Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর জীবনী

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) ছিলেন মহানবী (সাঃ)-এর পূর্ণ অনুসারী। সমগ্র জীবনব্যাপী জ্ঞান-গবেষণা ও মহান আল্লাহর ‘ইবাদত বন্দেগীতে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর ছিয়াশি বছরের জীবন ছিল একটি আলোকোজ্জ্বল জীবন। নিম্নে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হলোঃ
পরিচিতিঃ
তাঁর নাম- মালেক, পিতার নাম- আনাস, পিতামহের নাম- আবু আমের (রাঃ)। তাঁর পিতামহ একজন বিশিষ্ট সাহাবী ছিলেন এবং তিনি ইয়ামানের অধিবাসী ছিলেন। ইমাম মালিক (রহ.)-এর নাম ও বংশ পরিচয় : নাম- মালিক, উপনাম-আবূ আবদুল্লাহ। বংশপরম্পরা- মালিক ইবনু আনাস ইবনু আবূ ‘আমির ইবনু আমর ইবনু হারিস আল আসবাহী। তিনি আরবের প্রসিদ্ধ কাহত্বান গোত্রের উপগোত্র আসবাহ-এর অন্তর্ভুক্ত, এ জন্য তিনি ‘আল আসবাহী’ বলে পরিচিত। [তারতীবুল মাদারিক, ১/১০২ পৃষ্ঠা, সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, ৮/৪৮ পৃষ্ঠা, আল-আনসাব লিস সাম’আনী, ১/২৮৭ পৃষ্ঠা, আত-তামহীদ, ১/৮৯ পৃষ্ঠা, মানাকিব মালিক লিয যাওয়াবী, ১৬০-১৬২ পৃষ্ঠা, আল-ইনতিকা, ৯-১১ পৃষ্ঠা ইত্যাদি।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর জন্ম ও প্রতিপালনঃ

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর জীবনী পবিত্র মাদীনা নগরীতে এক সম্ভ্রান্ত শিক্ষানুরাগী মুসলিম পরিবারে জন্মলাভ করেন। জন্মের সন নিয়ে কিছু ভিন্নমত থাকলেও ইমাম যাহাবী (রহ.) বলেন, বিশুদ্ধ মতে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) -এর জন্ম সন ৯৩ হিজরী, যে সনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খাদিম আনাস ইবনু মালিক (রাযিঃ) মৃত্যুবরণ করেন। [তারতীবুল মাদারিক, ১/১১০ পৃষ্ঠা, মানাকিব মালিক লিয্ যাওয়ারী, ১৫৯ পৃষ্ঠা]
তিনি পিতা আনাস ইবনু মালিক (রহঃ) এর কাছে মাদীনায় প্রতিপালিত হন। তাঁর পিতা তাবি-তাবিঈ ও হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন, যার বরাত দিয়ে ইমাম যুহরী (রহঃ) সহ অনেকেই হাদীস বর্ণনা করেন। Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) ও পিতার নিকট থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। [মানহাজু ইমাম মালিক, ২২ পৃষ্ঠা]
তাঁর দাদা আবু আনাস মালিক (রহঃ) প্রসিদ্ধ তাবিঈ ছিলেন, যিনি উমার, ‘আয়িশাহ্্ ও আবূ হুরায়রাহ (রাযিঃ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। [তারতীবুল মাদারিক, ১/১০৭ পৃষ্ঠা] তাঁর পিতামহ আমির ইবনু আমর (রাযি.) প্রসিদ্ধ সাহাবী ছিলেন। [আল ইসাবাহ-৭/২৯৮ পৃষ্ঠা] এ সম্ভ্রান্ত দীনী পরিবেশে জ্ঞানপিপাসা নিয়েই তিনি প্রতিপালিত হন।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর শিক্ষা জীবনঃ

শৈশব কালে মদিনা নগরীতেই তাঁর শিক্ষা জীবনের সূচনা হয়। প্রথমত তিনি হযরত আবদুর রহমান ইবনে হরমুযের নিকট হাদীস শিক্ষা করেন। এরপর অনেক তাবেয়ীর নিকট হাদীস শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। ফিক্হ শাস্ত্রে তাঁর প্রধান শিক্ষক ছিলেন রবীয়াতুর রায়। তখন মদিনা ছিল হাদীসের প্রাণ কেন্দ্র। এখানকার গোটা পরিবেশ হাদীস শিক্ষা ও চর্চার প্রাণস্পর্শী ধ্বনিতে মুখরিত ছিল। Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর ওপর এ পরিবেশের বিশেষ প্রভাব পড়েছিল।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হিজরতের পর থেকে আজ পর্যন্ত দ্বীনি জ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্র হলো মাদীনা। মাদীনাতে জন্মলাভ করার অর্থ হলো দ্বীনি জ্ঞানচর্চার প্রাণকেন্দ্রেই জন্মলাভ করা। বিশেষ করে বংশীয়ভাবে তাদের পরিবার ছিল দ্বীনি জ্ঞানচর্চায় অগ্রগামী। এজন্য তিনি শৈশবকাল থেকেই দ্বীনি ‘ইলম চর্চা শুরু করেন। বিশেষ করে তাঁর মমতাময়ী মা তাঁকে শিক্ষার প্রেরণা যোগান। Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন : আমি একদিন মাকে বললাম, ‘আমি পড়ালেখা করতে যাবো! মা বললেন : আসো! শিক্ষার লেবাস পরিধান করো। অতঃপর আমাকে ভালো পোশাক পরালেন, মাথায় টুপি দিলেন এবং তার ওপর পাগড়ি পরিয়ে দিলেন, এরপর বললেন, এখন পড়ালেখার জন্য যাও।
তিনি বলেন, মা আমাকে ভালোভাবে কাপড় পরিয়ে দিয়ে বলতেন, যাও মাদীনার প্রসিদ্ধ আরিম রাবী’আহ্ ইবনু আবূ ‘আবদুর রহমান (রহঃ)-এর কাছে এবং তাঁর জ্ঞানশিক্ষার আগে তাঁর আদব আখলাক শিক্ষা করো। [তারতীবুল মাদারিক, ১/১১৯ পৃষ্ঠা] এভাবে তিনি মাদীনার প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস এবং ফকীহগণের নিকট থেকে শিক্ষালাভ করেন।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর শিক্ষকমন্ডলীঃ

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) অসংখ্য বিদ্বানের নিকট শিক্ষালাভ করেন। ইমাম যুরকানী (রহঃ) বলেন, ‘Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) নয়শ’র অধিক শিক্ষকের কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। বিশেষ করে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) স্বীয় গ্রন্থ মুওয়াত্তায় যে সকল শিক্ষক থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাদেরই সংখ্যা হলো ১৩৫ জন, যাদের নাম ইমাম যাহাবী (রহঃ) ‘সিয়ার’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। [সিয়ারু’ আলামিন নুবালা, ৮/৪৯ পৃষ্ঠা] তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন নিম্নরূপ :
১) ইমাম রাবী’আহ ইবনু আবূ ‘আব্দুর রহমান (রহঃ)।
২) ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু মুসলিম আয্ যুহরী (রহঃ)
৩) ইমাম নাফি মাওলা ইবনু উমার (রহঃ)।
৪) ইবরাহীম ইবনু উকবাহ (রহঃ)।
৫) ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সা’দ (রহঃ)।
৬) হুমাইদ ইবনু কায়স আল আরয (রহঃ)।
৭) আইয়ুব ইবনু আবী তামীমাহ আস সাখতিয়ানী (রহ.) প্রমুখ। [ সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৪৯-৫১ পৃষ্ঠা।]

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর ছাত্রবৃন্দঃ

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) হলেন ইমামু দারিল হিজরা, অর্থাৎ মাদীনার ইমাম। অতএব মাদীনার ইমামের ছাত্র হওয়ার দুর্লভ সৌভাগ্য কে না চায়। তাই তাঁর ছাত্র অগণিত। ইমাম যাহাবী (রহঃ) উল্লেখযোগ্য ১৬৬ জনের নাম বর্ণনা করেছেন। ইমাম খাতীব বাগদাদী ৯৯৩ ছাত্রের নাম উল্লেখ করেন। [তারতীবুল মাদারিক, ১/২৫৪ পৃষ্ঠা। সিয়ারুর আলামিন নুবালা, ৮/৫২ পৃষ্ঠা]
তাঁর কয়েকজন প্রসিদ্ধ ছাত্রের নাম হলোঃ
১) ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু ইদরীস আশ্ শাফি’ঈ (রহঃ)।
২) ইমাম সুফইয়ান ইবনু উয়ায়নাহ (রহঃ)।
৩) ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারক (রহঃ)।
৪) ইমাম আবূ দাউদ আত্ তায়ালিসী (রহঃ)।
৫) হাম্মাদ ইবনু যায়দ (রহঃ)।
৬) ইসমাঈল ইবনু জা’ফর (রহঃ)।
৭) ইবনু আবী আয-যিনাদ (রহঃ) প্রমুখ। [সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৫২-৫৪ পৃষ্ঠা]
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) যে শিক্ষা দান করতেন উহার যথার্থতা ও সঠিক হওয়া সম্পর্কে তাঁর উক্তি ছিল এরূপ যে, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ৭০ জন উস্তাদ আমার যোগ্যতা প্রসঙ্গে সাক্ষ্য না দিয়েছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি শিক্ষাদান ও ফতোয়া দানের আসনে বসিনি’।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর দ্বীনি খেদমতে অবদানঃ

হাদীস ও ফিক্হ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) যথেষ্ট অবদান রেখে গেছেন। যেমন-
১) শিক্ষাদানঃ
হাদীস ও ফিক্হ শাস্ত্রে পান্ডিত্য অর্জন করার পর তিনি দারস ও ফতোয়াদানে আত্মনিয়োগ করেন। মিসর, আফ্রিকাসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বহু জ্ঞান পিপাসু তাঁর নিকট এসে ইলমুল ফিক্হ শিক্ষা গ্রহণ করতেন। তিনি সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছর কাল শিক্ষা ও ফতোয়া দানের কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
২) মালেকি মাযহাব প্রতিষ্ঠাঃ
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) ইলমুল ফিক্হ বিষয়ে মালেকি মাযহাব নামে একটি মাযহাব প্রতিষ্ঠা করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে মক্কা ও মদিনাশরীফের হাজার হাজার লোক তাঁর মাযহাবের অনুসারী।
৩) গ্রন্থ রচনাঃ
ফিকহের সাথে সাথে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) হাদীস সংকলনে অনন্য ভূমিকা রাখেন। তিনি ‘আল-মুয়াত্তা’ নামে একটি হাদীস গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি নিজে ফিকহের কোনো গ্রন্থ রচনা করেন নি। তাঁর ইন্তিকালের পর তাঁর উদ্ভাবিত বিধানসমূহের একটি সংকলন তাঁর ছাত্ররা বের করেন। এ সংকলনের নাম ফিকহে মালেকি।
৪) অন্যায়ের প্রতিবাদ ও নির্যাতনের শিকারঃ
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) শরীয়ত বিরোধী কার্যকলাপ রোধে আব্বাসীয় খলিফা মনসুরের বিরুদ্ধে ফতোয়া দান করেন, যার ফলে খলিফার চাচাতো ভাই জাফর আব্বাসী ইমাম মালেক (রহ:) কে তার দরবারে ডেকে এনে সতেরটি বেত্রাঘাত করে।

জ্ঞান গবেষণায় Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ)

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) জন্মগতভাবেই অসামান্য প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। মেধাশক্তি ছিল খুবই প্রখর। আবূ কুদামাহ (রহঃ) বলেন, ‘ইমাম মালিক স্বীয় যুগে সর্বাধিক মেধাশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। [আত-তাহমীদ, ১/৮১ পৃষ্ঠা]
হুসাইন ইবনু উরওয়াহ (রহঃ) বর্ণনা করেন, ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, একবার ইমাম যুহরী (রহ.) আমাদের মাঝে আগমন করলেন, আমাদের সাথে ছিলেন রাবী’আহ। তখন ইমাম যুহরী (রহঃ) আমাদেরকে চল্লিশের কিছু অধিক হাদীস শুনালেন। পরের দিন আমরা ইমাম যুহরী (রহঃ)-এর কাছে গেলাম, তিনি বললেন, কিতাবে দেখ, আমরা কি পরিমাণ হাদীস পড়েছি। আরও বললেন, গতকাল আমরা যে হাদীস বর্ণনা করেছি তোমরা কি তার কিছু পড়েছ? তখন রাবী’আহ  বললেন, হ্যাঁ, আমাদের মাঝে এমনও ব্যক্তি আছেন, যিনি গতকাল আপনার বর্ণনাকৃত সব হাদীস মুখস্থ শুনাতে পারবেন। ইমাম যুহরী (রহঃ) বললেন, কে তিনি? রাবী’আহ বললেন, তিনি ইবনু আবী আমীর অর্থাৎ- ইমাম মালিক। ইমাম যুহরী (রহঃ) বললেন, হাদীস শুনাও, ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, আমি তখন গতকালের চল্লিশটি হাদীস মুখস্থ শুনালাম। ইমাম যুহরী (রহঃ) বললেন, আমার ধারণা ছিল না যে, আমি ছাড়া এ হাদীসগুলো দ্বিতীয় কেউ মুখস্থ করেছে। আত তাওহীদ, ১/৭১ পৃষ্ঠা, তারতীবুল মাদারিক, ১/১২১ পৃষ্ঠা।
অতএব Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর অসামান্য পান্ডিত্য, গভীর জ্ঞান, গবেষণা, সংরক্ষণ সম্পর্কে আর বেশী কিছু বলার অপেক্ষা রাখেনা।

হাদীস শাস্ত্রে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ)

হাদীস শাস্ত্রে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, হাদীস সঙ্কলনের অগ্রনায়ক। যদিও তাঁর পূর্বে কেউ কেউ হাদীস সঙ্কলন করেছেন, যেমন- ইমাম যুহরী (রহঃ)। কিন্তু Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর সাধনা এবং সংগ্রহ ও সঙ্কলন ছিল বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। আর এ জন্যই সহীহুল বুখারী ও সহীহ মুসলিম-এর মতো হাদীস গ্রন্থ প্রকাশ পাওয়ার পূর্বে তাঁর সঙ্কলিত গ্রন্থকে বলা হতো : ‘মহান আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ ইমাম মালিকের মুওয়াত্ত্বা গ্রন্থ। [আত তামহীদ, ১/৭৬-৭৯ পৃষ্ঠা, আল-হুলিয়াহ, ৬/৩২৯ পৃষ্ঠা, অবশ্য এ মন্তব্য সহীহুল বুখারীর পূর্বে, সহীহুল বুখারী সঙ্কলনের পর সহীহুল বুখারী সর্ববিশুদ্ধ গ্রন্থ।]
তিনি হাদীস শিক্ষায় পারিবারিকভাবে উৎসাহিত হলেও তাঁর সাধনা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে অসাধ্য সাধন করেছেন। শয়নে স্বপনে সব সময় একই চিন্তা, কিভাবে তিনি হাদীস শিক্ষালাভ করবেন। মানুষ যখন অবসরে, তিনি তখন হাদীসের সন্ধানে। Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) একবার ঈদের সালাতে ইমাম যুহরী (রহঃ)-কে দেখে মনে করলেন, আজ মানুষ ঈদের আনন্দে ব্যস্ত, হয়তো ইমাম যুহরী (রহ.)-এর কাছে একাকী হাদীস শিক্ষার সুযোগ পাওয়া যাবে। ঈদের ময়দান থেকে চলে গেলেন ইমাম যুহরী (রহঃ)-এর বাসায়, দরজার সামনে বসলেন; ইমাম ভিতর থেকে লোক পাঠালেন, গেটে কে দেখার জন্য, ইমামকে জানানো হলো যে, গেটে আপনার ছাত্র মালিক। ইমাম বললেন, ভিতরে আসতে বলো। ইমাম মালিক (রহ.) বলেন, আমি ভিতরে গেলাম। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, মনে হয় তুমি সালাতের পর বাড়িতে যাওনি? আমি বললাম, না যাইনি; জিজ্ঞেস করলেন, কিছু খেয়েছ কি? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, খাও। আমি বললাম, খাওয়ার চাহিদা নেই। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কি চাও? আমি বললাম, আমাকে হাদীস শিক্ষা দিন। অতঃপর তিনি আমাকে সতেরটি হাদীস শিক্ষা দিলেন। [তারতীবুল মাদারিক, ১/১২১ পৃষ্ঠা]
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) অধিকাংশ সময় একাকী থাকা পছন্দ করতেন। তাঁর বোন পিতার কাছে অভিযোগ করলেন, আমাদের ভাই মানুষের সাথে চলাফিরা করে না। পিতা জবাব দিলেন যে, মা, তোমার ভাই রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাদীস মুখস্থ করায় ব্যস্ত, তাই সে একাকী থাকা পছন্দ করে। [তারতীবুল মাদারিক, ১/১১৯ পৃষ্ঠা]
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) নিঃসন্দেহে হাদীস শিক্ষার ব্যাপারে খুবই তৎপর ছিলেন। যার কারণে তিনি ঈদের আনন্দ-উৎসব বাদ দিয়ে এবং পরিবারে সময় না দিয়ে হাদীস শিক্ষা ও মুখস্থকরণে ব্যস্ত থাকতেন। কাজেই তিনি ছিলেন এক বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী এবং শয়নে-স্বপনে সর্বদা হাদীস শিক্ষা ও গবেষণায় ব্যস্ত ছিলেন।

হাদীস সংগ্রহে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর কঠোর সতর্কতাঃ

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহে সর্বদা ব্যস্ত থাকলেও যার-তার নিকট থেকে যেনতেনভাবে তা গ্রহণ করতেন না- যতক্ষণ না তিনি হাদীস বর্ণনাকারীর ঈমান-আকীদাহ ও সততা সম্পর্কে অবগত হতে পারতেন। বিশ্বস্ত প্রমাণিত হলে হাদীস গ্রহণ করতেন, অন্যথায় নয়। ইমাম সুফইয়ান ইবনু ‘উয়ায়নাহ (রহঃ) এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা ইমাম মালিক (রহ.) কে রহম করুন, তিনি হাদীস বর্ণনাকারী ও বিদ্বানগণের ব্যাপারে কতই না সতর্ক থাকতেন এবং কঠিনভাবে যাচাই বাছাই করতেন, সহজেই কারো হাদীস গ্রহণ করতেন না।’
আলী ইবনুল মাদীনী (রহঃ) বলেন, ‘হাদীস গ্রহণে কঠোর নীতি ও সতর্কতায় ইমাম মালিক (রহ.)-এর ন্যায় আর কেউ আছে বলে আমি জানি না।’ [আল ইরশাদ লিল খালিলী, ১/১১০-১১২ পৃষ্ঠা]
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) বিদ’আতীদের থেকে হাদীস গ্রহণ করতেন না। [আল মুহাদ্দিস আল ফাসিল, (৪১৪-৬১৪) পৃষ্ঠা, আল ইনতিকা ১৬ পৃষ্ঠা, আত-তামহীদ, ১/৬৭ পৃষ্ঠা]। এই সতর্কতা শুধু নিজেই অবলম্বন করেননি, বরং তিনি অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হাদীস হলো দ্বীনের অন্যতম ভিত্তি। অতএব ভালোভাবে লক্ষ্য করো, তোমরা কার নিকট থেকে দ্বীন গ্রহণ করেছো। আমি সত্তরজন এমন ব্যক্তি পেয়েছি, যারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নামে হাদীস বর্ণনা করে। কিন্তু আমি তাদের কিছুই গ্রহণ করিনি। যদিও তারা অর্থ-সম্পদে আমানতদার। কিন্তু এ বিষয়ে তাদেরকে আমি নির্ভরযোগ্য মনে করিনি। অথচ আমাদের মাঝে ইমাম যুহরী (রহঃ)-এর আগমন ঘটলে হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহে আমরা তাঁর দরবারে ভিড় জমাতাম। [আল মুহাদ্দিস আল ফাসিল, (৪১৪-৪১৬) পৃষ্ঠা, আল ইনতিকা ১৬ পৃষ্ঠা, আত-তামহীদ, ১/৬৭ পৃষ্ঠা।
সুতরাং ইমামু দারিল হিজরা বা মাদীনার ইমাম মালিক (রহঃ) রাসূল (সাঃ) এর হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহে স্বীয় জীবন যেমন উৎসর্গ করেছেন, তেমনি হাদীস সংরক্ষণে খুব কঠোর ভূমিকা রেখেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান প্রদান করুন।

হাদীস পালনে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ)

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) হাদীস শিক্ষা ও সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং বাস্তব জীবনে পালনের মাধ্যমেও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু বুকাইর (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম মালিক (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘আমি কোনো আলিমের কাছে যখনই বসেছি, অতঃপর বাড়িতে ফিরে সেসব শ্রুত হাদীস মুখস্থ করে ঐ হাদীসগুলোর মাধ্যমে মহান আল্লাহর ইবাদত বা আমল না করা পর্যন্ত পুনরায় ঐ আলিমের বৈঠকে ফিরে যাইনি। [ইতহাফুস সালিক দ্র. মানহাজু ইমাম মালিক, ৩৪ পৃষ্ঠা]

হাদীস শিক্ষা দান ও ফাতাওয়া প্রদানঃ

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) শুধু হাদীস শিক্ষা ও আমল করাই যথেষ্ট মনে করেননি, বরং মানুষকে শিক্ষা দান ও ফাতাওয়া প্রদানেও বিরাট অবদান রেখেছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম যাহাবী (রহঃ) বলেন, ইমাম মালিক (রহঃ) একুশ বছর বয়সে হাদীসের পাঠদান ও ফাতাওয়া প্রদানে পূর্ণ যোগ্যতা লাভ করেন। সিয়ারু আলামিন নুবালা, ৮/৫৫ পৃষ্ঠা]
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, ইচ্ছা করলেই শুধু হাদীস শিক্ষা ও ফাতাওয়া প্রদানের জন্য মসজিদে বসা যায় না, বরং এক্ষেত্রে যোগ্য ও বিজ্ঞ ব্যক্তিগণের পরামর্শ নিতে হবে; তারা যদি উপযুক্ত মনে করেন, তাহলে সে এ কাজের জন্য নিয়োজিত হতে পারে। সত্তর জন বিজ্ঞ পন্ডিত বা শাইখ আমার ব্যাপারে সাক্ষ্য প্রদানের পর আমি এ কাজে নিয়োজিত হই।  [আল হুলিইয়্যাহ, ৬/৩১৬ পৃষ্ঠা]
মুস’আব ইবনু আব্দুল্লাহ (রহ.) বলেন, ‘ইমাম মালিক (রহ.) কে কোনো হাদীস জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি ওযু করে ভালো পোশাক পরিধান করে সুন্দরভাবে প্রস্তুতি নিতেন। তাঁকে এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাবে বলেন, এ হলো রাসূল (সাঃ)-এর হাদীসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। [তারতীবুল মাদারিক, ১/১৫৪ পৃষ্ঠা] সে সময় মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জ্ঞানপিপাসুগণ শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র মাদীনায় জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমাতেন এবং Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর মতো বর্ষীয়ান মুহাদ্দিসের নিকট থেকে হাদীসের জ্ঞান আহরণ করে ধন্য হতেন।
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) ফাতাওয়া প্রদানেও যথেষ্ট সতর্কতার সাথে গুরুত্ব প্রদান করতেন। জটিল বিষয়গুলো দীর্ঘ গবেষণার পর ফাতাওয়া প্রদান করতেন। ইবনু ‘আব্দুল হাকীম (রহঃ) বলেন : ইমাম মালিক (রহঃ)-কে কোনো বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে- তিনি প্রশ্নকারীকে বলতেন, “যাও আমি এ বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করি।” ‘আব্দুর রহমান ইবনু মাহদী (রহঃ) বলেন : ইমাম মালিক (রহঃ) বলেন, “কখনো এমন মাস’আলাও এসেছে যে, সে বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করতে আমার সারারাত অতিবাহিত হয়েছে।” আল ইনতিকা, ৩৭-৩৮ পৃষ্ঠা।
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) কোনো বিষয়ে উত্তর না দেয়া ভালো মনে করলে, “জানি না” বলতেও কোনো দ্বিধাবোধ করতেন না। তাইইনুল মামালিক, ১৬-১৭ পৃষ্ঠা। কারণ তিনি মনে করতেন, প্রশ্নের সম্মুখীন হওয়া মানে জান্নাত ও জাহান্নামের সম্মুখীন হওয়া। প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে যেন আখিরাতে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে না হয়। আল ইনতিকা, ৩৭ পৃষ্ঠা।

সঠিক ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাসে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ)

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাসের অন্যতম ইমাম হলেন- Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ)। বিশেষ করে আল্লাহ তা’আলার সিফাত বা গুণাবলীর প্রতি মু’তায়িলাদের ‘আক্বীদাহ-বিশ্বাসের প্রতিবাদে ঈমান প্রসঙ্গে Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর বর্ণনা-ই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের অনুসৃত নীতি। যেমন ইমাম ইবনু আবিল ইয আল হানাফী শারহুল ‘আক্বীদাহ্ আত তাহাবীয়ায় উল্লেখ করেন। শারহুল ‘আক্বীদাহ আত তাহাবীয়াহ, ১/১৮৮ পৃষ্ঠা।
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) ঈমান ‘আক্বীদার সকল বিষয়ে কুর’আনুল কারীম ও সহীহ হাদীসের আলোকে হকপন্থীদের সাথে একমত ছিলেন। বি: দ্র: মানহাজুল ইমাম ফি ইছবাতিল ‘আক্বীদাহ- ড: সউদ ইবনু ‘আব্দুল ‘আযীয আদ দা’জান।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) সম্পর্কে যুগশ্রেষ্ঠ আলিমগণের অভিমত

১. ইমাম শাফি’ঈ (রহঃ) বলেন, “আলিমকুল শিরোমণি ইমাম মালিক (রহ.) ‘ইলমের আকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। কেউ ইমাম মালিক (রহঃ)-এর স্মৃতিশক্তি, দৃঢ়তা, সংরক্ষণশীলতা ও জ্ঞানের গভীরতার সমপর্যায়ে পৌঁছেনি। আর যে ব্যক্তি সহীহ হাদীসের সন্ধান করে যেন ইমাম মালিক (রহঃ)-এর কাছে যায়।” আল ইনতিকা, ২৩, ২৪ পৃষ্ঠা।
২. ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল (রহঃ) বলেন : “হাদীস ও ফিকহ শাস্ত্রের উপর বিরল পাণ্ডিত্যের অধিকারী ইমাম মালিক (রহঃ) জ্ঞান-বুদ্ধি ও আদাব আখলাকসহ হাদীসের প্রকৃত অনুসারী ইমাম মালিক (রহঃ)-এর মতো আর কে আছে?” তারতীবুল মাদারিক, ১/১৩৩ পৃষ্ঠা।
৩. ইমাম নাসাঈ (রহঃ) বলেন : “তাবি’ঈদের পর আমার কাছে ইমাম মালিক (রহঃ)-এর চেয়ে অধিক বিচক্ষণ আর কেউ নেই এবং হাদীসের ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে অধিক আমানতদার আর কে হতে পারে।” আল ইনতিকা, ৩১ পৃষ্ঠা।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর গ্রন্থাবলীঃ

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর বেশ কিছু গ্রন্থাবলী রয়েছে। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো:
১. আল মুওয়াত্ত্বা। তানাবীরুল হাওয়ালিক, ১/৭ পৃষ্ঠা। হাদীসের জগতে কিছু ছোট ছোট সঙ্কলন শুরু হলেও ইমাম মালিক (রহ.)-এর ‘মুওয়াত্তা’ হাদীসের সর্বপ্রথম উল্লেখযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য সঙ্কলন। এ গ্রন্থে ইমাম মালিক (রহঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাদীস, সাহাবী ও তাবি’ঈগণের হাদীস এবং মাদীনাবাসীর ইজমা’সহ অনেক ফিকহী মাস’আলা বিশুদ্ধ সনদের আলোকে সঙ্কলন করেন। দীর্ঘদিন সাধনার পর, কেউ বলেন চল্লিশ বছর সাধনার পর তিনি এ মূল্যবান গ্রন্থ সঙ্কলন করেন। সে সময় বিশুদ্ধতার দিক দিয়ে হাদীসের গ্রন্থ ‘মুওয়াত্তা’ খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করে। ইমাম শাফি’ঈ (রহঃ) বলেন : “কিতাবুল্লাহ অর্থাৎ- আল-কুর’আনের পরই সর্বাধিক বিশুদ্ধ গ্রন্থ হলো Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর ‘মুওয়াত্তা।” তারতীবুল মাদরিক, ১/১৯১-১৯৬ পৃ:, আত তামহীদ, ১/৭৬-৭৯ পৃষ্ঠা। এটা সর্বজন স্বীকৃত সত্য যে, সহীহুল বুখারী সঙ্কলনের পূর্বে মুওয়াত্ত্বাই সর্ববিশুদ্ধ গ্রন্থ ছিলো। সহীহুল বুখারী সঙ্কলনের পর সর্বমহলে সর্ববিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ হিসেবে এটি প্রসিদ্ধি লাভ করে।
২. “কিতাবুল মানাসিক।” তায্ইনুল মামালিক, ৪০ পৃ:, মালিক লি আমীন আল কাওলী, ৭৪৫ পৃ:।
৩. “রিসালাতুন ফিল কাদ্র ওর্য়ারাদ্দ ‘আলাল কাদারিয়া।” তারতীবুল মাদারিক, ১/২০৪ পৃ:, সিরারু ‘আলামিন নুবালা, ৮/৮৮ পৃ:।
৪. “কিতাব ফিন্ নুজুমি ওয়া হিসাবি সাদারিয যামানি ওয়া মানাযিলিল কামার।” তারতীবুল মাদারিক, ১/২০৫ পৃ:, সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, ৮/৮৮ পৃ:।
৫. “কিতাবুস্ সিররি।” তারতীবুল মাদারিক, ১/২০৫ পৃষ্ঠা, সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, ৮/৮৯ পৃষ্ঠা।
৬. “কিতাবুল মাজালাসাত।” তাযইনুল মামালিক, ৪০ পৃষ্ঠা, মালিক লি আমীন আল খাওলী, ৭৪৬ পৃষ্ঠা। ইত্যাদি সহীহ্ সনদে প্রমাণিত যে, এ সব ইমাম মালিক (রহ.)-এর সঙ্কলিত ও রচিত গ্রন্থ। এগুলো ছাড়াও তাঁর আরো অনেক গ্রন্থ রয়েছে। মানহাজু ইমাম মালিক ফি ইছবাতিল ‘আক্বীদাহ্, ৫১-৫৫ পৃষ্ঠা।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর ফাতাওয়াঃ

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ সুন্নাহর অনুসারী ছিলেন। কুরআন-সুন্নাহ্ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার জন্য তিনি মানুষদেরকে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং কুরআন-সুন্নাহ্ অনুযায়ী ফাতাওয়া প্রদান করতেন। ইমাম মালিক (রহঃ) কোন বিষয়ে ফাতাওয়া প্রদান করে বলতেন: আমি একজন মানুষ মাত্র, আমি ভুল বলি সঠিকও বলি। অতএব তোমরা আমার মতামতকে চিন্তা করে দেখবে। যে সমস্ত কথা কুরআন ও সুন্নাহ্ অনুযায়ী হয়, তা গ্রহণ করবে। আর যে সমস্ত কথা কুরআন হাদীসের অনুযায়ী হয় না, তা পরিহার করবেন। জলবুল মানাফা’য়া-৪৭ পৃষ্ঠা, ফাতাওয়া-২য় খণ্ড, ৩৮৪ পৃষ্ঠা, ঈকাযুল হিমাম-১০২ পৃষ্ঠা।
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর এ বক্তব্যে প্রমাণিত হয় যে, পালনীয় বা গ্রহণীয় বিষয় হলো একমাত্র আল-কুরআন ও সহীহ্ হাদীস। কোন ব্যক্তির মত, পথ, মাযহাব বা ত্বরীক্বাহ্ নয়। কারো ফাতাওয়া যদি আল-কুরআন ও সহীহ হাদীস অনুযায়ী হয় তাহলে গ্রহণযোগ্য। আর যদি আল-কুরআন ও সহীহ হাদীস পরিপন্থী হয় তাহলে অবশ্যই তা বর্জন করতে হবে। তিনি যত বড়ই ইমাম ও মুজতাহিদ হোন না কেন। এটা শুধু Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর কথা নয় বরং ইমামে ‘আযম, সাইয়্যিদুল মুরসালীন রাসূল মুহাম্মাদ (সাঃ)-এর অমীয় বাণী। মহানবী (সাঃ) ইরশাদ করেন : যে ব্যক্তি ইসলামে এমন নতুন কিছুর উদ্ভাবন ঘটাবে যা ইসলামে অর্থাৎ- আল-কুর’আন ও সহীহ হাদীসে নেই, তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। সহীহুল বুখারী হা: ২৬৯৭, সহীহ মুসলিম হা : ৪৪৬৭।
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) আরো বলেন: সাধারণ সকল ব্যক্তির কথা হয় গ্রহণীয় অথবা বর্জনীয়, শুধু মহানবী (সাঃ)-এর সকল কথাই গ্রহণীয়, কোনভাবেই তা বর্জনীয় নয়। ইবনু ‘আবদিল বার- আল জামি’- ২/৯১ পৃষ্ঠা, ইবনু হাযাম-উসূলুল আহ্কাম-৬/১৪৫, ১৭৯ পৃষ্ঠা। অর্থাৎ- শুধুমাত্র মহানবী (সাঃ) এর সকল শার’ঈ নির্দেশ সম্বলিত কথা ওয়াহীভিত্তিক হওয়ায় নির্দ্বিধায় গ্রহণযোগ্য। আর সাহাবী, তাবি’ঈ বা কোন ইমাম অথবা ‘আলিম সমাজের কথা যদি আল-কুরআন ও সহীহ হাদীসভিত্তিক হয় তাহলে গ্রহণযোগ্য। আর যদি আল-কুরআন ও সহীহ হাদীস বিরোধী হয়, তবে তা অবশ্যই বর্জনীয়। সুতরাং কোন ইমাম বা ‘আলিমের কথা আল-কুরআন ও সহীহ্ হাদীসের নিরিখে যাচাই-বাছাই করা ছাড়া অন্ধ অনুকরণ বা অনুসরণ করা কোনভাবেই শারী’আত সম্মত কাজ নয়।
এ প্রসঙ্গে ইমাম মালিক (রহঃ) এর একটি ফাতাওয়া এখানে প্রণিধানযোগ্য : ইবনু ওয়াহাব (রহঃ) বলেন, আমি ইমাম মালিক (রহঃ) কে জিজ্ঞেস করতে শুনেছি ওযূর সময় পায়ের আঙ্গুল খিলাল করা সম্পর্কে? তিনি উত্তরে বলেন: ওযূর মধ্যে এমন কোন নিয়ম নেই। ইবনু ওয়াহাব (রহঃ) বলেন : আমি একটু অপেক্ষা করলাম, তারপর মানুষ চলে গেলে ইমাম মালিক (রহঃ) কে বললাম : পায়ের আঙ্গুল খিলাল করার ব্যাপারে আমাদের কাছে হাদীস রয়েছে। ইমাম মালিক (রহঃ) বললেন : তা কি? আমি বললাম: লাইস ইবনু সা’দ মুসতাওরিদ ইবনু শাদ্দাদ আল কুরাইশী (রাযিঃ) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)কে হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে পায়ের আঙ্গুলের মাঝে খিলাল করতে বা ভালোভাবে ঘষতে দেখেছি।
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন: এ হাদীসটি হাসান, তবে আমি ইতোপূর্বে কখনো এ হাদীস শুনিনি। ইবনু ওয়াহাব (রহঃ) বলেন: এর পরবর্তীকালে ইমাম মালিক (রহঃ) কে ঐ প্রশ্ন করা হলে তিনি উক্ত হাদীসের আলোকে আঙ্গুল খিলাল করার নির্দেশ দিতেন। ইবনু আবী হাতিম- মুকাদ্দামাতুল জারহ ওয়াত তা’দীল-৩১, ৩২ পৃষ্ঠা, ইমাম বায়হাকী- সুনান ১/৮১ পৃষ্ঠা।
উল্লেখ্য যে, ইমাম মালিক (রহঃ) এর এ সম্পর্কিত ফাতাওয়া হাদীস পরিপন্থী ছিলো, কিন্তু তখন তিনি ঐ হাদীসটি জানতেন না। যখনই হাদীসটি জানলেন এবং তা হাসান বা সহীহ নিশ্চিত হলেন, সাথে সাথে নিজের পূর্ব অভিমত বর্জন করে হাদীস অনুযায়ী ফাতাওয়া প্রদান শুরু করলেন। সহীহ হাদীস পাওয়ার পর নিজের মত প্রতিষ্ঠার জন্য কোন গোঁড়ামী প্রকাশ করলেন না। এরূপই হবে মহান আল্লাহভীরু ও তার রাসূল (সাঃ) এর প্রকৃত অনুসারীর অবস্থান। তাঁরা কখনো মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর মতের ওপর কোন ব্যক্তি এমনকি নিজের মতকেও প্রাধান্য দিতে পারে না। পক্ষান্তরে যারা মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর মতের ওপর নিজের বা কোন ব্যক্তি ও দলের মতকে প্রাধান্য দিবে তারা প্রকৃত অর্থে মহান আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাঃ) এর পূর্ণ ঈমানদার ও আনুগত্যশীল হতে পারে না।
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) আরো বলেন: যে ব্যক্তি কোন বিদ’আত চালু করে এবং মনে করে যে, এটা ভালো কাজ, সে যেন এ দাবি করে যে, মুহাম্মাদ (সাঃ) রিসালাতের খিয়ানাত করেছেন- [না’ঊযুবিল্লাহ]। কেননা আল্লাহ্ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবদ্দশায় বলেন : “আজ আমি তোমাদের দীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের প্রতি আমার নি’য়ামতকে সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দীন হিসেবে পছন্দ করে দিলাম। ৫নং সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত নং ৩।
কোন বিষয়ে বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞদের অনুসরণ করা একটি সৃষ্টিগত স্বাভাবিক ব্যাপার-সর্বজন স্বীকৃত একটি অনিবার্য বিষয়। কারও অনুসরণ করা ব্যতিত জীবনযাত্রার গাড়ী দু’কদমও এগুতে পারবে না। ক্ষেত-খামার, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা-দীক্ষা, সবই অভিজ্ঞদের অনুকরণে নিয়ন্ত্রিত। শিশু মা-বাবার অনুকরণ করে উপনীত হচ্ছে পরবর্তী সোপানে। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, চিকিৎসা জগৎ ইত্যাদি সব ক্ষেত্রেই একজন অনভিজ্ঞ ব্যক্তির জন্য, সঠিক ও সুনিপণভাবে এবং সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতিতে জানতে হলে অবশ্যই তাকে কোন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির অনুসরণ-অনুকরণ (তাক্বলীদ) করতে হবে। অনুরূপভাবে ধর্মীয় ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহর গবেষণা করে সমসাময়িক বিষয়ের সমাধানে অক্ষম ব্যক্তিদেরকে, পরিপক্ব জ্ঞান ও পর্যাপ্ত ইলম সম্পন্ন অভিজ্ঞদের ‘তাক্বলীদ’ করা ছাড়া কোন বিকল্প নেই। বলাবাহুল্য যে, পরিপক্ব ইলম সম্পন্ন অভিজ্ঞদের মাধ্যমে কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক প্রদর্শিত পথ আর প্রতিষ্ঠিত নীতিমালার নামই “মাযহাব”।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর মাযহাবের উৎসসমূহঃ

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) ফিক্হ রচনায় যেসব উৎসের সাহায্য নিয়েছেন সেগুলো হলো-
১. আল- কুরআনঃ
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) আল-কুরআনকে প্রধান উৎস মনে করেন। তিনি কুরআনের নস, জাহের ও অর্থ গ্রহণ করেন। আর যে ইল্লতের প্রতি সতর্ক করা হয় সেটিও গ্রহণ করতেন। তিনি আনুবাদকে কুরআন হিসেবে যথেষ্ট মনে করতেন না। যার কারণে অনুবাদ ছাড়া সালাত আদায় করা যথেষ্ট নয় বলে ফতোয়া দেন।
২. সুন্নাহ বা হাদীসঃ
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) যেমনভাবে ফিকহের ইমাম তেমনি তিনি হাদীসেরও ইমাম। তার সনদে সমকালীন বলে গণ্য করা হয়। তিনি হাদীস গ্রহণে কঠোর নীতি গ্রহণ করেন। তবে রাবী নির্ভরশীল হওয়ার শর্তে তিনি মুরসাল হাদীস গ্রহণ করতেন। আর তিনি খবরে ওয়াহেদকে কিয়াসের উপর অগ্রাধিকার প্রদান করতেন।
৩. মদিনাবাসীর আমলঃ
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) মনে করেন যে, মদিনা হচ্ছে দারুল হিজরাত, এখানে ওহী নাযিল হতো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লালাম ও তাঁর সাহাবীরা মদিনায় বসবাস করেছেন। কাজেই ওহী সম্পর্কে এখানের লোকেরাই অধিক জ্ঞান রাখেন। তাই তিনি মদিনাবাসীর আমলকে অন্যতম উৎস মনে করতেন।
৪. সাহাবায়ে কেরামের বক্তব্যঃ
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর মতে, কোন সমস্যাতে সহীহ হাদীস পাওয়া না গেলে সাহাবীর বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। যদি সেটির বিরোধী বক্তব্য অনুপস্থিত থাকে। তার মতে সাহাবায়ে কিরাম তাবীল ও مقاصد شريعة সম্পর্কে সবচেয়ে বিজ্ঞ। তবে তিনি মদিনাবাসীর আমলকে সাহাবীদের বক্তব্যের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
৫. مصالح مرسلهঃ
মাসালাহে মুরসালা তথা কল্যাণ নীতি ইমাম মালেক (রহ:)-এর অন্যতম দলিল। جلب منفعة (কল্যাণ আমল) ও دفع مضرة (প্রতিরোধ) বিষয়ে গ্রহণ বা বর্জনের ব্যাপারে শরয়ী কোনো নাম না থাকলে তাকে مصالح مرسله বলে। মালেকী মাযহাবের অন্যতম বৈশিষ্ট্যও এটি।
৬. কিয়াসঃ
কুরআন, হাদীস, সাহাবীর বক্তব্য মদিনাবাসীর ইজমা পাওয়া না গেলে কিয়াস অনুযায়ী আমল করেন Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ)।
৭. سداالذرائع ঃ
জায়েয কাজ দ্বারা না হয়েই কাজ করার পথ খোঁজাকে ذرائع বলে। অর্থাৎ যে কাজ বাহ্যত মোবাহ; কিন্তু তা দ্বারা অবৈধ কাজ সম্পাদিত হলে তা নিষিদ্ধ। কেননা, যা ধ্বংসের কারণ তাও ধ্বংস হিসেবে গণ্য হয়। কাজেই এ জাতীয় মোবাহ কাজ হতে বিরত থাকা আবশ্যক।
৮. ইস্তেহসানঃ
Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর ফিকহের একটি অন্যতম উৎস হলো ইস্তেহসান। তিনি বিভিন্ন মাসয়ালায় ইস্তেহসান দ্বারা দলিল গ্রহণ করে থাকেন।
৯. পূর্ববর্তী শরীয়তঃ
ইমাম মালেক (রহ:) সাবেক শরীয়তের কোন কোন সিদ্ধন্তের মাধ্যমে ফিক্হ রচনা করেছেন।

ফিকহে মালেকীর বৈশিষ্ট্যাবলিঃ

১. তিনি সব যুক্তিতর্কের ওপর نص القران والحديث কে প্রাধান্য দিতেন।
২. তাঁর ফিকহে تعامل اهل المدينة বা মদিনাবাসীদের কর্মের ওপর ভিত্তি করে সম্পাদিত হয়।
৩. মালেকী ফিকহে অমুসলিমদেরকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও অধিকার দেয়া হয়নি।
৪. তাঁর ফিকহে সংস্কারমূলক আইন প্রণয়ন করা হয়।
৫. মাসয়ালার ক্ষেত্রে নিজস্ব ইজতেহাদ তাঁর ফিকহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
৬. এ মাযহাব ظاهر روايت অনুযায়ী বিচার বিশ্লেষণের অবকাশ ব্যতিরেখে অত্যন্ত কঠোর।

Imam Malek – ইমাম মালেক (রহঃ) এর ওফাতঃ

ইমাম মালিক (রহ.) ১৭৯ হিজরী সনে রবিউল আউয়াল মাসে ছিয়াশি বছর বয়সে মাদীনা মুনাওয়ারায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে মাদীনার কবরস্থান ‘বাকী আল গারকাদে” দাফন করা হয়। আত্ তামহীদ, ১/৯২ পৃষ্ঠা, তারতীবুল মাদারিক, ২/২৩৭-২৪১ পৃষ্ঠা, সিয়ারু ‘আলামিন নুবালা, ৮/১৩০-১৩৫ পৃষ্ঠা। মহান আল্লাহ্ তাঁকে রহম করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসে উচ্চস্থান দান করুন। আমীন।
প্রায় এক হাজার বছর পর্যন্ত চার মাযহাবের অনুসারীগণ চার ইমামের পেছনে ভিন্ন-ভিন্নভাবে জামাআতে নামায আদায় করেছেন। হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ হানাফী অনুসারীগণ হানাফী মাযহাবের ইমামের পেছনে, মালেকী মাযহাবের অনুসারীগণ মালেকী মাযহাবের ইমামের পেছনে, এভাবে অপর দুটি মাযহাবের অনুসারীগণও তাঁদের স্ব-স্ব মাযহাবের ইমামের পেছনে নামায আদায় করতেন। এ ধারা হারাম শরীফে চলে আসে প্রায় এক হাজার বছর নাগাদ। কিন্তু ১২১৮ হিজরীর ৮ মুহররম বাদশা সাউদ ইবনে আবদুল আযীয তাঁর সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে উমরার উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফ প্রবেশ করেন। তিনি তখন তথাকথিত সংস্কারের নামে যেসব কাজ করেন, তন্মধ্যে একটি হল, তিনি হারাম শরীফে সকল মুসল্লিকে একই ইমামের পেছনে একই সাথে জামাআতে নামায আদায়ের নির্দেশ জারী করেন।
আব্বাসী যুগের প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত পবিত্র মক্কা-মদীনার সকল ইমাম ও বিচারক হানাফী ছিলেন। অতপর প্রায় দু’শ বছর খাওয়ারিযমী ও সালজুক্বীদের অধীনে চলে, তারাও রক্ষণশীল হানাফী ছিলেন। অতপর উসমানী ও তুর্কী খেলাফত প্রায় পাঁচশ বছর পর্যন্ত চলে। তারাও সবাই হানাফী ছিলেন। মোটকথা, ইসলামী ইতিহাসের সোনালী অধ্যায়ে বারশ বছর পর্যন্ত পবিত্র মক্কা-মদীনায় ইমাম ও খতীবের সুমহান দায়িত্ব হানাফী ইমাগণই আঞ্জাম দিয়ে এসেছেন এবং কাযী ও বিচারকের আসনেও তারাই ছিলেন।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবদ্দশায় যা দীন বলে গণ্য হয়নি আজও তা দীন বলে গণ্য হবে না। ইমাম শাতবী-ই’তিসাম-১/৩৩ পৃষ্ঠা, ‘মানহাজ ইমাম মালিক ফি ইসবাতিল ‘আক্বীদাহ-৯৯ পৃষ্ঠা। অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবদ্দশাতেই মহান আল্লাহ্ ইসলামকে পূর্ণতা দান করেছেন এবং মহানবী (সাঃ) তাঁর রিসালাত সঠিকভাবে প্রচার করেছেন, এরপরও যদি কেউ নতুন ‘ইবাদত আবিষ্কার করে যা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর যুগে ছিলো না তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না, বরং তাদের আচরণে এটাই প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) দীনের এ উদ্ভাবিত অংশ প্রচার না করে রিসালাতের খিয়ানাত করেছেন [না’ঊযুবিল্লাহ]। ইমাম মালিক (রহঃ) এ বক্তব্যের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চান যে, ইসলামের সবকিছু রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর আদেশ-নিষেধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। অতএব একমাত্র তার অনুসরণ করেই ইসলাম পালন করতে হবে। অন্য কোন ইমাম, দরবেশ, পীর বা মাযহাব ও ত্বরীক্বাহ্ নয়। মহান আল্লাহ্ আমাদের সহীহ পথে চলার তাওফীক্ব দান করুন, আমীন।

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন।

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

Islami Dawah Center Cover photo

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ। যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 (নগদ/বিকাশ পার্সোনাল) ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী (এম. এ. ইন ইংলিশ)