কাল্পনিক চরিত্র মাসুদ রানা হওয়ার ইচ্ছে আপনার, যখন কিনা আল্লাহ আপনাকে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ দিয়েছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাস্তব চরিত্র অনুসরণের মাধ্যমে। . কিন্তু না, ভালো কিছু আপনার সয় না, নৈতিকতার সমুন্নত মডেল আপনার পছন্দ হয় না, তাই নিজেই বেছে নিচ্ছেন লম্পট মাসুদ রানার কাল্পনিক চরিত্রকে, অথবা আল্লাহ’র অবাধ্য চে গুয়েভারার আদর্শকে, কিংবা তাদেরকে যারা দুনিয়ার জীবনের উদ্দেশ্য কেয়ার না করে চলে গেলো আখিরাতের জীবনে, কতোই না বড় লুজার তারা !!! ছিঃ, এমন লুজারদের কি কোন বুদ্ধিমান লোক ফলো করতে পারে ? . আল্লাহ তালার বিশাল রাজত্বে পৃথিবী নামক ক্ষুদ্র গ্রহে ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার ক্ষুদ্র জীবনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শের পতাকা তুলে ধরে রাখার সৌভাগ্যকে এভয়েড করে আল্লাহ’র অবাধ্য ব্যক্তির আদর্শ কিংবা কাল্পনিক কোন আদর্শ অনুসরণ করা তো নিজের নফসের গোলামীরই এক নিকৃষ্ট ফলাফল। . কিন্তু দুনিয়ার বিপদ দেখে ভীত লোকেরা যখন কিনা মৃত্যুর পরবর্তী অনন্ত জীবনের মহাবিপদগুলোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের দুনিয়াবি বিপদগ্রস্ত জীবনেই আনন্দ পাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা ও অভিনয় করে, অথচ অন্তরের প্রকৃত শান্তি আল্লাহ’র স্মরণেই; আর দুনিয়ার চাকচিক্য দেখে নিজের মহান রবকে ভুলে গিয়ে আত্মবিস্মৃত হয়ে যখন পরকালের অনন্ত জীবনের অকল্পনীয় লাক্সারিয়াস লাইফকে চিরদিনের জন্য হাতছাড়া করে; তবে তখন অন্তরচক্ষু অন্ধ হওয়া সেই লোকগুলোকে কিভাবে বুঝানো যায় ? . কারণ যে ঘুমিয়ে আছে তাকে জাগানো যায়, কিন্তু যে জেগে জেগে ঘুমিয়ে থাকে তাকে জাগানো যায় কিভাবে ? বরং তার সেই ঘুমের অভিনয় ভেঙ্গে যায় মৃত্যুর প্রচণ্ড ধাক্কায়, যা তার চোখের সামনে উন্মোচন করে দেয় তার হাতের কামাইয়ের ভয়াবহ ফলগুলো। নাহ, তখন তো জেগে জেগে ঘুমানো যাবে না, বরং নির্ঘুম এক জীবনের শুরু হবে যার প্রতিটা মুহূর্ত হবে অকল্পনীয় শাস্তির। না সে পারবে পালাতে, আর না পারবে মরতে। . মুসলিম হিসেবে যার আত্মমর্যাদাবোধ আছে, তিনি তো প্রত্যেক আদর্শের উপরে নিজের দ্বীনের পতাকা তুলে ধরবেন, আর তুলে ধরবেন নিজের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শের পতাকা; আর প্রবেশ করবেন সাহাবায়ে কিরামগনের জামাআতে তাদের পথে চলার মাধ্যমে, তার অন্তরে ও মুখে উচ্চারিত হবে তাকবির – আল্লাহু আকবার, যে তাকবিরে ভাঙ্গন ধরবে নিজের নফসের আমিত্বে, আর ভাঙ্গন ধরবে বনি আদমদের অন্তরে সৃষ্টি হওয়া শয়তানের দুর্গে যা থেকে বাতিল প্রতিষ্ঠার আওয়াজ আসে। তার জীবন হবে তাকবিরময়, কালেমাময় – আমার আল্লাহ’ই সবচেয়ে বড়, আমার আল্লাহ’ই একমাত্র ইলাহ, আমার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শই ওয়ান এন্ড অনলি আদর্শ যা আমাকে নফস, শয়তান ও দুনিয়ার প্রতারণা থেকে মুক্ত করতে পারে, আর মুক্ত করতে পারে মানবসভ্যতাকে দুনিয়া ও আখিরাতের মহাবিপদ থেকে। . হে মুসলিম, চিন্তা করে দেখুন, মানব সভ্যতার এ অধঃপতনের যুগে কেন মাসুদ রানাকে খোজা হচ্ছে, কেন খোজা হচ্ছে এমন কোন ব্যক্তিকে যারা মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় সমস্যার সমাধান প্রচার প্রসার করার যোগ্যতা রাখে না, অথচ খোজা উচিত তো একজন আবু বকরকে, উমরকে, উসমানকে, আলীকে, খাব্বাবকে, মুসআবকে, হাসানকে, হুসাইনকে, হামযাকে, বিলালকে ….. কেন তাদেরকে খোজা হচ্ছে না, কেন ? . কারণ শয়তানের মিশন ইসলামের দাওয়াহকে দুর্বল করে দেওয়া, মুসলিম যুবক-যুবতিদের যৌবনকে দ্বীনের খেদমতে ইউজ করা থেকে দূরে রাখা ……. শয়তান টেম্পোরারিলি সফল হয়েছে বিরাট সংখ্যক মুসলিম যুবক-যুবতীদেরকে তাদের মহান আদর্শের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি এমনকি সেই মহান আদর্শের সাথে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টির বিষয়ে। . অথচ এই সময়টাই এক সুবর্ণ সুযোগ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সত্যিকার অর্থে মুহাব্বাতের জন্য। . কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত আজ বাইরের ও ভিতরের প্রচুর শত্রু দ্বারা ঘেরাও – কাদিয়ানী, খৃষ্টান মিশনারি, হেযবুত তাওহীদ, ইসকন, এনজিও তো আছেই, সাথে আছে ঐসব ব্যক্তি ও প্রচলিত দল যারা প্রকৃত ইসলামের দিকে আহবানের পরিবর্তে নিজেদের মত ও দলের দিকে আহবান করে, আরো আছে সেই নামধারী মুসলিম যারা কিনা কাউকে ইসলাম মানার চেষ্টা করতে দেখলেই জঙ্গি বলে অপবাদ দেয়, বাধা দেয়। . হ্যাঁ, এটাই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’কে ভালোবাসার এমন এক সুবর্ণ সুযোগ। যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’কে মুহাব্বাতের দাবীতে সৎ, তারা কিভাবে এই সুযোগ মিস করতে পারে ? . তাই আপনাকে আহবান করছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মতের কঠিন দুর্দশার এই সময়টাতে একনিষ্ঠভাবে মুখ করুন দ্বীন আল-ইসলামের দিকে, যেভাবে মুখ করেছিলেন সাহাবায়ে কিরামগণ। কিন্তু কিভাবে তারা এ কাজটি করেছিলেন তা জানতে হলে পড়তে হবে কুরআন ও এর তাফসীর, হাদিস ও মুহাদ্দিসগণ কর্তৃক হাদিসের ব্যাখ্যা, সিরাত ও ফিকহুস সিরাত, সাহাবায়ে কিরামগণের জীবনী, পূর্ববর্তী মুত্তাকীগণের জীবনী, ইবাদাতের প্রয়োজনীয় ফিকহ ….. নিজেকে গড়তে থাকার চেষ্টা করতে হবে পড়া ও আমলের মাধ্যমে, সাথে সাথে নিশ্চিতভাবে কোন কিছু জেনে উম্মতের জন্য যথাসাধ্য খেদমত করার চেষ্টা করতে হবে ইখলাসের সাথে ও সুন্নতের ইত্তিবায়। উম্মতের খেদমত করতে না পারলেও অপকার যাতে না হয়ে যায় সেটা মাথায় রাখতে হবে। . আফসোস তো সেসব মুসলিমের জন্য, যারা বলে – প্রথম নাযিল করা আয়াতে পড়তে বলা হয়েছে – এরপর তারা বলে পড়াশুনা করে মানুষ হতে হবে, অথচ সেই একই ব্যক্তির সাথে যখন দ্বীনের পড়াশুনার বিষয়ে কথা বলা হয়, তখন তার এটিচুড এমন হয় যে, দ্বীনের জ্ঞান প্রকৃত জ্ঞান নয় !!! মানুষ কতো সহজে নিজে নিজে ইসলামের অপব্যাখ্যা করে !!! . আসমানি জ্ঞানকে উপেক্ষা করলে যমিনে অপদস্থ হওয়াই স্বাভাবিক – যমিনের উপর চলাফেরা করা অবস্থায় এবং মৃত্যুর পর যমিনের নিচে অসহ্য রকমের শাস্তি পাওয়া অবস্থায়। . সুতরাং যিনি হতে চান সেই সৌভাগ্যবান উম্মতে মুহাম্মাদিদের অন্তর্ভুক্ত – তার উচিত কুরআন ও সুন্নাহ’কে সাহাবায়ে কিরামগণের মতো আঁকড়ে ধরা। কারণ বিপদেই সত্যিকারের ভালোবাসার পরিচয়। আর আজ আমাদের রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উম্মত কঠিন বিপদে রয়েছে, যা ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে আর পাবে। কিন্তু আমি কি প্রস্তুত হচ্ছি বর্তমান ও সামনে আগত কঠিন ফিতনার দিনগুলোতে নিজের ঈমান হেফাযতের চেষ্টার পাশাপাশি, নিজেকে নিফাক থেকে রক্ষার চেষ্টার পাশাপাশি উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য শরীয়তসম্মত কিছু একটা করার বিষয়ে ? আপাতত নিজেকে গড়ার চেষ্টা দিয়েই শুরু হোক, যে ব্যক্তি আল্লাহ’র জন্য নিজেকে গড়ার চেষ্টা করবেন, আল্লাহ’ই তাকে দিয়ে দ্বীনের খেদমত করাবেন, উম্মতে মুহাম্মাদির খেদমত করাবেন, ইন শা আল্লাহ।
চিত্রে থাকতে পারে: ১ জন, রাত্রি এবং পাঠ্য

আইডিসির সাথে যোগ দিয়ে উভয় জাহানের জন্য ভালো কিছু করুন!

আইডিসি এবং আইডিসি ফাউন্ডেশনের ব্যপারে  জানতে  লিংক০১ ও লিংক০২ ভিজিট করুন।

আইডিসি  মাদরাসার ব্যপারে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন। 

আপনি আইডিসি  মাদরাসার একজন স্থায়ী সদস্য /পার্টনার হতে চাইলে এই লিংক দেখুন.

আইডিসি এতীমখানা ও গোরাবা ফান্ডে দান করে  দুনিয়া এবং আখিরাতে সফলতা অর্জন করুন।

কুরআন হাদিসের আলোকে বিভিন্ন কঠিন রোগের চিকিৎসা করাতেআইডিসি ‘র সাথে যোগাযোগ করুন।

ইসলামিক বিষয়ে জানতে এবং জানাতে এই গ্রুপে জয়েন করুন।