয়ের ফলে খ্রীষ্টান শক্তির অগ্রগতি রহিত হয় এবং সমগ্র এশিয়ার এক বিড়াট অংশ এই সুলতানগনের অধীনে এসে পড়ে। এ যুগে মুসলমানদের বিদ্যার্জন স্পৃহা অত্যন্ত বৃদ্ধি পায় ।

তৎকালে প্রচলিত ইহুদী ,খৃষ্টান ও পারসিকদের জ্ঞানার্জন সমাপ্ত করে প্রাচীন গ্রীক, মিশরীয় ও ভারতীয় জ্ঞানারহনে তারা প্রবৃত্ত হন। এ জন্যই জ্যোতিসশাস্ত্র, জড়বাদ, নাস্তিকতা ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকারের মতবাদের সংমিশ্রনে মুসলমান সমাজে বহু মতানৈক্যের এবং ইসলামী বিশ্বাস ও জ্ঞানের সাথে নানারকম মারাত্বক অনৈসলামিক ধর্ম-বিশ্বাস ও জ্ঞান এমন ভাবে মিশে পড়ে যে,খাটি ইসলামী বিশ্বাস ও অনইসলামী বিশ্বাসের মধ্যে পার্থক্য করাই দুরহ হয়ে পড়ে। অত্যধিক পরিমানে পার্থিব জড়বাদের প্রভাবে ধর্ম জ্ঞানের শ্বাস প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় এবং মুসলমান সমাজে ইসলামী বিশ্বাস ও ধর্মকার্যের ক্ষেত্রে এক চরম বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়। এ থেকে সমাজকে মুক্ত ও রক্ষা করার দায়িত্বই Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর উপর অর্পিত হয়। এই ক্ষনজন্মা মহাপুরুষের অতুলনীয় প্রতিভা যে নিপুনতার সাথে এই দায়িত্ব পালন করেন, তা সমগ্র বিশ্বে বিস্বয় ও ভক্তিভরে আজীবন স্বরন করবে।

 

তৎকালীন শিক্ষা ব্যবস্থাঃ

 

তৎকালে মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বত্র প্রথমিক স্তর হতে সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত অবৈতনিক মাদ্রাসা প্রতিষ্টিত ছিল। ছাত্রগনের খাওয়া পরার খরচ সহ মাদ্রাসার সমস্ত খরচ সরকার বহন করতেন। তদুপরি সকল মসজিদ ও বহু সঙ্গতিসম্পন্ন লোকদের গৃহেও মাদ্রাসা ব্যবস্থা চালু ছিল। সুতরাং সেইকালে ধনী দরীদ্র সকলের নিকটই শিক্ষার পথ সুগম ছিল। প্রবীন ও উচ্চশিক্ষিত সুধীজন যে সকল স্থানে শিক্ষাদান করতেন সেসব স্থানই উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পরিনত হত।

 

যে ঘটনা Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর জীবন পাল্টে দেয়ঃ

 

মরুভূমির মাঝ দিয়ে মালপত্র আর যাত্রীসমেত উটের কাফেলা চলেছে জুরজান হতে তূসের পানে। হঠাৎ  হা..রে..রে..রে করে কাফেলায় আক্রমণ চালালো মরুচারী দুর্ধর্ষ ডাকাতদল।

চোখের নিমিষে যাত্রীদের সর্বস্বান্ত করে দিয়ে তাদের মালপত্রসহ ভারবাহী পশুগুলো লুন্ঠন করে নিয়ে গেল ডাকাতেরা। এসময় হতাশ হয়ে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে যেতে দেখা যাত্রীদের মধ্য থেকে এক অল্পবয়সী কিশোর ছুটে গেল কাফেলা লুন্ঠন করে চলে যেতে থাকা ডাকাতদলের দিকে।

পেছন ফিরে ডাকাত সর্দার সেই ছেলেটিকে দৌড়ে আসতে দেখে হাতের অস্ত্র উঁচিয়ে বললো, ‘দাঁড়াও! আর এক কদম সামনে এগোলে জানে মেরে ফেলবো!’ ছেলেটি সে জায়গাতেই দাঁড়িয়ে বললো, ‘আল্লাহর দোহাই লাগে! আমার তালীকাতগুলো ফেরত দিন।’ ডাকাতসর্দার জিজ্ঞাসা করলো, ‘এটা কি জিনিস?’

সে বললো, ‘ওগুলো আমার থলেতেই আছে। আমার বই সেগুলো, আমার শিক্ষকদের কাছ থেকে লেকচার শুনে শুনে লিখে রাখা নোট। আমি দুই বছর ধরে শুধু এই কারণেই বিদেশ-বিভুঁইয়ে কষ্ট স্বীকার করে থেকেছি।’

ডাকাতসর্দার এ কথা শুনে হো-হো করে হেসে উঠলো। সে বিদ্রুপ করে বললো, ‘আরে! তুমিতো দেখি বিশাল বিদ্যার জাহাজ! এগুলো তোমার বিদ্যা? এ কোনধরণের বিদ্যা যেটা আমার মতো একজন নগণ্য-নিকৃষ্ট ব্যক্তি চাইলেই চুরি করে নিয়ে যেতে পারে? তার মানে এগুলো না থাকলে তোমার বিদ্যার ভাঁড় শূন্য? এই সামান্য কাগজগুলোর মধ্যেই যদি তোমার বিদ্যা সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে তোমার আর একজন মূর্খের মধ্যে পার্থক্য কোথায়? যাও যাও! নিয়ে যাও তোমার বিদ্যার থলে।’

দস্যু সর্দারের কথায় ছেলেটি যারপরনাই লজ্জিত ও অনুতপ্ত হলো। সে বাড়ি ফিরে নোটসমূহ মুখস্থ করতে বসে যায়। দীর্ঘ তিন বছর একাদিক্রমে অক্লান্ত পরিশ্রম করে সে ওইগুলো সম্পূর্ণরূপে ঠোঁটস্থ-মুখস্থ-কন্ঠস্থ করে ফেলে। এরপরে তার জ্ঞানের পিপাসা আরো বেড়ে যায়। জ্ঞানলাভের উদ্দেশ্যে সে আবার গৃহ ত্যাগ করে। একসময় তার জ্ঞানের পরিধি এতো বিস্তৃতি লাভ করে যে আজ পর্যন্ত লোকে তাকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করে থাকে।

 

IDC Partner

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর শৈশবকাল ও ছাত্র জীবনঃ

 

তৎকালীন খোরাসান প্রদেশের তূস জেলার তেহরান শহরে হিজরী ৪৫০ সন মোতাবেক ১০৫৮ খ্রিস্টাব্দে জন্ম নেয়া এই ক্ষণজন্মা মহান দার্শনিক আলেমের প্রকৃত নাম ছিল মুহম্মদ। তবে তিনি হুজ্জাতুল ইসলাম উপাধি এবং ইমাম গাজ্জালী নামেই সকলের নিকট সুপরিচিত। ‘গাজ্জাল’ শব্দের অর্থ সুতা বিক্রেতা। তাই তার পারিবারিক উপাধি ছিল ‘গাজ্জালী’।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর পিতা বিশেষ কোনো কারণবশত: শিক্ষার আলো হতে বঞ্চিত ছিলেন। এই জন্য তিনি সারাজীবন অনুতাপও করেছেন। মৃত্যুকাল ঘনিয়ে আসলে তিনি তার কোনো এক সুফী বন্ধুর হাতে ইমাম গাজ্জালী ও তার ছোট ভাইকে (তিনিও আরেক বিখ্যাত সুফী আহমদ গাজ্জালী) তুলে দিয়ে বললেন, ‘বন্ধু! আমি জীবনে লেখাপড়া শিখতে পারিনি। তাই আমার একান্ত ইচ্ছা আমার ছেলে দুইটি যেন লেখাপড়া শিখে আমার সেই অপরাধের কিছুটা প্রায়শ্চিত্ত করে। তুমি তাদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা করে দেবে।’

পিতার মৃত্যুর পর Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) ও তার ছোট ভাই তাদের পিতৃবন্ধু সেই বুযর্গের তত্ত্বাবধানে থেকে লেখাপড়া শিখতে থাকেন। প্রাথমিক শিক্ষালাভের পর তিনি তাদের তেহরান শহরেরই একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেন। ইমাম গাজ্জালী সেখানে আহমদ ইবনে মুহম্মদ রাজকানীর নিকট ফেকাহ শাস্ত্রের প্রাথমিক কিতাবসমূহ সমাপ্ত করেন। তারপর উচ্চশিক্ষার জন্য জুরজান শহরে যান এবং সেখানে আবু নসর ইসমাঈলীর নিকট শিক্ষা আরম্ভ করেন। তৎকালিন শিক্ষালাভের নিয়ম ছিল- শিক্ষক যে বিষয়ে শিক্ষা দিতেন ছাত্ররা সেটি সাথে সাথে লিখে নিতো। এজাতীয় নোটকে তালীকাত বলা হতো। এই তালীকাত নিয়ে ফেরার পথেই তরুণ ইমাম গাজ্জালী দস্যুদলের খপ্পরে পড়েন।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) পরবর্তীতে বলেছিলেন, ‘আমার সেসময় মনে হয়েছিল স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন যেন সেই ডাকাতসর্দারের মুখ দিয়ে আমাকে উপদেশ দেয়াচ্ছেন যে, আমি আসলেই এখনো গ্রন্থগত জ্ঞানকে আত্মস্থ করতে পারিনি।’

ওই একটি ঘটনা Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর জীবনকে সম্পূর্ণরূপে বদলে দিয়েছিল। তিনি সেই তালীকাতগুলো মুখস্থ করেই থেকে থাকেননি। তার যুগের যতো ধর্মীয়, দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ছিল সবকিছুই তিনি তার অসাধারণ মেধার বলে আত্মস্থ করেন। এসকল বিষয়ে প্রথাগত বিদ্যার যাবতীয় পাঠ যখন সমাপ্ত করেন তখন তার বয়স মাত্র ২৭ বছর। এই বয়সেই ভাষাবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যার ওপরে তার এতোটাই দখল তৈরি হয় যে তিনি এককথায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠেন।

তার বক্তব্যের মাধুর্য ও প্রাঞ্জলতা লোকজনকে মন্ত্রমুগ্ধের মতো বসে থেকে তার কথা শুনতে বাধ্য করতো। অথচ শুধুমাত্র এক ডাকাতসর্দারের সহাস্য বিদ্রুপই তাকে তূস জেলার এক পিতৃহীন কিশোর থেকে পরবর্তীতে হুজ্জাতুল ইসলাম Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিল।

তাই আজ, এই হাজার বছর পরেও Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) তার চিন্তা ও কাজের দরুণ মানুষের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।

 

উচ্চ শিক্ষার জন্য জুরজানে গমন গমনঃ

তেহরানে শিক্ষা সমাপ্তির পর Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) উচ্চ শিক্ষার জন্য জুরজান শহরে গমন করেন। এখানে তিনি হযরত ইমাম আবু নসর ইসমাইল (রঃ) এর তত্বাবধানে শিক্ষাগ্রহন আরম্ভ করেন। তার তীক্ষ্ণমেধা ও অসাধারন প্রতিভার পরিচয় পেয়ে তিনি পুত্রবৎ স্নেহে সর্বশক্তি নিয়োগ করে তাকে শিক্ষাদানে প্রবৃত্ত হন। তৎকালে শিক্ষকগন পাঠ্যবিষয়ে যে বিষয়ে শিক্ষাদান করতেন তা শিক্ষার্থিদেরকে হুবহু লিপিবদ্ধ করতে বাধ্য করা হতো। এ লিখিত নোটগুলিকে ”তালিকাত” বলা হত। এরুপে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর কাছে তালিকাতের এক বিড়াট ভান্ডার সংগৃহিত হল।

নিজামিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নঃ 

খোরাশানের অন্তর্গত নিশাপুরে অবস্থিত নিজামিয়া মাদ্রাসা তৎকালে বিশ্বের সর্বোচ্চ শিক্ষাকেন্দ্র ছিল। জুরাজানের অধ্যয়ন শেষে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর জ্ঞান পিপাসা নিবৃত হল না। তাই তিনি নিযামিয়া মাদ্রাসায় গমন করলেন। সেখানে  বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ আলিমরুপে স্বীকৃত ইমামুল হারামাইন (রঃ) ছিলেন এই মাদ্রসার অধ্যক্ষ। দুনিয়ার বহু দেশ হতে বহু লোক উচ্চশিক্ষার জন্য উনার নিকট উপস্থিত হতেন। তিনি এত গভীর জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন যে, দুনিয়ার বিভিন্ন দেশ হতে সুলতানগনও বিভিন্ন জটিল বিষয়ের মিমাংসার জন্য তার নিকট উপস্থিত হতেন। Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) উপযুক্ত শিক্ষক পেয়ে তার তীব্র জ্ঞান পিপাসা মিটাতে লাগলেন। ইমামুল হারামাইনও Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) কে দর্শন ও জ্ঞানের বিভিন্ন স্তরে খুব আগ্রহের সহিত শিক্ষা দিতে লাগলেন।

৪৭৮ হিজরিতে ইমামুল হারামাইন (রঃ) ইন্তিকাল করেন। তিনি ছাত্রগনের নিকট এত প্রিয় ছিলেন যে, ছাত্ররা তার মৃত্যুতে প্রায় উন্মাদ হয়ে পড়ে। ছাত্রগন প্রায় এক বৎসর কাল উস্তাদের শোকে মুহ্যমান হয়ে থাকে। Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর নিকটও উস্তাদের তিরোধান যাতনা অসহনীয় হয়ে উঠে এবং নিশাপুর তার নিকট অন্ধকার পুরীর ন্যয় মনে হতে লাগলো। তাই তিনি নিশাপুর পরিত্যগ করে বাগদাদ চলে আসেন ও ওখানেই পড়া লেখা শেষ করেন।

দিব্যজ্ঞান বা তাজকিয়ায়ে নফস অর্জনে বাইয়াত গ্রহনঃ 

এই সময় ইমাম Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর বয়স ছিল মাত্র ২৮ বৎসর। তিনি জানতেন যে কেবল কিতাব পাঠ আল্লাহর জ্ঞান লাভের জন্য যথেষ্ঠ নয়। এর জন্য দিব্যজ্ঞানসম্পন্ন জীবন্ত উস্তাদের নিতান্ত প্রয়োজন। হাদিস শরীফে আছে জ্ঞান দুই প্রকার । এক প্রকার জ্ঞান হচ্ছে জবানী জ্ঞান, অন্য একটি ক্বলবী এলেম বা আত্বিক জ্ঞান। রাসুল পাক (সাঃ) বলেন ক্বলবী এলেম বা আত্বিক জ্ঞানই হচ্ছে উপকারী জ্ঞান (মেশকাত শরীফ)। হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) বলেছেন, “আমি রসুল পাক(সাঃ) এর কাছ থেকে জ্ঞানের দুটি পাত্র অর্জন করেছি। একটি তোমাদের মধ্যে বিতরন করেছি অন্যটি করিনি। যদি করতাম তবে আমার কন্ঠদেশ কর্তিত হতো” (বোখারী শরীফ) পবিত্র কালাম পাকে ইহাকে তাজকিয়া এবং হাদিস শরীফে ইহাকে এহসান নামে আখ্যায়িত করা হয়েছে। হুজুর পাক (সাঃ) এর বহুমুখি শিক্ষার মধ্যে এই তাজাকিয়াও ছিল একটি অন্যতম বিষয়। কালামে পাকে এরশাদ হচ্ছে “তিনিই উম্মিদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরন করেছেন , যিনি তাদেরকে তাজকিয়া করেন এবং কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেন। যদিও ইতিপূর্বে তারা গোমরাহীতে নিমজ্জিত ছিল” (সুরা জুমায়া ২) হজরত ইমাম মালিক (রাঃ) বলেছেন ”যিনি তাসাউফ গ্রহন করলেন কিন্তু ফিকহ গ্রহন করলেন না তিনি নিশ্চই কাফের । আর যিনি ফিকহ গ্রহন করলেন কিন্তু তাসাউফ গ্রহন করলেন না, তিনি নিশ্চয়ই ফাসেক। আর যিনি উভয় জ্ঞান গ্রহন করলেন এবং সেই অনুযায়ী আমল করলেন তিনিই মুহাক্কেক বা প্রকৃত দ্বীন গ্রহণ করলেন।” তাই তিনি তৎকালীন প্রখ্যাত দিব্যজ্ঞান বা এলমে তাসাউফ ধারী বুযুর্গ কামেল হযরত শায়েখ আবু আলী ফারমেদী (রঃ) এর হস্তে বাইয়াত হয়ে দিব্য জ্ঞান আহরন করতে থাকেন।

 

IDC Partner

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর সামাজিক জীবন সংস্কারমূলক কাজঃ

 

গ্রিক দর্শন গভীরভাবে অধ্যায়ন করার পর তিনি তার সমালোচানা করেন এবং জবরদস্ত সমালোচানা করেন যে, তার যে শ্রেষ্ঠত্ব ও শক্তিমত্তা মুসলমানদেরকে আচ্ছন্ন করে ফেলেছিল, তা হ্রাসপ্রাপ্ত হয় এবং লোকেরা যে সমস্ত মতবাদকে চরম সত্য বলে মেনে নিয়েছিল, কোরআন ও হাদীসের শিক্ষাসমূহকে যার ফলে ছাঁচে ঢালাই করা ছাড়া দ্বীনের উদ্ধারের আর কোন উপায় পরিদৃষ্ট হচ্ছিল না, তার আসল চেহারা অনেকাংশে জনগণের সম্মুখে উম্মক্ত হয়ে যায়। ইমামের এই সমালোচানার প্রভাব শুধু মুসলমান দেশসমূহেই সীমাদ্ধ থাকেনি বরং ইউরোপে উপনীত হয় এবং সেখানে গ্রিক দর্শনের কর্তৃত্ব খতম করার এবং আধুনিক সমালোচনা ও গবেষণা যুগের দ্বারোদঘাটন করার ব্যাপারে অংশগ্রহণ করে।

ন্যায় শাস্ত্র গভীর জ্ঞান না রাখার কারণে ইসলামের সমর্থকগণ দার্শনিক ও মুতাকাল্লিমদের মোকাবিলায় যেসব ভুল করছিল তিনি সেগুলো সংশোধন করেন। পরবর্তীকালে ইউরোপের পাদ্রিরা যে ভুল করেছিল ইসলামের এই সমর্থকরা ঠিক সেই পর্যায়ে ভুল করে চলছিল। অর্থাৎ ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাসের যুক্তি প্রমাণকে কতক সুস্পষ্ট অযৌক্তিক বিষয়াবলীর ওপর নির্ভরশীল মনে করে অযথা সেগুলোকে মূলনীতি হিসেবে গণ্য করা,অতঃপর ঐ মনগড়া মূলনীতিগুলোকেও ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাসের মধ্যে শামিল করে যারা সেগুলো অস্বীকার করে তাদেরকে কাফের গণ্য করা আর যে সমস্ত দলিল প্রমাণ অভিজ্ঞতা বা পর্যবেক্ষণের সাহায্যে মনগড়া ঐ নীতিগুলোর গলদ প্রমাণিত হয়, সেগুলোকে ধর্মের জন্যে বিপদস্বরুপ মনে করা। এ জিনিসটিই ইউরোপকে নাস্তিক্যবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে। মুসলিম দেশ সমুহে এ জিনিসটিই বিপুল বিক্রমে কাজ করে যাচ্ছিল এবং জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস সৃষ্টি করছিল। কিন্তু Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) যথাসময়ে এর সংশোধন করেন। তিনি মুসলমানদেরকে জানান যে, অযৌক্তিক বিষয়সমুহের ওপর তোমাদের ধর্মীয় আকিদা-বিশ্বাসের প্রমাণ নির্ভরশীল নয় বরং এর পেছনে উপযুক্ত প্রমাণ আছে। কাজেই ঐ গুলোর ওপর জোর দেয়া অর্থহীন।

তিনি ইসলামের আকিদা-বিশ্বাস ও মুলনীতিসমূহের এমন যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা পেশ করেন যে, তার বিরুদ্ধে কমপক্ষে সে যুগে এবং তার পরবর্তী কয়েক যুগ পর্যন্ত ন্যায়শাস্ত্র ভিত্তিক কোনো কোনো প্রকার আপত্তি উত্থাপিত হতে পারতো না। এই সংগে তিনি শরিয়তের নির্দেশাবলী এবং ইবাদতের গূঢ় রহস্য ও যৌক্তিকতাও বর্ণনা করেন এবং এমন একটি চিত্র পেশ করেন যার ফলে ইসলাম যুক্তি ও বুদ্ধির পরীক্ষার বোঝা বহন করতে পারবে না বলে যে ভুল ধারণা মানুষের মনে স্থানলাভ করেছিল, তা বিদূরিত হয়।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) সমকালীন সকল মযহাবী ফেরকা এবং তাদের মতবিরোধ পূর্ণরূপে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করে ইসলাম ও কুফরের পৃথক পৃথক সীমারেখা নির্ধারণ করেন এবং কোন সীমারেখার মধ্যে মানুষের জন্যে মত প্রকাশ ও ব্যাখ্যা করার স্বাধীনতা আছে, কোন সীমারেখা অতিক্রম করার অর্থ ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়া ইসলামের আসল আকিদা বিশ্বাস কি কি এবং কোন কোন জিনিসকে অনর্থন ইসলামী আকিদার মধ্যে শামিল করা হয়েছে তা বিবৃত করেন। তার এই পর্যালোচনার ফলে পরস্পর বিবদমান ও পরস্পর কাফের আখ্যাদানকারী ফেরকাসমুগের সুড়ঙ্গের মধ্য হতে অনেক বারুদ বের হয়ে যায় এবং মুসলমানদের দৃষ্টিভঙ্গীতে ব্যাপকতা সৃষ্টি হয়।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) দ্বীনের জ্ঞানকে সঞ্জীবিত ও সতেজ করেন। চেতনাবিহীন ধার্মিকতাকে অর্থহীন গণ্য করেন। অন্ধ অণুসৃতির কঠোর বিরোধাতা করেন। জনগণকে পুনর্বার খোদার কিতাব ও রসূলের সুন্নতের উৎস ধারার দিকে আকৃষ্ট করেন। ইজতিহাদের প্রাণশক্তিকে সঞ্জীবিত করার চেষ্টা করেন এবং নিজের যুগের প্রায় প্রত্যেকটি দলের ভ্রান্তি ও দূর্বলতার সমালোচনা করে তাদেরকে ব্যাপকভাবে সংশোধনের আহবান জানান।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) পুরাতন জরাজীর্ন শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন এবং একটি নয়া শিক্ষা ব্যবস্থার পরিকল্পনা পেশ করেন। সে সময় পর্যন্ত মুসলমানদের মধ্যে যে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন ছিল, তার মধ্যে দুই ধরনের ত্রুটি পরিলক্ষিত হচ্ছিল। প্রথমটি হলো এই যে, দ্বীন ও দুনিয়ার শিক্ষাব্যস্থা পৃথক ছিল। এর ফলস্বরূপ দ্বীন ও দুনিয়ার মধ্যে পৃথকীকরণ দেখা দেয়। ইসলাম এটিকে মূলতঃভ্রান্ত মনে করে। দ্বিতীয়টি এই যে, শরিয়তের জ্ঞান হিসাবে এমন অনেক বিষয় পাঠ্য তালিকাভুক্ত ছিল, যা শরিয়তের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না। এর ফলে দ্বীন সম্পর্কে জনগনের ধারণা ভ্রান্তিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় এবং কতিপয় অপ্রয়োজনীয় বিষয় গুরুত্ব অর্জন করার কারণে ফিরকাগত বিরোধ শুরু হয়। Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এই গলদগুলো দূর করে একটি সুসামঞ্জস্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন। তার সমকালীন লোকেরা তার এই মহান কর্মকাণ্ডের ঘোর বিরোধিতা করে। কিন্তু অবশেষে সকল মুসলিম দেশে এ নীতি স্বীকৃতি লাভ করে এবংপরবর্তীকালে যতগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় তার সবগুলোই ইমাম নির্ধারিত পথেই প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানকাল পর্যন্ত আরবি মাদ্রাসাসমুহের কারীকুলামে যে সমস্ত বই শামিল আছে, তার প্রাথমিক নকসা Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) তৈরি করেন।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) জনসাধারণের নৈতিক চরিত্র পূর্ণরূপে পর্যালোচনা করেন। উলামা, মাশায়েখ, আমির-ওমরাহ, বাদশাহ ও জনসাধাণের প্রত্যেকের জীবন প্রণালী অধ্যয়নের সুযোগ তিনি পান। নিজে পরিভ্রমণ করে প্রাচ্য জগতের একটি অংশের অবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। তার এহইয়া -উল-উলুম কিতাবটি এই অধ্যায়নের ফল। এ কিতাবে তিনি মুসলমানদের প্রত্যেকটি শ্রেণীর নৈতিক অবস্থার সমালোচনা করেন, প্রত্যেকটি দুষ্কৃতির মূল এবং তার মনস্তাত্ত্বিক ও তমুদ্দুনিক কারণসমুহ অনুসন্ধান করেন এবং ইসলামের নির্ভুল ও সত্যিকার নৈতিক মানদণ্ড পেশ করার চেষ্টা করেন।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) সমকালীন রাষ্ট্রব্যবস্থারও অবাধ সমালোচনা করেন সমকালীন শাসক গোষ্ঠীকেও সরাসরি সংশোধনের দিকে আকৃষ্ট করতে থাকেন এবং এই সংগে জনগণের মধ্যেও জূলুম-নির্যাতনের সম্মুখে স্বেচ্ছায় নত না হয়ে অবাধ সমালোচনা করার প্রেরণা সৃষ্টি করার প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। এহইয়া-উল-উলুম এর একস্থানে লেখেনঃ আমাদের জামানার সুলতানদের সমস্ত বা অধিকাংশ ধন-সম্পদ হারাম। আর একস্থানে লেখেন এই সুলতানদের নিজেদের চেহারা অন্যকে না দেখানো উচিত এবং অন্যদের চেহারা না দেখা উচিত। এদের জুলুমকে ঘৃণা করা এদের অস্তিত্বকে পছন্দ না করা, এদের সংগে কোন প্রকার সম্পর্ক না রাখা এবং এদের সংগে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের থেকেও দূরে অবন্থান করা প্রত্যেক ব্যক্তির জন্যে অপরিহার্য। অপর একস্থানে দরবারে প্রচলিত আদব -কায়দা ও বাদশাহ পূজার সমালোচনা করেন বাদশাহ ও আমির -ওমরাহর অণুসৃত সামাজিক রীতিনীতির নিন্দা করেন, এমনকি তাদের দালান কোঠা পোশাক-পরিচ্ছদ গৃহের সাজসরঞ্জাম সব কিছুকেই নাপাক গণ্য করেন।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) শুধু এখানেই ক্ষান্ত হননি বরং তিনি নিজের যুগের বাদশাহদের নিকট একটি বিস্তারিত পত্র লেখেন। পত্রের মাধ্যমে তাকে ইসলাম প্রবর্তিত রাষ্ট্র পদ্ধতির দিকে আহবান জানান, শাসকের দায়িত্ব বুঝান এবং তাকে জানান যে, তার দেশে যে জুলুম হচ্ছে তা তিনি নিজেই করেন বা তার অধীনস্থ কর্মচারীরা করেন, সবকিছুর জন্যে তিনিই দায়ী। একবার বাধ্য হয়ে রাজ দরবারে যেতে হয় তখন আলোচনা প্রসঙ্গে বাদশাহর মুখের ওপর বলেনঃ “স্বর্ণ অলংকারের ভারে তোমার ঘোড়ার পিঠ ভাঙেনি তো কি হয়েছে, অনাহারে -অর্ধহারে মুসলমানদের পিঠতো ভেঙে গিয়েছে”। তার শেষ যুগে যে সকল উজির নিযুক্ত হন তাদের প্রায় সবার নিকট তিনি পত্র লেখেন এবং জনগনের দুরবস্থার প্রতি তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জনৈক উজিরকে লেখেনঃ “জুলুম সীমা অতিক্রম করেছে। যেহেতু আমাকে স্বচক্ষে এসব দর্শন করতে হতো তাই নির্লজ্জ ও নির্দয় জালেমদের কীর্তিকলাপ প্রত্যক্ষ না করার জন্যে প্রায় এক বছর থেকে আমি তুসের আবাস উঠিয়ে নিয়েছি”।

ইবনে খালদুনের বর্ণনা মতে এতদূর জানা যায় যে, তিনি পৃথিবীর যে কোনো এলাকাতেই হোক না কেন নির্ভেজাল ইসলামী নীতি ও আদর্র্শের ভিত্তিতে একটি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা করতেন। কাজেই তার ইঙ্গিতেই দুর প্রতীচ্যে (আফ্রিকায়) তার জনৈক ছাত্র, মুওয়াহিদ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর কর্মকাণ্ডে এই রাজনৈতিক রূপ ও রং নেহাতই গৌণ ছিল। রাজনৈতিক বিপ্লব সাধনের জন্যে তিনি কোনো নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালাননি এবং রাষ্ট্র ব্যবস্থার ওপর সামান্যতম প্রভাব ও বিস্তার করতে সক্ষম হননি। তার পরবর্তীকালে জাহেলীয়াতের কর্তৃত্বাধীনে মুসলিম জাতিসমূহের অবস্থা উত্তরোত্তর অবনতির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এমনকি এক শতাব্দির পর তাতারীরা তুফানের ন্যায় মুসলিম দেশসমুহের ওপর দিয়ে ছুটে চলে এবং তাদের সমগ্র তমুদ্দুনকে বিধ্স্ত করে দেয়।

 

IDC Partner

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর সাফল্যঃ

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্বের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে, যথা-

১) গ্রিক দর্শনের সঙ্গে ইসলামের ঘোর মোকাবেলার দিনে তিনিই ছিলেন মুসলমানদের কর্ণধার। আর এ সংগ্রামে ইসলামী ধর্মশাস্ত্র বিজয়ী হয়ে ছিল।

২) শরিয়ত ও মারেফাতকে পরস্পরের সান্নিধ্যে এনেছিলেন। তিনি সুফিবাদের পরিপূর্ণতা দান করেন। তার অসংখ্য বাণী আমাদের মনকে নাড়া দেয়। নিম্নে কয়েকটি উল্লেখ করা হল। যথা-

ক) তিনটি বস্তু মানুষকে ধ্বংস করে দেয়- ‘লোভ, হিংসা ও অহংকার।’

খ) তিনটি অভ্যাস মানুষের জন্য সর্বমুখী কল্যাণ ডেকে আনে। আল্লাহর ইচ্ছার প্রতি সন্তুষ্ট থাকা, বিপদের সময় দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া এবং যে কোন সংকটে ধৈর্য ধারণ করা।

গ) মানবজীবনের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হচ্ছে তার ‘মন এবং জবানকে’ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে সমর্থ হওয়া।

ঘ) দুই ধরনের লোক কখনও তৃপ্ত হতে পারে না- জ্ঞানের অম্বেষী এবং সম্পদের লোভী।

ঙ) আয়নায় নিজের চেহারা দেখ, যদি সুদর্শন হও তবে পাপের কালিমা লেপন করে ওকে কুৎসিত করো না! আর যদি কালো-কুশ্রী হয়ে থাক, তবে ওকে পাপ-পঙ্কিলতা মেখে আরও বীভৎস করে তুলো না।

চ) আল্লাহর প্রত্যেকটি ফয়সালাই ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তিশীল। সুতরাং কোন অবস্থাতেই অভিযোগের ভাষা যেন তোমার মুখে উচ্চারিত না হয়।

ছ) ক্রোধ মনুষ্যত্বের আলোকশিখা নির্বাপিত করে দেয়।

জ) শক্ত কথায় রেশমের মতো নরম অন্তরও পাথরের মতো শক্ত হয়ে যায়।

ঝ) সাফল্যের অপর নামই অধ্যবসায়।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) ইসলামকে মধ্যযুগীয় অনৈসলামিক দার্শনিক চিন্তাধারার পঙ্গুকারী প্রভাব থেকে মুক্ত করে পবিত্র কোরআন-হাদিসের শিক্ষায় মুসলমানদের ফিরিয়ে আনেন। তাই তার এই অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য তাকে ‘হুজ্জাতুল ইসলাম’ বা ‘ইসলামের রক্ষক’ বলা হয়ে থাকে।

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর লেখনী ও বইঃ

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) চারশ’র ও অধিক গ্রন্থ রচনা করেন। তার অধিকাংশ বইগুলোতে ধর্মতত্ব, দর্শণ ও সুফিবাদ আলোচনা করেছেন। তার কয়েকটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থের নাম উল্লেখ করা হলঃ

০১. এহইয়া উলুমুদ্দীন

০২. তাহাফাতুল ফালাসিফা

০৩. কিমিয়ায়ে সা’আদাত

০৪. হাকিকাতুর রুহু

০৫. দাকায়েকুল আখবার

০৬. আসমাউল হুসনা

০৭. ফাতাওয়া

০৮. মিশকাতুল আনোয়ার

০৯. আসরার আল মোয়ামেলাতুদ্দিন

১০. মিআর আল ইলম

১১. মুনক্বীয

১২. মুকাশাফা’তুল কুলুব

১৩. আল ইক্বতিসাদ ফিল ই’তিক্বাদ

১৪. মিনহাজুল আবেদীন ইত্যাদি।

 

জ্ঞানের আলো বিতরনের উদ্দেশ্যে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর এ পৃথিবীতে আবির্ভাব। বিশ্বের জ্ঞান ভান্ডারে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন তা নিঃসন্ধেহে অতুলনীয়। এ মনীষি মাত্র ৫৫ বৎসরকাল জীবিত ছিলেন। শৈশব ও পাঠ্য জীবন বাদ দিলে মাত্র ৩৪/৩৫ বৎসর কর্মজীবনে তিনি প্রায় চার শত অমুল্য গ্রন্থ রচনা করেন। তার মধ্যে ”ইয়াকুতুততাবলিক” নামক তাফসীর ৫০ খন্ডে বিভক্ত এবং ”ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন” বিড়াট চার খন্ডে সমাপ্ত। প্রত্যেকটি খন্ডও আবার দশটি পৃথক বিভক্ত। ১০/১১ বৎসর তিনি আবার দেশ পর্যটন ও নির্জনবাসে অতিবাহিত করেন। তদুপরি অধ্যাপনা, অধ্যায়ন, ধ্যন-সাধনা ও এবাদৎ বন্দাগীতেও কিছু সময় ব্যয় হতো। তার দরবারে শিক্ষার্থী ও দীক্ষা প্রার্থীদের সংখ্যা কোন দিনই দেড়শত এর কম হতো না। তাছারাও দুরদুরান্ত হতে নানা জটিল বিষয়ে ফতোয়ার জন্য অনেকলোক তার দরবারে আগমন করতো এবং ওয়াজনসিহত ও বিতর্কসভাও তাকে করতে হতো। তাতেও তার কম সময় ব্যয় হতো না। এতসব কর্মব্যস্ততার মধ্যেও তিনি এত গুলি গ্রন্থ রচনা করে তিনি অসাধারন প্রতিভারই পরিচয় দিয়েছেন।

ফিকাহ শাস্ত্রের মুলনীতিঃ

তাহসিনুল মাখাজ, সিফাউল আলীল, মুন্তাখাল ফি ইলমিল জিদল, মনখুল, মুসতাসফা, মাখায় ফিল খিলাফিয়াত, মোফাসসালুল খিলফি ফি উসুলিল কিয়াস।
মানতিকঃ মিয়ারুল ইলম, মীযানুল, আ’মল (ইউরোপে প্রাপ্তব্য)

দর্শন- মাকাসিদুল ফালাসিফাহ, তাহাফুতুল ফালাসিফাহ (ইউরোপে সংরক্ষিত)।

ইলমি কালাম- আহাতাফুল ফালাসিফাহ, মুনকিয ,ইলজামুল আওয়াম ইকতিসাদু,মসতাযহারী ফাযাইহুল ইবাহিয়্যাহ হাকিকাতুর রুহ,কিসতাসুল মুসতাকিম,কাওলুল জমিল ফি রাদ্দিন আলামান গায়্যারাল ইন্জিল, মাওয়াহিবুল বাতিনিয়্যাহ, তাফাররাকাতুম বায়নাল ইসলামি ওয়াল জিন্দিকাহ, আর রিসাতুল কুদসিয়াহ।

আধ্যাত্নিক ও নৈতিক বিষয়- ইয়াহইয়াওমুল উলুম, কিমিয়ায়ে সাআদাত, আল মাকসুদুল আকসা,আখলাকুল আবরার,জওয়াহিরুল কুরআন, জওয়াহিরুলকুদসি ফী হাকীকাতিন্নাফস, মিশকাতুল আনওয়ার, মিনহাজুল আবেদীন, মিরাজুস সালিকীন, নাসীহাতুল মূলক, আয়্যুহাল ওলাদ, হিদায়াতুল হিদায়াহ,মিশকাতুল আনওয়ার ,ফী লাতাইফিল আখয়ার।
নিশাপুর অবস্হানকালে ,ইমাম গাজ্জালী র: গ্রন্হাদি রচনা শুরু করেন। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশের যে জড়বাদ বিশেষত গ্রীক দার্শনিকদের ভ্রান্ত মতবাদ মুসলমানদের ধর্ম-বিশ্বাসে প্রবেশ করেছিল। এ সময়েই তিনি অতিসুন্দর ও সুক্ষ যুক্তিপুর্ন বিচারে ‘মনখুল’(চালনি দ্বারা চালা) নামক গ্রন্হ রচনা করে এইসব দোস ত্রুটির মুলুৎপাটন করার প্রয়াস পান।প্রথম জীবনের লেখা হলেও ইহা সুধী উচ্চপ্রশংসা অর্জন করে। এমনকি তাহার উস্তাদ হযরত ইমানুল হারামাইন স্বয়ং এই গ্রন্হ পাঠে মন্তব্য করেন  “জীবতাবস্থায়ই তুমি সমাধিস্ত করিলে। ” অর্থাৎ ছাত্রের খ্যাতি উস্তাদের জীবদ্দশায়ই তার খ্যাতিকে অতিক্রম করে গেল।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর রচিত ”ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন” গ্রন্হখানি ইসলাম জগতে বিশেষ সমাদৃত। সুধীগন ইহার উচ্চ প্রশংসা করেছেন। এ সম্পর্কে শীর্ষস্থানীয় কতিপয় মনীষীর উক্তি হল, ”জগতের সমস্ত জ্ঞান প্রদীপ নির্বাপিত করে দিলে কেবল ”ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন” দ্বারাই উহা পুনরুদ্ধার করা যাবে। “ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন” এর পুর্ব এরুপ গ্রন্হ জগতে আর লিখিত হয়নি।” ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন” কোরান শরীফের নিকটবর্তী গ্রন্থ।”জগদ্বিখ্যাত সিদ্ধপুরুষ Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) একদা এক বিরাট জনতাকে সম্বোধন করে বললেন : আমার হাতে কোন গ্রন্থ তোমরা জান কি? ইহা ”ইয়াহইয়উল উলুমুদ্দীন”। গ্রন্থখানিকে অবজ্ঞা করার কারনে আমার বিরুদ্ধে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে অভিযোগ করা হয়। স্বপ্নযোগে দেখলাম,বিচারে আমার পৃষ্ঠে চাবুক মারা হয়েছে। এই দেখ,আমার পৃষ্ঠে চাবুকের চিহ্ন বিদ্যমান ।

তাঁর রচিত ‘মাকাসিদুল-ফালাসিফা’, ‘তাহাফুতুল-ফালাসিফা’ প্রভৃতি দর্শন শাস্ত্রের কিতাব সমগ্র ইউরোপে সমাদৃত হয়েছে এবং ইংরেজি,ফারসী,ল্যাটিন,হিব্রু ইত্যাদি ভাষায় এগুলোর অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই সকল গ্রন্থ ইউরোপীয় বহু বক্রপন্থী পন্ডিতের জ্ঞানচক্ষু প্রস্ফুটিত করে দিয়েছে।জনৈক ইউরোপীয় পন্ডিত বলেছেন, Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) ও ইবনে রুশদের জন্ম না হলে মোসলমানগন নিউটন ও এরিষ্টটলের জাতি হয়েই থাকতো। বস্তুত পাশ্চাত্যের জড়বাদী ভ্রান্ত দার্শনিক মতবাদের মোকাবিলায় খটি দর্শনকে বলিষ্ঠ যুক্তিতে প্রকাশ করে ইমাম গাজ্জালী র: বিশ্ব মানবের মুল্যবোধ ও চিন্তাধারায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনয়ন করেন। বিশেষত আধ্যাতিক জ্ঞান ও চিন্তাধারাকে সঠিক পথের সন্দ্ধান দিয়ে তি মানব ইতিহাসে অমর হয়ে রয়েছেন।
মুসলিম বিশ্ব অপেক্ষা খৃষ্টান ইউরোপেই Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর গ্রন্থাবলী সমাদৃত বেশি। প্রখ্যত কবি দান্তে,মনিষী রেমন্ড মার্টিন,মনীষী সেন্ট টমাস একুইনাস,প্রখ্যাত ফরাসি মিসটিক ব্লেইসি প্যাসকেল Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর গ্রন্হরাজি হতেই তাদএর যুক্তি ও উদাহরন গ্রহন করেন এবং তার মতামতকেই প্রামান্য বলেই উল্লেখ করেন। তার ৪০ টি গ্রন্হ ইউরোপের বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত ও প্রকাশিত হয়।

”কিমিয়ায়া সাদাত” Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর অপর একখানি অত্যন্ত জনপ্রিয় গ্রন্থ। দুনিয়ার প্রায় সকল ভাষায় এই মুল্যবান গ্রন্থের অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে। বার্ন শহরে লেটিন ভাষায় ইহা সর্বপ্রথম অনুদিত হয় এবং অধ্যাপক হিথজীন ইহার কঠিন শব্দসমুহের ভাষ্য রচনা করেন।

আল্লামা নববী বলেন , Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর সম্পুর্ন আয়ুষ্কাল (জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত) ও তার রচিত গ্রন্থাবলীর হিসাব আন্তে আমি গড় করে দেখেছি, তিনি গড়ে প্রত্যেকদিন ১৬ পৃষ্ঠা লিখেছেন।
দর্শন,তর্ক,ইলমে কালাম, ধর্মতত্ব,মনস্তত্ত্ব,স্বভাব-বিজ্ঞান,নীতি-বিজ্ঞান, আধ্যাতিক তত্ত্ব প্রভৃতি বিষয়ে তিনি গ্রন্থ রচনা করেন।

বিদায়াহ ওয়া হিদায়াহ, হচ্ছে হযরত ইবনে কাছির রহমতুল্লাহি আলাইহি কর্তৃক প্রনীত। বিদায়াহ ওয়া হিদায়াহ Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর নয়।

IDC Partner

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) কর্ম জিবনঃ

 

মাদ্রাসার নিযামিয়ার অধ্যক্ষ পদে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ)

বাগদাদে তখন তুর্কিরাজ মালেক শাহের আধিপত্য ছিল । তাহার প্রধানমনত্রী হাসান বিন আলী নিযামুল মুলক একজন অসাধারন পন্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি ছিলেন । তার নামানুসারেই বাগদাদের বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ‘মাদরাসায়ে নিযামিয়া’ এবং উহার পাঠ্যতালিকা ‘দরসে নিযামী’ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করে। তিনি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) কে মাদরাসার অধ্যক্ষ পদে নিযুক্ত করেন। তখন তার বয়স মাত্র ৩৪ বছর। এত অল্প বয়সেও তিনি অধ্যাপনা ও পরিচালনা কার্যে নিতান্ত দক্ষতা ও নিপুনতার পরিচয় প্রদান করেন। স্বয়ং বাদশাহ ও রাজপুরুষগণও রাজকার্যের জটিল সমস্যাসমূহে তার পরামর্শ গ্রহণ করতেন। এ সময় তার নাম দুনিয়ার সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন দেশ হতে শত শত ছাত্র তার শিষ্যত্ব গ্রহণের জন্য ছুটে আসেন। মাদ্রাসা নিযামিয়ার খ্যাতিও অত্যন্ত বৃদ্ধি পায়। অধ্যাপনার সাথে সাথে তিনি নানা জটিল বিষয়ে গবেষণাও করতে থাকেন। এরুপে তিনি অপরিসীম জ্ঞানের অধিকারী হন।

মাদ্রাসা নিযামিয়া পরিত্যাগঃ

প্রভূত যশ ও যোগ্যতার সাথে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) চার বৎসরকাল মাদ্রাসা নিযামিয়াতে কাজ করেন। নানা জটিল বিষয়াদির চমৎকার ব্যাখ্যা শ্রবণ এবং তার জ্ঞাণের গভীরতা উপলব্ধি করে তার ছাত্রগণ একেবারে বিস্মিত হয়ে পড়ত। এখানে অবস্থানকালে তিনি দর্শন ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের গ্রন্থরাজি অধ্যয়ন সমাপ্ত করেন। তথাপি তার মন পরিতৃপ্ত হল না। কিসের অভাবে যেন তার মন আনচান করতে লাগলো। অজানাকে জানার এবং অদেখাকে দেখার জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে উঠলো। যাবতীয় কর্মের প্রতি তার মন বিতৃষ্ণ হয়ে উঠলো। তনি বুঝলেন যে, কেবল পুথিগত জ্ঞান দ্বারা বিশেষ কোন কাজ হয় না। বিশুদ্ধ জ্ঞানের সাথে সাথে একাগ্র সাধণা ও রিয়াযত আবশ্যক।

এ সম্পর্কে তিনি নিজে বলেনঃ ”মানুষের সদ্‌গুনরাজির বিকাসের জন্য অক্লান্ত সাধনা ও একনিষ্ঠ সংযমের একান্ত আবশ্যক।” এই উপলব্ধির পর স্বীয় স্বভাব ও কর্মের প্রতি মনোনিবেশপূর্বক দেখলাম, আমার কোন কাজই এই নীতির অনুরুপ না, যার দ্বারা আমার স্বভাব,আত্না ও মানবতার উন্নতি সাধন হতে পারে। আমি আরও বুঝতে পারলাম যে,আমি প্রবৃত্তির বশবর্তি হয়ে কাজ করছি এবং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি বিধানের জন্য আমার কোন কাজ হচ্ছে না। তবে আল্লাহর সন্তোষ লাভের নিমিত্ত লোকালয়ে অবস্থান করেই দুনিয়ার সকল মোহ বর্জন করতে হবে। এইরুপ চিন্তা করতে করতে যাবতীয় কর্মের প্রতি আমার বিতৃষ্ণা ও বইরাগ্যভাব জন্ম নিতে লাগলো। মাদ্রাসার অধ্যাপনা ও পরিচালনার কাজেও শৈথিল্য দেখা দিল , মৌনাবলম্বনের স্পৃহা বৃদ্ধি পেল; হযম শক্তি কমতে লাগলো এবং ঔষধেও অশ্রদ্ধা জন্ম নিল। চিকিৎসকগন বললেন,” এমতাবস্থায় কোন ওষুধই ফলপ্রদ হবে না।” দেশ ভ্রমনে বাহির হওয়ার মনস্থ করলাম। দেশের আমীর-উমরাহ,আলিম-উলামা, সুধীমন্ডলী এবং রাজপুরুষগণ এই সংকল্প পরিত্যাগের জন্য আমাকে অনুরোধ করতে লগলেন। কিন্তু আমি মনকে বশে আনতে পারলাম না। পরিশেষে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করে হিজরী ৪৮৮ সনের যিলক্বাদ মাসে আমি গোপনে সিরিয়া অভিমুখে রওয়ানা হলাম।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এক অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে জন্ম গ্রহন করেছিলেন। জাগতিক জ্ঞান তার মনের তীব্র পিপাসা মিটাতে পারেনি। তাই তিনি এবার আধ্যাতিক জ্ঞানের অন্যেষনে বেড়িয়ে পড়লেন। শৈশব থেকেই তার ধর্মের প্রতি অনুরাগ ও জ্ঞান পিপাসা ছিল অত্যন্ত প্রবল। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সকল দার্শনিকদের মতবাদও তিনি অত্যন্ত মনোযোগের সাথে অধ্যয়ন করেন। কিন্তু উহাতেও তার মনের কোন খোরাক মিটলো না। তাই এক অজ্ঞাত রহস্যের সন্ধানে সংসারবিরআগী সুফী-দরবেশের বেশে জীবনের দশটি বৎসর নানা দেশ পর্যটনে তিনি অতিবাহিত করেন। এই পথেই তিনি তার জীবনের চির আকাঙ্খিত রহস্যের সন্ধান খুজে পান। তার মন চিররহস্যময় আল্লাহর স্বরূপ উদঘাটনে সমর্থ হয় এবং তার অন্তরের পিপাসা নিবারিত হয়।

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মুসলিম দার্শনিক ও আলেমে দ্বীন Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) জীবনের প্রথম দিকে ছিলেন শাসন কর্তৃপক্ষের নৈকট্যপ্রাপ্ত একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। অন্যান্য আমীর ওমরাহগনের মতই তারও জীবনযাত্রা ছিল বর্নাঢ্য। কিন্তু ভোগ বিলাসপুর্ন জীবনযাত্রার মধ্যেও তার ভেতরে লুকিয়ে ছিল মুমিনসুলভ একটি সংবেদনশীল মন,যা সমকালীন মুসলিম জনগনের ব্যাপক স্খলন-পতন লক্ষ্য করে নীরবে অশ্রুবর্ষন করতো। ইহুদী-নাসারাদের ভোগ সর্বস্ব জীবনযাত্রার প্রভাবে মারাত্নকভাবে আক্রান্ত মুসলিম জনগনকে ইসলামের সহজ সরল জীবন ধারায় কি করে ফিরিয়ে আনা যায়, এ সম্পর্কে তিনি গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করতেন। কোন কোন সময় এ চিন্তাভাবনা তাকে আত্নহারা করে ফেলতো। ভাবনা চিন্তার এক প্রর্যায়ে এ সত্য তার দৃষ্টিতে উদ্ভাসিত হয়ে উঠলো যে ,বর্তমানে মৃতকল্প মুসলিম জাতিকে নবজীবনে উজ্জীবিত করে তোলা একমাত্র দ্বীনের স্বচ্ছ আবে হায়াত পরিবেশনের মাধ্যমেই সম্ভব। আর তা বিলাশপুর্ন জীবনের অর্গলে নিজেকে আবদ্ধ করে রেখে হাতে পাওয়া সম্ভব নয়। এ উপলব্ধিতাড়িত হয়েই Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) একদিন পরিবার পরিজন এবং ঘর-সংসার ত্যগ করে নিরুদ্দেশের পথে বের হয়ে পড়লেন। একদা বহুমুল্যবান পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান করা ছিল যার সর্বক্ষনের অভ্যাস, সেই ব্যক্তিই মোটা চট-বস্রে আভ্রু ঢেকে দিনের পর দিন নানা স্থানে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর এ কৃচ্ছতাপুর্ন তাপস জীবনেরই সর্বাপেক্ষা মুল্যবান ফসল ‘এহইয়াও উলুমুদ্দীন” বা দ্বীনী এলেমের সন্জিবনী সুধা। এই মহা গ্রন্থের প্রভাবেই হিজরী ৬ষ্ঠ শতকের সুচনাকালে ইসলামের ইতিহাসে একটা উল্লেখযোগ্য পটপরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। নুরুদ্দীন জঙ্গী, সালাহউদ্দীন আইয়ুবী প্রমুখ ইসলামের বহু বীর সন্তান -যাদের নিয়ে মুসলিম উম্মাহ গর্ব করে থাকে, এরা সবাই ছিলেন Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর ভাবশীষ্য,’এহইয়াও উলুমুদ্দীন” এর ভক্ত পাঠক।
,মাদ্রাসা নিযামিয়াতে অবস্থান কালে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) মুল্যবান পোশাক পরিচ্ছদ পরিধান করতেন। কিন্তু দেশ পর্যটনের সময় তিনি নিতান্ত সাধারন পোশাকে ও একটি মোটা কম্বল সম্বল করে বের হন। কিন্তু এতেও তাকে খুব উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। সিরিয়ার পথে তিনি কিছুকাল দামেশক নগরে উমায়্যা জামে মসজিদে অবস্থান করেন। তৎকলে এই মসজিদের পার্শ্বে একটি বিড়াট মাদ্রাসা ছিল। Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এই মসজিদের পশ্চিম পার্শ্বস্হ মিনারের এক প্রকোষ্ঠে স্বীয় বাসস্থান নির্ধারন করেন এবং অধিকাংশ সময়ই ইহাতে মুরাকাবা -মোশাহাদায় নিমগ্ন থাকতেন। অবসর সময়ে তিনি কিছুসংখ্যক অতি আগ্রহী শিক্ষার্থীকে শিক্ষাদান করতেন এবং সময় সময় আলিমগনের সাথে জটিল বিষয়াদি সম্পর্কে আলোচনা করতেন।

বায়তুল মাকদাস গমন ও নির্জনবাস অবলম্বনঃ 

দুই বৎসর দামেশক নগরে অবস্থানের পরে তিনি বায়তুল মাকদাসে গমন করেন। তথায় তিনি ‘সাখরাতুসসাম্মা নামক বিখ্যাত প্রস্তরের নিকটবর্তী এক নির্জন প্রকোষ্টে অবস্থান করতে থাকেন। তিনি এতে সর্বদা জিকির আজকারে মশগূল থাকতেন এবং সময় সময় নিকটবর্তী পবিত্র মাজার সমুহ যিয়ারত করতেন।

মাকামে খলীলে তিনটি প্রতিজ্ঞাঃ

বয়তুল মাকদাসের যিয়ারত শেষ করে ‘মাকামে খলীল’ নামক স্থানে হযরত ইব্রাহিম আ: মাযার শরীফ যিয়ারত করেন। সেখানে তিনি তিনটি প্রতিজ্ঞা করেন-
১) কখনও কোন রাজ দরবারে যাব না।
২) কোন বাদশাহর কোন দান বা বৃত্তি গ্রহন করবো না।
৩) কাহারও সঙ্গে বিতর্কে প্রবৃত্ত হব না।
বায়তুল মাকদাসে অবস্থান কালে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) অনেক সময় বায়তুল আকসায় আল্লাহর ইবাদত ও ধ্যানে মগ্ন থাকতেন।

মদিনা শরীফ জিয়ারতঃ 

বায়তুল মাকদাস থেকে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) মদীনা শরীফ গমন করে রাসুলুল্লাহ সা: এর রওজা মোবারক জিয়ারত করেন এবং সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন।

হজ্ব সমাপন ও দেশ ভ্রমনঃ

মদীনা শরীফ হতে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) মক্কা শরীফ গমন করে তিনি হজ্ব সমাপন করেন। এখানেও তিনি ধীর্ঘকাল অবস্থান করেন। মক্কা মদীনায় অবস্থানকালে তিনি দুনীয়ার বিভিন্ন দেশের বহু বুজুর্গের সহিত সাক্ষাৎ ও আলাপ আলোচনা করেন।
অতপর সেখান থেকে তিনি বিশ্ববিখ্যাত আলেকজান্দ্রিয়া গমন করেন। সেখানে কিছুকাল অবস্থানের পর দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। ফেরার পথে তিনি আবার পবিত্র মক্কা-মদীনা যিয়ারত করেন।
বাগদাদ হতে বের হয়ে দীর্ঘ দশ এগার বৎসরকাল তিনি বহু বন-জঙ্গল, জনপথ ও মরুপ্রান্তর পরিভ্রমন করেন। বলাই বাহুল্য তৎকালে যাতায়াতের জন্য বাহন পশু ব্যতীত অন্য কোন উপায় ছিল না। কিন্তু এত কষ্টকর ভ্রমনেও তার ইবাদত-বন্দেগী, রিয়াযত ও মোঝাহাদায় কোন প্রকার ত্রুটি বিচ্যুতি হয়নি। ফলে তার অন্তর-আত্না নির্মল ও পবিত্র হয়ে পড়ে এবং দিব্যজ্ঞানের
পথে সমস্ত পর্দা একেবারে অপসারিত হয়ে পড়ে।

পুনরায় মাদ্রাসা নিযামিয়ায় অধ্যক্ষ পদে যোগদানঃ 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) উপলব্ধি করেন যে , সমগ্র দুনিয়া ধর্মের দিক হতে মোড় ঘুরিয়ে নিচ্ছে এবং মুসলমানগন ধর্ম কর্মে দিন দিন শিথিল হয়ে পড়ছে। জড়বাদী দর্শন -বিজ্ঞান এর ঝড়-ঝন্জার সংঘাতে ধর্মের সুত্র ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ছে। এজন্য নির্জন বাস পরিত্যগ করে ধর্ম প্রচারে আত্ননিয়োগের মনস্হ করেন। বাগদাদ অধিপতি সুলতান মালেক শাহের পুত্র সুলতান সালজানর সালজুকীর প্রধান মন্ত্রী ফখরুল মুলক (ভুত পুর্ব প্রধান মন্ত্রী নিজামুল মুলকের জৈষ্ঠপুত্র) এই সময় আবার Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) কে মাদ্রাসা নিযামিয়ার অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তার বন্ধুবান্ধবগনও তাকে  ইসলামী শিক্ষা প্রসারে আ্তবনিয়োগ করার অনোরোধ জানাতে থাকেন। এতদব্যতিত স্বপ্নযোগেও বহু পবিত্র আত্নার পরামর্শও আসতে থাকে। সুতরাং দেশে প্র‌ত্যাবর্তন করত হিজরি ৪৯৯ সালের যিলকাদ মাসে পুনরায় তিনি মাদ্রাসা নিযামিয়ায় অধ্যক্ষ পদে যোগদান করে যথারীতি ধর্মশিক্ষায় আত্ননিয়োগ করেন। তিনি অতিউৎসাহের সাথে তার এই কার্জ চালিয়ে যেতে লাগলেন।

মাদ্রাসা নিযামিয়া পরিত্যাগ

হিজরী ৫০০ সালের মহররম মাসে প্রধান মন্ত্রী ফখরুল মুলক এক দুরাচার গুপ্তঘাতকের হাতে নিহত হন। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার অনতিকাল পরেই Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) মাদ্রাসা নিযামিয়া পরিত্যগ করেন এবং স্বীয় বাসভবনের অনতিদুরে একটি খানকা প্রতষ্ঠা করে ইলমীদ্বীনের শিক্ষার্থী ও আল্লাহর পথের পথিকদেরকে শিক্ষা দিতে থাকেন। বাকী জীবন তিনি এই স্থানে এই কার্জেই নিয়োজিত ছিলেন।

হিংসার কোপে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ)

মাদ্রাসা নিযামিয়ার অধ্যক্ষপদ পুন:গ্রহনের জন্য বাগদাদাধিপতি সুলতান সানজার সুলজুকী Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) কে বারবার অনুরোধ করতে থাকেন। কিন্তু এতে তিনি রাজী হননি। এই সুযোগে হিংসাপরায়ন কিছু লোক তার বিরুদ্ধে সুলতানকে উত্তেজিত করার প্রয়াস পায় । সুলতান হানাফী মাযহাবালম্বী ছিলেন। তারা তার কাছে অভিযোগ করলো যে,’মন্‌খুল’ কিতাবে Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) হযরত আবূ হানীফাক (রঃ)-কে তীব্রভাবে আক্রমন করেছেন। এতে ইমাম সাহেবের প্রতি সুলতানের আসন্তোষের উদ্রেক হয়। রাজ দরবারে হাযির হওয়ার জন্য Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর  উপর নির্দেশ দেওয়া হয়। তদনুযায়ি তিনি দরবারে উপস্থিত হলে সুলতান দন্ডায়মান হয়ে তাকে আলিঙ্গন করেন এবং তাকে সিংহাসনে বসান । হযরত ইমাম আবূ হানীফা(র:)-র বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন: ”ইহা সত্য নহে। তাহার সম্বন্ধে আমার সেই বিশ্বাসই বলবৎ আছে, যা আমি ‘ইয়াহইয়াউল উলূম’ কিতাবে প্রকাশ করেছি । তাকে আমি ফিকাহশাস্ত্র যুগস্রষ্টা ইমাম বলে স্বীকার করি ।” এতে সুলতানের ধারনা সম্পূর্নরুপে পরিবর্তিত হলো ।

নিযামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ পদ পুন:গ্রহনের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান :-

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) মাদ্রাসা নিযামিয়া পরিত্যাগ করার পর এর যশ হ্রাস পায়। তা পুনরুদ্ধারের জন্য আমীর-উমরাহ ও রাজপুরুষগন নানা উপায়ে তাকে এর অধ্যক্ষ পদে পুন:অধিষ্ঠিত করার চেষ্টা করতে থাকেন । সালজুকী সুলতান এবং খলীফার দরবার হতেও তার কাছে বারবার অনুরোধপত্র আসতে থাকে। কিন্তু নিম্নলিখিত কারনে তিনি তা গ্রহনে অসন্মতি জানান:-

১) তুসনগরে বর্তমানে আমার কাছে দেড়শত ছাত্র অধ্যয়নরত আছে। আমি বাগদাদে চলে গেলে তাদের পক্ষে সেখানে যাওয়া দু:সাধ্য হবে।
২) পূর্বে আমার কোন সন্তান ছিল না । কিন্তু এখন আল্লাহ তা’আলা কয়েকটি সন্তান দান করেছেন । তাদেরকে ছেড়ে বাগদাদে যাওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় ।
৩) মাকামে খলিলে প্রতিজ্ঞা করেছি যে, ভবিষ্যতে আর কোন বিতর্কে প্রবৃত্ত হব না । কিন্তু বাগদাদে ইহা হতে
অব্যাহতির উপায় নেই ।
৪) খলিফার সন্মানার্থে তার দরবারে উপস্থিত হতে হবে । আমার এটা বরদাস্ত হবে না ।
৫) রাজদরবার হতে কোন বেতন বা বৃত্তি গ্রহন করবোনা বলে প্রতিজ্ঞা করেছি । বাগদাদে আমার কোন সমপত্তি নেই। সুতরাং, কিভাবে আমি বাগদাদে অবস্থান করবো ?

মোটকথা সর্বপ্রকার অনুরোধ সত্তেও তিনি উক্ত অধ্যক্ষ পদ গ্রহণে আর সন্মত হননি । জীবনের অবশিষ্ট সময় তিনি তুস নগরেই অতিবাহিত করেন।

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) জীবন দর্শণঃ

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) ছিলেন মুসলিম বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দার্শনিক। তার চিন্তাধারাকে মুসলিম ধর্মতত্ত্বের বিবর্তন বলে ধরা হয়। ফালাসিফা বা দার্শনিকদের বিরুদ্ধে তিনি বলেন- দার্শনিক মতবাদ কখনও ধর্মীয় চিন্তার ভিত্তি হতে পারে না। প্রয়োজনীয় সত্য সম্পর্কে শুধু ওহির জ্ঞান পাওয়া সম্ভব। তিনি সমকালীন দার্শনিকদের দর্শন-চিন্তার অপূর্ণতা দেখতে পান এবং তাদের সমালোচনা করেন। তাহাফাতুল ফালাসিফা গ্রন্থে তিনি দার্শনিকদের চিন্তার শূন্যতা প্রমাণ করেন।

 

Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) এর ওফাতঃ

সোমবার মাহে জামাদাল উখরা, হিজরী ৫০৫ সাল মোতাবেক ১৯ শে ডিসেম্বর ১১১১ খ্রীষ্টাব্দ। ফজরের নামাজ সমাপনান্তে সমগ্র বিশ্বের বিশ্বয়কর প্রতিভা, যুক্তি ও যুক্তিবাদী অপ্রতিদন্দ্বী দার্শনিক, বিশ্ব মানবতার দিশারী, সুফীকুল শিরমনি হুজ্জাতুল ইসলাম Imam Gazzali – ইমাম গাজ্জালী (রঃ) মাত্র ৫৫ বৎসর বয়সে দুনিয়াবাসীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে পরমকরুনাময় আল্লাহ তাআলার সান্নিধ্যে হাজির হন। সম্পুর্ন সুস্থদেহেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তাহার তিরোধান সম্পর্কে তার ভ্রাতা হযরত ইমাম আহমদ র: বলেন, সোমবার দিন অতিপ্রত্যুষে শয্যাত্যাগ করে তিনি স্বভাবসিদ্ধ অভ্যাস অনুসারে অজু করে ফজরের নামাজ আদায় করেন। তৎপর পুর্বপ্রস্তুত করা তার কাফনটি চেয়ে নেন এবং তা চোখে স্পর্শ করে বললেন,প্রভুর আদেশ শিরধার্য। কথাটি মোখ হতে নিঃসৃত হওয়ার সাথে সাথে তিনি স্বিয় পদদ্বয় প্রসারিত করলেন এবং সেই মুহুর্তেই ইহজগত ত্যাগ করলেন। পরম করুনাময় আল্লাহ পাক তাকে ইহজগত পর জগতে যথাযোগ্য মর্যাদা দান করুন, আমিন।

 

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন।

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

Islami Dawah Center Cover photo

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ। যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 (নগদ/বিকাশ পার্সোনাল) ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ )