Ma Fatema Bole Daka Jabe Ki?/ফাতেমা (রাঃ) কে মা ফাতেমা বলে ডাকা যাবে কি?

ফাতিমা (রাঃ) ৬০৫ সালে মক্কায় খাদিজার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্মদিন সম্পর্কে নানা মতভেদ আছে, তবে সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য মতে, তিনি প্রথম কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পাঁচ বছর পর কাবাঘর সংস্কারের সময় ৬০৫ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন। জয়নব, রুকাইয়াহ এবং উম্মে কুলসুমের পর ফাতিমা মুহাম্মদের (সাঃ) চতুর্থ কন্যা। খাদিজা তার অন্য সন্তানদের জন্য ধাত্রী রাখলেও ফাতিমাকে ধাত্রীর হাতে ছেড়ে না দিয়ে নিজের কাছে রেখে স্বীয় তত্ত্বাবধানে লালন-পালন করেন।
মুহাম্মাদ (সাঃ) নবুয়ত লাভের পরপরই ফাতিমা (রাঃ) তার মা খাদিজা (রাঃ) ও অন্যান্য বোনদের সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। এবং ইসলামের প্রথম ভাগের নারীদের সাথে বাইয়াত লাভ করেন। আয়িশা, ইমাম আয যুরকানি তার শারহুল মাওয়াহিবত গ্রন্থে এই মতকে গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন, ফাতিমার চারিত্রিক গুণাবলী পরিস্ফুটনের ক্ষেত্রে খাদিজার স্পষ্ট অবদান রয়েছে।
শৈশব থেকেই ফাতিমা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে বুঝতে পারতেন,তার পিতার কষ্ট দেখে তিনিও কষ্ট অনুভব করতেন। একদিন মসজিদে নববীতে সিজদা থাকা অবস্থায় কুরাইশ নেতাদের আদেশে উকবা ইবনে আবু মুয়াত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পিঠে উটের পচা-গলা নাড়ী-ভুঁড়ি উঠিয়ে দিয়েছিলো, ফাতিমা এই ঘটনা শুনতে পেয়ে দ্রুত এসে তার পিতার পিঠ থেকে এসব পচা নাড়িভুরি নামিয়ে দেন ও পরিষ্কার করে দেন। এরপর ফাতিমা কুরাইশ নেতাদের সাথে ঝগড়া করেন। এই ঘটনা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জন্য অনেক পীড়াদায়ক ছিল। কষ্টের ছিলো, তিনি কাফিরদের অভিশাপ দিয়েছিলেন। তৎপরতার ভূমিকার জন্য ফাতিমা (রাঃ) এর  প্রশংসা করেছিলেন।

IDC Partner

কিশোর বয়সে ফাতিমা (রাঃ) পিতার হাত ধরে কাবার প্রাঙ্গণে গিয়েছিলেন। এ সময় মুহাম্মাদ (সাঃ) কে একা পেয়ে হাজরে আসওয়াদের নিকটে তাকে ঘিরে ফেলে, এবং বিভিন্ন কটু কথা বলে মুহাম্মাদ (সাঃ) কে উত্তেজিত করতে থাকে। হেনস্থার এক পর্যায়ে আক্রমণ করে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর দাড়ি ধরে টানাটানি করে করতে থাকে ও চাদর গলায় পেঁচিয়ে ফাঁস লাগাতে শুরু করে। এমনকি এক পর্যায়ে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর মাথায় আঘাত করে, যার ফলে মাথা কেটে রক্তস্নাত হয়ে যান। এই ঘটনা দেখে ফাতিমা (রাঃ) প্রচণ্ড ভয় পেয়ে যান। সেইদিন আবু বকর (রাঃ) এর সাহায্যে মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তার মেয়ে ফাতিমা (রাঃ) শত্রুদের হাত থেকে মুক্তি পায়, এবং তারা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসে। এইসব ঘটনা ছোট থেকেই ফাতিমা (রাঃ) এর উপর ধর্মীয় প্রভাব ফেলে, যার ফলে ফাতিমা (রাঃ) ছোটবেলা থেকেই পিতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আনুগত হয়ে বড় হয়েছিলেন।

যে রাতে মুহাম্মাদ (সাঃ) আলী (রাঃ) কে নিজ গৃহে রেখে আবু বকর (রাঃ) কে সঙ্গে নিয়ে মদিনায় হিজরত করলেন, সেই রাতে ফাতিমা (রাঃ) তার বোনদের সাথে মক্কায় নিজ গৃহে ছিলেন। তারপর আলী (রাঃ) তিন দিন মক্কায় থেকে মুহাম্মাদ (সাঃ) এর নিকট কুরাইশদের গচ্ছিত অর্থ-সম্পদ মালিকদের নিকট প্রত্যার্পণ করে মদিনায় পাড়ি জমালেন। ফাতিমা (রাঃ) ও তার বোন উম্মে কুলসুম (রাঃ) মক্কায় থেকে গেলেন। মুহাম্মাদ (সাঃ) মদিনায় পৌঁছে একটু স্থির হওয়ার পর ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে পরিবারের লোকদের নেয়ার জন্য একজন সাহাবীকে পাঠালেন। সেই সময় ফাতিমা (রাঃ) মদিনায় গমন করেন। ফাতিমা (রাঃ) হাসান, হোসাইন, উম্মে কুলসুম ও যায়নাব এ চার সন্তানের মা হন।
অনেকেই ফাতেমা (রাঃ) কে মা ফাতেমা বলে সম্বোধন করে থাকে, আবার তারাই রাসূল (সঃ) এর স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) কেও মা আয়েশা বলে থাকে। রাসূল (সঃ) এর কন্যা সন্তানও আমাদের মা, আবার তাঁর স্ত্রীও আমাদের মা, কিভাবে সম্ভব? খাদিজা (রাঃ) আমাদের মা, আবার তার গর্ভজাত সন্তান ফাতেমা (রাঃ) ও আমাদের মা! এটা কোনভাবেই হতে পারেনা।
আল্লাহ তায়া’লা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর স্ত্রীগণ হলেন তার উম্মতের মা। [সূরা আহযাব, ৬]
অর্থাৎ রাসূল (সঃ) এর স্ত্রীগণের একজন খাদিজা (রাঃ) হলেন আমাদের মা এবং তাঁর গর্ভজাত কন্যা সন্তান ফাতেমা (রাঃ) হলেন আমাদের বোন সমতুল্য। বোনকে যারা মা ডাকে, তারা সু-স্পষ্ট জাহেল। তারা কুরআনের স্পষ্ট বিরোধিতাকারী ।
একটু চিন্তা করলেই বোঝা যাবে রাসূল (সঃ) এর চারটি কন্যা ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শুধুমাত্র ফাতেমা (রাঃ) কেই কেনো মা বলা হয়? আসলে এটা হল শিয়াদের থেকে আমদানীকৃত একটি ভ্রান্ত আক্বিদা, যারা হযরত আলী (রাঃ) কে বাবা বলে ডাকেন, আর ফাতেমা (রাঃ) কে মা বলে ডাকেন এবং এই বাবা-মা এর পূজা করেন।
যারা না জেনে এতদিন বলে এসেছেন তাদের প্রতি আহ্বান, এই সমস্ত আক্বিদা এবং অজ্ঞতা থেকে বের হয়ে আসুন। আর যারা জেনে শুনে এমনটা বলে থাকেন আল্লাহ তাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন।

 

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে বিস্তারিত জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।

Islami Dawah Center Cover photo

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টারকে সচল রাখতে সাহায্য করুন!

 

ইসলামী দাওয়াহ সেন্টার ১টি অলাভজনক দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান, এই প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ব্লগটি বর্তমানে ২০,০০০+ মানুষ প্রতিমাসে পড়ে, দিন দিন আরো অনেক বেশি বেড়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ।

বর্তমানে মাদরাসা এবং ব্লগ প্রজেক্টের বিভিন্ন খাতে (ওয়েবসাইট হোস্টিং, CDN,কনটেন্ট রাইটিং, প্রুফ রিডিং, ব্লগ পোস্টিং, ডিজাইন এবং মার্কেটিং) মাসে গড়ে ৫০,০০০+ টাকা খরচ হয়, যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। সেকারনে, এই বিশাল ধর্মীয় কাজকে সামনে এগিয়ে নিতে সর্বপ্রথম আল্লাহর কাছে আপনাদের দোয়া এবং আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন, এমন কিছু ভাই ও বোন ( ৩১৩ জন ) দরকার, যারা আইডিসিকে নির্দিষ্ট অংকের সাহায্য করবেন, তাহলে এই পথ চলা অনেক সহজ হয়ে যাবে, ইংশাআল্লাহ। যারা এককালিন, মাসিক অথবা বাৎসরিক সাহায্য করবেন, তারা আইডিসির মুল টিমের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন, ইংশাআল্লাহ।

আইডিসির ঠিকানাঃ খঃ ৬৫/৫, শাহজাদপুর, গুলশান, ঢাকা -১২১২, মোবাইলঃ +88 01609 820 094, +88 01716 988 953 ( নগদ/বিকাশ পার্সোনাল ) ইমেলঃ info@islamidawahcenter.com, info@idcmadrasah.com, ওয়েব: www.islamidawahcenter.com, www.idcmadrasah.com সার্বিক তত্ত্বাবধানেঃ হাঃ মুফতি মাহবুব ওসমানী ( এম. এ. ইন ইংলিশ )